Tag: Chaitra Navratri 2026

  • Annapurna Puja 2026: আজ চৈত্র নবরাত্রির অষ্টমী, বাংলার ঘরে ঘরে অন্নপূর্ণা পুজো, জানুন দেবীর মাহাত্ম্য

    Annapurna Puja 2026: আজ চৈত্র নবরাত্রির অষ্টমী, বাংলার ঘরে ঘরে অন্নপূর্ণা পুজো, জানুন দেবীর মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চৈত্র মাসের শুক্লা অষ্টমী (Chaitra Navratri Ashtami) তিথিতে পূজিতা হন দেবী অন্নপূর্ণা (Annapurna Puja 2026)। তবে এর পাশাপাশি গ্রাম বাংলাতে নবান্ন উৎসবের সময়ও অন্নপূর্ণা পুজোর রীতি দেখা যায়। সেটা অগ্রহায়ণ মাসে সম্পন্ন হয়। মনে করা হয় বাংলায় অন্নপূর্ণা দেবীর মাহাত্ম্য প্রচারিত হয়েছে কাশী থেকেই। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কাশী বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন করতে গেলে পুজো দিতে হয় মা অন্নপূর্ণাকে (Annapurna Puja 2026)। হিন্দুদের বিশ্বাস, বাবা বিশ্বনাথ কাশীধামের নির্মাণকর্তা এবং মা অন্নপূর্ণা সমগ্র কাশী ধামের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। চলতি বছরে অন্নপূর্ণা পুজো আজ, বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বাসন্তী পুজোর চলার অষ্টমীতেই পূজিতা হন মা অন্নপূর্ণা। চৈত্র নবরাত্রির অষ্টমীতে (Chaitra Navratri Ashtami) অন্নপূর্ণা পুজো। পরের দিন অনুষ্ঠিত হয় রামনবমী।

    এদিন কাশী ধামে আয়োজিত হয় অন্নকূট উৎসব

    অন্নপূর্ণা পুজোর দিনে কাশী ধামে আয়োজিত হয় অন্নকূট উৎসব। আমিষ ভোজন, মাদক পান, ধূমপান প্রভৃতি থেকে দূরে থাকেন এই দিন ভক্তরা। কাউকে কোনওরকম কটু কথাও বলেন না ভক্তরা। যাতে তাদের ব্যবহারে কেউ অন্য কেউ কষ্ট পায়। এদিন ভক্তরা ব্রত পালন করেন এবং মিথ্যা কথা বলেন না। সাদা পোশাকে পুজোয় (Annapurna Puja 2026) দিতে দেখা যায় ভক্তদের। হিন্দুদের বিশ্বাস অন্নকূট উৎসবে কোনও ভিক্ষুককে পিতলের পাত্রে আতপ চাল দান করলে অত্যন্ত শুভ ফল পাওয়া যায়।

    ভরতচন্দ্র রায়গুনাকর দেবী অন্নপূর্ণার কথা উল্লেখ করেছেন

    দেবী অন্নপূর্ণার (Annapurna Puja 2026) যে কোনও বিগ্রহ দেখলেই বোঝা যায়, তাঁর হাত থেকে অন্ন গ্রহণ করছেন দেবাদিদেব মহাদেব। বাংলাতে ভরতচন্দ্র রায়গুনাকর দেবী অন্নপূর্ণার কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে মা অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্যও বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ন শব্দের অর্থ হল ধান আর পূর্ণা শব্দের অর্থ পূর্ণ। প্রচলিত অনেক কাহিনী রয়েছে মা অন্নপূর্ণাকে নিয়ে। তার মধ্যে অন্যতম হলো কাশীর পৌরাণিক আখ্যান।

    পৌরাণিক কাহিনী জানুন…

    পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, শিব পার্বতী বিবাহের পরে দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু শিবের সঙ্গে মা পার্বতীর মতবিরোধ শুরু হয় মাতা পার্বতী কৈলাস ত্যাগ করেন। মাতা পার্বতীর এই সিদ্ধান্তের পরেই দেখা যায় মহামারি এবং নানা সংকট ভক্তরা তখন আকুল হয়ে পড়েন। তাঁরা দেবাদিদেব মহাদেবকে ডাকতে থাকেন। সেই সময়ই ভিক্ষার ঝুলিকে কাঁধে তুলে নেন মহাদেব। কিন্তু দেবীর মায়ায় কোথাও ভিক্ষা জোটে না। মহাদেব তখন জানতে পারেন কাশীতে এক নারী সকলকে অন্ন দান করছেন। তখন ভোলেনাথ সেখানে উপস্থিত হন। চিনতে পারেন তিনি মাতা অন্নপূর্ণাকে (Annapurna Puja 2026)। মহাদেব মায়ের কাছে ভিক্ষা প্রার্থনা করেন এবং সেই ভিক্ষা গ্রহণ করেই মহামারি এবং খাদ্যাভাব থেকে ভক্তকুলকে রক্ষা করেন বলে মনে করা হয়। চৈত্র মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সেখানে মানে কাশী ধামে মায়ের আবির্ভাব হয়েছিল বলে মানা হয়। তাই তখন থেকেই সেখানে মায়ের পুজো প্রচলন। অন্য আরেকটি পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। সেই পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে দেবী পার্বতীর মায়ায় কোথাও ভিক্ষা পাননি দেবাদিদেব মহাদেব। তবে তা বুঝতে পারেন শিব। কৈলাসে ফিরে পায়েস পিঠে খেয়ে তৃপ্ত হন দেবাদিদেব। তখন থেকেই নাকি অন্নপূর্ণা পুজোর প্রচলন।

    আরও একটি আখ্যান অনুযায়ী, এমন একটি সময় এসেছিল, যখন পৃথিবীতে খাদ্য এবং জল ফুরিয়ে যায়। চারিদিকে অভাব দেখা যায়, হইচই পড়ে যায়। সেসময় মানুষ ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের পূজা করত। তাঁর ভক্তদের ডাক শুনে শ্রী হরি বিষ্ণু ভগবান শিবকে তাঁর যোগ নিদ্রা থেকে জাগিয়ে পুরো ঘটনা বললেন। তখন ভগবান শিব মা পার্বতীর কাছ থেকে সন্ন্যাসী রূপে এসে ভিক্ষা চেয়েছিলেন। মা পার্বতী তখন দেবী অন্নপূর্ণা রূপে ভগবান শিবকে ভিক্ষা দিয়ে জীবকুলকে রক্ষা করেছিলেন।

    বাংলায় এই পুজোর প্রচলন

    অনেক গবেষকের মতে, বাংলাতে অন্নপূর্ণা পুজো (Annapurna Puja 2026) প্রচলন করেছিলেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বসূরী ভবানন্দ মজুমদার। দেবী অন্নদার কৃপা পেয়ে সম্রাট জাহাঙ্গীরের থেকে তিনি রাজা উপাধি লাভ করেন। তবে এনিয়ে অনেক গবেষকের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

    জানেন, মায়ের প্রিয় ভোগ কী?

    মা অন্নপূর্ণাকে মা দুর্গার আরেক রূপ মানা হয়। বাংলার অন্নদামঙ্গল কাব্যে প্রথম মেলে এই দেবীর উল্লেখ। শক্তির অপর রূপ মানা হয় মা অন্নপূর্ণাকে তিনি সকলের অন্ন যোগান। মা অন্নপূর্ণার প্রিয় ভোগ হল- মুগের ডাল, ভাত, শাক, ভাজা, মোচার ঘন্ট, আর ছানার ডালনা। ভক্তদের বিশ্বাস, এইভাবে সাজিয়ে মাকে ভোগ নিবেদন করলে তিনি (Annapurna Puja 2026) খুশি হন এবং বছরভর সুখ ও শান্তি সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে ভক্তের জীবন।

  • Basanti Puja 2026: শারদীয় নয়, এটাই বাঙালির প্রাচীন দুর্গাপুজো! আজ বাসন্তী সপ্তমীতে দেবী আরাধনা শুরু

    Basanti Puja 2026: শারদীয় নয়, এটাই বাঙালির প্রাচীন দুর্গাপুজো! আজ বাসন্তী সপ্তমীতে দেবী আরাধনা শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখন চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের তিথি চলছে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্ল তিথিতে আয়োজিত হয় নবরাত্রি উৎসবের। নয় রাত ধরে দেবী দুর্গার নয় রূপের আরাধনা করা হয়। আর এই সময়ে মহাধুমধামের সঙ্গে বাঙালি মেতে ওঠে বাসন্তী পুজোয়। হিন্দুশাস্ত্রমতে বসন্তকালে চৈত্র শুক্লপক্ষে আয়োজিত হয় বাসন্তী পুজো। পুরাণ অনুযায়ী, সমাধি নামক বৈশ্যের সঙ্গে মিলে রাজা সুরথ বসন্তকালে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। যা পরে বাসন্তী পুজো (Basanti Puja) নামে প্রসিদ্ধ হয়। দেবী দুর্গার প্রথম পূজারী হিসাবে চণ্ডীতে রাজা সুরথের উল্লেখ রয়েছে। বাসন্তী পুজোই হল বাঙালির আদি দুর্গাপুজো। পরে শরত্‍কালে শারদীয়া নবরাত্রির সময় রামচন্দ্রের অকাল বোধন মেনে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়।

    কবে থেকে পুজো, দেবীর আগমন কিসে

    সপ্তমী থেকে নবমী, তিন দিন ধরে চলে বাসন্তী পুজো। দুর্গাপুজোর মতোই সব নিয়ম আচার মেনে বাসন্তী পুজো করা হয়। চলতি বছরে বাসন্তীপুজোর সপ্তমি পড়েছে আজ, বুধবার ২৫ মার্চ। এই পুজোর ষষ্ঠীই হল অশোক ষষ্ঠী। মূলত, সপ্তমী তিথিতে বাসন্তী পুজো, অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা হয়, নবমী পালিত হয় রামনবমী হিসেবে। দেশের নানান জায়গায় যখন চৈত্র নবরাত্রির পার্বনে অনেকে উৎসবে মেতে রয়েছেন, তখন বাংলা এই চৈত্রের শুক্লপক্ষে দেবী বাসন্তীর আরাধনায় মেতে ওঠে। চলতি বছরের বাসন্তী পুজোয় দেবী দুর্গার আগমন ও গমন শাস্ত্র মতে বিশেষ বার্তাবাহক। পঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে পালকিতে (মতান্তরে নৌকায়) এবং গমন হবে গজে বা হাতিতে (মতান্তরে ঘোড়ায়)। পালকিতে আগমন অস্থির সময়, মড়ক বা রোগব্যাধির ইঙ্গিত দিলেও গজে গমন অতিবৃষ্টি ও শস্যহানিকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

    রাজা সুরথের কাহিনী

    রাজা সুরথকে চিত্রগুপ্তবংশী রাজা (চিত্রগুপ্তের বংশধর) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দুর্গা সপ্তশতী দেবী মাহাত্ম্য এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণে। সুরথ সুশাসক ও যোদ্ধা হিসেবে বেশ খ্যাত ছিলেন। কোনও যুদ্ধে নাকি তিনি কখনও হারেননি। কিন্তু প্রতিবেশী রাজ্য একদিন তাঁকে আক্রমণ করে এবং সুরথ পরাজিত হন। এই সুযোগে তাঁর সভাসদরাও লুটপাট চালায়। কাছের মানুষের এমন আচরণে স্তম্ভিত হয়ে যান সুরথ। বনে ঘুরতে ঘুরতে তিনি মেধাসাশ্রমে পৌঁছোন। ঋষি তাঁকে সেখানেই থাকতে বলেন। কিন্তু রাজা শান্তি পান না।

    বাসন্তী পুজোর সূচনা

    এর মধ্যে একদিন তাঁর সমাধির সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানতে পারেন, সমাধিকেও তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও তিনি স্ত্রী-ছেলের ভালোমন্দ এখনও ভেবে চলেছেন। তাঁরা দুজনেই তখন ভাবলেন, যাদের কারণে তাদের সব কিছু হারিয়েছে, তাদের ভালো আজও তাঁরা কামনা করছেন। ঋষিকে একথা বলায়, তিনি বলেন সবই মহামায়ার ইচ্ছা। এরপর ঋষি মহামায়ার কাহিনি বর্ণনা করেন। ঋষির উপদেশেই রাজা কঠিন তপস্যা শুরু করেন। পরে মহামায়ার আশীর্বাদ পেতেই বসন্ত কালের শুক্লপক্ষে রাজা পুজো শুরু করেন। শুরু হয় বাসন্তী পুজো (Basanti Puja)। এই পুজো এখন কয়েকটি বাড়িতেই শুধু হয়।

  • Ashok Sasthi: আজ অশোক ষষ্ঠী, বাংলার ঘরে ঘরে মায়েরা পালন করেন এই ব্রত, কেন জানেন?

    Ashok Sasthi: আজ অশোক ষষ্ঠী, বাংলার ঘরে ঘরে মায়েরা পালন করেন এই ব্রত, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘আমার সন্তান যেন, থাকে দুধে-ভাতে’। এই প্রার্থনা নিয়েই বাংলার ঘরে ঘরে মায়েরা অশোক ষষ্ঠীর (Ashok Sasthi 2026) ব্রত পালন করেন। চৈত্র নবরাত্রির এই ষষ্ঠী তিথিতে সন্তানের মঙ্গল কামনায় পুজো দেওয়া হয় মা ষষ্ঠীর কাছে। চৈত্রমাসের শুক্লাপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই ব্রত পালিত হয়। আজ, মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে অশোক ষষ্ঠী। বাংলায় এই তিথির বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। শহরাঞ্চলের মানুষ এই দিনের তাৎপর্য সম্পর্কে ততটা অবগত না হলেও, আজও গ্রামবাংলায় হিন্দু মহিলারা সন্তানের মঙ্গলকামনায় এই দিনটি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।

    অশোক ষষ্ঠীর ব্রত পালনের নিয়ম

    এই ব্রতর দিন প্রথমে বাড়ির মহিলারা সকাল থেকে উপবাস থেকে ষষ্ঠীর (Ashok Sasthi 2026) থানে পুজো দেয়, তারপর অশোক ফুলের বীজ, মাসকলাই এবং দই আর কাঁঠালি কলা দিয়ে উপোস ভাঙে। এই পুজোর উপকরণের মধ্যে ছটি মাসকলাই, দই, কাঁঠালি কলা এবং অশোক ফুলের কুঁড়ি এক সঙ্গে মেখে খেতে হয় তবে এই পুজোর প্রসাদ কিন্তু দাঁতে ছোয়ানো যায় না। বাড়ির মহিলা সদস্যরা মূলত এই পুজোর প্রসাদ গিলে খান। অশোক ষষ্ঠীর দিন কিন্তু মায়েরা নিরামিষ খান। কারণ এই দিন পিঁয়াজ রসুন সহ কোনও প্রকার আমিষ খাবার গ্রহণ করা যায় না। অন্নের বদলে এই দিন আটা-ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার এবং সেই সঙ্গে সাবু খাওয়া যায়। পোড়া খাবারও অশোক ষষ্ঠীর দিন খাওয়া যায় না। অশোক ষষ্ঠীকে অনেকে অরণ্য ষষ্ঠীও বলে থাকেন।

    অশোক ষষ্ঠী ঘিরে প্রচলিত কাহিনী

    অশোক ষষ্ঠীর (Ashok Sasthi 2026) পুজোর সঙ্গে এক মুনিকন্যার কাহিনি জড়িত। যে কন্যাকে অশোক গাছের নিচে কুড়িয়ে পান ওই মুনি। ওই মুনির বাস ছিল অশোক বনে। কন্যার নাম হয় অশোকা। এককালে কন্যা বড় হলে, তাঁর বিয়ে হয় রাজপুত্রের সঙ্গে। স্বামীগৃহে যান মুনিকন্যা। মুনি, অশোকাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর সময় সঙ্গে কিছু অশোক ফুল এবং অশোক গাছের বীজ বেঁধে দেন। সেই সঙ্গে বলে দেন যে চৈত্র মাসের শুক্ল ষষ্ঠীর দিন ওই শুকনো অশোক ফুলগুলি জল দিয়ে যেন তিনি খান। আর ওই দিন অশোকাকে অন্ন না খাওয়ার আদেশ দেন এরপর কেটে যায় বহুকাল। অশোকার সাত পুত্র এবং এক কন্যা সন্তান হয়, বিয়েও হয় তাঁদের।

    এক চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে সন্ধ্যেবেলায় অশোকা অন্ন মুখে দেব না বলে জানান। আদেশ মত বউমারা অশোকার জন্য মুগকলাই রাঁধতে থাকে, কিন্তু তার মধ্যে কোনওভাবে একটা ধান ছিল, যেটা খাবারের মধ্যেই থেকে যায়। সেই খাবার অশোকা (Ashok Sasthi 2026) খেতেই পরিবারে অশোকার সন্তান, স্বামী সহ অনেকে মারা যান। তিনি ছুটে যান ওই মুনির কাছে। মুনিই তখন বলেন, ওই খাবারে কোনও ধান থাকার জেরেই এমন ক্ষতি হয়েছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঘটি থেকে মন্ত্রপূত জল দিয়ে দেন অশোকাকে, বলেন যে এই মন্ত্রপপূত জল মৃতদের গায়ে ছিটিয়ে দিলে সকলে বেঁচে উঠবেন। অশোকা বাবার কথামতো তাই করেন। সকলে প্রাণ ফিরে পায়। চৈত্র মাসে ষষ্ঠীর দিন মা ষষ্ঠীর পুজো দিয়ে মুগকলাই আর দই সহযোগে অশোক ফুল খেতে বলেন মুনি। সেই থেকেই এই ব্রত কথা উঠে আসে।

    কেন অশোক কুঁড়িই প্রসাদ

    এই তিথিতে অশোকফুল এবং বীজ খাওয়ার নিয়ম আছে। আয়ুর্বেদে অশোকগাছের ভেষজ গুরুত্ব প্রচুর। মরসুমি অসুখ, স্ত্রীরোগ থেকে প্রতিষেধক তৈরি করে অশোক ফুল, বীজ এবং গাছের ছাল। সেই গুণকেই সমাদর করা হয় (Ashok Sasthi 2026) ব্রতপালনের মাধ্যমে। এই প্রসাদ খাওয়ার বিশেষ নিয়মও রয়েছে। বলা হয়, পুজোর পর দই, কাঁঠালি কলার মধ্যে ফুলের কুঁড়িগুলি রেখে দাঁতে না লাগিয়ে গিলে খাওয়া হয়। এরপর মুগকলাই খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়। বাড়িতেও অশোক গাছ থাকা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এতে বাস্তুদোষ কেটে যায় বলেই বিশ্বাস।

  • Navratri Fasting: নবরাত্রিতে উপবাস! শুধু ঐতিহ্য নয়, এই রীতি কতখানি স্বাস্থ্যসম্মত জানেন?

    Navratri Fasting: নবরাত্রিতে উপবাস! শুধু ঐতিহ্য নয়, এই রীতি কতখানি স্বাস্থ্যসম্মত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে চৈত্র নবরাত্রি (Chaitra Navratri 2026)। চলবে ২৭ মার্চ রামনবমী (Ramnavami) পর্যন্ত। দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে এই উৎসব। উত্তর থেকে দক্ষিণ, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশেই বছরের এই সময়ে নবরাত্রির উৎসব পালন হয়। হিন্দু শাস্ত্র (Hindu Traditions) মতে, নবরাত্রি অর্থাৎ নয় রাত ধরে মা দুর্গার আরাধনা করা হয়। পবিত্রতা, শান্তির প্রতি আস্থা রাখার পাশপাশি দুষ্টের দমন এবং শুভ শক্তির পালন, এই আর্জি নিয়েই দেশজুড়ে মা দুর্গার আরাধনা চলে। প্রথা অনুযায়ী, এই ন’দিন ধরে উপবাস রাখতে হয়। পালন করতে হয় সাত্ত্বিক জীবনযাপন। হিন্দু শাস্ত্রে, নবরাত্রি উদযাপনের (Navratri Fasting) এই পাঠ কিন্তু শুধুই ধর্মীয় রীতি নয়। বরং এর তাৎপর্য আরও গভীর।‌ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নয় রাতের এই ব্রত সুন্দর জীবন যাপনের (Healthy Lifestyle) পথ আরও সুগম করে। তাই নবরাত্রি উদযাপনের গভীরতা আরও বেশি।

    নবরাত্রি পালন কীভাবে সুস্থ জীবন যাপনের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নবরাত্রি উদযাপন শুধুই উপোস আর প্রার্থনা নয়। এই ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে এক গভীর জীবন‌বোধ এবং জীবন‌ যাপনের পদ্ধতি। যা খুবই স্বাস্থ্যকর! তাঁরা জানাচ্ছেন, নবরাত্রি পালনের সময় সকালে নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে ওঠা, যোগাসন করা, ধ্যান করার মতো নিয়ম পালনের কথা বলা হয়। সকলের কল্যাণের কথা চিন্তা করে ঈশ্বরের প্রার্থনার, নবরাত্রির অন্যতম আচার। অর্থাৎ একটি নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে জীবন যাপনের দিকে এই উৎসব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।

    পজিটিভ এনার্জি আসে

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক জীবনে ডায়াবেটিস থেকে স্থূলতা, রক্তচাপ কিংবা হৃদরোগের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মানসিক চাপ কমাতে, অবসাদ, উদ্বেগের মতো সমস্যা কমাতে ধ্যানের অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। নবরাত্রি পালনের (Navratri Fasting) জন্য সেই অভ্যাস জীবনে স্থায়ী হয়। ঈশ্বরের কাছে কল্যাণ প্রার্থনার মাধ্যমে মনে পজিটিভ এনার্জি বা ইতিবাচক শক্তি তৈরি হয়। যার ফলে নানান ভালো কাজের ইচ্ছে হয়। নানান নেতিবাচক ভাবনা দূর হয়। মানসিক শান্তি বজায় থাকে। এর ফলে অবসাদ, মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মতো সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    হজমের গোলমাল কমায়

    নবরাত্রি পালনের সময় উপোস করতে হয়। কিন্তু ঐতিহ্য মেনে এই উদযাপনে সম্পূর্ণ অভুক্ত থাকার রীতি (Hindu Traditions) নেই। নবরাত্রির সময় পুষ্টিকর অথচ সহজপাচ্য সাত্ত্বিক খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। প্রাণীজ প্রোটিন নয়। পরিমিত আহার শরীরের জন্য উপকারি এই ভাবনা বোঝানোর জন্য নবরাত্রি রীতি (Navratri Fasting) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব, স্থূলতা, বন্ধ্যত্ব, কোলেস্টেরলের সমস্যা কিংবা হৃদরোগের মতো জটিল অসুখের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাস। তরুণ প্রজন্মের একাংশের অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংসের পদ খাওয়ার অভ্যাস অসুখ বাড়াচ্ছে। নবরাত্রি পালনের সময়ে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে সাত্ত্বিক খাবার খাওয়ার রেওয়াজ খুবই স্বাস্থ্যকর। পাশপাশি, পরিমিত খাবারের অভ্যাস হজমের গোলমাল কমায়। দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। তাই নবরাত্রি পালন অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    মানসিক চাপ কমে

    নবরাত্রি (Navratri Fasting) উদযাপনের সময়ে সামাজিক যোগাযোগ নিবিড় হয়। প্রতিবেশি, আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে একাকিত্ব বাড়ছে। আর একাকিত্বের হাত ধরেই শরীর ও মনে বাসা বাঁধছে নানান রোগ।‌ নিয়মিত কথা বলা, পারিবারিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারলে নানান সঙ্কট সহজেই কাটানো যায়। তাই নবরাত্রি উদযাপনের মতো ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করলে মানসিক চাপ কমে।

    রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে

    তবে, এর পাশপাশি নবরাত্রি যে সময়ে পালন হয়, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের। তাঁরা জানাচ্ছেন, বছরে দু’বার নবরাত্রি (Navratri Fasting) পালন হয়। একটি চৈত্র মাসে অর্থাৎ বসন্ত ঋতুতে। আরেকটি শরৎ ঋতুতে।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, বছরের এই দুই সময়েই ঋতু পরিবর্তনের সময়ে আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তন দেখা যায়। অর্থাৎ তাপমাত্রার রদবদল হয়। বাতাসে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার দাপট বাড়ে। ফলে নানান সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এই সময়ে শরীর সুস্থ রাখতে বাড়তি নজরদারি জরুরি। পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত যোগাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আবার অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও কমায়। তাই নবরাত্রি পালন করলে শরীর সুস্থ থাকবে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

     

  • Chaitra Navratri 2026: আজ থেকে শুরু হল চৈত্র নবরাত্রি, ন’দিনে ন’টি রূপে পূজিত হন দেবী দুর্গা

    Chaitra Navratri 2026: আজ থেকে শুরু হল চৈত্র নবরাত্রি, ন’দিনে ন’টি রূপে পূজিত হন দেবী দুর্গা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ (বাংলায় ৪ চৈত্র, ১৪৩২) থেকে শুরু হল চৈত্র নবরাত্রি (Chaitra Navratri 2026)। এদিন থেকে হিন্দু নববর্ষেরও সূচনা হয়। এবছর চৈত্র মাসের নবরাত্রি ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২৭ মার্চ রামনবমীর (Ramnavami) সঙ্গে। এই নয় দিন ধরে মা দুর্গার নয়টি রূপের পুজো করা হয়। শারদীয়া দুর্গোৎসবের জাঁকজমক এখন বিশ্বজনীন হলেও, শাস্ত্র মতে বাঙালির আদি পুজো কিন্তু এই বাসন্তী পুজোই। রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি প্রথম চৈত্র মাসেই মৃন্ময়ী রূপে চিন্ময়ীর আরাধনা করেছিলেন। চৈত্র মাসের দুর্গাপুজো বসন্তকালে হয় বলে একে বাসন্তীপুজোও (Basanti Puja) বলা হয়। তবে এই দিনগুলোর মধ্যে মহাঅষ্টমী এবং মহানবমী সবচেয়ে বিশেষ বলে মনে করা হয়। বাংলায় বাসন্তী পুজো তিনদিন ধরে হলেও, মহাষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ অন্নপূর্ণা পুজো (Annapurna Puja)। চৈত্রের এই নবরাত্রির নবম দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভগবান শ্রীরাম। সেই থেকে এই দিনটি রামনবমী হিসেবে খ্যাত। ফলে, নবরাত্রির দিনগুলোতে বাংলা সহ দেশজুড়ে থাকে উৎসবের আসর।

    নবরাত্রির কোন দিনে কী পুজো

    শারদীয়া নবরাত্রিই হোক কিংবা চৈত্র নবরাত্রি এই দুই পর্বেই আদ্যাশক্তির বিভিন্ন রূপের পুজো হয়। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র নবরাত্রিতে (Chaitra Navratri 2026) নিয়মনিষ্ঠা মেনে যাঁরা দেবীর ন’টি রূপের পুজো করেন, তাঁরা যা চান, দেবী তাঁদের মনস্কামনা পূরণ করেন।

    প্রতিপদে মাতা শৈলপুত্রীর পুজো – ১৯ মার্চ, বৃহস্পতিবার

    নবরাত্রির প্রথম দিনে মাতা শৈলপুত্রীর পুজো করা হয়। দেবীর নামের অর্থ “পাহাড়ের কন্যা”। তাঁর ভক্তদের বিশ্বাস-মাতা শৈলপুত্রীর আশীর্বাদ স্বরূপ সুস্থ, রোগমুক্ত জীবন পাওয়া যায়। মাতার নৈবেদ্যতে খাঁটি ঘি অর্পণ করা হয়। এই দেবীর আরাধনায় মূলাধার চক্র শুদ্ধ হয়।

    দ্বিতীয়ায় মাতা ব্রহ্মচারিণীর পুজো – ২০ মার্চ, শুক্রবার

    নবরাত্রির (Chaitra Navratri 2026) দ্বিতীয় দিনে এই দেবীর পুজো হয়। ব্রহ্মচারিণী মাতাকে খুশি করতে ভক্তরা চিনি নিবেদন করে থাকেন। বিশ্বাস মতে, মাতা তাঁর ভক্তদের দীর্ঘায়ু প্রদান করেন। এই দেবীর উপাসনার দ্বারা সাধিস্তান চক্র শুদ্ধ হয় হয় বলে ভক্তরা মনে করে।

    তৃতীয়ায় মাতা চন্দ্রঘণ্টার পুজো – ২১ মার্চ, শনিবার

    তৃতীয় দিনে মাতা চন্দ্রঘণ্টার প্রতি ভক্তি নিবেদন করা হয়। এই দেবীর বাহন বাঘ। উগ্র মূর্তি এই দেবীকে ক্ষীর ভোগ অর্পণ করেন ভক্তরা। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাশ করেন এবং যাবতীয় বাধা বিঘ্ন দূর করেন।

    চতুর্থীতে মাতা কুষ্মাণ্ডার পুজো- ২২ মার্চ, রবিবার

    চতুর্থ দিনে মাতা কুষ্মান্ডার প্রতি ভক্তি নিবেদিত হয়‌। শাস্ত্র মতে, এই দেবী মহাবিশ্বের স্রষ্টা। তিনি তাঁর ভক্তদের জ্ঞানদানের দ্বারা বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটান এবং কর্মক্ষেত্রে জটিলতা দূর করেন। দেবীকে মালপোয়া ভোগ অর্পণ করা হয়।

    পঞ্চমীতে মাতা স্কন্ধমাতার পুজো- ২৩ মার্চ, সোমবার

    নবরাত্রির (Chaitra Navratri 2026) পঞ্চম দিনে মাতা স্কন্দমাতার আরাধনা করেন ভক্তরা। ভগবান কার্তিককে কোলে নিয়ে উপবিষ্ট এই দেবীর আশীর্বাদ পেতে ভক্তরা কলা নিবেদন করেন। দেবীর আশীর্বাদে ভক্তের জীবনে পরম সুখ ও শান্তি আসে বলে বিশ্বাস।

    ষষ্ঠীতে মাতা কাত্যায়নীর পুজো- ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার

    ঋষি কাত্যায়নের কন্যা, শক্তির প্রতীক তথা যোদ্ধা দেবী কাত্যায়নী মাতার পুজো নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে সম্পন্ন হয়। ভক্তদের তিনি শক্তি, ধর্ম ও জাগতিক সুখ প্রদান করেন বলে বিশ্বাস। তাঁকে ভক্তদের মধু নিবেদনের রীতি চালু রয়েছে।

    সপ্তমীতে মাতা কালরাত্রির পুজো- ২৫ মার্চ, বুধবার

    সপ্তমী পুজো হয় মাতা কালরাত্রি দেবীর। দেবী ত্রিশূলধারী। মাতা কালরাত্রির আশীর্বাদে জীবনের সমস্ত কুপ্রভাব বিনষ্ট হয় বলে ভক্তদের ধারণা। মাতাকে গুড় নিবেদন করা হয়।

    অষ্টমীতে মাতা মহাগৌরীর পুজো- ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার

    উজ্জ্বল সৌন্দর্যের প্রতীক মহাগৌরী দেবী অষ্টমীতে ভক্তদের দ্বারা আরাধিত হন। মাতা মহাগৌরীর একহাতে ত্রিশূল ও অপর হাতে ডমরু থাকে। তাঁর নৈবেদ্যতে নারকেল রাখার রীতি রয়েছে। বিশ্বাস রয়েছে, মাতার আশীর্বাদ স্বরূপ ভক্তদের ভালো বিবাহ হয়।

    নবমীতে মাতা সিদ্ধিদাত্রীর পুজো- ২৭ মার্চ, শুক্রবার

    নবরাত্রির শেষদিনে পুজো হয় এই দেবীর। তিনি ভক্তদের জীবনে সমস্ত অশুভ প্রভাব বিনষ্ট করেন এবং সাফল্য আনেন বলে ভক্তদের ধারণা। মাতা সিদ্ধিদাত্রীকে ভক্তরা তিল নিবেদন করে থাকেন।

    বাসন্তী পুজো কবে পড়ছে

    এদিকে, এই নবরাত্রির (Chaitra Navratri 2026) সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত সময়ে বাংলার বহু এলাকায় বাসন্তী পুজো (Basanti Puja) পালিত হয়। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, এই বাসন্তী পুজোর তারিখ ও সময়কাল – বাসন্তীপুজোর ষষ্ঠী ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার। বাসন্তীপুজোর নিয়মকানুন সব দুর্গাপুজোর মতো হলেও, এই পুজোয় দেবীর বোধন হয় না। সপ্তমীর পুজো ২৫ মার্চ, বুধবার। অষ্টমীর পুজো ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার। অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৫ মার্চ দুপুর ১টা ৫১ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৬ মার্চ সকাল ১১টা ৪৯ মিনিটে। বাসন্তী পুজোর নবমী ২৭ মার্চ, শুক্রবার পড়েছে। ২৬ মার্চ সকাল ১১টা ৪৯ মিনিটের পর নবমী তিথি শুরু হয়ে যাবে, যা ২৭ মার্চ সকাল ১০টা ৮ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। বাসন্তী বিজয়া দশমী ২৮ মার্চ শনিবার।

    অন্নপূর্ণা পুজো কবে

    চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে বাংলার ঘরে ঘরে পালিত হয় অন্নপূর্ণা পুজো (Annapurna Puja)। এবছর অন্নপূর্ণা পুজো পড়েছে ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে এই পুজোটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মা অন্নপূর্ণা হলেন অন্ন ও পুষ্টির অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তাঁর কৃপায় সংসারে কোনওদিন খাবারের অভাব হয় না—এমনই বিশ্বাস ভক্তদের হৃদয়ে। দেবী অন্নপূর্ণা হলেন প্রকৃতি মার রূপ যিনি সমস্ত জীবকে লালন-পালন করেন। বিশ্বাস করা হয় যে কাশীতে, ভগবান শিব দেবী পার্বতীর কাছ থেকে ভিক্ষার পাত্রে খাবার গ্রহণ করেছিলেন। দেবী অন্নপূর্ণা আমাদের লালন-পালন করেন এবং আত্ম-উপলব্ধির জন্য প্রস্তুত করেন। অন্নপূর্ণা পুজো সকল জীবের কল্যাণের জন্য করা হয়।

LinkedIn
Share