Tag: Chetan Chaudhary

  • Ketan Agarwal Murder Case: কেতন আগরওয়াল হত্যার ষড়যন্ত্রে তৃতীয় গ্রেফতার, পুলিশ হেফাজতে ঋত্বিক হিঙ্গে

    Ketan Agarwal Murder Case: কেতন আগরওয়াল হত্যার ষড়যন্ত্রে তৃতীয় গ্রেফতার, পুলিশ হেফাজতে ঋত্বিক হিঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবাসন ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বছর বাইশের এক যুবককে গ্রেফতার করল পুনে (Pune) গ্রামীণ পুলিশ। এই নিয়ে কেতন হত্যাকাণ্ডে (Ketan Agarwal Murder Case) গ্রেফতার করা হল মোট তিনজনকে। ধৃতের নাম ঋত্বিক হিঙ্গে। তাকে মামলায় সহ-অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    যা বলছে পুলিশ (Ketan Agarwal Murder Case)

    পুলিশের দাবি, ঋত্বিকের সঙ্গে চেতন চৌধরীর বন্ধুত্ব ছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, চেতনের সঙ্গে কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। গত ১৮ জুন পুনে জেলার লোহাগড় দুর্গে সিয়া ও চেতন কেতনকে ধাক্কা দিয়ে খাদের মধ্যে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় মৃত্যু হয় কেতনের।

    পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপার সন্দীপ সিং গিল বলেন, “তদন্ত চলাকালীন জানা যায়, কেতনকে হত্যার পরিকল্পনায় ঋত্বিকও জড়িত ছিল।”

    আর এক পুলিশ আধিকারিক জানান, প্রথমে কেতনের হাত-পা ভেঙে ফেলা হয় এবং পরে তাকে খুন করার যে পরিকল্পনা সিয়া ও চেতন করেছিল, সে সম্পর্কে ঋত্বিক আগে থেকেই জানত। অভিযোগ, ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে কেতনকে হত্যার পর চেতন ঋত্বিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে গোটা ঘটনা জানায়।

    তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, হত্যার দিন সিয়া ও চেতন একাধিকবার ঋত্বিককে তাদের সঙ্গে লোহাগড় যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ঋত্বিক। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেতনের ফোন থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই পুলিশ ঋত্বিকের কাছে পৌঁছয়।

    বিড জেলার বাসিন্দা ঋত্বিক পুনের বালেওয়াড়ি এলাকায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই চেতনের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে (Ketan Agarwal Murder Case)।

    ঋত্বিক ঠিক কতটা বিষয়টি জানত এবং হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সে সরাসরি যুক্ত ছিল কি না, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, “ঘটনার আগে কেতনকে খুন করার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে এই বন্ধু জানত। ঘটনার পর তাকে হত্যার বিষয়টিও জানানো হয়েছিল। তার ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।”

    সিয়ার কীর্তি

    তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এর আগে বালিতে কেতন ও সিয়ার বিয়ের আগের ছবি তোলার অনুষ্ঠানও নষ্ট করে দিয়েছিল সিয়া। অভিযোগ, সে কেতনের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে পুনে-মুম্বই মহাসড়কের একটি খাবারের বিপণি এলাকার শৌচাগারে ফেলে দিয়েছিল।

    পুলিশের দাবি, কেতনকে লোহাগড় দুর্গের খাদের দিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার কয়েক দিন আগে সিয়া ও চেতন কীভাবে হত্যার পরিকল্পনা কার্যকর করবে, তার মহড়াও দিয়েছিল। পুনের লুল্লানগর এলাকার একটি ক্লাবের লাউঞ্জের কাছাকাছি খোলা জায়গায় ওই মহড়া হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।

    গত ১৮ জুন বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের সঙ্গে লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে ও ছবি তুলতে গিয়েছিলেন পুনের ব্যবসায়ী কেতন। দুর্গের কিনারায় ছবি তোলার সময় কেতন পা পিছলে খাদে পড়ে যান বলে প্রথমে দাবি করেছিল সিয়া। সেই কারণে শুরুতে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা হয়েছিল।

    কিন্তু কেতনের বোন সিয়াকে ঘটনাটি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তার বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে যোগাযোগ করার পর কেতনের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। পরে খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সন্দেহে সিয়া এবং চেতনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের!

    কেতনের পরিবারের অনুরোধে পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখে এবং বহু ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সিয়া ও চেতনের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।

    এদিকে, জুন মাসের প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও দুর্গের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে হুডি পরা এক ব্যক্তিকে কেতন ও সিয়ার গাড়ি এবং তাদের গতিবিধি অনুসরণ করতে (Pune) দেখা যায়। ওই ব্যক্তির পোশাকের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা শেষ পর্যন্ত তাকে চেতন বলে শনাক্ত করেন (Ketan Agarwal Murder Case)। এরপর তার গতিবিধি অনুসরণ করেই তদন্ত আরও এগিয়ে যায়।

     

LinkedIn
Share