Tag: Chhattisgarh

Chhattisgarh

  • Church Network Conversion: খ্রিস্টান মিশনারীর বিরুদ্ধে ধর্ম পরিবর্তন করার অভিযোগ! ৯৫ কোটি টাকার বিদেশি আর্থিক লেনদেন, ছত্তিশগড়ে তদন্তে ইডি 

    Church Network Conversion: খ্রিস্টান মিশনারীর বিরুদ্ধে ধর্ম পরিবর্তন করার অভিযোগ! ৯৫ কোটি টাকার বিদেশি আর্থিক লেনদেন, ছত্তিশগড়ে তদন্তে ইডি 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) খ্রিস্টান চার্চ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যাপক হারে ধর্মান্তকরণ এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আতশ কাচের তলায় এখন ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ নামক একটি সংস্থা। অভিযোগ, এই সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার বিদেশি তহবিল ভারতে এসেছে, যার একটি বড় অংশই আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মান্তকরণের (Church Network Conversion) কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই সংস্থার কার্যপ্রণালী অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইডি এই মামলার গভীরে গিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এগুলি হল-

    বিপুল বিদেশি তহবিল (Chhattisgarh)

    ছত্তিশগড় রাজ্যে (Chhattisgarh) তদন্তে দেখা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা বিভিন্ন বিদেশি উৎস থেকে এই খ্রিস্টান চার্চ (Church Network Conversion) কর্তৃপক্ষের অ্যাকাউন্টে এসেছে। এফসিআরএ (FCRA) বা বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের নিয়মাবলী লঙ্ঘন করে এই টাকা আনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি।

    চার্চ নেটওয়ার্ক ও ‘মাল্টিপ্লিকেশন’ মডেল

    অভিযোগ, ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ (Church Network Conversion) একটি বিশেষ ‘চার্চ প্লান্টিং’ (Chhattisgarh) মডেল অনুসরণ করে। অর্থাৎ, দ্রুত হারে ছোট ছোট চার্চ তৈরি করা এবং স্থানীয় লোকজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ করা। এই মডেলকে তারা ‘মাল্টিপ্লিকেশন’ বা সংখ্যাবৃদ্ধি বলে অভিহিত করে।

    টার্গেট ছত্তিশগড়ের আদিবাসী এলাকা

    বস্তার এবং সংলগ্ন আদিবাসী প্রধান জেলাগুলিতে এই সংস্থার সক্রিয়তা সব থেকে বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। দরিদ্র ও সরল আদিবাসীদের আর্থিক প্রলোভন বা অন্য কোনও উপায়ে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

    ইডির পরবর্তী পদক্ষেপ

    ইতিমধ্যেই ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছেন গোয়েন্দারা। এই বিশাল অঙ্কের টাকার উৎস কী এবং তা কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে, সেই যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    খ্রিস্টান মিশনারির এই তদন্ত (Church Network Conversion) শুরু হতেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, এই তদন্তের ফলে ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ধর্মান্তকরণ চক্রের পর্দা ফাঁস হবে। উল্লেখ্য, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জনবিন্যাসের পরিবর্তনের আশঙ্কায় বিদেশি তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত এই ধরনের সংস্থাগুলির ওপর কেন্দ্রীয় সরকার গত কয়েক বছর ধরেই কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

  • Amit Shah: ‘‘কলকাতাকে বস্তি বানিয়েছেন মমতা! অনুপ্রবেশকারীদের মুক্তাঞ্চল গড়েছে তৃণমূল’’, তোপ অমিত শাহের

    Amit Shah: ‘‘কলকাতাকে বস্তি বানিয়েছেন মমতা! অনুপ্রবেশকারীদের মুক্তাঞ্চল গড়েছে তৃণমূল’’, তোপ অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) প্রচার চলাকালীন কলকাতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মহানগররের পরিকাঠামোগত অবনতি এবং বস্তি এলাকার সমস্যা তুলে ধরে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেন। সেই সঙ্গে দিলেন বিজেপি সরকার হলেই ১ লক্ষ বেকারের চাকরি নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি।

    গত ১৫ বছরে তৃণমূলের মা মাটি সরকার নারী সুরক্ষা থেকে শিক্ষক দুর্নীতির একাধিক ইস্যুতে জনগণের চরম বিক্ষোভের মধ্যে পড়েছে। নির্বাচন আবহে বিজেপির মমতা সরকারের একাধিক অনুন্নয়ন, দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, বালি-কয়লা-মাটি-পাথর পাচার, রেশন দুর্নীতি, মিডডে মিল দুর্নীতি, আম্ফানে দুর্নীতি, আবাস-একাশদিনের কাজে দুর্নীতি-সহ একাধিক ঘটনা ব্যাপক ভাবে শাসকদলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। একই ভাবে ২৬ হাজার শিক্ষকদের চাকরি বাতিল, কাটমানি, সিন্ডিকেট, আরজিকর ধর্ষণকাণ্ড, সন্দেশখালিতে শাহজাহানের নারী নির্যাতনের বিষয় জনমানুষের মনে ক্ষোভ চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। তাই রাজনৈতিক ভাবে এই সব বিষয়কে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট যুদ্ধে নেমেছে বিজেপি। রাজ্যে একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা অমিত শাহ।

    পরিকল্পনার অভাবে শহরটি ক্রমশ শ্রীহীন কলকাতা (Amit Shah)

    জনসভায় ভাষণ (West Bengal Elections 2026) দেওয়ার সময় অমিত শাহ (Amit Shah) মন্তব্য করেন যে, এক সময়ের ‘প্রাসাদ নগরী’ বা ‘সিটি অফ প্যালেসেস’ হিসেবে পরিচিত কলকাতা বর্তমান শাসনামলে অবহেলার শিকার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে তোপ দেগে বলেন, “সঠিক পরিকল্পনার অভাবে শহরটি ক্রমশ শ্রীহীন হয়ে পড়ছে, দীর্ঘ বাম শাসন এবং বর্তমানে তৃণমূলের রাজত্বে কলকাতা ‘বস্তির শহর’-এ পরিণত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতে এই বস্তিগুলিতেই অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছেন।”

    হারানো গৌরবকে পুনরুদ্ধারের লড়াই

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, গত দেড় দশকে কলকাতায় নতুন কোনও উল্লেখযোগ্য পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বরং ক্রমবর্ধমান বস্তি এলাকা এবং নাগরিক পরিষেবার অভাব শহরবাসীকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। নাগরিক জীবন যাপনের বেহাল দশা নিয়ে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “এই ভোট শুধু বিধায়ক বানানোর ভোট নয়, এটি কলকাতার হারানো গৌরবকে পুনরুদ্ধারের লড়াই। বিজেপি প্রার্থীদের জেতাতে বা বিজেপি সরকার গড়তে আপনাদের ভোট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনারা ভোট দিন (West Bengal Elections 2026) পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য। ভোট দিন কলকাতাকে আবার শ্রেষ্ঠ শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য।”

    তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতার স্মারক

    নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) আবহে কলকাতার এই পরিস্থিতিকে তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতার স্মারক হিসেবে তুলে ধরেন  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বস্তিগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দিয়ে নিজের ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করতে চান। তিনি চান না সাধারণ মানুষ উন্নত জীবনযাপন করুক। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো সঠিক ভাবে রূপায়ণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে আর তাঁর আগে কমিউনিস্টদের আমলে গোটা শহরটা বস্তির শহর হয়ে রয়ে গিয়েছে। দেশের অন্যান্য রাজ্যে এমন অনেক শহর আছে যেগুলি আজ বস্তিমুক্ত হয়ে উঠেছে। কিন্তু দিদি তার প্রয়োজন মনে করেন না।”

    চারটে বড় শিল্পশহর বানাব

    এদিনের সভায় অমিত শাহ (Amit Shah) রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের ডাক দিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতির কথাও বলেছেন। ভোটাররা যাতে সম্পূর্ণ ভাবে নিজেদের ভোট গ্রহণ করতে পারেন তাই মানুষের আত্ম বিশ্বাস অর্জনে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিজেপির সরকার গঠিত হওয়ার পরে চারটে বড় শিল্পশহর বানাবো। যে সব প্রতিষ্ঠান মমতার সিন্ডিকেটের জন্য বাইরে চলে গিয়েছে, সেই সব প্রতিষ্ঠানকে আবার পশ্চিমবঙ্গে চালু করবে বিজেপি সরকার।”

    ১ লক্ষ চাকরি দেওয়া হবে

    তিনি নির্বাচনী প্রচারে (West Bengal Elections 2026) আরও বলেন, “তরুণদের প্রতি বছর ১ লক্ষ চাকরি দেওয়া হবে। বাড়ি বসে নিয়োগপত্র পাবেন, এমন ভাবে কাজ করবে বিজেপি।বিজেপি যেখানে যেখানে ক্ষমতায় এসেছে মহিলাদের সুরক্ষার কথা ভেবেছে। আপনারা বিজেপির সরকার গড়ে দিন, প্রত্যেক দিদির অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পাঠাবো আমরা। ৪ মে সকালেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। ৮টায় ব্যালট বক্স খোলা হবে, ৯টায় প্রথম রাউন্ডের ফল আসবে, ১০টায় দ্বিতীয় রাউন্ড এবং ১টার মধ্যেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তারপরই হবে-দিদি টাটা, গুড বাই!”

    বিজেপির প্রতিশ্রুতি

    অমিত শাহ (Amit Shah) প্রতিশ্রুতি দেন যে, রাজ্যে ক্ষমতার (West Bengal Elections 2026) পরিবর্তন হলে কলকাতাকে পুনরায় আধুনিক ও বিশ্বমানের মেগাসিটিতে রূপান্তর করা হবে। নির্বাচনের তপ্ত আবহে কলকাতার নগরায়ন এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধাকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন অমিত শাহ। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে শহরের মান অবনমন এবং বেকারত্ব প্রসঙ্গে সাধারণ জনতার মন জয় করেছেন বলে মনে করছেন রাজনীতির এক শ্রেণির বিশেষজ্ঞরা। এখন ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয় তাই দেখার।

  • Chhattisgarh: মাওদমনে ফের সাফল্য ছত্তিশগড় পুলিশের, কুখ্যাত কমান্ডার দর্সু সোরির আত্মসমর্পণ, মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ

    Chhattisgarh: মাওদমনে ফের সাফল্য ছত্তিশগড় পুলিশের, কুখ্যাত কমান্ডার দর্সু সোরির আত্মসমর্পণ, মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) নকশাল দমন অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী। রাজ্য পুলিশের কাছে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করলেন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাওবাদী কমান্ডার দর্সু সোরি। দর্সুর (Maoist Commander Darsu Sori) মাথার ওপর ৮ লক্ষ টাকার পুরস্কার মূল্য ঘোষণা করা ছিল। সরকারের ‘পুনর্বাসন নীতি’ এবং মাওবাদী আদর্শের অন্তঃসারশূন্যতায় বীতশ্রদ্ধ হয়েই তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার (Chhattisgarh)

    দীর্ঘদিন ধরে দণ্ডকারণ্য ও সংলগ্ন এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন এই দর্সু সোরি। বুধবার তিনি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে নিজের অস্ত্র ও বেশ কিছু বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর আত্মসমর্পণকে মাওবাদী শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছে প্রশাসন। আত্মসমর্পণের সময় দর্সু সোরি একটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জামও পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ সূত্রে খবর, এই গ্যাজেটগুলো থেকে মাওবাদীদের গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

    একাধিক হত্যা, অপহরণ এবং নাশকতামূলকের কর্ণধার

    দর্সু সোরি (Maoist Commander Darsu Sori) মাওবাদীদের এরিয়া কমিটির সদস্য এবং সামরিক শাখার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব সামলাতেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, অপহরণ এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। আত্মসমর্পণ করে দর্সু বলেন, মাওবাদী সংগঠনের ভেতরের বৈষম্য এবং উন্নয়নবিরোধী মানসিকতার কারণে তিনি তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন। এছাড়া ছত্তিশগড় (Chhattisgarh) সরকারের বিশেষ পুনর্বাসন প্যাকেজ আমাকে মূলস্রোতে ফিরতে উৎসাহিত করেছে।

    আত্মসমর্পণ অত্যন্ত কার্যকর

    বক্সার এবং দান্তেওয়াড়া রেঞ্জের পুলিশ আধিকারিকরা এই কুখ্যাত মাওবাদীর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। পুলিশ বিবৃতি দিয়ে জানায়, মাওবাদীদের সম্পূর্ণ প্রভাব হ্রাস করতে এই ধরনের আত্মসমর্পণ অত্যন্ত কার্যকর। দর্সু সোরিকে (Maoist Commander Darsu Sori) সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে। গত কয়েক মাসে ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বাস্তার ও দান্তেওয়াড়া অঞ্চলে একের পর এক মাওবাদী নেতার আত্মসমর্পণ ও গ্রেফতারি প্রমাণ করছে যে, সশস্ত্র আন্দোলনের ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। প্রশাসনের আশা, দর্সুর পথ অনুসরণ করে আরও অনেক বিভ্রান্ত যুবক অস্ত্র ছেড়ে শান্তির পথে ফিরে আসবে।

  • Chhattisgarh: ছত্তিশগড়েও পালিত হল পয়লা বৈশাখ, মেনুতে কি ছিল জানেন?

    Chhattisgarh: ছত্তিশগড়েও পালিত হল পয়লা বৈশাখ, মেনুতে কি ছিল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যথাযোগ্য মর্যাদায় পয়লা বৈশাখ (Poila Baisakh) পালিত হল ছত্তিশগড়েও (Chhattisgarh)। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাইয়ের সরকারি বাসভবনে পালিত হয় পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান। ছত্তিশগড়ে বসবাসকারী বাঙালিদের উদ্যোগেই পালিত হয় দিনটি। এদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রচুর বাঙালি। ১৭ অগাস্ট, রায়পুরে অবস্থিত ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সর্বত্রই ছিল বাঙালিয়ানার ছাপ। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি এদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন উপ মুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা এবং ছত্তিশগড় বিজেপির রাজ্য সম্পাদক কিরণ দেবও।

    পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে কৃতি বাঙালিরা (Chhattisgarh)

    বাঙালি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিরাও যোগ দিয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানে। এঁদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি গৌতম ভাদুড়ি, প্রবীণ আইনজীবী কিশোর ভাদুড়ি, বেঙ্গলি ব্যাঙ্কার্স ক্লাবের  সংস্থাপক প্রবীর সেন শর্মা এবং সেভ বেঙ্গল মিশনের সংস্থাপক গোপাল সামন্তও। কেবল পুরুষরাই নন, অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বঙ্গ-নারীরাও। এঁদের মধ্যে ছিলেন (Chhattisgarh) শিল্পী সোনার, সোনালি চক্রবর্তী, শিপ্রা ব্যানার্জি, অনিন্দিতা সামন্ত, শিখা মিত্র, অনু চ্যাটার্জি এবং অন্যান্য অনেক বাঙালি প্রতিভা।

    নৈশভোজের মেনু

    উৎসব উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল নৈশভোজেরও। মেনুও ছিল পুরোপুরি বাঙালি ঘরানার। ভাতের সঙ্গে ছিল বেগুন ভাজা, পাঁচ মেশালি তরকারি এবং অবশ্যই মাছের ঝোল। ছত্তিশগড়ের এই অনুষ্ঠানটি সে রাজ্যে বসবাসকারী বাঙালি সম্প্রদায়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি জমানায় একদিকে যেমন ফিরেছে রাজ্যের অর্থনীতির হাল, তেমনি পালিত হয়েছে ভিন (Poila Baisakh) রাজ্যের উৎসবও। বস্তুত, ছত্তিশগড়ের এই অনুষ্ঠান ভারতের অন্যান্য রাজ্যের কাছেও একটি আদর্শ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Chhattisgarh)।

     

  • Chhattisgarh: এনকাউন্টারে খতম শীর্ষ মহিলা মাওবাদী নেত্রী রুপি, অন্যদের হুঁশিয়ারি ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’

    Chhattisgarh: এনকাউন্টারে খতম শীর্ষ মহিলা মাওবাদী নেত্রী রুপি, অন্যদের হুঁশিয়ারি ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বস্তার জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে খতম হয়েছে শীর্ষস্থানীয় মাওবাদী কমান্ডার রুপি (Maoist Commander Rupi)। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাঙ্কের জেলায় ঘন জঙ্গলে আত্মগোপন করে ছিল। এই সাফল্যের পর মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের প্রতি কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে—”হয় আত্মসমর্পণ করো, নয়তো কঠোর পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো।”

    কীভাবে খতম?

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুর্গম বনভূমি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। জওয়ানদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাওবাদীরা অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে। পালটা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনীও। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলা এই এনকাউন্টারে শেষ পর্যন্ত রুপি নামের ওই মহিলা কমান্ডার নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র ও মাওবাদী নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    কে এই রুপি (Chhattisgarh)?

    নিহত মাওবাদী নেত্রী রুপি দীর্ঘ দিন ধরে উত্তর (Chhattisgarh)  এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার মাথার ওপর কয়েক লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা, পুলিশের ওপর হামলা এবং নাশকতামূলক কাজে সে সরাসরি জড়িত ছিল বলে দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর।

    সরকারের হুঁশিয়ারি

    অভিযান শেষে গডচিরোলির পুলিশ সুপার (Chhattisgarh)  বলেন, “রুপি (Maoist Commander Rupi) খতম হওয়ার ফলে এই অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক বড়সড় ধাক্কা খেল। যারা এখনো বিপথে রয়েছে, তাদের আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই— সময় ফুরিয়ে আসছে। আত্মসমর্পণ করে মূলস্রোতে ফিরে আসার সুযোগ এখনো আছে। তা না হলে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও তীব্র হবে।”

    বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং পলাতক অন্য মাওবাদীদের সন্ধানে সংলগ্ন জঙ্গলগুলিতে চিরুনি তল্লাশি চলছে।

    খুব কম সংখ্যক মাওবাদীই সক্রিয়

    বস্তার রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক সুন্দররাজ পাত্তিলিঙ্গম এই সংঘর্ষকে মাওবাদী নেটওয়ার্কগুলোর ওপর ধারাবাহিক চাপের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “সরকার মাওবাদী ক্যাডারদের আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জীবন গড়ার সুযোগ ধারাবাহিকভাবে দিয়ে আসছে। অনেকেই সেই পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু যারা সহিংসতার পথেই চলেছে, তাদের পরিণতিও একই হচ্ছে।” সেইসঙ্গে তিনি অবশিষ্ট ক্যাডারদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে এখন খুব কম সংখ্যক মাওবাদীই (Maoist Commander Rupi) সক্রিয় আছে। সময় ফুরিয়ে আসছে। শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য তাদের অবশ্যই আত্মসমর্পণ করে মূলধারায় ফিরে আসতে হবে।”

  • Maoist Papa Rao: মাও-মুক্ত ছত্তিশগড়! ১৬ সঙ্গীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাওয়ের

    Maoist Papa Rao: মাও-মুক্ত ছত্তিশগড়! ১৬ সঙ্গীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাওয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬ জন কমরেডকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করলেন ছত্তিশগড়ের শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাও (Maoist Papa Rao)। এমনই খবর জানালেন ছত্তিশগড়ের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা। তাঁদের আত্মসমর্পণ মাওবাদী দমনে রাজ্যের চালানো লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    মাও-মুক্ত ছত্তিশগড় (Maoist Papa Rao)

    রাও অস্ত্র সমর্পণ করায় প্রযুক্তিগতভাবে ও স্পষ্টভাবে বলা যায়, ওই স্তরের এমনকি তার চেয়েও নিচু স্তরের কোনও নকশাল কর্মী আর সক্রিয় নেই রাজ্যে। অন্তত এমনই জানালেন শর্মা। গত দু’দশকে দক্ষিণ বস্তারে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক প্রাণঘাতী হামলার মূলচক্রী ছিলেন এই শীর্ষ মাওবাদী নেতা। ২০১০ সালে তৎকালীন দান্তেওয়াড়া (বর্তমানে সুকমা) জেলার তাদমেতলা হামলারও ষড়যন্ত্রী ছিলেন তিনি। ওই হামলায় শহিদ হয়েছিলেন ৭৬ জন জওয়ান। মাওবাদীদের দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটিতে সক্রিয় রাও বস্তার অঞ্চলে তাঁর এক ডজনের বেশি সদস্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন বলে সোমবারই জানিয়েছিলেন শর্মা। উপমুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তিনি সামলাচ্ছেন স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বও। মঙ্গলবার পাপা অস্ত্রসমর্পণ করায় ছত্তিশগড়ে আর কোনও নকশাল কর্মী সক্রিয় নেই। শুধু তাই নয়, মাও দমনে ‘শাহি’ ডেডলাইন ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই রাজ্য হয়ে গেল সশস্ত্র নকশালবাদমুক্ত (Chhattisgarh)।

    মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট

    শর্মা বলেন, “রাওয়ের পুনর্বাসনের মাধ্যমে ছত্তিশগড়ে নকশালের উপস্থিতি কার্যত শেষ হয়ে গেল। ৩১ মার্চের মধ্যেই রাজ্য সশস্ত্র নকশালবাদ থেকে মুক্ত হবে।” তিনি জানান, পাপা রাও প্রায় ২৫ বছর ধরে সক্রিয় ছিলেন এবং বহু সংঘর্ষে জড়িত থাকলেও প্রতিবারই পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। রাজ্য সরকার তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ২৫ লাখ টাকা। শর্মা বলেন, “রাওয়ের মানসিকতা এখন বদলেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলাম (Maoist Papa Rao)। তখনই তিনি আত্মসমর্পণের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন।” তিনি জানান, পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে আরও আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা রয়েছে। বস্তার ডিভিশন ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির কিছু অংশে মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনাকারী দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি (DKSZC) মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হত। গত দু’দশকে বহু মারাত্মক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। শর্মা বলেন, “বর্তমানে পার্টি ও এরিয়া কমিটি স্তরের মাওবাদীরা ছত্তিশগড়ে আর সশস্ত্র কার্যকলাপে যুক্ত নন এবং তাঁরা প্রায় সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন।” তিনি বলেন, “তাঁরা অস্ত্র নামিয়ে রেখেছেন এবং ইউনিফর্ম ছেড়ে দিয়েছেন।” বর্তমানে ছত্তিশগড়ের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মাও-সদস্য মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি বা তেলঙ্গনায় সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের আত্মসমর্পণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

    মাওবাদ নির্মূলের সময়সীমা

    এদিকে, কেন্দ্রের নির্ধারিত মাওবাদ নির্মূলের সময়সীমা শেষ হতে আর এক সপ্তাহ বাকি। সোমবার ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাজি জানান, বর্তমানে রাজ্যে মাত্র ১৫ জন মাওবাদী সক্রিয় (Chhattisgarh) রয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তারা প্রসাদ বাহিনিপতির এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান্ধামাল-কালাহান্ডি-রায়গড়া জেলার সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় প্রায় ১৫ জন নকশাল সক্রিয় রয়েছে।” কেন্দ্রের সিকিউরিটি-রিলেটেড এক্সপেন্ডিচার প্রকল্প অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু কান্ধামাল জেলাকেই মাওবাদী-প্রভাবিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৌধ, বালাঙ্গির, কালাহান্ডি, বারগড়, মালকানগিরি, নবরঙ্গপুর, নুয়াপাড়া এবং রায়গড়—এই আটটি জেলাকে ‘লেগেসি’ ও ‘থ্রাস্ট’ জেলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, কান্ধামাল-কালাহান্ডি-রায়গড় সীমান্ত অঞ্চলে একটি ছোট নকশাল গোষ্ঠী সক্রিয় থাকলেও, রাজ্যের অন্যান্য সব জেলা এখন সম্পূর্ণভাবে মাওবাদীমুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি অনুযায়ী, যাঁরা অস্ত্র সমর্পণ করছেন, সেই মাওবাদীদের আর্থিক সহায়তা, বাসস্থান, সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত মাসিক ভাতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্য/রেশন কার্ড দেওয়া হচ্ছে (Maoist Papa Rao)।

    আত্মসমর্পণের বহর

    ২০২৪ সাল থেকে ১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৬ জন মাওবাদী ওড়িশা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। রাজ্য পুলিশ সতর্ক করেছে যে, ৩১ মার্চের মধ্যে যাঁরা আত্মসমর্পণ করবেন না, তাঁরা সরকারের পুনর্বাসন নীতির সুবিধাও পাবেন না। পুলিশ সূত্রে খবর, বিশেষ জোনাল কমিটির সদস্য সুক্রু এবং রাজ্যের আরও দুই মাওবাদী এখনও আত্মসমর্পণ করেনি। প্রতিবেশী ছত্তিশগড় থেকে আসা আরও ১২ জন মাওবাদী ওড়িশায় সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা বর্তমানে আত্মগোপন করে রয়েছেন। অ্যান্টি-নকশাল অপারেশনের এডিজি সঞ্জীব পান্ডা বলেন, “কিছু নকশাল এখনও আত্মসমর্পণ না করায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আমরা (Chhattisgarh) ৩১ মার্চের মধ্যেই কেন্দ্রের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব (Maoist Papa Rao)।”

     

  • Sukma: স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলো সুকমার গোগুন্ডা গ্রাম

    Sukma: স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলো সুকমার গোগুন্ডা গ্রাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের মাওবাদী-অধ্যুষিত সুকমা জেলায় (Sukma) এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ সাত দশক পর অবশেষে বিদ্যুতের (Electricity) আলোয় আলোকিত হলো দুর্গম গোগুন্ডা গ্রাম। জেলা প্রশাসনের নিরলস প্রচেষ্টা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় এই অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছে।

    ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা (Sukma)

    গোগুন্ডা গ্রামটি (Sukma) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৫০ মিটার উচ্চতায় একটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত। ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং মাওবাদী দাপটের কারণে দশকের পর দশক ধরে এই গ্রামটি উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এর আগে বিদ্যুৎ সংযোগের (Electricity) জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাহাড়ের ওপরে নিয়ে যাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। সুকমার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার এই সাফল্যকে স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “গোগুন্ডা গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানো কেবল একটি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলের মানুষের মনে সরকারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ।”

    নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা

    এই গ্রামটিতে (Sukma) বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অবদান রয়েছে। সিআরপিএফ (CRPF)-এর ৭৪তম ব্যাটালিয়নের একটি ক্যাম্প এবং একটি ‘ফরওয়ার্ড অপারেটিং বেস’ (FOB) স্থাপন করার পরই ওই অঞ্চলে সরকারি উন্নয়নের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়। জওয়ানদের কড়া পাহারায় বিদ্যুৎ (Electricity) দফতরের কর্মীরা পাহাড়ি পথে বিদ্যুতের খুঁটি ও বসানোর কাজ সম্পন্ন করেন।

    উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

    শুধুমাত্র বিদ্যুৎ (Electricity) নয়, গ্রামটিতে এখন আধুনিক সভ্যতার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পৌঁছাতে শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ এখনও পর্যন্ত যা যা কাজ চলছে তা হল-

    • ● গ্রামটিতে পাকা রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে।
    • ● একটি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।
    • ● গ্রামবাসীদের জন্য রেশন দোকান (PDS) এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়া

    গ্রামের (Sukma) বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে শিশুরা—সবাই ঘরে আলোর বাল্ব জ্বলতে দেখে উচ্ছ্বসিত। গ্রামবাসীরা বলেন, “এতদিন আমরা অন্ধকারের মধ্যে বসবাস করতাম এবং রান্নাবান্না বা যাতায়াতের জন্য কেরোসিন তেলের বাতির ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন বিদ্যুৎ (Electricity) আসায় আমাদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হবে এবং শিশুদের পড়াশোনায় অনেক সুবিধা হবে।”

  • Naxals: ৩১ মার্চের মধ্যে আরও সক্রিয় নিরাপত্তা বাহিনী, নকশালদের স্মৃতিস্তম্ভগুলিকে ধ্বংসকর্ম চলছে জোরকদমে

    Naxals: ৩১ মার্চের মধ্যে আরও সক্রিয় নিরাপত্তা বাহিনী, নকশালদের স্মৃতিস্তম্ভগুলিকে ধ্বংসকর্ম চলছে জোরকদমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের ৩১শে মার্চের মধ্যে নকশালমুক্ত ভারত গড়ার কেন্দ্রের লক্ষ্যের দিকে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে, নিরাপত্তা বাহিনী শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বীজাপুর জেলায় চারটি মাওবাদী (Naxals) স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দিয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভগুলি ফারসেগড় এবং তারেম থানা এলাকার অধীনে অবস্থিত ছিল, যেখানে সম্প্রতি বছরগুলিতে তীব্র মাওবাদী দমন অভিযান চালানো হয়েছে।

    মাওবাদীদের প্রতীক স্তম্ভগুলি

    চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ছত্তিশগড়ের বাস্তার অঞ্চল মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তারা বিশাল অঞ্চলের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং শত শত স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছিল যা এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণের প্রতিনিধিত্ব করত। বস্তার অঞ্চলের পুলিশ মহাপরিদর্শক সুন্দররাজ পি বলেন, “মাওবাদীদের স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রতীক অপসারণ মাওবাদের প্রভাবের অবসান ঘটাবে। এই এলাকার স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধার, সুশাসন জোরদার এবং সমাজকে মূলধারায় একীভূত করার প্রক্রিয়া জোরদার করার জন্য এটি একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। মাওবাদীদের (Naxals) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করার মধ্যে তাদের প্রতীক এবং মানসিক প্রভাব দূর করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগে এই ধরনের স্মৃতিস্তম্ভগুলি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়, আধিপত্য এবং আদর্শকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মাওবাদীরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতো। তাদের অপসারণ স্পষ্ট বার্তা দেয় এই অঞ্চলে রাষ্ট্রের বৈধ কর্তৃত্ব এবং আইনের শাসন ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে মাওবাদী প্রভাব ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে।”

    ইঁটের মধ্যে থাকা মাওবাদী আদর্শকে খতম

    সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) ডিজি জিপি সিং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, “ইঁটের মধ্যে থাকা মাওবাদী আদর্শকে এক এক করে আমরা প্রতিটি রূপের প্রকাশকে ধ্বংস করে দেব।” এই মাসের গোড়ার দিকে, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) সুকমা (Chhattisgarh) জেলার গোগুন্ডা গ্রামে সিপিআই (মাওবাদী) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাভুলা শ্রীনিবাস ওরফে রামান্নার একটি স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলে। ৭৪ তম ব্যাটালিয়নের সহকারী কমান্ড্যান্ট বলেন,  “এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী (Naxals) প্রভাবের অধীনে ছিল এবং আগে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য আয়ত্তে ছিল না। ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি ফরোয়ার্ড অপারেটিং বেস স্থাপনের পর, বাহিনী সেখানে প্রবেশ করে এবং একটি যৌথ অভিযানে মাওবাদীদের সংগঠনকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ।

    অমিত শাহ আর ৪৪ দিন দিয়েছেন

    সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আবারও এই বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কয়েক দশক ধরে চলে আসছে শত শত বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য খুন করেছে মাওবাদ। দিল্লি পুলিশের ৭৯তম প্রতিষ্ঠা দিবসে বক্তব্য রাখার সময় শাহ এই আশ্বাস দিয়েছেন। নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য কেন্দ্রের সময়সীমা আগামী ৪৪ দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ৪৪টি নকশাল স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলা হয়েছে

    মাত্র কয়েকদিন আগে, বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলায় এক বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। গড়চিরোলি পুলিশ এবং সিআরপিএফ যৌথভাবে জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৪৪টি নকশাল-নির্মিত (Naxals) স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলে। এই অভিযানে ১৮টি দলের প্রায় ৮০০ জন সদস্য অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল অভিজাত সি-৬০ নকশাল-বিরোধী বাহিনী, বোমা সনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াড এবং সিআরপিএফ। স্মৃতিস্তম্ভগুলি বনাঞ্চলে অবস্থিত ছিল। বামপন্থী সন্ত্রাসীদের শক্ত ঘাঁটি, পেঙ্গুন্ডা, কাওয়ান্ডে এবং তুমারকোথির মতো এলাকায় ১৫টি পুলিশ পোস্ট এবং সাব-পোস্ট বাসানো হয়েছে। গডচিরোলি জেলার এটাপল্লিতে ১৮টি, হেদ্রিতে ১৭টি, ভামরাগড়ে পাঁচটি এবং জিমলাগট্ট, ধানোরা এবং পেন্ধারিতে আরও কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুলিশ সুপার নীলোৎপল জানিয়েছেন, মাওবাদী আন্দোলনের পরিকাঠামো ধ্বংস করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই ভাঙন চালানো হয়েছে।  ক্রমাগত নিরাপত্তা অভিযানের কারণে এই অঞ্চলে মাওবাদী কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

    ১৫ দিনে ৫৩টি স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলা হয়েছে

    বিজাপুর (Chhattisgarh) এবং গড়চিরোলিতে মাও-ধ্বংস অভিযান একটি বৃহত্তর, যৌথ প্রচেষ্টার অংশ। গত ১৫ দিনেই, সিআরপিএফ ছত্তিশগড়ের সুকমা, বিজাপুর এবং বস্তারে ৫৩টি নকশাল স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি রায়পুরে অনুষ্ঠিত বামপন্থী চরমপন্থা সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ অনুযায়ী এটি করা হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় পরিচালিত লোকেশন ম্যাপিংয়ের সাহায্যে, নিরাপত্তা বাহিনী ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ এই ধরণের সমস্ত পরিকাঠামো (Naxals) ধ্বংস করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এর পরে, জমিটি যাতে আশেপাশের বনের অংশে পরিণত হয় এবং মাওবাদী কার্যকলাপের কোনও চিহ্ন না থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

    এই অভিযানে সিআরপিএফ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে, অভ্যন্তরীণ গ্রামগুলিতে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছে। সম্প্রতি ধ্বংস করা স্মৃতিস্তম্ভগুলির মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের মে মাসে নারায়ণপুরে সিপিআই (মাওবাদী) সাধারণ সম্পাদক নাম্বাল্লা কেশব রাও ওরফে বাসভরাজু এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গড়িয়াবন্দে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রামচন্দ্র প্রতাপ রেড্ডি ওরফে চালপথীর মৃত্যুর পরে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভগুলি।

    গত তিন বছরে, নিরাপত্তা বাহিনী শুধুমাত্র বাস্তারে ৫২০ জনেরও বেশি মাওবাদীকে হত্যা করেছে এবং ১০০ টিরও বেশি স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করেছে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে, প্রায় ৬০টি স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে, সংখ্যাটি ১১৩-এ পৌঁছেছে, যা তীব্র দমন-পীড়নের ইঙ্গিত দেয়।

    তেলেঙ্গনা সীমান্তের কাছে কোমাটপল্লি গ্রামে অবস্থিত ৬৪ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভ, সবচেয়ে উঁচু স্তম্ভকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ধ্বংস করা হয়। গ্রামটি একসময় বিশাল মাওবাদী সমাবেশের সাক্ষী ছিল। ২০২২ সালে ‘শহিদ সপ্তাহ’ সমাবেশও ছিল, যেখানে সিনিয়র মাওবাদী নেতা এবং পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির ব্যাটালিয়ন ১-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একসময় ওই এলাকাটি নিরাপত্তা বাহিনীর নাগালের বাইরে ছিল, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

    অপারেশন কাগার এবং নকশালমুক্ত ভারতের জন্য কেন্দ্রের উদ্যোগ

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া অপারেশন কাগারের আওতায় এই ধ্বংসযজ্ঞ একটি বৃহত্তর জাতীয় কৌশলের অংশ। কেন্দ্র  নকশালদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে মাওবাদী ক্যাডারদের সম্পূর্ণরূপে উৎপাটন করার জন্য অভিযান জোরদার করেছে। সরকার সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাওবাদী ক্যাডারদের নির্মূল করার দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে, যার সঙ্গে রাস্তা সম্প্রসারণ, পরিবহণ সুবিধা, জল, বিদ্যুৎ এবং সরকারের অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রামবাসীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো উন্নয়নমুখী কাজও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এই কৌশলের অংশ হিসেবে, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র (গড়চিরোলি), ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং তেলঙ্গনা থেকে নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য এই অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের আওতায়, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF), এর অভিজাত কোবরা ইউনিট, জেলা রিজার্ভ গার্ডস DRG) এবং রাজ্য পুলিশ সহ প্রায় ১ লক্ষ আধা-সামরিক বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করে বামপন্থী সন্ত্রাসবাদ প্রভাবিত এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নকশাল সন্ত্রাসবাদের শেষ অবশিষ্ট ঘাঁটিগুলি থেকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা যায়।

    নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ১০৬ থেকে নেমে ১৮

    কেন্দ্রের নকশাল-বিরোধী অভিযানের সাফল্য ব্যাপক। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ১০৬ থেকে কমে ১৮-এ নেমে এসেছে। এই জেলাগুলির মধ্যে ১২টি জেলাকে নকশালবাদ (Naxals) দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত বলে মনে করা হত। তবে, এই সংখ্যা আরও কমে মাত্র ৬টি সবচেয়ে বেশি নকশাল-প্রভাবিত জেলায় দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর, কাঙ্কের, নারায়ণপুর এবং সুকমা, ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম এবং মহারাষ্ট্রের গধচিরোলি।

    ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), বিহার সরকার ঘোষণা করেছে বিহার এখন নকশালমুক্ত। বিশিষ্ট মাওবাদী সুরেশ কোডা, যিনি মুস্তাকিম নামেও পরিচিত, যার বিরুদ্ধে ৩ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, তার আত্মসমর্পণের পর বিহার মাওবাদী মুক্ত। একদিন আগে তিনি মুঙ্গের জেলা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এটি লক্ষণীয় যে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুসারে, বামপন্থী চরমপন্থীদের (এলডব্লিউই) দ্বারা প্রভাবিত জেলার সংখ্যাও কমে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে।

  • Naxals: ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কল্যাণেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য মিলেছে’, ছত্তিশগড়ে বললেন শাহ

    Naxals: ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কল্যাণেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য মিলেছে’, ছত্তিশগড়ে বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারের নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক কৌশল, পরিকাঠামো উন্নয়ন, মাওবাদীদের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং আত্মসমর্পণ নীতির সমন্বিত প্রয়োগ বামপন্থী চরমপন্থার (Naxals) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইতিবাচক ফল মিলেছে। রবিবার এ কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “৩১ মার্চের আগেই নকশাল সমস্যা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই যেন বিচ্ছিন্নভাবে না হয়।” রায়পুরে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে সভাপতিত্ব করে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযানকে একটি নিরবচ্ছিন্ন ‘গ্রিডে’র মাধ্যমে পরিচালনা করতে, যাতে এক অঞ্চল থেকে বিতাড়িত মাওবাদীরা প্রতিবেশী কোনও রাজ্যে আশ্রয় নিতে না পারে।’

    শাহ উবাচ (Naxals)

    বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, “ছত্তিশগড় এক সময় নকশাল (Naxals) হিংসার শক্ত ঘাঁটি ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের অধীনে এখন এটি উন্নয়নের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।” তিনি বলেন, “ছত্তিশগড়ের যুবসমাজ খেলাধুলা, ফরেনসিক বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় অগ্রগতি করছে, পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও সংরক্ষণ করছে।” তিনি বলেন, “নকশালবাদ বহু প্রজন্মকে দারিদ্র্য ও অশিক্ষার অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। ডাবল-ইঞ্জিন সরকার দেশ থেকে নকশালবাদের অভিশাপ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চেষ্টার কোনও কসুর করছে না, এবং এই সমস্যা এখন প্রায় শেষের পথে।” শাহ বলেন, “নিরাপত্তা ও উন্নয়ন – উভয় ক্ষেত্রেই ছত্তিশগড় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে এবং নকশাল-প্রভাবিত এলাকার (Naxals) মানুষদের জন্য সমান উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।” বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ছত্তিশগড়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকেও সভাপতিত্ব করেন শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “মোদী সরকারের কাছে নিরাপত্তা ও সুযোগ – দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

    উন্নতির সমান সুযোগ পাওয়া উচিত

    নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলের মানুষদের দেশের অন্যান্য অংশের মতোই যে উন্নতির সমান সুযোগ পাওয়া উচিত, এ কথাও ফের মনে করিয়ে দেন তিনি। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাঁই, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের বিশেষ সচিব। উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফ, বিএসএফ, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (ITBP) ও জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-র শীর্ষ আধিকারিকরা, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড ও তেলঙ্গনার ডিজিপিরা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা (Naxals)। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাঁই বলেন, “‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের সমন্বিত কৌশল—যেখানে নির্ভুল নিরাপত্তা অভিযান, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং মাওবাদীদের আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ একসঙ্গে নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট ফল দিচ্ছে।” তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে এবং অমিত শাহের দিশানির্দেশে ছত্তিশগড় দ্রুত ৩১ মার্চের মধ্যে নকশাল-মুক্ত রাজ্য হওয়ার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে (Amit Shah)।

    গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চল, যার মধ্যে সাতটি জেলা রয়েছে মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গনা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে গত কয়েক বছরে সেখানে জোরদার নকশাল-বিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে, যার ফলে চরমপন্থী আন্দোলন অনেকটাই দুর্বল হয়েছে (Naxals)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত ছত্তিশগড়ে সংঘর্ষে ৫০০-র বেশি নকশাল নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সিপিআই (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজুও রয়েছে। একই সময়ে প্রায় ১,৯০০ নকশালকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ২,৫০০-র বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে (Amit Shah)। উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা বলেন, “বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের (স্বরাষ্ট্র/ডিজিপি) উপস্থিতিতে রায়পুরে রবিবারের বৈঠকটি ছিল ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের জন্য শেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক।” সোমবার অমিত শাহ দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের জগদলপুরে তিনদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘বস্তার পান্ডুম মহোৎসব’-এর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন (Naxals)।

     

  • Jammu and Kashmir: জম্মু-কাশ্মীর বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি বিধায়ক দেবয়ানী রানা; বক্তব্যে মুগ্ধ ওমর আবদুল্লা দলের বিধায়কেরা

    Jammu and Kashmir: জম্মু-কাশ্মীর বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি বিধায়ক দেবয়ানী রানা; বক্তব্যে মুগ্ধ ওমর আবদুল্লা দলের বিধায়কেরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir) বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন চলাকালীন এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান সরকারের পেশ করা বাজেটের কড়া সমালোচনা করা সত্ত্বেও, বিজেপি বিধায়ক দেবয়ানী রানার বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (NC) বিধায়করা (Omar Abdullahs MLA)।

    দেবয়ানী রানার আক্রমণ (Jammu and Kashmir)

    উধমপুর (Jammu and Kashmir) পূর্বের বিজেপি বিধায়ক দেবয়ানী রানা জম্মু ও কাশ্মীরের বাজেটের সমালোচনা করে একে ‘দিশাহীন’ এবং ‘জনবিরোধী’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এই বাজেটে সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন এবং উন্নয়নের দিকগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।”

    কেন প্রশংসা পেলেন

    দেবয়ানী রানা যখন বাজেট নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন তিনি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে, তথ্য-প্রমাণ সহকারে এবং বিধানসভার (Jammu and Kashmir) মর্যাদা রক্ষা করে তাঁর যুক্তিগুলো উপস্থাপন করেন। তিনি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে গঠনমূলকভাবে সরকারের ভুলগুলো ধরিয়ে দেন।

    এনসি দলের প্রতিক্রিয়া

    সাধারণত বিরোধী দলের সমালোচনায় হট্টগোল সৃষ্টি হয়, কিন্তু দেবয়ানী রানার বক্তব্যের ধরন এবং গাম্ভীর্য দেখে ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিধায়করা মুগ্ধ হন। ওমর আবদুল্লার দলের অনেক বিধায়ক (Jammu and Kashmir) তাঁর বক্তব্যের পর তাঁকে সাধুবাদ জানান এবং বিধানসভায় এমন উচ্চমানের আলোচনার প্রশংসা করেন।

    গণতান্ত্রিক সৌজন্য

    এই ঘটনাকে জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir) বিধানসভায় ‘গণতান্ত্রিক সৌজন্যের’ এক বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্যের গুণগত মান যে প্রতিপক্ষের শ্রদ্ধা জোগাড় করতে পারে, দেবয়ানী রানা তা প্রমাণ করেছেন।

    বিজেপি বিধায়ক দেবয়ানী রানা বাজেটকে ‘অসার’ বললেও, তাঁর বাচনভঙ্গি এবং সংসদীয় শিষ্টাচার শাসকদলের বিধায়কদের মন জয় করে নিয়েছে। এই কারণেই তীব্র সমালোচনার পরেও ন্যাশানাল কনফারেন্সের বিধায়করা তাঁর প্রশংসা করতে দ্বিধা করেননি।

LinkedIn
Share