Tag: Chhattisgarh

Chhattisgarh

  • Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৬ হাজার কোটি টাকার মহাদেব অনলাইন বেটিং চক্রের অন্যতম প্রধান মাথা সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে সফল হল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। রবিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে নিয়ে আসে (Mahadev Betting Scam)। এই ঘটনায় তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এবার তদন্তকারীদের নজর মহাদেব বেটিং চক্রের আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পলের দিকে। তদন্তকারীদের দাবি, উপ্পল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে দ্রুত ভারতে প্রত্যর্পণের জন্য সে দেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

    আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার জারি করা রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে গত জুন মাসের শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাসকাটে রয়্যাল ওমান পুলিশ সৌরভকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি ওমান কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণের আবেদন জানায়। সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনে। সোমবার তাঁকে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে বিশেষ আদালতে পেশ করার কথা। চন্দ্রকর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দু’টি মামলার পাশাপাশি ইডির একটি পৃথক মামলায়ও অভিযুক্ত (Money Laundering Case)। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ছত্তিশগড়ের জুয়া নিষিদ্ধকরণ আইনের আওতায় অভিযোগপত্র জমা পড়েছে।

    রবি উপ্পলকে ফেরানোর তৎপরতা (Mahadev Betting Scam)

    সৌরভকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পর তদন্তের পরবর্তী লক্ষ্য উপ্পল। ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ের বাসিন্দা উপ্পল ২০১৯ সালে চন্দ্রকরের সঙ্গে দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যান। মহাদেব অনলাইন বেটিং ব্যবসার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম মালিক হিসেবে তাঁর নাম উঠে এসেছে তদন্তে।

    ২০২৩ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। যদিও ৪৫ দিনের মধ্যেই তিনি মুক্তি পান। পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, তাঁর কাছে ভানুয়াতুর পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, উপ্পল ফের দুবাইয়ে ফিরে এসেছেন।

    ইডির এক আধিকারিক জানান, “আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে উপ্পল বর্তমানে আবার দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে ভারতে ফেরানোর জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

    তদন্তকারীদের দাবি, এই বেটিং চক্রে চন্দ্রকর ও উপ্পলের ভূমিকা ছিল আলাদা। চন্দ্রকর মূলত ব্যবসার প্রচার এবং দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতেন। অন্যদিকে, উপ্পলের বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেন পরিচালনা এবং ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার আর এক অভিযুক্ত বিকাশ ছাপারিয়াকেও দুবাই থেকে ভারতে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইডি।

    কীভাবে চলত মহাদেব বেটিং চক্র?

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, মহাদেব অনলাইন বুক ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ অবৈধ অনলাইন বেটিং চক্র। ভারতের বাইরে থেকে এই ব্যবসা পরিচালিত হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত ছিল এর নেটওয়ার্ক। ফ্র্যাঞ্চাইজি বা শাখাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩২০০টি প্যানেল ও শাখা ব্যবহার করে গ্রাহক সংগ্রহ এবং বাজির টাকা আদায় করা হত। ক্রিকেট, ফুটবল, তাসের খেলা-সহ বিভিন্ন খেলার উপর বাজি ধরার সুযোগ দেওয়া হত এই ব্যবস্থায়।

    ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের আমলে এই বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের নামও এই মামলায় অভিযুক্ত ও সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারির ঘটনা ঘটেছে। তবে বাঘেল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, জুয়া ও বাজি সংক্রান্ত বিষয় মূলত রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত।

    ৯৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি অপরাধলব্ধ অর্থের হিসাব

    এই বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ তদন্তকারীদের কাছেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইডির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মহাদেব অনলাইন বুক এবং স্কাই এক্সচেঞ্জ ও লোটাস ৩৬৫-এর মতো সহযোগী প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে গত প্রায় ১০ বছরে প্রায় ৯৪,৪০০ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে সংস্থাটি আদালতে জানিয়েছে, এই হিসাব প্রাথমিক এবং নতুন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তা পরিবর্তিত হতে পারে।

    তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন ভুয়ো বা অন্যের পরিচয়ে খোলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রথমে বাজির টাকা জমা করা হত। পরে একাধিক লেনদেনের স্তর তৈরি করে সেই অর্থের উৎস আড়াল করা হত। শেষ পর্যন্ত হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ ছত্তিশগড়ের সরকারি আধিকারিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, যাতে অবাধে এই অবৈধ ব্যবসা (Mahadev Betting Scam) চালানো যায়।

    সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, গ্রেফতার ১৪

    মহাদেব বেটিং মামলায় আর্থিক তছরুপের তদন্তে এখনও পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে ইডি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি এই মামলায় ছ’টি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। সেখানে মোট ১১৬ জন ব্যক্তি ও সংস্থার নাম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ জনকে। বাজেয়াপ্ত ও আটক করা সম্পত্তির মূল্য ২,১০০ কোটি টাকারও বেশি বলে সাম্প্রতিক তদন্তের তথ্যে উঠে এসেছে।

    এই তদন্তের সূত্রেই চন্দ্রকরের বিপুল বিলাসবহুল জীবনযাপনও নজরে আসে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাস আল খাইমায় তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই অনুষ্ঠানে অতিথিদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহারের পাশাপাশি বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্যও তদন্তকারীদের নজরে আসে।

    সৌরভকে দেশে ফিরিয়ে আনার ফলে মহাদেব বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক যোগসূত্র এবং সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে (Money Laundering Case) উপ্পলকে ভারতে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই প্রধান অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে এই বিপুল অবৈধ বেটিং সাম্রাজ্যের নেপথ্যে থাকা গোটা চক্রের (Mahadev Betting Scam) আরও অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

     

  • Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে উৎসবের আবহ। ৭৫ দিন ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী বস্তার দশেরা উৎসবকে কেন্দ্র করে জড়ো হচ্ছেন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। গত ১২ অগস্ট পাট যাত্রার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে ২৭ অক্টোবর মা দন্তেশ্বরীর বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে (Bastar Dussehra Celebration)। উৎসবে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে বস্তারে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ছয় শতাব্দীরও বেশি প্রাচীন এই উৎসব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের দশেরা উদ্‌যাপনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে রাবণবধ নয়, বরং বস্তারের আরাধ্য দেবী মা দন্তেশ্বরীর পুজোই উৎসবের মূল আকর্ষণ। বস্তারের রাজপরিবারের কুলদেবী মা দন্তেশ্বরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের সূচনা। কাকতীয় রাজবংশের আমলে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্য আজও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বহমান। বস্তারের আদিবাসী সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক ঐক্যের সঙ্গে এই উৎসব গভীরভাবে জড়িত (Red Terror Eradication)।

    নানা আচার-অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ বস্তার দশেরা (Bastar Dussehra Celebration)

    পাটযাত্রা, রথযাত্রা, কাঞ্চন গাদি এবং মুরিয়া দরবার—একাধিক প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় বস্তার দশেরা। পাশাপাশি থাকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের হরিয়ালি অমাবস্যায় পবিত্র কাঠের আনুষ্ঠানিক পুজো, অর্থাৎ পাটযাত্রার মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। বস্তার অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দেবদেবী, পুরোহিত ও কারিগরেরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    উৎসবের দিনগুলিতে তৈরি করা হয় বিশাল রথ। জগদলপুর শহরজুড়ে চলে শোভাযাত্রা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান। বিভিন্ন গ্রামের আরাধ্য দেবদেবীর সমাবেশও এই উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    উৎসবের শেষ পর্বে আয়োজিত হয় মুরিয়া দরবার। মূল রথযাত্রা ও দশেরার প্রধান আচার-অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর জগদলপুরে এই বিশেষ সমাবেশ বসে। ঐতিহ্যগতভাবে মুরিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়-সহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা রাজদরবারে নিজেদের সমস্যা ও সামাজিক বিষয়গুলি তুলে ধরতেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজদরবারের প্রশাসনিক ভূমিকা আর না থাকলেও, মুরিয়া দরবার বস্তারের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামো, জনসংলাপ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

    নকশাল আতঙ্ক কাটিয়ে উৎসবে ফিরছেন মানুষ

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল হিংসার কারণে বস্তারের বহু গ্রামের মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে পারতেন না। সুকমা, বিজাপুর ও নারায়ণপুরের মতো সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার বহু জনপদ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। মাওবাদী হিংসার ছায়ায় বছরের পর বছর উৎসবের চেনা জৌলুসও ব্যাহত হয়েছে।

    তবে এ বছর পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। একসময় নকশাল-প্রভাবিত প্রায় ৫০টি গ্রামের দেবদেবী প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক বস্তার দশেরা উৎসবে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকার দেশে নকশালবাদ অবসান করার কথা ঘোষণা করার পর এই অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল সমস্যায় জর্জরিত অঞ্চলের আদিবাসীরা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নিরাপত্তা অভিযান, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় মাওবাদী প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    গত বছর জগদলপুরে বস্তার দশেরা উৎসবে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছিলেন। মাওবাদী মতাদর্শে যুক্ত স্থানীয় আদিবাসীদের অস্ত্র ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার আহ্বানও জানান তিনি। নকশালমুক্ত ঘোষিত প্রতিটি গ্রামকে এক কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল রাজ্য সরকার (Bastar Dussehra Celebration)।

    নকশাল দমনে অভিযান, নিরাপত্তা জোরদার

    নকশালবাদের অবসান ঘটাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, কেন্দ্র ও রাজ্যের বাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ ছিল সেই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একদিকে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নকশাল দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী, বিশেষ কোবরা ইউনিট, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং রাজ্য পুলিশকে বিভিন্ন নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়। তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উপগ্রহচিত্রের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।

    এই অভিযানে একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের প্রধান নাম্বালা কেশব রাও, যিনি বাসবরাজু নামেও পরিচিত, এবং মাওবাদী কমান্ডার মাডভি হিডমা। তাঁদের মৃত্যুর ফলে মাওবাদী সংগঠনগুলির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধাক্কা খায়।

    ছত্তিশগড় ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানার নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি মাওবাদীদের আর্থিক জোগানের পথ বন্ধ করতে তল্লাশি ও তদন্ত চালায় সরকারি সংস্থাগুলি। বিভিন্ন অভিযানে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে বহু মাওবাদী সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করেছেন, আবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অনেকে নিহতও হয়েছেন।

    জঙ্গলের জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে

    নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের জীবনেও দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের অগাস্টে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি আদিবাসী পোশাক প্রদর্শনীতে অংশ নেন মাওবাদী মতাদর্শের সঙ্গে একসময় যুক্ত কয়েকজন মহিলা। জাতীয় তাঁত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক পরে মঞ্চে হাঁটেন।

    একসময় যাঁদের হাতে অস্ত্র নিয়ে নকশাল-প্রভাবিত জঙ্গলে ঘুরতে হত, তাঁদের কাছে এই অংশগ্রহণ ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। মাওবাদী সংগঠন ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার ফলে তাঁরা নতুন করে সামাজিক জীবন গড়ে তোলার সুযোগ (Red Terror Eradication) পাচ্ছেন।

    উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। চলতি বছরের এপ্রিলে নারায়ণপুর জেলার একটি দুর্গম গ্রামে প্রথমবার নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছয়। নকশাল হুমকির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত ছিল। মাওবাদী প্রভাবের জেরে বহু আদিবাসী গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    নকশাল হিংসা কমার পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, পানীয় জল ও অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে (Bastar Dussehra Celebration)।

    সব মিলিয়ে, বস্তার দশেরায় এ বছর প্রায় ৫০টি প্রাক্তন নকশাল-প্রভাবিত গ্রামের দেবদেবীদের অংশগ্রহণ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের পরিসর বাড়ায়নি, বরং দীর্ঘ সংঘাতের পর ওই অঞ্চলে সামাজিক যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছয় শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব তাই এ বছর সাংস্কৃতিক উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বস্তারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিরও প্রতীক হয়ে উঠেছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Naxal Hotbed: কল্পবৃক্ষের নারকেলেই বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ছবি, রফতানিতে বিপুল লক্ষ্মীলাভ ভারতের

    Naxal Hotbed: কল্পবৃক্ষের নারকেলেই বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ছবি, রফতানিতে বিপুল লক্ষ্মীলাভ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খাদ্য, পানীয়, ওষুধ, তন্তু, কাঠ ও জ্বালানি—জীবনের প্রায় প্রতিটি প্রয়োজন মেটাতে পারে একটি গাছ। তাই (Naxal Hotbed) ভারতীয় সংস্কৃতিতে নারকেলকে বলা হয় ‘কল্পবৃক্ষ’, অর্থাৎ এমন এক বৃক্ষ যা মানুষের প্রায় সমস্ত প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। ক্রান্তীয় অঞ্চলের বহু সভ্যতাই হাজারো ব্যবহারের কারণে নারকেল গাছকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। ভারতে এই গাছের চাষ ও ব্যবহার নিয়ে প্রায় তিন হাজার বছরের নথিবদ্ধ ইতিহাস রয়েছে (Coconut Hub)।

    বিয়ে থেকে মন্দিরের প্রবেশদ্বার, রান্নাঘর থেকে ওষুধের বাক্স—সর্বত্রই নারকেলের উপস্থিতি। বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষ নারকেলভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি কৃষক।

    এই ক্ষেত্রের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে। ফলে নারকেল চাষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক বৃদ্ধির একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে নারকেলের মূল্যশৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা গেলে তার সুফল প্রথমে পৌঁছয় ক্ষুদ্রতম জমির মালিকের কাছেই। এই ভাবনা সরাসরি অন্ত্যোদয়ের দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    নারকেল উৎপাদনে বিশ্বসেরা ভারত (Naxal Hotbed)

    বিশ্বে নারকেল উৎপাদনে ভারত প্রথম এবং চাষের জমির পরিমাণের বিচারে তৃতীয়। বিশ্ব উৎপাদনের ৩১.২৪ শতাংশ এবং মোট চাষের জমির ১৭.৯০ শতাংশ ভারতের দখলে।

    কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২১.৯ লক্ষ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২০,৩০১.২২ মিলিয়ন নারকেল উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন হয়েছে ৯,২৪৯টি নারকেল।

    চাষের জমির পরিমাণে কেরল এগিয়ে। সেখানে প্রায় ৭.৫৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে নারকেল চাষ হয় এবং উৎপাদন প্রায় ৫,১৪৯.৮৭ মিলিয়ন। উৎপাদনে তামিলনাড়ু এগিয়ে, আর উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে শীর্ষে অন্ধ্রপ্রদেশ। এরপর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু।

    একসময় মূলত উপকূলীয় অঞ্চলের ফসল হিসেবে পরিচিত নারকেল এখন ওড়িশা, গুজরাট, অসম এমনকি অরুণাচল প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এটি ক্রমেই জাতীয় জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

    বস্তারে নারকেল চাষে নীরব বিপ্লব

    এই পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ এসেছে ছত্তিশগঢ়ের বস্তার মালভূমি থেকে। একসময় নকশাল সমস্যার জন্য পরিচিত এই অঞ্চলের কৃষকেরা মূলত ধান, বিভিন্ন ধরনের বাজরা, ভুট্টা এবং ক্ষুদ্র বনজ পণ্য উৎপাদন করতেন।

    কোণ্ডাগাঁওয়ে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদের প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামারের উদ্যোগে সেখানে নারকেল চাষ একটি সম্ভাবনাময় জীবিকার পথ হিসেবে উঠে এসেছে। নতুন নারকেল গাছ ফলন দেওয়া শুরু করার আগে গাছের মধ্যবর্তী খালি জমিতে উপযুক্ত সাথি ফসল চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কৃষকদের। ফলে নারকেল গাছ থেকে ফলন আসার আগেই কৃষকের হাতে আয় আসতে শুরু করে।

    বাকাওয়ান্ড ব্লকের ৩৬ বছর বয়সি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ঈশাংশ সিংহ রাঠোর এই উদ্যোগের অন্যতম উদাহরণ। কৃষক পরিবারের সন্তান রাঠোর কর্পোরেট ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে পর্ষদের কারিগরি সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে নারকেল চাষ শুরু করেন। তিনি ২,৫০০টি নারকেল গাছ লাগিয়েছেন, যার বেশিরভাগই খাটো জাতের। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি গাছে ইতিমধ্যেই ফলন শুরু হয়েছে।

    এর পর তিনি বহুস্তরীয় চাষপদ্ধতি গড়ে তোলেন। নারকেল বাগানের নীচে ৪,০০০টি আনারস, ৮০০টি ড্রাগন ফল, ১,০০০টি আমগাছ এবং ৬০০টি লেবুজাতীয় গাছ লাগিয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছে কলা, পেয়ারা, পেপে, লিচু, কফি, স্ট্রবেরি ও মরসুমি সবজি।

    ফলে জমির উৎপাদনশীলতা বেড়েছে এবং সারা বছর আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর খামার থেকে বছরে নারকেল বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় হয়। সাথি ফসল থেকে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা আসে (Naxal Hotbed)।

    রাঠোরের সাফল্য বস্তারের বহু কৃষককে এই নারকেলভিত্তিক চাষপদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে একসময় কৃষির দিক থেকে পিছিয়ে থাকা একটি জেলা উচ্চমূল্যের উদ্যানপালনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    শুকনো নারকেল থেকে কুমারী তেল, রফতানিতে বড় লাফ

    নারকেলজাত পণ্যের রফতানিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নারকেলজাত পণ্যের রফতানি বেড়ে ৭,০৩৮.৩৫ কোটি টাকা বা ৭৯৪.৭০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছর এই রফতানির পরিমাণ ছিল ৪,৩৪৯.০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি প্রায় ৬২ শতাংশ।

    ২০০১-০২ অর্থবর্ষে নারকেলজাত পণ্যের রফতানি ছিল মাত্র ২৫.৩ কোটি টাকা। তখন মূলত নারকেলের খোলের কাঠকয়লা ও নারকেল তেলের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যই রফতানি হত। গত পাঁচ বছরেও এই খাতের লেনদেন ৩,২৩৬.৮৩ কোটি টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    রফতানি পণ্যের ধরনও বদলেছে। এখন ভারত বিশ্ববাজারে কুমারী নারিকেল তেল, নারিকেলের দুধ ও নারকেলের জল সরবরাহ করছে। সক্রিয় কার্বন, নারিকেল তেল, তাজা, হিমায়িত ও কোরানো নারিকেল, শুকনো নারকেল এবং শুষ্ক নারকেল অন্যতম প্রধান রফতানি পণ্য। এর মধ্যে সক্রিয় কার্বন ধারাবাহিকভাবে রফতানির পরিমাণে বড় অংশ দখল করে রয়েছে।

    আগে রফতানি মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ছিল। এখন ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও বাজার বিস্তৃত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, শ্রীলঙ্কা, জার্মানি, রাশিয়া, তুরস্ক, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডস গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে।

    কাঁচা পণ্য রফতানি থেকে মূল্য সংযোজিত ও ব্র্যান্ডভিত্তিক পণ্যের দিকে এই পরিবর্তনকে আত্মনির্ভরতার বাস্তব রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ কোটি মার্কিন ডলার এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ২১ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানির লক্ষ্যে এই খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Naxal Hotbed)।

    বৃদ্ধির পিছনে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ

    ১৯৮১ সালের ১২ জানুয়ারি কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ গঠিত হয়। কোচিতে সদর দফতর থাকা এই পর্ষদ দেশের ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নারকেল চাষ ও শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।

    উন্নত মানের চারা সরবরাহ, চাষের এলাকা সম্প্রসারণ, পুরনো বাগানে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, কীটপতঙ্গ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ—পর্ষদের মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পর্ষদের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ১৪৭.২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।

    নারকেলের খোসা ও তন্তু থেকে তৈরি পণ্য বাদে অন্যান্য নারকেলজাত পণ্যের জন্য পর্ষদ রফতানি উন্নয়ন পরিষদ হিসেবেও কাজ করে। ২০২৫-২৬ পর্যন্ত ৮,২৯৯ জন রফতানিকারী পর্ষদের সঙ্গে নথিভুক্ত ছিলেন। ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৭০০।

    গত পাঁচ বছরে পর্ষদ দেশের ২০টি বাণিজ্য মেলায় ৭২ জন উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ২২৪ জন রফতানিকারীর অংশগ্রহণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি ৩৯২টি দেশীয় ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলনও আয়োজিত হয়েছে (Coconut Hub)।

    ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কৃষকের আয় সুরক্ষা

    নারকেল চাষিদের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা হল দামের নিশ্চয়তা। শুকনো নারকেলের শাঁস, অর্থাৎ কোপরা, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আওতাভুক্ত ২২টি নির্ধারিত ফসলের অন্যতম।

    ভারতে মূলত দুই ধরনের কোপরা উৎপাদিত হয়। একটি হল মিলিং কোপরা, যা খোল থেকে শাঁস বের করে শুকিয়ে তৈরি করা হয় এবং মূলত তেল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। অন্যটি বল কোপরা, যেখানে গোটা পাকা নারকেল শুকিয়ে ভিতরের শাঁস শক্ত করা হয়। এটি শুকনো ফল হিসেবে খাওয়া হয় এবং ধর্মীয় আচারেও ব্যবহার করা হয়।

    ২০২৬ মরসুমের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। মিলিং কোপরার দাম প্রতি কুইন্টালে ১২,০২৭ টাকা এবং বল কোপরার দাম ১২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের যথাক্রমে ১১,৫৮২ টাকা ও ১২,১০০ টাকার তুলনায় বৃদ্ধি হয়েছে ৪৪৫ টাকা ও ৪০০ টাকা। উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৫০ শতাংশ বেশি রাখা হয়েছে (Naxal Hotbed)।

    কেন্দ্রীয় সংগ্রহের জন্য নাফেড ও এনসিসিএফকে কেন্দ্রীয় নোডাল সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যস্তরের সংস্থাগুলিও এই কাজে সহায়তা করছে।

    চারা উৎপাদন থেকে ভবিষ্যতের বাগান সম্প্রসারণ

    নারকেল চাষের ভিত্তি মজবুত করতে প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উন্নত মানের চারা উৎপাদনে। প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামার প্রকল্পের অধীনে নতুন তৈরি খামারগুলির জন্য প্রথম দুই বছরে ৩০ লাখ টাকা এবং তৃতীয় বছর থেকে ফলন স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। ফলন স্থিতিশীল হতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় ধরা হয়।

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১১টি প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামারে ২.৪১ লাখ উন্নত মানের চারা উৎপাদন করা হয়েছে।

    বীজ উদ্যানগুলির জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০.২৯ লাখ টাকা ব্যবহার হয়েছে। সহায়তার মাধ্যমে ১২টি নতুন নার্সারি তৈরি হয়েছে। এগুলির সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১.০৬ লাক চারা। পাশাপাশি ছয়টি পুরনো নার্সারিও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে।

    সরকারি নার্সারিগুলিকে ২৩৯.৩৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১১.৯৭ লাখ চারা উৎপাদনের ব্যবস্থা হয়েছে, যা আনুমানিক ৬,৮৫০ থেকে ৭,৫০০ হেক্টর জমির জন্য যথেষ্ট।

    চাষের এলাকা বাড়াতে প্রতি হেক্টরে ৫৬ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। দুই কিস্তিতে এই টাকা দেওয়া হয় এবং একজন সুবিধাভোগী সর্বোচ্চ দুই হেক্টর ও সর্বনিম্ন ০.০৮ হেক্টর জমির জন্য এই সহায়তা পেতে পারেন।

    ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২০৯.২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও ২,৯৭৯ হেক্টর জমি নারকেল চাষের আওতায় এসেছে। উপকৃত হয়েছেন ১৩,০৬৮ জন কৃষক। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেরল ও কর্নাটক থেকে ওড়িশা, অসম ও অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ২,১৭৫ হেক্টর জমিতে নতুন করে চাষ হয়েছে। এ জন্য ৬৩২.৭৭ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    নারকেলভিত্তিক মিশ্র চাষে বাড়ছে উৎপাদনশীলতা

    নারকেলভিত্তিক ফসল ব্যবস্থা কর্মসূচির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে। গুচ্ছভিত্তিক এই কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ দুই হেক্টর জমির জন্য প্রতি হেক্টরে ৪২ হাজার টাকা, অর্থাৎ ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হয়।

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৬৬টি গুচ্ছে ১৮,৮০০ হেক্টর জমি এই কর্মসূচির আওতায় আসে। উপকৃত হন ৪৮,৬৯৬ জন কৃষক। এর জন্য খরচ হয়েছে ৩,৯৪৩ লাখ টাকা। রাজ্য সরকারের সমন্বিত সহায়তায় আরও ৫,৯৩৫ হেক্টর জমি যুক্ত হয়েছে এবং ব্যয় হয়েছে ১,২৪৬ লাখ টাকা।

    শুধু কেরলেই এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে ৮,০৮৯ হেক্টর জমি এবং উপকৃত হয়েছেন ৩৩,২৫০ জন কৃষক। চলতি বছরে এই কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ২২,৪৩০ হেক্টর করা হয়েছে।

    পুরনো ও বয়স্ক বাগানের জন্য পুনরায় চারা রোপণ ও পুনরুজ্জীবন কর্মসূচি রয়েছে। দুই বছরে প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। গত পাঁচ বছরে ২৫,৫১৭ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে এবং খরচ হয়েছে ১৩০.৪৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষেই ১,৬৭২ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে।

    এর পাশাপাশি জলসম্পদ তৈরি, জৈব চাষ এবং কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    দক্ষতা, উদ্যোগ এবং ‘নীরা’-র সম্ভাবনা

    কেউ গাছে উঠতে না পারলে নারকেল গাছের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব নয়। তাই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘নারকেল গাছের বন্ধু’ কর্মসূচির মাধ্যমে বেকার যুবকদের যন্ত্রের সাহায্যে নারকেল গাছে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গাছের সুরক্ষা ও উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আরও ৩৭৮ জনকে গাছে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    একইসঙ্গে গাছের বিভিন্ন অংশ দিয়ে হস্তশিল্পের সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে তরুণদের।

    ২০২৫ সালে পর্ষদ একক প্রশিক্ষণ থেকে সংগঠিত উদ্যোগের দিকে এগিয়েছে। ‘কোকোমিত্র’ নামে নারকেল গাছে ওঠার কর্মীবাহিনী তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত কর্মীদের ছয় থেকে দশজনের নিবন্ধিত দলে সংগঠিত করা হচ্ছে। আধুনিক গাছে ওঠার যন্ত্র, উদ্ভিদ সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং চলাচলের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তাদের।

    ‘কেরা কৌশল কেন্দ্রে’র মাধ্যমে খোল, কাঠ ও তন্তু দিয়ে তৈরি পণ্যের জন্য হস্তশিল্প কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৫ সদস্যের দলকে আইনগত সংস্থা হিসেবে নথিভুক্ত করে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২.৬৭ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    নারিকেল গাছের পুষ্পমঞ্জরি থেকে সংগ্রহ করা অপরিশোধিত ও অপরিস্ফুটিত রস ‘নীরা’ নামেও পরিচিত। এতে অ্যালকোহল নেই এবং এটি পুষ্টিকর পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নীরা সংগ্রহের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত কৃষক উৎপাদক সংগঠনের মাধ্যমে সাত দিনের মাঠভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রস সংগ্রহের জন্য প্রযুক্তিবিদ তৈরি করাই এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পর্ষদ ৪১৪টি সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।

    গাছে ওঠার শ্রমিক, নীরা সংগ্রহকারী প্রযুক্তিবিদ, সংকরায়ন কর্মী এবং নারকেল শ্রমিকদের দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা দিতে ‘কেরা সুরক্ষা বিমা প্রকল্প’ চালু রয়েছে। পাশাপাশি কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির উন্নয়নে নারকেল বিষয়ক প্রযুক্তি মিশন কাজ করছে (Naxal Hotbed)।

    ২০২৬-২৭ বাজেটে নারকেলের জন্য নতুন উদ্যোগ

    ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে নারিকেল উন্নয়নের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘নারকেল উন্নয়ন প্রকল্পে’র মাধ্যমে কীটপতঙ্গের আক্রমণ, শিকড় শুকিয়ে যাওয়ার রোগ এবং বয়স্ক বাগানের সমস্যা মোকাবিলায় বড় আকারে চারা উৎপাদন, সম্ভাবনাময় এলাকায় চাষ সম্প্রসারণ, ধাপে ধাপে পুনরায় চারা রোপণ, সমন্বিত ফসল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং মূল্য সংযোজন ও রফতানির জন্য সমন্বিত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কাজটি মোট ৩৫০ কোটি টাকার উচ্চমূল্যের কৃষি খাতের বৃহত্তর বরাদ্দের অংশ। এই বরাদ্দের আওতায় কাজুবাদাম ও কোকো চাষও রয়েছে। লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে নারকেল ও নারকেল তন্তু রপ্তানিতে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং একইসঙ্গে কৃষকদের আয় বাড়ানো (Coconut Hub)।

    পরিসংখ্যান বলছে, সেই লক্ষ্য এখন আর দূরের নয়। ২৫.৩ কোটি টাকার রফতানি থেকে ৭,০০০ কোটিরও বেশি টাকায় পৌঁছনো, উপকূলীয় ফসল থেকে অরুণাচল প্রদেশের মতো দূরবর্তী অঞ্চলে চাষের বিস্তার, কাঁচা কোপরা থেকে সক্রিয় কার্বন ও কুমারী নারকেল তেল উৎপাদন—সব মিলিয়ে ভারতের ‘কল্পবৃক্ষ’ তার প্রাচীন নামের যথার্থতা প্রমাণ করছে (Naxal Hotbed)।

     

  • Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলের জঙ্গলগুলিতে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি, মাইনমুক্তকরণ এবং এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযান আরও (Forest Operations) জোরদার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। এই অভিযানে বীজাপুর ও সুকমা জেলায় একাধিক গোপন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।

    চলতি মাসেই বীজাপুর জেলায় একাধিক অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে বেদ্রে থানার অধীন লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি বড় অস্ত্রভাণ্ডারও রয়েছে। সেখান থেকে একটি এসএলআর/এলএমজি রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল, একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক, দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার, বিপুল গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন এবং একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে (Maoist)।

    সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার অধীন ছোট কাঞ্চলা গ্রামের কাছের জঙ্গল থেকেও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী একটি গোপন মাওবাদী ডেরার খোঁজ পেয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি একনলা বন্দুক, বেতার যোগাযোগের সরঞ্জাম, হাতে বহনযোগ্য তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, বৈদ্যুতিন সামগ্রী, মোবাইল ফোন, অপটিক্যাল সরঞ্জাম, মাওবাদী সাহিত্য এবং অন্যান্য উপকরণ। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, মাওবাদী কার্যকলাপের সময় জঙ্গলের প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে লাগাতার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

    চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড-সহ অস্ত্র উদ্ধার (Forest Operations)

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে বেদ্রে থানার অধীনে সাম্প্রতিক বড়সড় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ওই সময় নিরাপত্তাকর্মীরা একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করেন। সেখানে তল্লাশি চালাতেই মেলে মাটির নীচে লুকানো অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ।

    পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর/এলএমজি, একটি ইনসাস রাইফেল এবং একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক। দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারও উদ্ধার করা হয়েছে (Forest Operations)।

    উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে ১৭টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের গোলা, একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড, ৪৯টি তাজা এসএলআর গুলি, ০.৩১৫ বোরের ১৫টি গুলি এবং ১৫টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের কার্তুজ। চারটি এসএলআর ম্যাগাজিন এবং একটি ০.৩১৫ বোরের ম্যাগাজিনও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

    ঘটনাস্থল থেকে আরও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    পুলিশ আধিকারিক সিদ্ধার্থ সিং চৌহান বলেন, “বীজাপুরে লাগাতার তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান চলছে। এই অভিযানেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। চলতি মাসের বিভিন্ন দিনেও অভিযানের সময় অস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”

    একের পর এক অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ

    লঙ্কা পাহাড়ির উদ্ধার অভিযানটি সেপ্টেম্বর মাসে বীজাপুরে হওয়া একাধিক অভিযানের একটি।

    ২০ সেপ্টেম্বর ভৈরামগড় থানার আদওয়ারা জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একে-৪৭, ০.৩১৫ বোরের অস্ত্র, একটি একনলা পিস্তল, গোলাবারুদ এবং ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

    ১৬ সেপ্টেম্বর বডে আলওয়াড়া জঙ্গল থেকে একটি ০.৩১৫ বোরের রাইফেল, ৪৯টি তাজা গুলি, ২৫টি ০.৩০৩ গুলি, ৪৯টি ১২ বোরের গুলি, জিলেটিন, বেতার যন্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।

    ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৯৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ন পিডিয়া-কুপ্পাগুড়া এলাকায় বড়সড় অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এদরি, হররা, নয়াপাড়া এবং সরপঞ্চপাড়ার আশপাশের জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে ১৪টি সন্দেহভাজন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয় (Forest Operations)।

    ৩ সেপ্টেম্বর নীলামডগু নদীর তীরবর্তী এলাকায়ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। একটি ফাঁপা গাছের ভিতরে লুকিয়ে রাখা একটি দেশি ১২ বোরের বন্দুক, ক্ষতিগ্রস্ত একটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার রাইফেল, আটটি গ্রেনেড লঞ্চার সেল এবং ১০টি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    বীজাপুরের পুলিশ সুপার উমেশ প্রসাদ গুপ্ত জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যাতে মাওবাদীরা অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখতে না পারে (Maoist)।

    সুকমায় মাওবাদী ডেরার খোঁজ

    এদিকে সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার ছোট কাঞ্চলা গ্রামের জঙ্গলেও মিলেছে মাও-ডেরার খোঁজ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৫০ নম্বর ব্যাটালিয়ন এই অভিযান চালায়। ২০ সেপ্টেম্বর ইউনিটের গোয়েন্দা শাখা মাটির নীচে লুকোনো আস্তানার খোঁজ পায়। শুরু হয় অভিযান।

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ঘন জঙ্গল পেরিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা সন্দেহভাজন এলাকায় পৌঁছন। সেখানে হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র থাকার আশঙ্কায় এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। এরপর প্রশিক্ষিত কুকুরের দল এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সাহায্যে তল্লাশি চালানো হয়।

    প্রশিক্ষিত কুকুরের দল একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করে। সেখান থেকে মাটির নীচে পুঁতে রাখা দুটি লোহার ড্রাম উদ্ধার করা হয়।

    বাজেয়াপ্ত নানা সামগ্রী

    উদ্ধার হওয়া ড্রামের ভিতরে ছিল বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে একটি একনলা বন্দুক, তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, ভিএইচএফ বেতার যন্ত্র, বেতার যন্ত্রের ব্যাটারি চার্জার, বিভিন্ন বৈদ্যুতিন বর্তনী, অ্যান্টেনা এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম (Forest Operations)। দুটি মোবাইল ফোন, দূরবীক্ষণ যন্ত্র, সাইরেনের শব্দ তৈরির যন্ত্র এবং ঢালের কোণ মাপার যন্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।

    নিরাপত্তাকর্মীরা মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একটি লাল পতাকা এবং মাওবাদী সাহিত্যও বাজেয়াপ্ত করেছেন। উদ্ধার হয়েছে একটি পিঠু ব্যাগ, গ্যাস সিলিন্ডার, ওষুধ এবং হেডফোনও।

    তদন্তকারীদের বিশেষ নজরে এসেছে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি বেতার যোগাযোগের সরঞ্জামে থাকা চিহ্ন। ওই যন্ত্রগুলিতে “পিএল-০৪” এবং “পামদে ডিভিশনে”র মতো ইউনিট-চিহ্ন রয়েছে।

    এই চিহ্ন এবং বেতার সরঞ্জামগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হত এবং মাওবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে এগুলির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    বেতার সরঞ্জামের উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর কর্তা আনন্দ সিং রাজপুত বলেন, “মাওবাদী ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া বেতার যন্ত্রগুলি পরীক্ষা করা হচ্ছে। মাওবাদীরা কোথা থেকে এই বেতার যন্ত্রগুলি লুট করেছিল বা সংগ্রহ করেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।”

    উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলির উৎস, মাওবাদী সংগঠনের কোন কোন ইউনিট সেগুলি ব্যবহার করত এবং কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেগুলি তাদের হাতে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন (Maoist) তদন্তকারীরা।

    বস্তারজুড়ে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত

    বীজাপুর ও সুকমায় এই অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মেলার পর বস্তারজুড়ে শুরু হয়েছে জোরদার নিরাপত্তা অভিযান। পুলিশের বক্তব্য, ৩১ মার্চ ছত্তিশগড়কে সশস্ত্র মাওবাদী উপস্থিতি থেকে মুক্ত ঘোষণা করার পরেও, জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।

    বিস্তীর্ণ জঙ্গল, প্রত্যন্ত বসতি এবং দুর্গম যাতায়াতের পথের কারণে এই অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন এলাকাগুলিতে তল্লাশির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার ও অন্যান্য সামগ্রীর খোঁজও চালানো হচ্ছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে একাধিক এলাকায় অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, তল্লাশি কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; বস্তারের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকাতেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার এবং সুকমার ছোট কাঞ্চলার কাছে মাটির নীচে লুকোনো ডেরার খোঁজ মেলার পর আশপাশের জঙ্গলে নজরদারি ও তল্লাশি আরও বাড়ানো হয়েছে।

    সন্দেহজনক সামগ্রী দেখলে পুলিশকে জানানোর আবেদন

    বীজাপুর পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, জঙ্গলে বসবাসকারী মানুষ এবং প্রত্যন্ত এলাকার মধ্যে দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কোনও সন্দেহজনক বস্তু, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক বা অপরিচিত সামগ্রী চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দিতে।

    বিশেষ করে নির্জন জঙ্গল এলাকায় কোনও সন্দেহজনক বস্তু দেখা গেলে সেটি স্পর্শ, সরানো বা তার কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মাটির নীচে বা অন্যত্র লুকিয়ে রাখা সামগ্রী গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে (Forest Operations) বলেও বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

     

  • NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের জগদলপুরের একটি বিশেষ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) আদালত ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১০ জন মাওবাদীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে (Jheeram Valley Massacre)। ২০১৩ সালের ওই মাওবাদী হামলায় রাজ্যের শীর্ষ কংগ্রেস নেতা-সহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছিলেন।

    দোষী সাব্যস্ত ১০ জন হলেন—প্রমীলা মোদিয়াম, চৈতু লেকাম ওরফে মুন্না, সুমিত্রা ওরফে সুমিত্রা পুনেম মোদিয়াম, মুক্কা মাণ্ডভি, কোসা কাভাসি ওরফে কোসারাম, আয়াতা মার্কাম, মাদকমি দেবা, জোগা মাদকমি, বানজামি সন্না ওরফে চামরু ওরফে ডেঙ্গা এবং মহাদেব নাগ। তদন্ত অনুযায়ী, এঁদের অধিকাংশই অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের কমান্ডার অথবা সশস্ত্র গেরিলা।

    দোষী সাব্যস্তদের আইনজীবী অরবিন্দ চৌধুরী রায়দানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত সাজা ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে দোষী সাব্যস্তদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও তিনি জানান।

    হামলায় আহত শিব সিং ঠাকুর বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, নিম্নস্তরের মাওবাদীদের গ্রেফতার করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর মধ্যে দিয়েই জাতীয় তদন্ত সংস্থা মূলত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে। তাঁর কথায়, “হামলার আগে তাঁরা আমাদের নেতাদের নাম জানতে চেয়েছিল। এরপরই তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পিছনে নিশ্চিতভাবেই একটি ষড়যন্ত্র ছিল। সেই ষড়যন্ত্রের আসল সত্য সামনে আসা দরকার। তাহলেই আমরা এই ঘটনার পূর্ণ পরিসমাপ্তি দেখতে পাব।”

    কী ঘটেছিল ঝিরম উপত্যকায়? (NIA)

    দেশের অন্যতম ভয়াবহ মাওবাদী হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালের ২৫ মে। সুকমা জেলার দরভা থানার প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কংগ্রেস নেতাদের একটি কনভয়ে বড়সড় হামলা চালায় মাওবাদীরা।

    সুকমায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’র একটি সভা শেষ করে কনভয়টি ফিরছিল। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছিল কংগ্রেস। ওই বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

    অভিযোগ, কনভয়টি ঝিরম উপত্যকার কাছে পৌঁছতেই মাওবাদীদের কমিউনিস্ট পার্টি-সংক্রান্ত সশস্ত্র সদস্যরা প্রথমে রাস্তার নীচে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের ফলে রাস্তায় বড় গর্ত তৈরি হয় এবং পরিবর্তন যাত্রার গাড়িগুলি থেমে যেতে বাধ্য হয় (NIA)।

    এরপর শুরু হয় নির্বিচারে গুলিবর্ষণ, গ্রেনেড হামলা এবং বেছে বেছে হত্যাকাণ্ড। হামলায় ২৪ জনের মৃত্যু হয় এবং ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর জখম হন। পরে আহতদের কয়েকজনেরও মৃত্যু হয়।

    নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন ছত্তিশগড় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নন্দকুমার পটেল এবং রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্লও হামলায় গুরুতর জখম হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন মহেন্দ্র কর্মা। তিনি মাওবাদী সশস্ত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাজ্য-সমর্থিত ‘সালওয়া জুডুম’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনে স্থানীয় যুবকদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আন্দোলনটিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

    ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঘটনার তদন্তভার পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায়। নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৯ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেলঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা বর্ষে সুক্কা ওরফে দেবা ওই সময় দরভা বিভাগীয় কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকেই (Jheeram Valley Massacre) হামলাটি পরিচালনার জন্য সামগ্রিক কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করেছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা (NIA)। Jheeram Valley Massacre,

     

  • Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদী-বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। জেলার জঙ্গলে ঘেরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে (Chhattisgarh) উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী (Maoist Arms)। গত ২৪ অগাস্ট ভেজ্জি থানার ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা জঙ্গল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর জেলা বাহিনী, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং বস্তার ফাইটার্সের যৌথ দল সোমবার সকালে ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডার জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

    গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান (Chhattisgarh)

    তল্লাশির সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান পান। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৯২টি তাজা গুলি, ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড। বিপুল পরিমাণ বিজিএল গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।উদ্ধার হওয়া ২৩টি অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর রাইফেল, একটি দশমিক ৩১৫ বোরের রাইফেল, একটি দশমিক ৪১০ মাসকেট রাইফেল, ছ’টি বিজিএল লঞ্চার, একটি একনলা রাইফেল, একটি দেশীয় দশমিক ৩১৫ বোরের আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ১২ বোরের রাইফেল এবং সাতটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র। এসএলআর এবং দশমিক ৩০৩ রাইফেলের ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ বিজিএল সেল উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৪৯২টি গুলির মধ্যে একে-৪৭, এসএলআর, ইনসাস, দশমিক ৩০৩, দশমিক ৩১৫ এবং ১২ বোরের বিভিন্ন ধরনের গুলি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমান, দীর্ঘ সময় ধরে মাওবাদী সংগঠনের ব্যবহারের জন্য ওই গোপন ভান্ডারে ধাপে ধাপে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করা হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের উপস্থিতিই তার প্রমাণ।

    বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার

    অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার, ৬৬টি বিজিএল কার্তুজ, আতসবাজির মতো ৪০টি বিস্ফোরক যন্ত্র এবং ছ’টি অ্যাক্সিলারেটর প্লাগ। এছাড়া বিভিন্ন আকারের ৮৯টি বিজিএল সেল এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে (Maoist Arms)। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। অস্ত্র-বিস্ফোরকের পাশাপাশি ওই গোপন ভান্ডার থেকে মাওবাদী সদস্যদের দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাত জোড়া কালো পোশাক, ৩২টি কালো ও ২২টি সবুজ কোমরবন্ধ, ১১টি বাঁশি-রক্ষাকবচ, সাতটি বাঁদরটুপি, দুটি ওয়েল্ডিং ঢাল, দু’টি সৌর প্যানেল এবং সাতটি পিঠের ব্যাগ। এছাড়া ম্যাগাজিন রাখার ব্যাগ, অন্যান্য ব্যাগ এবং ওষুধও উদ্ধার হয়েছে (Chhattisgarh)।

    ভান্ডারপদর দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদী-প্রভাবিত এলাকা

    ভান্ডারপদর জঙ্গল এলাকায় এর আগেও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ২০২৪ সালে ওই এলাকায় সংঘর্ষে ১০ জন মাওবাদী নিহত হয়েছিল বলে নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এটা স্পষ্ট, ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্য পুরানো অস্ত্রভান্ডারের অবস্থান চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

    শুধু অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার নয়, এই ধরনের অভিযান থেকে মাওবাদীদের সংগঠন, তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জঙ্গলে থাকা পুরানো পরিকাঠামো সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে বলে মনে করছে প্রশাসন (Chhattisgarh)।

    পুরনো অস্ত্রভান্ডার খুঁজতে জোর তল্লাশি

    সুকমার পুলিশ সুপার ময়াঙ্ক গুর্জর জানিয়েছেন, জঙ্গল এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় মাইনমুক্ত করার কাজও ধারাবাহিকভাবে চলছে। কোথাও বিস্ফোরক যন্ত্র বা অন্য কোনও বিস্ফোরক সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেলে নিরাপত্তা বিধি মেনে সেগুলি দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

    পুলিশ সুপারের দাবি, গত ৩১ মার্চ থেকে মাওবাদীদের পুরানো অস্ত্র ও বিস্ফোরকের গোপন ভান্ডার উদ্ধারের পাশাপাশি মাইনমুক্ত করার অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে দুর্গম জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা সামগ্রী খুঁজতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়ার পর প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীরা বিস্ফোরকগুলি নিষ্ক্রিয় করছেন।

    এই অভিযানে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বহু পুরনো ও গোপন অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অগাস্টে সুকমায় তৃতীয় বড় অস্ত্রভান্ডারের খোঁজ

    চলতি অগাস্ট মাসে সুকমা জেলায় মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভান্ডার উদ্ধারের এটি তৃতীয় বড় ঘটনা (Chhattisgarh)। এর আগে ১৮ অগাস্ট চিন্তলনার থানার ইট্টালঙ্কা গ্রামের কাছে একটি গোপন ভান্ডার থেকে বিস্ফোরক, গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। তারও আগে ৩ অগাস্ট ভেজ্জি থানার বোধরাজপদর জঙ্গলে একটি মাওবাদী অস্ত্রভান্ডারের হদিশ পায় নিরাপত্তা বাহিনী।

    একই মাসে পরপর এই ধরনের উদ্ধার অভিযান থেকে স্পষ্ট, সুকমার দুর্গম জঙ্গলগুলিতে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলার বিষয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জোর দিয়েছে। জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় অস্ত্রভান্ডারের সন্ধানে এলাকা দখল ও তল্লাশি অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে জানিয়েছে সুকমার পুলিশ।

    প্রশাসনের বক্তব্য, এই ধারাবাহিক অভিযানের লক্ষ্যই হল মাওবাদীদের অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করার পাশাপাশি জেলার নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা এবং উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা (Maoist Arms)। অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় শুরু হয়েছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও (Chhattisgarh)।

     

  • Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় ফের লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেল্লাম (Kellam) গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিরা দুই পরিযায়ী শ্রমিককে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। নিহত দু’জনই ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে লস্কর-ই-তৈবার (LeT) ছদ্ম সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

    কী ঘটেছিল কুলগামের জঙ্গি হামলায়?

    পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থলে একাধিক অ-স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছিলেন। জঙ্গিরা প্রথমে শ্রমিকদের পরিচয় জানতে চায়। এরপর দুই হিন্দু শ্রমিককে অন্যদের থেকে আলাদা করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। নিহতদের নাম দীপক ও ভূপেন্দ্র। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই দীপকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ভূপেন্দ্রকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়। দু’জনেই ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    দায় স্বীকার টিআরএফ-এর, নজরে লস্কর যোগও

    হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই এর দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। এই সংগঠনটি লস্কর-ই-তইবার প্রক্সি সংগঠন হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৫ সালের পাহেলগাম জঙ্গি হামলার সঙ্গেও তাদের নাম জড়িয়েছিল। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এই হামলায় এক স্থানীয় এবং এক বিদেশি জঙ্গির জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে মহম্মদ লতিফ, যে গত বছর লস্কর-ই-তৈবা বা টিআরএফ-এ যোগ দিয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী এখনও বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি দেয়নি।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় অভিযান

    হামলার পরপরই সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে কেল্লাম গ্রাম ঘিরে ফেলে। শুরু হয় ব্যাপক কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গিদের খোঁজ চলছে। গোটা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল জানান, তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক নলিন প্রভাত-সহ শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জঙ্গিদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

    অমরনাথ যাত্রার মাঝেই বাড়ছে উদ্বেগ

    এই হামলার পর উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। এর আগে অনন্তনাগ জেলায় এক পুলিশকর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই উপত্যকা জুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৩,০০০-এরও বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকার ৬৭০টি অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনীর কোম্পানি মোতায়েন করেছে।

    পাহেলগাম হামলার পর আবার টিআরএফ-এর সক্রিয়তা

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলিকে দায়ী করেছিল ভারত। পরবর্তীতে ভারত অপারেশন সিঁদুর চালায় এবং দুই দেশের মধ্যে কয়েকদিন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক কুলগাম হামলাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ।

    শোকপ্রকাশ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই ঘটনাকে “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ন্যাশনাল কনফারেন্স তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, “এই মানুষগুলো স্রেফ নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে এসেছেন। কোনো সভ্য সমাজে এই বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দাবির সত্ত্বেও এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্তম্ভিত করে।” ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা। তাঁর অভিযোগ, উপত্যকার শান্তি নষ্ট করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কারা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, বিজেপি নেতা রবীন্দর রায়না, আপনি পার্টির সভাপতি আলতাফ বুখারি এবং পিপলস্ কনফারেন্স-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে।

    অতীতেও পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা

    কুলগামে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর কুলগামের ওয়ানপোহ এলাকায় বিহারের দুই শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীনগরে পঞ্জাবের দুই অ-স্থানীয় শ্রমিক জঙ্গি হামলায় নিহত হন।

  • PM Modi: প্রয়াত প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাই, শোকস্তব্ধ ভারত, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi: প্রয়াত প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাই, শোকস্তব্ধ ভারত, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাইয়ের (Teejan Bai) প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ভারত (PM Modi)। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আজ, রবিবার রায়পুরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পাণ্ডবাণী শিল্পকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন তীজন বাই। ছত্তীসগঢ়ের এই ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পকে দেশ-বিদেশের দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অনন্য।

    তীজন বাইয়ের প্রয়াণে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    তীজন বাইয়ের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক বার্তায় তিনি বলেন, “প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাইজির প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর অসাধারণ পরিবেশনার মাধ্যমে ছত্তীসগঢ়ের এই লোকশিল্প বিশ্বজুড়ে স্বতন্ত্র পরিচিতি লাভ করেছে। তাঁর প্রয়াণ শিল্প ও সংস্কৃতির জগতে অপূরণীয় ক্ষতি। এই শোকের মুহূর্তে তাঁর পরিবার ও অসংখ্য অনুরাগীর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। ওঁ শান্তি!” ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেন, “তীজন বাইয়ের অবদান রাজ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ সম্মান এনে দিয়েছে। তাঁর সাফল্য ছত্তীসগঢ়ের সাংস্কৃতিক পরিচিতিকে আরও উজ্জ্বল করেছে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছে।” রাজ্যের মন্ত্রী কেদার কাশ্যপ শোকপ্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, তাঁর প্রয়াণ শুধু ছত্তীসগঢ় নয়, গোটা দেশের জন্যই বড় ক্ষতি। তিনি রাজ্যের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে দেশের অন্যতম সম্মানিত সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

    কী এই পাণ্ডবাণী শিল্প?

    শতাব্দীপ্রাচীন পাণ্ডবাণী মহাভারতের বিভিন্ন পর্ব অবলম্বনে গড়ে ওঠা একটি মৌখিক কাহিনি পরিবেশনার ধারা। তীজন বাই তাঁর শক্তিশালী কণ্ঠ, আবেগঘন বর্ণনা ও মঞ্চে অসাধারণ উপস্থিতির মাধ্যমে এই শিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তোলেন। কয়েক দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে (PM Modi) তিনি পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ এবং দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন। তাঁর (Teejan Bai) প্রয়াণে ভারত এক অসামান্য লোকশিল্পীকে হারালেও, পাণ্ডবাণীকে সংরক্ষণ ও জনপ্রিয় করে তোলার তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের কাছে হয়ে (PM Modi) থাকবে চিরস্মরণীয়।

     

  • Charu Pandey: ১৯ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সাফল্য, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে স্বর্ণপদক পাচ্ছেন চারু পান্ডে

    Charu Pandey: ১৯ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সাফল্য, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে স্বর্ণপদক পাচ্ছেন চারু পান্ডে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের কাছে অনুপ্রেরণার আর এক নাম ছত্তিশগড়ের তিলদা-নেওরার বছর তেইশের তরুণী চারু পান্ডে (Charu Pandey)। এক বা দু’টি নয়, সব মিলিয়ে মোট ১৯টি প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষায় (Government Exams) উত্তীর্ণ হয়ে নজির গড়েছেন তিনি। চারু এখন বিশাখাপত্তনমে ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG) দফতরে অ্যাসিস্ট্যান্ট অডিট অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। এটি তাঁর স্বপ্নের চাকরি।

    স্বর্ণপদক পাচ্ছেন চারু (Charu Pandey)

    চারুর এই অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর হাতে তুলে দেবেন স্বর্ণপদক। গণিতে স্নাতক চারু কলেজে পড়াশোনা করা কালীনই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। কোনও কোচিং সেন্টারে ভর্তি না হয়ে সেল্ফ-স্টাডির মাধ্যমে একের পর এক পরীক্ষায় সফল হন তিনি। চারুর সাফল্যের তালিকায় রয়েছে এসএসসি সিজিএল, এসএসসি সিএইচএসএল, এসএসসি এমটিএস, এসএসসি জিডি, এসএসসি সিপিও, এসবিআই পিও, এসবিআই ক্লার্ক, আইবিপিএস পিও, আইবিপিএস ক্লার্কের পাশাপাশি বিভিন্ন রেলওয়ে এবং রাজ্যস্তরের নিয়োগ পরীক্ষা।

    চারুর কঠোর ‘সাধনা’

    চারু জানান, প্রথমে এতগুলি পরীক্ষায় বসার কোনও পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। একটি পরীক্ষার ফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় লাগত, তাই অপেক্ষা না করে তিনি পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি সেরে ফেলতেন। এভাবেই একের পর এক সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে তাঁর এই অনন্য সাফল্যের ইতিহাস। প্রস্তুতির জন্য চারু ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি গেস্ট হাউসে ছ’মাস একা একা কাটিয়েছেন, যাতে পড়াশোনায় কোনও বাধা না আসে। সেই সময় তিনি দিনে প্রায় ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। তবে শুধু পড়াশোনা নয়, মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অন্যান্য কাজেও সময় দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ওই সময় তিনি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পড়াতেন, যা তাঁর নিজের বিষয়ভিত্তিক ধারণাকেও আরও শক্তিশালী করেছিল।

    সাফল্যের মূল চাবিকাঠি

    চারুর (Charu Pandey) মতে, সফলতার মূল চাবিকাঠি হল গভীরভাবে পড়াশোনা করা। তিনি বলেন, “পুরো সিলেবাস শেষ করার পেছনে না ছুটে যতটুকু পড়বেন, সেটাকে একেবারে পোক্ত করে তুলুন।” কোচিং না করেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়েছেন চারু। বিভিন্ন শিক্ষকের ইউটিউব লেকচার দেখে প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং কোনও বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সাহায্য নিয়েছেন এআইয়ের (AI)। পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তাঁর (Charu Pandey) পরামর্শ, সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে, ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে হবে এবং মানসিক চাপের বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে (Government Exams)। চারুর বাবা-মা জানান, তাঁরা মেয়েকে খুব বেশি বইপত্র নিয়ে বসে থাকতে দেখতেন না, যদিও তাঁর ওপর সবসময়ই আস্থা ছিল। ছোট শহরের এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে থেকে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরিতে চারুর (Charu Pandey) পৌঁছানোর এই যাত্রা প্রমাণ করে, ব্যয়বহুল কোচিং নয়, বরং ধারাবাহিকতা, আত্মনিয়োগ এবং সঠিক কৌশলই সাফল্যের আসল (Government Exams) চাবিকাঠি।

     

  • Church Network Conversion: খ্রিস্টান মিশনারীর বিরুদ্ধে ধর্ম পরিবর্তন করার অভিযোগ! ৯৫ কোটি টাকার বিদেশি আর্থিক লেনদেন, ছত্তিশগড়ে তদন্তে ইডি 

    Church Network Conversion: খ্রিস্টান মিশনারীর বিরুদ্ধে ধর্ম পরিবর্তন করার অভিযোগ! ৯৫ কোটি টাকার বিদেশি আর্থিক লেনদেন, ছত্তিশগড়ে তদন্তে ইডি 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) খ্রিস্টান চার্চ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যাপক হারে ধর্মান্তকরণ এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আতশ কাচের তলায় এখন ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ নামক একটি সংস্থা। অভিযোগ, এই সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার বিদেশি তহবিল ভারতে এসেছে, যার একটি বড় অংশই আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মান্তকরণের (Church Network Conversion) কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই সংস্থার কার্যপ্রণালী অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইডি এই মামলার গভীরে গিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এগুলি হল-

    বিপুল বিদেশি তহবিল (Chhattisgarh)

    ছত্তিশগড় রাজ্যে (Chhattisgarh) তদন্তে দেখা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা বিভিন্ন বিদেশি উৎস থেকে এই খ্রিস্টান চার্চ (Church Network Conversion) কর্তৃপক্ষের অ্যাকাউন্টে এসেছে। এফসিআরএ (FCRA) বা বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের নিয়মাবলী লঙ্ঘন করে এই টাকা আনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি।

    চার্চ নেটওয়ার্ক ও ‘মাল্টিপ্লিকেশন’ মডেল

    অভিযোগ, ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ (Church Network Conversion) একটি বিশেষ ‘চার্চ প্লান্টিং’ (Chhattisgarh) মডেল অনুসরণ করে। অর্থাৎ, দ্রুত হারে ছোট ছোট চার্চ তৈরি করা এবং স্থানীয় লোকজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ করা। এই মডেলকে তারা ‘মাল্টিপ্লিকেশন’ বা সংখ্যাবৃদ্ধি বলে অভিহিত করে।

    টার্গেট ছত্তিশগড়ের আদিবাসী এলাকা

    বস্তার এবং সংলগ্ন আদিবাসী প্রধান জেলাগুলিতে এই সংস্থার সক্রিয়তা সব থেকে বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। দরিদ্র ও সরল আদিবাসীদের আর্থিক প্রলোভন বা অন্য কোনও উপায়ে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

    ইডির পরবর্তী পদক্ষেপ

    ইতিমধ্যেই ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছেন গোয়েন্দারা। এই বিশাল অঙ্কের টাকার উৎস কী এবং তা কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে, সেই যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    খ্রিস্টান মিশনারির এই তদন্ত (Church Network Conversion) শুরু হতেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, এই তদন্তের ফলে ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ধর্মান্তকরণ চক্রের পর্দা ফাঁস হবে। উল্লেখ্য, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জনবিন্যাসের পরিবর্তনের আশঙ্কায় বিদেশি তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত এই ধরনের সংস্থাগুলির ওপর কেন্দ্রীয় সরকার গত কয়েক বছর ধরেই কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

LinkedIn
Share