Tag: chicken’s neck

  • Operation Fortress Siliguri: চিনের মোকাবিলায় শিলিগুড়ি করিডরে মহাপরিকল্পনা! ১২ ঘণ্টার পথ পাড়ি হবে মাত্র ৩ ঘণ্টায়, তৈরি হচ্ছে ৩৬ কিমির সুড়ঙ্গ

    Operation Fortress Siliguri: চিনের মোকাবিলায় শিলিগুড়ি করিডরে মহাপরিকল্পনা! ১২ ঘণ্টার পথ পাড়ি হবে মাত্র ৩ ঘণ্টায়, তৈরি হচ্ছে ৩৬ কিমির সুড়ঙ্গ

    সুশান্ত দাস

    উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ রাখতে শিলিগুড়ি করিডরকে (Siliguri Corridor) আরও সুরক্ষিত করার বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী চার বছরের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পথকে দেশের অন্যতম নিরাপদ প্রতিরক্ষা করিডরে পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। চিনের সামরিক তৎপরতা, ডোকলাম সংঘাতের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা ও একমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সীমান্তে ভারী কামান ও সেনা পৌঁছতে যেখানে বর্তমানে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে তা কমে মাত্র ৩ ঘণ্টা হতে পারে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর?

    পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশে অবস্থিত মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া এই ভূখণ্ডটি পরিচিত ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck) নামে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের স্থলপথে যোগাযোগের প্রধান সংযোগস্থল এটি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই এই করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। এর দক্ষিণে বাংলাদেশ, পশ্চিমে নেপাল, উত্তরে ভুটান এবং উত্তর-পূর্বে চিনের চুম্বি উপত্যকা (Chumbi Valley)। ফলে চারটি প্রতিবেশী দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের মাঝে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে প্রতিরক্ষা মহলে।

    বিশেষ করে চিনের চুম্বি উপত্যকা থেকে এই করিডরের উপর কৌশলগত নজরদারি সম্ভব। ২০১৭ সালের জুন মাসে ডোকলাম সংঘাতের সময় এই আশঙ্কা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই সিকিম ও শিলিগুড়ি করিডর সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা পরিকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য একাধিক প্রকল্প হাতে নেয় কেন্দ্র।

    ৩৬ কিলোমিটারের ভূগর্ভস্থ রেল সুড়ঙ্গ, শত্রুর আকাশপথের হামলাতেও সচল থাকবে যোগাযোগ

    এই সামরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ভূগর্ভস্থ রেল সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা। প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গটি মাটির প্রায় ২০ মিটার গভীর দিয়ে তৈরি করা হবে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ির কাছে রাঙাপানি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই রেলপথ।

    ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি এই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে সামরিক পরিবহণে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষের বিমান বা ড্রোন হামলার কারণে যাতে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়, সেই লক্ষ্যেই ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারী কামান, সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং প্রয়োজনীয় রসদ দ্রুত সীমান্তবর্তী সেনা ছাউনিতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। অর্থাৎ, আকাশপথে হামলার আশঙ্কা থাকলেও সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার বিকল্প তৈরি হবে।

    ‘অপারেশন ফোর্ট্রেস শিলিগুড়ি’, ৫৩৪ কোটি টাকায় সাত স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়, শিলিগুড়ি করিডরের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা বলয়কেও নতুন করে সাজানো হচ্ছে। ‘অপারেশন ফোর্ট্রেস শিলিগুড়ি’ (Operation Fortress Siliguri) পরিকল্পনার অধীনে প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

    এই পরিকল্পনায় রয়েছে পাঁচটি ভূগর্ভস্থ কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, ছয়টি যোগাযোগ কেন্দ্র, ১২টি আকাশ প্রতিরক্ষা ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং ১২টি বাঙ্কার বা বোমা আশ্রয়স্থল। প্রস্তাবিত পরিকাঠামোর একটি বড় অংশ মাটির ২০ থেকে ২৪ মিটার গভীরে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    উত্তর সিকিমের ১৯ হাজার ফুট উচ্চতায় নাথু লা গিরিপথের কাছে চিনা সেনার উপস্থিতি এবং তিব্বত সীমান্ত বরাবর চিনের নতুন পরিকাঠামো ও বসতি নির্মাণের প্রেক্ষিতে এই নিরাপত্তা বলয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার মুখেও সেনাবাহিনীর কমান্ড ব্যবস্থা, যোগাযোগ এবং রসদ সরবরাহ যাতে অক্ষত থাকে।

    বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠতা, বাড়ছে কৌশলগত উদ্বেগ

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিমালয় সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নেপাল, বাংলাদেশ, চিন ও ভুটান দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায় এই করিডর ভারতের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি ‘সফট স্পট’ বা দুর্বল কৌশলগত অবস্থান। বিশেষ করে চিনের চুম্বি উপত্যকা থেকে এই অঞ্চলের উপর নজর রাখা সম্ভব।

    তাঁর মতে, বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণে কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে চিন ও বাংলাদেশের যৌথ সমীক্ষা এবং লালমনিরহাটের পুরনো বিমানবন্দর পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগও ভারতের নিরাপত্তা মহলে নজরে রয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি করিডর ও সিকিম সংলগ্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ সামরিক পরিকাঠামো এবং একাধিক স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

    ‘চিকেনস নেক’ থেকে ‘এলিফ্যান্টস ট্রাঙ্ক’, বদলাচ্ছে সেনার প্রতিরক্ষা কৌশল

    শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে ভারতীয় সেনার প্রতিরক্ষা কৌশলেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সামরিক মহলের একাংশের আলোচনায় ‘চিকেনস নেক’-এর পরিবর্তে ‘এলিফ্যান্টস ট্রাঙ্ক’ (Elephant’s Trunk) নামটিও উঠে আসছে। এর পিছনে রয়েছে করিডর সংলগ্ন এলাকায় একাধিক নতুন সামরিক ঘাঁটি এবং নজরদারি পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

    অসমের লাচিত বোরফুকন মিলিটারি স্টেশন পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক পরিকাঠামোর রসদ ও লজিস্টিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিহারের কিশানগঞ্জে নতুন সামরিক উপস্থিতি পশ্চিম দিকের যোগাযোগপথের উপর নজরদারি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনার উপস্থিতি করিডরের নিরাপত্তা বলয়কে আরও শক্তিশালী করার কৌশলের অংশ।

    এর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (BSF) বিদ্যমান নজরদারি ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে আগে যেখানে করিডরের নিরাপত্তা অনেকটাই একটি সরু ভূখণ্ডের উপর নির্ভরশীল ছিল, সেখানে এখন একাধিক দিক থেকে নজরদারি ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

    এস-৪০০, ব্রহ্মস ও রাফাল, চিনের চুম্বি উপত্যকাকে নিশানায় রেখে প্রস্তুতি

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা শুধু স্থলপথে সেনা মোতায়েনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের রেজিমেন্ট এবং হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে রাফাল যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    এই সামরিক সক্ষমতার অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য চিনের চুম্বি উপত্যকা সংলগ্ন অঞ্চল। ২০১৭ সালের ডোকলাম সংঘাতের সময় যে ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেই অঞ্চলকে মাথায় রেখেই প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

    সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনও সড়ক বা রেলপথ অবরুদ্ধ করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও উন্নত রেডার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধবিমানের সমন্বিত উপস্থিতি প্রতিপক্ষের সামরিক পরিকল্পনাকে অনেক বেশি জটিল করে তুলতে পারে।

    বিকল্প যোগাযোগপথ হিসেবে কালাদান প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ থিয়েটার কমান্ড

    শিলিগুড়ি করিডরের উপর নির্ভরতা কমানোর জন্য বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকেও নজর দিচ্ছে ভারত। মায়ানমারের মধ্য দিয়ে কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প (Kaladan Multi-Modal Transit Transport Project) এবং নতুন রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    এর ফলে কোনও সংঘাতের পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি করিডর সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হলেও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও রসদ সরবরাহের বিকল্প পথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। যদিও কালাদান প্রকল্পের সম্পূর্ণ কার্যকর হয়ে ওঠার বিষয়টি এখনও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

    অন্যদিকে, ভারতের প্রস্তাবিত থিয়েটার কমান্ড ব্যবস্থা কার্যকর হলে এই অঞ্চলের সামরিক পরিচালনাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে করিডরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের নিরাপত্তা এবং সামরিক পরিচালনার দায়িত্ব পৃথক কমান্ড কাঠামোর অধীনে রয়েছে। ভবিষ্যতে চিনকে সামনে রেখে একটি সমন্বিত উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ড গঠিত হলে সেনা, বিমানবাহিনী এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় সম্ভব হবে। তবে এই থিয়েটার কমান্ড সংস্কারের জন্য এখনও কেন্দ্রীয় স্তরে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

    কেন ২০২৯ ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ?

    সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে ভারতের পরিকল্পনা শুধুমাত্র একটি রেল সুড়ঙ্গ বা কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হল উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রায় চার কোটি মানুষের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সুরক্ষিত রাখা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনা মোতায়েনের সক্ষমতা তৈরি করা।

    ৩৬ কিলোমিটারের ভূগর্ভস্থ রেলপথ, সাত স্তরের প্রতিরক্ষা বলয়, নতুন সামরিক ঘাঁটি, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিকল্প যোগাযোগপথ—সব মিলিয়ে পূর্ব সীমান্তে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

    তবে এই পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন, বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতার উপর। ২০২৯ সালের মধ্যে লক্ষ্য পূরণ হলে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের সামরিক প্রস্তুতিতে তা নিঃসন্দেহে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

  • Kashmir: শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর ও জিন্নাহ-ভাবনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    Kashmir: শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর ও জিন্নাহ-ভাবনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জাতীয় পরিচয়, ধর্মনিরপেক্ষতা, কাশ্মীরের (Kashmir) রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মহম্মদ আলি জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের বিভিন্ন পোস্ট, শেয়ার করা সংবাদ প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক মন্তব্যের ভিত্তিতে (Sharjeel Imam) তাঁর মতাদর্শ, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ। তবে পোস্টগুলির ব্যাখ্যা, সেগুলির প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অবস্থান আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    কে এই শরজিল ইমাম? (Kashmir)

    শরজিল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন ছাত্র, গবেষক এবং রাজনৈতিক কর্মী। ২০১৯-২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-বিরোধী আন্দোলনের সময় জাতীয় স্তরে পরিচিতি পান তিনি। ওই আন্দোলনের সময় তাঁর কয়েকটি বক্তব্য, বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ অবরোধের প্রসঙ্গে করা মন্তব্য, বিতর্কের জন্ম দেয়।

    ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরেরই ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলাতেও তাঁর নাম জড়ায়। ওই হিংসাত্মক ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এক নয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজ করে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

    ভারতীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টে শরজিল দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া মুসলিমদের প্রসঙ্গে ‘আমরা ভারতকে বেছে নিয়েছিলাম’—এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, ‘হামনে হিন্দোস্তান কো চুনা থা’ বা ‘আমরা হিন্দুস্তানকে বেছে নিয়েছিলাম’—এই বক্তব্যকে মুসলিমদের অপমান করার জন্য হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভাষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

    ইমামের যুক্তি ছিল, দেশভাগের সময় বহু পরিবার হিংসা, অনিশ্চয়তা এবং বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কার মধ্যে পড়েছিল। ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাধীনভাবে একটি দেশ বেছে নেওয়ার সুযোগ সবার ছিল না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সম্পত্তি এবং ঐতিহাসিক শিকড়ের মতো বিষয়গুলিও সহজে সীমান্তের অন্য পারে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল না।

    পোস্টে তিনি লেখেন, “ইসকো ‘দেশ’ কি মোহব্বত কহনা ঝুঠ হ্যায়, অউর উন মুসলমানোঁ কি তৌহিন হ্যায়।” অর্থাৎ, একে দেশের প্রতি ভালোবাসা বলা মিথ্যা এবং ওই মুসলিমদের অপমান করার শামিল।

    এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশভাগ-পরবর্তী মুসলিমদের জাতীয় পরিচয় ও দেশপ্রেমের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান তিনি।

    কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা

    ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের একটি পোস্টে ইমাম লেখেন, “কাশ্মীর বন্ধের এক মাস এবং কাশ্মীরে এক মাসের ভারতীয় অবরোধ।”

    ২০১৯ সালের অগাস্টে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করে এবং রাজ্যটিকে জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠিত করে। ওই সময় নিরাপত্তা বিধিনিষেধ এবং যোগাযোগের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল মানুষের চলাচল, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে।

    ইমামের পোস্টে ‘অবরোধ’ শব্দটির ব্যবহার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই শব্দের মাধ্যমে তিনি কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও বলপ্রয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেন। সমালোচকদের মতে, এমন ভাষ্য কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং জঙ্গি কার্যকলাপের মতো অন্যান্য বিষয়কে যথেষ্ট গুরুত্ব না-ও দিতে পারে।

    ‘জিন্নাহর প্রশ্ন আজও প্রাসঙ্গিক’

    ২০১৮ সালের ১৩ মে একটি পোস্টে মহম্মদ আলি জিন্নাহকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ শেয়ার করেন ইমাম। সেখানে তিনি লেখেন, “জিন্নাহর উত্থাপিত প্রশ্নগুলি আজও প্রাসঙ্গিক।”

    তিনি আরও লেখেন, “প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি লক্ষ লক্ষ মুসলিমের সংগ্রামই বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের অর্থ নির্ধারণ করবে।”

    একই পোস্টে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) থেকে জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোর বিরোধিতা করে তিনি লেখেন, “বরং এমন আরও হাজার হাজার ছবি আমাদের প্রয়োজন (Sharjeel Imam)। ”

    জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ভারতের ইতিহাসে বিতর্কিত। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম পর্বে সাংবিধানিক রাজনীতি ও হিন্দু-মুসলিম সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মুসলিম লিগের পাকিস্তান দাবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। দেশভাগের পরিণতিতে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, হিংসা এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। তাই বর্তমান ভারতের রাজনীতিতে জিন্নাহর কোন রাজনৈতিক ভাবনাকে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন ইমাম, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে (Kashmir)।

    ‘ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের মিথ’

    ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারির একটি ফেসবুক পোস্টে ইমাম জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনকে সামনে রেখে ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    তিনি জানান, জিন্নাহ পেপার্স পড়ার পর তাঁর মনে হয়েছে, জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ ছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য এক সংখ্যালঘু নেতার লড়াই। ইমাম লেখেন, “৭০ বছর পর ভারতের মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা জিন্নাহ কী বোঝাতে চেয়েছিলেন, তা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন।”

    তিনি আরও লেখেন, “ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের মিথ বুঝতে হলে জিন্নাহকে গুরুত্ব দিয়ে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।”

    এই বক্তব্যে শুধু জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করার বিষয়টি নেই, বরং কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি মুসলিমদের জন্য বাস্তব রাজনৈতিক সমতা নিশ্চিত করতে পেরেছিল কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে।

    ‘ভারতীয় সংবিধানে মুসলিমবিরোধী পক্ষপাত’, বিতর্ক

    ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইমাম টিআরটি ওয়ার্ল্ডে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ শেয়ার করেন। তার সঙ্গে তিনি লেখেন, “ভারতীয় সংবিধানে মুসলিমবিরোধী পক্ষপাত নিয়ে তাঁর লেখা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।” সেটি পড়ে শেয়ার করার আহ্বানও জানান তিনি।

    ভারতীয় সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের চোখে সমতা এবং নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। এই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই মুসলিম-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নাগরিকেরা নিজেদের ধর্ম পালন ও জনজীবনে অংশগ্রহণের অধিকার ভোগ করেন।

    সংবিধান বা সরকারি নীতির সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে সংবিধানকেই সামগ্রিকভাবে মুসলিমবিরোধী বলে চিহ্নিত করা একটি বিস্তৃত অভিযোগ। এই ধরনের দাবি মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বিধান, তার প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    ‘ধর্মনিরপেক্ষতা, দহর-পরস্তি’

    ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টে ইমাম কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক ধারণার সঙ্গে ধর্মীয় অনুষঙ্গযুক্ত শব্দ ব্যবহার করেন।

    তাঁর তালিকায় ছিল জাতীয়তাবাদ: ওয়াতান-পরস্তি, মূর্তিপূজা: বুত-পরস্তি, ধর্মনিরপেক্ষতা: দহর-পরস্তি বা জামানা-পরস্তি, বর্ণবাদ ও জাতপাতবাদ: নসল-পরস্তি, উদারবাদ: নফস-পরস্তি, মানবতাবাদ: ইনসান-পরস্তি

    এখানে ‘পরস্তি’ শব্দটি কোনও কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য বা উপাসনার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, উদারবাদ এবং মানবতাবাদের মতো ধারণাগুলিকে ধর্মীয় পরিভাষার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

    তবে ধর্মনিরপেক্ষতা ও উদারবাদের মতো রাজনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক নির্ধারণের একাধিক পদ্ধতিকে বোঝাতে পারে। একইভাবে উদারবাদ ব্যক্তিস্বাধীনতা, অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা নিয়ে বিভিন্ন মতের সমষ্টি।

    এই পোস্ট থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাজনৈতিক নীতির সম্পর্ক নিয়ে ইমামের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠে। ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের নাগরিকদের সমান অধিকার বজায় রেখে ধর্মীয় আদর্শ অনুসরণ করা সম্ভব কি না, তা-ও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ইসলামের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য

    ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বরের একটি স্ক্রিনশটে পুঁজিবাদ ও মার্কসবাদ-পরবর্তী রাজনৈতিক চিন্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বক্তব্য দেখা যায়।

    সেখানে বলা হয়েছে, “পুঁজিবাদ ও মার্কসবাদকে পরিত্যাগ করার মধ্য দিয়ে যে ভবিষ্যৎ শুরু হবে, তা আগে থেকে নির্ধারিত বা তৈরি করা নয়; বরং তা গড়ে তুলতে হবে।”

    এর পরেই বলা হয়েছে, “সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইসলামের উপযুক্ত ভূমিকা থাকবে।”

    বক্তব্যটিতে অন্যান্য মতাদর্শের সঙ্গে ইসলামের সংঘাত ও বিরোধিতার পরিসর নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এই অংশ থেকে একা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ইমাম একটি ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন, নাকি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চিন্তায় ইসলামের অবদান নিয়ে আলোচনা করছিলেন। বিষয়টি নির্ধারণের জন্য মূল লেখার পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও তাঁর অন্যান্য বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন (Kashmir)।

    গর্বাচেভকে খোমেইনির চিঠি শেয়ার

    ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর ইমাম সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভকে আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেইনির ১৯৮৯ সালের চিঠির অংশবিশেষ শেয়ার করেন বলে স্ক্রিনশটে দেখা যায়।

    সেখানে বলা হয়েছিল, “আজকের বিশ্বে কমিউনিজম বলে আর কিছুই নেই।” একই সঙ্গে, গর্বাচেভকে ‘পশ্চিমের কারাগার এবং মহাশয়তানে’র ফাঁদে না পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে উদ্ধৃতিতে উল্লেখ রয়েছে।

    ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে খোমেইনির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার যুক্ত। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে ধর্মীয় কর্তৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চিঠিটিতে কমিউনিজমের সমালোচনার পাশাপাশি পশ্চিমী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মডেল গ্রহণের বিরুদ্ধেও সতর্কতা ছিল (Sharjeel Imam)।

    ইমামের এই পোস্টকে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে তাঁর শেয়ার করা পূর্ববর্তী বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে পড়া যেতে পারে। তবে একটি ঐতিহাসিক চিঠি শেয়ার করাই তার সমস্ত বক্তব্য বা রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থনের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

    ‘সিয়াচেন সমাধানের পথে ভারতীয় সেনা বাধা’

    ২০১১ সালের ২ জুন ইমাম পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন-এর একটি শিরোনাম শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। শিরোনামটি ছিল, “সিয়াচেন সমস্যার সমাধানের পথে ভারতীয় সেনাবাহিনী বাধা।”

    সিয়াচেন হিমবাহ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সংবেদনশীল সামরিক ও কৌশলগত এলাকা। এই শিরোনামে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বিরোধ নিষ্পত্তির পথে বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

    ইমাম কেন এই শিরোনামটি শেয়ার করেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ। তবে কোনও সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করার কারণ নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট পোস্টের পূর্ণ বক্তব্য এবং তৎকালীন প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। শুধু একটি শিরোনাম শেয়ার করার ভিত্তিতে তাঁর জাতীয় আনুগত্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    কাশ্মীরের খবর পরিবেশন নিয়ে অভিযোগ

    ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ ইমাম একটি প্রবন্ধ শেয়ার করে লেখেন, “কাশ্মীর সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের অসততা নিয়ে তাঁর লেখা প্রবন্ধ পড়া, মন্তব্য করা এবং শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি”।

    সংবাদমাধ্যমের খবর পরিবেশনে পক্ষপাত, অতিরঞ্জন, সরকারি সূত্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, তথ্য বাদ দেওয়া কিংবা উসকানিমূলক ভাষার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক। তবে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নির্দিষ্ট প্রতিবেদন, ভুল তথ্য বা বাদ পড়া তথ্যের প্রমাণ প্রয়োজন (Kashmir)।

    এই পোস্টের মাধ্যমে ইমাম কাশ্মীর নিয়ে মূলধারার সংবাদ পরিবেশনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্ন করেছিলেন। তাঁর অভিযোগের যথার্থতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করা জরুরি।

    ‘হিন্দুত্ববাদীর কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত নয়’

    ২০১২ সালের ২৯ জুন ইমাম “হিন্দুত্ববাদীর কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত নয়” শিরোনামের একটি লিঙ্ক শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

    শিরোনামটি হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী কোনও ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরোধিতা প্রকাশ করে। তাঁর অন্যান্য পোস্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে হিন্দুত্বের রাজনীতি, কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি এবং ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

    তবে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরোধিতা করা এবং বিকল্প হিসেবে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে থাকা এক বিষয় নয়। তাঁর প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলির পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    ‘ভারতকে হিন্দু সন্ত্রাসের মুখোমুখি হতে হবে’

    ২০১১ সালের ২৮ অগাস্ট ইমাম দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত “ভারতকে হিন্দু সন্ত্রাসের মুখোমুখি হতে হবে” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন বলে স্ক্রিনশটে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনের লেখক হিসেবে কপিল কোমিরেড্ডির নাম দেওয়া হয়েছে।

    ‘হিন্দু সন্ত্রাস’ শব্দবন্ধটি ভারতীয় রাজনৈতিক আলোচনায় বিতর্কিত। সমালোচকদের মতে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করলে একটি সম্পূর্ণ সম্প্রদায় সম্পর্কে সাধারণীকরণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

    অন্যদিকে, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সন্ত্রাসবাদ ও হিংসার অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা জরুরি। ইসলামি চরমপন্থা-প্রণোদিত সন্ত্রাসবাদ যেমন নথিভুক্ত বাস্তবতা, তেমনই অন্য মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও পৃথকভাবে বিচার করা প্রয়োজন।

    ইমাম কেন এই শিরোনামটি শেয়ার করেছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয় ও সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, তা নির্ধারণের জন্য মূল প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট পোস্টের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু যাচাই করা প্রয়োজন (Kashmir)।

    আল জাজিরার প্রতিবেদন শেয়ার

    ২০১১ সালের ১১ অগাস্ট ইমাম আল জাজিরা ইংলিশের “কাশ্মীরে দমন-পীড়ন ও প্রতিরোধ — কাশ্মীর: বিস্মৃত সংঘাত” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

    প্রতিবেদনটির শিরোনামে কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে দমন-পীড়ন ও প্রতিরোধের ভাষায় তুলে ধরা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কাশ্মীরকে ‘ভারতীয় অবরোধে’র মধ্যে থাকা অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করা তাঁর পোস্টের সঙ্গে এই বিষয়টির তুলনা করা হয়েছে।

    কাশ্মীর নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় অবস্থান, স্থানীয় মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং মানবাধিকার—সব ক’টি বিষয়ই জটিল ও বহুমাত্রিক। কোনও নির্দিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করার মাধ্যমে ইমাম ঠিক কোন রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করেছিলেন, তা নির্ধারণ করতে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন।

    হায়দরাবাদের সংযুক্তি ও সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য

    ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরের একটি পোস্টে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকার প্রশংসা করে করা একটি বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান ইমাম।

    তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘কাজ করেছে’ বলতে যদি কিছু বোঝানো হয়, তবে তার অর্থ এই-ও যে রাষ্ট্র ব্রিটিশদের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে হায়দরাবাদের নিরস্ত্র কৃষক ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছিল।

    ১৯৪৮ সালে হায়দরাবাদকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সংযুক্ত করার সময় সামরিক অভিযান ও তার পরিণতি নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে। ইমামের মন্তব্যে সেই প্রক্রিয়ায় বলপ্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাবের বিষয়টি সামনে আসে।

    হায়দরাবাদের সংযুক্তিকে কেবল রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হবে, নাকি সেই সময়ের সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতিও বিবেচনা করা হবে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রশ্ন। তবে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করতে ঐতিহাসিক নথি, অভিযানের প্রেক্ষাপট এবং নাগরিকদের উপর তার প্রভাব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

    ‘মোদির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি বাড়ছে’

    ২০১১ সালের ১৯ জুনের একটি স্ক্রিনশটে ইমামের শেয়ার করা এশিয়ান এজ-এর একটি শিরোনাম দেখা যায়: “মোদির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।”

    এই পোস্টটি নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেকার। পরবর্তী সময়ে হিন্দুত্বের রাজনীতি এবং কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনার সঙ্গে এই পোস্টকে মিলিয়ে ইমামের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে হতাহতের পরিসংখ্যান তুলে ধরা

    ২০১১ সালের ১৪ জুলাই ইমাম পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর এবং ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির দাবি-সংবলিত পরিসংখ্যান শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তিনি ‘২০০১ সাল থেকে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলাগুলির তালিকা’ শিরোনামের একটি উইকিপিডিয়া পাতার লিঙ্কও দিয়েছিলেন।

    পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ বহু বছর ধরে নিরাপত্তা ও অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তবে ওই পোস্টে ব্যবহৃত পরিসংখ্যানের উৎস, সময়সীমা এবং হিসাবের পদ্ধতি যাচাই করা প্রয়োজন।

    এই পোস্টকে কেন্দ্র করে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের শিকার মানুষের দুর্দশা তুলে ধরলেও ইমাম একইভাবে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে সরব হয়েছিলেন কি না।

    ২০০১ সালের সংসদ হামলা থেকে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা—ভারতেও সন্ত্রাসবাদী হিংসার কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতিই যথাযথ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

    তাই মূল প্রশ্নটি হল, ইমামের পোস্টে সন্ত্রাসবাদের মানবিক মূল্য নিয়ে আলোচনা কতটা সামগ্রিক ছিল এবং বিভিন্ন দেশের ভুক্তভোগীদের প্রতি তাঁর বক্তব্যে কোনও বাছাই করা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কি না (Sharjeel Imam)।

    ধর্মীয় ভাষা ব্যবহারের বিতর্ক

    ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের একটি রোমান উর্দু পোস্টে ইমাম লেখেন যে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং উৎসবের পরে ফ্যাসিবাদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ‘বিপ্লবী সংগ্রাম’ আবার শুরু হবে।

    তিনি লেখেন, “পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই ফ্যাসিবাদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিপ্লবী সংগ্রাম, ইনশাআল্লাহ, পুজোর পরে আবার শুরু করা হবে।”

    পোস্টের পরবর্তী অংশে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-এর কয়েকজন সহকর্মী পুজোর সময়ে হিন্দু ধর্মীয় আচারে অংশ নেন—এমন প্রসঙ্গ তুলে ব্যঙ্গ করা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ‘বুত-পরস্তি’ বা মূর্তিপূজার মতো ধর্মীয় শব্দও ব্যবহার করা হয়েছে (Kashmir)।

    এই ভাষার ব্যবহারকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, অন্য ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মান দাবি করার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাচারকে ব্যঙ্গ করা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। ধর্মতাত্ত্বিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই মতভেদ প্রকাশ এবং অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে উপহাস করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

    হিন্দুদের পুজো করার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই মুসলিমদের ইসলাম পালন করার অধিকারও রয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতি সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

    জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে বিতর্ক

    ২০১৮ সালের ১৩ মে জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে করা পোস্টে ইমাম লিখেছিলেন, “

    এএমইউ থেকে জিন্নাহর ছবি সরানো উচিত নয়; বরং এমন আরও হাজার হাজার ছবি প্রয়োজন।”

    ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর প্রতিকৃতি থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জিন্নাহ ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের প্রধান নেতাদের একজন। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের দাবি এবং তার পরিণতি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন ও দেশভাগে তাঁর ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করা এক বিষয়; তাঁর প্রতিকৃতি স্থায়ীভাবে প্রদর্শনের দাবি অন্য বিষয়। ইমামের বক্তব্যে জিন্নাহকে সমসাময়িক মুসলিম রাজনীতির জন্য আদর্শ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তবে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে গবেষণা বা তাঁর ছবি রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করলেই কোনও ব্যক্তির সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে তাঁর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

    জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও বর্তমান মুসলিম রাজনীতি

    জিন্নাহকে নিয়ে ইমামের ২০১৮ সালের মে মাসের পোস্টের পাশাপাশি ওই বছরের জানুয়ারির বক্তব্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। জানুয়ারির পোস্টে তিনি জিন্নাহর রাজনৈতিক প্রশ্নগুলিকে সমসাময়িক সংখ্যালঘু রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। মে মাসে তিনি এএমইউতে জিন্নাহর প্রতিকৃতি রাখার পক্ষে আরও জোরালো অবস্থান নেন।

    দেশভাগের ইতিহাসে জিন্নাহর ভূমিকা, পাকিস্তান আন্দোলনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং দেশভাগের পরিণতি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ইমামের বক্তব্য নিয়ে মূল প্রশ্ন হল, তিনি জিন্নাহকে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে বিশ্লেষণের আহ্বান জানাচ্ছেন, নাকি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বর্তমান ভারতের মুসলিম পরিচয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।

    এই দুই অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে হলে শুধু প্রতিকৃতি নিয়ে মন্তব্য নয়, জিন্নাহর রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে ইমামের সামগ্রিক অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

    ‘কংগ্রেস পশ্চাৎমুখী হিন্দু গোষ্ঠী’

    ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বরের একটি পোস্টে ইমাম কংগ্রেসকে “একটি পশ্চাৎপদ হিন্দু গোষ্ঠী” বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, কংগ্রেস একটি পশ্চাৎমুখী হিন্দু গোষ্ঠী, যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করতে পারে।

    তিনি আরও লেখেন, “১৯৪৭ সালের পর মৌলানা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন।”

    পোস্টে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এক মুসলিম নেতার রাজনৈতিক অবস্থানের তুলনা বিজেপির শাহনওয়াজ হুসেনের সঙ্গে করা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে মুসলিম নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাস্তবে সম্প্রদায়ের স্বার্থ কতটা পূরণ করতে পেরেছে, সেই প্রশ্ন তোলা হয়।

    কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘু স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দাবি করে এসেছে। আবার বিরোধী দলগুলি প্রায়ই দলটির বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগ তোলে। ইমামের মন্তব্য এই প্রচলিত রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে একটি ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে।

    তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসে মুসলিম নেতাদের উপস্থিতি থাকলেই মুসলিমদের রাজনৈতিক স্বার্থ যথাযথভাবে পূরণ হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    এই মন্তব্য দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া মুসলিম নেতাদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

    জাতীয় পরিচয়, ধর্মনিরপেক্ষতা ও কাশ্মীর নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক

    শরজিল ইমামের নামে প্রচারিত এই পোস্টগুলিতে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক, জিন্নাহর উত্তরাধিকার, কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক পরিসরে ইসলামের ভূমিকা—বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

    সমালোচনামূলক বিশ্লেষণটির দাবি, পোস্টগুলির মধ্যে এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে, যা ভারতীয় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান ও জাতীয় পরিচয়ের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। বিশেষত কাশ্মীরকে ‘ভারতীয় অবরোধে’র মধ্যে থাকা অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সমালোচনা করা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম শেয়ার এবং জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে (Kashmir)।

    তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও বক্তব্য, সংবাদ শিরোনাম বা ঐতিহাসিক দলিল শেয়ার করার অর্থ সব ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের প্রতিটি অংশকে সমর্থন করা নয়। একইভাবে কোনও রাজনৈতিক মতের সমালোচনা করা এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগও পৃথক বিষয়। অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রমাণ এবং চূড়ান্ত রায়কে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    শিলিগুড়ি করিডর অবরোধের প্রসঙ্গে ইমামের বক্তব্যও এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে এই করিডর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ওই পথ অবরোধের আহ্বানকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, ইমামের রাজনৈতিক বক্তব্যের মূল্যায়নে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—তাঁর প্রকাশিত বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ, সেই বক্তব্যের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলির অবস্থান। জাতীয় নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই জরুরি।

     

  • Siliguri Corridor: মাটির নিচে রেল, বাঙ্কার, নতুন হাইওয়ে: শিলিগুড়ি করিডরকে দুর্ভেদ্য করতে ভারতের সাত স্তরের মাস্টারপ্ল্যান

    Siliguri Corridor: মাটির নিচে রেল, বাঙ্কার, নতুন হাইওয়ে: শিলিগুড়ি করিডরকে দুর্ভেদ্য করতে ভারতের সাত স্তরের মাস্টারপ্ল্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলপথের যোগসূত্র শিলিগুড়ি করিডর। এই সংকীর্ণ পথটিকে আরও মজবুত করতে বহুস্তরীয় কৌশলগত পরিকাঠামো গড়ে তুলছে কেন্দ্র। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ভারত-বিরোধী মনোভাব ও নিরাপত্তা অস্থিরতা এবং চিনের আগ্রাসী সামরিক তৎপরতার মধ্যে এই উদ্যোগ বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ সামরিক পরিকাঠামো, অতিরিক্ত রেললাইন, বিকল্প হাইওয়ে, সীমান্ত সড়ক ও নতুন সেনা স্থাপনা— সব মিলিয়ে ‘চিকেন নেক’ বলে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরকে ‘‘ফর্টেস’’ বা দুর্গে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। মূল লক্ষ্য একটাই: কোনও একটি রুট বন্ধ হয়ে গেলেও যেন উত্তর-পূর্বের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ অচল না হয়।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর?

    • ● সবচেয়ে সংকীর্ণ জায়গায় করিডরের প্রস্থ মাত্র ২২ কিলোমিটার
    • ● নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তের খুব কাছে, পাশেই চিনের চুম্বি উপত্যকা
    • ● রেললাইন, হাইওয়ে, সামরিক ঘাঁটি ও লজিস্টিক রুট ঘনীভূত থাকায় একটি রুটে বিঘ্ন ঘটলেই বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে

    তাই এখন একটি রাস্তা, রেলপথ বা স্থাপনার ওপর নির্ভর না করে একাধিক সমান্তরাল রুট ও সুরক্ষিত স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলেই তৈরি হচ্ছে সাত স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো।

    সাত স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো

    ১. ভূগর্ভে গোলাবারুদ ও সামরিক সম্পদের সুরক্ষা

    বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯৭ কোটি টাকার সেনা পরিকাঠামো প্যাকেজে রয়েছে:

    • ● ১২টি ভূগর্ভস্থ আর্মি ও এয়ার ডিফেন্স গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র
    • ● ১টি ভূগর্ভস্থ লং রেঞ্জ গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র
    • ● ২১টি ওভারগ্রাউন্ড লং রেঞ্জ ভূপৃষ্ঠস্থ ফায়ারিং পজিশন
    • ● ১২টি বোমা আশ্রয়কেন্দ্র (বাঙ্কার)
    • ● দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টোরেজ স্পেস

    করিডরে জায়গা কম বলে মাটির নিচের স্থাপনা একইসঙ্গে সুরক্ষিত ও জায়গা-সাশ্রয়ী।

    ২. সুরক্ষিত কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক

    সংকটকালেও সামরিক সিদ্ধান্ত ও যোগাযোগ যাতে বজায় থাকে, সেটাই এই স্তরের উদ্দেশ্য। এর জন্য তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে:

    • ● ৫টি ভূগর্ভস্থ কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার
    • ● ৬টি ভূগর্ভস্থ কমিউনিকেশন সেন্টার
    • ● আরও কয়েকটি ভূগর্ভস্থ লং রেঞ্জ গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র

    আকাশপথে হামলা, ড্রোন বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতেও অপারেশনাল ধারাবাহিকতা রক্ষাই লক্ষ্য।

    ৩. ছ’লেনের রেলপথ: করিডরের নিচে ‘দ্বিতীয় লাইফলাইন’

    এই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভূগর্ভস্থ রেলপথ।

    • ● ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এই কৌশলগত করিডরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা চলছে, যাতে থাকছে ভূগর্ভস্থ ট্র্যাক ও বিদ্যমান রেল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ
    • ● রুট: টিন মাইল হাট (দুমদুমি) থেকে রাঙ্গাপানি হয়ে বাগডোগরা
    • ● ট্র্যাক থাকবে মাটির ২০ থেকে ২৪ মিটার নিচে
    • ● প্রকল্পটি ‘স্পেশাল রেলওয়ে প্রজেক্ট’ হিসেবে বিজ্ঞপ্তিভুক্ত। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে দুমদুমি (টিন মাইল হাট)–রাঙ্গাপানি–বাগডোগরা অংশের দৈর্ঘ্য ৩৫.৭৬ কিলোমিটার
    • ● বর্তমান ডাবল লাইনকে চার লাইনে উন্নীত করার পাশাপাশি যোগ হবে দুটি ভূগর্ভস্থ লাইন, অর্থাৎ মোট ছ’টি লাইন (চারটি ওপরে, দুটি নিচে)

    ওপরের কোনও অংশ জটিলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নিরাপত্তাজনিত কারণে বিঘ্নিত হলে সুরক্ষিত বিকল্প রেলপথ কাজে লাগবে। এতে সামরিক রসদ চলাচলও নির্বিঘ্ন থাকবে।

    ৪. হাইওয়ের জাল: এক রুটের ওপর নির্ভরতা কমানো

    • ● প্রস্তাবিত গোরক্ষপুর–শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসওয়ের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) তৈরির কাজ চলছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সংসদে এ কথা জানায় কেন্দ্র
    • ● শিলিগুড়ির সঙ্গে গুয়াহাটি ও শিলং সংযোগকারী বড় হাইওয়ে উদ্যোগেরও ঘোষণা হয়েছে

    একাধিক হাইওয়ে ও সেতু থাকলে সাধারণ ট্রাফিক, লজিস্টিক্স, জরুরি চলাচল ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ ভাগ হয়ে যেতে পারবে।

    ৫. সিকিমমুখী এনএইচ-১০ ও পার্শ্ববর্তী সংযোগ সড়ক

    • ● সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত এনএইচ-১০ উন্নয়নের পরিকল্পনা
    • ● প্রধান হাইওয়েগুলির মধ্যে অতিরিক্ত সংযোগ সড়ক, যাতে সিকিম সেক্টরে যাওয়ার বিকল্প পথ মেলে

    শিলিগুড়ি শুধু উত্তর-পূর্বের প্রবেশদ্বার নয়, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্রও। ভারী যান চলার মতো বিকল্প রাস্তা তাই সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পাঠানোয় বাড়তি নমনীয়তা দেবে।

    ৬. সীমান্ত সড়কে নিরাপত্তার জাল

    • ● ইন্দো-নেপাল বর্ডার রোড কর্মসূচির আওতায় ফতেপুর–গালগালিয়া সড়ক (৭৯.৫ কিলোমিটার)
    • ● ইন্দো-নেপাল সীমান্তে আরও সড়কের প্রস্তাব, যা টহলদারি ও সংযোগ বাড়াবে
    • ● ভুটান সীমান্ত বরাবর সংযোগ উন্নয়নেরও পরিকল্পনা

    দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পৌঁছতে পারবে, সীমান্ত-পারের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে প্রতিক্রিয়াও দ্রুততর হবে।

    ৭. ভারত-ভুটান-চিন ত্রিসংযোগস্থল ঘিরে কৌশলগত সংযোগ

    সিকিম ও ভুটান সীমান্তের সংবেদনশীল পথে দ্রুত পৌঁছনো ও সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত সামরিক স্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে। শিলিগুড়ি করিডর সিকিম-ভুটান-চিন ত্রিসংযোগের কাছেই, আর চুম্বি উপত্যকা ভারত ও ভুটান সীমান্তের নিকটে। তাই শিলিগুড়ির সুরক্ষাকে বিচ্ছিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, সিকিম, ভুটান ও পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ একই সূত্রে বাঁধা।

    কেন এই ‘রেজিলিয়েন্স’ কৌশল?

    এই পরিকল্পনার মূল ভাবনা একটি বিশাল দুর্গ গড়া নয়, বরং এমন ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে কোনও একটি রাস্তা, রেললাইন, সেতু বা সামরিক স্থাপনা দুর্বলতম বিন্দু হয়ে উঠবে না।

    • ● একটি হাইওয়ে বন্ধ হলে অন্য রুট দিয়ে যান চলবে
    • ● ওপরের রেলপথ বিঘ্নিত হলে ভূগর্ভস্থ লাইন বিকল্প হবে
    • ● ভূপৃষ্ঠের সামরিক স্থাপনা হুমকির মুখে পড়লেও ভূগর্ভস্থ কমান্ড, যোগাযোগ ও গোলাবারুদ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাবে

    সব মিলিয়ে বার্তা স্পষ্ট: একাধিক স্তরের সুরক্ষা ও একাধিক পথ থাকলে চোকপয়েন্টকে ‘চোক’ করা অনেক কঠিন।

  • Amit Shah on Chicken’s Neck: ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা! কীভাবে ওই করিডরকে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলছে ভারত, স্পষ্ট করলেন শাহ

    Amit Shah on Chicken’s Neck: ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা! কীভাবে ওই করিডরকে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলছে ভারত, স্পষ্ট করলেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নিরাপত্তায় শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই চিকেনস নেকের (Amit Shah on Chicken’s Neck) নিরাপত্তায় ত্রিকোণ সুরক্ষা গ্রিড বানিয়েছে ভারত সরকার। শুক্রবার শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ৩ দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছেন তিনি। প্রথম দিন রয়েছেন শিলিগুড়িতে। সেখানে দাঁড়িয়েই বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার চিকেনস নেকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অনেক ব্যবস্থা নিচ্ছে, বলে বার্তা দেন শাহ। শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, প্রশাসনিক পরিকাঠামো থেকে দিল্লির সঙ্গে দ্রুত রেল যোগাযোগ, শিলিগুড়িকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি ।

    চিকেনস নেকের সুরক্ষায় ত্রি-কোণ গ্রিড

    দেশের মানচিত্রে উত্তরবঙ্গ একটি সরু ফালি। অথচ কৌশলগত গুরুত্বে গোটা দেশের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সেতু শিলিগুড়ি করিডর, ‘চিকেনস নেক’। শুক্রবার শিলিগুড়িতে এসে সেই করিডরের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিয়েই বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান ৮ রাজ্যকে যোগ করা অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গা এটি। নেপাল, ভূটান এবং বাংলাদেশ সীমান্ত এর সঙ্গে জড়িত। এটা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত। তাঁর ঘোষণা, “শিলিগুড়ি করিডর সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” শাহ জানান, শিলিগুড়ি করিডর ও সমগ্র দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরি করেছে। চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি- এই তিন ঘাঁটি থেকে সমগ্র করিডরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ক্রিকোণীয় সুরক্ষা গ্রিড চিকেন্স নেকের সিকিউরিটির দিক থেকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমেই পুরো এলাকার উপর কন্ট্রোল রাখা সম্ভব হচ্ছে। নিয়মিত ‘তিস্তা প্রহার’ এর মতো সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।

    মমতা-সরকারকে নিশানা

    নিজের বক্তব্যের সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি জানান, আগে একাধিকবার এই ধরনের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আসার জন্য অনুরোধ জানান হয়েছে। পালাবদলের পরে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু এসেছেন জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘শুভেন্দুজি বলছিলেন, এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এসএসবির অনুষ্ঠানে এলেন। কিন্তু আগেও আমন্ত্রণ জানানো হতো। তিনি আসতেন না।’ সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে অমিত শাহ পূর্বতন সরকারের সমালোচনা এবং বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    শুভেন্দু-সরকারের প্রশাংসা

    শাহ মনে করিয়ে দেন, অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া দরকার। কিন্তু সেই কাজটাই এত দিন আটকে ছিল জমি না পাওয়ার জন্য। তৃণমূল নেত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘২০১৪ থেকে ১১২৯ একর জমি চাইছি। তাঁর হাতে-পায়ে ধরে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু জমি দেননি।’ অমিত শাহ সোজাসুজি বলে দিলেন, ‘এখন ফোন করলেই কাজ হয়ে যায়, চিঠি পরে পাঠানো হয়।’ শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রথম দিন থেকেই সীমান্ত সুরক্ষায় জোর দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, ‘চিকেনস নেককে সুরক্ষিত করতে ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। শুভেন্দুজি মুখ্যমন্ত্রী হয়েই সেই অনুমোদন দিয়েছলেন।’

    দিল্লি-শিলিগুড়ি রেল করিডর

    তিনি আরও জানান, শুধু সেনা বা এজেন্সির মাধ্যমে কোনও জায়গার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং তার জন্য় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ খুবই জরুরি। তাই ২০২৬-২৭ বাজেটে দিল্লি-শিলিগুড়ি রেল করিডর তৈরি করার কথা বলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার একাধিক নতুন প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গৌরব মোহন, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর অধিকর্তা মহেশ দীক্ষিত, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ডঃ রাজেন্দ্র কুমার, এসএসবি-র ডিজি সঞ্জয় সিংঘল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অন্যান্য শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা।

    ‘বন্দে মাতরমের’ প্রসঙ্গ

    সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের নিরাপত্তার কথা বলতে গিয়ে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরমের’ প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। অমিত শাহের কথায়, ‘স্বাধীনতার পরেও পুরো বন্দে মাতরম গাওয়া হতো না। আমার দুঃখ হতো। নতুন নিয়মে জাতীয় গানকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।’ এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর কথা আরও ভালো ভাবে জানতে পারবে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন এসএসবি-র জওয়ানদের ভূয়সী প্রশংসা করে শাহ বলেন, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর মণিপুর, জম্মু-কাশ্মীর, ত্রিপুরা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসএসবি জওয়ানরা অসামান্য সেবা দিয়েছেন। কারগিল যুদ্ধের পর ‘ওয়ান বর্ডার, ওয়ান ফোর্স’ নীতি অনুযায়ী ২০০১ সাল থেকে ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-নেপাল সীমান্ত এবং ২০০৪ সাল থেকে ৭০০ কিলোমিটার (প্রকৃতপক্ষে ৬৯৯ কিমি) দীর্ঘ ভারত-ভূটান সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে এসএসবি। কাঁটাতারহীন উন্মুক্ত সীমান্তে বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রীতি বজায় রেখে দিবারাত্রি কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, যা এসএসবি জওয়ানরা নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন।

    বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান

    অমিত শাহের পরে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এসএসবি-র গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁকে আমন্ত্রণ করার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান। অমিত শাহকে চাণক্যর সঙ্গে তুলনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘তিনি চাণক্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে অমিত শাহজি সীমান্ত সুরক্ষিত করেছেন।’ ২০৪৭-এ বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বেশি অবদান থাকবে বলে আশা শুভেন্দুর।

  • Amit Shah in North Bengal: ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে পরপর ২ বৈঠক! উত্তরবঙ্গে অমিত শাহ, নজরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও পাহাড়

    Amit Shah in North Bengal: ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে পরপর ২ বৈঠক! উত্তরবঙ্গে অমিত শাহ, নজরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও পাহাড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ বিমানে শিলিগুড়িতে পৌঁছন তিনি। বাগডোগরা বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, বিশাল লামা এবং দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। উত্তরবঙ্গ সফরে অমিত শাহের কর্মসূচির কেন্দ্রে থাকছে সীমান্ত নিরাপত্তা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ এবং পাহাড়ের একাধিক সমস্যা।

    বিমানবন্দর থেকে অমিত শাহ সুকনার একটি হোটেলে যান। সেখানেই রাতে থাকার পর শুক্রবার সকালে তাঁর সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি-র সুকনা শিবিরে যাবেন। সেখানে ‘চিকেনস নেক’ করিডরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পরপর দু’টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই বৈঠকগুলিতে বিএসএফ-এর শীর্ষ আধিকারিকদেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    নজরে ‘চিকেনস নেক’, বাড়ছে নিরাপত্তার গুরুত্ব

    উত্তরবঙ্গ সফরে অমিত শাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে এসএসবি শিবিরের বৈঠকগুলিকে। ভারতীয় ভূখণ্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি করিডর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র কয়েক দশক কিলোমিটার প্রশস্ত এই করিডরই মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। ফলে এই এলাকার নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক কৌশলগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে কেন্দ্রের বিশেষ নজর রয়েছে। শুক্রবারের বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ করিডরের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। উত্তরবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ‘চিকেনস নেক’-এর কৌশলগত গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কাওয়াখালি ময়দানে বিএনএস প্রদর্শনীর উদ্বোধন

    এসএসবি শিবিরে বৈঠক শেষ করে অমিত শাহের শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে যাওয়ার কথা। সেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা। আগামী ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। সাধারণ মানুষের কাছে নতুন ফৌজদারি আইন সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ভারতীয় দণ্ডবিধি বা আইপিসি-র পরিবর্তে কার্যকর হওয়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় কোন পুরনো ধারার পরিবর্তে কোন নতুন ধারা এসেছে, প্রদর্শনীর মাধ্যমে তা তুলে ধরা হবে। নতুন আইন এবং তার বিভিন্ন পরিবর্তন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    দলীয় বৈঠক, শনিবার পাহাড় নিয়ে পরপর দুই বৈঠক

    শুক্রবারের সরকারি কর্মসূচি শেষ করে ফের সুকনার হোটেলে ফিরে যাওয়ার কথা অমিত শাহের। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। তবে সফরের শেষ দিন শনিবারও ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। সুকনার হোটেলেই পাহাড়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে পরপর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা তাঁর। পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সমস্যা এবং প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে।

    সমস্ত বৈঠক ও কর্মসূচি শেষ করে শনিবারই দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা অমিত শাহের। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডরের নিরাপত্তা, অন্যদিকে পাহাড়ের সমস্যা এবং নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে জনসচেতনতা—সব মিলিয়ে অমিত শাহের উত্তরবঙ্গ সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একইসঙ্গে গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • Amit Shah At WB: সীমান্তে কড়া বার্তা, কলকাতায় মেগা বৈঠক! নিরাপত্তা-উন্নয়ন-বিনিয়োগে বাংলাকে শাহি বার্তা

    Amit Shah At WB: সীমান্তে কড়া বার্তা, কলকাতায় মেগা বৈঠক! নিরাপত্তা-উন্নয়ন-বিনিয়োগে বাংলাকে শাহি বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের কৌশলগত সীমান্ত এলাকা ‘চিকেনস নেক’ পরিদর্শন থেকে কলকাতার প্রশাসনিক বৈঠক, দেশের প্রথম ভারতীয় ভাষা বিষয়ক জাদুঘর ‘শব্দলোকে’র উদ্বোধন থেকে নতুন শিল্প প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর—তিন দিনের বঙ্গ সফরে (Amit Shah At WB) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সমন্বয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিল্প বিনিয়োগ—এই চারটি বিষয়ই তাঁর সফরের মূল বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে।

    কলকাতায় হাইভোল্টেজ প্রশাসনিক বৈঠক

    কলকাতায় পৌঁছনোর পর আলিপুরের ‘সৌজন্য’য় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন শাহ (Amit Shah)। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), সিবিআই, এনআইএ, সিআরপিএফ, বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ, সংগঠিত অপরাধ দমন, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হলে তবেই শিল্প ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিস্থিতি গড়ে উঠবে- এই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    উদ্বোধন ‘শব্দলোকে’র

    বৈঠক শেষে শাহ (Amit Shah) পৌঁছন কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরির বেলভেডিয়ার হাউসে। সেখানেই উদ্বোধন হয় দেশের প্রথম ভারতীয় ভাষা বিষয়ক জাদুঘর ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস’ বা ‘শব্দলোকে’র প্রথম পর্যায়। এই জাদুঘরে ভারতের ২২টি ভাষার বিবর্তন ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। ন’টি গ্যালারিতে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, তাম্রলিপি, মৌখিক ঐতিহ্য, মুদ্রিত বই এবং আধুনিক ডিজিটাল ভাষা প্রযুক্তির ইতিহাস প্রদর্শিত হচ্ছে। ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে জাতীয় গ্রন্থাগার প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৪১ কোটি টাকা।

    নিউটাউনে আমুল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর

    কলকাতার কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে আমূলের নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। এই প্রকল্প চালু হলে দুগ্ধ শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, কৃষক ও পশুপালকদের আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে। কোল্ড-চেন পরিকাঠামো ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিকাশেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে শিল্পমহল। রবিবারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব মনোজ অগারওয়াল-সহ অন্যান্যরা।

    উল্লেখ্য, কলকাতার কর্মসূচির আগে উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ এলাকা পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ রোধ, চোরাচালান বন্ধ এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন শাহ (Amit Shah)। উত্তরবঙ্গ সফরে শিলিগুড়িতে দলীয় সাংসদ, বিধায়ক ও কোর কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে সংগঠন মজবুত করতেও বৈঠক করেছিলেন তিনি।

    সফরের তাৎপর্য

    শাহের (Amit Shah) এই বঙ্গ সফরে নিরাপত্তা, প্রশাসন, সংস্কৃতি ও শিল্প- সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে কড়া নজরদারি থেকে শুরু করে ভাষার ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগের বার্তা- সব মিলিয়ে এই সফরকে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সমন্বিত রূপরেখা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

  • Bangladesh PM: চিন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিস্তা প্রকল্পে নজর ভারতের

    Bangladesh PM: চিন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিস্তা প্রকল্পে নজর ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দিনের সরকারি সফরে চিনে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (Bangladesh PM) বিএনপির তারেক রহমান। সোমবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ (Teesta Project Talks) ফ্লাইট চিনের দালিয়ান ঝৌশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    তারেকের কর্মসূচি (Bangladesh PM)

    এই সফরে তারেক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স (সামার দাভোস ফোরাম ২০২৬)-এ অংশ নেবেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং আয়োজিত নৈশভোজেও যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। সফরের মধ্যেই বেজিংয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ২৪ জুন তিনি বৈঠক করবেন কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। পরে দ্রুতগতির ট্রেনে তিনি যাবেন দালিয়ান থেকে বেজিংয়ে। বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, বাংলাদেশের নয়া সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বহুমাত্রিক বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে সমন্বয় জোরদার করার সুযোগ হিসেবে চিন এই সফরকে দেখছে (Bangladesh PM)।

    ভারতের নজর

    এদিকে, তারেকের এই সফরে তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে কোনও অগ্রগতি বা ঘোষণা করা হয় কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখছে ভারত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ জল উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না (POWERCHINA) তিস্তা যৌথ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (Teesta Comprehensive Management and Restoration Project) মউয়ের মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি করে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হল, তিস্তা নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদী খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন বাঁধ নির্মাণ ও পুরোনো বাঁধ সংস্কার, খনন করা মাটি ব্যবহার করে জমি পুনরুদ্ধার এবং শুখা মরশুমে জল সংরক্ষণের জন্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা (Bangladesh PM)। এই প্রকল্পে চিন যুক্ত হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছে ভারত। কারণ তিস্তা অববাহিকার অবস্থান ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেকে’র কাছেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই এলাকায় চিনের প্রভাব বাড়লে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে নয়া উদ্বেগ তৈরি (Teesta Project Talks) হতে পারে।

    ‘গোল্ডেন ৫০ ইয়ার্স’

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশে চিনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। চিনের দাবি, দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা গভীর হয়েছে এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা উভয় দেশের জনগণের জন্যই ইতিবাচক ফল নিয়ে আসছে। এই সফরে বাংলাদেশ ও চিনের মধ্যে একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং সমঝোতা সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য আর্থিক সাহায্য নিয়ে আলোচনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ঢাকা চিনকে প্রযুক্তি, শিল্প বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অর্থায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশ-চিন সম্পর্কের ‘গোল্ডেন ৫০ ইয়ার্সে’ প্রবেশের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    এদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে ভবিষ্যতে ভারত সফরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। ওই সূত্রের বক্তব্য, কিছু অমীমাংসিত ইস্যু এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বর্তমানে সেই পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হয়নি (Teesta Project Talks)। যদিও বাংলাদেশ মনে করে, ভারত ও চিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোনওভাবেই ‘জিরো-সাম গেম’ নয়, বরং (Bangladesh PM) উভয় দেশের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা।

     

  • Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী শহর সান দিয়োগো এবং তিজুয়ানা এবং লরেডো ও ন্যুভো লরেডোয় ‘স্প্যাংলিশ’ (বা টেক্স-মেক্স স্প্যানিশ) নামে এক মিশ্র ভাষার বিকাশ ঘটেছিল। টেলিভিশন, অভিবাসন ও সীমান্তের দুই পাশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ প্রভাব ফেলেছিল এই ভাষার ওপর। এখন, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এবং কয়েক দশক পরে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও (Indo Bangladesh Border) সীমান্ত-পার প্রভাবের এক আলাদা গল্প দেখা যাচ্ছে। যদিও এটি খানিক আলাদা ধরনের। এখানে প্রতিক্রিয়াশীল প্রভাব কাজ করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, ঘটনাপ্রবাহ অন্যভাবে ঘটেছে।

    অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ইস্যু ছিল অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ। বিজেপির অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে আসা (Indo Bangladesh Border) অনুপ্রবেশকারীরা, যাদের অধিকাংশই মুসলিম, রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে এই সমস্যা উপেক্ষা করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় শুধু সংগঠনের বিস্তার বা মতাদর্শের স্বীকৃতি নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও।” তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গটিও তোলেন। বঙ্গবাসী যখন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক হচ্ছিলেন, তখন সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিও তাঁরা লক্ষ্য করছিলেন। তাঁরা দেখেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে কীভাবে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর হয়েছে এবং ইসলামপন্থীরা ধর্মনিন্দার মিথ্যে অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করেছে নিরীহ মানুষকে।

    জামাতের জয়ের প্রভাব

    ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামি (Jamaat Rise) পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া একাধিক আসনে জয়ী হয়। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অন্তত ১৭টি আসনে জামাতের জয় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত অঞ্চলে বিজেপির পক্ষে ভোট একত্রিত করতে সাহায্য করেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজেপি অন্তত ২৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই আসনগুলি বাংলাদেশের সেই ১৭টি জামাত-জয়ী আসন লাগোয়া। জামাত-ই-ইসলামির নেতা সফিকুর রহমানের দলকে নিষিদ্ধ করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। যদিও মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের অগাস্টে ক্ষমতায় এসেই তুলে নেয় সেই নিষেধাজ্ঞা।

    জামাতের উত্থান

    ছাব্বিশের নির্বাচনে হাসিনার আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ থাকায় বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে জামাত (Jamaat Rise)। বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেলেও, জামাত-নেতৃত্বাধীন ১১টি দলের জোট ৭৭টি কেন্দ্রে জয়ী হয়। জামাতের ইতিহাসে সেরা ফল এটি। এই ৭৭টি আসনের মধ্যে ১৭টি এসেছিল রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, নওগাঁ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলি (Indo Bangladesh Border) থেকে। রংপুর বিভাগে, যা ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা ‘শিলিগুড়ি করিডর’ লাগোয়া, জামাতের ব্যাপক উত্থান দেখা যায়। এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিবাদ 

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার খবর পশ্চিমবঙ্গেও রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিজেপি নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি পেট্রাপোল সীমান্তে গিয়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানান এবং কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনেও বিক্ষোভ দেখান। একই সঙ্গে বিজেপি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের বিষয়েও সোচ্চার হন (Jamaat Rise)। এই বিষয়গুলি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের কাছেও গুরুত্ব পেতে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী (Indo Bangladesh Border) বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের সীমান্তবর্তী একাধিক আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছে ।

    জামাতের আসনগুলির উল্টোদিকে বিজেপির প্রাচীর!

    বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনের উল্টো দিকে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ-সীমান্তবর্তী আসনগুলিতে বিজেপির জয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্যাটার্ন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৬টি আসনে বিজেপির জয় এসেছে মোট নয়টি জেলা থেকে, যেগুলির ঠিক ওপারেই বাংলাদেশে জামাতের জয়ী আসনগুলি অবস্থিত। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলায় কেমন ফল করেছে বিজেপি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিক থেকে শুরু করলে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন (Indo Bangladesh Border) এলাকায় বিজেপি জিতেছে বাগদা (SC), বনগাঁ উত্তর (SC) এবং হিঙ্গলগঞ্জ (SC)-এর মতো আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক বিপরীতে রয়েছে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা-১ থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসন, যেখানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জামাত জয়ী হয়েছিল।

    মালদা-মুর্শিদাবাদ-দিনাজপুর

    এরপর কিছুটা উত্তরে মুসলিম-অধ্যুষিত মালদা জেলায় বিজেপি জিতেছে ইংলিশ বাজার এবং বৈষ্ণবনগর আসন, যেগুলির সীমান্তের ওপারেও রয়েছে জামাত-জয়ী বাংলাদেশি কেন্দ্র। আরও উত্তরে দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপি দখল করেছে কুশমণ্ডি (SC), বালুরঘাট, তপন (ST), গঙ্গারামপুর (SC) এবং হবিবপুর (ST) আসন। এই কেন্দ্রগুলির (Indo Bangladesh Border)  ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং মেহেরপুরের মতো বাংলাদেশি আসন, যেখানে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে জামাত জিতেছিল। উত্তর দিনাজপুর, যা আরেকটি মুসলিম-প্রধান জেলা, সেখানেও বিজেপি জিতেছে করণদিঘি, হেমতাবাদ (SC) এবং হরিপুর আসন। এই কেন্দ্রগুলির ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা এবং যশোরের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনগুলি।

    শিলিগুড়ি করিডর ও ডুয়ার্স

    শিলিগুড়ি করিডরের দিকে এগোলে, বিজেপির শিলিগুড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া (ST) আসনগুলি বাংলাদেশের নীলফামারী-১ আসনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। জলপাইগুড়ি জেলায় বিজেপি জিতেছে ময়নাগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি (SC) আসন, যেগুলিও সরাসরি সীমান্ত লাগোয়া এবং বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) কেন্দ্রগুলির মুখোমুখি। সবশেষে ডুয়ার্স অঞ্চলের কোচবিহার জেলায় বিজেপি দখল করেছে সিতাই (SC), শীতলকুচি (SC) এবং মেখলিগঞ্জ (SC) আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা, যেখানে জামাত ও তাদের মিত্ররা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চারটি আসনে জয় পেয়েছিল।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যা ঘটেছে, তার প্রভাব পড়েছে এপারের ভোটে?

    যদিও হলফ করে বলা যায় না যে বাংলাদেশে জামাতের উত্থান (Jamaat Rise) সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল সাফল্যের একটি কারণ, তবে প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট একটি সমান্তরাল প্রবণতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতি, পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ, সীমান্ত নিরাপত্তা (Indo Bangladesh Border) এবং অনুপ্রবেশের প্রশ্ন—এই সব কিছু মিলেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটারদের আচরণে প্রভাব ফেলেছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এই পরিসংখ্যান দেখিয়েই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা সম্ভবত বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধ করার আশায় বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন, যা তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবে প্রত্যক্ষ করেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির (Indo Bangladesh Border)  নির্বাচনী ফলাফল দুই দেশের জনবিন্যাস থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, পরিচয়-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বয়ানের প্রভাবের ফল হতে পারে। এই সমস্ত উপাদানই পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে যা ঘটতে দেখেছেন বাঙালিরা, তার প্রভাবও তাঁদের ভোটের সিদ্ধান্তে পড়েছে।

  • Chicken’s Neck: মাটির তলা দিয়েই যাবে সেনার রসদ! চিকেন’স নেক রক্ষায় ভূগর্ভস্থ রেলপথ, মাস্টার স্ট্রোক ভারতের

    Chicken’s Neck: মাটির তলা দিয়েই যাবে সেনার রসদ! চিকেন’স নেক রক্ষায় ভূগর্ভস্থ রেলপথ, মাস্টার স্ট্রোক ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের কৌশলগতভাবে সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর অন্যতম ‘চিকেন’স নেক’ (Chicken’s Neck) বা শিলিগুড়ি করিডর। দীর্ঘদিন ধরেই এই সংকীর্ণ ভূখণ্ড ভারতের জন্য এক বড় দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এবার সেই দুর্বলতাকেই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিলিগুড়ি করিডরের প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশে ভূগর্ভস্থ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেলমন্ত্রী জানান, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ রক্ষায় এই করিডরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান রেললাইন চার লাইনে উন্নীত করার পাশাপাশি ২০–২৪ মিটার গভীরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ বসানোর কাজ চলছে। এই ভূগর্ভস্থ রেললাইনটি পশ্চিমবঙ্গের তিন মাইল হাট থেকে রাঙাপানি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

    কেন তিন মাইল হাট–রাঙাপানি?

    ভৌগোলিক কারণেই রাঙাপানি ও তিন মাইল হাট এই দুই স্টেশনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিন মাইল হাট শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে এবং বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি। বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা এখান থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে এই অংশটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ। চিকেন নেকের (Chicken’s Neck) সুরক্ষায় বছর দেড়েক আগেই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ (Underground railway) তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই প্রস্তাব মেনে স্পর্শকাতর এলাকায় সমীক্ষাও করে রেল ও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের যৌথ দল। মাস ছয়েক আগে সেই সমীক্ষা রিপোর্ট জমা হয় কেন্দ্রের কাছে। সেইমতো উত্তর দিনাজপুরের তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ির রাঙাপানি পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ তৈরির কথা ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। সেনা সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ রেলপথ অসম পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হতে পারে। জাতীয় সুরক্ষায় ওই রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই জানিয়েছেন সেনাকর্তারা।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন’স নেক’?

    চিকেন’স নেক হল প্রায় ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড, যা ভারতের মূল অংশকে আটটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে। জাতীয় সড়ক, রেললাইন, জ্বালানি পাইপলাইন এবং সামরিক রসদের প্রধান সরবরাহ পথ এই করিডরের মধ্য দিয়েই যায়। এই করিডরের দক্ষিণে বাংলাদেশ, পশ্চিমে নেপাল এবং উত্তরে চিনের চুম্বি ভ্যালি। চুম্বি ভ্যালিতে চিনের সেনাবাহিনীর কৌশলগত সুবিধা থাকায় সংকটের সময় একাধিক দিক থেকে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। এই করিডরে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই উত্তর-পূর্ব ভারত কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে ভারতের সামরিক অবস্থানেও।

    ভূগর্ভস্থ রেল কেন এত জরুরি?

    রেলপথই দ্রুততম পণ্য ও সেনা পরিবহণের মাধ্যম—একটি মালবাহী ট্রেন প্রায় ৩০০টি ট্রাকের সমান বোঝা বহন করতে পারে। বর্তমানে চিকেন’স নেকের বেশিরভাগ পরিকাঠামোই ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত, যা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিথান জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ রেলপথ হলে আকাশ, আর্টিলারি বা ড্রোন হামলা থেকে তা অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। সংঘর্ষের পরিস্থিতিতেও সেনা, জ্বালানি ও জরুরি সামগ্রীর নিরবচ্ছিন্ন পরিবহণ সম্ভব হবে। তাঁর কথায়, “ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামো শনাক্ত করা কঠিন এবং প্রথম আঘাত সামলানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর।”

    আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

    গত এক দশকে চিন ডোকলাম ও অরুণাচল সীমান্তে ব্যাপক পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কিছু চরমপন্থী মহল থেকে চিকেন’স নেক বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও শোনা গেছে। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের রংপুরের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ—যা শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি—নয়াদিল্লির কৌশলগত মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    ভারতের পাল্টা প্রস্তুতি

    এই পরিস্থিতিতে ভারতও একাধিক পদক্ষেপ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরায় থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিগুলি ফের চালু করা হচ্ছে। বাংলার চোপড়া, বিহারের কিশানগঞ্জ ও অসমের লাচিত বরফুকনে নতুন সেনাঘাঁটি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। গত বছর রেলভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার থেকে ‘অগ্নি প্রাইম’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত, যা রেলপথে ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহণ ও মোতায়েনের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

    শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব স্পষ্ট

    শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব যে দিল্লির কাছে কতটা, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। রেলের অন্দরমহলের খবর, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড করিডর’-এর সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপও করা হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা যায়, তার জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের বিশেষ দল গড়বে রেল। রেলমন্ত্রী স্পষ্টই জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের জন্য টাকার কোনও অভাব হবে না। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল ইতিমধ্যেই ডিপিআর তৈরির কাজ শুরু করেছে। যেহেতু শিলিগুড়ির মাটি পাথুরে নয় এবং এলাকাটি সমতল, তাই এখানে টানেলের জন্য মাটি কাটা অনেক সহজ হবে। রেলের বাস্তুকারদের দাবি, কাজ শুরু হলে খুব দ্রুতই সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শেষ করা যাবে।

    যুদ্ধের সময় সেনার ‘লাইফলাইন’

    এই প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি করিডরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণ শুধুমাত্র একটি পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নয় এর গুরুত্ব ব্যাপক। চিন ও বাংলাদেশের দিক থেকে সম্ভাব্য দ্বিমুখী চাপের মুখে দীর্ঘদিনের কৌশলগত দুর্বলতাকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয়ে রূপান্তর করার দিকেই ভারতের এই উদ্যোগ। এক কথায়, ‘চিকেন’স নেক’কে দুর্বল গলা নয়, এবার শক্ত মেরুদণ্ডে পরিণত করার পথে এগোচ্ছে ভারত। যুদ্ধের সময় সেনার ‘লাইফলাইন’ হতে পারে ওই সুড়ঙ্গপথ। প্রাক্তন সেনাকর্তারা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন আর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কত ট্যাঙ্ক বা সেনা পাঠানো হচ্ছে সব ওপর থেকে দেখে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু মাটির নীচে রেললাইন থাকলে শত্রুর চোখে ধুলো দেওয়া সহজ হবে। সুড়ঙ্গপথে সেনা আর রসদ সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া যাবে। বাগডোগরা বিমানঘাঁটি কাছে থাকলেও খারাপ আবহাওয়ায় আকাশপথ সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। তাই অনেকসময় রেলই হয়ে ওঠে মূল ভরসা।

    চিকেনস নেক ঘিরে নয়া নিরাপত্তা বলয়

    ইতিমধ্যে চিকেনস নেক ঘিরে নয়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নতুন ডিজাইনের বেড়ায় ঢেকেছে ৭৫ শতাংশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। আধুনিক বেড়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শক্তিশালী নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা। সীমান্তে পাতা পড়লেও এখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নজরে আসবে। সেই সঙ্গে আত্মরক্ষার জন্য ঢাল করা হয়েছে এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে সীমান্তে। এছাড়াও ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত চিকেনস নেক রক্ষায় বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে অসমের ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায় তিনটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে।

    চিকেনস নেক মাস্টারস্ট্রোক দিল মোদি সরকারের

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভারতকে দুর্বল করতে শিলিগুড়ি করিডরকেই পাখির চোখ করেছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। তিনটি দেশের সীমান্ত এক জায়গায় মেশায় এই পথে অস্ত্রশস্ত্র, মাদক ও জাল নোট ভারতে পাচার করার ছক কষেছে জঙ্গিরা! পাশাপাশি সীমান্তের ছিদ্রপথে সন্ত্রাসবাদীদের এদেশে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এই চিকেনস নেক টার্গেট পাকিস্তানেরও। এই অঞ্চলকে ভারতের থেকে আলাদা করে দিতে চায় চিনও। ওই কারণে ভারতীয় বিমান বাহিনীর জরুরি অপারেশনাল সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পাঁচটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ অথবা বিমানঘাঁটি চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে নয়াদিল্লি। এবার মাটির তলায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার স্ট্র্যাটেজিক রেল করিডর গড়ার কথা ঘোষণা রেল মন্ত্রকের। বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের ‘শকুনের চোখ’ শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন’স নেক-এর দিকে। বার বার উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রসঙ্গ টেনেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। ভারত তো আর চুপ করে বসে থাকবে না। ইতিমধ্যেই চিকেনস নেক-এ সেনা বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এবার রেলপথেও মাস্টার স্ট্রোক দিল মোদি সরকার। যার নির্যাস, শত্রুরা কোনও ভাবে হামলা করলেও রেল যোগাযোগে সেনার কাছে সহজেই রসদ পৌঁছে যাবে। রেলপথে কোনও প্রভাব পড়বে না।

  • Indian Army: চিন-বাংলাদেশ-পাকিস্তানকে ঠেকাতে ‘চিকেন্স নেক’-এর কাছে ভারতীয় সেনার তিনটি নয়া ঘাঁটি

    Indian Army: চিন-বাংলাদেশ-পাকিস্তানকে ঠেকাতে ‘চিকেন্স নেক’-এর কাছে ভারতীয় সেনার তিনটি নয়া ঘাঁটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ, পাকিস্তান এমনকী চিনকেও মোক্ষম জবাব দিল ভারত (Indian Army)। সীমান্তে নীরবে শক্তি প্রদর্শন করল দিল্লি। যে ‘চিকেন্স নেক’ (Chicken’s Neck)-র দিকে অনেকদিন ধরে কুনজর, সেই অঞ্চলেই ভারতের তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি তৈরি হয়ে গেল। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, অসমের ধুবড়ি এবং বিহারের কিষানগঞ্জ- এই তিনটি জায়গায় নতুন ব্যাটেলিয়ান অফিস বা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হল। সেনার ভাষায় এই ঘাঁটি গুলিকে বলা হয়, “গ্যারিসন” (Garrison)। এক একটি ঘাঁটিতে ৮০০ থেকে ৯০০ জন জওয়ান থাকবেন। এগুলি ইনফেন্ট্রি ব্যাটালিয়ন হিসেবে কাজ করবে।

    চিকেন্স নেক করিডর থেকে ঘাঁটিগুলির দূরত্ব

    সাম্প্রতিককালে বহু ইউটিউবার দাবি করেছেন, বাংলাদেশের ৬০ কিমি এলাকা নাকি ভারত দখল করেছে। যে রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে এই দাবি করা হচ্ছে, সেটি প্রকাশিত হয় গ্লোবাল গভারনেন্স নামক একটি ওয়েবসাইটে। সেখানে বলা হয়, চিকেন্স নেক অঞ্চলে ভারতীয় সেনা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের পরিসর বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু, বাস্তবে চিকেন্স নেক (Chicken’s Neck) বা শিলিগুড়ি করিডর ভারতের অংশ। সেখানে সেনা কোনও এলাকা দখল করেনি। বাংলাদেশের কোনও এলাকাও দখল করেনি সেনা। এই আবহে চিকেন্স নেক অঞ্চলে নতুন তিনটি সেনা ঘাঁটি গড়ল ভারত। উল্লেখ্য, চিকেন্স নেক করিডর থেকে ধুবড়ির দূরত্ব ২২২–২৪০ কিলোমিটার, চোপড়ার দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার, কিষাণগঞ্জের দূরত্ব ১৫২-১৮০ কিলোমিটার। আবার বাংলাদেশ সীমান্ত থেকেও এই ঘাঁটি গুলির গড় দূরত্ব খুব একটা বেশ নয়। ফোর্ট উইলিয়াম সূত্রের খবর, ভারী যুদ্ধাস্ত্র সহ ব্যাটালিয়নকে বাংলাদেশ সীমান্তের ধারে কাছে রাখতেই এই গ্যারিসন তৈরি করা হয়েছে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত ভারতের

    একদিকে চিনের কৌশলী সামরিক বিস্তার, অন্যদিকে বাংলাদেশের ভিতরে আইএসআই-এর কার্যকলাপ বৃদ্ধি- দুই বিষয়ই সবথেকে বেশি ভাবাচ্ছে সামরিক গোয়েন্দাদের। অনুপ্রবেশের পাশাপাশি অন্য বিপদের শঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। আর সেখানেই “চিকেন্স নেক করিডর” (Chicken’s Neck) অংশটি যে ভারত বিরোধী বা শত্রু শক্তিগুলির অন্যতম পাখির চোখ, তা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে সামরিক বিশারদদের কাছে। সামরিক গোয়েন্দাদের কাছেও শিলিগুড়ির ঠিক ওপারে থাকা অর্থাৎ বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে থাকা মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলির শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে একাধিক তথ্য আসছে। সেই কারণে অত্যন্ত নীরবে এবং দৃঢ়ভাবে সীমান্তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে ভারতীয় সেনা। ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই সেখানে থাকা ভারতীয় সেনার কাছে অস্ত্র, সাঁজোয়া গাড়ি পৌঁছেছে। পৌঁছে গিয়েছে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে শুরু করে অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র। এছাড়াও অত্যাধুনিক মোবাইল জ্যামিং সিস্টেমও মোতায়েন করা হচ্ছে এই ঘাঁটিগুলিতে।

    ভারতের সামরিক কৌশল

    আগামী কয়েক মাসে ভারতের (Indian Army) সামরিক অনুশীলন চলার কথা উত্তরপূর্ব জুড়ে। ইতিমধ্যেই, উত্তরপূর্ব ভারত জুড়ে নোটাম জারি করা হল বায়ুসেনা অনুশীলনের জন্য। নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে ৬টি বিভিন্ন তারিখের জন্য। ভারতীয় সেনার এই ‘অতি সক্রিয়তা’ নিয়ে পদ্মপারেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সেখানে ইতিমধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে ভারতীয় সেনা যে কোনও মূহূর্তে সীমান্ত টপকে সে দেশে ঢুকে পড়তে পারে। চোপড়া থেকে শিলিগুড়ি করিডরের (Siliguri Corridor) দূরত্ব মাত্র ৫২ কিলোমিটার। আবার বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে এর দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। এখানে রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর ব্রহ্মাস্ত্র কোর। ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চল কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আরসি তিওয়ারি সম্প্রতি অসমের ধুবড়ি এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া সেনাঘাঁটি পরিদর্শন করেন।

    ভারতে ভীত বাংলাদেশ

    ভারতীয় সেনার (Indian Army) এই তৎপরতায় কিছুটা হলেও ভীত বাংলাদেশ। তারা এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটি লালমনিরহাট সংস্কারে হাত দিয়েছে। এই কাজে তাদের সাহায্য করছে চিন। সূত্রে খবর, লালমনিরহাটে তৈরি হবে হ্যাঙার। থাকবে যুদ্ধবিমান। চিনের থেকে বাংলাদেশ কিনেছে ১০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সিজে-১০। লালমনিরহাটের ছাউনিতে ওই বিমানগুলিকে রাখা হবে। ভারতীয় সেনার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছে, এই তিন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সেনার আচমকা তৎপরতা বৃদ্ধির কারণ চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের মাখামাখি। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা বদলে যাওয়া পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখেছে। বিশেষ করে পাকিস্তান সেনার উচ্চপর্যায়ের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতীয় সেনা আর চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে রাজি হয়নি। ভারতীয় সেনা গোয়েন্দারা খবর পেয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের টার্গেট এখন এই শিলিগুড়ি করিডর (Siliguri Corridor)। তার একার পক্ষে এই এলাকা দখল করা সম্ভব হবে না অনুমান করে তিনি চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তবে সেনাকর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ ভুল করেও যদি চিন আর পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চিকেন্স নেক (Chicken’s Neck) কব্জা করার চেষ্টা করে, তাহলে ভারতীয় সেনা (Indian Army) পাল্টা জবাব দেবে। যমুনা ভবনের বাসিন্দা এবং উত্তরপাড়ার যাবতীয় ছক ভেস্তে দেওয়ার মতো রসদ সীমান্তে মজুত করা আছে।

LinkedIn
Share