Tag: child mental health

  • Loneliness in Children: সন্তানের সামাজিক আচরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব! কী প্রভাব পড়ছে শিশুমনে?

    Loneliness in Children: সন্তানের সামাজিক আচরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব! কী প্রভাব পড়ছে শিশুমনে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একরত্তি ছানা! বাবা-মায়ের সঙ্গ পায়নি। অন্যদের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারে না। সময় মতো খাবার পেলেও, সে ভালো নেই। পুষ্টিকর খাবার শরীরের চাহিদা মেটালেও, মনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। সুস্থ রাখতে তাকে দেওয়া হল একখানা পুতুল! আর তাতেই বাজিমাত! সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে উঠল সেই পুতুল! ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে একরত্তি! মিশতে শেখে। মানিয়ে নিতেও শেখে! জাপানের চিড়িয়াখানার সেই একরত্তি ম্যাকাকের (এক প্রজাতির বাঁদর) একাকিত্ব আর সেরে ওঠার ঘটনায় উত্তাল বিশ্ব। তবে তার এই একাকিত্বের সমস্যা কেবল পশুজগতের সমস্যা নয়। মানব শিশুর জীবনেও একাকিত্বের সমস্যা (Loneliness in Children) প্রবল ভাবে বাড়ছে‌।‌ সামাজিক আচরণে (Social Isolation) যার প্রভাব গভীর ভাবে পড়ছে! এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর আচরণ (Child Mental Health) সংযত ও স্বাভাবিক রাখার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে এই একাকিত্ব!

    শিশুর আচরণে কেন সমস্যা হয়ে উঠছে একাকিত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর আচরণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অধিকাংশ পরিবার ছোটো। বাবা-মা দুজনেই কাজে ব্যস্ত থাকেন। দিনের অধিকাংশ সময় তাদের অফিসেই কাটে। পরিবারের একরত্তির সঙ্গে নির্ভেজাল সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম। অধিকাংশ শহুরে পরিবারে শিশু পরিবারের সদস্যদের বিশেষ কাছে পায় না। যার ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের একাকিত্ব (Loneliness in Children) গ্রাস করে। মনরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাকিত্ব শিশুকে আত্মবিশ্বাসহীন করে তোলে। পরিবারের যথেষ্ট সময় না পেলে শিশু হীনমন্যতায় ভোগে। এর ফলে তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়‌। তাই সে সমাজের অন্যান্যদের সঙ্গেও মিশতে পারে না।

    পরিবারই পৃথিবী, একাকিত্ব শিশুমনে তৈরি করে মানসিক অবসাদ

    একাকিত্ব একধরনের মানসিক অবসাদ তৈরি করে। শিশুর কাছে প্রাথমিক পর্বে, তার পরিবার তার পৃথিবী। পরিবারের কাছে পর্যাপ্ত যত্ন ও সময় না পেলে, তার মধ্যে অবসাদ তৈরি হবে। যার ফলে সে কোনও কাজ সময় মতো করতে চাইবে না। তার মধ্যে অনীহা তৈরি হবে। স্কুল যাওয়া ও পড়াশোনার প্রতিও অনাগ্রহ বাড়বে। এমনকি বন্ধু তৈরি করার ইচ্ছেও থাকবে না। যা একাকিত্বের সমস্যাকে আরও জটিল করবে। শিশুর একাকিত্ব একদিকে তার সামাজিক যোগাযোগ তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করে (Social Isolation)। আবার শিশুকে জেদি করে তোলে। এমন মানসিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যাতে সে কোনোভাবেই অন্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছে হারিয়ে ফেলে। এর ফলে নিজের মতো থাকে। যেকোনও কাজ বললেই একধরনের অনীহা তৈরি হয়‌। জেদ তৈরি হয়।

    সন্তানের একাকিত্ব কাটিয়ে আচরণ ‘স্বাভাবিক’ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের একাকিত্ব কাটাতে এবং সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক রাখতে দিনের অন্তত ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ করতেই হবে। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের সঙ্গে প্রতি দিন অন্তত ২০ মিনিট গল্প করতে হবে। সন্তানের বয়স অনুযায়ী সেই গল্প হবে। পাঁচ থেকে সাত বছরের শিশুর সঙ্গে বসে গল্পের বই পড়া, সারা দিন তার কেমন কাটলো সেই সম্পর্কে গল্প করা জরুরি। আবার বয়ঃসন্ধিকালে থাকা সন্তানের সঙ্গেও তার কেমন সময় কাটছে সে নিয়ে গল্প করা, বা তার পছন্দের গান শোনা, তার পছন্দের যে কোনও বিষয় নিয়ে গল্প করা জরুরি। এতে সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একাকিত্ব গ্রাস করে না। তার মনের অবস্থা (Child Mental Health) সম্পর্কেও অভিভাবক বুঝতে পারে।

    অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মস্তিষ্কে পড়ছে বাড়তি চাপ

    আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সন্তানকে অনেকটা সময় দেওয়া কঠিন। কিন্তু তার বিকল্প কখনই স্ক্রিন টাইম নয়। এমনটাই মত মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। খিটখিটে মেজাজ হচ্ছে। তাই স্ক্রিন টাইম নয়। বরং খেলাধুলা সঙ্গে যাতে সন্তান যুক্ত হয় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের বয়স পাঁচ বছর হলেই যেকোনও ধরনের খেলার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। এতে শারীরিক বিকাশের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়। একাকিত্ব (Loneliness in Children) গ্রাস করে না। মেলামেশার অভ্যাস তৈরি হয়। বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। জেদ, একঘেয়েমি দূর হয়।

    সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে বাবা-মায়ের সজাগ থাকা জরুরি

    শিশুর গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি জরুরি বলেই মত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, একসঙ্গে অনেকে মিলে নাচ, গান বা নাটক করা। কিংবা যে কোনও ধরনের খেলাধুলা করলে শিশুর সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক ও সংযত হয়। নানান জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য (Child Mental Health) ভালো রাখতে বাবা-মায়ের সজাগ থাকা জরুরি। শিশুর সুস্থ মানসিক গঠনের জন্য তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তার কথা শুনতে হবে। তাহলেই অনেক সমস্যা কমবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Anxiety in Children: পরীক্ষার আগে সন্তানের বাড়তি মানসিক চাপ নিয়ে চিন্তিত! ঘরোয়া খাবারেই লুকিয়ে সমাধান

    Anxiety in Children: পরীক্ষার আগে সন্তানের বাড়তি মানসিক চাপ নিয়ে চিন্তিত! ঘরোয়া খাবারেই লুকিয়ে সমাধান

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পড়াশোনার চাপ বাড়ছে। তার সঙ্গে নানান চাপ বাড়তি মানসিক উদ্বেগ তৈরি করছে। অভিভাবকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের পড়াশোনার চাপ তাদের মনের উপরেও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এর ফলে তাদের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ (Anxiety in Children) তৈরি হচ্ছে।

    পরীক্ষার আগে বাড়ছে উদ্বেগ

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিশেষত বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের একাংশ এই মানসিক উদ্বেগের সমস্যায় (Mental Stress Among Children) ভুগছে। যে কোনও পরীক্ষার আগে তাদের মধ্যে এই উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে তারা সহজ বিষয় ও মনে রাখতে পারছে না। স্মৃতিশক্তি ঠিকমতো কাজ করছে না। আবার আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সন্তানের এই মানসিক উদ্বেগ (Anxiety in Children) নিয়ে চিন্তিত বাবা-মায়েরা। তবে, বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত কয়েকটি ঘরোয়া খাবারেই (Homemade Foods) সমাধান পাওয়া যাবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্য (Child Mental Health) ভালো রাখতে, চাপ কমাতে এবং উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এই ঘরোয়া উপাদান বিশেষ উপকারি।

    মানসিক উদ্বেগ (Anxiety in Children) কমাতে কোন ঘরোয়া উপদানে ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    কুমড়োর বীজ!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের একাধিক উপাদান শরীর ও মনের জন্য বিশেষ উপকারি। কুমড়োর বীজ‌ তেমনি একটি উপাদান। তাঁরা জানাচ্ছেন, কুমড়োর বীজে থাকে পটাশিয়াম। এই খনিজ সম্পদ শরীরের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও বিশেষ উপকারি। তাই কুমড়োর বীজ ভালোভাবে শুকনো করে খেলে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। উদ্বেগ কমে। তাছাড়া বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের হরমোন ঘটিত নানান পরিবর্তনের জেরে অনেক সময় মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। কুমড়োর বীজ খেলে মেজাজ শান্ত থাকে।

    বাদাম!

    যেকোনও ধরনের বাদাম মস্তিষ্কের জন্য বিশেষ উপকারি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাঠবাদাম হোক কিংবা কাজুবাদাম, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে যেকোনও বাদাম বিশেষ সাহায্য করে। আবার বাদামে থাকে ভিটামিন ই, উপকারি ফ্যাট। এই দুই উপাদান মস্তিষ্কের স্নায়ুর জন্য বিশেষ ইতিবাচক। তাই বাদাম খেলে একদিকে স্মৃতিশক্তি বাড়ে। আরেকদিকে মানসিক চাপ কমে। ফলে উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাছাড়া বাদাম অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। তাই সন্তানের বাড়তি উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করতে নিয়মিত বাদাম খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    টক দই!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের পাশপাশি মনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও টক দই খুবই জরুরি একটি খাবার। নিয়মিত টক দই খেলে মন ভালো থাকার নিউরোট্রান্সমিটার উৎপাদন বাড়ে। এই খাবারে থাকে ভালো ব্যাকটেরিয়া যা শরীরের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সাহায্য করে। নিয়মিত টক দই খেলে মানসিক উদ্বেগ কম তৈরি হয়। বরং মন শান্ত থাকে।

    কমলালেবু!

    কমলালেবু একটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। তাই এই ফল নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকে। উদ্বেগ কমে।

    আদা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, খাবারের পাশপাশি রান্নার কিছু উপকরণ ও মানসিক উদ্বেগ (Anxiety in Children) কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। তেমনি একটি উপকরণ হলো আদা। তাঁরা জানাচ্ছেন, আদাতে প্রদাহরোধী যৌগ থাকে। এটা মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমাতে বিশেষ সাহায্য করে।

    তবে শুধুমাত্র খাবারেই মানসিক উদ্বেগ পুরোপুরি কমবে না বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মানসিক সুস্থতা অনেকটাই জীবন যাপনের ধরনের উপরে নির্ভর করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরীক্ষার আগে বাড়তি চাপ যাতে তৈরি না হয়, তাই বছরভর একটি সুস্থ জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি। নিয়মিত অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। অতিরিক্ত রাত জেগে না থাকা, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া এবং শারীরিক কসরত করার মতো সুঅভ্যাস গড়ে‌ তোলা জরুরি। এর পাশপাশি, মানসিক চাপ কমাতে (Reduce Mental Stress) নিয়মিত গান শোনা বা ছবি আঁকার মতো সৃজনশীল কাজের দিনের কিছুটা সময় বরাদ্দ করা জরুরি। তাহলে বাড়তি উদ্বেগ (Anxiety in Children) তৈরির আশঙ্কা কমবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share