Tag: children health

  • Cough Syrup Side Effects: শিশুর কাশি সারাতে কফ সিরাপ দিচ্ছেন? বিপদ হতে পারে! বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    Cough Syrup Side Effects: শিশুর কাশি সারাতে কফ সিরাপ দিচ্ছেন? বিপদ হতে পারে! বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঘন ঘন আবহাওয়ায় পরিবর্তন। কখনো একনাগাড়ে বৃষ্টি, আবার কখনো তীব্র রোদ, গরম! আর এই পরিস্থিতিতে সর্দি-কাশির দাপট বাড়ছে। বিশেষত শিশুদের সমস্যা আরও বেশি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষার এই মরশুমে স্কুল পড়ুয়াদের ভোগান্তি বাড়ে। অনেক সময়েই তাদের বৃষ্টিতে‌ ভিজতে হয়, আবার কখনো তীব্র গরমে ঘামে ভিজে যায়। ফলে নানান ভাইরাস ঘটিত রোগের দাপট বাড়ে। কাশি-সর্দিতে নাজেহাল হয়। কিন্তু, সম্প্রতি, কাশির ওষুধে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চার বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো রকম কাশির ওষুধ বা কফ সিরাপ দেওয়া যাবে না। চার বছর বয়সের উপরের শিশুদের কফ সিরাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অবশ্যই জরুরি। তবে অধিকাংশ সময়েই কফ সিরাপ বা কাশির ওষুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    কেন শিশুকে কাশির ওষুধ দেওয়ায় আপত্তি?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট একটি অ্যান্টিহিস্টামিন গোত্রের ওষুধ যা সর্দি, হাঁচি ও নাক দিয়ে জল পড়া বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয়। ফিনাইলেফ্রিন হাইড্রোক্লোরাইড সর্দি কমাতে ও সাইনাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, এই দুই উপাদান মিশিয়ে যে ওষুধ তৈরি হচ্ছে সেটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুদের জন্য মারাত্মক। একাধিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ওষুধ খাওয়ালে শিশুদের তন্দ্রাচ্ছন্নতা, ঘুমের অভ্যাস পাল্টে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই ওষুধ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘসময় ধরে এমন ওষুধ খেতে থাকলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। সিরাপে ডোজ়ের পরিমাণ যা বলা থাকে, তার চেয়ে বেশি খেয়ে ফেললে শিশুর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। নানান শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

    ওষুধের পরিবর্তে কোন ঘরোয়া উপাদানেই ভরসা বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুদের সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে কয়েকটি দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। পাশপাশি কিছু ঘরোয়া উপাদানেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।

    এসি ব্যবহারে বাড়তি নজরদারি!

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে এসির ব্যবহারে রাশ জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, বন্ধ ঘরে এসির ঠাণ্ডা হাওয়া নানান ভাইরাস ঘটিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বৃষ্টিতে ভেজার পরে এসি চালিয়ে থাকলে সর্দি-কাশির ভোগান্তি বাড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। মরশুমের নানান ভাইরাসের দাপট বাড়তে পারে। তাই বর্ষায় এসি চালিয়ে ঘুমোনো একেবারেই উচিত নয়। কিছুটা সময় এসি চালানোর পরে বন্ধ করে দিতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, রাতে এসি চললে অবশ্যই গায়ে চাদর দেওয়া জরুরি। তাহলে সরাসরি কৃত্রিম ঠাণ্ডা হাওয়া লাগবে না।

    লবঙ্গ-এলাচ দেওয়া গরম জল!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাঙালির রান্নাঘরের পরিচিত একাধিক মশলা সর্দি-কাশি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আর এগুলোর খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্ষার মরশুমে শিশুদের সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে লবঙ্গ এবং এলাচ দিয়ে ফোটানো গরম জল এক কাপ দেওয়া যেতে পারে। লবঙ্গ এবং এলাচ একাধিক ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। বিশেষত শ্বাসনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ সাহায্য করে।

    সব্জিতে আদার ব্যবহার বিশেষ উপকারি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই মরশুমে সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে এবং শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে আদা সবচেয়ে উপকারি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, আদায় অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। ফলে, যেকোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।‌ সব্জি বা মাছ, যেকোনো পদ রান্নার সময় উপকরণে আদা বাটা ব্যবহার করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে।

    মধু ও তুলসী পাতার মিশ্রণ!

    কাশি ও সর্দি হলে সকালে কয়েকটি তুলসী পাতা বেঁটে তার সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। বিশেষত কাশি কমাতে বিশেষ সাহায্য করবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে তুলসী পাতা। সর্দি-কাশি নিরাময়ে মধু বিশেষ উপকারি। তাই এই দুই উপাদান একসঙ্গে খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Boiled Egg Benefits: ভ্যাপসা গরমেও সন্তানের পাতে ডিম রাখছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ৫ নিয়ম মানলেই চিন্তা নেই

    Boiled Egg Benefits: ভ্যাপসা গরমেও সন্তানের পাতে ডিম রাখছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ৫ নিয়ম মানলেই চিন্তা নেই

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের জলখাবারের মেনুতে কিংবা রাতে ভাত-রুটির সঙ্গে দিব্যি মানিয়ে যায় ডিম! পরিবারের বড়রা তো বটেই, ছোট্ট খুদে সদস্যের ও ডিম অত্যন্ত প্রিয়। তাই নিয়মিত ডিম খেতে একেবারেই আপত্তি নেই। কিন্তু তীব্র ভ্যাপসা গরমে রোজ ডিম খাওয়া কি উচিত? অনেক মায়ের চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে! নিয়মিত ডিম খেলে হজমের সমস্যা কিংবা পেটের অসুবিধা হবে না তো? এমন প্রশ্ন ও অনেকের! চিকিৎসকেরা অবশ্য জানাচ্ছেন, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। শিশু হোক বা বয়স্ক, গরমে ডিম খাওয়া নিয়ে কয়েকটি দিক খেয়াল রাখলেই, বিপদ কিছুই হবে না।

    সন্তানের পাতে এই গরমেও কি ডিম দেওয়া যেতে পারে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের বয়স সাত মাস হোক বা সাত বছর, তাকে নিয়মিত ডিম দেওয়া যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব ছোটো বয়স থেকেই নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত। এতে শরীরে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। গরমে হজমের সমস্যার ভয়ে অনেকেই মনে করেন ডিম খাওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু এর কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরমে ডিম খেলে আলাদা ভাবে কোনো সমস্যা হবে না। বরং, কীভাবে ডিম খাওয়া হচ্ছে, তার উপরে নির্ভর করছে, শরীর পুষ্টি পাবে নাকি অন্য সমস্যা তৈরি হবে!

    প্রোটিন-ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে ডিম

    তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত জলখাবার হোক কিংবা দুপুরে ভাতের পাতে ডিম দেওয়া যেতে পারে। এই গরমে ডিম সিদ্ধ করে খেলে কোনও অসুবিধা নেই। বরং এই গরমেও শরীর সুস্থ রাখতে এবং শরীরের এনার্জির জোগান বজায় রাখতে নিয়মিত ডিম খাওয়া জরুরি। ডিম নিয়মিত খেলে শরীর ভালো থাকবে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ডিম খেলে শিশুর শরীরে প্রোটিনের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে। শিশুদের পেশির গঠন মজবুত হওয়া জরুরি। নিয়মিত ডিম খেলে পেশির গঠন ভালো হয়। তাছাড়া নিয়মিত ডিম খেলে প্রোটিনের ঘাটতি হয় না। প্রোটিন শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। গরমে অতিরিক্ত ঘামের জেরে অনেকেই সহজে ক্লান্তিবোধ করছেন।‌ ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার খেলে এই ক্লান্তি দূর হবে। সেই পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় ডিম রাখা যেতেই পারে। আবার নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে একাধিক ভিটামিনের চাহিদা সহজেই পূরণ হয়। তাই শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে। যে কোনও রোগের বিরুদ্ধে শরীর লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। গরমে নানান রোগের প্রকোপ বাড়ছে। রোগ থেকে বাঁচতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাই ডিম খাওয়া উচিত। নিয়মিত ডিম খেলে হাড় মজবুত হয়। শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটে। তাই গরমকালেও শিশুদের নিয়মিত ডিম দেওয়া যেতেই পারে। এতে বাড়তি কোনো অসুবিধা নেই।

    কোন দিকে নজর দিলে তবেই গরমে ডিম খেলে অসুবিধা হবে না?

    গরমেও নিয়মিত ডিম খেলে বাড়তি অসুবিধা হবে না। তবে কয়েকটি দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিম প্রাণীজ প্রোটিন। তাই ডিম হজম হতে সময় লাগে। শিশুদের দিনে একাধিক ডিম দেওয়া উচিত নয়। অনেক সময়েই তাদের অতিরিক্ত প্রোটিন হজম করতে অসুবিধা হয়। তাই পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। শিশুকে দিনে একটা ডিম দেওয়াই যথেষ্ট। গরমে হজমের সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। তাই শিশু ডিম বা অন্যান্য প্রাণীজ প্রোটিন খেলে অসুবিধা নেই। তবে হজমের গোলমাল এড়াতে শিশু পর্যাপ্ত জল খাচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, ডিমের মতো উপকারি প্রাণীজ প্রোটিন শিশুকে সকালে জলখাবারের সঙ্গে দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের প্রথম খাবার পুষ্টিসমৃদ্ধ হলে, তা শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারি হয়। তাছাড়া দিনভর শিশুর নানান শারীরিক কার্যকলাপ থাকে। ফলে হজম করতে সুবিধা হয়। আবার শরীরের প্রয়োজনীয় এনার্জিও জোগান দেয় ডিম। তাই তাঁদের পরামর্শ প্রাতঃরাশেই পাতে থাকুক ডিম।

    সিদ্ধ ডিমে সবচেয়ে বেশি উপকার

    তবে দুপুরে বা রাতের মেনুতেও ডিম রাখা যেতে পারে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, দুপুর বা রাতের মেনুতে ডিম থাকলে, তার সঙ্গে পর্যাপ্ত সব্জি থাকা জরুরি। ডিম সিদ্ধের সঙ্গে গাজর, ব্রোকলি, বিনস কিংবা আলুর মতো সব্জি সিদ্ধ করে সামান্য পরিমাণ বাটারে নেড়ে শিশুকে দেওয়া যেতে পারে। এতে প্রাণীজ প্রোটিন সহজে হজম হবে। ভিটামিন ও প্রোটিনের ঠিকমতো ব্যালেন্স হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, শিশুদের ডিম সিদ্ধ দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন হজমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণীজ প্রোটিন অতিরিক্ত তেল ও মশলা দিয়ে রান্না করা হয়। তাই মাছ ও মাংস খেলেও অনেকে হজমের সমস্যায় ভোগেন। ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেলে তার সম্পূর্ণ প্রোটিন শরীর পায়‌। আবার সিদ্ধ ডিমে অতিরিক্ত তেল-মশলার সমস্যাও একদম থাকে না। ফলে শরীর সম্পূর্ণ পুষ্টি পাচ্ছে। ডিমের অমলেট হোক বা পোচ, অনেক সময়েই সেটা শিশুর পক্ষে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই গরমে শিশুকে নিয়মিত একটা সিদ্ধ ডিম দিলে শরীর ভালো থাকবে। উপকার পাওয়া যাবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Children Foods: দুধ থেকে সন্ধ্যার খাবার, সব শিশু খাদ্যেই মিষ্টির পরিমাণ বেশি! কতটা ক্ষতিকারক?

    Children Foods: দুধ থেকে সন্ধ্যার খাবার, সব শিশু খাদ্যেই মিষ্টির পরিমাণ বেশি! কতটা ক্ষতিকারক?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের দুধের গ্লাস কিংবা সন্ধ্যার জলখাবারের পদ, বাড়ির একরত্তির জন্য তৈরি করা, যেকোনও খাবারেই মিষ্টির পরিমাণ যথেষ্ট বেশি থাকে (Children Foods)। যা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয় বলেই জানাচ্ছেন‌ বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় শিশুরা ছোটো থেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে শর্করা (High Sugar Content) জাতীয় খাবার গ্রহণ করে। এর ফলে পরবর্তী কালে তাদের নানান রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    কী বলছে সমীক্ষার তথ্য?

    সম্প্রতি, এক আর্ন্তজাতিক সংস্থার সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ভারতীয় শিশুরা নিয়মিত প্রয়োজনের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি শর্করা জাতীয় উপাদান গ্রহণ করে। অধিকাংশ শিশু খাদ্যে (Children Foods) প্রয়োজনের অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় উপাদান থাকছে। যার শরীরে গভীর প্রভাব পড়ছে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় শিশুদের স্থুলতা এবং ডায়বেটিসের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে। অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার জেরেই এই ধরনের রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলেও মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবার কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কম বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়বেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ছে (Children Health Risks)। স্কুল স্তর পেরনোর আগেই শিশুরা ডায়বেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলে শিশুদের স্বাভাবিক জীবন‌ যাপন‌ এবং পড়াশোনা ব্যহত হচ্ছে। ছোটো থেকে ডায়বেটিস আক্রান্ত হলে, দীর্ঘকাল রোগের প্রকোপ শরীরে আরও গভীর ভাবে পড়ছে। কিডনি এবং স্নায়ুর জটিল সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই শিশুদের ডায়বেটিস বাড়তি উদ্বেগজনক বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবারের (Children Foods) জেরেই আরো বেশি এই ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    স্থূলতা ভারতীয় শিশুদের অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সমীক্ষা।‌ স্কুল স্তর থেকেই অধিকাংশ ভারতীয় শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভোগে। দেহে অতিরিক্ত মেদের জেরে শিশুদের স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। এমনকি বয়ঃসন্ধিকালে নানান হরমোন ঘটিত সমস্যাও দেখা দিতে থাকে। অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবার (High Sugar Content) খাওয়ার জেরেই স্থুলতার সমস্যা বাড়ছে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। শিশুর শরীরের বিকাশের জন্য শর্করার পাশপাশি কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের সমান প্রয়োজন (Children Foods)। বিশেষত শিশুদের শরীরের বাড়তির এনার্জির জোগান দিতে এবং হাড়, পেশি মজবুত করতে প্রোটিন, ভিটামিনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সবরকম উপাদানের জোগান ঠিকমতো না হলেই সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানাচ্ছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর খাবারে বাড়তি চিনির ব্যবহার একেবারেই চলবে না।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের মিষ্টি কিংবা চকলেট জাতীয় খাবার প্রায় খাওয়া হয়। তাই নিয়মিত খাবারে বাড়তি মিষ্টি দেওয়া উচিত নয় (Children Foods)। প্রথম থেকেই দুধ বা অন্য যেকোনও খাবারে বাড়তি মিষ্টি দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা উচিত নয়। প্যাকেটজাত হেলথ ড্রিঙ্কস কিংবা খাবারের পরিবর্তে বাড়িতে তৈরি খিচুড়ি, ডাল, সব্জি জাতীয় খাবার নিয়মিত মেনুতে রাখার চেষ্টা করা উচিত। তাতে শরীরে ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন সরাবরাহ ঠিকমতো হয়। আবার বাড়তি শর্করা যাওয়ার ঝুঁকিও কমে। চিনি খাওয়ার অভ্যাস (High Sugar Content) বর্জন করতে পারলে শিশুর একাধিক রোগের ঝুঁকি (Children Health Risks) সহজেই কমানো‌ যাবে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    তবে মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি জাতীয় খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রেও রাশ টানা জরুরি। নিয়মিত চকলেট, আইসক্রিম, লাড্ডু কিংবা কেক জাতীয় খাবার যাতে শিশু না খায়, সেদিকে নজরদারি জরুরি (Children Foods)। কারণ এই ধরনের খাবারে পুষ্টিগুণ বিশেষ নেই। বরং এগুলো শরীরে বাড়তি ওজন তৈরি করে। যা পরবর্তীতে নানান রোগের কারণ হয়ে ওঠে। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share