Tag: Christopher Luxon

  • PM Modi in New Zealand: ‘ভারত শুধু বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড’ নিউজিল্যান্ডে শিল্পমহলের সামনে বার্তা মোদির

    PM Modi in New Zealand: ‘ভারত শুধু বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড’ নিউজিল্যান্ডে শিল্পমহলের সামনে বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এখন শুধু একটি বড় বাজার নয়, বরং বিশ্বের প্রবৃদ্ধির অন্যতম ‘লঞ্চপ্যাড’। নিউজিল্যান্ড সফরে সে দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী মহলের সামনে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in New Zealand)। একই সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ডের সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পরিষেবা এবং দক্ষ জনশক্তির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন মোদি। দুই দিনের নিউজিল্যান্ড সফরের অংশ হিসেবে ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড বিজনেস অ্যান্ড স্পোর্টস এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র নয় মাসের রেকর্ড সময়ে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, বলেও বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।

    ভারতের উন্নয়ন-যাত্রার অংশীদার

    প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তিনি বলেন, “এটি শুধু বিনিয়োগ নয়, ভারতের উন্নয়নের যাত্রার অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার। ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, “বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারতের ভিত্তি এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ব্যাপক পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারত অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সংস্কার, কর্মদক্ষতা এবং রূপান্তর— এই তিন স্তম্ভের উপরই আমাদের শাসনব্যবস্থা দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারতে রয়েছে নীতিগত স্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। তাই বিশ্বের উদ্দেশে আমাদের বার্তা স্পষ্ট— ভারত শুধু একটি বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড।”

    ভারতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ

    দেশে বিনিয়োগের নতুন সুযোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি জানান, স্মার্ট সিটিজ মিশনের অধীনে দেশের ১০০টি শহরে ৮,০০০-রও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নগর পরিবহণ, জল ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সংস্থাগুলিকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও ভারতে ক্যাম্পাস স্থাপনের আমন্ত্রণ জানান। নিউজিল্যান্ডের মাওরি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের প্রাচীন সভ্যতার মূল্যবোধ এবং মাওরি সংস্কৃতির মধ্যে প্রকৃতি, সমাজ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি একই ধরনের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে মাওরি ব্যবসায়ীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ

    পরে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন আয়োজিত এক নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, গত বছর লাক্সনের ভারত সফরের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করছেন। মোদির কথায়, “আমার পূর্বসূরিরা অনেক ভালো কাজ অসম্পূর্ণ রেখে গিয়েছিলেন। সেই কাজগুলিই আমি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছি।” এদিন দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করে এবং ‘ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ: রোডম্যাপ টু ২০৩০’ গ্রহণ করে। এই রোডম্যাপে বাণিজ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ৭ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার ব্যাপারেও উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

    লাক্সন-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ১০টি সমঝোতা স্মারক

    লাক্সন-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ১০টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সাক্ষর হয়েছে। প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, কৃষি, ক্রীড়া, শিক্ষা ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী ও নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিকস সহায়তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, হাইড্রোগ্রাফি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলা, পশুপালন ও দুগ্ধ শিল্প, পর্যটন, ক্রীড়া, সামুদ্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কেও একাধিক সমঝোতা হয়েছে। এছাড়াও মেরিটাইম সিকিউরিটি ডায়ালগ চালু করা, ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভ (IPOI)-এর সামুদ্রিক নিরাপত্তা অংশে নিউজিল্যান্ডের যোগদান, গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্সে সদস্যপদ গ্রহণ, নাগাল্যান্ড ও উত্তরাখণ্ডে কিউইফ্রুট সেন্টার অফ এক্সেলেন্স স্থাপন, অ্যান্টার্কটিকা গবেষণা এবং খাদ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করা হয়েছে।

  • Modi New Zealand Visit: ৪০ বছর পর ইতিহাস! নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করল ভারত, মোদির সফরে মিলল ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল

    Modi New Zealand Visit: ৪০ বছর পর ইতিহাস! নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করল ভারত, মোদির সফরে মিলল ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের (Christopher Luxon) সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ঘোষণা করলেন, ভারত ও নিউজিল্যান্ড তাদের সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, কৃষি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    বৈঠকের পর এক্স (আগের টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, অকল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তিনি বলেন, ‘গত বছর প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের ভারত সফর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিয়েছিল। আর চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফর হিসেবে আমার এই সফর ভারত-নিউজিল্যান্ড বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করল। আমরা সম্পর্ককে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট লক্ষ্য ও বাস্তব ফলাফলকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যাব।’

    ২০৩০-এর মধ্যে ৩৫,০০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা

    দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৭০০ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ৩৫,০০০ কোটি) করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। পাশাপাশি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত কার্যকর করতে যৌথভাবে উদ্যোগ নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই বৈঠকে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল সামনে এসেছে, যার মধ্যে ১০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে আগামী চার বছরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বিস্তারের একটি রোডম্যাপ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদারের একটি কাঠামো এবং ভারতীয় নৌবাহিনী ও নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা চুক্তি।

    বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষায় জোর

    প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি। পাশাপাশি কৃষি, দুগ্ধশিল্প এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে যৌথ সহযোগিতার একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থায় সহযোগিতার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আমাদের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যে গভীর কৌশলগত আস্থার প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’

    শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে আরও সহযোগিতা

    মোদির মতে, ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ। সেই কারণেই শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সৃজনশীল শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ভিত্তি মানুষে-মানুষে যোগাযোগ। সেই ভাবনা থেকেই শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।’

    একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, ক্রীড়া এবং পশুপালন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বিনিময় করেন। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে আলোচনা

    পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁরা অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে পুনঃস্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন দুই নেতা। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের উপর যে কোনও ধরনের বাধার বিরোধিতা করেছেন তাঁরা।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণে জোর

    এছাড়া, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপুঞ্জে (ইউএন) সাহসী ও কার্যকর সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করে নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণের প্রতিও নিজেদের সমর্থন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও ক্রিস্টোফার লাক্সন।

    নতুন গতি পাবে ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক

    কূটনৈতিক মহলের মতে, চার দশক পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দুই দেশই এখন অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো, কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এই সফরের মাধ্যমে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের সহযোগিতাও নতুন মাত্রা পাবে।

  • PM Modi in New Zealand: চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা মোদির

    PM Modi in New Zealand: চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৪০ বছর পর নিউজিল্যান্ডে পা পড়ল ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi in New Zealand)। শুক্রবার অকল্যান্ডে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও। ১৯৮৬ সালের পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করেননি। এই দীর্ঘ বিরতির পর মোদির সফর দুই দেশের মধ্যে পুরনো বন্ধুত্বকে নতুন করে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে সফরের শুরু হয়। দুই নেতা হাত মিলিয়ে কথা বলেন এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    ‘ঐতিহাসিক’ সফর আখ্যা মোদির

    অকল্যান্ডে পা রাখার পরেই নিজের নিউজিল্যান্ড সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ দেন। তিনি লেখেন, “কিছুক্ষণ আগেই অকল্যান্ডে পৌঁছলাম। বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী লাক্সনকে ধন্যবাদ। এই সফর ঐতিহাসিক, কারণ চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডে এলেন।” নিজের পোস্টের সঙ্গে সফরের কিছু ছবিও শেয়ার করেন মোদি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অকল্যান্ডে কমিউনিটি ভাষণ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ড বন্ধুত্বের সব দিক নিয়ে আলোচনার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। আগামী কাল অকল্যান্ডে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানেও ভাষণ দেব।” শুক্রবার অকল্যান্ডে বিমান থেকে নামার পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। দুই নেতা একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গন করেন। লাক্সনের আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। দীর্ঘ ৪০ বছর পর এটিই নিউজিল্যান্ডে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির কর্মসূচি

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অকল্যান্ডে দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসবেন। গত দু’বছরে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি, বিশেষ করে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কতটা উন্নতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে দেখবেন তাঁরা। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, অকল্যান্ডে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদি সেখানকার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও কথা বলবেন। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মজবুত সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে তিনি প্রবাসী ভারতীয়দের এক বড় সমাবেশে ভাষণও দেবেন। এই বছরের এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) সই হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ক্রিস্টোফার লাক্সন যখন ভারত সফরে এসেছিলেন, তখন দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নয়াদিল্লিতে বৈঠক হয়েছিল।

    ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট

    সফরের সবচেয়ে বড় খবর হল ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (FTA) নিয়ে অগ্রগতি। দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ায় উভয় দেশই উচ্ছ্বসিত। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে দুই দেশের বাণিজ্য অনেক বেড়ে যাবে। বিশেষ করে কৃষি পণ্য, দুগ্ধজাত দ্রব্য, আইটি সেবা, শিক্ষা এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস লাক্সন বলেন, “ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর আমাদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এফটিএ চুক্তি দুই দেশের অর্থনীতির জন্য গেম চেঞ্জার হবে।” অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক নয়, সাংস্কৃতিক ও মানুষের মধ্যে সংযোগও গভীর। এই সফর সেই বন্ধনকে আরও মজবুত করবে।” দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে কয়েক বিলিয়ন ডলারের। ভারত নিউজিল্যান্ড থেকে দুধ, মাংস, ফলমূল এবং ওয়াইন আমদানি করে, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ভারত থেকে ওষুধ, আইটি সেবা, টেক্সটাইল এবং মেশিনারি পায়। চুক্তির ফলে শুল্ক হ্রাস পাবে, যা উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক হবে। সফরের এজেন্ডায় শুধু বাণিজ্য নয়, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি সহযোগিতাও রয়েছে।

    বিনা শুল্কে বাণিজ্য

    ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ভারত–নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তি (India New Zealand Trade Deal) কার্যকর হলে প্রথম দিন থেকেই নিউজিল্যান্ডের ভারতের উদ্দেশে রফতানির ৫৭ শতাংশ পণ্যের ওপর কোনও শুল্ক (ট্যারিফ) থাকবে না। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত–নিউজিল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।

    ইন্দো-প্যাসিফিক সফরের শেষ পর্ব

    নিউজিল্যান্ড সফরটি প্রধানমন্ত্রী মোদির তিন দেশব্যাপী ইন্দো-প্যাসিফিক সফরের শেষ পর্যায়। এর আগে তিনি ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন), উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলার লক্ষ্যকেও এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মোদির নিউজিল্যান্ড সফর এবং সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

     

     

     

     

  • PM Modi: ছ’দিনে তিন দেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু, আর কোথায় যাবেন?

    PM Modi: ছ’দিনে তিন দেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু, আর কোথায় যাবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) আগামী ৬ থেকে ১১ জুলাই—ছ’দিনের সফরে (Six Day Tour) যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। এই সফরকে ভারতের পূর্বমুখী নীতির অংশ হিসেবে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু সফর (PM Modi)

    সফরের প্রথম গন্তব্য ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। ৬ থেকে ৮ জুলাই সেখানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল সংযোগ-সহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। এর পাশাপাশি ব্রহ্মোস অতিধ্বনিত গতির ক্ষেপণাস্ত্র রফতানি এবং সাবমেরিন প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে একাধিক সূত্রের খবর। ২০১৮ সালে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার পর এটি মোদির (PM Modi) প্রথম ইন্দোনেশিয়া সফর। একই সঙ্গে এটি ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর চতুর্থ সফর। সফরকালে তিনি জাকার্তায় অবস্থিত ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রামবানান মন্দির দর্শন করবেন। প্রবাসী ভারতীয়দের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারত দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ

    ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী যাবেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। ২০২২ সালের পর দুই নেতার এটি হবে ষষ্ঠ বৈঠক। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত বিশের জোট শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি (Six Day Tour) হবে মোদির তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া সফর। এর আগে তিনি ২০১৪ ও ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। ২০২০ সালে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে ভারতকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

    আপ্লুত অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    মোদির সফরের কথা ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “আমার বন্ধু নরেন্দ্র মোদিকে অস্ট্রেলিয়ায় স্বাগত জানাতে পেরে আমি সম্মানিত।” তিনি এও বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক এখন আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশীদারিত্ব ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।” দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে (Six Day Tour)। পাশাপাশি ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রধান নির্বাহীদের ফোরামের যৌথ অধিবেশনে অংশ নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি

    অস্ট্রেলিয়া সফরকালে তিনি দেশটির গভর্নর-জেনারেল স্যাম মোস্টিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া প্রবাসী ভারতীয়দের এক বড় সমাবেশেও ভাষণ দেবেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মতে, প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায় দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় প্রচুর ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। ৯ জুলাই মেলবোর্নের মার্ভেল স্টেডিয়ামে “মেলবোর্ন মিটস মোদি” নামে একটি বড় কমিউনিটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে (PM Modi)। সফরের শেষ ধাপে ১০ থেকে ১১ জুলাই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সফর করবেন নরেন্দ্র মোদি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই রাষ্ট্রীয় সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। প্রায় চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে রাজীব গান্ধী পা রেখেছিলেন এই দ্বীপরাষ্ট্রে।

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    অকল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হবে। ভারতের শীর্ষকর্তাদের মতে, এই তিন দেশের সফর পূর্ব ভারত মহাসাগর এবং বৃহত্তর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন। সাম্প্রতিক সময়ে দ্বীপরাষ্ট্রগুলি এবং জাপানের সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার পর এই সফরকে সেই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানকে নিয়ে গঠিত (Six Day Tour) চার দেশের নিরাপত্তাভিত্তিক জোটও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসবে বলেই (PM Modi) অনুমান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

     

LinkedIn
Share