Tag: Cockroach Janata Party

  • Abhijit Dipke: সিজেপিতে অন্তর্কলহ! অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্ব নিয়ে ‘ককরোচ’দের মধ্যে বাড়ছে বিক্ষোভ!

    Abhijit Dipke: সিজেপিতে অন্তর্কলহ! অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্ব নিয়ে ‘ককরোচ’দের মধ্যে বাড়ছে বিক্ষোভ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হল ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের (Abhijit Dipke) নেতৃত্ব ও দলের কার্যপদ্ধতির বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসা দুই যুবক। সোমবার, ১০ অগাস্ট শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানালে পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। অসুস্থ হয়ে পড়া দুই আন্দোলনকারী হলেন মণীশ ব্রহ্মভট্ট ও রাহুল পাণ্ড্য। দু’জনেই আহমেদাবাদের বাসিন্দা এবং ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য। গত ৬ অগাস্ট থেকে তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের দফতর চত্বরে অনশন শুরু করেছিলেন। দলের নেতৃত্ব এবং মূল কমিটি গঠনের পদ্ধতি নিয়েও তাঁরা আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    দলের মূল কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভ (Abhijit Dipke)

    মণীশ ও রাহুলের অভিযোগ, অভিজিৎ নিজের ইচ্ছামতো দলের মূল কমিটি গঠন করেছেন। তাঁদের দাবি, এই সংগঠন কোনও এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি একটি বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই বিভিন্ন রাজ্য থেকে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, দীপকের গঠিত মূল কমিটিতে প্রতিটি রাজ্য থেকে পাঁচজন করে সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, দলের নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও, তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এরপরই ৬ অগাস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। প্রথমে অভিজিতের বাসভবনের কাছে বসেই তাঁরা অনশন শুরু করেছিলেন। পুলিশ তাঁদের জানায়, তাঁর বাসভবনের কাছে অনশন চালিয়ে যাওয়া যাবে না। পরে পুলিশ আধিকারিকদের পরামর্শে তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের দফতর চত্বরে গিয়ে অনশন শুরু করেন।

    চতুর্থ দিনেই শারীরিক অবস্থার অবনতি

    সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ চিকিৎসাকর্মীরা দুই আন্দোলনকারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে তাঁরা পুলিশকে জানান, দু’জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজন। এরপর পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যায় (CJP)। দুই মূল অনশনকারী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় অনশন আদৌ বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও আন্দোলন থামেনি বলেই খবর। অনশন চালিয়ে যেতে শৃঙ্খল অনশনের পথ নেওয়া হয়েছে আন্দোলনকারীদের তরফে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই যুবকের পরিবর্তে আরও তিন যুবক শৃঙ্খল অনশনে যোগ দিয়েছেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের আয়ান খান, জলনার ফারুক খান এবং আহমেদাবাদের সুনীল দেশাই। ফলে মূল দুই অনশনকারী হাসপাতালে ভর্তি হলেও অভিজিতের নেতৃত্ব এবং ককরোচ জনতা পার্টির মূল কমিটি গঠন নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

    এবার দীপকের বিরুদ্ধে পুলিশকর্মীদের সংগঠনের বিক্ষোভ

    এমন আবহেই অভিজিতের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সরব হয়েছে পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের জেলাশাসকের দফতরের বাইরে সংগঠনের সদস্যরা মৌন বিক্ষোভ দেখান (Abhijit Dipke)।সংগঠনের দাবি, অভিজিৎকে দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। গত ৭ আগস্ট নিজের বাসভবনের বাইরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিজিৎ অভিযোগ তোলেন। তার পরেই সূত্রপাত হয় এই বিরোধের।

    কী নিয়ে পুলিশের সঙ্গে অভিজিতের বিরোধ?

    অভিজিতের অভিযোগ ছিল, তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসা লোকজনের সঙ্গে তাঁর বাসভবনের বাইরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা দুর্ব্যবহার করেন। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিজিৎ বলেছিলেন, কার সঙ্গে তিনি দেখা করবেন তা ঠিক করার জন্য পুলিশের প্রয়োজন নেই। তিনি এক পুলিশ আধিকারিককে সেখান থেকে চলে যেতে বলেছিলেন বলেও অভিযোগ। অজিজিতের এহেন মন্তব্যের পরেই পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশন প্রতিবাদে নামে। সংগঠনের অভিযোগ, তিনি পুলিশ- প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর আচরণকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে সংগঠনটি পুলিশকর্মী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ তুলেছে (CJP)।

    পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের দাবি

    পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, অভিজিতকে দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। সংগঠনের বক্তব্য, নাগরিকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোনও পুলিশকর্মীকে প্রকাশ্যে অপমান করা শুধু একজন আধিকারিককে অপমান করা নয়, এটি গোটা পুলিশবাহিনী এবং আইনের শাসনের প্রতি অসম্মান (Abhijit Dipke)। জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর আপাতত বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেয় সংগঠনটি। তবে অভিজিতের “দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে”র বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    গোটা পুলিশবাহিনীর প্রতি অপমান”

    পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, প্রশাসনের কাছে আগে দেওয়া স্মারকলিপির ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় মৌন বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের বহু পদাধিকারী ও কর্মী এতে অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য, এই বিক্ষোভ পুলিশকর্মী এবং তাঁদের পরিবারের মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষার দাবিতে করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, অভিজিতের পুলিশি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপও করতে হবে (CJP)। এই আন্দোলনের ফলে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে অভিজিতকে ঘিরে এখন দু’টি পৃথক বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। একদিকে দলের কার্যপদ্ধতি ও মূল কমিটি গঠন নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যদের আন্দোলন, অন্যদিকে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদ—দুই ক্ষেত্রেই চাপের মুখে পড়েছেন ‘আরশোলা পার্টি’ সুপ্রিমো স্বয়ং (Abhijit Dipke)।

     

  • CJP Protest: ‘আরশোলা’-দের বিক্ষোভের পর কড়া পদক্ষেপের প্রস্তুতি! দিল্লি পুলিশের নজরে তিন সংস্থা থেকে বহু নেটপ্রভাবী, ইউটিউবার

    CJP Protest: ‘আরশোলা’-দের বিক্ষোভের পর কড়া পদক্ষেপের প্রস্তুতি! দিল্লি পুলিশের নজরে তিন সংস্থা থেকে বহু নেটপ্রভাবী, ইউটিউবার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের কয়েক দিন পরেই একাধিক নেটপ্রভাবী ও ইউটিউবারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের রেডারে রয়েছে তিনটি (CJP Protest) বেসরকারি সংস্থাও। ডিজিটাল বিপণন, সোশাল মিডিয়া পরিচালনা এবং কনটেন্ট প্রমোশনের সঙ্গে যুক্ত ওই তিন সংস্থার নথিপত্র খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা।

    পুলিশের নজরে একাধিক সোশাল মিডিয়ার হিসেব (CJP Protest)

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির নজরে রয়েছে এমন (Delhi Police) একাধিক সোশাল মিডিয়ার হিসেব, যেগুলি থেকে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও প্ররোচনামূলক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন পোস্ট, ভিডিয়ো এবং সরাসরি সম্প্রচার খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিক্ষোভের সময় হিংসা ছড়ানো এবং গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তুর ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট সোশাল মিডিয়ার হিসেবগুলির ভূমিকা পর্যালোচনা করার পর আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর আগে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে প্রায় ১৮০টি সোশাল মিডিয়ার হিসেবকে তদন্তের আওতায় এনেছিল দিল্লি পুলিশ।

    বিক্ষোভকারীদের নিয়ে দিল্লি সরকারের বক্তব্য

    যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালীন নথিভুক্ত এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ জানিয়েছিলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে অথবা যাঁরা বিক্ষোভের সময় হিংসা ও ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না। দিল্লি সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরও একটি বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সিজেপির নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও বিরূপ আইনি পদক্ষেপ করবে না। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি অপরাধের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না। ২৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশের উল্লেখ করে এই অবস্থান জানানো হয় (CJP Protest)। আশিস সুদ আরও বলেন, “ভারত সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে নিজেদের মতের বিরোধিতা বা অসন্তোষ প্রকাশকারী ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।” তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং যাঁরা হিংসা বা ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না বলেও জানান তিনি।

    বিক্ষোভ ঘিরে ১৩টি এফআইআর

    নির্দোষ ছাত্রদের আশ্বস্ত করতেই দিল্লি সরকারের ওই বিবৃতি বলে জানান সুদ। তাঁর বক্তব্য, নির্দোষ ছাত্রদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই (Delhi Police), এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করা হবে না। এর আগে ২০ জুলাই সিজেপির ‘চলো সংসদ’ মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনায় দিল্লি পুলিশ ১৩টি এফআইআর নথিভুক্ত করেছিল। একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, ওই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া প্রায় ২,৮০০ জনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক ইতিহাস থাকার তথ্য চিহ্নিত করা হয়েছে (CJP Protest)।

     

  • Elderly Man Confronts: যন্তর মন্তরে ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভের তাল কেটে দিলেন প্রবীণ, সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার বদলে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রবীণ

    Elderly Man Confronts: যন্তর মন্তরে ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভের তাল কেটে দিলেন প্রবীণ, সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার বদলে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রবীণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে (CJP) ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে (Elderly Man Confronts)। বিক্ষোভ মঞ্চে সরকারবিরোধী বার্তা তুলে ধরতে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে সামনে আনা হয়েছিল। তবে তিনি সরকার-বিরোধী কিছু না বলে, উল্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়ায় পুরো পরিস্থিতি নেয় নাটকীয় মোড়। ঘটনায় সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং তাঁর সমর্থকরা অস্বস্তিতে পড়ে যান।

    ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে হাজির প্রবীণ (Elderly Man Confronts)

    জানা গিয়েছে, যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলাকালীন হুইলচেয়ারে করে এক প্রবীণ ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন। তাঁকে দেখে বিক্ষোভকারীদের একাংশ মনে করেন, তিনি সম্ভবত সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখবেন। সেই প্রত্যাশা থেকেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ নিজেই মঞ্চ থেকে নেমে এসে ওই প্রবীণকে স্বাগত জানান এবং তাঁকে বিক্ষোভকারীদের কাছে নিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই প্রবীণ ব্যক্তিকে মঞ্চের সামনে আনার পর বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁকে ঘিরে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করেন। অভিযোগ, তাঁরা সরাসরি “মোদি চোর” বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন, এবং ওই প্রবীণ ব্যক্তিকেও সেই স্লোগানে গলা মেলাতে পীড়াপীড়ি করছিলেন।

    চুপ!

    ঘটনার মোড় ঘুরে যায় ঠিক সেই মুহূর্তেই। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সুর মেলানোর পরিবর্তে ওই প্রবীণ ব্যক্তি তাঁদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একদম চুপ করে থাকুন। প্রধানমন্ত্রী মোদি চোর নন।” তিনি (Elderly Man Confronts) আরও বলেন, “নরেন্দ্র মোদি তোমাদের বয়সের থেকেও বেশি সময় ধরে দেশের সেবা করে চলেছেন। তিনি বারো বছর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তারপর থেকে টানা দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি একজন সৎ মানুষ।” প্রবীণ ব্যক্তির এই মন্তব্যে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত লোকজন হকচকিয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই বিক্ষোভের পরিবেশ বদলে যায়। যাঁরা তাঁর কাছ থেকে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রত্যাশা করেছিলেন, তাঁদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলেই খবর। শুধু প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায়ই থেমে থাকেননি তিনি। দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ব্যবস্থার ভেতরে বসে থাকা কিছু মানুষের কারণেই নরেন্দ্র মোদির নাম খারাপ হচ্ছে। তোমরা এই ধরনের কথা বলে বোকামি করছ।” এই মন্তব্যের পর বিক্ষোভ মঞ্চে কিছু সময়ের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিজিৎ এবং তাঁর সমর্থকেরা কার্যত নীরব হয়ে যান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও দেখা যায়, প্রবীণ ব্যক্তির বক্তব্যের সময় উপস্থিত অনেকেই হাঁ করে তাঁর কথা শুনছেন।

    ভাইরাল ভিডিওয় ইউজারদের প্রতিক্রিয়া

    এমন ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউজারদের একাংশের দাবি, ওই প্রবীণ ব্যক্তি নিজের মত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করেছেন, এবং রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। আর একাংশের বক্তব্য, একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে গোটা বিক্ষোভ কর্মসূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। প্রসঙ্গত, যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন (Elderly Man Confronts) ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম প্রতিবাদস্থল হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে নানা দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নয়া সংযোজন ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচি পালনও। অবশ্য ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ওই প্রবীণ ব্যক্তির পরিচয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ভিডিও এবং ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও মেলেনি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে কোনও জনসমাবেশ বা বিক্ষোভে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনাগুলি মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং তা জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে (CJP) সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট না জেনে শুধুমাত্র ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শও দিচ্ছেন তাঁরা।

     

  • NEET Protest in Kolkata: ধর্মতলায় পুলিশ ও সাংবাদিকদর লক্ষ্য করে জুতো, বোতল! চিহ্নিত চার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সহ ৭০, গুন্ডাদমন আইনে মামলা

    NEET Protest in Kolkata: ধর্মতলায় পুলিশ ও সাংবাদিকদর লক্ষ্য করে জুতো, বোতল! চিহ্নিত চার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সহ ৭০, গুন্ডাদমন আইনে মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ধর্মতলার মিছিল থেকে পুলিশের উপর আক্রমণের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। ওই মিছিল থেকে আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকেরাও। শনিবার বিধানসভায় এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশকে বার বার প্ররোচিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনও ফাঁদে পা দেয়নি। শুভেন্দু জানিয়েছেন, শুক্রবারের ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি এবং এন্টালিতে একটি— মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাতে গুন্ডাদমন আইন যোগ করা হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর ফলে রাজ্য আইনসভায় সদ্য পাস হওয়া আইনটি এই প্রথম প্রয়োগ করল সরকার। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে, তাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।

    কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ মুখ্যমন্ত্রীর

    শিক্ষায় দুর্নীতি, নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের আঁচ লেগেছে কলকাতাতেও। শুক্রবার ধর্মতলায় একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বাম ছাত্রসংগঠনগুলির সঙ্গে সিজেপি-র ডাকে বহু মানুষ জমায়েত করেছিলেন। মিছিলের ব্যাখা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। পুলিশের হিসেবে ভিড় ছিল ৯ হাজার। তার মধ্যে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ভোটে পরাজিতরা খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, রাজারহাট নিউটাউন, বেলগাছিয়া, বাগুইআটি থেকে লোক সাপ্লাই করেছে। পরবর্তীকালে যখন ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসে, প্রথমে জুতো, বোতল ছোড়া হয়। টার্গেট করে সাংবাদিকদের। ওরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠি মারুক সেল ফাটাক যাতে নাটক জমে। কিন্তু পুলিশ সেই ফাঁদে পা দেননি। কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।”

    কোনওরকম বলপ্রয়োগ নয়

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শনিবার শুভেন্দু বলেন, “আমি আক্রান্ত ও আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছি। …আমাদের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া ছিল যে এটা গণতান্ত্রিক দেশ। যে কেউ গণতান্ত্রিক মত প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। কোনওরকম আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয়। সরকারের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, কোনওরকম বলপ্রয়োগ করা যাবে না বা পুলিশের দিক থেকে কিছু করা যাবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘পুলিশ যে সংযত ছিল, সেটা সবাই দেখেছে। মিছিল থেকে সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। ছ’জন সাংবাদিক গুরুতর জখম হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইতিমধ্যেই সাংবাদিকদের তরফে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মোট ৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মামলাগুলিতে গুন্ডাদমন আইন যুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা একজনও ছাত্র নয়। ককরোচ পার্টির সদস্য নয়। যারা একজনও নিট সংক্রান্ত আন্দোলনকারীদের অংশ নয়।”

    রণক্ষেত্র ধর্মতলা চত্বর

    প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল ধর্মতলা চত্বর। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোড়ে বলে অভিযোগ। আক্রান্ত হন কয়েক জন সাংবাদিকও। সেই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। একটি মামলা হয়েছে এন্টালি থানাতেও। পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাঁচ সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতেও পাঁচটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। এক ছাত্রনেতা বলেন, ‘‘এই নেগেটিভ পিআর এর আগেও ছড়ানো হয়েছে। যে পুলিশের তরফ থেকে হামলা শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে আমরা স্বচক্ষে দেখেছি যে পুলিশের তরফে কোনও হামলা শুরু হয়নি। পুলিশ আটকাতে আসছিল। আর আমাদের এই ছাত্রসমাজের মাঝখান থেকে এক দু’জন উঠে কিছুটা তেড়ে যায় পুলিশের দিকে। তবে, তারা ছাত্রছাত্রী ছিল না অবশ্যই। তারা আমাদের ডাকে অবশ্যই আসেনি।’’

    পাঁচ জন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’ জড়িত

    এদিন বিধানসভায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের নামও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “চারজন কুখ্যাত লোকের নাম বলছি আমি। যাদের আমরা ছাড়ব না। আরও বাকি নাম বলে এখানে সময় নষ্ট করব না। রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানভীর, ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। এই পাঁচটা গুণ্ডার নাম এখানে ঘোষণা করলাম। গুণ্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব যাতে তিন পুরুষ মনে রাখে। এই জন্যই গুণ্ডাদমন আইন আনা হয়েছে। এর কতটা প্রয়োজনীয়তা ছিল, মানুষ এখন বুঝতে পারবে। সমগ্র বিধানসভার তরফে সাংবাদিকদের উপরে শারীরিক নিগ্রহের নিন্দা করছি। বিজেপির বিধায়করা বিআর আদেম্বকর মূর্তির নিচে কর্মসূচি নিয়েছেন। সেখানেই কালো ব্যাজ পরে তাঁরা সাংবাদিকদের পাশে থাকবেন।”

    কেন আক্রান্ত সাংবাদিকরা?

    সিজেপি-র কর্মসূচিতে এসএফআই-সহ বামেদের কিছু ছাত্র সংগঠন ঢুকে পড়েছিল বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁরা আদৌ ছাত্র কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের অধিকাংশেরই কোনও অস্তিত্ব নেই। সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ডিম ছোড়া যদি পশ্চিমবাংলার সংস্কৃতি না হয়ে থাকে, তবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল বা জুতো ছোড়াও এ রাজ্যের সংস্কৃতি নয়।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবারের ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগই ছিল সংবাদমাধ্যমের তরফে। তার ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। এ ছাড়া, একটি মামলা রুজু করা হয়েছে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। মূলত বেআইনি জমায়েত, হিংসা, জমায়েত থেকে অপরাধমূলক কাজ, সরকারি আধিকারিকের কাজে বাধা দেওয়া, অশান্তিতে উস্কানির ধারায় মামলা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেস (Connaught Place) এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন দুষ্কৃতীরা পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশের গাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি এবং পুলিশকর্মীদের জ্যাকেট ও হেলমেট ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় জড়িত ছিল। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    রণক্ষেত্র রাজধানী

    ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। দিল্লি পুলিশের দাবি, কনট প্লেসের আউটার সার্কেলের রিগ্যাল সিনেমা সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে এবং একাধিক পুলিশ গাড়ি ভাঙচুর করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, একাধিক আইপিএস অফিসার-সহ অন্তত ১১৮ জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ৬০ জন আন্দোলনকারীও। ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আহত পুলিশকর্মীদের মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষা (MLC) এখনও চলছে।

    সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    ঘটনার তদন্তে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের ভিডিও বিশ্লেষণ করছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০টি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। পুলিশের দাবি, অনেক দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বা কাপড় বেঁধে নিজেদের পরিচয় গোপন করে ব্যারিকেড ভাঙচুর ও হামলায় অংশ নিয়েছিল। আন্দোলনকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড হামলা করেন, পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ১৫-২০টি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ। শাংগ্রি-লা হোটেলের কাছে এক মহিলা হেড কনস্টেবল মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে চার থেকে পাঁচটি সেলাই করতে হয়েছে। রাজীব চৌক, জনপথ, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ-সহ দিল্লি মেট্রোর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন দীর্ঘক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হয় পরিষেবা।

    দিল্লি পুলিশের বিবৃতি

    দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভকারীরা “উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক এবং হিংসাত্মক আচরণ” করেছে। পুলিশের বারবার সতর্কবার্তা এবং আইনানুগ নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। পুলিশ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে গুজব বা ভুয়ো খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেছে, শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের উপর ভরসা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে।

    ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে উত্তেজনা

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে ককরোচ পার্টি-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ মিছিল যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশের দাবি, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় কর্মসূচির অনুমতি না থাকায় বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় এবং লাঠিচার্জ করে। এর পাল্টা বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযান

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার আন্দোলনকারী যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। সংসদমুখী রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশও। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবিধান ক্লাব, প্যাটেল চৌক, শাস্ত্রী ভবন, আরবিআই ভবন এবং সংসদ মার্গ এলাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    নিরাপত্তা জোরদার

    ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত এখনও চলছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাস

    এরই মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের তরফে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌরভ দাস জানিয়েছেন, নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা দলের দাবিগুলি লিখিত ভাবে তুলে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌরভ দাস জানান, জেপি নাড্ডার সঙ্গে তাঁর বাসভবনে প্রায় ১০ মিনিট বৈঠক করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি সম্বলিত একটি চিঠি নাড্ডার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ ভাবে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

     

     

     

LinkedIn
Share