মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সরকার এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (IFAD) মঙ্গলবার ২০২৬-২০৩৩ সালের জন্য একটি নতুন আট বছর মেয়াদী ‘কান্ট্রি স্ট্র্যাটেজিক অপরচুনিটিজ প্রোগ্রাম’ (COSOP) চালু করেছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ভারতের গ্রামীণ আয় বৃদ্ধি করা, প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা (resilience) বাড়ানো এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারিত করা।
নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘আইএফএডি-ইন্ডিয়া পার্টনারশিপ ফর রুরাল প্রসপারিটি’ অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচিটি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইএফএডি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন।
বিকশিত ভারত@২০৪৭ দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্য
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নতুন এই সিওএসওপি (COSOP) কর্মসূচিটি ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭’ ভিশনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। এটি প্রধানত দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে:
১. গ্রামীণ সম্প্রদায়ের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
২. একটি শক্তিশালী জ্ঞান ব্যবস্থা (knowledge systems) গড়ে তোলা, যাতে সফল উন্নয়নের মডেলগুলো ভারতের পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের সচিব অনুরাধা ঠাকুর বলেন, “ভারত ও আইএফএডি-এর এই অংশীদারিত্ব কৃষি রূপান্তর, জীবিকার বৈচিত্র্যকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের মতো জাতীয় অগ্রাধিকারগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই জোটটি এখন দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রাথমিক পর্যায় ছাড়িয়ে টেকসই এবং বাজার-মুখী গ্রামীণ জীবিকা তৈরির দিকে এগিয়ে গেছে, যা জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে সক্ষম।”
প্রাতিষ্ঠানিক ও বাজার সংযোগে জোর
আইএফএডি-এর সহযোগী ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডোনাল ব্রাউন বলেন, “এই অংশীদারিত্ব কেবল নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি এমন একটি ব্যবস্থা গড়ার দিকে নজর দিচ্ছে যা প্রতিষ্ঠান, অর্থায়ন, অবকাঠামো এবং বাজারকে দীর্ঘমেয়াদী গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য সংযুক্ত করবে।”
এই কৌশলের একটি বড় অংশ হল তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান যেমন— স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG), কৃষক সংস্থা (FPO) এবং সমবায় সমিতিগুলোকে শক্তিশালী করা। এই সংস্থাগুলোই প্রযুক্তি, অর্থ এবং বাজারের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে মূল ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্জিত সাফল্য ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
গত দুই দশকে ভারতে আইএফএডি-সমর্থিত প্রকল্পগুলো স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এবং ই-কমার্স ও মূল্য সংযোজনের (value addition) মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত নিজেকে গ্রামীণ উন্নয়নের ‘নলেজ লিডার’ বা জ্ঞান নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। ডিজিটাল কৃষি, অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রামীণ অর্থায়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল ভ্যালু চেইনের সফল মডেলগুলো আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হবে।
নাবার্ড (NABARD)-এর সাথে চুক্তি
অনুষ্ঠানের ফাঁকে, ন্যাশনাল ব্যাংক ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (NABARD) গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে উদ্ভাবনী কাজে সহায়তার জন্য আইএফএডি (IFAD)-এর সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
উল্লেখ্য, ভারত ও আইএফএডি (IFAD) গত পাঁচ দশক ধরে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। এই দীর্ঘ সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ৩৫টি গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারকে উপকৃত করেছে।
