Tag: CPIM

CPIM

  • Kerala HC: পিনারাই বিজয়ন, মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের

    Kerala HC: পিনারাই বিজয়ন, মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে টি বীণা, জামাই পিএ মহম্মদ রিয়াস-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিল কেরল হাই কোর্ট (Kerala HC)। শুক্রবার বিচারপতি এ বদরুদ্দিনের বেঞ্চ রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরের (ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-কোরাপশন ব্যুরো) অধিকর্তাকে এই নির্দেশ দিয়েছে। আইনজীবী কেএম শাহজাহানের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতেই আদালতের এই (Corruption Case) নির্দেশ।

    এর আগে কেরল সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর আদালতে দাবি করেছিল, অপরাধ তদন্ত শাখার প্রাথমিক তদন্তই এই মামলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট। এফআইআর দায়ের করা আইনত বাধ্যতামূলক নয় বলেও যুক্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। এফআইআর দায়ের না করেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে প্রাথমিক তদন্ত চালানোর যে সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছিল, তাও বাতিল করেছে আদালত।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ (Kerala HC)

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মামলায় যে অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, তা ১৯৮৮ সালের দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় পড়ে। ফলে তদন্তের ক্ষেত্রে রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারার অধীনে থাকা তথ্যপ্রমাণ, যা বর্তমানে রাজ্য পুলিশের ডিজি অথবা বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধানের হেফাজতে রয়েছে, তা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরের অধিকর্তার হাতে তুলে দিতে হবে। সেই নথির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট অধিকর্তাকে অবশ্যই এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি দুর্নীতি দমন দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। মামলায় এফআইআর দায়েরের আগে আর কোনও অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে হাই কোর্ট।

    আদালতের বক্তব্য, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির জমা দেওয়া তথ্যপ্রমাণই এফআইআর দায়েরের জন্য যথেষ্ট। দীর্ঘ প্রাথমিক তদন্তের অজুহাতে এফআইআর দায়ের এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “এই মামলার পরিস্থিতি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নতুন করে আর কোনও তদন্তের প্রয়োজন নেই। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারায় প্রাপ্ত তথ্যে যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে, তাতে রাজ্য পুলিশের এফআইআর দায়ের করা বাধ্যতামূলক। অন্য কোনও তদন্তের সুযোগ এখানে নেই।”

    কী এই মামলা?

    এই মামলার সূত্রপাত কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের প্রথম মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়কার কয়েকটি আর্থিক লেনদেনকে ঘিরে। বেসরকারি খনি সংস্থা কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এবং টি বীণার মালিকানাধীন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনের মধ্যে ওই লেনদেন হয়েছিল।

    মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, কোনও পরিষেবা না দিয়েও এক্সালজিক সলিউশনস প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার অর্থ পেয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ওই লেনদেনের মাধ্যমে বেআইনিভাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে ৮৫ লাখ টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছিল এবং দেশের অভ্যন্তরে ২০ কোটিরও বেশি টাকা বণ্টন করা হয়েছিল বলে দাবি (Kerala HC) ইডির।

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার খরচ হিসেবে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এক্সালজিক সলিউশনসকে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দিয়েছিল। অথচ ওই সংস্থা কোনও পরিষেবাই দেয়নি। এই অর্থপ্রদানকে পরামর্শদানের খরচ বলে দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    গত মে মাসে বিজয়নের বাসভবন-সহ কোঝিকোড় জেলায় সিপিআইএমের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্ত আটটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। তল্লাশির সময় হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করে (Corruption Case) সংস্থাটি।

    কেরল পুলিশকে ইডি জানিয়েছিল, বিজয়নের মেয়ে বীণার মাধ্যমে তাঁকে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছিল কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড। সংস্থাটির প্রাক্তন প্রধান আর্থিক আধিকারিক তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন বলেও ইডির দাবি, বীণা ও অন্যদের মাধ্যমে রিয়াস ওই টাকা দুবাইয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

    এফআইআর দায়েরের সুপারিশ

    ইডি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য রাজ্য প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়ে বিজয়ন-সহ অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু কেরল পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। তার পরিবর্তে অপরাধ তদন্ত শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালক এইচ ভেঙ্কটেশের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

    এর পরেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আইনজীবী কেএম শাহজাহান। তাঁর বক্তব্য ছিল, পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে (Kerala HC) এফআইআর দায়ের করা পুলিশের কর্তব্য।

    আবেদনকারীর সেই যুক্তি মেনে নিয়ে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। তবে আদালতের এই নির্দেশের অর্থ অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হবে (Corruption Case)।

    কী প্রভাব পড়তে পারে?

    কেরল হাই কোর্টের এই নির্দেশের ফলে মামলাটির তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে। এত দিন প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর্যায়ে আটকে থাকা অভিযোগের ভিত্তিতে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরকে। ফলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের (Kerala HC) তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পুজো কমিটি, মণ্ডপ, প্রতিমা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রা—সব মিলিয়ে প্রতি বছরই রাজ্যের জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে দুর্গাপুজো। কলকাতার দুর্গাপুজো  (Durga Puja 2026) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় কলকাতার দুর্গাপুজোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো।

    তবে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক, অশান্তি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সামনে এসেছে। কোথাও পুজো মণ্ডপে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হামলা, প্রতিবাদীদের গ্রেফতার, পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    রাজনৈতিক বিতর্ক (Durga Puja 2026)

    ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সংলগ্ন সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। “শারদোৎসবে”র বদলে ‘দুর্গোৎসব’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তা না করলে পুজো কমিটিগুলিকে সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই পদক্ষেপকে “ফ্যাসিবাদী আক্রমণ” বলে আখ্যা দেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুজো মণ্ডপের আশপাশে সিপিআই(এম) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল বসানোর রীতি রয়েছে। সেখানে দলীয় প্রকাশনা, মার্কসবাদী সাহিত্য এবং বিভিন্ন বই বিক্রি করা হয়।

    ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় একাধিক ঘটনাও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। কলকাতার গার্ডেন রিচ এলাকায় নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় অষ্টমী ও নবমীর আচার-অনুষ্ঠানের সময় গান ও ভক্তিগীতি বাজানোকে কেন্দ্র করে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ ছিল, একটি দল পুজোর অনুষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেয় এবং দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরেরও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তি

    হাওড়ার শ্যামপুরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো সংলগ্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং এলাকায় নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

    এদিকে, দুর্গাপুজোর বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কলকাতা পুলিশ পুজোর সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচি থামিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পুজো মণ্ডপের বাইরে চিকিৎসকদের আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে আলিপুরে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হলেও পরে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, তাঁদের উদ্দেশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা ছিল না (Durga Puja 2026)।

    দুর্গাপুজোর সরকারি কার্নিভালেও এক চিকিৎসকের গ্রেফতারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সমর্থনে ব্যাজ পরে পুজো কার্নিভালে অংশ নেওয়া কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক তপাব্রত রায়কে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদে চিকিৎসক ও অন্যদের বিক্ষোভের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্ট ওই মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দেয়।

    নদিয়ার রানাঘাটে প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্গাপুজো করে আসা একটি ক্লাবকে ১১২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে অনুমতি না দেওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ক্লাবটি ওই বছর পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অশান্তি বিসর্জনের শোভাযাত্রায়ও

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও একাধিকবার অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর কলকাতার পার্ক সার্কাস ও নারকেলডাঙা এলাকায় কালী ও লক্ষ্মীপ্রতিমা বিসর্জনের সময় পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটি ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের অভিযোগ, রাজাবাজার এলাকায় হঠাৎ করে পাথর, কাচের বোতল এবং ইট ছোড়া হয়। আশপাশের বাড়ি থেকেও পাথর ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আতঙ্কে অনেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন এবং কয়েকটি শোভাযাত্রার যাত্রাভঙ্গ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে অবশ্য বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় (Durga Puja 2026)।

    এই ঘটনার পর জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে নারকেলডাঙার হিংসার অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশ আধিকারিকদের আচরণও যথাযথ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে তর্ক হয় এবং পরে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় থাকা আক্রান্তদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় (Pandal Vandalism Incidents)।

    ২০২০ সালের বিজয়া দশমীতে বীরভূমে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছিল। পুজো কমিটির সদস্য ও ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিয়োয় এক পুলিশকর্মীকে এক যুবকের জামার কলার ধরে রাস্তায় টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দুর্গাপুজোর মণ্ডপের থিম এবং ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। ২০২১ সালে কলকাতার বড়িশা ক্লাবের দুর্গাপুজোকে ঘিরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। মণ্ডপসজ্জায় একটি দৃশ্যে দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে এক হিন্দু মহিলা ও তাঁর শিশুকে ভারতের একটি আটককেন্দ্রে বন্দি দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু দুর্গাপুজোয় প্রতিমার সামনে আজান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। আজান ইসলামে নমাজের আহ্বান। এই ঘটনাকে ঘিরেও ধর্মীয় প্রতীক ও পুজোর পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ড

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলির একটি হল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলা। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের একটি মডিউলের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ ছিল। বিস্ফোরণে মণ্ডপের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিস্ফোরক তৈরির সময় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে বিশেষ এনআইএ আদালত মামলায় ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন (Durga Puja 2026) চারজন।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আলিপুরে পুজোর মণ্ডপ থেকে আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়।

    পুজো মণ্ডপে জুনিয়র চিকিৎসক ও প্রতিবাদীদের আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছিল। ত্রিধারা সম্মিলনী দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বভারতীয় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের রিপোর্ট চায়।

    সব মিলিয়ে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্ক ও সংঘাতের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও পুজোর মণ্ডপে ভাঙচুর, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হিংসা, আবার কোথাও প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ—বিভিন্ন ঘটনায় উৎসবের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিসর প্রশ্নের মুখে পড়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ

    বিশেষ করে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলিতে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও তার আশপাশের জনপরিসর একাধিক পৃথক সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গার্ডেন রিচে পুজোর আচার ঘিরে বিরোধ, শ্যামপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নারকেলডাঙায় বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ, পুজোর মণ্ডপের কাছে প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতার এবং সরকারি পুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের আটক—সবক’টি ঘটনায়ই নতুন করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এর পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জন, বিজয়া দশমীতে পুলিশি পদক্ষেপ, পুজোর মণ্ডপের থিম ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার এবং বর্ধমান বিস্ফোরণ মামলার মতো পুরনো ঘটনাগুলিও এই বিতর্কের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ২০২৬ সালের “শারদোৎসব” বিতর্ক সেই চলমান চর্চায় নয়া মাত্রা যোগ করেছে। দুর্গাপুজোর পরিচয়, নামকরণ, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং পুজোকে ঘিরে (Durga Puja 2026) জনপরিসরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এসেছে (Pandal Vandalism Incidents)।

     

  • Durga Puja: দুর্গাপুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রশাসনিক বাধা-রাজনৈতিক বিতর্ক, নতুন করে সামনে ফের পুরনো প্রশ্ন

    Durga Puja: দুর্গাপুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রশাসনিক বাধা-রাজনৈতিক বিতর্ক, নতুন করে সামনে ফের পুরনো প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও অন্যতম বড় পরিসর। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজোকে (Durga Puja) মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইউনেস্কো। তাদের নথিতে দুর্গাপুজোকে ধর্ম, শিল্প, কারুশিল্প ও সমবেত সামাজিক অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    তবে গত এক দশকে দুর্গাপুজোকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, পুলিশি পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে। এর মধ্যে কিছু ঘটনায় পুজোমণ্ডপ বা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে, আবার কিছু ঘটনায় প্রতিবাদ, মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে উৎসবের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    শারদোৎসব না দুর্গাপুজো? (Durga Puja)

    ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় দুর্গাপুজোর মণ্ডপের কাছে বামপন্থী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, যে সব বামপন্থী বইয়ের স্টলে “দুর্গাপুজো”র পরিবর্তে “শারদোৎসব” শব্দ ব্যবহার করা হবে, সেই স্টলকে পুজো কমিটিগুলির অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, “শারদোৎসব” শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎসবের ধর্মীয় চরিত্রকে খাটো করা হচ্ছে।

    সিপিআই(এম)-এর তরফে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়েছে। দলটির সঙ্গে যুক্ত বইয়ের স্টলগুলির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের কথাও সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাসে মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে এই ধরনের প্রথম বামপন্থী-সংযুক্ত বইয়ের স্টল বসেছিল। সেখানে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে সাহিত্য ও অন্যান্য বই বিক্রি করা হয়েছিল।

    সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “গণতন্ত্র মানে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাবনার সহাবস্থান।” দলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তাদের বইয়ের স্টলে স্বামী বিবেকানন্দ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-সহ বিভিন্ন ভারতীয় ব্যক্তিত্বের উপর বইও থাকে।

    ফলে বিতর্কটি কেবল একটি শব্দ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দুর্গাপুজোকে প্রধানত ধর্মীয় উৎসব হিসেবে দেখা হবে, নাকি ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবেও তার পরিচয় থাকবে—তা নিয়েও রাজনৈতিক মতপার্থক্য সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

    হাওড়ার শ্যামপুরে অশান্তি

    অক্টোবর ২০২৪-এ হাওড়ার শ্যামপুরে একটি ছবি নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি পরে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরে গড়ায়। পুলিশের তরফে ৬৭ জনকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়। এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধের কথাও প্রকাশ্যে আসে। একই ঘটনায় পুজো কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধেও মামলা হয়।

    গার্ডেনরিচের পুজোমণ্ডপে উত্তেজনা

    ১১ অক্টোবর কলকাতার গার্ডেনরিচের নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোমণ্ডপে একদল যুবকের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার চলাকালীন বাজানো শব্দ নিয়ে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ, ৫০-৬০ জন সেখানে এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন এবং প্রতিমা ভাঙার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা করে তদন্ত শুরু করে।

    তবে ঘটনাটির প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য আলাদা। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের নমাজের সময়ে পুজোর শব্দ নিয়ে আপত্তি থেকে বচসার সূত্রপাত এবং পরে স্থানীয় প্রবীণদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি (Durga Puja) নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বিসর্জনকে ঘিরে সংঘর্ষ

    নরকেলডাঙায় কালীপুজোর বিসর্জনের সময় সংঘর্ষ, পাথর ও কাচের বোতল ছোড়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, ঘটনাটির সূত্রপাত একটি মোটরবাইক পার্কিং নিয়ে বিবাদের জেরে এবং নির্দিষ্ট কোনও বিসর্জন মিছিলকে লক্ষ্য করে হামলা হয়নি। পুলিশের বক্তব্য, নির্ধারিত বিসর্জনের শোভাযাত্রা পরে নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হয়।

    এই ঘটনায় জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদারও রাজ্যপালের কাছে পুলিশি আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবর।

    আরজি কর আন্দোলন এবং পুজোর সময় পুলিশের পদক্ষেপ

    ২০২৪ সালের পুজোর সময় আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদও দুর্গাপুজোর পরিসরে এসে পড়ে। ৯ অক্টোবর জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচিকে কলকাতা পুলিশ আটকে দেয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চিকিৎসকদের উত্তেজনা তৈরি হয়।

    ১৫ অক্টোবর সরকারি দুর্গাপুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তপোব্রত রায়কে প্রতিবাদী ব্যাজ পরার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। মামলাটির তদন্তে কলকাতা হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও দেয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ব্যাজে লেখা বক্তব্যকে আপত্তিকর মনে করে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছিল।

    বস্তুত, আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদ, প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাত এবং উৎসবের সরকারি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রশ্নও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

    ১১২ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে বিতর্ক

    নদিয়ার রানাঘাটে ২০২৪ সালে ১১২ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা স্থাপনের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। আয়োজকদের বক্তব্য, প্রশাসনিক অনুমতি না মেলায় পুজো বন্ধ রাখতে হয়। পরে ওই জায়গায় মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছিল। এখানে প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং আয়োজকদের পুজো আয়োজনের অধিকার—দুই দিকই আলোচনায় আসে।

    সাংবাদিক গ্রেফতারির ঘটনায় বিতর্ক

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক অনন্য গুপ্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো একটি প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা অনন্যর গ্রেফতারির সমালোচনা করেন।

    ২০১৪-র বর্ধমান বিস্ফোরণ

    দুর্গাপুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় ২০১৪ সালের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণও গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রচলিত কিছু প্রতিবেদনে তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিস্ফোরণটি ঘটে ২ অক্টোবর ২০১৪ সালে; কিন্তু ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ২৮ অগাস্ট ২০১৯ সালে। দোষী সাব্যস্তদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। মামলাটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের তদন্তের সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিল।

    অতএব, ঘটনাটিকে “২০১৪ সালের ২৮ আগস্টের মামলা” বলা সঠিক নয়; ২৮ আগস্ট ২০১৯ ছিল দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তারিখ।

    দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    ইউনেস্কোর নথিতে কলকাতার দুর্গাপুজোকে শুধু ধর্মীয় আচার হিসেবে নয়, শিল্পী, কারিগর, পুজো কমিটি, পুরোহিত, ঢাকি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, উৎসবের সময়ে শ্রেণি, ধর্ম ও জাতিগত বিভাজন অনেকাংশে অতিক্রম করে মানুষ পুজোমণ্ডপ পরিদর্শনে অংশ নেয়।

    এই কারণেই পুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ কিংবা মতপ্রকাশের উপর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ—প্রতিটি ঘটনাই বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও নাগরিক অধিকারের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

    তবে ঘটনাগুলির প্রকৃতি এক নয়। কোথাও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার অভিযোগ, কোথাও ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিবাদ, কোথাও রাজনৈতিক আন্দোলন, আবার কোথাও প্রশাসনিক অনুমতি বা আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন রয়েছে। ফলে সব ঘটনাকে একই ধরনের “পরিকল্পিত হামলা” হিসেবে দেখার আগে প্রত্যেকটির প্রেক্ষাপট, পুলিশের বক্তব্য, মামলা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    সুমুখে যেসব প্রশ্ন

    ২০২৬ সালের বইয়ের স্টল-বিতর্ক এই পুরনো আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে দুর্গাপুজোর ধর্মীয় পরিচয়কে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার দাবি রয়েছে। অন্যদিকে বামপন্থী দলগুলি দীর্ঘদিনের বই বিক্রির ঐতিহ্য এবং মতাদর্শগত প্রকাশের অধিকারের কথা বলছে।

    একই সঙ্গে, দুর্গাপুজোকে (Durga Puja) ইউনেস্কোর স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ—সবক’টিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো তাই একই সঙ্গে ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক উৎসব, সামাজিক সমাবেশ এবং রাজনৈতিক বিতর্কের ক্ষেত্র। ২০২৬-এর পুজোর আগে বইয়ের স্টল ঘিরে নতুন বিতর্ক দেখিয়ে দিল, উৎসবের পরিচয় ও জনপরিসরে তার অর্থ নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এখনও যথেষ্ট তীব্র। সামনে (West Bengal) প্রশাসন, পুজো কমিটি, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে এই মতপার্থক্য সামলান, তার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে উৎসবের পরিবেশ।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘সঠিক সময়ে বাংলায় পরিবর্তন, না হলে সংস্কার হারিয়ে যেত’ এক বছরের মধ্যে ১০০০ বিদ্যা ভারতী  তৈরির আহ্বান শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘সঠিক সময়ে বাংলায় পরিবর্তন, না হলে সংস্কার হারিয়ে যেত’ এক বছরের মধ্যে ১০০০ বিদ্যা ভারতী তৈরির আহ্বান শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগের সরকার বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিকল্পনামাফিক কিছু পরিবর্তন করে। এমনকী বাংলা মাধ্যমের সিলেবাসে বেশ কিছু শব্দ বদল করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে আরএসএস-এর একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তৃণমূল আমলে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কমিউনিস্টরা ৩৪ বছর ধরে বাংলা ভাষার প্রচার-প্রসারে বাধা দিয়েছিল, বিগত সরকারের শেষ ১০ বছরেও বাংলায় বেহাল শিক্ষা— এদিন আরএসএসের শাখা সংগঠন বিদ্যা ভারতীর অনুষ্ঠানে গিয়ে এমনটাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সঠিক সময়ে বাংলায় পরিবর্তন হয়েছে। আর কিছুদিন চললে সংস্কার হারিয়ে যেত।

    মানুষের চরিত্র গঠনে শিক্ষার প্রয়োজন

    শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতি চর্চাতেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনায় শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কথা বললেন তিনি। বৃহস্পতিবার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ সেই শিক্ষার কথা বলেন, যাতে মানুষের চরিত্র গঠিত হয়, মনের বল বৃদ্ধি পায়, মানুষ স্বনির্ভর হতে পারে।” এই অনুষ্ঠানেই একটি সাম্প্রতিক ভিডিয়োর কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “সংস্কার না আনতে পারলে, দেশপ্রেম না আনতে পারলে ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে।”

    ভারতীয় সংস্কৃতির পরম্পরা বজায় রাখুন

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Education System) কলকাতার এক পড়ুয়ার ভিডিয়োর কথা উল্লেখ করেন। স্কুলের নাম না করে বলেন, “এক ছাত্র সেখানে অভিযোগ করছে, তার মাথায় চন্দনের টীকা মুছিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষক। বলছেন, মুখ ধুয়ে এস, টীকা নিয়ে ক্লাসে আসা যাবে না। এই মাইন্ডসেট! কে টীকা রাখবে, কে তুলসী পরবে… সবই পরম্পরা, ঐতিহ্য।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি চাই, আগামী এক বছরের মধ্যে বিদ্যা ভারতী ১০০০ তৈরি হোক। গোশালা তৈরি করুন, গীতা বিতরণ করুন। ভারতীয় সংস্কৃতির পরম্পরা বজায় রাখুন।” রামকষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কথাও বলেন তিনি। পূর্বতন সরকারের আমলের সিলেবাস নিয়েও এদিন একের পর এক অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আগের সিলেবাসে পরিকল্পনা করে অনেক কিছু বিকৃত করা হয়েছে।

    প্রকৃত শিক্ষায় কমিউনিস্টদের বাধা

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই রাজ্যে কমিউনিস্টরা যখন রাজত্ব করত, তারা আমাদের মাতৃভাষা বাংলার প্রচার-প্রসারকে যেমন বাধা দিয়েছে, তেমনই ইংরেজি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তালাচাবি লাগিয়ে রেখেছিল। কম্পিউটার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করেছিল। পরবর্তীকালে যে সরকার এসেছিল, প্রথমের দিকে না হলেও শেষের ১০ বছর যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিল, তা পশ্চিমবঙ্গে আরও কিছুদিন চললে, আমাদের সংস্কার, পরম্পরা, ঐতিহ্য, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ সমস্ত কিছু হারিয়ে যেত।’ শিক্ষাঙ্গণে কোনও বৈষম্য চলবে না, ফেরানো হবে এনসিসি, তা-ও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, বাংলায় আরও সৈনিক স্কুল হোক। সব স্কুল-স্কুলেজে যাতে এনসিসি থাকে, তা নিয়েও চিঠি দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে।

    সিলেবাসে ভুল শব্দ চয়ন

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Education System) বলেন, “একটা সময়ে বামেরা বাংলার প্রচার-প্রসারে বাধা দিয়েছে। তৃণমূল যে শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু করেছিল, তাতে রাষ্ট্রবাদ-দেশপ্রেম হারিয়ে যেতে বসেছিল।” এরপরই সিলেবাস প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি হওয়া সিলেবাস সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মা কে আম্মা, আকাশ কে আসমান… প্ল্যান করে ভাষার বিকৃতি করা হয়েছিল। এমনভাবে সিলেবাস তৈরি করা হয়েছিল, যে শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বিদ্যাসাগর বা বিবেকানন্দ ভাবেনি। শিশুমনে বিভাজন ঘটানো হয়েছিল।” মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুসলিম ছাত্রদের স্কলারশিপ দেওয়া হত। বাকি ধর্মের ছাত্রদের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হত। তিনি সিলেবাস সম্পর্কে আরও বলেন, “টাটাদের ইতিহাস ছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথা ছিল, অথচ শ্যামাপ্রসাদের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস ছিল না।”

    প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “সঠিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে। সঠিক সময়ে আমরা বেঁচে গিয়েছি। বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কোনও তফাৎ থাকত না।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার প্রথমেই জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে। প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করেছে। এদিন বিদ্যা ভারতী প্রতিষ্ঠিত বিদ্যামন্দিরগুলির ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি চান আগামী এক বছরের মধ্যে বিদ্যামন্দিরের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছক। জেলায় জেলায়, ব্লকে ব্লকে, পঞ্চায়েতেও এই বিদ্যামন্দিরের পরিকাঠামো তৈরি হোক। ভারতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রসারে রাজ্য সরকার বিদ্যাভারতীকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়, এদিন সে বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Taslima Nasreen: ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, ফিরল ২০০৭-এর সেই বিতর্কিত স্মৃতি

    Taslima Nasreen: ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, ফিরল ২০০৭-এর সেই বিতর্কিত স্মৃতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩৪ বছরের বাম সূর্য অস্ত গিয়েছে। পাটে বসেছে ১৫ বছরের তৃণমূল-ভাস্করও। চলতি বছরই রাজ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে প্রথম বিজেপি সরকারের। তার পরেই এক এক করে খুলে পড়ছে বাম এবং তৃণমূল সরকারের মুখোশ (Taslima Nasreen)। স্রেফ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিকে হাতিয়ার করেই কেউ ৩৪, কেউ আবার দিব্যি আরাম-আয়েশ করে ১৫ বছর কাটিয়ে দিয়েছে মহাকরণ এবং তারই পোর্টেবল সংস্করণ নবান্নে (Left Front Govt)। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দাবার বোড়ে করে আদতে আখের গুছিয়ে গিয়েছেন বাম এবং তৃণমূলের ভোট কারবারিরা।

    পদ্ম জমানায় কলকাতায় ‘মুক্তমনা’ তসলিমা (Taslima Nasreen)  

    রাজ্যে পালাবদলের পর সরকার গড়েছে বিজেপি। এই পদ্ম জমানায়ই বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছেন ‘মুক্তমনা’রা। ২০০৭ সালে বাম জমানায় প্রবল আন্দোলনের জেরে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে। ‘দ্বিখণ্ডিত’র জননী বড় দুঃখে ছেড়েছিলেন তাঁর ‘সেকেন্ড হোম’ কলকাতা। ১৯ বছর পর সেই তিনিই ফিরলেন আবারও কলকাতায়। যখন শহর ছেড়েছিলেন, চাক্ষুষ করেছিলেন মৌলবাদীদের দাপাদাপি। আর যখন ফিরলেন, তখন দেখলেন আক্ষরিক অর্থেই একটু একটু করে গড়ে উঠছে সোনার বাংলা। প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে তসলিমা নিজেই বলেছেন, এই শহরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর। তাঁর প্রত্যাবর্তনের আবহে ফের আলোচনায় এসেছে—কেন ২০০৭ সালে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে হয়েছিল, কীভাবে কলকাতার রাজপথে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেই পরিস্থিতিতে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের ভূমিকা কী ছিল।

     ‘লজ্জা’ থেকে নির্বাসন, শুরুটা বাংলাদেশে

    তসলিমার নির্বাসনের ইতিহাস অবশ্য কলকাতায় শুরু হয়নি। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার আগে থেকেই তাঁর লেখা নিয়ে মৌলবাদী সংগঠনগুলির তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়েছিল। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রেক্ষাপট উঠে আসে তাঁর বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘লজ্জা’-য়। বইটি প্রকাশের পর তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৪ সালে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিম। পরবর্তী সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থেকেছেন। কিন্তু মাতৃভাষা ও বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি।

    কলকাতায় আশ্রয়, তারপর নতুন সংঘাত

    ২০০৪ সালে ভারতে থাকার অনুমতি পাওয়ার পর কলকাতায় আসেন তসলিমা। শহরের সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিল। কলকাতাকেই তিনি নিজের নতুন ঠিকানা হিসেবে দেখতে শুরু করেন। কিন্তু তাঁর লেখা ও বক্তব্যকে ঘিরে বিরোধ থামেনি। ২০০৩ সালে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করেছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। পরে কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে বইটি নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে (Taslima Nasreen)।

    কলকাতার রাজপথে অশান্তি

    ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর তসলিমাকে ঘিরে কলকাতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি ফোরামের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা তসলিমার ভারতে থাকার অনুমতি বাতিল এবং তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলে। বিক্ষোভ দ্রুত হিংসার রূপ নেয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টি, যানবাহনে আগুন এবং পথ অবরোধে স্তব্ধ হয়ে যায় কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা (Left Front Govt)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত সেনা নামাতে হয়। সে দিন প্রায় ৪০ জন আহত হন, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন পুলিশকর্মী। বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছিল। অর্থাৎ, তসলিমাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিক্ষোভ শুধু একটি সাহিত্যিক বা ধর্মীয় বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সমালোচকদের অভিযোগ, বামফ্রন্ট সরকার মৌলবাদী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বদলে তসলিমাকেই সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁদের যুক্তি, একজন লেখিকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার বদলে সরকার বিক্ষোভকারীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছিল। অগত্যা বাংলা ছাড়তে হয় তসলিমাকে।

    নিরাপদ আশ্রয় থেকে জয়পুরে, দিল্লিতে

    কলকাতার নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে তসলিমাকে চলে যেতে হয় জয়পুরে। সেখানেও প্রতিবাদ-আন্দোলন শুরু হয় বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকাকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লিতেও তাঁর চলাফেরায় ছিল নানা বিধিনিষেধের বেড়ি। ২০০৮ সালে পরিস্থিতির চাপে তিনি সাময়িকভাবে ভারত ছেড়ে সুইডেনে চলে যান। পরে আবার ভারতে ফিরে এসে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন (Taslima Nasreen)।

    বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    ২০০৭ সালের ঘটনায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভূমিকা আজও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়। সমালোচকদের বক্তব্য, নিজেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এবং মুক্তচিন্তার সমর্থক হিসেবে তুলে ধরা এক মুখ্যমন্ত্রীর সরকারের কাছ থেকে আরও দৃঢ় অবস্থান প্রত্যাশিত ছিল। তাঁদের প্রশ্ন—রাজপথে হিংসা ছড়ানো বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে কেন একজন লেখিকাকেই শেষ পর্যন্ত রাজ্য ছাড়তে হল?

    ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’

    ২০০৭ সালের ঘটনার পর থেকেই বামেদের বিরুদ্ধে ‘তোষণের রাজনীতি’র অভিযোগ উঠেছে (Left Front Govt)। সমালোচকদের বক্তব্য, মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও, সরকার সেদিন শেষ পর্যন্ত মৌলবাদী চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছিল। পরবর্তী সময়ে তসলিমা নাসরিনকে ভারতে থাকার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। বিজেপির সমর্থকেরা দাবি করেন, মৌলবাদী হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করে তসলিমাকে ভারতে থাকার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে তসলিমার ভারতে থাকা মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া অনুমতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রশাসনিক বিষয়। একে কোনও একটি রাজনৈতিক দলের একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত ও সময়কাল আলাদা করে বিচার করা প্রয়োজন (Taslima Nasreen)।

    ১৯ বছর পর ফের কলকাতায়

    দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে কলকাতায় ফিরেছেন তসলিমা। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন অনুরাগীরা। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই কলকাতায় প্রত্যাবর্তন হয় তাঁর। বিমানবন্দরে পা দিয়েই তসলিমা জানান, কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনও গভীর। তিনি বলেন, এই প্রত্যাবর্তন তাঁর কাছে আবেগের। এমনকি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকলে কলকাতায় আরও বেশি সময় থাকার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একজন নির্বাসিত লেখিকার শহরে ফেরার ঘটনা নয়। ২০০৭ সালের সেই রাত, রাজপথের হিংসা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় মৌলবাদ, প্রশাসনের ভূমিকা (Left Front Govt) এবং অবশ্যই তোষণ-তুষ্টিকরণের রাজনীতি—সব কিছুই আবারও জাগরুক বঙ্গবাসীর স্মৃতিতে (Taslima Nasreen)।

     

  • DMK: কংগ্রেসের সঙ্গে গোঁসা! ‘ইন্ডি’ জোটের অস্বস্তি বাড়িয়ে ৮ জুনের বিরোধী বৈঠকে গরহাজির ডিএমকে

    DMK: কংগ্রেসের সঙ্গে গোঁসা! ‘ইন্ডি’ জোটের অস্বস্তি বাড়িয়ে ৮ জুনের বিরোধী বৈঠকে গরহাজির ডিএমকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের ‘ইন্ডি’ (India Bloc) জোটের অভ্যন্তরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত। আগামী ৮ জুন আয়োজিত হতে চলা বিরোধী দলগুলির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিলনাড়ুর ডিএমকে (DMK)। ডিএমকে-র এই আকস্মিক অনুপস্থিতির সিদ্ধান্ত লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী ঐক্য সুসংহত করার প্রচেষ্টায় একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবার তামিলনাড়ুর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ ছাপ ফেলল সর্বভারতীয় স্তরের রাজনীতিতে। চিত্রতারকা-রাজনীতিক থলপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগম (টিভিকে)-এর সঙ্গে ভোট পরবর্তী জোট গড়ার কারণে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে আগেই কংগ্রেসের সঙ্গ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিল। এবার তারা বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকও বয়কটের সিদ্ধান্ত নিল।

    অনুপস্থিতির কারণ ও ডিএমকে-র যুক্তি (DMK)

    ডিএমকে (DMK) সূত্রের খবর, ৮ জুনের এই বৈঠকটিতে দলের সুপ্রিমো তথা তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন (India Bloc) স্বয়ং উপস্থিত থাকতে পারছেন না। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত কিছু প্রশাসনিক কর্মসূচি এবং রাজ্যে চলমান কিছু জরুরি প্রকল্পের পর্যালোচনার কারণে তিনি চেন্নাই ছাড়তে পারছেন না। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই অনুপস্থিতির পেছনে কেবল প্রশাসনিক ব্যস্ততা নয়, বরং আসন সমঝোতা এবং জোটের নেতৃত্ব নির্ধারণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনও কাজ করে থাকতে পারে।

    বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা

    আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী ফ্রন্টকে শক্তিশালী করতে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং বাম দলগুলির মতো শীর্ষস্থানীয় দলগুলির এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে ডিএমকে-র (India Bloc) মতো একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক দলের দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত জোটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রূপায়ণে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের (India Bloc) প্রথম সারির শরিকদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ঘাটতি যদি এখনই দূর করা না যায়, তবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া বিরোধী শিবিরের জন্য বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আগামী সোমাবার (৮ জুন) দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের বৈঠক। কংগ্রেস, তৃণমূল, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি, উদ্ধব ঠাকরেপন্থী শিবসেনা, শরদ পওয়ারের এনসিপি (এস), ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং বাম দলগুলি তাতে যোগ দিতে পারে। স্ট্যালিনের দল ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য। তারা যদি বৈঠকে গরহাজির থাকে , তাহলে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটে ফাটল স্পষ্ট হবে।

  • Tamil Nadu: তামিলভূমে কাটল জট, সরকার গড়ল বিজয়ের জোট

    Tamil Nadu: তামিলভূমে কাটল জট, সরকার গড়ল বিজয়ের জোট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, রবিবার। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন টিভিকে-র সভাপতি সি জোসেফ বিজয়। তামিলভূমের আঞ্চলিক দল ভিসিকে অভিনেতা তথা রাজনীতিক ‘থলপতি’ বিজয়ের দল টিভিকে-কে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করে। তাতেই খোলে জট। নয়া সরকার গড়ার পথে আর কোনও বাধা রইল না বিজয়ের। জোগাড় করে ফেললেন সরকার গড়ার মতো ‘ম্যাজিক ফিগার’। তাঁর শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে প্রায় ছ’দশক ধরে চলা রাজ্যের দুই প্রধান দ্রাবিড় দল-ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র পালাক্রমে শাসনের অবসান ঘটল। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকর শনিবার বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। কারণ ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১২০ জন নির্বাচিত বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করেছেন বিজয়।

    নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ (Tamil Nadu)

    রবিবার সকাল ১০টায় নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন তিনি। তাঁর সঙ্গেই শপথ নেওয়ার কথা টিভিকে-র আরও কয়েকজন মন্ত্রীর। রাজ্যপাল বিজয়কে আগামী ১৩ মে-র মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটের নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে শনিবার সন্ধ্যায়, যখন ভিসিকে এবং আইইউএমএল টিভিকে-কে সমর্থন জানায়। এর ফলেই টিভিকে-র জোটের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০। পরে বিজয় চেন্নাইয়ের লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখনই তিনি জমা দেন কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআইএম, ভিসিকে এবং আইইউএমএলের সমর্থনপত্রও। তামিলনাড়ু বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৩৪।

    ‘ম্যাজিক ফিগার’

    নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। এই ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি কোনও দলই। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের টিভিকে ১০৮টিতে জিতে হয় একক বৃহত্তম দল। যদিও বিজয় দু’টি আসনে জয়ী হওয়ায় তাঁদের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। সরকার গড়ার জন্য ‘ম্যাজিক ফিগার’ পেতে বিজয়ের প্রয়োজন ছিল আরও ১১ জন বিধায়কের সমর্থন। তামিলনাড়ু কংগ্রেস প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল তারা টিভিকে-কে সমর্থন করবে। কংগ্রেসের ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি আসন। ‘ম্যাজিক ফিগারে’ পৌঁছতে টিভিকে-র প্রয়োজন ছিল আরও ছ’জন বিধায়কের সমর্থন।

    বিজয়কে সমর্থন করল যারা

    শুক্রবার সিপিএম এবং সিপিআই সমর্থন করার কথা জানিয়েছিল। তাদের জেতা আসনের সংখ্যা চার। তার পরে আরও দুই বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। শনিবার ভিসিকে প্রধান থোল থিরুমাভালাভান জানান, তাঁরা সরকার গঠনের জন্য বিজয়ের দলকে নিঃশর্ত সমর্থন করবেন। উল্লেখ্য, টিভিকে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের গড়ে তোলা একটি রাজনৈতিক সংগঠন। এবারের নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে এই সংগঠনই। দলটি নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ, তামিল সমাজভিত্তিক এবং সামাজিক ন্যায় ও সমতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরে। এই দলই এবার গড়ছে সরকার।

    মামলার জরুরি শুনানি

    এদিকে, ডিএমকে নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কেআর পেরিয়াকারুপ্পন মাদ্রাজ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন যাতে টিভিকে বিধায়ক শিনিবাস সেতুপাথিকে আস্থা ভোটে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ বেঞ্চের বিচারপতি এল ভিক্টোরিয়া গৌরি এবং এন সেন্থিলকুমারের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানি করার কথা আজ, রবিবার। পেরিয়াকারুপ্পানের অভিযোগ, শিবগঙ্গা জেলার তিরুপাত্তুর কেন্দ্রে ভোট পুনর্গণনা ঠিকঠাক হয়নি। তাই নির্বাচিত প্রার্থীকে আইনসভা গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া উচিত নয়।

     

  • Kerala Elections 2026: বিজেপিতে যোগ দিলেন কেরল সিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা এস রাজেন্দ্রন

    Kerala Elections 2026: বিজেপিতে যোগ দিলেন কেরল সিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা এস রাজেন্দ্রন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি টানা চার দশক ধরে তিল তিল করে একটি দল গড়ে তুলেছিলেন। দলীয় প্রতীকে টানা তিনবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ীও হয়েছিলেন। সম্প্রতি কেরল সিপিআই(এম)-এর সেই নেতাই যোগ দিলেন (Kerala Elections 2026) বিজেপিতে।

    বিজেপিতে যোগ প্রাক্তন বাম বিধায়কের (Kerala Elections 2026)

    কেরালার দেবীকুলাম থেকে তিনবারের সিপিআই(এম) বিধায়ক এস রাজেন্দ্রন কয়েক মাস আগে দল ছেড়েছেন। পরে যোগ দেন বিজেপিতে। দেবীকুলাম আসন থেকেই বিজেপির (BJP) প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন রাজেন্দ্রন। এক সময় যিনি সিপিআই(এম)-এর প্রতীকে লড়ে গিয়েছিলেন কেরালা বিধানসভায়, সেই তিনিই এবার লড়ছেন স্বেচ্ছায় ছেড়ে চলে আসা নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে।  এর মাধ্যমে তিনি বামপন্থীদের সামনে ৯ এপ্রিলের নির্বাচনের আগে সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটি ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি একজন মানুষ, যিনি জীবনের দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে দলকে দিয়েছেন, সেই তিনিই এখন দল ছেড়ে তাঁরই পুরানো দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধেই লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজেন্দ্রনের অভিযোগ, “দলীয় নীতি বা আদর্শ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু কিছু নেতার আচরণে সাম্প্রদায়িকতার ছাপ দেখা যাচ্ছে। আজ সব দলেই (Kerala Elections 2026) ভেতরে ভেতরে সাম্প্রদায়িকতা রয়েছে—এবং তা খুবই সক্রিয়।”

    বিজেপির প্রার্থী 

    জানা গিয়েছে, যে আসনে একসময় তিনিই ছিলেন বামপন্থীদের মুখ, সেই আসনেই তিনি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। এই দলবদল শুধু প্রতীকী নয়, এটি তাঁর পুরানো দলের বিরুদ্ধে একটি রায়, এবং নতুন দলের ওপর একটি আস্থাও। যে দল সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করেছে এবং বহু বছর ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে এই অভিযোগই করেছিলেন, সেই দলের নেতৃত্বের মধ্যেও একই প্রবণতা রয়েছে বলে দাবি করেন রাজেন্দ্রন (Kerala Elections 2026)। এটি ব্যতিক্রম নয়, বরং খুব সক্রিয় বাস্তবতা। রাজেন্দ্রনের দলবদলকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে শুধু প্রতীক নয়, তাঁর যুক্তিও। তিনি জানান, রাগ বা আবেগ থেকে নয়, বরং “চূড়ান্ত মূল্যায়নের” পরেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, “মোদি সরকারের উন্নয়নের কথা বিবেচনা করলে, সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা কেন তাঁর কাছে যাব না? বিজেপিকে বলতে হবে সমস্যা কোথায়?” তিনি বলেন, “এই চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতেই আমরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছি।”

    অবহেলিত চা-বাগানের শ্রমিকরা

    তিনি জানান, দেবীকুলামের চা-বাগান অঞ্চলে ৪০ বছরের বামপন্থী রাজনীতি শ্রমিকদের জীবনে বাস্তবিকই কোনও পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। তিনি বলেন, “তাঁদের জীবনে প্রকৃত উন্নতি কিছুই হয়নি (Kerala Elections 2026)। দেবীকুলামের মানুষের সমস্যা কোনও একটি বিমূর্ত রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, এগুলি প্রতিদিনের বাস্তব সত্যই। রাজেন্দ্রনের অভিযোগ, বন দফতর ‘পট্টায়ম’ জমিতে হস্তক্ষেপ করছে যা আইনত কৃষকদের মালিকানাধীন। তিনি বলেন, “মানুষ নিজেদের জমিতেও ঢুকতে পারছে না।” রাজাদের আমল থেকে থাকা রাস্তা—যেমন নেরিয়ামঙ্গলম থেকে আদিমালি পর্যন্ত ৬–১২ কিমি দীর্ঘ পথ দখল করা (BJP) হচ্ছে। বহু প্রজন্ম ধরে ব্যবহৃত এই রাস্তাগুলির জন্য এখন স্থানীয়দের বিরুদ্ধেই মামলা হচ্ছে। এই ধরনের প্রতিটি দখলই উন্নয়নের পথে নয়া বাধার সৃষ্টি করছে।”

    কী বলছেন স্থানীয়রা

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন্যপ্রাণীর আক্রমণে প্রায়ই মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, মারা যাচ্ছে গবাদি পশুও। রাজেন্দ্রন বলেন, “সেদিনই হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির।  বাঘ, চিতা, বানর, ময়ূর—সবই মানুষের বসতির আরও কাছে চলে আসছে। এগুলি স্রেফ পরিসংখ্যান নয়। মানুষের মৌলিক অধিকারও অধরা রয়ে গিয়েছে। চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য প্রতিশ্রুত ঘর (লায়াম) এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। জাতিগত সনদ মেলেনি। বাসস্থানের অধিকার অনিশ্চিত।” তিনি বলেন, “দেবীকুলামের শ্রমিকদের উদ্দেশে রাজেন্দ্রনের বার্তা, তিনি তাঁদের পুরানো অভ্যাস ছেড়ে দিতে বলছেন না, বরং বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখায় উৎসাহী হতে বলছেন। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের কাছে জাত বা ধর্ম নয়, তাঁর কাছে আছে খিদে, সমস্যা আর কষ্ট। ”

    ইন্ডি জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও সন্দিহান

    তিনি বলেন, “কংগ্রেস দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি—না চার লেনের রাস্তা, না রেলপথ নির্মাণ, না পেনশন সংস্কার”। এলডিএফ রাজ্য পর্যায়ে সীমাবদ্ধ, জাতীয় পর্যায়ে আইন প্রণয়ন করতে পারে না। তিনি বলেন, “এলডিএফ এবং ইউডিএফ একজোট হলেও বড় কোনও আইনগত পরিবর্তন আনতে পারবে না (Kerala Elections 2026)।” ইন্ডি জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও সন্দিহান তিনি। বলেন, “যা করার, আগামী ১০ বছরের মধ্যেই করতে হবে।” প্রশ্ন হল, তার পরেও কেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, যখন কেন্দ্রে একটি শক্তিশালী সরকার ইতিমধ্যেই রয়েছে। রাজেন্দ্রনের প্রশ্ন, “৪০ বছরে আমরা এই আদর্শ নিয়ে কতদূর এগোলাম? আগামী প্রজন্ম কোথায় গিয়ে পৌঁছবে?”

    বস্তুত, এটি শুধু একটি অলঙ্কার নয়, বরং একজন মানুষের আত্মসমীক্ষা, যিনি জীবনের সেরা সময় একটি আদর্শের পেছনে ব্যয় করেছেন, এবং শেষে দেখেছেন সেই আদর্শ ক্ষমতা ধরে রাখার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তিনি মনে করেন (Kerala Elections 2026), শ্রমিকরা শুধু স্লোগান নয়, বাস্তব পরিবর্তনের যোগ্য। আর সেই পরিবর্তন, এই মুহূর্তে, গেরুয়া রঙেই (BJP) প্রতিফলিত হচ্ছে।

     

  • BJP: “সিপিআইএম নীতিকথা শোনায়, অথচ আমায় পঙ্গু করে দিয়েছে”, বললেন সদানন্দ মাস্টার

    BJP: “সিপিআইএম নীতিকথা শোনায়, অথচ আমায় পঙ্গু করে দিয়েছে”, বললেন সদানন্দ মাস্টার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি (CPIM) গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা ও সহনশীলতা নিয়ে তাদের আদর্শগত প্রতিপক্ষদের প্রায়ই নীতিকথা শোনায়। কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেরা যে কথা বলে, তা খুব কম ক্ষেত্রেই পালন করে। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় দেওয়া এক ভাষণে বিজেপি (BJP) সাংসদ সদানন্দন মাস্টার বর্ণনা করেন, কীভাবে গণতন্ত্র ও সহনশীলতার বুলি আওড়ানো সেই কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী)—সিপিআই(এম)—তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের কারণেই তিন দশক আগে তাঁর দুই পা কেটে নিয়েছিল।

    সংসদের ভেতরে নিজের কৃত্রিম পা (BJP)

    সংসদের ভেতরে নিজের কৃত্রিম পা দেখিয়ে সাংসদ সদানন্দন মাস্টার বলেন, “এই দুটোই আমার পা। একসময় আমার শক্ত দুটি স্বাভাবিক পা ছিল। কিন্তু এখন হাঁটুর নীচে আমি কৃত্রিম পা ব্যবহার করি। কেন? কারণ আমি বারবার এই সংসদে গণতন্ত্রের কথা শুনি—গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র। কিন্তু যারা সবচেয়ে বেশি গণতন্ত্রের কথা বলে, তারাই ৩১ বছর আগে আমার ওপর হামলা চালিয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “কেরালায় সিপিআই(এম)-এর নেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের কর্মীরা আমার বোনের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আমি যখন বাড়ি ফিরছিলাম, তখনই আক্রমণ করে। বোনের বিয়ে নিয়ে আলোচনা করে ফেরার পথে, একটি বাজারে বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দুষ্কৃতীরা আমায় ধরে ফেলে। তারা পেছন থেকে ধরে আমায় রাস্তায় ফেলে দেয় এবং আমার দু’পা কেটে নেয়। তারা তখন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিচ্ছিল। তারা গণতন্ত্রের কথাই চিৎকার করছিল।”

    সিপিআই(এম)-এর ভন্ডামি

    সিপিআই(এম)-এর ভন্ডামি তুলে ধরে রাজ্যসভার ওই সাংসদ বলেন, “আমি এখানে এগুলো (কৃত্রিম পা) দেখাচ্ছি কারণ আপনাদের অসহিষ্ণুতাকে জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। আমি দেশবাসীকে দেখাতে চাই, সংসদ সদস্যদের দেখাতে চাই, গণতন্ত্র আসলে কী। আপনারা (সিপিআইএম) সব সময় গণতন্ত্রের কথা বলেন, সহনশীলতার কথা বলেন, মানবতার কথা বলেন, অথচ আপনাদের রাজনীতি দাঁড়িয়ে আছে রাজনৈতিক হিংসার ওপর। রাজনৈতিক হিংসা গণতন্ত্রের পক্ষে কখনওই ভালো নয়।” সদানন্দন মাস্টারের এই কৃত্রিম পা প্রদর্শনে ক্ষুব্ধ হয়ে সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস সংসদের বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তোলেন। তবে চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন তাঁকে জানান, তাঁর দলের সাংসদরা যখন সংসদে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন, তখনও একই ধরনের কড়াকড়ি প্রয়োগ করা উচিত (BJP)।

    জীবনে মোড় ঘোরানো ঘটনা

    ১৯৯৪ সালে সি সদানন্দন মাস্টারের বয়স ছিল ৩০ বছর। তিনি তখন কেরালার মাট্টানুর পুরসভার পেরিঞ্চেরিতে অবস্থিত সরকার-অনুদানপ্রাপ্ত কুঝিক্কাল লোয়ার প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ‘মাশ’ নামে পরিচিত সদানন্দন কমিউনিস্ট পরিবার থেকেই উঠে এসেছিলেন। তাঁর বাবা সিপিএমের  সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তাঁর দাদা জেলা স্তরে ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন। সদানন্দন নিজেও ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত এসএফআইয়ের সক্রিয় সদস্য ছিলেন, যদিও স্কুলজীবন (CPIM) থেকেই তিনি সংঘ-সংক্রান্ত কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্নাতক পর্যায়ে তিনি কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রতি ঝুঁকলেও, আরএসএসের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ধারণা তাঁর মধ্যে রয়ে গিয়েছে। মালয়ালম কবি আক্কিথামের লেখা ‘ভারত দর্শনঙ্গল’ প্রবন্ধই তাঁর জীবনে মোড় ঘোরানো ঘটনা হয়ে ওঠে। ১৯৮৪ সালেই সদানন্দন মাস্টার আরএসএসে যোগ দেন। কমিউনিস্ট আদর্শ ছেড়ে সংঘের দিকে ঝোঁক নেওয়াটা বামপন্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। প্রথমে সিপিআই(এম) কর্মীরা তাঁকে সংঘ ছেড়ে কমিউনিস্ট দলে ফেরার জন্য চাপ দিতে থাকে। তিনি অস্বীকার করলে তারা বেছে নেয় হিংসার পথ (BJP)।

    বোনের বিয়ের প্রস্তুতি

    ১৯৯৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায়, তাঁর বোনের বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে কাকার বাড়ি থেকে ফেরার সময় বাস থেকে নামতেই কয়েকজন তাঁকে পেছন থেকে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং নির্মমভাবে মারধর করে। তারা ছিল সিপিআই(এম)-এর দুষ্কৃতী। তারা শুধু মারধর করেই থামেনি, নৃশংসভাবে তাঁর দুই পা কেটে নেয়। এই বর্বরতা চালানো হয়েছিল তাঁকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের ভয় দেখাতে, যাতে কেউ কমিউনিস্ট শিবির ছাড়ার সাহস না পায়। কিন্তু সদানন্দন মাস্টার ভেঙে পড়েননি। বরং আরএসএস ছাড়ার বা কমিউনিস্ট দলে ফেরার বদলে তিনি জাতীয় সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি বিজেপির টিকিটে কুথুপারাম্বা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সাহস ও আদর্শিক দৃঢ়তার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান (CPIM)।

    ভারতীয় বিচার কেন্দ্রম

    তিনি কেরালায় ন্যাশনাল টিচার্স ইউনিয়নের রাজ্য সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ‘দেশীয় অধ্যাপক বার্তা’ পত্রিকার সম্পাদক এবং আরএসএস-ঘনিষ্ঠ চিন্তাচর্চা প্রতিষ্ঠান ভারতীয় বিচার কেন্দ্রমের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনীত করেন। কেরালার ত্রিশূর থেকে রাজ্যসভা পর্যন্ত তাঁর যাত্রাপথ সাহসের প্রতীক। তিনি আজও জীবন্ত উদাহরণ, কীভাবে বাম-কমিউনিস্ট অসহিষ্ণুতা কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেই নয়, গণতন্ত্রকেও পঙ্গু করে দেয়। কমিউনিস্টরা শুধু রাজনৈতিক হিংসায়ই লিপ্ত নয়, বরং সেই অপরাধীদের ‘নায়ক’ হিসেবেও তুলে ধরে। ২০২৫ সালের অগাস্টে সদানন্দন মাস্টারের ওপর হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত আটজন সিপিআই(এম) কর্মীর জন্য দলটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করে। থালাসেরি সেশন আদালতের বাইরে এবং পরে মাট্টানুরে দোষীদের মালা পরানো, স্লোগান তোলা ও উল্লাসের দৃশ্য ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এই নৈতিক অধঃপতনের দৃশ্য ঘটেছিল মাট্টানুরের বিধায়ক ও প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজার উপস্থিতিতে (BJP)। যদিও সদানন্দন মাস্টার কমিউনিস্ট হিংসার শিকার হয়ে বেঁচে আছেন, সিপিআই(এম)-এর ইতিহাস রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও দলত্যাগীদের নৃশংসভাবে দমন করার। গত কয়েক দশকে কেরালায় কমিউনিস্ট ক্যাডারদের হাতে বহু বিজেপি-আরএসএস নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন (CPIM)।

     

LinkedIn
Share