Tag: Crime News Bengal

  • Samik-Sukanta Reaction: বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, বিরোধীদের অভিযোগে কড়া জবাব শমীক-সুকান্তর

    Samik-Sukanta Reaction: বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, বিরোধীদের অভিযোগে কড়া জবাব শমীক-সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদিকে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রকৃত মূল অভিযুক্তকে আড়াল করতেই এই ‘এনকাউন্টার’ ঘটানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

    ‘অপরাধীর ঠাঁই জেল বা মৃত্যু’— শমীকের কড়া বার্তা

    বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কোনও অপরাধীকে রেহাই দেওয়া হবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, খুন বা ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। শমীকের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে অপরাধচক্র ও দৌরাত্ম্য চলছিল, তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। কোনও রাজনৈতিক নেতার আশ্রয় বা প্রভাব খাটিয়ে কেউ পার পাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিল বিজেপি

    তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, মূল অভিযুক্তকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই পুলিশের এই পদক্ষেপ। সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তৃণমূলের বক্তব্যের আর জনসমর্থন বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। গত ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যের মানুষ তাদের কার্যকলাপ দেখেছেন।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে কামদুনি-সহ অতীতের একাধিক ঘটনায় তৃণমূলের ভূমিকা মানুষ ভোলেনি। তাই এই ধরনের অভিযোগকে সাধারণ মানুষ গুরুত্ব দেবে না।’’

    কামদুনি মামলার ফাইল পুনরায় খোলার দাবি

    বারুইপুর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে কামদুনি গণধর্ষণ মামলারও উল্লেখ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কামদুনি মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হোক এবং সেই মামলার তদন্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হোক।’’ তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনায় নির্যাতিতারা পূর্ণ বিচার পাননি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে গিয়েছে।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাস

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না। জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা রেখেই সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছেন। ফলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে।’’

    পুলিশের পদক্ষেপের পাশে সুকান্ত মজুমদার

    ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার পক্ষেই সওয়াল করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তার বক্তব্য, কোনও অভিযুক্ত যদি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়, তাহলে পুলিশ পাল্টা গুলি চালাতেই বাধ্য। সুকান্ত বলেন, ‘‘পুলিশের দিকে গুলি ছুড়লে পুলিশ তো আর জয়নগরের মোয়া ছুড়বে না, পাল্টা গুলিই চালাবে।’’

    কী দাবি পুলিশের?

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধস্থলে ঘটনাক্রমের পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সে আচমকা এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর পুলিশের দিকেই গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হলে অভিযুক্ত গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে পুলিশের ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে শাসক বিজেপি।

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বারুইপুর নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠক শুভেন্দুর

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর রওনা হওয়ার আগে মঙ্গলবার সকালে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, এখনও কী কী তথ্য সামনে এসেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে— সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর বারুইপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর আগেই পৌঁছল বিজেপির প্রতিনিধি দল

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, আগের সরকার আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্যাতিতার পরিবার সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ‘‘আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসিনি। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’’ একইসঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায়ও আশ্বাস দেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

    তদন্তে গতি, গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত

    বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধের প্রকৃত উদ্দেশ্য, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রতিনিধিরাও গেলেন

    মঙ্গলবার সকালে বিজেপির প্রতিনিধি দল বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক নেতা। এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বচসা বাধে। পরে স্থানীয় সাংসদ হওয়ার কারণে শুধুমাত্র সায়নী ঘোষকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    রবিবার থেকেই উত্তপ্ত বারুইপুর

    গত রবিবার স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় বারুইপুরে। দফায় দফায় বিক্ষোভে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই কিশোরীর খুনের সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুও হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও এসআইটি যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    সোমবারই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতার পরিবারের সমস্ত ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর বক্তব্য, “নির্যাতিতার বাবা যা যা চেয়েছেন, সবটাই করা হবে। পরিবার আমাদের উপর আস্থা রেখেছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” মঙ্গলবারের সফরে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করতে পারেন বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

LinkedIn
Share