Tag: Criminal Proceedings

  • Kerala HC: ‘নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পকসো আইনে দায় এড়ানো যাবে না’, জানিয়ে দিল কেরল হাইকোর্ট

    Kerala HC: ‘নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পকসো আইনে দায় এড়ানো যাবে না’, জানিয়ে দিল কেরল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৮ বছরের কম বয়সি স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে মুসলিম ব্যক্তিও শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের আওতায় ফৌজদারি মামলার মুখে পড়তে পারেন। মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (Muslim Personal Law) অনুযায়ী ওই বিয়ে বৈধ হলেও, তা শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের আওতা থেকে অভিযুক্তকে মুক্তি দেয় না। একটি মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে কেরল হাইকোর্ট (Kerala HC)। এক ব্যক্তির দায়ের করা আবেদনের শুনানি করছিল হাইকোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৬ এবং ৩৭৬(২)(এন) ধারায় এবং শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের ৬(১), ৫(এল) ও ১৫(১) ধারায় মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি ছিলেন প্রথম অভিযুক্ত।

    যা নিয়ে অভিযোগ (Kerala HC)

    অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি নাবালিকা মেয়েটিকে অপহরণ করে গাড়িতে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত টানা চার দিন তার ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হয়। অপর দুই অভিযুক্ত এই অপরাধ সংঘটনে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বলেও অভিযোগ। মেয়েটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও অপরাধের কথা কর্তৃপক্ষকে না জানানোর অভিযোগ ওঠে।

    আবেদনকারী আদালতে দাবি করেন, মেয়েটি তাঁর আইনসঙ্গত স্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সালে ইসলামি ধর্মীয় রীতি মেনে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। তখন মেয়েটির বয়স ছিল ১৭ বছর এক মাস। নিজের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার একটি ব্যতিক্রমের উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি ছিল, ১৫ বছরের বেশি বয়সি স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর যৌন সম্পর্ককে ওই বিধানের অধীনে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হত না। তবে তাঁর এই আবেদনের বিরোধিতা করে সরকারি পক্ষ এবং অভিযোগকারী।

    কেরল হাইকোর্টের বক্তব্য

    দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কেরল হাইকোর্ট জানায়, অভিযোগগুলিকে প্রাথমিকভাবে সত্য ধরে নিলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অপরাধের উপাদান স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় (Kerala HC)।

    আদালত অভিযুক্তের এই দাবিও খতিয়ে দেখে যে মেয়েটি তাঁর স্ত্রী ছিলেন। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত মূলত মেয়েটি, তার ভাই এবং যে মসজিদের কাজির উপস্থিতিতে বিয়ে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, তাঁর পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের প্রমাণ হিসেবে কোনও নথিপত্র আদালতে পেশ করা হয়নি।

    হাইকোর্ট জানায়, আদৌ বৈধ বিয়ে হয়েছিল কি না, তা বিচারপর্বেই নির্ধারণ করতে হবে। তবে আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, “বিতর্কের অবকাশ নেই যে, বিয়ের কোনও এক পক্ষ নাবালক বা নাবালিকা হলে, মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের অধীনে সেই বিয়ে বৈধ হোক বা না হোক, শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে।”

    অভিযুক্তের বক্তব্য খারিজ

    অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার ব্যতিক্রমের সুরক্ষা পাওয়ার যে যুক্তি দিয়েছিলেন, হাইকোর্ট তাও গ্রহণ করেনি। এ ক্ষেত্রে আদালত সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ওপর নির্ভর করেছে, যেখানে ওই ব্যতিক্রমের পরিধি সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্ত্রীর বয়স ১৮ বছরের কম হলে তাঁর সঙ্গে স্বামীর যৌন সম্পর্ক বা যৌন আচরণকে ধর্ষণের সংজ্ঞার বাইরে রাখা যায় না।

    ফলে শুধুমাত্র বিয়ের বৈধতার দাবি তুলে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের অধীনে দায় এড়ানো সম্ভব নয় বলে জানায় কেরল হাইকোর্ট (Muslim Personal Law)। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা বাতিলের আবেদনও খারিজ করে দেয় আদালত (Kerala HC)।

     

LinkedIn
Share