Tag: CRPF

CRPF

  • Election Commission: দ্বিতীয় দফায় রাজ্যে আসছে আরও ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি মোতায়েন

    Election Commission: দ্বিতীয় দফায় রাজ্যে আসছে আরও ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি মোতায়েন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (Election Commission) ২০২৬-এর নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি আধাসামরিক আগামী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, দুই দফায় মোট ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সেই অনুযায়ী, প্রথম দফায় ১ মার্চের মধ্যে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী ঢুকেছে। নির্ধারিত জেলায় পৌঁছে গিয়েছে প্রথম দফায় রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনী। এবার ১০ মার্চের মধ্যে রাজ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) এসে পৌঁছাবে। জেলায় জেলায় চালানো হবে কঠোর নজরদারি (Election Security)।দ্বিতীয় দফায় আসা ২৪০ কোম্পানি আগামী ১০ মার্চের মধ্যে রাজ্যে তাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে।

     

    জেলা ভিত্তিক মোতায়েন পরিকল্পনা (Election Commission)

    কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে রয়েছে সিআরপিএফ (CRPF), বিএসএফ (BSF), সিআইএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবি। নির্বাচনে (Election Commission) তাঁদের দ্বারা ইভিএম ও স্ট্রংরুম পাহারা, ভোটের দিন (Election Security) নিরাপত্তা, এলাকা দখলমুক্ত রাখা এবং আস্থা ফেরানোর কাজ করানো হবে। সব দায়িত্বের মূলে হল এলাকাকে ভয়মুক্ত করা। প্রত্যেক কোম্পানির ৯টি সেকশনের (Election Security) মধ্যে ৮টি সেকশন সরাসরি বুথ ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবে আর বাকি ১টি কিউআরটি ও তদারকির কাজে থাকবে।

     

    কোথায় কত বাহিনী

    ১০ মার্চের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সবথেকে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এই জেলায় আসছে ৩৩ কোম্পানি। বারুইপুর পুলিশ জেলায় ১৩, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় ১১ ও সুন্দরবন পুলিশ জেলায় বাহিনী মোতায়েন থাকছে ৯ কোম্পানি। জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে ২৮ কোম্পানি, পূর্ব বর্ধমানে ২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Election Commission) মোতায়েন করা হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২০, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৯, মালদায় ১৮, জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় ১৫, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১০ কোম্পানি মোতায়েন (Election Security) করা হচ্ছে।

    বাহিনী কোন কোন কাজ করবে?

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, এই বাহিনী (Election Commission) মূলত নিম্নলিখিত কাজগুলো সম্পন্ন করবে।

    • ১>এরিয়া ডমিনেশন: নিয়মিত টহলদারির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
    • ২>আস্থা বৃদ্ধি (Election Security): সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ তৈরি করা।
    • ৩>নজরদারি: বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য জিপিএস (GPS) এবং বডি ক্যাম ব্যবহার করা হবে।

    সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় সহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তির খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ১০ মার্চের মধ্যে আসা এই বাহিনীর একটি বড় অংশ এই জেলার ডায়মন্ড হারবার, বারুইপুর এবং সুন্দরবন পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনকে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

  • Naxals: ৩১ মার্চের মধ্যে আরও সক্রিয় নিরাপত্তা বাহিনী, নকশালদের স্মৃতিস্তম্ভগুলিকে ধ্বংসকর্ম চলছে জোরকদমে

    Naxals: ৩১ মার্চের মধ্যে আরও সক্রিয় নিরাপত্তা বাহিনী, নকশালদের স্মৃতিস্তম্ভগুলিকে ধ্বংসকর্ম চলছে জোরকদমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের ৩১শে মার্চের মধ্যে নকশালমুক্ত ভারত গড়ার কেন্দ্রের লক্ষ্যের দিকে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে, নিরাপত্তা বাহিনী শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বীজাপুর জেলায় চারটি মাওবাদী (Naxals) স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দিয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভগুলি ফারসেগড় এবং তারেম থানা এলাকার অধীনে অবস্থিত ছিল, যেখানে সম্প্রতি বছরগুলিতে তীব্র মাওবাদী দমন অভিযান চালানো হয়েছে।

    মাওবাদীদের প্রতীক স্তম্ভগুলি

    চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ছত্তিশগড়ের বাস্তার অঞ্চল মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তারা বিশাল অঞ্চলের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং শত শত স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছিল যা এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণের প্রতিনিধিত্ব করত। বস্তার অঞ্চলের পুলিশ মহাপরিদর্শক সুন্দররাজ পি বলেন, “মাওবাদীদের স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রতীক অপসারণ মাওবাদের প্রভাবের অবসান ঘটাবে। এই এলাকার স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধার, সুশাসন জোরদার এবং সমাজকে মূলধারায় একীভূত করার প্রক্রিয়া জোরদার করার জন্য এটি একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। মাওবাদীদের (Naxals) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করার মধ্যে তাদের প্রতীক এবং মানসিক প্রভাব দূর করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগে এই ধরনের স্মৃতিস্তম্ভগুলি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়, আধিপত্য এবং আদর্শকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মাওবাদীরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতো। তাদের অপসারণ স্পষ্ট বার্তা দেয় এই অঞ্চলে রাষ্ট্রের বৈধ কর্তৃত্ব এবং আইনের শাসন ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে মাওবাদী প্রভাব ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে।”

    ইঁটের মধ্যে থাকা মাওবাদী আদর্শকে খতম

    সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) ডিজি জিপি সিং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, “ইঁটের মধ্যে থাকা মাওবাদী আদর্শকে এক এক করে আমরা প্রতিটি রূপের প্রকাশকে ধ্বংস করে দেব।” এই মাসের গোড়ার দিকে, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) সুকমা (Chhattisgarh) জেলার গোগুন্ডা গ্রামে সিপিআই (মাওবাদী) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাভুলা শ্রীনিবাস ওরফে রামান্নার একটি স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলে। ৭৪ তম ব্যাটালিয়নের সহকারী কমান্ড্যান্ট বলেন,  “এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী (Naxals) প্রভাবের অধীনে ছিল এবং আগে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য আয়ত্তে ছিল না। ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি ফরোয়ার্ড অপারেটিং বেস স্থাপনের পর, বাহিনী সেখানে প্রবেশ করে এবং একটি যৌথ অভিযানে মাওবাদীদের সংগঠনকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ।

    অমিত শাহ আর ৪৪ দিন দিয়েছেন

    সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আবারও এই বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কয়েক দশক ধরে চলে আসছে শত শত বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য খুন করেছে মাওবাদ। দিল্লি পুলিশের ৭৯তম প্রতিষ্ঠা দিবসে বক্তব্য রাখার সময় শাহ এই আশ্বাস দিয়েছেন। নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য কেন্দ্রের সময়সীমা আগামী ৪৪ দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ৪৪টি নকশাল স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলা হয়েছে

    মাত্র কয়েকদিন আগে, বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলায় এক বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। গড়চিরোলি পুলিশ এবং সিআরপিএফ যৌথভাবে জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৪৪টি নকশাল-নির্মিত (Naxals) স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলে। এই অভিযানে ১৮টি দলের প্রায় ৮০০ জন সদস্য অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল অভিজাত সি-৬০ নকশাল-বিরোধী বাহিনী, বোমা সনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াড এবং সিআরপিএফ। স্মৃতিস্তম্ভগুলি বনাঞ্চলে অবস্থিত ছিল। বামপন্থী সন্ত্রাসীদের শক্ত ঘাঁটি, পেঙ্গুন্ডা, কাওয়ান্ডে এবং তুমারকোথির মতো এলাকায় ১৫টি পুলিশ পোস্ট এবং সাব-পোস্ট বাসানো হয়েছে। গডচিরোলি জেলার এটাপল্লিতে ১৮টি, হেদ্রিতে ১৭টি, ভামরাগড়ে পাঁচটি এবং জিমলাগট্ট, ধানোরা এবং পেন্ধারিতে আরও কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুলিশ সুপার নীলোৎপল জানিয়েছেন, মাওবাদী আন্দোলনের পরিকাঠামো ধ্বংস করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই ভাঙন চালানো হয়েছে।  ক্রমাগত নিরাপত্তা অভিযানের কারণে এই অঞ্চলে মাওবাদী কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

    ১৫ দিনে ৫৩টি স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলা হয়েছে

    বিজাপুর (Chhattisgarh) এবং গড়চিরোলিতে মাও-ধ্বংস অভিযান একটি বৃহত্তর, যৌথ প্রচেষ্টার অংশ। গত ১৫ দিনেই, সিআরপিএফ ছত্তিশগড়ের সুকমা, বিজাপুর এবং বস্তারে ৫৩টি নকশাল স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি রায়পুরে অনুষ্ঠিত বামপন্থী চরমপন্থা সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ অনুযায়ী এটি করা হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় পরিচালিত লোকেশন ম্যাপিংয়ের সাহায্যে, নিরাপত্তা বাহিনী ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ এই ধরণের সমস্ত পরিকাঠামো (Naxals) ধ্বংস করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এর পরে, জমিটি যাতে আশেপাশের বনের অংশে পরিণত হয় এবং মাওবাদী কার্যকলাপের কোনও চিহ্ন না থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

    এই অভিযানে সিআরপিএফ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে, অভ্যন্তরীণ গ্রামগুলিতে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছে। সম্প্রতি ধ্বংস করা স্মৃতিস্তম্ভগুলির মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের মে মাসে নারায়ণপুরে সিপিআই (মাওবাদী) সাধারণ সম্পাদক নাম্বাল্লা কেশব রাও ওরফে বাসভরাজু এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গড়িয়াবন্দে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রামচন্দ্র প্রতাপ রেড্ডি ওরফে চালপথীর মৃত্যুর পরে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভগুলি।

    গত তিন বছরে, নিরাপত্তা বাহিনী শুধুমাত্র বাস্তারে ৫২০ জনেরও বেশি মাওবাদীকে হত্যা করেছে এবং ১০০ টিরও বেশি স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করেছে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে, প্রায় ৬০টি স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে, সংখ্যাটি ১১৩-এ পৌঁছেছে, যা তীব্র দমন-পীড়নের ইঙ্গিত দেয়।

    তেলেঙ্গনা সীমান্তের কাছে কোমাটপল্লি গ্রামে অবস্থিত ৬৪ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভ, সবচেয়ে উঁচু স্তম্ভকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ধ্বংস করা হয়। গ্রামটি একসময় বিশাল মাওবাদী সমাবেশের সাক্ষী ছিল। ২০২২ সালে ‘শহিদ সপ্তাহ’ সমাবেশও ছিল, যেখানে সিনিয়র মাওবাদী নেতা এবং পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির ব্যাটালিয়ন ১-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একসময় ওই এলাকাটি নিরাপত্তা বাহিনীর নাগালের বাইরে ছিল, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

    অপারেশন কাগার এবং নকশালমুক্ত ভারতের জন্য কেন্দ্রের উদ্যোগ

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া অপারেশন কাগারের আওতায় এই ধ্বংসযজ্ঞ একটি বৃহত্তর জাতীয় কৌশলের অংশ। কেন্দ্র  নকশালদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে মাওবাদী ক্যাডারদের সম্পূর্ণরূপে উৎপাটন করার জন্য অভিযান জোরদার করেছে। সরকার সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাওবাদী ক্যাডারদের নির্মূল করার দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে, যার সঙ্গে রাস্তা সম্প্রসারণ, পরিবহণ সুবিধা, জল, বিদ্যুৎ এবং সরকারের অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রামবাসীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো উন্নয়নমুখী কাজও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এই কৌশলের অংশ হিসেবে, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র (গড়চিরোলি), ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং তেলঙ্গনা থেকে নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য এই অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের আওতায়, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF), এর অভিজাত কোবরা ইউনিট, জেলা রিজার্ভ গার্ডস DRG) এবং রাজ্য পুলিশ সহ প্রায় ১ লক্ষ আধা-সামরিক বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করে বামপন্থী সন্ত্রাসবাদ প্রভাবিত এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নকশাল সন্ত্রাসবাদের শেষ অবশিষ্ট ঘাঁটিগুলি থেকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা যায়।

    নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ১০৬ থেকে নেমে ১৮

    কেন্দ্রের নকশাল-বিরোধী অভিযানের সাফল্য ব্যাপক। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ১০৬ থেকে কমে ১৮-এ নেমে এসেছে। এই জেলাগুলির মধ্যে ১২টি জেলাকে নকশালবাদ (Naxals) দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত বলে মনে করা হত। তবে, এই সংখ্যা আরও কমে মাত্র ৬টি সবচেয়ে বেশি নকশাল-প্রভাবিত জেলায় দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর, কাঙ্কের, নারায়ণপুর এবং সুকমা, ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম এবং মহারাষ্ট্রের গধচিরোলি।

    ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), বিহার সরকার ঘোষণা করেছে বিহার এখন নকশালমুক্ত। বিশিষ্ট মাওবাদী সুরেশ কোডা, যিনি মুস্তাকিম নামেও পরিচিত, যার বিরুদ্ধে ৩ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, তার আত্মসমর্পণের পর বিহার মাওবাদী মুক্ত। একদিন আগে তিনি মুঙ্গের জেলা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এটি লক্ষণীয় যে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুসারে, বামপন্থী চরমপন্থীদের (এলডব্লিউই) দ্বারা প্রভাবিত জেলার সংখ্যাও কমে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে।

  • Naxals: ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কল্যাণেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য মিলেছে’, ছত্তিশগড়ে বললেন শাহ

    Naxals: ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কল্যাণেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য মিলেছে’, ছত্তিশগড়ে বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারের নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক কৌশল, পরিকাঠামো উন্নয়ন, মাওবাদীদের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং আত্মসমর্পণ নীতির সমন্বিত প্রয়োগ বামপন্থী চরমপন্থার (Naxals) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইতিবাচক ফল মিলেছে। রবিবার এ কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “৩১ মার্চের আগেই নকশাল সমস্যা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই যেন বিচ্ছিন্নভাবে না হয়।” রায়পুরে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে সভাপতিত্ব করে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযানকে একটি নিরবচ্ছিন্ন ‘গ্রিডে’র মাধ্যমে পরিচালনা করতে, যাতে এক অঞ্চল থেকে বিতাড়িত মাওবাদীরা প্রতিবেশী কোনও রাজ্যে আশ্রয় নিতে না পারে।’

    শাহ উবাচ (Naxals)

    বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, “ছত্তিশগড় এক সময় নকশাল (Naxals) হিংসার শক্ত ঘাঁটি ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের অধীনে এখন এটি উন্নয়নের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।” তিনি বলেন, “ছত্তিশগড়ের যুবসমাজ খেলাধুলা, ফরেনসিক বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় অগ্রগতি করছে, পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও সংরক্ষণ করছে।” তিনি বলেন, “নকশালবাদ বহু প্রজন্মকে দারিদ্র্য ও অশিক্ষার অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। ডাবল-ইঞ্জিন সরকার দেশ থেকে নকশালবাদের অভিশাপ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চেষ্টার কোনও কসুর করছে না, এবং এই সমস্যা এখন প্রায় শেষের পথে।” শাহ বলেন, “নিরাপত্তা ও উন্নয়ন – উভয় ক্ষেত্রেই ছত্তিশগড় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে এবং নকশাল-প্রভাবিত এলাকার (Naxals) মানুষদের জন্য সমান উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।” বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ছত্তিশগড়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকেও সভাপতিত্ব করেন শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “মোদী সরকারের কাছে নিরাপত্তা ও সুযোগ – দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

    উন্নতির সমান সুযোগ পাওয়া উচিত

    নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলের মানুষদের দেশের অন্যান্য অংশের মতোই যে উন্নতির সমান সুযোগ পাওয়া উচিত, এ কথাও ফের মনে করিয়ে দেন তিনি। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাঁই, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের বিশেষ সচিব। উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফ, বিএসএফ, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (ITBP) ও জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-র শীর্ষ আধিকারিকরা, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড ও তেলঙ্গনার ডিজিপিরা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা (Naxals)। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাঁই বলেন, “‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের সমন্বিত কৌশল—যেখানে নির্ভুল নিরাপত্তা অভিযান, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং মাওবাদীদের আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ একসঙ্গে নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট ফল দিচ্ছে।” তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে এবং অমিত শাহের দিশানির্দেশে ছত্তিশগড় দ্রুত ৩১ মার্চের মধ্যে নকশাল-মুক্ত রাজ্য হওয়ার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে (Amit Shah)।

    গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চল, যার মধ্যে সাতটি জেলা রয়েছে মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গনা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে গত কয়েক বছরে সেখানে জোরদার নকশাল-বিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে, যার ফলে চরমপন্থী আন্দোলন অনেকটাই দুর্বল হয়েছে (Naxals)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত ছত্তিশগড়ে সংঘর্ষে ৫০০-র বেশি নকশাল নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সিপিআই (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজুও রয়েছে। একই সময়ে প্রায় ১,৯০০ নকশালকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ২,৫০০-র বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে (Amit Shah)। উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা বলেন, “বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের (স্বরাষ্ট্র/ডিজিপি) উপস্থিতিতে রায়পুরে রবিবারের বৈঠকটি ছিল ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের জন্য শেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক।” সোমবার অমিত শাহ দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের জগদলপুরে তিনদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘বস্তার পান্ডুম মহোৎসব’-এর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন (Naxals)।

     

  • Jammu Kashmir Encounter: জম্মু ও কাশ্মীরে খতম তিন জইশ জঙ্গি, শাহের সফরের আগে উপত্যকায় বড় সাফল্য সেনার

    Jammu Kashmir Encounter: জম্মু ও কাশ্মীরে খতম তিন জইশ জঙ্গি, শাহের সফরের আগে উপত্যকায় বড় সাফল্য সেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে পৃথক দু’টি এনকাউন্টারে (Jammu Kashmir Encounter) নিহত হয়েছে মোট তিনজন জঙ্গি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফরের আগেই কিশতোয়ার ও উধমপুর জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হল তিন জন জইশ-ই-মহম্মদ সদস্যের। যা বড় সাফল্য বলেই মনে করছে বাহিনী। বুধবার সকালে উধমপুর জেলার একটি গুহায় আটকে পড়া দুই জইশ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যাতেই কিশতোয়ারে বরফে ঢাকা চাতরু অঞ্চলে গুলির লড়াইয়ে এক জইশ সদস্য নিহত হয়।

    পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গি নিহত

    উধমপুরের বসন্তগড় এলাকায় জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার একটি গোপন ডেরার খোঁজ পেয়েছিল নিরাপত্তাবাহিনী। একটি গুহার মধ্যে ছিল জঙ্গিদের গোপন আস্তানা। সেখানে ২ জঙ্গিকে শেষ করতে সফল হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। সেনা সূত্রে খবর, পাকিস্তান থেকে আসা একজন বেশ পরিচিত কমান্ডার মাভি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুবায়ের গুলির লড়াইয়ে মারা গিয়েছে। বাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে গুলির লড়াই চলে। এম৪ রাইফেল, একে ৪৭, প্রচুর পরিমাণে গোলা-বারুদ, বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে ওই ২ জঙ্গির থেকে।

    কীভাবে চলল অভিযান

    ৩ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তাবাহিনী শুরু করেছিল অপারেশন ‘কিয়া’। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশের থেকে নিরাপত্তাবাহিনী খবর পেয়েছিল এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গিরা। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সিআইএফ, সেনার এবং হোয়াইট নাইট কোর (16 Corps)- ও সিআরপিএফ জওয়ানদের নিয়ে গঠিত একটি যৌথবাহিনীর দল একত্রিত হয়ে ওই জইশ জঙ্গিদের খুঁজে বের করে নিঃশেষ করার কাজ শুরু করে। উধমপুরের বসন্তগড় এলাকায় জোপহার জঙ্গলে শুরু হয় নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযান। ঘন জঙ্গলের মধ্যে ক্যামেরা লাগিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল স্নিফার ডগদের। জঙ্গিদের উপস্থিতি টের পেতেই সাহায্য নেওয়া হয়েছিল এই প্রাণীদের। প্রায় সারারাত ধরে গুলির লড়াই চলেছে ওই জঙ্গলে। একাধিকবার গ্রেনেড ছুড়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। যে গুহার মধ্যে জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার খবর পাওয়া গিয়েছিল, সেই গোপোন আস্তানার মুখ লক্ষ্য করেই গ্রেনেড ছোড়া হয়েছিল নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে। তারপরই ২ জঙ্গিকে (কমান্ডার) খতম করতে সক্ষম হয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

    নজরদারি এখনও চলছে

    বৃহস্পতিবার তিন দিনের সফরে জম্মু-কাশ্মীরে আসছেন শাহ। তার আগে বুধবার বিকেলে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্স ডেল্টা, সেনার হোয়াইট নাইট কোর, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। জানা গিয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে কিশতোয়ারের দুর্গম দিছড়ে অঞ্চলে ফের জঙ্গি আনাগোনার খবর পেয়েই এই অভিযান চালায় বাহিনীয় আর তাতেই আসে সাফল্য। হোয়াইট নাইট কোর সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, অভিযান এখনও চালানো হচ্ছে। ওই এলাকায় এখনও চলছে নজরদারি। জানা গিয়েছে, প্রায় চারমাস ধরে এই এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল জঙ্গিরা। এখানে পাকাপাকি ভাবে ঘাঁটি গেড়ে এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। অন্যান্য জায়গা থেকে সাহায্য জোগাড় করে শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা।

  • Tiwari Commission Repot: প্রকাশ্যে আসতে চলেছে নেল্লি গণহত্যাকাণ্ডের রিপোর্ট, ঘোষণা হিমন্ত বিশ্বশর্মার

    Tiwari Commission Repot: প্রকাশ্যে আসতে চলেছে নেল্লি গণহত্যাকাণ্ডের রিপোর্ট, ঘোষণা হিমন্ত বিশ্বশর্মার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৮৩ সালে ঘটেছিল নেল্লি  গণহত্যাকাণ্ড। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গঠিত হয় তিওয়ারি কমিশন। ১৯৮৫ সালে রিপোর্টও (Tiwari Commission Repot) দেয় কমিশন। তার পর থেকে প্রায় চার দশক পার হয়ে গেলেও, প্রকাশ্যে আসেনি ওই রিপোর্ট। বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে এই রিপোর্ট পেশ করার কথা ঘোষণা করল অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার। অসমবাসী জানতে পারবেন বর্তমান নগাঁও জেলার এই নৃশংস গণহত্যার প্রকৃত সত্য।

    মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা (Tiwari Commission Repot)

    সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১৯৮৩ সালে নেল্লিতে একটি ভয়াবহ গণহত্যা ঘটেছিল। সেই সময় রাজ্য সরকার একটি কমিশন গঠন করেছিল, নাম ছিল তিওয়ারি কমিশন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই কমিশনের রিপোর্ট কখনও রাজ্য বিধানসভায় উপস্থাপন করা হয়নি। আসন্ন ২৫ নভেম্বরের বিধানসভার অধিবেশনে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ১৯৮৩ সালের নেল্লি গণহত্যার প্রেক্ষিতে গঠিত তিওয়ারি কমিশনের রিপোর্ট পেশ করব।” তিনি বলেন, “এটি অসমের ইতিহাসের একটি অংশ, যা পরে বিভিন্নভাবে বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ এবং সমাজবিজ্ঞানীরা স্টাডি এবং বিশ্লেষণ করেছেন। তাই এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে অন্তত মানুষ সেই সময়ে কী ঘটেছিল, তার সঠিক তথ্য জানতে পারবেন।”

    নেল্লি হত্যাকাণ্ড

    ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অসমের মধ্যাঞ্চলের নেল্লি এলাকায় এবং তার আশপাশে ঘটেছিল নেল্লি হত্যাকাণ্ড। এই সময় অসম আন্দোলন বা বিদেশি বিরোধী আন্দোলন ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মানুষ। সেই সময় এলাকার শয়ে শয়ে আদিবাসী বাঙালি মুসলমানদের বসতিতে আক্রমণ চালিয়েছিল। দা, বর্শা ও লাঠি হাতে নিয়ে উন্মত্ত জনতা তাদের ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল, অবরোধ করেছিল রাস্তা, যারা প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করেছিল, তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। মৃতদের অধিকাংশই ছিলেন নারী ও শিশু। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৮১৯ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৩২৭ জন নারী এবং ২৫৩ জন শিশু। যদিও মানবাধিকার সংগঠন এবং গবেষকদের মতে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এই হিসেবের তুলনায় অনেক বেশি। অভিযোগ, পুলিশ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে সিআরপিএফ পৌঁছনোর পর (Tiwari Commission Repot)।

    আন্দোলনকারীদের দাবি

    অসমের ১৪টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১২টিই শূন্য ছিল ১৯৮০ সাল থেকে। বিদেশি-বিরোধী আন্দোলনের জেরে ১৯৮২ সালে ভেঙে দেওয়া হয় বিধানসভাও। পরের বছর ৬ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয় চার দফায় হবে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচন। এই নির্বাচন বয়কট করেন অসম আন্দোলনের সমর্থকরা। তা সত্ত্বেও হিংসা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই ভোট হয়। জয়ী হয় কংগ্রেস। হিতেশ্বর সইকিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে সোনিয়া গান্ধীর দল। অসম আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন সংক্ষেপে, আসু। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও বহিষ্কার করা হোক। তাদের নাম মুছে ফেলা হোক ভোটার তালিকা থেকে। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা ছিল, বাংলাদেশের মানুষের অবাধ অনুপ্রবেশের জেরে বদলে যাবে অসমের জনসংখ্যাগত কাঠামো (Tiwari Commission Repot)।

    কাঠগড়ায় কংগ্রেস

    নেল্লি হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করতে হিতেশ্বর সইকিয়ার নেতৃত্বাধীন অসমের কংগ্রেস সরকার তৎকালীন আইএএস কর্তা ত্রিভুবন প্রসাদ তিওয়ারির নেতৃত্বে তিওয়ারি কমিশন গঠন করে। এই কমিশন ১৯৮৪ সালে মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর সইকিয়ার কাছে ৬০০ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট পেশ করে। যদিও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে আজও এই রিপোর্ট পেশ করা হয়নি বিধানসভায়। রিপোর্টে বলা হয়, সরকারের নথিপত্রে মাত্র তিনটি শ্রেণিবদ্ধ (classified) কপি সংরক্ষিত রয়েছে (Tiwari Commission Repot)। গত চার দশকে রিপোর্টটি কেন প্রকাশ করা হয়নি, তা অজানাই রয়ে গিয়েছে। অনেকে কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ায়।

    কেন প্রকাশ করা হয়নি রিপোর্ট

    যদিও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, রিপোর্টটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, “অসম সরকারের কাছে থাকা ৬০০ পৃষ্ঠার তিওয়ারি কমিশন রিপোর্টের কপিগুলিতে কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা ত্রিভুবন প্রসাদ তিওয়ারির সই ছিল না। তাই প্রতিবেদনটি আসল কি না, এ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা তখনকার বিভিন্ন কেরানির সাক্ষাৎকার নিয়েছি, ফরেনসিক পরীক্ষাও করেছি এবং রিপোর্টটি সত্য বলে জানতে পেরেছি। আগের বিভিন্ন সরকার রিপোর্ট প্রকাশ করার সাহস দেখায়নি। কিন্তু কোনও না কোনও সরকারকে এটি প্রকাশ করতেই হত। কারণ এটি আমাদের ইতিহাসের একটি অধ্যায় (Tiwari Commission Repot)।”

LinkedIn
Share