Tag: cultural diplomacy

  • Yogi Adityanath: লগ্নি টানতে সিঙ্গাপুর-জাপানের উদ্দেশে রওনা যোগী আদিত্যনাথের

    Yogi Adityanath: লগ্নি টানতে সিঙ্গাপুর-জাপানের উদ্দেশে রওনা যোগী আদিত্যনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ দিনের সফরে রবিবার সিঙ্গাপুর ও জাপানের উদ্দেশে রওনা দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। এই সফরের লক্ষ্য হল বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার (PM Modi) করা এবং উত্তরপ্রদেশকে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করা। একই সঙ্গে এই সফরকে সাংস্কৃতিক কূটনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশকে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। গত আট বছরে রাজ্যে এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানবন্দর, ডিফেন্স করিডর ও শিল্পকেন্দ্র-সহ দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। এখন লক্ষ্য হল, আরও বেশি করে বিদেশি সংস্থা ও উন্নত প্রযুক্তি আনা, যাতে উন্নয়নের গতি বাড়ানো যায়।

    কী বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা (Yogi Adityanath)

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উদ্যোগ অনেকের কাছে মনে করিয়ে দেয় ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির কৌশলের কথা। বৈশ্বিক সফর ও ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সম্মেলনের মাধ্যমে মোদি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানান এবং গুজরাটে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাকে আকৃষ্ট করেন। সুজুকি, হোন্ডা ও টয়োটার মতো জাপানি অটোমোবাইল সংস্থাগুলি সেই সময় গুজরাটে লগ্নি করে। সিঙ্গাপুরের নগর পরিকল্পনার ধারণাও অধ্যয়ন ও প্রয়োগ করা হয়। মোদি একবার বলেছিলেন, তিনি গুজরাটের মুখ হয়ে বিদেশে গিয়ে বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনতেন। যোগী আদিত্যনাথও উত্তরপ্রদেশের জন্য একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করছেন—সরাসরি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজ্যকে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর জন্য প্রস্তুত গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরছেন (Yogi Adityanath)।

    রোডশোর আয়োজন

    মুখ্যমন্ত্রী ২২ ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে পৌঁছবেন এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে থাকবেন। এই পর্যায়ে স্মার্ট সিটি উন্নয়ন, নগর পরিবহণ ব্যবস্থা, জল ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিনিয়োগকারী রোডশোর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে উত্তরপ্রদেশকে বিনিয়োগবান্ধব রাজ্য হিসেবে তুলে ধরা হবে। সিঙ্গাপুর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (SICCI) এবং ভারতের ফিকি (FICCI)-র মতো ব্যবসায়িক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে (PM Modi)। পরিকাঠামো, লজিস্টিকস, আবাসন ও ডিজিটাল পরিষেবা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হতে পারে (Yogi Adityanath)। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন, বিশেষত যাঁদের শেকড় উত্তরপ্রদেশে। আধিকারিকরা মনে করেন, প্রবাসী ভারতীয়রা বৈশ্বিক সংস্থা ও দেশের সুযোগের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর, আধুনিক আবাসন ও দক্ষ জনপরিষেবার জন্য সিঙ্গাপুর সুপরিচিত—এই মডেল থেকে শিক্ষা নিতে চায় উত্তরপ্রদেশ।

    সফর করবেন জাপানও

    ২৪ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যোগী আদিত্যনাথ জাপানের টোকিও, ইয়ামানাশি, ওসাকা ও কিয়োটো সফর করবেন। টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে “জাপান-উত্তরপ্রদেশ পার্টনারশিপ ফর ম্যানুফ্যাকচারিং, মবিলিটি, অ্যান্ড টেকনোলজি” শীর্ষক এক বড় ব্যবসায়িক সম্মেলন। অটোমোবাইল, বৈদ্যুতিক যান, ইলেকট্রনিক্স, রেল, রাসায়নিক ও লজিস্টিকস খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন (Yogi Adityanath)। জাপান ভারতের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। উত্তরপ্রদেশের ইতিমধ্যে ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের সঙ্গে একটি সমঝোতা রয়েছে। শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বৌদ্ধ পর্যটন, যোগ ও আয়ুর্বেদ নিয়ে আলোচনা হতে পারে (PM Modi)। সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলির একটি হল জাপানের উচ্চগতির ম্যাগলেভ ট্রেনে মুখ্যমন্ত্রীর ১০০ কিলোমিটারের পরীক্ষামূলক যাত্রা। এই ট্রেন চৌম্বকীয় লেভিটেশন প্রযুক্তিতে ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বেগে চলে এবং রেললাইনের স্পর্শ ছাড়াই চলাচল করে। উত্তরপ্রদেশ যেহেতু উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে ভাবছে, এই অভিজ্ঞতা উচ্চগতির রেল সম্ভাবনা বুঝতে সহায়ক হবে (Yogi Adityanath)।

    বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে

    যোগীর এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হতে পারে গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (YEIDA) অধীনে ‘জাপান সিটি’ ও ‘সিঙ্গাপুর সিটি’ গড়ে তোলার অগ্রগতি। জাপান সিটি ৫০০ একর জমিতে সেক্টর ৫এ-তে এবং সিঙ্গাপুর সিটি ৫০০ একর জমিতে সেক্টর ৭-এ গড়ে তোলা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ জমি শিল্পের জন্য, ১২ শতাংশ আবাসনের জন্য, ১৩ শতাংশ বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এবং ৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হবে। এই প্রকল্পগুলি ইপিসি মডেলে বাস্তবায়িত হবে। জাপান ও সিঙ্গাপুরের পরিকল্পনা মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। দুই দেশের সংস্থাগুলিকে কারখানা ও অফিস তৈরির জন্য জমি দেওয়া হতে পারে। সফল হলে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে (Yogi Adityanath)। এই সফরে যোগী আদিত্যনাথ তাঁর ঐতিহ্যবাহী গেরুয়া কুর্তা-চোলা পরিধান করবেন। নাথ সম্প্রদায়ের প্রধান পুরোহিত হিসেবে গেরুয়া তাঁর নিয়মিত পোশাক। তবে এই প্রথম কোনও ভারতীয় সাংবিধানিক পদাধিকারী সরকারি সফরে গেরুয়া পোশাকে বিদেশ সফর করবেন (PM Modi)।

    গেরুয়া ত্যাগ ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক

    সমর্থকদের মতে, এটি ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। ভারতীয় ঐতিহ্যে গেরুয়া ত্যাগ ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। জাপান, যা বৌদ্ধ মন্দির ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত, ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক শেয়ার করে। উত্তরপ্রদেশে সারনাথ ও কুশীনগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ তীর্থস্থান রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বৌদ্ধ পর্যটন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী টোকিও থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের একটি শান্ত মন্দিরেও যেতে পারেন। অনেকে মনে করেন, অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বন্ধনও এতে দৃঢ় হবে। যোগী সরকার জানিয়েছে, পরিকাঠামো ও ব্যবসার সুবিধার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে প্রায় ২৩ কোটি জনসংখ্যার এই রাজ্যে দ্রুত শিল্পোন্নয়ন অপরিহার্য (Yogi Adityanath)।

    জাপান থেকে বৈদ্যুতিক যান, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত উৎপাদন ও উচ্চগতির রেল ব্যবস্থায় বিনিয়োগ আকর্ষণের আশা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর থেকে স্মার্ট সিটি, জল পরিশোধন ও লজিস্টিক পার্কে দক্ষতা আনার লক্ষ্য রয়েছে (PM Modi)। এই বিদেশ সফর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নজর থাকবে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির ওপর। সফল হলে এটি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যের পথে বড় পদক্ষেপ হতে পারে। একই সঙ্গে গেরুয়া পোশাক পরিহিত এক মুখ্যমন্ত্রীর বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ভারতের উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শেকড়ে দৃঢ় থাকার বার্তাও বহন করতে পারে (Yogi Adityanath)।

     

  • Sacred Piprahwa Relics: ১২৭ বছর পরে দেশে ফিরল ‘পিপ্রাহওয়া’ বুদ্ধ স্তুপের ধ্বংসাবশেষ

    Sacred Piprahwa Relics: ১২৭ বছর পরে দেশে ফিরল ‘পিপ্রাহওয়া’ বুদ্ধ স্তুপের ধ্বংসাবশেষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১২৭ বছর পরে দেশে ফিরল ‘পিপ্রাহওয়া’ বুদ্ধ স্তুপের ধ্বংসাবশেষ। এই পিপ্রাহওয়া ধ্বংসাবশেষ-কে (Sacred Piprahwa Relics) মনে করা হচ্ছে ভারতের সাংস্কৃতিক যাত্রাপথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি ভারতের আত্মপরিচয়ের আধার হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এইভাবে পিপ্রাহওয়া ধ্বংসাবশেষের দেশে প্রত্যাবর্তন, ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে— বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে।

    সহায়তা করেছে ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশন

    এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রক ও বিদেশ মন্ত্রক। তাদের পাশাপাশি সহায়তা করেছে ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশন। প্রসঙ্গত, এই পবিত্র ধ্বংসাবশেষ (Sacred Piprahwa Relics) আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৮৯৮ সালে। এর আবিষ্কারক ছিলেন ব্রিটিশ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার উইলিয়াম ক্ল্যাক স্ট্যান্ডফোর্ড পেপে। এই আবিষ্কারটি হয়েছিল ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী বস্তি জেলা অঞ্চলে। এটি ছিল পিপ্রাহওয়া স্তুপ—
    যেটিকে অনেকে মনে করেন গৌতম বুদ্ধের ‘মহাভিনিষ্ক্রমণ’-এর (অর্থাৎ, রাজ্য ও ভোগবিলাস ত্যাগ করে সত্যের সন্ধানে যাত্রা) প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক স্থান।

    এই আবিষ্কারের ফলে পাওয়া গিয়েছিল (Sacred Piprahwa Relics)

    স্বর্ণমুদ্রা

    বিভিন্ন অলংকার

    মানুষের হাড়ের ধ্বংসাবশেষ

    ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা প্রাচীন শিলালিপি

    প্রাকৃত ভাষার ব্যবহার

    মোদি সরকারের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা (India)

    এই আবিষ্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—ধ্বংসাবশেষসহ—ব্রিটিশ উপনিবেশের সময় ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সংগ্রহশালায় (মিউজিয়ামে) সংরক্ষণ করা হয়। অনেক বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংসাবশেষ ভারতের নাগরিকদের নাগালের বাইরে ছিল। অবশেষে ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশন, যা একটি স্বশাসিত আন্তর্জাতিক সংস্থা। তারা এই ধ্বংসাবশেষ (Sacred Piprahwa Relics) ফেরত আনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহাসিক স্তুপ, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার এবং সংরক্ষণের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সারনাথ, কুশীনগর, বোধগয়া, লুম্বিনীসহ একাধিক পবিত্র বৌদ্ধ তীর্থক্ষেত্রের উন্নয়নে ব্যাপক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র ধর্মীয় ভাবনার নিরিখে নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্য, সহিষ্ণুতা ও প্রাচীন ঐতিহ্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগগুলিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়েছে।

LinkedIn
Share