Tag: Cyber Frauds

  • Suspect Registry: সাইবার জালিয়াতি দমনে বড় সাফল্য, লক্ষাধিক জাল লেনদেন রুখল কেন্দ্রের ‘সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি’

    Suspect Registry: সাইবার জালিয়াতি দমনে বড় সাফল্য, লক্ষাধিক জাল লেনদেন রুখল কেন্দ্রের ‘সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাইবার জালিয়াতির বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উদ্যোগে চালু হওয়া জাতীয় সাইবার অপরাধ ‘সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি’  (Suspect Registry) ইতিমধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকা বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই রেজিস্ট্রির মাধ্যমে লক্ষাধিক প্রতারণামূলক লেনদেন রিয়েল-টাইমে আটকানো সম্ভব হয়েছে।

    কী এই ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি

    ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই রেজিস্ট্রির উদ্বোধন করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (I4C) এই উদ্যোগটি পরিচালনা করছে। এর মূল উদ্দেশ্য—সাইবার অপরাধীদের আগেভাগেই শনাক্ত করে অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ করা। এই রেজিস্ট্রি তৈরি হয়েছে ন্যাশনাল সাইবারক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (NCRP)-এ নাগরিকদের জমা দেওয়া অভিযোগ, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ এবং বিভিন্ন পুলিশ দফতরের তথ্যের ভিত্তিতে।

    কীভাবে কাজ করে সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি

    বর্তমানে এই রেজিস্ট্রিতে প্রায় ১৪ লক্ষের বেশি সন্দেহভাজন সাইবার অপরাধীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— মোবাইল নম্বর, ই-মেল আইডি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, অন্যান্য ডিজিটাল পরিচয়। যখনই ইউপিআই, নেট ব্যাঙ্কিং বা ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে কোনও লেনদেন শুরু হয়, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট গেটওয়ে সেই তথ্য সাসপেক্ট রেজিস্ট্রির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যদি কোনও সন্দেহভাজন সাইবার অপরাধীর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়, তাহলে লেনদেনটি সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছনোর আগেই তা আটকানো সম্ভব হচ্ছে।

    এআই প্রযুক্তির ব্যবহার

    এই রেজিস্ট্রিতে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর ডেটা অ্যানালিসিস ও প্যাটার্ন রিকগনিশন টুল। নতুন অভিযোগ ও তথ্য যুক্ত হওয়ায় রেজিস্ট্রিটি প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে, যা একে আরও কার্যকর করে তুলছে। সাসপেক্ট রেজিস্ট্রির অ্যাক্সেস রয়েছে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে। সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED), রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশ এই রেজিস্ট্রি ব্যবহার করতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ইতিমধ্যেই সব ব্যাঙ্ককে এই রেজিস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    কতটা সাফল্য মিলেছে

    সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ চালু হওয়ার পর প্রথম ৯০ দিনের মধ্যেই— ৬.১০ লক্ষের বেশি প্রতারণামূলক লেনদেন বাতিল করা হয়েছে। প্রায় ১৮০০ কোটি টাকার ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৮,০৩১.৫৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সরকারি সূত্র স্পষ্ট করেছে, এই সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি জিএসটি জালিয়াতি শনাক্ত করার জন্য নয়। এটি শুধুমাত্র ফিশিং, অনলাইন প্রতারণা, ভুয়ো অ্যাপ, আইডেন্টিটি থেফট ও ডিজিটাল আর্থিক অপরাধ মোকাবিলার জন্য তৈরি। এই রেজিস্ট্রি তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে, যাতে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি নাগরিকদের গোপনীয়তাও বজায় থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি ভারতের জন্য একটি গেম-চেঞ্জার, যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্রতারণা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনবে।

LinkedIn
Share