তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল
ত্বকের মসৃণ ভাব ক্রমশ কমে আসছে! ত্বকের রং বদলে যাচ্ছে। এমনকি গাল, নাক ও থুতনির নীচে কালচে ছোপ, ক্রমশ গভীর হচ্ছে। তার সঙ্গে বারবার ব্রণ দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ত্বকের সমস্যা বলে এড়িয়ে গেলে চলবে না। বরং, বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। কারণ, অনেক সময়েই এগুলো এক গভীর রোগের উপসর্গ হিসাবে জানান দেয়। কিন্তু অসচেতনতার কারণে শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।
কোন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে?
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ত্বকের এই ধরনের উপসর্গ লিভারের রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভারের অসুখ সম্পর্কে সচেতনতা কম। শুধু হেপাটাইটিস লিভারের রোগ নয়। এছাড়াও লিভারে একাধিক সমস্যা হয়।
লিভারের বিষাক্ত উপাদান বেড়ে যাওয়ায় কালো ছাপ!
লিভারে টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান তৈরি হলে বিপাকক্রিয়ায় সমস্যা দেখা যায়। তার জেরে শরীরের একাধিক কোষে প্রভাব পড়ে। ত্বকের মেলানোসাইট কোষগুলোতে পরিবর্তন হয়। অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি হয়। এর ফলেই কোষের রং পরিবর্তন হতে পারে। থুতনি, গালের বিভিন্ন অংশে কালো ছাপ দেখা দেয়।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় ব্রণ!
লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে থাকলে শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অ্যান্ড্রোজেন এবং ইস্ট্রোজেন নামে দুই হরমোন বেড়ে যায়। এই দুই হরমোনের ভারসাম্যহীনতার জেরেই মুখের সিবেসিয়াস গ্রন্থীতে অতিরিক্ত তৈলাক্ত উপাদান তৈরি হতে থাকে। যার ফলে মুখে বারবার ব্রণ দেখা দেয়। ব্রণের সমস্যা কমতে চায় না।
ইস্ট্রোজেন বেড়ে যাওয়ায় শিরা ফুলে যায়!
অনেকের নাক ও মুখের শিরা লাল হয়ে ফুলে যায়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শরীরের হরমোন ভারসাম্যের জন্য লিভারের কার্যক্ষমতা ঠিকমতো থাকা জরুরি। সেটায় ব্যাঘাত হলেই ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে, ত্বকের নীচে থাকা রক্তনালী প্রসারিত ও স্ফিত হয়ে যায়। এর জেরেই মুখে বিশেষত নাক ও তার আশপাশের জায়গার শিরা ফুলে যায়। লালচে দেখায়।
বিলিরুবিন বেড়ে যাওয়ায় ত্বকের রং বদলে যায়!
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই ত্বক ফ্যাকাসে দেখায়। আবার ত্বকের স্বাভাবিক উজ্বলতা এবং মসৃণ ভাব নষ্ট হয়ে যায়। এর নেপথ্যে থাকে লিভারের সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভারের ক্ষতি হলে শরীরে বিলিরুবিন নামে একটি উপাদান বেড়ে যায়। এর ফলে ত্বক, চোখ উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। ফ্যাকাসে হয়ে যায়।
কেন বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ?
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে লিভারের অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ লিভারের অসুখে আক্রান্ত। যেকোনো ধরনের লিভারের রোগ তাদের রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে লিভারের অসুখ রয়েছে। কিন্তু উদ্বেগজনক হলো, অধিকাংশ আক্রান্ত লিভারের অসুখ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না। ফলে, অনেক সময়েই গভীর সমস্যা তৈরি হয়। হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে লিভারের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকলে লিভারের রোগের প্রকোপ বাড়ে। তাছাড়া যাদের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে, তাদের মধ্যেও লিভারের রোগের ঝুঁকি বেশি হয়। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তের ত্বকে কোনো সমস্যা বারবার দেখা দিলে, তাঁর আরও বেশি সচেতন হতে হবে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।
