Tag: Deepawali

Deepawali

  • Deepawali in Ayodhya: দীপাবলির আগে আলোকমালায় সেজে উঠল অযোধ্যার রাম মন্দির, নজরকাড়া আলোকসজ্জায় মুগ্ধ ভক্তরা

    Deepawali in Ayodhya: দীপাবলির আগে আলোকমালায় সেজে উঠল অযোধ্যার রাম মন্দির, নজরকাড়া আলোকসজ্জায় মুগ্ধ ভক্তরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির (Deepawali in Ayodhya) আগে আলোর অপরূপ সাজে সেজে উঠেছে রামনগরী অযোধ্যা। আসন্ন দীপোৎসবকে কেন্দ্র করে ঝলমলে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির চত্বর। আধুনিক আলোর সাজে মন্দিরের অপূর্ব রূপ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে ভক্তদের। উৎসবের আবহে মন্দিরের এই অপরূপ দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি (Ram Janmabhoomi Mandir Ayodhya) তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরের স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে বিশেষ আলোকসজ্জা। ট্রাস্টের তরফে প্রকাশিত একাধিক ছবিতে দেখা গিয়েছে, বর্ণিল আলোর সাজে ঝলমল করছে গোটা মন্দির চত্বর। দীপোৎসবের আগে এই সাজে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে রাম জন্মভূমি মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

    দীপোৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রামচন্দ্রের অযোধ্যা প্রত্যাবর্তনের কাহিনি

    দীপোৎসবের সঙ্গে অযোধ্যার সম্পর্ক বহু প্রাচীন। রামায়ণের কাহিনি অনুযায়ী, ১৪ বছরের বনবাস শেষে ভগবান শ্রী রাম, মাতা সীতা এবং লক্ষ্মণের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নগরবাসী সারি সারি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছিলেন। সেই ঐতিহ্য থেকেই দীপাবলিতে প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা চলে আসছে। অন্ধকারের উপর আলোর জয় এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবেই পালিত হয় দীপাবলি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিশ্বের নানা জায়গায় এই উৎসব পালিত হলেও রামচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত অযোধ্যার দীপোৎসবের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য আলাদা।

    ভক্তির প্রদীপ জ্বালাতে আহ্বান, মন্দির ট্রাস্টের

    ট্রাস্টের সাম্প্রতিক পোস্টেও সেই ভক্তি ও ঐতিহ্যের কথাই তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাস্টের বার্তায় জানানো হয়েছে, দীপোৎসবের অপেক্ষায় দিব্য আলোয় সেজে উঠেছে গোটা শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির প্রাঙ্গণ। বড় বড় গেট লাগানো হয়েছে রাজপথে। রাস্তার দু’ধারে মায়াবী আলো। একই সঙ্গে ভক্তদের এই পুণ্যলগ্নে ভক্তির প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দীপাবলির আগে আলোয় সেজে ওঠা রাম জন্মভূমি মন্দির যেন ভক্তি, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য ছবি তুলে ধরছে। ভগবান শ্রী রামের নামে দীপাবলি উদযাপনের প্রস্তুতিতে এখন উৎসবমুখর রামনগরী অযোধ্যা।

  • Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বরকে ‘দীপাবলি দিবস’ (Deepawali) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বাসিন্দাদের আলোর উৎসব দীপাবলি উদ্‌যাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ভারতীয়-আমেরিকান (Indian Americans) সম্প্রদায়ের কাছে দীপাবলির গভীর সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে তুলে ধরার পাশাপাশি ঐক্য, উদারতা, ইতিবাচকতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্লেষণের মতো সর্বজনীন মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই স্বীকৃতি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘সফট পাওয়ারে’রও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    দীপাবলির সর্বজনীন বার্তাকে স্বীকৃতি (Indian Americans)

    ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি ২০ অগাস্ট, বৃহস্পতিবার, এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। অ্যাসেম্বলি সদস্য দর্শনা প্যাটেল এবং অ্যাশ কালরা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। দীপাবলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়-আমেরিকান এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বৃহত্তর ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি অ্যাসেম্বলি তার “গভীরতম শ্রদ্ধা” প্রকাশ করেছে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “অ্যাসেম্বলি চলতি বছরের দীপাবলি উৎসবকে রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের এই আনন্দময় উদ্‌যাপনের দিনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে।”

    আমেরিকাজুড়ে দীপাবলির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকার সময়েই ক্যালিফোর্নিয়ার এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক রীতি ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন উৎসব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উৎসব পরিবার, বন্ধু ও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করে। উদারতা, ঐক্য, আনন্দ, কৃতজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্লেষণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী পালন করে। সাধারণত ঘরবাড়ি মোমবাতি, তেলের প্রদীপ, মাটির প্রদীপ দিয়ে আলোকিত করা হয়। অনেক জায়গায় আতশবাজিও পোড়ানো হয় দীপাবলি উদ্‌যাপনের অন্যতম অংশ হিসেবে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই ঐতিহ্যগুলির মধ্যে নিহিত রয়েছে অশুভের বিরুদ্ধে শুভর জয়ের বৃহত্তর বার্তা। একই সঙ্গে সংগ্রাম অতিক্রম করা, নেতিবাচকতা থেকে মুক্তি, ইতিবাচকতা ও বিনয়কে গ্রহণ করা এবং ব্যক্তিগত প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের প্রতি সদয় থাকার মতো মূল্যবোধের সঙ্গেও দীপাবলির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, “যাঁরা দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন, তাঁদের কাছে এই উৎসব জ্ঞান, বিকাশ ও সুখের প্রতি অঙ্গীকারের সময়। এটি আত্মবিশ্লেষণেরও সময়, যা প্রজ্ঞা, দয়া এবং পরিবর্তনের গুরুত্বকে তুলে ধরে।”

    ভারতীয়-আমেরিকানদের অবদানেও জোর

    ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও অ্যাসেম্বলি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। ২০২৬ সালের দীপাবলিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে জাতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার এবং দীপাবলির সঙ্গে যুক্ত মূল্যবোধগুলি বোঝার আহ্বান জানানো হয়েছে (Indian Americans)।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে সুস্বাস্থ্য, সম্পদ, জ্ঞান, শান্তি ও সমৃদ্ধি উদ্‌যাপনের একটি সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার, বন্ধু ও বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ফলে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দীপাবলি দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। রাজ্যের বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আলো, আশা ও ইতিবাচকতার বার্তাকে উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে স্টেট অ্যাসেম্বলি।

    ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের কাছে এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে (Deepawali) গভীরভাবে যুক্ত একটি উৎসবকে সরকারি স্তরে মর্যাদা দেওয়া হলো। ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি পেনসিলভানিয়া, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং টেক্সাসও বিভিন্ন সময়ে দীপাবলিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সরকারি পর্যায়ে উৎসব উদ্‌যাপনের উদ্যোগও নিয়েছে (Indian Americans)।

     

  • Diwali Phone Call: “দুই দেশ যেন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ায়”, ট্রাম্পকে বললেন মোদি

    Diwali Phone Call: “দুই দেশ যেন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ায়”, ট্রাম্পকে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) দীপাবলির শুভেচ্ছা (Diwali Phone Call) জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেজন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের যৌথ প্রচেষ্টার আশাও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই কথোপকথন হয়েছে এমন একটা সময়ে যখন আমেরিকা ক্রমশ পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য কুখ্যাত এই পাকিস্তান।

    মোদির বার্তা (Diwali Phone Call)

    বুধবার এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আপনার ফোন কল এবং উষ্ণ দীপাবলি শুভেচ্ছার জন্য।” তিনি বলেন, “এই আলোর উৎসবে আমাদের দুই মহান গণতন্ত্র যেন আশার আলোয় বিশ্বকে আলোকিত করে এবং সকল প্রকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ায়।” দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে এই ফোনালাপ এমন একটা সময়ে হয়েছে, যখন বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক একপ্রকার তলানিতে ঠেকেছে। এদিন ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে এবং দীপাবলির শুভেচ্ছা জানাতে তিনি ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে।

    ‘একজন মহান ব্যক্তি ও খুব ভালো বন্ধু’

    প্রসঙ্গত, ওভাল অফিসে (Diwali Phone Call) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প মোদিকে ‘একজন মহান ব্যক্তি’ এবং ‘খুব ভালো বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের জনগণকে দীপাবলির শুভেচ্ছাও জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি ভারতের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আজই আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেছি। তিনি এ বিষয়ে খুব আগ্রহী।”  তিনি বলেন, “আমরা কিছুক্ষণ আগে কথা বলেছিলাম। আমি বলেছিলাম, চলুন পাকিস্তানের সঙ্গে যেন কোনও যুদ্ধ না করি। সেখানে বাণিজ্য বিষয়টিও আলোচনায় এসেছিল। আমি এ বিষয়ে কথা বলতে পেরেছিলাম। আর এখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও যুদ্ধ নেই। এটা খুবই ভালো একটা বিষয় (PM Modi)। তিনি একজন মহান মানুষ এবং বছরের পর বছর ধরে তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছেন (Diwali Phone Call)।”

  • PM Modi: দীপাবলি উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি প্রধানমন্ত্রীর, কী লিখলেন তিনি?

    PM Modi: দীপাবলি উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি প্রধানমন্ত্রীর, কী লিখলেন তিনি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলি উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি (Deepawali Letter) লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এই চিঠিতে আধ্যাত্মিক ভাবনা ও দেশপ্রেমের অঙ্গীকার গাঁথা রয়েছে এক সূত্রে। প্রধানমন্ত্রীর লেখা চিঠিতে যেমন তুলে ধরা হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুরে’র প্রসঙ্গ, তেমনি উঠে এসেছে মাওবাদী দমনের প্রসঙ্গ এবং দেশিয় জিনিসপত্রের চাহিদার কথাও।

    শ্রীরামের শিক্ষা (PM Modi)

    শ্রীরামের ধর্ম (ন্যায়) ও বীরত্বের আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে কীভাবে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও সমষ্টিগত উন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিক ভারত আজ সেই একই গুণাবলি ধারণ করছে, চিঠিতে তা-ও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পর এটাই দ্বিতীয় দীপাবলি। শ্রীরাম আমাদের শিখিয়েছেন ন্যায়কে রক্ষা করতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস জোগাতে।” তিনি বলেন, “কয়েক মাস আগে পরিচালিত সামরিক অভিযান ‘সিঁদুর’-এর মধ্যেও শ্রীরামের শিক্ষার এক জীবন্ত উদাহরণ আমরা দেখেছি। “অপারেশন সিঁদুরের সময় আমরা এর বাস্তব রূপ প্রত্যক্ষ করেছি।” চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেছেন সশস্ত্র বাহিনীর সাহস ও নিখুঁত পরিকল্পনারও।

    অপারেশন সিঁদুর

    দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বেছে বেছে ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। তারই প্রতিক্রিয়ায় পক্ষকাল পরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটিতে অপারেশন সিঁদুর চালায় ভারত। ওই সামরিক অভিযানে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি। ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার যৌথ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ওই অভিযানে সীমান্তের ওপারে থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলি ধ্বংস করা হয়। খোলা চিঠিতে সেই অভিযানেরই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী একযোগে নৈতিক স্বচ্ছতা এবং জাতীয় শক্তির জোরালো বার্তাই দিলেন বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।

    প্রসঙ্গ: মাওবাদ

    দীপাবলি বার্তায় অভিযানটির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) একে ভারতের অন্যায় ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেন। এটি উৎসবের আধ্যাত্মিক ভাবনা, অর্থাৎ অসৎ-এর ওপর সৎ-এর জয়” ধারণার সঙ্গে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি বলেন, “এ বছরের দীপাবলি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই প্রথমবার এমন জেলাগুলিতে প্রদীপ জ্বালানো হবে, যেগুলো একসময় নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসের জেরে ক্ষতিগ্রল্ত হয়েছিল।” তিনি বলেন, “এগুলো সেই জেলা যেখানে নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসকে মূল থেকে সমূলে উপড়ে ফেলা হয়েছে।” হিংসা ছেড়ে সমাজের মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রাক্তন উগ্রপন্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে একটি বড় জাতীয় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে (Deepawali Letter) আমরা দেখেছি বহু ব্যক্তি হিংসার পথ ছেড়ে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হচ্ছেন। তাঁরা আমাদের সংবিধানের প্রতি আস্থাও প্রকাশ করছেন।”

    অর্থনৈতিক অগ্রগতি

    ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকটিও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেশটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার পথে এগোচ্ছে।” এই সাফল্যকে শুধু অর্থনৈতিক মাইলফলক হিসেবে নয়, বরং দেশ-গঠনের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “একটি বিকশিত এবং আত্মনির্ভর ভারত (Aatmanirbhar Bharat) গঠনের এই যাত্রায় নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হল, জাতির প্রতি আমাদের কর্তব্য সম্পূর্ণভাবে পালন করা।” তিনি সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংস্কারেরও প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন কীভাবে নাগরিকরা কম করের সুবিধা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নবরাত্রির প্রথম দিনেই কম জিএসটি হার কার্যকর হয়েছে। এই জিএসটি বচত উৎসব (সঞ্চয় উৎসব)-এর সময় দেশের নাগরিকরা হাজার হাজার কোটি টাকা সঞ্চয় করছেন।”

    এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত

    প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠিতে (PM Modi) সামাজিক শৃঙ্খলা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তাও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। দেশবাসীকে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন এমন এক মূল্যবোধ বজায় রাখতে, যা ভারতের ঐক্য ও স্বাস্থ্যকে দৃঢ় করে। তিনি লিখেছেন, “আসুন, এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত-এর চেতনা জাগ্রত করি আমরা। সব ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি। নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি অগ্রাধিকার দিই।” স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য একটি ব্যক্তিগত আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, “চলুন আমরা আমাদের খাবারে তেলের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমাই এবং যোগকে জীবনের অংশ করি (Deepawali Letter)।” চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “দীপাবলি আমাদের শেখায় যে, যখন একটি প্রদীপ আর একটি প্রদীপ জ্বালায় তখন তার আলো কমে না, বরং আরও বেড়ে যায়। ঠিক সেই মনোভাবেই আসুন আমরা এই দীপাবলিতে আমাদের সমাজ ও পরিবেশে সম্প্রীতি, সহযোগিতা এবং ইতিবাচকতার প্রদীপ প্রজ্বলন করি (PM Modi)।”

  • AMU: ১০৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম! আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হল দীপাবলি উৎসব, বিলি হল মিষ্টিও

    AMU: ১০৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম! আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হল দীপাবলি উৎসব, বিলি হল মিষ্টিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একশো চার বছরের ইতিহাসে এই প্রথম দীপাবলি (Deepawali) পালিত হল আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) প্রাঙ্গনে (AMU)। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু পড়ুয়ারা ২ হাজার ১০০টি দীপ জ্বালান। সঙ্গে দেন ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি। ১৯ অক্টোবর দীপাবলি উদযাপিত হয় নন-রেসিডেন্ট স্টুডেন্ট সেন্টারে।

    জয় শ্রীরাম লেখা (AMU)

    জানা গিয়েছে, এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে দীপাবলি পালন করেন। তাঁরা জ্বালান ২ হাজার ১০০টি প্রদীপ। প্রদীপগুলি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে এক ঝলক দেখলেই বোঝা যায়, জয় শ্রীরাম লেখা। এএমইউ লেখাও ছিল। ২ হাজার ১০০ কিলো মিষ্টিও বিলি করা হয়। অনুষ্ঠানের মহিমা বাড়িয়ে তোলে রাতের আকাশে আতশবাজির রোশনাই। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক এম ওয়াসিম আলি স্বয়ং। তিনিও মিষ্টিমুখ করেন। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দু’টি স্থানীয় থানার পুলিশ কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছিল। এদিন বাইরের কাউকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

    পড়ুয়াদের বক্তব্য

    অনুষ্ঠানের উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন সমাজবিজ্ঞান ও গণযোগাযোগ বিভাগের ছাত্র আখিল কৌশল। বিশ্ববিদ্যালয় (AMU) প্রশাসনের কাছ থেকে আগেই অনুষ্ঠানের অনুমতি নিয়ে রেখেছিলেন তিনি। সেই মতো এদিন সকাল থেকেই শুরু হয় অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন করার প্রস্তুতি। অখিল কৌশল বলেন, “এটি আমাদের সবার জন্য এক ঐতিহাসিক দিন।” তিনি বলেন, “এর আগে হিন্দু ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে হোলি উদযাপনের অনুমতি পেয়েছিলেন। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছিল ওই অনুষ্ঠান। এটাই সুগম করে দিয়েছিল দীপাবলি উদযাপনের পথ।” তিনি বলেন, “আমরা আমাদের বিশ্বাসকে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম, এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে (Deepawali)।”  প্রফেসর ওয়াসিম আলি এই উদযাপনকে এএমইউয়ের ইতিহাসে প্রথম বলে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে দীপাবলির অনুষ্ঠান (AMU)।

LinkedIn
Share