Tag: Defence News India

  • IAF Jet Crashes: অসমে দুর্ঘটনার কবলে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান, হত ৫ সেনাকর্মী

    IAF Jet Crashes: অসমে দুর্ঘটনার কবলে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান, হত ৫ সেনাকর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রুটিন মহড়া চলাকালীন অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে ভারতীয় বায়ুসেনার এএন-৩২ পরিবহণ বিমান (IAF Jet Crashes)। শনিবার অসমের (Assam) জোরহাট এয়ার ফোর্স স্টেশনে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বায়ুসেনার পাঁচ কর্মী। বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন বিমানের কো-পাইলট। চিকিৎসা চলছে তাঁর। বায়ুসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে দমকল ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। দুর্ঘটনার পর বায়ুসেনার পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।

    দুর্ঘটনায় হত ৫জনের পরিচয় (IAF Jet Crashes)

    দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে বায়ুসেনা। নিহতরা হলেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম। বায়ুসেনা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে, দিয়েছে এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই একটি কোর্ট অফ ইনকোয়ারি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সঠিক কারণ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

    কী বললেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী?

    এএন-৩২ বিমান মূলত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পার্বত্য এলাকা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায়ও এই বিমান উদ্ধার অভিযান চালায় এবং রসদ পৌঁছে দেয়। বিমানটি প্রায় সাড়ে ৭ টন পর্যন্ত জিনিসপত্র বহন করতে পারে। ক্ষমতা রাখে একসঙ্গে প্রায় ৫০ জন সেনাকর্মী পরিবহণেরও। জোরহাট বায়ুসেনা ঘাঁটি উত্তর-পূর্ব ভারতের (IAF Jet Crashes) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি। অসম-সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামরিক অভিযান, রসদ সরবরাহ এবং কৌশলগত কার্যক্রমে এই ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে (Assam)। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “জোরহাটে বায়ুসেনার একটি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি (IAF Jet Crashes)।”

     

  • S-400 Sudarshan Chakra: পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে আকাশ-প্রতিরোধ শক্তি! ভারতের হাতে এল চতুর্থ এস-৪০০

    S-400 Sudarshan Chakra: পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে আকাশ-প্রতিরোধ শক্তি! ভারতের হাতে এল চতুর্থ এস-৪০০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় শক্তিবৃদ্ধি করে ভারতে পৌঁছল রাশিয়া-নির্মিত এস-৪০০ ‘সুদর্শন চক্র’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চতুর্থ স্কোয়াড্রন (প্রকারান্তরে রেজিমেন্ট)। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, চুক্তিবদ্ধ পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনের মধ্যে চতুর্থটি ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছে গিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল সেক্টরে মোতায়েন করা হবে। ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৫.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ভারত মোট পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি স্কোয়াড্রন ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। এবার চতুর্থ স্কোয়াড্রনের আগমনের মাধ্যমে সেই প্রকল্প আরও এক ধাপ এগোল।

    ধাপে ধাপে পৌঁছচ্ছে চতুর্থ স্কোয়াড্রন

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, চতুর্থ এস-৪০০ স্কোয়াড্রনটি ধাপে ধাপে এসে পৌঁছচ্ছে। প্রথম ধাপ ৩ জুন ভারতে এসে পৌঁছেছে। তার আগে গত মাসে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) আধিকারিকরা রাশিয়ায় গিয়ে প্রি-ডিসপ্যাচ পরিদর্শন সম্পন্ন করেন। স্কোয়াড্রনের বাকি সরঞ্জাম ও উপাদানগুলি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিভিন্ন বন্দর দিয়ে দেশে আসবে। চলতি মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ডেলিভারি শেষ হওয়ার কথা।

    পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েনের সম্ভাবনা

    সামরিক সূত্রের মতে, নতুন এস-৪০০ ইউনিটটি ভারতের পশ্চিম সীমান্তে, বিশেষত পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে মোতায়েন করা হতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশপথে আসা হুমকি শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

    বিশ্বের অন্যতম আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘সুদর্শন চক্র’ নামে পরিচিত এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলির অন্যতম। এই ব্যবস্থা একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, ট্র্যাক এবং ধ্বংস করতে সক্ষম।

    এস-৪০০-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

    • ● সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
    • ● যুদ্ধবিমান, ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন এবং আকাশে থাকা নজরদারি প্ল্যাটফর্মকে ধ্বংস করতে পারে।
    • ● একই সঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।
    • ● উন্নত রাডার ও কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

    একটি স্কোয়াড্রনে কী কী থাকে?

    প্রতিটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনে মোট ১৬টি বিশেষায়িত যান থাকে, যার মধ্যে রয়েছে—

    • ● কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম
    • ● অত্যাধুনিক রাডার ইউনিট
    • ● মোবাইল মিসাইল লঞ্চার
    একটি স্কোয়াড্রন আবার দুটি ব্যাটারিতে বিভক্ত। প্রতিটি ব্যাটারিতে ছয়টি করে লঞ্চার থাকে। ফলে একটি সম্পূর্ণ স্কোয়াড্রন থেকে একযোগে ১২৮টি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা সম্ভব। চুক্তি অনুযায়ী ভারত মোট ৬০টি লঞ্চার এবং প্রায় ৬,০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে, যেগুলি ১২০ কিলোমিটার থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিলম্ব

    মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ সমস্ত এস-৪০০ রেজিমেন্ট সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটে এবং ডেলিভারিতে বিলম্ব হয়। তবে রাশিয়া ভারতকে আশ্বাস দিয়েছে যে বাকি সমস্ত সরঞ্জাম ও পঞ্চম তথা শেষ রেজিমেন্টের ডেলিভারি ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যেই সম্পূর্ণ করা হবে।

    ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ কার্যকারিতার প্রমাণ

    ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিদুঁর’-এর সময় এস-৪০০ ব্যবস্থা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ওই অভিযানে শত্রুপক্ষের একাধিক আকাশপথে আসা হুমকি সফলভাবে প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর ভারত সরকার আরও পাঁচটি অতিরিক্ত এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতের মোট এস-৪০০ বহর ১০টি ইউনিটে পৌঁছবে।

    ভারতের স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ

    এস-৪০০ বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার ‘ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ (IACCS)-এর সঙ্গে সংযুক্ত। এটি ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এস-৪০০-এর পাশাপাশি দেশীয়ভাবে নির্মিত ‘আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ভারত-ইজরায়েল যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘এমআরএসএএম’ (MRSAM)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে এটি একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলেছে, যা বিভিন্ন ধরনের আকাশপথে আসা হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম।

    প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

    চতুর্থ এস-৪০০ রেজিমেন্টের আগমনের ফলে ভারতের অন্যতম বৃহৎ আকাশ প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রকল্প সমাপ্তির আরও কাছাকাছি পৌঁছল। পঞ্চম ও শেষ রেজিমেন্ট হাতে পাওয়ার পর দেশের পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, কৌশলগত অবকাঠামো এবং বেসামরিক সম্পদের সুরক্ষা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এস-৪০০ শুধু একটি অস্ত্র ব্যবস্থা নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আকাশযুদ্ধ মোকাবিলায় একটি কৌশলগত শক্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
  • 114 Rafale Jets: ১১৪ রাফালের জন্য আবেদনের পথে ভারত! শীঘ্রই ফ্রান্সে পাঠানো হবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’

    114 Rafale Jets: ১১৪ রাফালের জন্য আবেদনের পথে ভারত! শীঘ্রই ফ্রান্সে পাঠানো হবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান চুক্তির পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি অত্যাধুনিক রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ (LoR) চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্র। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ফ্রান্স সরকারের কাছে পাঠানো হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) প্রকল্পের অধীনে সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে এই বিপুল প্রতিরক্ষা ক্রয় সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    কী এই ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’?

    প্রতিরক্ষা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ বা এলওআর হল একটি আনুষ্ঠানিক নথি, যার মাধ্যমে ক্রেতা দেশ বিক্রেতা দেশের সরকারকে জানায় তারা কত সংখ্যক যুদ্ধাস্ত্র বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে চায় এবং তার প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল চাহিদা কী। ভারতের পাঠানো এলওআর-এর ভিত্তিতে ফ্রান্স সম্ভাব্য মূল্য, সরবরাহের সময়সূচি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য পাঠাবে। তারপর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল’ (RFP) জারি করে বাণিজ্যিক আলোচনা শুরু করবে।

    ভারতে তৈরি হবে অধিকাংশ রাফাল

    প্রস্তাবিত ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রায় ৯০টি ভারতেই তৈরি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফরাসি সংস্থা ‘দাসো’র সঙ্গে একটি ভারতীয় সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই উৎপাদন হবে। বাকি বিমানগুলি ফ্রান্স থেকে সরাসরি ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দেশীয় উপাদান ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে বড়সড় অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বছরের শেষেই চুক্তি সইয়ের লক্ষ্য

    সূত্রের খবর, চলতি বছরের শেষের মধ্যেই চূড়ান্ত চুক্তি সই করতে চাইছে কেন্দ্র। তবে তার আগে প্রয়োজন হবে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি বা সিসিএস-এর অনুমোদন। ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ডিফেন্স অ্যাকুইডিশন কাউন্সিল (DAC) এই প্রস্তাবকে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া আগামী মাসে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এপি সিংয়ের ফ্রান্স সফর এবং জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সম্ভাব্য ফ্রান্স সফরকে ঘিরেও এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ইতিমধ্যেই ৩৫টি রাফাল ব্যবহার করছে ভারত

    ভারতীয় বায়ুসেনা বর্তমানে ৩৫টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে, যা পূর্ববর্তী ভারত-ফ্রান্স চুক্তির অধীনে কেনা হয়েছিল। অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২৬টি রাফাল-এম (Rafale Marine) যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করতে চলেছে, যা বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালিত হবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একই প্ল্যাটফর্মের আরও রাফাল অন্তর্ভুক্ত হলে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্র সংযোজন এবং লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমবে। কারণ ইতিমধ্যেই রাফাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভারতীয় বাহিনীর হাতে রয়েছে।

    ভারতীয় অস্ত্র সংযোজনের চেষ্টা

    ভারত বর্তমানে ফ্রান্সের সঙ্গে ইন্টারফেস কনট্রোল ডকুমেন্ট, সংক্ষেপে আইসিডি (ICD) নিয়ে আলোচনা করছে। এই প্রযুক্তিগত নথি হাতে এলে ভারতীয় অস্ত্র ব্যবস্থা যেমন অ্যাস্ট্রা (Astra) ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভবিষ্যতের ব্রহ্মোস-এনজি (BrahMos-NG) মিসাইল রাফাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। এটি সফল হলে রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতীয় প্রতিরক্ষা চাহিদা অনুযায়ী আরও আধুনিক ও কার্যকর হয়ে উঠবে।

    কেন জরুরি এই চুক্তি?

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২৯-এ, যেখানে অনুমোদিত সংখ্যা ৪২। ফলে যুদ্ধ প্রস্তুতিতে বড়সড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন রাফাল যুদ্ধবিমান বায়ুসেনার ক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে দেশীয় প্রকল্প যেমন হ্যাল-এর তেজসের মার্ক-১এ (Tejas Mk1A), মার্ক-২ (Tejas Mk2) সংস্করণ এবং পঞ্চম প্রজন্মের অ্যামকা (AMCA) সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে আরও অনেক সময় লাগবে। অ্যামকা পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান ২০৩৫ সালের পর পরিষেবায় আসতে পারে বলে অনুমান।

    রাশিয়ার সু-৫৭ জেটও বিবেচনায়

    অন্তর্বর্তী সময়ে ভারত বিদেশি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছে। তার মধ্যে রাশিয়ার সুখোই সু-৫৭ (Sukhoi Su-57) স্টেলথ ফাইটারের নামও উঠে এসেছে। তবে আপাতত রাফাল এফ-৪ সংস্করণই ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান পছন্দ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

    চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য কত?

    ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, ১১৪টি রাফাল এফ-৪ (Rafale F4) মাল্টিরোল ফাইটার কেনার জন্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার সরকার-টু-সরকার চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। মার্কিন ডলারে যার মূল্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। চুক্তি চূড়ান্ত হলে এটিই হবে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান ক্রয়।

  • Hypersonic Glide Missile Test: হাইপারসনিক যুগে ভারতের বড় লাফ! নতুন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

    Hypersonic Glide Missile Test: হাইপারসনিক যুগে ভারতের বড় লাফ! নতুন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তিতে বড়সড় সাফল্য পেল ভারত। শুক্রবার ওড়িশা উপকূলের কাছে দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের (Long-Range Anti-Ship Missile বা LR-AShM) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ১,৫০০ কিলোমিটার দূরে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে, যা দেশের সমুদ্র প্রতিরক্ষার পরিসর আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক।

    গতি ঘণ্টায় ৬১০০ কিমি…

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ম্যাক ৫ (শব্দের পাঁচগুণ বা আনুমানিক ঘণ্টায় ৬১০০ কিমি)-এর বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। ফলে আধুনিক যুদ্ধজাহাজে থাকা ইন্টারসেপশন সিস্টেম বা প্রতিরোধী প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা এই ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে। পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নত টার্মিনাল গাইডেন্স সিস্টেমের নির্ভুলতাও যাচাই করা হয়েছে। উৎক্ষেপণ থেকে চূড়ান্ত আঘাত পর্যন্ত সব মিশন উদ্দেশ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল মিড-কোর্স ম্যানুভার এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চগতির ফ্লাইট।

    বিরাট সাফল্য ভারতের…

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য তৈরি অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (LR-AShM) হল একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র, যা স্থির ও চলমান—দুই ধরনের লক্ষ্যবস্তুকেই নিশানা করতে পারে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাভিওনিক্স এবং উচ্চ-নির্ভুলতার সেন্সর। ক্ষেপণাস্ত্রটি আধা-ক্ষেপণাস্ত্র গতিপথ (quasi-ballistic trajectory) অনুসরণ করে এবং সর্বোচ্চ ম্যাক ১০ (শব্দের দশ গুণ) পর্যন্ত গতি অর্জন করতে পারে, যদিও গড় গতি থাকে প্রায় ম্যাক ৫। একাধিক ‘স্কিপ’ কৌশল, কম উচ্চতায় উড়ান এবং দ্রুত গতির কারণে শত্রুপক্ষের রাডারে এটি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

    হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র..

    দুই-ধাপের সলিড রকেট মোটরের সাহায্যে চালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমে বুস্টারের মাধ্যমে গতি অর্জন করে। এরপর প্রাথমিক ধাপ শেষে এটি পৃথক হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় ধাপে এটি ইঞ্জিনবিহীন গ্লাইড পর্যায়ে (unpowered glide phase) প্রবেশ করে, তারপর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই সফল পরীক্ষা ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে আরও একবার সামনে আনল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে দূরপাল্লায় শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সম্পদ ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে গেল।

    দুটি পৃথক হাইপারসনিক প্রকল্প….

    চলতি সপ্তাহের গোড়ায় জাতীয় নিরাপত্তা সম্মেলনে (National Security Summit) বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিআরডিও-র (DRDO) প্রধান ড. সমীর ভি কামাত জানিয়েছিলেন, ভারত বর্তমানে দুটি পৃথক হাইপারসনিক প্রকল্পে কাজ করছে— একটি হল হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল (Hypersonic Glide Missile) এবং দ্বিতীয়টি হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল (Hypersonic Cruise Missile)। তিনি বলেন, “হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে এয়ার ব্রদিং স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন (air-breathing scramjet engine) থাকে এবং পুরো উড়ানের সময় সেটি চালু থাকে। অন্যদিকে হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র বুস্টারের মাধ্যমে প্রাথমিক গতি পেয়ে পরে কোনও প্রোপালসান (ইঞ্জিন) ছাড়াই গ্লাইড করে বা বাতাসে ভেসে যায়।” কামাত আরও জানান, গ্লাইড মিসাইল প্রকল্পটি তুলনামূলকভাবে বেশি উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর কথায়, “গ্লাইড মিসাইলই আগে আসবে।”

    কনভেনশনাল মিসাইল ফোর্স গঠনের ভাবনা

    একই সঙ্গে তিনি একটি সম্ভাব্য কনভেনশনাল মিসাইল ফোর্স (conventional missile force) গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, স্বল্প, মধ্যম এবং প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলের (ballistic missile) পাশাপাশি ক্রুজ মিসাইল (cruise missile) এবং হাইপারসনিক মিসাইল (hypersonic missile) সহ বহুমুখী অস্ত্রভান্ডার দরকার, যাতে বিভিন্ন কৌশলগত ব্যবহারের (tactical application) প্রয়োজন অনুযায়ী জন্য আলাদা আলাদা আঘাত হানার ক্ষমতা (strike capability) তৈরি হয়।

    “ঐতিহাসিক অর্জন” বলেছেন রাজনাথ

    উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে ভারত ধারাবাহিক অগ্রগতি করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ড. এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে দীর্ঘ-পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় ডিআরডিও। এর আগে ২০২০ সালে হাইপারসনিক টেকনোলজি ডেমোন্সট্রেটর ভেহিক্যল (Hypersonic Technology Demonstration Vehicle বা HSTDV)-এর সফল পরীক্ষা এবং পরবর্তী স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিনের পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সাফল্য এনে দেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এর আগেই এই ধরনের সাফল্যকে “ঐতিহাসিক অর্জন” বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর কথায়, এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই নির্বাচিত কয়েকটি দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে, যাদের হাতে উন্নত হাইপারসনিক প্রযুক্তি রয়েছে।

LinkedIn
Share