Tag: Defence Procurement

Defence Procurement

  • Defence Acquisition Council: ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সায়! ৯৮% সরঞ্জামই তৈরি হবে ভারতে, বড় সিদ্ধান্ত ডিএসির

    Defence Acquisition Council: ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সায়! ৯৮% সরঞ্জামই তৈরি হবে ভারতে, বড় সিদ্ধান্ত ডিএসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে সোমবার বৈঠকে বসে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি)। সেই বৈঠকেই ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার জন্য প্রায় ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি (এওএন) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, অনুমোদিত ক্রয়ের প্রায় ৯৮ শতাংশই ভারতীয় শিল্পের কাছ থেকে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন তিন বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা ও অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও বড় অর্ডার পাবে।

    সেনাবাহিনীর জন্য একাধিক অত্যাধুনিক সরঞ্জাম

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। এর মধ্যে রয়েছে কেমিক্যাল, বায়োলজিক্যাল, রেডিওলজিক্যাল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার (সিবিআরএন) রিকনেসান্স ভেহিকল, হাই মোবিলিটি ভেহিকল, সেল্ফ-প্রোপেলড মেকানিক্যাল মাইন লেয়ার, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (এএলএইচ), ট্রল ট্যাঙ্ক এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম।

    সিবিআরএন রিকনেসান্স ভেহিকলের সাহায্যে রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় এবং পরমাণু উপাদানে দূষিত এলাকা দ্রুত শনাক্ত, চিহ্নিত, পর্যবেক্ষণ ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া সম্ভব হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনও অঞ্চল সিবিআরএন উপাদানে আক্রান্ত হলে সেনার জন্য নিরাপদ পথ নির্ধারণ এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নে এই যানগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    অন্যদিকে, হাই মোবিলিটি ভেহিকল কঠিন ও দুর্গম ভূখণ্ডে সেনার দ্রুত গতিশীলতা এবং রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে প্রতিকূল সীমান্ত অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সরানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সেল্ফ-প্রোপেলড মেকানিক্যাল মাইন লেয়ার সেনাবাহিনীকে দ্রুত এবং তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকরভাবে মাইন পাতা বা মাইনফিল্ড তৈরি করার সক্ষমতা দেবে। বিশেষ করে দুর্গম ভূখণ্ডে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থা সেনার প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকে আরও নমনীয় করবে।

    এএলএইচ থেকে সর্বত্র ব্রিজ—যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়বে সক্ষমতা

    ডিএসির অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার বা এএলএইচ-ও। বিভিন্ন ভূপ্রকৃতি এবং জটিল অপারেশনাল পরিস্থিতিতে সেনা ও বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ মিশনে এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। দুর্গম এলাকায় সেনা মোতায়েন, সরঞ্জাম পরিবহণ এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে এএলএইচ-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    এছাড়া ট্রল ট্যাঙ্ক এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম-এর অনুমোদনও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুদ্ধক্ষেত্রে নদী, খাল বা অন্যান্য জলপথ এবং দুর্গম ভূখণ্ড অতিক্রম করে সেনার যুদ্ধবিন্যাসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাগুলি সাহায্য করবে। অর্থাৎ, শুধু অস্ত্রশক্তি নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত গতিশীলতা এবং বাধা অতিক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও জোর দিয়েছে ডিএসি।

    নৌসেনায় অরুধ্র রেডার, দেশীয় মেরিন গ্যাস টারবাইন

    ভারতীয় নৌসেনার জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। এর মধ্যে রয়েছে অরুধ্র রেডার সংগ্রহ এবং মেরিন গ্যাস টারবাইন (এমজিটি)-এর নকশা, উন্নয়ন ও পরবর্তী পর্যায়ে সংগ্রহের প্রস্তাব।নৌসেনার বিভিন্ন নেভাল এয়ার স্টেশনে বর্তমানে ব্যবহৃত এয়ার রুট সার্ভেল্যান্স রেডার-এর পরিবর্তে অরুধ্র রেডার বসানো হবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই রেডার নৌসেনার বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

    আরও গুরুত্বপূর্ণ হল মেরিন গ্যাস টারবাইন। যুদ্ধজাহাজের প্রোপালশন সিস্টেম বা চালনা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। দেশেই মেরিন গ্যাস টারবাইন তৈরি ও উন্নয়নের উদ্যোগ ভবিষ্যতে যুদ্ধজাহাজের প্রপালশন প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

    বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে একাধিক অনুমোদন

    ভারতীয় বায়ুসেনার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে ডিএসি। ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট, ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট এবং হেলিকপ্টার-এর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    এর পাশাপাশি বায়ুসেনার জন্য গ্রাউন্ড-বেসড মাল্টি-পারপাস জ্যামার (জিবিএমপিজে) সংগ্রহের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিন যুদ্ধব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। শত্রুপক্ষের রেডার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত করতে জিবিএমপিজে ব্যবহার করা যাবে। কার্যকর জ্যামিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের নজরদারি ও লক্ষ্য শনাক্তকরণের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কাগজের পরিচয়পত্রের বদলে স্মার্ট কার্ড

    প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ডিফেন্স ফোর্সেস সিকিওর অ্যাকসেস কার্ড (ডিইএফএসিএসি) ব্যবস্থা। ডিএসি এই ব্যবস্থাও অনুমোদন করেছে। বর্তমানে ব্যবহৃত কাগজের পরিচয়পত্র, প্রবেশপত্র এবং অনুমতিপত্রের পরিবর্তে ইন্টারঅপারেবল রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি)-ভিত্তিক স্মার্ট কার্ড চালু করা হবে। এর ফলে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ আরও আধুনিক, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অ্যাকসেস-কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

    ৯৮ শতাংশ দেশীয় ক্রয়—কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এই ডিএসি বৈঠকের সবচেয়ে বড় বার্তা সম্ভবত প্রায় ৯৮ শতাংশ ক্রয় ভারতীয় শিল্পের কাছ থেকে করার পরিকল্পনা। অর্থাৎ, ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার এই বিপুল প্রতিরক্ষা বরাদ্দের বড় অংশই দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পে প্রবাহিত হবে।

    এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশীয় প্রতিরক্ষা নির্মাতা সংস্থা, প্রযুক্তি সংস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্র এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের উপর। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদন ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষ করে মেরিন গ্যাস টারবাইনের মতো জটিল প্রযুক্তি দেশেই তৈরি করার উদ্যোগ দেখাচ্ছে, ভারত শুধু অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম আমদানি কমানোর দিকেই নয়, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মূল ভিত্তি দেশেই গড়ে তুলতে চাইছে।

    সব মিলিয়ে, প্রায় ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার ডিএসি অনুমোদনকে শুধু একটি বড় প্রতিরক্ষা ক্রয় হিসেবে দেখলে বিষয়টির পূর্ণ তাৎপর্য ধরা পড়বে না। সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যকে একই সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।

  • Rafale Deal Crisis: “আইসিডি না দিলে, রাফাল চুক্তি হবে না”, ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    Rafale Deal Crisis: “আইসিডি না দিলে, রাফাল চুক্তি হবে না”, ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    সুশান্ত দাস

    ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল এফ-৪ (Rafale F4) বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনায় এখন এক বিরাট কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে। শুরুতে এটি ভারত-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অন্যতম বড় সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত কিন্তু কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল বিষয়— ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট (ICD) এবং সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষামন্ত্রকের স্পষ্ট অবস্থান— “আইসিডি না দিলে, চুক্তি হবে না”—প্রমাণ করছে যে আজকের ভারত আর শুধুমাত্র উন্নত প্ল্যাটফর্ম কেনায় আগ্রহী নয়। বরং যুদ্ধক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে চাইছে।

    কেন রাফাল এফ-৪ চুক্তি ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতীয় বায়ুসেনা দীর্ঘদিন ধরেই স্কোয়াড্রন ঘাটতি-র সমস্যায় ভুগছে। চিন ও পাকিস্তানের দ্বিমুখী সামরিক চাপের মধ্যে দ্রুত আধুনিকীকরণ ভারতের জন্য জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে ১১৪টি রাফাল এফ-৪ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে—

    • ● বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো
    • ● উচ্চমানের বহুমুখী যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করা
    • ● দেশীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে মেক ইন ইন্ডিয়া-কে এগিয়ে নেওয়া

    প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী—

    • ● ১৮টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে সরাসরি সরবরাহ করা হবে।
    • ● ৬০ শতাংশ প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ৯৬টি বিমান ভারতে তৈরি
    • ● রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হ্যাল (HAL), টাটা (Tata) ও ফরাসি ইঞ্জিন প্রস্তুতকারী সংস্থা সাফরান (Safran)-এর শিল্প অংশীদারিত্ব
    • ● ভারতে নির্মিত জেটগুলিতে ৫০-৬০% দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হবে।
    • ● এটি সফল হলে ভারতীয় বিমান ও মহাকাশ শিল্পব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হত।

    মূল বিরোধ: ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট বা আইসিডি হস্তান্তর (ICD)

    এমআরএফএ চুক্তি আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিমানের সোর্স কোড। এই সোর্স কোড হল যে কোনও যুদ্ধবিমানের মস্তিষ্ক। তবে, ফ্রান্স প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল যে সোর্স কোড তারা কখনই হস্তান্তর করবে না। ভারত তা মেনে নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব পেশ করে। আলোচনার সময় নয়াদিল্লির তরফে বলা হয়, সোর্স কোড দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু, রাফালের আইসিডি অ্যাক্সেস দেওয়া হোক। আইসিডি মূলত একটি প্রযুক্তিগত নকশাপত্র, যা নির্ধারণ করে—

    • ● অস্ত্র সংযোজন কাঠামো
    • ● সেন্সর যোগাযোগ ব্যবস্থা
    • ● মিশন কম্পিউটার সংযোগব্যবস্থা
    • ● এভিওনিক্স তথ্য প্রবাহ

    ভারত আইসিডি চায় কারণ এটি ছাড়া দেশীয় অস্ত্র স্বাধীনভাবে সংযোজন করা সম্ভব নয়। ভারত যে দেশীয় সিস্টেমগুলি সংযোজন করতে চায়—

    • ● অ্যাস্ট্রা (Astra) দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● রুদ্রম (Rudram) অ্যান্টি-রেডিয়েশন ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● স্মার্ট অ্যান্টি-এয়ারফিল্ড অস্ত্র (SAAW)
    • ● ব্রহ্মোস-এনজি (BrahMos-NG)
    • ● দেশীয় ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা
    • ● ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দেশীয় বীরূপাক্ষ রেডার (Virupaksha Radar)

    ভারত জানে যে, আইসিডি না থাকলে প্রতিটি সংযোজনের জন্য রাফালের নির্মাণকারী সংস্থা দাসোর অনুমোদন লাগবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতের একাধিক সমস্যা হবে। যেমন—

    • ● অভিযানগত বিলম্ব হবে।
    • ● পুনরাবৃত্ত ব্যয় বৃদ্ধি হবে।
    • ● সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা বাড়বে।
    • ● যুদ্ধকালীন ঝুঁকি থেকে যাবে।

    সব মিলিয়ে, ভারতের কাছে এটি শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, এটি যুদ্ধক্ষেত্রের সার্বভৌমত্ব-র প্রশ্ন।

    কেন ফ্রান্স প্রযুক্তিতে আপস করতে চাইছে না?

    কিন্তু এক্ষেত্রেও ফ্রান্স বেঁকে বসে। ফ্রান্সের অনীহার মূলত তিনটি কারণ হল—

    প্রথমত, স্পেকট্রা (SPECTRA) ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার গোপনীয়তা হ্রাস পেতে পারে। রাফালের সবচেয়ে সংবেদনশীল সক্ষমতা হল স্পেক্ট্রা। এটি নিয়ন্ত্রণ করে—

    • ● হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা
    • ● রেডার সতর্কীকরণ ব্যবস্থা
    • ● জ্যামিং ব্যবস্থা
    • ● প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
    • ● টিকে থাকার অ্যালগরিদম ব্যবস্থা

    ফ্রান্স মনে করে, এই জায়গায় প্রবেশাধিকার দিলে—

    • ● নিজস্ব মেধাস্বত্ব ফাঁস হতে পারে।
    • ● যুদ্ধনীতি প্রকাশ পেতে পারে।

    দ্বিতীয়ত, অনভিপ্রেত রফতানির নজির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অর্থাৎ, ভারতকে যদি বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্রেতারাও একই দাবি তুলতে পারে। এতে ফরাসি রপ্তানি মডেল দুর্বল হতে পারে।

    তৃতীয়ত, রুশ প্রযুক্তি ফাঁসের আশঙ্কা বাড়তে পারে। ভারত ব্রহ্মোস সংযোজন করতে চায়, যা ভারত-রাশিয়া যৌথ ব্যবস্থার অংশ। ফ্রান্স আশঙ্কা করছে, এর মাধ্যমে পশ্চিমা প্রযুক্তি পরোক্ষভাবে রুশ প্রকৌশল নেটওয়ার্কে পৌঁছাতে পারে।

    ভারতের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

    ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয়নীতি স্পষ্টভাবে বদলেছে। আগে দেশের লক্ষ্য ছিল— কেবলমাত্র উন্নত বিদেশি প্ল্যাটফর্ম (সামরিক অস্ত্র, সামরিক যান) কেনা। কিন্তু, ২০২৬ সালে ভারতের লক্ষ্য হল—

    • ● সার্বভৌম জীবনচক্র নিয়ন্ত্রণ
    • ● স্বাধীন উন্নয়ন ও আপগ্রেড ক্ষমতা
    • ● স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ শিল্পব্যবস্থা

    ভারত বুঝেছে, আমদানিকৃত প্ল্যাটফর্ম তখনই কৌশলগত সম্পদ যখন—

    • ● সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ থাকে
    • ● অস্ত্র সংযোজন স্বাধীন হয়
    • ● বিদেশি অনুমোদন-নির্ভরতা না থাকে

    ২০১৬ সালের ৩৬টা রাফাল চুক্তি থেকে ভারতের শিক্ষা হয়েছে যে, সীমিত প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকৃত কৌশলগত স্বনির্ভরতা দেয় না। ফলে নয়াদিল্লি এখন শুধু সংযোজন লাইন নয়, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব চাইছে। তবে, ভারতের এই দাবিও খারিজ করে ফ্রান্স। যার পরেই, ভারতের তরফে ফ্রান্স ও দাসোকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়— “আইসিডি না দিলে, চুক্তি হবে না”।

    চুক্তি ভেস্তে গেলে কী হতে পারে?

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাফাল চুক্তি না হলে ভারত কী করবে? এক্ষেত্রে ভারতের হাতে যে যে বিকল্প থাকবে, সেগুলি হল—

    প্রথমত, তেজস মার্ক ২ (Tejas Mk2) যুদ্ধবিমানের গতি বৃদ্ধি করতে পারে। রাফাল চুক্তি ভেঙে গেলে তেজস মার্ক ২-তে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন বাড়বে। এতে সুবিধা হবে—

    • ● পূর্ণ সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ
    • ● দেশীয় সংযোজন
    • ● জীবনচক্র সার্বভৌমত্ব

    অসুবিধাও আছে। যেগুলি হল—

    • ● উন্নয়নে বিলম্ব
    • ● সক্ষমতা পরিপক্বতার ঝুঁকি

    দ্বিতীয়ত, ভারত অ্যামকা (AMCA) কর্মসূচির গতি বৃদ্ধি করতে পারে। অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA) ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম যুদ্ধবিমান প্রকল্প। রাফাল ব্যর্থ হলে অ্যামকা আরও কৌশলগত অগ্রাধিকার পাবে।

    তৃতীয়ত, রাশিয়া বিকল্প হিসেবে ফিরে আসা। রাশিয়ার প্রস্তাবিত সুখোই সু-৫৭ই (Su-57E) নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

    রাশিয়ার সুবিধা—

    • ● গভীরতর প্রযুক্তি হস্তান্তর
    • ● স্থানীয় উৎপাদনে নমনীয়তা

    ঝুঁকি—

    • ● মার্কিন ক্যাটসা (CAATSA) নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি
    • ● রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা
    • ● ভূরাজনৈতিক বার্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ

    ফ্রান্সের জন্য চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি কত বড়?

    অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে রাফাল চুক্তি বাতিল হলে, বড় সমস্যায় পড়ে যাবে ফ্রান্স। ফ্রান্সের কাছে এই চুক্তি শুধু রাজস্বের বিষয় নয়। ১১৪টি বিমানের অর্ডার মানে—

    • ● দাসো-র উৎপাদন ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে।
    • ● সরবরাহকারী শিল্পব্যবস্থার স্থায়িত্ব কমবে।
    • ● ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত উপস্থিতি হ্রাস পাবে ফ্রান্সের
    • ● ১৮ থেকে ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খোয়াবে ফ্রান্স, যা সেদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে।
    • ● ভবিষ্যতে, ফ্রান্সের সঙ্গে সামরিক অংশিদারিত্বে যেতে চাইবে না অন্যান্য দেশ।

    ফ্রান্স ভালোই জানে যে, চুক্তি হারালে দেশের রফতানি বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একইসঙ্গে, উৎপাদন লাইনে চাপ বাড়বে। তা সত্ত্বেও কিন্তু প্যারিস সফটওয়্যার সার্বভৌমত্বে আপস করতেও অনিচ্ছুক। ফলে ফ্রান্স একটি ধন্দে পড়ে গিয়েছে। একদিকে, প্রযুক্তি সুরক্ষা অন্যদিকে রফতানি টিকিয়ে রাখা। কয়েক দিন আগে, রাফাল এফ-৫ কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সেখানেও কারণ একই। প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিরোধ, বিশেষ করে অপট্রনিক্সের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে। যা ইতিমধ্যেই ফরাসি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ করেছে। এবার একই ধরনের পরিস্থিতি এখন ভারতের ক্ষেত্রেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আমিরশাহি এবং ভারতের ঘটনাগুলি পর্যবেক্ষণ করে অন্যান্য দেশও নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে এবং ভবিষ্যতে ফ্রান্সের সঙ্গে অনুরূপ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আগে আরও বিস্তৃত প্রযুক্তিগত প্রবেশাধিকার ও নিশ্চয়তা দাবি করতে পারে।

    বৃহত্তর কৌশলগত তাৎপর্য

    ভারত-ফ্রান্সের এই বিরোধ দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতের অস্ত্রচুক্তি আর শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার ক্রয় নয়। নতুন যুগের সামরিক শক্তি নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। যেমন—

    • ● সফটওয়্যার মালিকানা
    • ● ডিজিটাল স্থাপত্য নিয়ন্ত্রণ
    • ● স্বাধীন উন্নয়ন সক্ষমতা
    • ● ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন

    ভারত এই আলোচনার মাধ্যমে একটি বড় বার্তা দিচ্ছে। তা হল— “ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ছাড়া স্থানীয় সংযোজন প্রকৃত দেশীয়করণ নয়।” ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি আর শুধুমাত্র একটি প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন। অস্ত্র সংযোজন এবং সফটওয়্যারের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে, সবচেয়ে উন্নত প্ল্যাটফর্মও সক্ষমতার পরিবর্তে নির্ভরশীলতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি শুধু রাফাল চুক্তি নয়, ভবিষ্যতের পশ্চিমি প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের জন্যও একটি মানদণ্ড।

    টার্নিং পয়েন্ট…

    রাফাল এফ-৪ আলোচনা ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের একটি টার্নিং পয়েন্ট। ভারত এখন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, উন্নত প্ল্যাটফর্ম ক্রয়ের চেয়ে অভিযানগত সার্বভৌমত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স মূল প্রযুক্তি সুরক্ষিত রাখতে চায়, আর ভারত বিদেশি-নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ স্থাপত্য মেনে নিতে রাজি নয়। ফলে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে একটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর। তা হল— ফ্রান্স কি ভারতকে যথেষ্ট ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ দিতে প্রস্তুত, নাকি সফটওয়্যার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিশ্বের অন্যতম বড় যুদ্ধবিমান চুক্তি ভেস্তে যাবে? বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে—এই আলোচনা শুধু যুদ্ধবিমান কেনা নয়, বরং একবিংশ শতকের প্রতিরক্ষা শিল্পে সার্বভৌমত্ব বনাম নির্ভরতার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে।

  • Indian Air Force: বায়ুসেনার আধুনিকীকরণে সবুজ সংকেত কেন্দ্রের, আসছে রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স

    Indian Air Force: বায়ুসেনার আধুনিকীকরণে সবুজ সংকেত কেন্দ্রের, আসছে রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ সালের মধ্যেই বায়ুসেনা আরও শক্তিশালী ও আধুনিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হবে বলে মনে করছে মন্ত্রক ও প্রতিরক্ষা মহল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য-আকাশে জ্বালানি ভরার বিমান, আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর পাশাপাশি, “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগের আওতায় ফ্রান্স থেকে ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কেনার প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    ছয়টি বোয়িং ৭৬৭ মিড-এয়ার রিফুয়েলার

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) বা প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদের নেওয়া প্রধান সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে ইজরায়েল থেকে ছয়টি বোয়িং ৭৬৭-ভিত্তিক মিড-এয়ার রিফুয়েলার কেনার পরিকল্পনা। ইজরায়েল থেকে ছয়টি রিফুয়েলার কেনার জন্য মূল্য চূড়ান্ত করতে একটি কমিটি গঠন করছে মন্ত্রক। এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা। একমাত্র দরদাতা হিসেবে ইজরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ-এর (IAI) সঙ্গে আলোচনা চলছে। দাম নির্ধারণ শেষ হলে প্রস্তাবটি ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর কাছে পাঠানো হবে। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে ২০০৩ সালে অন্তর্ভুক্ত ছয়টি রাশিয়ান আইএল-৭৬এম রিফুয়েলার রয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত প্রস্তুতির সমস্যায় এই বহর কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে বায়ুসেনা।

    ১২টি এমব্রেয়ারে বসবে এইডব্লু অ্যান্ড সি

    একই সঙ্গে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ১২টি এইডব্লু অ্যান্ড সি (AEW&C) সিস্টেম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই ব্রাজিল থেকে ছয়টি এমব্রেয়ার বিমান কেনার জন্য রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) জারি করতে চলেছে। এই বিমানগুলিতে বসানো হবে ডিআরডিও-উন্নত নেত্রা মার্ক-২ এইএসএ রেডার, যা ২৭০ ডিগ্রি নজরদারি এবং উন্নত ইলেকট্রনিক ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধে সক্ষমতা বাড়াবে।

    ৬টি এয়ারবাস হয়ে উঠবে অ্যাওয়াক্স

    একইসঙ্গে, ফ্রান্স থেকে কেনা ছয়টি এয়ারবাস এ৩১৯ বিমানে ৩৬০ ডিগ্রি রোটোডোম রেডার বসিয়ে সেগুলিকে পূর্ণাঙ্গ অ্যাওয়াক্স (AWACS) প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করছে মন্ত্রক। মিড-এয়ার রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স-এর ঘাটতির বিষয়টি অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন স্পষ্টভাবে সামনে আসে, যখন পাকিস্তানের তুলনায় এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা হয় বায়ুসেনার। পাশাপাশি,  ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য ৩৬টি অতিরিক্ত মিটিওর এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অনুমোদন দিয়েছে। কয়েকদিন আগেই, রুশ নির্মিত এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ২৮০টি দীর্ঘ ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ছাড়পত্র দিয়েছিল ডিএসি।

    নজরে ১১৪টি এমআরএফএ

    এছাড়া ১১৪টি এমআরএফএ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। দেশীয় উপাদানের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে সরকার। ভারতে রাফাল বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের (MRO) পরিকাঠামো আগে থেকেই থাকায়, নতুন কোনও যুদ্ধবিমান ধারা চালুর বদলে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন আধিকারিকরা। সবশেষে, আকাশপথে বিভিন্ন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ভারত ও রাশিয়া গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট পথে আরও পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা এবং প্যান্টসির মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

  • India Defence Deals: সামরিক আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ, নতুন কার্বাইন ও হেভিওয়েট টর্পিডো কিনছে ভারত

    India Defence Deals: সামরিক আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ, নতুন কার্বাইন ও হেভিওয়েট টর্পিডো কিনছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ৪,৬৬৬ কোটি টাকা মূল্যের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করল কেন্দ্রের মোদি সরকার। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীর জন্য ক্লোজ কোয়ার্টার ব্যাটল (CQB) কার্বাইন এবং হেভিওয়েট টর্পিডো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    ৪.২৫ লক্ষ সিকিউবি কার্বাইন

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীর জন্য ৪.২৫ লক্ষের বেশি সিকিউবি কার্বাইন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সরকার প্রায় ২,৭৭০ কোটি টাকার চুক্তি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ফোর্জ লিমিটেড ও পিএলআর সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক এই কার্বাইনগুলি পুরনো অস্ত্রের জায়গা নেবে এবং সীমিত পরিসরের যুদ্ধ ও শহুরে সংঘর্ষে সেনাদের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বহু প্রতিক্ষিত সিকিউবি কার্বাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের স্থলবাহিনী আধুনিক ও বিশ্বমানের অস্ত্রে সজ্জিত হবে এবং খুব কাছে থেকে সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতে সেনার কার্যকারিতা বাড়বে। একইসঙ্গে, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার এই প্রকল্পে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মনে করছে, এই চুক্তির ফলে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে এবং প্রতিরক্ষা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    ৪৮ হেভিওয়েট টর্পিডো

    অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রায় ১,৮৯৬ কোটি টাকার পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইটালির ওয়াস সাবমেরিন সিস্টেম সংস্থার সঙ্গে। এই চুক্তির আওতায় নৌবাহিনী ৪৮টি হেভিওয়েট টর্পিডো পাবে, যা কালভারি শ্রেণির (প্রজেক্ট–৭৫) সাবমেরিনে সংযুক্ত করা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৮ সালের এপ্রিল থেকে টর্পিডোর সরবরাহ শুরু হবে এবং ২০৩০ সালের শুরুর দিকে তা সম্পূর্ণ হবে। নতুন টর্পিডো যুক্ত হলে জলের নিচে ভারতীয় নৌবাহিনীর আক্রমণ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে মন্ত্রকের দাবি।

    প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এখনও পর্যন্ত ১,৮২,৪৯২ কোটি টাকার মূলধনী প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মোদি সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও সেনা ও নৌবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

LinkedIn
Share