Tag: delhi blast

  • Red Fort Blast: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের দায় আল-কায়েদার! এনআইএ-র দাবিই স্বীকৃতি পেল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে

    Red Fort Blast: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের দায় আল-কায়েদার! এনআইএ-র দাবিই স্বীকৃতি পেল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লার কাছে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে (Red Fort Blast) আল কায়েদা-যোগের অভিযোগ তুলল রাষ্ট্রপুঞ্জ। এই কথা আগেই উল্লেখ করেছিল ভারত। এ বার সেই একই কথা বলল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী দল। সম্প্রতি প্রকাশিত তাদের দ্বিবার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লায় হামলার সঙ্গে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর যোগ রয়েছে।

    আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা-ই দায়ী

    গত বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, রাস্তা থেকে ৪০ ফুট নীচে থাকা মেট্রো স্টেশনও কেঁপে উঠেছিল। ওই বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন আরও অনেকে। তদন্তে উঠে আসে ফরিদাবাদের ‘চিকিৎসক মডিউল’-এর তথ্য। তবে গত বছরের নভেম্বরের ওই বিস্ফোরণের জন্য আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (একিউআইএস)-কেই দায়ী করল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। অভিযোগ, এই জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশেও তাদের শাখা (সেল) বিস্তারের চেষ্টা করছিল।

    এনআইএ-র দাবিই সত্য!

    গত মে মাসে ওই বিস্ফোরণ কাণ্ডে চার্জশিট জমা দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) জানিয়েছে, হামলার মূল অভিযুক্ত ছিলেন উমর উন-নবি, যিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। বিস্ফোরণের সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে এনআইএ এই ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে বলা হয়, আনসার-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ) নামে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখার এক সহযোগী সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে। এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্টেও উঠে এল দিল্লির গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ। চলতি সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাকশনস মনিটরিং টিম’ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার কাছে হামলার নেপথ্যে ছিল আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখাই।

    দক্ষিণ এশিয়ায় আল কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের আশঙ্কা

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আল কায়েদা ধীরে ধীরে একটি বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত সংগঠন থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও ছড়ানো সেলের মাধ্যমে তারা লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, আল কায়েদার নেতৃত্বের একটি অংশ আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছে। তাদের কাছে আফগানিস্তানের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি তালিবান ও আল কায়েদার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইঙ্গিত হতে পারে। বাংলাদেশকেও আল কায়েদা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে বলে রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র নিয়েও সতর্কতা

    গত বছরের নভেম্বরে গুজরাতের আমেদাবাদ থেকেও তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক। ওই জঙ্গিরা প্রাণঘাতী রাসায়নিক ‘রাইসিন’ তৈরির চেষ্টা করছিলেন। এই রাসায়নিক জৈব অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। ওই ঘটনার তদন্তেও জঙ্গিদের ‘আইএস’ যোগের কথা উঠে এসেছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টেও তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থার উদ্বেগ, আল কায়েদা এবং আইএসআইএল (দায়েশ) অনেক দিন ধরেই রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত বাধার কারণে তারা এখনও সেই অস্ত্র তৈরি করে উঠতে পারেনি। এ প্রসঙ্গেই গুজরাতে ধৃত জঙ্গিদের কথা উল্লেখ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাদের দাবি, আইএসআইএল (দায়েশ)-এর একটি শাখাই ওই তিন ধৃতকে ‘রাইসিন’ তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিল।

    ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে নজরদারির সুপারিশ

    সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানের ক্ষেত্রেও নতুন প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসংঘ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ছে। আল কায়েদা এবং আইএসআইএল (দায়েশ) ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির আর্থিক লেনদেন শনাক্ত করতে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় একটি পৃথক ‘ডিজিটাল কারেন্সি অ্যাড্রেস’ সংক্রান্ত তথ্য রাখার সুপারিশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষক দল। একই সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। প্রকৃত অর্থদাতা বা আল্টিমেট বেনেফিসিয়াল ওনার শনাক্ত করার জন্য ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর সুপারিশ কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার বৃদ্ধি

    রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবেদনে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও তাদের সমর্থকদের দ্বারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। পর্যবেক্ষক দলের তথ্যমতে, বোমা তৈরি এবং লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য এসব সংগঠনের সদস্যরা চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-সহ বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স’ (আইএসআইএল-কে বা ISIL-K) বিভিন্ন ভাষায় দ্রুত প্রচারমূলক বার্তা অনুবাদ ও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে এআই ব্যবহার করছে, যার ফলে তারা আরও ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছতে পারছে। লালকেল্লা বিস্ফোরণ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এই রিপোর্ট প্রকাশের পর তদন্তে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (AQIS) ও তার সহযোগী সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

  • Jaish-e-Mohammed: লালকেল্লা বিস্ফোরণে জইশ-যোগ! পাকিস্তান অস্বীকার করলেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে ভারতের দাবিকেই মান্যতা

    Jaish-e-Mohammed: লালকেল্লা বিস্ফোরণে জইশ-যোগ! পাকিস্তান অস্বীকার করলেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে ভারতের দাবিকেই মান্যতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের একটি রিপোর্টে (UN report)। যেখানে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) এখনও সক্রিয় এবং ভারতের মাটিতে একাধিক হামলার সঙ্গে তাদের সঙ্গে যোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গত বছর দিল্লির লালকেল্লার কাছে হওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Delhi Red Fort Blast)। পাকিস্তান বারবার দাবি করেছে জইশ-ই-মহম্মদ এখন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। কিন্তু ভারতের দাবি ছিল জইশের জঙ্গি কার্যকলাপ চালু রয়েছে পুরোদমে। রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট সেই দাবিকেই সত্যি প্রমাণ করল।

    রাষ্ট্রসংঘের নয়া রিপোর্ট

    রাষ্ট্রসংঘের অ্যানালিটিকাল সাপোর্ট ও স্যাংশন মনিটরিং টিমের (UN Analytical Support and Sanctions Monitoring Team) ৩৭তম রিপোর্টে জানানো হয়েছে, একটি সদস্য দেশ (নাম প্রকাশ করা হয়নি) তাদের কাছে তথ্য দিয়েছে যে জইশ একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গত ১০ নভেম্বরের লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে। এই ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সংগঠনটি এখনও জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছে। রিপোর্টে কাশ্মীর উপত্যকায় চলতি বছরের বিভিন্ন ঘটনারও উল্লেখ আছে। জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁও হামলায় (Pahalgam terror attack) ২৬ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়, যার দায় স্বীকার করেছিল লস্কর-ই-তইবার ঘনিষ্ঠ সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)। পরে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটির উপর পাল্টা আঘাত হানে।

    পরিকল্পিত সন্ত্রাসী চক্রের অংশ

    লালকেল্লার বিস্ফোরণ (Delhi Red Fort Blast) ঘটনাটি শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এনআইএ। এর আগে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ তদন্তে ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর (White Collar Terror Module) সন্ধান পায়, যার যোগ ছিল জইশ ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের সঙ্গে। আটক করা হয়েছে মোট ৯ জনকে, এদের মধ্যে তিনজন ডাক্তারও রয়েছেন, যারা নেটওয়ার্ককে সাহায্য করতেন বলে সন্দেহ। তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি ভিডিওতে বিস্ফোরণকারী উমর-উন-নবীকে আত্মঘাতী হামলার কথা বলতে দেখা যায়। এতে স্পষ্ট হয়, হামলাটি কোনও একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী চক্রের অংশ। দিল্লি বিস্ফোরণে যে জইশের যোগ থাকতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথা আগেই উঠে এসেছিল। বিস্ফোরণের পর ধরপাকড়ের সময়ে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে তদন্তকারীদের হাতে ধরা পড়েছিলেন তুফাইল নিয়াজ ভাট নামে এক সন্দেহভাজন। তুফাইলের সঙ্গে জইশের যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছিলেন তদন্তকারীরা। এবার রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টেও উল্লেখ করা হল দিল্লি বিস্ফোরণে জইশ-যোগের প্রসঙ্গ। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃত লালকেল্লা ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এই অভিযোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    জইশ-সম্পর্কে ভিন্ন মত

    বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা নজরদারি এড়ানো, লজিস্টিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং সমর্থনভিত্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে অন্যান্য উগ্রপন্থী সংগঠনের মতোই জেইএমও নতুন কৌশল নিচ্ছে। জেইএমকে রাষ্ট্রসংঘ আল-কায়েদা-সম্পর্কিত সত্তা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিশেষত জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহার দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন; তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের নির্দেশ রয়েছে। তবে মনিটরিং টিম জানিয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংগঠনটির বর্তমান অবস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু দেশ জেইএমকে সক্রিয় ও বিপজ্জনক বলে মনে করলেও, অন্য এক সদস্য রাষ্ট্রের দাবি, সংগঠনটি কার্যত নিষ্ক্রিয়। এই ভিন্নমত দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতাকে জটিল করে তুলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    জইশ-এর মহিলা জঙ্গি সংগঠন

    জইশের বিষয়ে রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি জইশ প্রধান মহম্মদ মাসুদ আজহার আনুষ্ঠানিক ভাবে একটি নতুন শাখা সংগঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। শুধু মহিলাদের নিয়ে তৈরি এই জঙ্গিবাহিনীর কাজ বিভিন্ন নাশকতায় সাহায্য করা। মহিলাদের নিয়ে তৈরি ওই জঙ্গিবাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে জামাত উল-মুমিনাত। বস্তুত, জইশ হল পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী। ভারতে বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপে অতীতে জইশের যোগের অভিযোগ উঠে এসেছে। ভারত এবং পাকিস্তান উভয়েই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার সদস্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর গঠন ভবিষ্যতে ভারতীয় উপমহাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    ভারতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা

    জইশের মহিলা ব্রিগেড ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। জানা গিয়েছে, ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতে তাদের কার্যকলাপ বৃদ্ধির চেষ্টা করছে তারা। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্রিগেড ধর্মের নামে মহিলাদের প্রলুব্ধ করে নিজেদের দলে যোগ দেওয়ানোর চেষ্টা করবে। পাশাপাশি, শিক্ষিত এবং শহুরে মুসলিম মহিলাদের টার্গেট করা হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর নেতৃত্ব রয়েছে মাসুদ আজাহারের বোন সাদিয়া আজাহার। অপারেশন সিঁদুরে সাদিয়ার স্বামী ইউসুফের মৃত্যু হয়। ই ব্রিগেডে ইতিমধ্যেই নাম লেখানো শুরু করেছে সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীরা। পাশাপাশি, ভাওয়ালপুর, করাচি, মুজফফরাবাদ-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের দলে টানার চেষ্টা করছে জইশ।

  • Delhi Red Fort Blast: দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে কাশ্মীরের জঙ্গলে বোমার পরীক্ষা করেছিল উমর! দাবি এনআইএ-র

    Delhi Red Fort Blast: দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে কাশ্মীরের জঙ্গলে বোমার পরীক্ষা করেছিল উমর! দাবি এনআইএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লার কাছে গাড়ি-বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে কাশ্মীরের জঙ্গলে বোমার পরীক্ষা করেছিল দিল্লিকাণ্ডের আত্মঘাতী জঙ্গি উমর নবি! এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি এনআইএ-র। এই মামলায় ধৃতদের জেরা করে এমনটাই জানা গিয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই ধৃতদের নিয়ে অনন্তনাগ জেলায় গিয়ে পরীক্ষার জায়গায় চিরুনি তল্লাশি করে বেশ কিছু সামগ্রী পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এদিকে, দিল্লির লালকেল্লার ঘটনায় অষ্টম সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। জানা গিয়েছে, তার নাম বিলাল নাসের মাল্লা। ধৃত পেশায় একজন চিকিৎসক। থাকেন দিল্লিতে। আদতে, জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লার বাসিন্দা। তদন্তকারীদের দাবি, বিলাল নাসের মাল্লা ডক্টর্স টেরর মডিউল বা হোয়াইট কলার টেরর মডিউল নেটওয়ার্কের অন্যতম সদস্য। আত্মঘাতী জঙ্গি উমরকে সে লুকোতে সাহায্য করেছিল।

    কে এই চিকিৎসক বিলাল নাসের মাল্লা?

    লালকেল্লা বিস্ফোরণকাণ্ডে মঙ্গলবার দিল্লি থেকে এনআইএ বিলাল নাসের মাল্লাকে গ্রেফতার করেছে। লালকেল্লা এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রে বিলালের জড়িত থাকার বিষয়টি এনআইএ নিশ্চিত করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, লালকেল্লায় বিস্ফোরণ ঘটানো চিকিৎসক আত্মঘাতী চিকিৎসক-জঙ্গি উমরের সহযোগী ছিল চিকিৎসক মাল্লাও। এমনকী উমরকে আশ্রয় দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এনআইএ তদন্ত অনুসারে, বিলাল জেনেশুনে মৃত অভিযুক্ত উমর উন নবিকে লজিস্টিক (থাকা-খাওয়া) সহায়তা দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণ নষ্ট করারও অভিযোগ রয়েছে। এনআইএ জনিয়েছে, প্রকৃত ষড়যন্ত্র ও আসামিদের পরিচয় গোপন করতে প্রমাণ নষ্ট করারও চেষ্টা করেছিল বিলাল।

    দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃত ৮

    গত ১০ নভেম্বর সেই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। মৃত্যু হয়েছিল ১৫ জনের। কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। মামলাটির তদন্ত করছে এনআইএ। ওই মামলায় যুক্ত সন্দেহে এর আগে আল ফালাহ্ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দুই চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল, শাহিন সঈদ ও আমির রশিদ আলিকে গ্রেফতার করে এনআইএ। গ্রেফতার করা হয় বিলালি মসজিদের ইমাম মহম্মদ আসিফ ও ইলেক্ট্রিশিয়ান নজর কামালকে। সবার আগে, ফরিদাবাদ টেরর মডিউল ফাঁস করার সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল দুই চিকিৎসক আদিল রাথর এবং জসির বিলাল ওয়ানিকে। মোট সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিলাল নাসের মাল্লা হল অষ্টম গ্রেফতারি। এই নেটওয়ার্কের বাকি সদস্যদের খোঁজে উপত্যকা জুড়ে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

    অনন্তনাগের জঙ্গলে বোমা পরীক্ষা উমরের

    এদিকে, বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে এনআইএ। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, দিল্লিতে বিস্ফোরণের আগে জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগের জঙ্গলে বোমা পরীক্ষা করেছিল আত্মঘাতী চিকিৎসক-জঙ্গি উমর মহম্মদ ওরফে উমর-উন-নবি। পরীক্ষা সফল হওয়ার পর দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয় সেই বোমা। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, মঙ্গলবার আদিল রাথর এবং জসির বিলাল ওয়ানিকে সঙ্গে নিয়ে আনন্তনাগের জঙ্গলে যায় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ এবং এনআইএ-র তদন্তকারীরা। বোমার পরীক্ষা করার জায়গাটি চিহ্নিত করা হয়। তদন্তকারীরা বোমা পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু উপাদান উদ্ধার করেছেন। তদন্তকারী ওই সূত্রের খবর, তল্লাশি অভিযানের সময় একটি ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে। তা থেকে তদন্তকারীদের অনুমান, বোমার পরীক্ষার জন্য এই গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়েছিল। অননন্তনাগের বিভিন্ন জঙ্গলেও তল্লাশি অভিযান চালানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

  • Delhi Blast: হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর বদলা নিতে চেয়েছিল জঙ্গি-চিকিৎসক উমর নবি! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    Delhi Blast: হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর বদলা নিতে চেয়েছিল জঙ্গি-চিকিৎসক উমর নবি! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১০ বছর আগে কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে খতম হওয়া হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির সঙ্গে দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী আত্মঘাতী জঙ্গি-চিকিৎসক উমর-উন-নবি ওরফে উমর মহম্মদের যোগসূত্র উঠে এল। সূত্রের খবর, বিস্ফোরণকাণ্ডে জড়িতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর বদলা নিতে চেয়েছিল ফরিদাবাদ ডক্টর্স টেরর মডিউলের অন্যতম সদস্য উমর-উন-নবি। উমর সম্পর্কে এমনই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

    বুরহানের মৃত্যুর বদলা নিতেই দিল্লিতে হামলা!

    ২০১৬ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মারা যায় কাশ্মীরি জঙ্গি বুরহান ওয়ানি। এর প্রতিশোধ নিতেই দিল্লির লালকেল্লা চত্বরে গাড়িতে আত্মঘাতী হামলা চালায় ‘জেহাদি চিকিৎসক’ উমর নবি। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, উমর নবি নিজেকে ‘আমির’ বলে প্রচার করত জঙ্গিদের মধ্যে। বলত সে তাদের নেতা। তদন্তে উঠে এসেছে, উমর-উন-নবিকে নিয়োগ করেছিল দিল্লির বিস্ফোরণে ধৃত আর এক জঙ্গি মুজাম্মিল শাকিল। এই মুজাম্মিল শাকিলকে নিয়োগ করেছিল মওলানা ইরাফান আহমেদ।

    ন’টি ভাষায় পারদর্শী ছিল জঙ্গি-চিকিৎসক উমর…

    হরিয়ানার ফরিদাবাদে গড়ে ওঠা ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’-এর সদস্যদের সন্ধান পায় পুলিশ। তাদের মধ্যে অন্যতম হল মুজাম্মিল। তাকে জেরা করে দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ড সম্পর্কিত পুলিশ বেশকিছু বিস্ফোরক নথি হাতে পেয়েছে। মুজাম্মিলের থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, উমর ন’টি ভাষায় পারদর্শী ছিল। সবচেয়ে শিক্ষিত এবং চতুর ছিল। মুজাম্মিলের দাবি, উমরের যে ধরনের মেধা তাতে সে খুব সহজেই পরমাণু বিজ্ঞানী হতে পারত। তদন্তকারীদের মুজাম্মিল জানায়, বুদ্ধিমত্তা ও তাঁর দক্ষতার কারণে দলের সকলে উমরকে সমীহ করে চলত। উমর নিজেকে ‘আমির’ (স্বঘোষিত নেতা) বলে সম্বোধন করত। মুজাম্মিলের আরও দাবি, গোটা দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে সে একজন কর্মী মাত্র। তুলনাটা যদি উমর উন নবির সঙ্গে হয় তাহলে সে একেবারে মামুলি লোক। জঙ্গিরা দিল্লি বিস্ফোরণের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন আমির’।

    উমর-উন-নবির কাছে ছিল একটি বিশেষ সুটকেস!

    দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে ধৃত আর এক জঙ্গি শাহিন সঈদ। তাদের জেরা করেও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মূল অভিযুক্ত উমর-উন-নবির কাছে ছিল একটি বিশেষ সুটকেস, যেখানে ছিল বোমা তৈরির উপকরণ, রাসায়নিক ও সেগুলি মাপার সরঞ্জাম। বয়ান অনুযায়ী, আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al-Falah University) চিকিৎসক উমর উন নবি তার ক্যাম্পাসের ঘরেই ছোট আকারে রাসায়নিক পরীক্ষা চালাতেন। সেখানেই তিনি প্রস্তুত করেছিলেন সেই মিশ্রণ, যা পরে আইইডি বানাতে ব্যবহার করা হয়।

    নেল পালিশ রিমুভার, সুগার পাউডার দিয়ে তৈরি বোমা!

    ধৃতেরা পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের জন্য যে বোমা গাড়িতে করে দিল্লিতে নিয়ে এসেছিল উমর, সেটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় ছিল। এই বোমা তৈরি করতে উমর নেল পালিশ রিমুভার, সুগার পাউডার ব্যবহার করেছিল। প্রাথমিক ভাবে ‘টেরর মডিউল’-এর সদস্যেরা চেয়েছিল হরিয়ানায় যে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা ছিল, সেগুলি জম্মু-কাশ্মীরে স্থানান্তরিত করা হোক। সেখানেই বড়সড় নাশকতার ছক ছিল উমরের। কিন্তু, ফরিদাবাদ টেরর মডিউলের পর্দাফাঁস হতেই প্রায় তিন হাজার বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। এক এক করে গ্রেফতার হয় হোয়াইট কলার টেরর মডিউলের কাণ্ডারীরা। ফলে, সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

  • Delhi Blast: দু’বছর ধরে হামলার ছক, বোমা তৈরিতে খরচ লক্ষাধিক! দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে জেরায় দাবি ধৃতের

    Delhi Blast: দু’বছর ধরে হামলার ছক, বোমা তৈরিতে খরচ লক্ষাধিক! দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে জেরায় দাবি ধৃতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ (Delhi Blast) ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গিগোষ্ঠীর। আর সেই ছক প্রথম তৈরি হয়েছিল ২০২৩ সালে। দীর্ঘ দু’বছর ধরে দিল্লিতে হামলার ছক করেছিল জইশের সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিরা। বোমা তৈরিতে খরচ হয়েছিল লক্ষাধিক টাকা। আত্মঘাতী জঙ্গি উমর মহম্মদের সহযোগী ‘জেহাদি চিকিৎসক’ মুজাম্মিল শাকিলকে জেরা করে এমনই তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। এনআইএ-র সূত্র বলছে, গত দু’বছর ধরে ধীরে ধীরে বিস্ফোরকের মশলা জোগাড় করেছেন অভিযুক্তেরা।

    হামলার ছক দীর্ঘ দু’বছর ধরে

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে (Delhi Blast) এই হামলার ছক দীর্ঘ দু’বছর ধরে করা হয়েছিল, তা স্বীকার করে নিয়েছে শাকিল। বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক, রিমোট এবং অন্যান্য সামগ্রীও এই সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল। গোটা এই কর্মকাণ্ডের দায়িত্বে ছিল শাকিল। মুজাম্মিলের দায়িত্ব ছিল ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জোগাড় করার। সূত্রের খবর, হরিয়ানার নুহ এবং গুরুগাঁও থেকে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১৬ কুইন্টাল এনপিকে সার কিনেছিল শাকিল। অন্যান্য বিস্ফোরক দ্রব্যগুলি কেনা হয়েছিল নুহ থেকে। ফরিদাবাদের বাজার থেকে কেনা হয়েছিল ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ বোমা তৈরির রাসায়নিকগুলি সংরক্ষণের একটি ফ্রিজও কিনেছিল শাকিল। এগুলির সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ অন্য সরঞ্জাম মিশিয়ে বিস্ফোরক তৈরি করা হয়।

    ২৬ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন জঙ্গিরা

    সূত্রের খবর, সেই সার থেকে ইউরিয়া তৈরির দায়িত্ব ছিল উমরের উপরে। যে চারটি মিলে সার পেষাই করে ইউরিয়া তৈরি করেছিলেন উমর, সেগুলিও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে খবর। দিল্লি বিস্ফোরণে যে খরচ হয়েছিল, তা জুগিয়েছিলেন অভিযুক্তেরাই। এমনটাই বলছে এনআইএর সূত্র। সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সদস্যেরা বিস্ফোরকের সরঞ্জাম কিনতে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন। সূত্র বলছে, সেই টাকা উমরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। উমর নিজে দিয়েছিলেন ২ লক্ষ টাকা, এমনটাই জেনেছেন গোয়েন্দারা। সূত্রের দাবি, মুজাম্মিল দেন ৫ লক্ষ টাকা। গোষ্ঠীর অন্য সদস্য আদিল রাথের দেন আট লক্ষ টাকা। মুজফ্‌ফর রাথের দেন ৬ লক্ষ টাকা। লখনউয়ের শাহীন শাইদ দিয়েছিলেন ৫ লক্ষ টাকা। উমর বিস্ফোরণে আত্মঘাতী। বাকিরা এখন এনআইএ-র হেফাজতে।

    হ্যান্ডলারের নামও জানিয়েছেন মুজাম্মিল

    তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, জেরায় মুজাম্মিল স্বীকার করেছেন, সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি একে-৪৭ রাইফেল কিনেছিলেন তিনি। পরে আদিলের লকার থেকে তা উদ্ধার হয়। নিজের হ্যান্ডলারের নামও জানিয়েছেন মুজাম্মিল। তাঁর হ্যান্ডলারের নাম মনসুর। উমরের হ্যান্ডলারের নাম হাশিম। সূত্র বলছে, এই দুই হ্যান্ডলারই ইব্রাহিম নামে একজনের অধীনে কাজ করতেন। গোয়েন্দারা আরও জানতে পেরেছেন, শাকিল, আদিল, মুজফ্‌ফর ওকাসার নির্দেশে তুরস্কে গিয়েছিলেন। এই ওকাসা তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তানের সদস্য। আফগানিস্তানে প্রবেশের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু হ্যান্ডলারেরা সাহায্য করেননি বলে তা আর হয়ে ওঠেনি। উল্লেখ্য, দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) দেশজুড়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও ধরপাকড় শুরু করেছে। তদন্তে নেমে শ্রীনগর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা বেশিরভাগই কাশ্মীরের।

  • Al Falah University: দিল্লি বিস্ফোরণের পর থেকেই আল ফালাহ্-র ১০ কর্মী-পড়ুয়া নিখোঁজ, বন্ধ ফোনও! কোথায় তাঁরা?

    Al Falah University: দিল্লি বিস্ফোরণের পর থেকেই আল ফালাহ্-র ১০ কর্মী-পড়ুয়া নিখোঁজ, বন্ধ ফোনও! কোথায় তাঁরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Blast) কাণ্ডে নতুন মোড়। জঙ্গি তৈরির কারখানা হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয় (Al Falah University) থেকে ১০ জন নিখোঁজ। এঁরা হয় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া অথবা কর্মী। গোয়েন্দা সূত্রে বুধবার এ খবর জানা গিয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে তিন জন কাশ্মীরি। এই ১০ জনের সকলের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। দিল্লিতে লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণে জড়িতেরা সকলেই আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। ওই ঘটনার পরে হরিয়ানা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ অভিযান শুরুর পরেই ১০ জনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

    আল ফালাহ্-র ১০ জন কোথায়

    দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Blast) কাণ্ডের পর থেকেই তদন্তকারীদের নজরে আল ফালাহ ইউনিভার্সিটি। সুইসাইড বম্বার উমর-উন-নবি এই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেরই অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ছিলেন। তবে যোগসূত্র এখানেই শেষ হচ্ছে না। ফরিদাবাদ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ধৃত শাহিন শাহিদও আল ফালাহ্-র চিকিৎসক ছিলেন। ইতিমধ্যে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al Falah University) প্রতিষ্ঠাতা জওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকে গ্রেফতার করেছে ইডি। তার পরে ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। আচমকাই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন আল ফালাহ্-র ১০ জন পড়ুয়া। রাতারাতি যেন উবে গিয়েছেন তাঁরা। আল ফালাহ-কে ‘গ্রাউন্ড জিরো’ মনে করছেন তদন্তকারীরা। এ খান থেকেই শুরু হয়েছে দিল্লি বিস্ফোরণের সলতে পাকানোর কাজ। ১০ জন পড়ুয়া রাতারাতি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরে সেই ধারণা আরও শক্ত হচ্ছে।

    জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত ১০ জন!

    লালকেল্লা বিস্ফোরণের (Delhi Blast) তদন্তে জম্মু-কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়েছিল। সে সময় সামনে আসে আল-ফালাহ্-র একাধিক ব্যক্তির রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি। তাঁদের মধ্যে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al Falah University) কর্মী। কেউ বা আবার পড়ুয়া। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সঙ্গে কি বিস্ফোরণ কাণ্ডের কোনও যোগ আছে? তাঁরাও কি ‘ডক্টর্স মডিউল’-এর সঙ্গে যুক্ত? এই প্রশ্নে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ গোয়েন্দারা। যদিও নিখোঁজ এই ১০ জনের জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এই মুহূর্তে তাদের হদিশ পাওয়াই তদন্তকারীদের কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

    দিল্লি বিস্ফোরণের পিছনে কি জইশ?

    ইতিমধ্যেই দিল্লির লাল কেল্লার (Delhi Blast) সামনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার সম্ভাব্য ভরকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এই আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় (Al Falah University)। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, জইশ ই মহম্মদ এর পিছনে কলকাঠি নেড়েছে। নতুন করে ‘ফিদায়েঁ’ বা আত্মঘাতী হামলার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছে জইশ-ই-মহম্মদ। পাকিস্তানের একটি অ্যাপ ‘সদা পে’ ব্যবহার করে পাকিস্তান রুপিতে ২০ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়েছে। এবার জামাতের মহিলা জঙ্গিদের নেতৃত্বে হামলা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যেই জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়াকে জইশের মহিলা শাখা জামাত উল মোমিনাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে ভারতের হামলায় সাদিয়ার স্বামী নিহত হন। এই অপারেশনে আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক শাহিন শাহিদের কোড নেম ছিল ‘ম্যাডাম সার্জন’। সম্ভবত তার উপরেই গোটা হামলার অর্থ জোগাড়ের দায়িত্ব ছিল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

  • Delhi Blast: লালকেল্লার কাছে পার্কিংয়ে বসেই বোমা বানায় উমর! দিল্লি বিস্ফোরণে উঠে এল নয়া তথ্য

    Delhi Blast: লালকেল্লার কাছে পার্কিংয়ে বসেই বোমা বানায় উমর! দিল্লি বিস্ফোরণে উঠে এল নয়া তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লার কাছে পার্কিংয়ে বসেই বোমা তৈরি করেছিল দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের মূলচক্রী তথা চিকিৎসক উমর মহম্মদ ওরফে উমর নবি নিজেই। বিস্ফোরণের (Delhi Red Fort Blast) আগে পার্কিংয়ে বসেই বিভিন্ন উপকরণ মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছিল বোমা। সূত্রের খবর, তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখে, বিস্ফোরণের (Delhi Blast Investigation) আগে উমর কোথায় কোথায় গিয়েছিল, কতক্ষণ ছিল, কার সঙ্গে দেখা করেছিল? সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জানা গিয়েছে, বিকেল ৩টে ১৯ মিনিটে উমর তার গাড়ি নিয়ে পার্কিংয়ে ঢোকে এবং ৬টা ২৮ মিনিটে বেরিয়ে আসে। ঠিক তার ২৫ মিনিট পর, সন্ধে ৬টা ৫২ মিনিটে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, যে ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৩ জনের, আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

    পার্কিংয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বোমা তৈরি

    গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে একটি ‘হুন্ডাই আই২০’ গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। ওই গাড়ির চালক ছিলেন উমর। পরে আশপাশের বেশ কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে আসে। তাতে দেখা যায় বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়া গাড়িটি লালকেল্লার অদূরে একটি পার্কিংয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। বিস্ফোরণের দিন দুপুরে ওই পার্কিংয়ে প্রবেশ করেছিল গাড়িটি। বেরিয়েছিল সন্ধ্যায়, বিস্ফোরণের ঠিক আগে। এই দীর্ঘ সময় পার্কিংয়ে কী করছিল গাড়িটি, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছিল। প্রশ্ন জেগেছিল তদন্তকারীদের মনেও। এ বার জানা গেল, পার্কিংয়ে বসেই বিস্ফোরকটি তৈরি করছিল উমর। তদন্তকারীরা জানান, পার্কিংয়ে থাকা অবস্থায় উমর একবারও গাড়ি থেকে নামেনি। সেই সময় সে নিজের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ছিল। সন্দেহ করা হচ্ছে, সেই কথোপকথনেই নির্ধারিত হয় বিস্ফোরণের টার্গেট এলাকা।

     গাড়ির মধ্যেই বিস্ফোরক ডিভাইসটি জোড়া লাগায়

    তদন্তকারীদের অনুমান, লালকেল্লার (Delhi Red Fort) প্রতীকী গুরুত্বের কারণে প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল পার্কিং এলাকাতেই বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। কিন্তু একটি ভুল হিসেব পুরো পরিকল্পনা বদলে দেয়। সেদিন ছিল সোমবার, লালকেল্লা বন্ধ থাকার কারণে পার্কিং এলাকা প্রায় ফাঁকা ছিল। ফলে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটালে মানুষজনকে নিশানা করা সম্ভব হতো না। তাই উমর ও তার হ্যান্ডলারদের পরিকল্পনা বদলে নতুন টার্গেট এলাকা করা হয়- ব্যস্ত নেতাজি সুভাষ মার্গকে, যার এক পাশে লালকেল্লা (Delhi Red Fort), অন্য পাশে চাঁদনি চক। সাধারণত এলাকাটি ভিড়ে ঠাসা থাকে, তাই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি হতে পারত বলেই আশঙ্কা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই তিন ঘণ্টায় উমর গাড়ির মধ্যে বসেই বিস্ফোরক ডিভাইসটি জোড়া লাগায়। বিস্ফোরক প্রস্তুত হতেই সে পার্কিং ছেড়ে বেরিয়ে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরণ ঘটায়।

    পরিকল্পনা করে কাজ, বলছে তদন্ত

    দিল্লিতে গাড়ির মধ্যে বিস্ফোরণ যে কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, তা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। ওই বিস্ফোরণকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বলে ঘোষণা করেছে নয়াদিল্লি। সম্প্রতি উমরের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। তদন্তকারী সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণের অন্তত এক সপ্তাহ আগে ভিডিয়োটি রেকর্ড করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাড়িতে গিয়েছিলেন উমর। ওই সময়েই মোবাইলটি নিজের দাদাকে দিয়ে দেন তিনি। পরে উমরের দাদার কাছ থেকে মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। প্রকাশ্যে আসা ওই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, সাধারণ বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে আত্মঘাতী বোমার কতটা ফারাক, কেন আত্মঘাতী বোমারু বানানো হয়, খুব সংক্ষেপে সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন উমর।

  • Delhi Blast: ‘বিরিয়ানি’, ‘দাওয়াত’, ‘ম্যাডাম এক্স’, জঙ্গিদের ব্যবহার করা এসব শব্দের মানে জানেন?

    Delhi Blast: ‘বিরিয়ানি’, ‘দাওয়াত’, ‘ম্যাডাম এক্স’, জঙ্গিদের ব্যবহার করা এসব শব্দের মানে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিরিয়ানি প্রস্তুত, দাওয়াতের জন্য তৈরি থাকুন।” এই আপাত নিরীহ বাক্যটির নেপথেই ছিল বড়সড় অঘটনের সংকেত (Terror Module)। আজ্ঞে, হ্যাঁ। দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের অদূরে বিস্ফোরণের (Delhi Blast) আগে আগে এহেন সাংকেতিক ভাষাই ব্যবহার করত জঙ্গিরা।

    আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা (Delhi Blast)

    ১০ নভেম্বর, সোমবার সন্ধ্যায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ১৩ জন। ওই ঘটনার তদন্তে নেমেই জঙ্গিদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। বিস্ফোরণের পর ভারতে ‘হোয়াইট কলার মডেলে’র নানা কাজকর্মের কথা প্রকাশ্যে আসে। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল, দেশ-বিদেশের জঙ্গি সংগঠন, মায় নিজেদের মধ্যেই বা কীভাবে যোগাযোগ রাখত এই জঙ্গি মডিউলের সদস্যরা? জানা গিয়েছিল, ‘সিগন্যাল’ নামের একটি অ্যাপের কথা।

    সিগন্যাল অ্যাপে চলত কথাবার্তা

    দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে তিন চিকিৎসককে। তাদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সিগন্যাল অ্যাপে তৈরি একটি গ্রুপের মাধ্যমে চলত জইশ-ই-মহম্মদের ফিদায়েঁ মডিউলের সঙ্গে যোগাযোগ। ওই গ্রুপে যুক্ত ছিল বিস্ফোরণের অন্যতম চক্রী উমর-সহ ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিল আহমেদ, আদিল আহমেদ রাথর এবং শাহিন শাহিদ। এই গ্রুপের অ্যাডমিন ছিল আদিলের ভাই তথা জঙ্গি মডিউলের চাঁই মুজাফ্ফর রাথের। জানা গিয়েছে, এই গ্রুপেই উমর জানাত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারোক্সাইড-সহ (TATP) অন্যান্য রাসায়নিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। কোন রাসায়নিক কোথা থেকে কেনা হয়েছে, পরিমাণই বা কত, এর পর কী করা হবে, সেসব ব্যাপারেই কথাবার্তা উমরের সঙ্গে চলত এই গ্রুপের মাধ্যমেই (Terror Module)।

    বিরিয়ানি, দাওয়াত…

    তদন্তকারীরা জেনেছেন, হোয়াইট কলার জঙ্গি মডিউলটি সাধারণ খাবারের নাম ব্যবহার করে নিরাপদ মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম ব্যবহার করে জঙ্গি কাজ-কারবার চালাত (Delhi Blast)। সূত্রের খবর, মুজামিল শাকিল, উমা উন নবি, শাহিন শাহিদ এবং আদিল আহমেদ রাথেরের সমন্বয়ে গঠিত জঙ্গি মডিউলটি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড অ্যাপ টেলিগ্রামে যোগাযাগের জন্য বিরিয়ানি, দাওয়াতের মতো সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করত। সূত্রের খবর, ‘বিরিয়ানি’ বলতে বোঝানো হত ‘বিস্ফোরক পদার্থ’, ‘দাওয়াত’ বলতে বোঝানো হয়েছিল ‘একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে’। তদন্তকারীরা জানান, জঙ্গি হামলার বিস্ফোরক প্রস্তুত করার পর তারা টেলিগ্রামে যে বার্তাটি শেয়ার করেছিল, সেটি হল, “বিরিয়ানি প্রস্তুত, দাওয়াতের জন্য তৈরি থাকুন।”

    সূত্রের খবর, এই হোয়াইট কলার জঙ্গি মডিউলের মূল পরিকল্পনাকারী ইমাম ইরফান আহমেদ জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানের বাসিন্দা। সূত্রের খবর, সে-ই চিকিৎসকদের মৌলবাদী করে ঠেলে দিয়েছিল সন্ত্রাসের পথে। ২০২০ সালে সে ছেলের চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে। সেখানেই তার সঙ্গে আলাপ হয় উমা উন নবির। এই নবি-ই পরবর্তীকালে লালকেল্লা বিস্ফোরণের ‘সুইসাইড বম্বার’ হিসেবে চিহ্নিত হয় (Delhi Blast)। এই গ্রুপে শাহিন পরিচিত ছিল ‘ম্যাডাম সার্জন’ নামে। তদন্তকারীরা এর পাশাপাশি ‘ম্যাডাম এক্স’ এবং ‘ম্যাডাম জেড’ নামে অজ্ঞাতপরিচয় দুই মহিলার নামও পেয়েছেন (Terror Module)। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও ছিল শাহিনের (Delhi Blast)।

  • Amit Shah: ‘পাতালের তল থেকেও খুঁজে বের করব’, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি অমিত শাহের

    Amit Shah: ‘পাতালের তল থেকেও খুঁজে বের করব’, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের পাতাল থেকে খুঁজে বের করেও শাস্তি দেওয়া হবে। তারা পালাতে পারবে না, দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah)। সোমবার হরিয়ানায় অনুষ্ঠিত নর্দার্ন জোনাল কাউন্সিলের ৩২তম বৈঠকে শাহ বলেন, “দিল্লি বিস্ফোরণের অপরাধীদের আমরা পাতালের তল থেকেও বের করব এবং নিশ্চিত করব যে তারা দেশের আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।” গত ১০ নভেম্বর লালকেল্লা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা” আখ্যা দিয়ে জানায়— দোষীদের কোনও ভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।

    পুরো নেটওয়ার্ক ভাঙতে তৎপর

    সোমবার, এনআইএ এই ঘটনায় আরেকজনকে গ্রেফতার করেছে। কাশ্মীরের বাসিন্দা জাসির বিলাল ওয়ানি ওরফে দানিশ-কে শ্রীনগর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, দিল্লি বিস্ফোরণে (Delhi Blast) প্রযুক্তিগত কিছু সাহায্য চক্রান্তকারীদের যুগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ধৃতের বিরুদ্ধে। এনআইএ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৭৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আহত প্রত্যক্ষদর্শীরাও রয়েছেন। পাশাপাশি দিল্লি পুলিশ, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, হরিয়ানা পুলিশ, উত্তর প্রদেশ পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বৃহত্তর চক্রান্ত উদ্‌ঘাটন ও পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। এনআইএ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। জঙ্গি যোগের সূত্র মেলায় তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ তদন্ত দল। এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার এবং একাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়ি ছাড়াও আরও দু’টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে তদন্তকারীরা।

    দিল্লি বিস্ফোরণে শাহী-বার্তা

    দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের হুঁশিয়ারি দিয়ে এদিন শাহ (Amit Shah) বলেন, ‘‘দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করেছি। এই ঘটনার নেপথ্যে জড়িত প্রত্যেক দোষীকে খুঁজে বার করার নির্দেশ দিয়েছি। তারা এ বার দেখবে আমাদের সংস্থাগুলির ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। আমাদের তদন্ত সংস্থাগুলি এই ষড়যন্ত্রের শিকড় পর্যন্ত যাবে। যারা এই ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী, তাদের সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে। একজনকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না।’’ উল্লেখ্য, দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ দেশজুড়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও ধরপাকড় শুরু করেছে। তদন্তে নেমে শ্রীনগর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাঁদের বেশিরভাগই কাশ্মীরের। তদন্তকারীদের স্ক্যানারে হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়। একে একে সামনে আসছে দেশে ছড়িয়ে থাকা ‘হোয়াইট কলার টেরর’-এর ভয়াবহ তথ্য। এদিন শাহ বলেন, ‘‘দিল্লির এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় যেভাবে শাস্তি দেওয়া হবে, তা বিশ্বের কাছে বার্তা দেবে— ভারতে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস কেউ যেন না পায়।’’

    তদন্তে নয়া মোড়

    দিল্লির ভয়াবহ (Delhi Blast) বিস্ফোরণের তদন্তে বড়সড় মোড়। তদন্তকারী সংস্থাগুলির সন্দেহ, জইশ-যোগে আত্মঘাতী হামলাকারী ডাক্তার উমর উন নবি হয়তো ‘শু-বম্বার’ (Shoe Bomber) হিসেবেই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। ফরেন্সিক পরীক্ষার নয়া তথ্য সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। তদন্ত সূত্রের খবর, উমরের আই-২০ গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এক জুতোর ভিতরেই মিলেছে বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো ধাতব উপাদান। গাড়ির ড্রাইভারের সিটের নীচে, ডানদিকের সামনের চাকার কাছে পড়েছিল জুতোটি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, জুতো এবং গাড়ির টায়ার দুই জায়গাতেই মিলেছে টিএটিপি (TATP)-র চিহ্ন। অতিসংবেদনশীল এই বিস্ফোরককে দুনিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি চেনে ‘মাদার অফ স্যাটান’ নামে। বিস্ফোরক মজুত ছিল বলেই নয়, বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রথম ধাক্কা বা ইনিশিয়েশন মেকানিজম সম্ভবত জুতোর মাধ্যমেই চালানো হয়েছিল বলে সন্দেহ দানা বাঁধছে।

  • Delhi Blast: আত্মঘাতী হামলার পক্ষে ব্যাখ্যা, রয়েছে দিল্লি বিস্ফোরণের ইঙ্গিতও! উমরের শেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে

    Delhi Blast: আত্মঘাতী হামলার পক্ষে ব্যাখ্যা, রয়েছে দিল্লি বিস্ফোরণের ইঙ্গিতও! উমরের শেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লা বিস্ফোরণ যে নাশকতামূলক হামলা, সেই নিয়ে কোনও সন্দেহ ছিল না। তবে, এই হামলা আত্মঘাতী হামলা নাকি দুর্ঘটনাবশত ঘটে যাওয়া, সেই নিয়ে দুই তত্ত্বের মধ্যে দোটানায় ছিলেন তদন্তকারীরা। একপক্ষের মতে, এটা ছিল আত্মঘাতী হামলাই। কারণ, আত্মঘাতী জঙ্গি-ডাক্তার উমর জানত কী হতে চলেছে। অন্য তত্ত্ব ছিল, বিস্ফোরক সরাতে গিয়ে স্পর্শকাতর বিস্ফোরক-ঠাসা গাড়িতে আচমকাই ঘর্ষণের ফলে ঘটে যায় বিস্ফোরণ। কিন্তু, সব জল্পনার অবসান। দিল্লি বিস্ফোরণ আদতে একটি আত্মঘাতী হামলা। আর এমনই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে খোদ আত্মঘাতী জঙ্গি-চিকিৎসক উমর নবির একটি পুরনো ভিডিও থেকে।

    প্রকাশ্যে জঙ্গি-ডাক্তার উমরে নবির ভিডিও …

    সম্প্রতি, নবি উমরের একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। সূত্রের খবর, এটাই উমরের শেষ ভিডিও। দিল্লি বিস্ফোরণের আগেই এই ভিডিও নিজে শ্যুট করে উমর। সেখানে তাকে আত্মাঘাতী হামলার স্বপক্ষে বলতে দেখা গিয়েছে। এমনকি, দিল্লি হামলার সুস্পষ্ট ইঙ্গিতও মিলেছে ওই ভিডিওয়। উমরকে আত্মঘাতী বোমা হামলার পক্ষে যুক্তি দিতে শোনা গিয়েছে। ভিডিওতে তাকে স্পষ্ট ইংরেজি ভাষায় বলতে শোনা যায়, ‘আত্মঘাতী বোমা হামলা নিয়ে বোঝার ভুল রয়েছে…।’ উমরকে ওই ভিডিওতে এমনও দাবি করতে দেখা যায় যে, এটা (আত্মাঘাতী হামলা) নাকি শহিদ হওয়ার সমান। এই ধরনের হামলাকে সমর্থনযোগ্য কাজ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে সে। শুধু আত্মঘাতী হামলার স্বপক্ষে সওয়াল করাই নয়। দিল্লি বিস্ফোরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত উঠে এসেছে উমরের ভিডিও-বার্তা থেকে। যেখানে ওই চিকিৎসক-জঙ্গিকে বলতে শোনা যায়, ‘‘যখন আপনি জেনে যান ঠিক কখন, কোথায় আপনার মৃত্যু হবে…’’।

    আত্মঘাতী হামলার তত্ত্বকেই সিলমোহর

    মৃত জঙ্গি-ডাক্তার উমর উন নবির নতুন ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ভিডিও দিল্লি বিস্ফোরণে আত্মঘাতী হামলার তত্ত্বকেই সিলমোহর দিল। স্পষ্ট হল, সঙ্গীরা ধরা পড়ায় মরিয়া হয়ে তড়িঘড়ি এই আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল উমর। পুলিশ ও এনআইএ-র দাবি, দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটানো কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং অনেকদিন ধরেই পরিকল্পনা করছিল অভিযুক্ত। হামলার আগে ভিডিও বার্তা রেকর্ড করা সেই পরিকল্পনারই অংশ। গোয়েন্দারা মনে করছেন, ভিডিওটি ফরিদাবাদ থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের পর তৈরি করা হয়েছে। কীভাবে উমর এই পথে জড়িয়ে পড়ে, তা জানতে তার পুরনো যোগাযোগ ও অনলাইন কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উগ্রপন্থী প্রচারমূলক কন্টেন্ট দেখত এবং গোপনে তা প্রচারও করত।

    বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ

    তদন্তকারীদের মতে, যে কোনও নাশকতার কার্যকলাপের পিছনে দীর্ঘদিন ধরে চলে মগজধোলাই। বোঝানো হয় যে আত্মঘাতী হামলায় মৃত্যু হওয়াটা ভালো। এভাবেই শিক্ষিত যুবক-যুবতীদেরও নাশকতার কার্যকলাপে টেনে আনা হয়। ভিডিও দেখে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না যে উমর সকলের মগজধোলাই করছে। গোয়েন্দারা বলেন, ভিডিওটি স্পষ্ট করে দেয় যে, হামলা করার আগে থেকেই উমর তা নিয়ে অত্যন্ত দৃঢ় ছিল এবং সমাজের সামনে নিজের কাজকে সঠিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিল। তাই স্পষ্টতই এই ভিডিও এখন দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠেছে।

LinkedIn
Share