Tag: Delhi Police

Delhi Police

  • Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেস (Connaught Place) এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন দুষ্কৃতীরা পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশের গাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি এবং পুলিশকর্মীদের জ্যাকেট ও হেলমেট ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় জড়িত ছিল। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    রণক্ষেত্র রাজধানী

    ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। দিল্লি পুলিশের দাবি, কনট প্লেসের আউটার সার্কেলের রিগ্যাল সিনেমা সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে এবং একাধিক পুলিশ গাড়ি ভাঙচুর করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, একাধিক আইপিএস অফিসার-সহ অন্তত ১১৮ জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ৬০ জন আন্দোলনকারীও। ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আহত পুলিশকর্মীদের মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষা (MLC) এখনও চলছে।

    সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    ঘটনার তদন্তে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের ভিডিও বিশ্লেষণ করছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০টি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। পুলিশের দাবি, অনেক দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বা কাপড় বেঁধে নিজেদের পরিচয় গোপন করে ব্যারিকেড ভাঙচুর ও হামলায় অংশ নিয়েছিল। আন্দোলনকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড হামলা করেন, পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ১৫-২০টি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ। শাংগ্রি-লা হোটেলের কাছে এক মহিলা হেড কনস্টেবল মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে চার থেকে পাঁচটি সেলাই করতে হয়েছে। রাজীব চৌক, জনপথ, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ-সহ দিল্লি মেট্রোর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন দীর্ঘক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হয় পরিষেবা।

    দিল্লি পুলিশের বিবৃতি

    দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভকারীরা “উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক এবং হিংসাত্মক আচরণ” করেছে। পুলিশের বারবার সতর্কবার্তা এবং আইনানুগ নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। পুলিশ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে গুজব বা ভুয়ো খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেছে, শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের উপর ভরসা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে।

    ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে উত্তেজনা

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে ককরোচ পার্টি-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ মিছিল যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশের দাবি, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় কর্মসূচির অনুমতি না থাকায় বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় এবং লাঠিচার্জ করে। এর পাল্টা বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযান

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার আন্দোলনকারী যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। সংসদমুখী রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশও। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবিধান ক্লাব, প্যাটেল চৌক, শাস্ত্রী ভবন, আরবিআই ভবন এবং সংসদ মার্গ এলাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    নিরাপত্তা জোরদার

    ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত এখনও চলছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাস

    এরই মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের তরফে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌরভ দাস জানিয়েছেন, নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা দলের দাবিগুলি লিখিত ভাবে তুলে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌরভ দাস জানান, জেপি নাড্ডার সঙ্গে তাঁর বাসভবনে প্রায় ১০ মিনিট বৈঠক করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি সম্বলিত একটি চিঠি নাড্ডার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ ভাবে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

     

     

     

  • Sonam Wangchuk: ২০ দিনের অনশন ভাঙল হাসপাতালে, ভোররাতে সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সরাল দিল্লি পুলিশ

    Sonam Wangchuk: ২০ দিনের অনশন ভাঙল হাসপাতালে, ভোররাতে সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সরাল দিল্লি পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনির্দিষ্টকালের অনশনে ইতি। টানা ২০ দিনের অনশনের পর জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে শনিবার ভোররাতে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ, এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার ভোরের দিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই এই অভিযান চালানো হয়। এর ফলে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন কেন্দ্র যন্তর মন্তরে ওয়াংচুকের দীর্ঘ অনশন কর্মসূচির ইতি ঘটল। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতেই শুধুমাত্র চিকিৎসাজনিত কারণেই তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)

    দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওয়াংচুক বর্তমানে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দীর্ঘদিন অনশন ও শরীরে জলশূন্যতার কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তবে আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, “সোনম ওয়াংচুককে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন অনশন ও শরীরে জলশূন্যতার কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তাঁকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার মধ্যে রাখতে হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নয়াদিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, “মাননীয় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।”

    শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল

    পুলিশ আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল খালি করার আবেদনও জানিয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ অনশন সত্ত্বেও ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর জীবনরক্ষাকারী শারীরিক সূচকগুলি স্বাভাবিক ছিল। রক্তচাপ এবং শরীরে জলের মাত্রাও গ্রহণযোগ্য অবস্থায় ছিল। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা সামান্য কম পাওয়া যায়। তিনি হালকা ডায়রিয়ার অভিযোগও জানান। দীর্ঘদিন অনশন ও জলশূন্যতার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ায় তাঁকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা বা হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য ওয়াংচুক সম্মতি দিতে চাননি। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের শীর্ষ সূত্রের দাবি, নয়াদিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার দায়িত্ব নেওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। ইচ্ছাকৃতভাবেই ভোরের সময়টি বেছে নেওয়া হয়, কারণ সেই সময় যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

    ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়

    পুলিশের আরও দাবি, ওয়াংচুকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অভিজিৎ দিপকে সাময়িকভাবে মঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার সময়টিকেও কৌশলগত সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেই সময় মঞ্চে আন্দোলনের মূল সমন্বয়কারী উপস্থিত ছিলেন না। এদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন সাদা পোশাকের পুলিশকর্মী নয়াদিল্লি জেলার বিশেষ শাখা এবং স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড ঘেরা আন্দোলনস্থলে প্রবেশ করেন। সূত্রের দাবি, পুরো অভিযানটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালিত হয়। হাতে গোনা কয়েকজন ঊর্ধ্বতন আধিকারিকই সম্পূর্ণ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন। ফিল্ড লেভেলের পুলিশকর্মীদের শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা মঞ্চ ঘিরে ফেলেন এবং পরে ওয়াংচুকের শয্যার চারপাশে অবস্থান নেন। এরপর বড় সাদা চাদর দিয়ে চারদিক ঢেকে তাঁকে সেখান থেকে বের করে আনা হয়, যাতে ভিড় জমায়েত বা সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি না হয়। দ্বিতীয় স্তরে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং ক্যুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা ব্যারিকেডের বাইরে আন্দোলনকারীদের আটকে, এবং পরিস্থিতির অবনতি রুখে দেন।

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য

    তৃতীয় স্তরে দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অ্যাম্বুল্যান্স এবং পুলিশের গাড়ির কাছে তৈরি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে গোটা অভিযান তদারকি করেন। ওয়াংচুককে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার পর সফদরজং হাসপাতালে দ্রুত পৌঁছে দিতে যান চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর অভিজিৎ দিপকে আন্দোলনস্থলে ফিরে এসে অভিযোগ করেন, তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওয়াংচুককে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন, ওয়াংচুক হাসপাতালে ভর্তি হলেও, আন্দোলন থামবে না। তিনি নিজেই অনশন শুরু করে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার সময় কিছু আন্দোলনকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে নিরাপদভাবেই পুরো অভিযান সম্পন্ন করেছে। উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, “মাননীয় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার সময় কিছু আন্দোলনকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এতে সামান্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও, পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম বজায় রেখে নিরাপদভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।”

     

  • Osman Faizan Ali: নিট ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, চর্চায় প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলি

    Osman Faizan Ali: নিট ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, চর্চায় প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট (NEET) সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল (Osman Faizan Ali)। এই বিক্ষোভকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলির ভূমিকা নিয়ে।

    ককরোচ জনতা পার্টি (Osman Faizan Ali)

    প্রতিবাদ কর্মসূচিটি হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) উদ্যোগে। আন্দোলনটিকে ছাত্র-যুবদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন পোস্টার ও প্রচারসামগ্রীতে ওসমান ফয়জান আলির ছবি দেখা গিয়েছে। বেশ কয়েকটি প্ল্যাকার্ডে তাঁর পরিচয় হিসেবে লেখা ছিল ‘ইন্ডিয়ান ওসমান ফয়জান আলি – ফ্রম ইউএসএ’। বিক্ষোভকারীর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, তাঁদের অনেকেই পোস্টারে থাকা ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। কয়েকজন আবার জানান, সংগঠকদের কাছ থেকে তাঁরা পোস্টার পেয়েছেন এবং ছবিতে থাকা ব্যক্তির সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই।

    কে এই ওসমান ফয়জান আলি?

    জানা গিয়েছে, ওসমান মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘@bbm_india_’-এ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ও নিট ইস্যু নিয়ে একাধিক ভিডিও এবং পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এসব কনটেন্টে আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিতও উঠে এসেছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। ১ জুন ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে মন্তব্য করতে গিয়ে ওসমান বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আন্দোলনকারীদের মধ্যে আবেগ ও উত্তেজনা উসকে দিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। যদিও ভিডিওতে সরাসরি কোনও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ডাক দেওয়া হয়নি (Osman Faizan Ali)। সম্প্রতি প্রকাশিত আরও একটি ভিডিওতে তিনি দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। তবে সেই ভিডিওতেও আন্দোলন আটকে দিলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

    ওসমানের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান

    ওসমানের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘Button Ballot Movement by Osman Faizan Ali’-এর পুরনো কিছু কনটেন্টে দেখা গিয়েছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি হায়দরাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদের ভোটারদের এআইএমআইএম (AIMIM) এবং কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থন করার ডাক দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যে বিজেপিকে পরাজিত করার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ককরোচ জনতা পার্টি-সমর্থন এবং অতীতের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন সময়ে বিজেপি-বিরোধী অবস্থানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে অবশ্য ওসমানের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি (CJP)।

    বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমার যুগে দ্রুত বদলাচ্ছে রাজনৈতিক আন্দোলনের চরিত্র। এখন দেশের বাইরে অবস্থান করেও কোনও ব্যক্তি অনলাইনের মাধ্যমে আন্দোলনের বয়ান গঠন, জনমত প্রভাবিত করা এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার করার সুযোগ পাচ্ছেন (Osman Faizan Ali)। যন্তর মন্তরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কতটা, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রচারসামগ্রীর উৎস সম্পর্কে কতটা সচেতন, এবং সর্বোপরি, বিদেশে থেকে অনলাইন সক্রিয়তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনায় অনলাইন প্রচার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং জনআন্দোলনের সম্পর্ক নিয়ে (CJP) আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (Osman Faizan Ali)।

    অতএব, সাধু সাবধান!

     

  • Baby Trafficking: দিল্লিতে নবজাতক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস, হাসপাতাল মালিক-সহ গ্রেফতার ৪

    Baby Trafficking: দিল্লিতে নবজাতক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস, হাসপাতাল মালিক-সহ গ্রেফতার ৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাত্র চার-পাঁচ দিনের নবজাতককে দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে কিনে বা বিভিন্নভাবে জোগাড় করে কয়েক লক্ষ টাকায় নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে বিক্রি (Baby Trafficking) করত একটি পাচারচক্র। দিল্লি পুলিশের অভিযানে সেই চাঞ্চল্যকর শিশু পাচার চক্রের পর্দাফাঁস হয়ে (Delhi) গিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে বেসরকারি ওই হাসপাতালের মালিক-সহ ৪জনকে। উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ নবজাতককে।

    শিশুর দর (Baby Trafficking)

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশু কন্যা হলে বিক্রি হত ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায়, ছেলে হলে এটাই হয়ে যেত ডবল। পুত্র শিশুকে বিক্রি করা হত ৬ থেকে ৮ লাখ টাকায়। গরিব পরিবারের কাছ থেকে কন্যাশিশুকে প্রায় ১ লাখ এবং ছেলে শিশুকে প্রায় ২ লাখ টাকার বিনিময়ে জোগাড় করা হত বলেই জেনেছেন তদন্তকারীরা।

    কীভাবে পর্দাফাঁস?

    মধ্য দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার এক বাসিন্দা পুলিশকে জানান, এক মহিলা নিয়মিত এলাকায় বিভিন্ন নবজাতককে নিয়ে আসছেন এবং প্রতিবারই শিশুটি আলাদা। সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের এক মহিলা অফিসার ক্রেতা সেজে ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে একটি শিশুর জন্য চুক্তি হয়। শিশুটি হস্তান্তরের সময় অভিযুক্ত জ্যোতি ওরফে কমলেশকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। কমলেশকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে (Baby Trafficking), রাজস্থান ও গুজরাটের দরিদ্র পরিবার থেকে নবজাতক সংগ্রহ করে সেগুলি দিল্লির মাধ্যমে হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশের নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে বিক্রি করা হত। এরপর একে একে গ্রেফতার করা হয় শালু, ললিত, প্রতিভা ও বিপিনকে। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা নগদও উদ্ধার হয়েছে। দু’সপ্তাহের তদন্তের পর এক মাসেরও কম বয়সী পাঁচ শিশুকে (Delhi) উদ্ধার করে পুলিশ।

    পাচারচক্রের প্রধান পীঠস্থান

    তদন্তকারীরা জেনেছেন, পশ্চিম দিল্লির রোহিণীর বেগমপুর এলাকায় অবস্থিত হীরা মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল এই পাচারচক্রের প্রধান পীঠস্থান হিসেবেই কাজ করত। হাসপাতালের মালিক বিবেকীই এই পাচারচক্রের মূল হোতা বলেই দাবি পুলিশের। অভিযোগ, হাসপাতালেই শিশুদের রাখা হত, পরে সুযোগ বুঝে মা এবং সেখান থেকেই ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হতো। পাশাপাশি জন্মসনদ, প্রসব সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য সরকারি কাগজপত্র (Baby Trafficking) জাল করে দেখানো হত যে, শিশুগুলির জন্ম হয়েছে ওই হাসপাতালেই। পুলিশ গুজরাটের সাবরকাঁঠা থেকে সবাভাই ঘামার ওরফে কালিয়াকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে রাজস্থানের পালি ও গুজরাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরিব পরিবারের নবজাতক সংগ্রহ করে দিল্লির এই চক্রের হাতে তুলে দিত।

    জৈবিক বাবা-মায়ের খোঁজ

    পুলিশ এখন উদ্ধার হওয়া শিশুদের জৈবিক বাবা-মায়ের খোঁজ করছে। যদি প্রমাণিত হয় যে তারা স্বেচ্ছায় সন্তান বিক্রি করেছেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, গত এক বছরে অন্তত ৩০ জন নবজাতককে পাচার করেছে এই চক্র। ইতিমধ্যেই হরিয়ানার পানিপথ এবং মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়রের কয়েকজন ক্রেতা দম্পতিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে (Baby Trafficking)।জানা গিয়েছে, এক দম্পতিকে একটি ছেলে ও একটি শিশুকন্যা ‘যমজ’ বলে পরিচয় দিয়ে মোট ৯ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। পরে (Delhi) জানা যায়, শিশুদুটি আলাদা আলাদা জায়গা থেকে জোগাড় করা হয়েছিল, তারা আদৌ যমজ ছিল না। উদ্ধার হওয়া পাঁচ নবজাতককে আপাতত চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) তত্ত্বাবধানে পালনা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেই খবর (Baby Trafficking)।

     

  • ISI Terror Module: ভারতে বড় নাশকতার পরিকল্পনা পাক আইএসআই-এর! দিল্লির মন্দির, সেনা ক্যাম্পে হামলার ছক ফাঁস, ধৃত ৯

    ISI Terror Module: ভারতে বড় নাশকতার পরিকল্পনা পাক আইএসআই-এর! দিল্লির মন্দির, সেনা ক্যাম্পে হামলার ছক ফাঁস, ধৃত ৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি বড়সড় অভিযানে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল পাকিস্তান-সমর্থিত একটি জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁস করে সেটিকে ধ্বংস করেছে। অভিযোগ, পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অপারেটিভদের মাধ্যমে এই মডিউলটি পরিচালনা করছিল। “গ্যাং বাস্ট অপারেশন ২.০”-এর আওতায় একাধিক রাজ্য থেকে ৯ জন সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, এই জঙ্গি মডিউলটি জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর) এবং উত্তরপ্রদেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় ছিল বেশ কয়েকটি হিন্দু মন্দিরও।

    দিল্লির ঐতিহাসিক মন্দিরে রেকি, ছবি যায় পাকিস্তানে…

    সূত্রের দাবি, ধৃতদের মধ্যে একজন অভিযুক্ত দিল্লির ওই ঐতিহাসিক মন্দির এলাকায় রেকি চালিয়েছিল। মন্দির চত্বর ও আশপাশের ছবি তুলে তা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ। তদন্তকারীদের অনুমান, মন্দিরে মোতায়েন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা ছিল। শুধু মন্দির নয়, দিল্লি-সোনিপত হাইওয়ের একটি ব্যস্ত ধাবাতেও গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা থাকায় এই হামলা সফল হলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, জনবহুল জায়গাকে টার্গেট করে আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।এছাড়াও হরিয়ানার হিসারের একটি সামরিক শিবিরও জঙ্গিদের নিশানায় ছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, ওই সেনা ছাউনির আশপাশের ভিডিও তৈরি করে সীমান্তের ওপারে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি থানাকেও টার্গেট তালিকায় রাখা হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি।

    পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের অংশ

    বৃহস্পতিবার এই ৯ জনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। মডিউলটির সঙ্গে আইএসআই এবং হ্যান্ডলার শাহজাদ ভাট্টির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থা। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় বা দিল্লির যে মন্দিরটিকে টার্গেট করা হয়েছিল তার সঠিক নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গোটা নেটওয়ার্কের শিকড় খুঁজে বের করতে তৎপর। ধৃতদের ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ফোন, চ্যাট হিস্ট্রি ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে অর্থ জোগান আসছিল, কারা স্থানীয় যোগাযোগ রক্ষা করছিল এবং আর কোনও ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। জেরা যত এগোবে, ততই সামনে আসতে পারে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

    এপ্রিল-মে মাসে আরও জঙ্গির ধরপাকড়

    বৃহস্পতিবারই উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-ও পাকিস্তান-যোগ থাকা একটি জঙ্গি ষড়যন্ত্র ফাঁস করার দাবি করেছে। সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম বরাবাঁকির বাসিন্দা দানিয়াল আশরাফ ও গোরক্ষপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণ মিশ্র। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, জীবন্ত কার্তুজ এবং একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতরা পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের নির্দেশে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ছক কষছিল। সাম্প্রতিক গ্রেফতারি ও তদন্তে উঠে আসা তথ্যকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এর আগে ২৪ এপ্রিল আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল উত্তরপ্রদেশ এটিএস। ধৃতরা হল তুষার চৌহান ওরফে হিজবুল্লাহ আলি খান এবং সমীর খান। অভিযোগ, তারা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের নির্দেশে কাজ করছিল। অভিযানের সময় ওই দু’জনের কাছ থেকে একটি পিস্তল, তাজা কার্তুজ এবং একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত ‘হাইব্রিড টেরর’ মডিউলের মাধ্যমে স্থানীয় অপরাধী চক্র ও গ্যাংস্টারদের ব্যবহার করে হামলার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ফলে আন্তঃরাজ্য সমন্বয় ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • Delhi Terror Plot: খেলনা গাড়িতে বোমা! দিল্লি পুলিশের জালে ৪ জঙ্গি, রাজধানীতে হামলার ছক বানচাল

    Delhi Terror Plot: খেলনা গাড়িতে বোমা! দিল্লি পুলিশের জালে ৪ জঙ্গি, রাজধানীতে হামলার ছক বানচাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিকে লক্ষ্য করে এক বড় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা (Delhi terror plot) বানচাল করে দিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা ও বিহার থেকে চার ‘র‌্যাডিক্যালাইজড’ যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) এবং খেলনা গাড়িতে বোমা লাগিয়ে হামলা চালানোর সরঞ্জাম। পুলিশের অভিযোগ, তারা সংবেদনশীল স্থানগুলোর রেকি করেছিল, অনলাইন এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও লোককে নিয়োগের চেষ্টা করছিল এবং দিল্লিতে বড় ধরনের হামলার ছক কষছিল।

    বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ

    ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ও মহারাষ্ট্র এটিএস-এর যৌথ অভিযানে মুম্বইয়ের কুর্লা ও খাদাভলি এলাকা থেকে দুজনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তদন্তের সূত্র ধরে ওড়িশা ও বিহার থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। আটক চারজনের মধ্যে দুজনের নাম মোসাব আহদাম ওরফে কালাম কল্যাণ এবং মোহাম্মদ হামাদ কোল্লারা। তারা জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেএম) এবং আইএসআইএস-এর প্রভাবিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অনলাইনে ‘মিশন খিলাফত’ ও ‘সোলজার্স অফ জিহাদ’-এর মতো গ্রুপের মাধ্যমে তারা র‌্যাডিক্যালাইজড হয়েছে। টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলে জানা গিয়েছে।

    জঙ্গিদের লক্ষ্যে ছিল রাম মন্দির, সংসদ ভবন

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা খেলনা গাড়ির ভিতরে আইইডি লুকিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট এড়িয়ে ভিড়াক্রান্ত এলাকায় পৌঁছে হামলা চালানো। তারা দিল্লির সংবেদনশীল স্থানগুলোর রেকি করেছিল এবং আইইডি তৈরির প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে সংবেদনশীল নথি, ডিজিটাল চ্যাট, বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ এবং একাধিক আইইডি। পুলিশের দাবি, ভুবনেশ্বরের শেখ ইমরান এমন কিছু অনলাইন গ্রুপ তৈরি করেছিল যেখানে “জিহাদ”, “খিলাফত” এবং সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে রাম মন্দির, সংসদ ভবন ও সামরিক স্থাপনা নিয়ে আলোচনা হত। অন্যদিকে, সোহেল একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চালিয়ে যুবকদের উসকানি দিত এবং অর্থ সংগ্রহ করত। এছাড়াও, এক অভিযুক্ত দিল্লির লালকেল্লা-সহ কয়েকটি সংবেদনশীল স্থানে গিয়ে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে এই জঙ্গিদের ধরতে অভিযান চালায় স্পেশাল সেল।

    খেলনা গাড়ির মতো সাধারণ জিনিসে বিস্ফোরক

    এই গ্রেফতার দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, “অনলাইন র‌্যাডিক্যালাইজেশন এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। যুবকরা সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ ধরনের ছক কষছে। খেলনা গাড়ির মতো সাধারণ জিনিসকে অস্ত্র বানানোর চেষ্টা দেখে বোঝা যায়, জঙ্গিরা নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে।” তদন্তে আরও বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • Chadha Z Security: আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা কেন্দ্রের

    Chadha Z Security: আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা (Chadha Z Security) দিল কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, এই নিরাপত্তা দিল্লি ও পাঞ্জাব – দুই রাজ্যেই প্রযোজ্য হবে (AAP)। তাঁর সুরক্ষায় মোতায়েন করা হবে আধাসামরিক বাহিনী। সূত্রের খবর, আপাতত দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগে পর্যন্ত চাড্ডাকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর তৈরি করা হুমকি মূল্যায়ন রিপোর্টের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।

    চাড্ডার জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা প্রত্যাহার (Chadha Z Security)

    পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টি সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর আগের জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা প্রত্যাহারের দুদিনের মধ্যেই চাড্ডাকে নিরাপত্তা প্রদানের ঘোষণা করল কেন্দ্র। রাজ্য পুলিশের দেওয়া এই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। কারণ চাড্ডা ও দলের নেতৃত্বের মধ্যে চলা বর্তমান দ্বন্দ্ব। চাড্ডা পাঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত একজন গুরুত্বপূর্ণ আপ নেতা। এতদিন রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে দেওয়া হচ্ছিল জেড প্লাস নিরাপত্তা। গত সপ্তাহে এই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়, যখন দলের ভেতরের বিরোধ আরও তীব্র হয়। কেন্দ্রের তরফে দ্রুত জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    চাড্ডার প্রতিক্রিয়া

    চাড্ডাকে রাজ্যসভায় আপের ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও এই নিরাপত্তা পরিবর্তনের সঙ্গে মিলে গিয়েছে, যার জেরে দলের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ আরও তীব্র হয়েছে (AAP)। এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় চাড্ডা জানান, তিনি পরাজিত নন, বরং তাঁকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে—যা দলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাঁর স্পষ্ট প্রতিবাদ। আপ নেতাদের অভিযোগ, চাড্ডা সংসদে পাঞ্জাবের সমস্যাগুলি যথেষ্ট জোর দিয়ে তোলেননি। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নরম অবস্থান নিয়েছেন তিনি। রাঘব গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী কার্যকলাপে অংশ নেননি, যেমন ওয়াকআউট বা সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নোটিশে সই করা। চাড্ডা এই অভিযোগগুলি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, একজন সাংসদ হিসেবে তাঁর কাজ হল গঠনমূলকভাবে জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নয়। তিনি দাবি করেন, তাঁর সংসদীয় কাজই তার প্রমাণ (Chadha Z Security)।

    রাঘবের নিশানায় কে

    এদিকে, সম্প্রতি চাড্ডা সোশ্যাল মিডিয়ায়ও সক্রিয় হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি সংসদে তাঁর বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করেছেন, যার একটির শিরোনাম ছিল “ভয়েস রেজড, প্রাইস পেড (Voice Raised Price Paid)।” একটি পোস্টে রাঘব বলেন, “আমার কাজই আমার হয়ে কথা বলবে (AAP)।” বস্তুত, রাজনৈতিক জল্পনা আরও বাড়িয়েছে রাঘবের একটি মন্তব্য, যেখানে তাঁকে নিজের দল গঠনের পরামর্শ দেওয়া একটি ভিডিওতে তিনি লিখেছিলেন “ইন্টারেস্টিং থট”। তিনি “নেভার আউটসাইন দ্য মাস্টার (Never Outshine the Master)” বাক্যটির উল্লেখ করে একটি ছবি শেয়ার করেন, যা দেখে অনেকেরই ধারণা দলনেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উদ্দেশ্যেই এই ইঙ্গিত। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলীয় দ্বন্দ্ব যত গভীর হচ্ছে, ততই রাঘবের ওপর থেকে রাজ্য নিরাপত্তা প্রত্যাহার এবং কেন্দ্রের দ্রুত নতুন নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে (Chadha Z Security)।

  • Delhi Crime Branch: পাকিস্তান-বাংলাদেশ অস্ত্রপাচার চক্রের হদিশ! দিল্লি পুলিশের জালে ১০ পাচারকারী

    Delhi Crime Branch: পাকিস্তান-বাংলাদেশ অস্ত্রপাচার চক্রের হদিশ! দিল্লি পুলিশের জালে ১০ পাচারকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি পুলিশের (Delhi Crime Branch) জালে এক বড় আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচার চক্র। পুরনো দিল্লির ওয়ার্ল্ড সিটি এলাকা থেকে পরিচালিত এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ২১টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২০০-রও বেশি কার্তুজ। ডিসিপি সঞ্জীব যাদবের নেতৃত্বে চালানো এই অভিযানে পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের (Pakistan-Bangladesh Arms Trail) সঙ্গে যুক্ত একটি সুসংগঠিত পাচার রুটের সন্ধান মিলেছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি চেক প্রজাতন্ত্র-নির্মিত সাবমেশিন গান এবং বেরেটা, ওয়ালথার, টরাস ও সিজেড-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার তৈরি একাধিক সেমি-অটোমেটিক পিস্তল। এছাড়া একটি উচ্চমানের পিএক্স৫.৭ পিস্তলও উদ্ধার হয়েছে, যা সাধারণত এলিট ট্যাকটিক্যাল ইউনিটে ব্যবহৃত হয়।

    পাকিস্তান থেকে নেপাল হয়ে দিল্লি

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্ত্রগুলি পাকিস্তান থেকে পাচার হয়ে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকত এবং সেখান থেকে দিল্লিতে আনা হত। পুরনো দিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাকে গুদাম ও বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হত। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের কাছে এত উন্নতমানের অস্ত্রের উপস্থিতি এই নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। এই চক্রটি দিল্লি-এনসিআর সহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন সংগঠিত অপরাধচক্রে অস্ত্র সরবরাহ করত। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক অস্ত্র সরবরাহকারী ও স্থানীয় অপরাধ জগতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছিল এই নেটওয়ার্ক। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, পুরনো দিল্লির জটিল ও ঘিঞ্জি গলিপথকে কাজে লাগিয়ে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই নজর এড়িয়ে কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল।

    সংগঠিত অপরাধ জগতে বড় ধাক্কা

    পুলিশের মতে, এই অভিযানে উত্তর ভারতের অপরাধ জগতে বড় ধাক্কা লেগেছে। কারণ, বহু অপরাধচক্র এই নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন তদন্তকারীরা উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি কাদের কাছে যেত, তা খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে কোনো স্লিপার সেল বা দেশবিরোধী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রের মূল পান্ডাদের খোঁজ এবং নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি বোঝার চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান-নেপাল-বাংলাদেশ সংযুক্ত এই অস্ত্র পাচার চক্র ভাঙার ঘটনায় আবারও সামনে এল সীমান্ত পেরিয়ে চলা অপরাধের জাল।

  • Delhi Police: চুক্তির শর্ত না মানায় হাইকোর্টের নির্দেশে ইউএনআই সংবাদ মাধ্যমের অফিস সিল করল পুলিশ

    Delhi Police: চুক্তির শর্ত না মানায় হাইকোর্টের নির্দেশে ইউএনআই সংবাদ মাধ্যমের অফিস সিল করল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi Police) নির্দেশ এবং তার প্রেক্ষিতে সংবাদ সংস্থা ইউএনআই (United News of India)-এর অফিস সিল করে দেওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক চর্চা চলছে। ৪৫০ কোটি টাকা মূল্যের এই পাবলিক প্রপার্টি বা সরকারি জমি দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় এবং চুক্তির শর্ত না মানায় আদালত জমিটি সরকারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতের অন্যতম প্রাচীন এই সংবাদ সংস্থা ইউএনআইয়ের কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের পর রাজধানীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার, ২০ মার্চ সন্ধ্যায়, দিল্লি পুলিশের কর্তারা আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আদালতের নির্দেশে রফি মার্গে ইউএনআইয়ের কার্যালয়ে পৌঁছন, চালান উচ্ছেদ অভিযান। এরপর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। তবে পুলিশের এই অভিযানে বামপন্থীরা ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি সংবাদ মধ্যেমের ওপর আক্রমণ।

    হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী সিল (Delhi Police)

    দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ শচীন শর্মা বলেন, “পুলিশ শুধুমাত্র সরকারি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার জন্যই সেখানে উপস্থিত ছিল। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, আমরা এলঅ্যান্ডডিও আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে সেখানে ছিলাম। ইউএনআইয়ের (United News of India) সকল কর্মীকে চত্বরটি খালি করে দিতে বলেছিলাম।” তবে জমি বরাদ্দ বাতিলের বিরুদ্ধে ইউএনআইয়ের করা আবেদন দিল্লি হাইকোর্ট খারিজ করে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর পরপরই প্রশাসন সম্পত্তিটি সিল করে দেয়।

    কেন সিল করা হল অফিস?

    ইউএনআইয়ের অফিসটি দিল্লি পুলিশ এবং ভূমি ও উন্নয়ন দফতর সিল করে দিয়েছে। এর প্রধান কারণগুলি হল, জমি বরাদ্দের শর্ত লঙ্ঘন। ১৯৭৯ সালে এই জমিটি ইউএনআই (Delhi Police)-কে দেওয়া হয়েছিল একটি বহুতল অফিস কমপ্লেক্স তৈরি করার জন্য। কিন্তু দীর্ঘ ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও, সংস্থাটি সেখানে কোনও স্থায়ী নির্মাণ কাজ করেনি।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি শচীন দত্তের পর্যবেক্ষণ, মূল্যবান সরকারি জমি এভাবে দশকের পর দশক ধরে ‘বন্দি’ করে রাখা হয়েছে। আদালত একে বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হিসেবে বর্ণনা করছে।

    ভাড়া বা বাণিজ্যিক ব্যবহার

    অভিযোগ, যে উদ্দেশ্যে জমি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ না করে সংস্থাটি জায়গাটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে (যেমন, ক্যান্টিন) ব্যবহার করার চেষ্টা করছিল।

    পুলিশি অ্যাকশন ও বিতর্ক

    আদালতের নির্দেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) এবং আধাসামরিক বাহিনী অফিসটি খালি করতে শুরু করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সংস্থাটি (Delhi Police) এবং কিছু বাম-লিবারেল বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

    ৪৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেনি

    বিগত বছরগুলোতে ১৯৮৬, ১৯৯৯ এবং ২০০০ সালে একাধিক সংশোধিত বরাদ্দপত্র জারি করা হয়েছিল, এবং প্রতিবারই ভবনটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কাজে সামান্যই অগ্রগতি হয়েছিল বা একেবারেই হয়নি। এমনকি ২০১২ সালে নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার পরেও প্রকল্পটি স্থবির হয়ে গিয়েছিল।

    ২০২৩ সাল নাগাদ, কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করার পর অসন্তোষজনক জবাব পেয়ে, এলএন্ডডিও ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের কারণ দেখিয়ে বরাদ্দটি বাতিল করে দেয়। ইউএনআই (United News of India) এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করে, কিন্তু তাদের আবেদনটি শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে যায়। হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করেছে যে, “৪৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্রমাগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাকে” কেবল এই কারণে ক্ষমা করা যায় না যে সংস্থাটি এখন পদক্ষেপ করতে ইচ্ছুক।

    সংবাদ সংস্থাটির অভিযোগ

    সংবাদ সংস্থাটির দাবি, কর্মীদের আগাম কোনও নোটিশ না দিয়েই জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। মহিলা সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। তারা একে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে। পুলিশ (Delhi Police) অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের মতে, আদালতের নির্দেশ পালন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তারা কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    বাম-লিবারেল প্রতিক্রিয়া

    সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক (United News of India) তৈরি হয়েছে তাকেই ‘মেল্টডাউন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাম সমালোচকদের মতে, একটি ঐতিহাসিক সংবাদ সংস্থাকে এভাবে উচ্ছেদ করা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। অন্যদিকে, সরকার এবং আদালতের পক্ষের মানুষের দাবি, আইনের শাসন সবার জন্য সমান। চার দশক ধরে শর্ত লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অনিবার্য।

  • Delhi: দিল্লির উত্তম নগরে হোলির দিনে তরুণ কুমার হত্যাকাণ্ডে আরও ৪ জন গ্রেফতার, মোট ৮জন ধৃত

    Delhi: দিল্লির উত্তম নগরে হোলির দিনে তরুণ কুমার হত্যাকাণ্ডে আরও ৪ জন গ্রেফতার, মোট ৮জন ধৃত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির (Delhi) উত্তম নগর এলাকায় হোলির দিন ২৬ বছর বয়সি তরুণ কুমারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার (৬ মার্চ) আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ৮ । যার মধ্যে একজন নাবালকও রয়েছে। এদিকে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মাঝে দুটি গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটেছে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (DFS) সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে উত্তম নগরের জে.জে. কলোনিতে একটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগার খবর পায় তারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলের ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।

    সিবিআই তদন্তের দাবি

    তরুণ কুমারের পরিবার তাঁর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৪ মার্চ) হোলি উৎসবের দিন। পুলিশ ও পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, তরুণের পরিবারের এক ১১ বছর বয়সি মেয়ে ছাদে দাঁড়িয়ে হোলি খেলছিল। সে একটি জলের বেলুন ছুড়েছিল, যা তার বাবার দিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হলেও রাস্তায় পড়ে যায় এবং পাশ দিয়ে যাওয়া এক প্রতিবেশী মহিলার গায়ে জল পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সামান্য তর্কাতর্কি হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়ে যায়। তবে সন্ধ্যায় বন্ধুর সঙ্গে হোলি উদযাপন করে বাইকে বাড়ি ফেরার সময় তরুণকে পথেই আটকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল। অভিযোগ, ওই দলটি লোহার রড, ইট, পাথরসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে তরুণকে বেধড়ক মারধর করে। তাকে বাঁচাতে গেলে তার পরিবারের সদস্যদেরও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তরুণকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।

    পুলিশ ও সিআরপিএফ মোতায়েন

    নিহত তরুণের কাকা রমেশ বলেন, ‘১১ বছর বয়সি মেয়েটি ছাদ থেকে সবার ওপর জল বেলুন ফেলছিল। এই ঘটনায় বোরখা পরিহিত এক মহিলার ওপরেও বেলুন ফেলে দেয় ও। তাতে আমি নিজে গিয়ে ক্ষমা চাই। এমনকী ছোট মেয়েকে দিয়েও ক্ষমা চাওয়াই। এর থেকে বেশি কী করতে পারতাম আমরা। তারা আমাদের মারল। আমার মাথায় ডাক্তার ৮টি সেলাই দিয়েছে। ঘটনার আধঘণ্টা পরে তরুণ আসে। ও বাইক পার্ক করতে পারেনি, তার ওপর চড়াও হয় ওরা।’ এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তরুণ নির্দোষ ছিলেন। ছোটখাটো বিরোধের জেরে অন্য সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁকে লাঠি ও ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তরুণ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এদিকে এই ঘটনা যাতে সাম্প্রদায়িক হিংসার আকার ধারণ না করে, তার জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। থানায় স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক করে পুলিশ। বৈঠকে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করা হয় যে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হবে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও সিআরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে।

LinkedIn
Share