Tag: dengue malaria outbreak

dengue malaria outbreak

  • Kolkata Dengue Malaria: রাজ্যে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার জোড়া হানা! কলকাতা-সহ ৬ জেলায় বাড়ছে উদ্বেগ, বড় পদক্ষেপের পথে সরকার

    Kolkata Dengue Malaria: রাজ্যে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার জোড়া হানা! কলকাতা-সহ ৬ জেলায় বাড়ছে উদ্বেগ, বড় পদক্ষেপের পথে সরকার

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি! তবে একা ডেঙ্গি নয়! কলকাতা ও তার আশপাশের জেলায় মশাবাহিত জোড়া রোগ, ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রমণে প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ছে। তাই বাড়তি সক্রিয়তার পথে হাঁটছে প্রশাসন। আজ, মঙ্গলবার, প্রশাসনের শীর্ষ মহলের জরুরি বৈঠক হতে চলেছে! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পরামর্শ করে এবার ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে কয়েকটি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য দফতর।

    কেন প্রশাসনের উদ্বেগ?

    বছরের এই মরশুমে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসেই রাজ্যে ভেক্টর বোর্ন ডিজিজের প্রকোপ বাড়ে। অর্থাৎ, বিভিন্ন পতঙ্গ বাহিত রোগের দাপট বাড়ে। বিশেষত মশাবাহিত রোগের প্রকোপে জেরবার হয় বঙ্গবাসী। চলতি বছরেও তার ব্যতিক্রম নয়। অগাস্টের শেষ সপ্তাহে স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, কলকাতা, হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়া। তাই সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই প্রশাসন কড়া হাতে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলার প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। অক্টোবর মাসে ডেঙ্গির দাপট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কমাতে তাই সবরকম প্রশাসনিক পরিকল্পনা জরুরি। সেটা আগাম না করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই ডেঙ্গি রুখতে বিশেষ বৈঠক হবে।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, অগাস্ট মাসে রাজ্যে নতুন করে ১০০০ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা গিয়েছে কলকাতা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ এবং দুই চব্বিশ পরগনায়। ইতিমধ্যে ৭ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু তালিকায় রয়েছে ১১ বছরের স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়! আর এই মৃত্যু মিছিল রুখতেই প্রশাসনের বাড়তি সক্রিয়তা। ডেঙ্গির পাশপাশি কলকাতার কসবা, যাদবপুর, শোভাবাজার, গিরিশ পার্ক, কলেজ স্ট্রিট সহ একাধিক এলাকায় ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনক। আবার হাওড়াতেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তা জানান, কলকাতায় একসঙ্গে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত একাধিক কেস পাওয়া যাচ্ছে। এক ব্যক্তি একসঙ্গে এই দুই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। তখন পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হয়ে যায়।

    ডেঙ্গি রুখতে কী নয়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার?

    ডেঙ্গি রিভিউ মিটিংয়ে সমন্বয়ে জোর দেওয়া হতে পারে!

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের সঙ্গে ডেঙ্গি নিয়ে রিভিউ মিটিং করবেন। বিশেষত কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভার এলাকাগুলো নিয়ে বাড়তি জোর দেওয়া হবে। কারণ এই দুই এলাকাতেই গত এক মাসে ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় জোড়া দাপট বেশি দেখা গিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তাদের পাশপাশি বৈঠকে অন্যান্য বিভাগের কর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। যাতে ডেঙ্গি রুখতে সমস্ত বিভাগের মধ্যে ঠিকঠাক সমন্বয় থাকে। কোনো রকম জটিলতা তৈরি না হয়‌।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই পরিকল্পনা!

    চলতি বছরে ডেঙ্গি কতখানি ভয়ানক হতে পারে সে নিয়েও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানাচ্ছেন প্রশাসনের একাংশ। এক কর্তা জানান, ২০২৩ সালে এই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ডেঙ্গি পরিস্থিতি হয়েছিল। চলতি বছরে এই মশাবাহিত রোগ কতটা দাপট বাড়াতে পারে, সে সম্পর্কে আগাম ধারনা করা জরুরি। তাই এই বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন। তাঁরা রোগ ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে প্রশাসনকে রোগের দাপট সম্পর্কে একটা ধারনা দেবেন। তাহলে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত হবে।

    বাড়ি-বাড়ি নজরদারিতে বাড়তি গুরুত্ব!

    স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে বাড়ি বাড়ি নজরদারির উপরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এলাকার কোথায় জল জমেছে, কোথায় মশাবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে, সে সম্পর্কে সমস্ত তথ্য থাকা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
    এলাকায় ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগে কে কে আক্রান্ত হচ্ছেন, সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তথ্য থাকা প্রয়োজন। সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাই পুর কর্মীরা নিজেদের এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করবেন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। যাতে জ্বর হলে তাঁদের কাছে তথ্য থাকে। ডেঙ্গি সংক্রমণের খবর থাকলে, সেই এলাকায় বাড়তি নজর দেওয়া হবে। যাতে রোগ ছড়িয়ে না পড়ে। সংক্রমণ দ্রুত আটকানো সম্ভব হয়।
    স্বাস্থ্য ভবনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, ডেঙ্গি টিকা এলেও চলতি বছরে নানান আইনি জটিলতার জন্য সেই টিকা করণ সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রচলিত পদ্ধতিতেই ডেঙ্গি মোকাবিলা হবে। প্রশাসন সক্রিয় থাকবে। এলাকার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া হবে আবার জনসচেতনতাতেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

  • West Bengal Dengue Outbreak: ‘‘ডেঙ্গি আসছে বাংলাদেশ থেকে’’! রাজ্যে প্রকোপ বাড়তেই সাফাই মমতার

    West Bengal Dengue Outbreak: ‘‘ডেঙ্গি আসছে বাংলাদেশ থেকে’’! রাজ্যে প্রকোপ বাড়তেই সাফাই মমতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষার মরশুম শুরু হতেই রাজ্যে শুরু ডেঙ্গির (West Bengal Dengue Outbreak) প্রকোপ। সরকারের পেশ করা হিসেব অনুযায়ী, গত ২ সপ্তাহে ডেঙ্গিতে রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। বেসরকারি মতে এ পর্যন্ত ডেঙ্গিতে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। কিন্তু, কেন বর্ষা নামতেই রাজ্যে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়ে গেল কেনই বা, গত বছরের থেকে শিক্ষা নিল না রাজ্য প্রশাসন (West Bengal Health Department)?

    ডেঙ্গি নিয়ে কী সাফাই প্রশাসনের?

    এরাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই নিরিখে, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দাবি করেন, রাজ্যে ডেঙ্গি (West Bengal Dengue Outbreak) সমস্যা প্রধানত এসেছে বাইরে থেকে। তাঁর মতে, ডেঙ্গি সমস্যা আসছে বাংলাদেশ থেকে। তিনি জানান, মূলত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ডেঙ্গির বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ তত্ত্ব শোনাচ্ছেন, সেখানে জেলা প্রশাসন আবার পঞ্চায়েত ভোটকে ঢাল হিসেবে খাড়া করছে। প্রতিবারের মতো, এবছরও ডেঙ্গির প্রকোপ ধরা পড়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। সেই জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের আবার দাবি, পঞ্চায়েত ভোটের জন্য ব্যাহত হয়েছে ডেঙ্গি প্রতিরোধের কাজ।

    মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    মুখ্যমন্ত্রীর এহেন দাবিকে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মতে, তাহলে তো এখন বাংলাদেশে প্রতিনিধিদল পাঠানো উচিত। সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত মুখ্যমন্ত্রীর। শুভেন্দু বলেন, ‘‘ওঁর উচিত অবিলম্বে চার্টার্ড বিমান নিয়ে ঢাকা যাওয়া। সঙ্গে ক্যানিংয়ের শওকত মোল্লা, ভাঙড়ের আরাবুল ইসলাম, ফলতার জাহাঙ্গিরদের নিয়ে যাবেন। কারণ, সীমান্ত এলাকায় এঁরা কাজকর্ম করেন, কে কী ভাবে ঢুকবে না ঢুকবে, নিয়ন্ত্রণ করেন। ডেঙ্গি বাংলাদেশ থেকে এলে এঁদেরও ব্যাপারটা দেখা উচিত। এই প্রতিনধিদল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আলোচনায় বসুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে!’’

    এদিকে, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে (West Bengal Dengue Outbreak) দুই পর্যায়ে বৈঠক করল রাজ্য সরকার। প্রথমে, সব জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক, হাসপাতালের সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। পরে বিকেলে সব জেলা-কর্তাদের সঙ্গে পৃথক ভাবে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। এর পরই, রাজ্যের তরফে ডেঙ্গি মোকাবিলায় একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়। হাসপাতালগুলি ও চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য ভবন (West Bengal Health Department)।

    আরও পড়ুন: দশ হাজারের নিচে নামলে তবেই প্লেটলেট! ডেঙ্গি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের নয়া নির্দেশিকায় বিতর্ক

    ডেঙ্গি মোকাবিলায় একগুচ্ছ নির্দেশিকা রাজ্যের

    নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, পরীক্ষার বিষয়টাতে এতটাই জোর দিতে হবে যাতে কোনও ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার ঘটনা চোখ এড়িয়ে না যায়, পরীক্ষায় যেন দেরি না হয়। প্রত্যেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর হিসেব রাখা হয়। ডেঙ্গি পরীক্ষার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ২ থেকে ৭ দিন জ্বরে অসুস্থ থাকলেও পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এছাড়া মাথা ব্যাথা, রক্তক্ষরণ, দেহে র‌্যাশ বেরনোর মতো উপসর্গ থাকলেই ডেঙ্গি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। অর্থাৎ মশাবাহিত এই দুই রোগ নিয়ে যাতে কোনও রকম গা ছাড়া মনোভাব না দেখা যায়, সে ব্যাপারেই সতর্ক করেছে রাজ্য।

    বৈঠকে স্থির হয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ‘ফিভার ক্লিনিক’ চালু রাখতে হবে সর্বক্ষণ। সেটি দেখাশোনার দায়িত্ব এক জন সহকারী সুপারের। জেলায় ডেঙ্গি দমনে ৯০০০ চিকিৎসক, প্যারা মেডিক্যাল কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, হাসপাতালগুলি এবং ব্লাড ব্যাঙ্কে অণুচক্রিকার (প্লেটলেট) জোগানে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে। রাজ্যের যে সব হাসপাতালে ডেঙ্গি (West Bengal Dengue Outbreak) আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা বেশি, সেখানে ডেঙ্গি পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালকেও ডেঙ্গি রোগীদের জন্য বেড তৈরি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share