Tag: DGCA

DGCA

  • Air India Pilot: মাদক পরীক্ষায় পাইলটের রিপোর্ট পজিটিভ! মাঝআকাশে বিপত্তির ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়াকে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

    Air India Pilot: মাদক পরীক্ষায় পাইলটের রিপোর্ট পজিটিভ! মাঝআকাশে বিপত্তির ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়াকে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India Pilot) একটি বিমানে মাঝআকাশে একাধিক বিপত্তির ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। ঘটনার পরে বিমানের দায়িত্বে থাকা (Marijuana) পাইলটের মাদক পরীক্ষার নিশ্চিতকরণ পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে বিমানে থাকা ২০ জন যাত্রী এবং চার কেবিন কর্মীও আহত হয়েছেন বলে খবর। এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২৩৭৯ বিমানটি গত মঙ্গলবার ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড়েছিল। ওড়িশার আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটিতে একাধিক সতর্কবার্তা দেখা দেয়। বিমানের তিনটি জলচাপ-নির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, দরজা এবং উল্লম্ব নিয়ন্ত্রণ পাখনা সংক্রান্ত সতর্কবার্তাও পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে আসে। ঘটনার পর কেন্দ্র এয়ার ইন্ডিয়াকে পরিচালনগত নজরদারি আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে। বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সংস্থাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ঘটনার তদন্তে যার বা যাদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র (Air India Pilot)।

    উদ্বেগ বাড়ছে বিমান নিরাপত্তা নিয়ে

    ওই ঘটনায় ২০ জন যাত্রী এবং চারজন কেবিন কর্মী আহত হন। বিমানটি দিল্লিতে অবতরণের পর আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে ঘটনার দিন অন্তত ১৪ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে খবর।ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ গত বছরের জুনে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “গত জুনের আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। সেই ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। তার মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়াকে ঘিরে এমন একটি ঘটনা ঘটল।” ওই আধিকারিক আরও জানান, এআই ২৩৭৯-এর ঘটনা সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তদন্তের পর যাঁদের দোষ প্রমাণিত হবে, তাঁদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

    পাইলটের মাদক পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি

    ঘটনার পর আরও গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে। ফুকেট-দিল্লি বিমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাইলটের প্রথম মাদক পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্দেহ হওয়ার পর নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষায়ই গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়ে (Air India Pilot)। তদন্তকারীদের কাছে পাইলট দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, ওই ওষুধ খাওয়ার ফলেই মাদক পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে (Marijuana)। তবে তাঁর এই দাবি এবং পরীক্ষার ফল—দুই বিষয়ই এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। এদিকে বিমানের কেবিন কর্মীরাও পাইলটের আচরণ নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের মতে, বিমানটি হঠাৎ উচ্চতা খোয়ানোর পেছনে একাধিক বিরল প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, নাকি পাইলটের আচরণের কোনও ভূমিকা ছিল, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। ঘটনার সময় বিমানটি সাময়িকভাবে এমন অবস্থায় চলে গিয়েছিল, যেখানে বিমানের ভিতরে যাঁরা সিটবেল্ট পরেননি, তাঁদের কেউ কেউ আহত হন। কো-পাইলটকে পরিস্থিতি সামলে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে নামাতে হয় (Air India Pilot)।

    মাদক পরীক্ষা আরও কড়া করার নির্দেশ

    ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল দফতরকে বিমান চলাচলের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মাদক পরীক্ষা সংক্রান্ত বর্তমান নিয়ম আরও কঠোর করার নির্দেশ দেয় (Air India Pilot)। বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষার আওতায় আরও বেশি সংখ্যক বিমানকর্মীকে আনার পাশাপাশি নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণের অভিযোগে ধরা পড়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও কঠোর করার কথাও বলা হয়েছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইতিমধ্যেই বিমানকর্মীদের মাদক গ্রহণ সংক্রান্ত পরীক্ষার নিয়ম পর্যালোচনা করছে। কেন্দ্র এয়ার ইন্ডিয়াকেও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সংস্থার পরিচালন ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়াতে হবে এবং বিমানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন (Marijuana) নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনাটি নিয়ে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থাও প্রযুক্তিগত, পরিচালনগত, চিকিৎসা এবং মানবিক—সব দিক খতিয়ে দেখছে (Air India Pilot)।

    এ কী কাণ্ড!

    জানা গিয়েছে, ডিজিসিএ (বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদফতর) ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ওই ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া গুরুতর নিরাপত্তাজনিত ঘটনার তদন্ত করছে। অভিযোগ, বিমান যখন উড়ছিল, তখন পাইলট-ইন-কমান্ড ককপিট ছেড়ে যাত্রী কেবিনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ধূমপান করার চেষ্টা করেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পাইলট যাত্রী কেবিনে গিয়ে একটি আপৎকালীন বেরনোর দরজার কাছে গিয়ে মেঝেতে বসে পড়েন এবং কেবিন ক্রু সদস্যদের কাছে একটি লাইটার চান। অভিযোগ, কেবিন ক্রুরা তাঁকে ককপিটে ফিরে যেতে বলেন। এনিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

  • Seat Selection: ডোমেস্টিক ফ্লাইটে ৬০ শতাংশ আসন বিনামূল্যে বেছে নেওয়া যাবে, নির্দেশ কেন্দ্রের

    Seat Selection: ডোমেস্টিক ফ্লাইটে ৬০ শতাংশ আসন বিনামূল্যে বেছে নেওয়া যাবে, নির্দেশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খুব শিগগিরই অতিরিক্ত চার্জ থেকে খানিক হলেও স্বস্তি পেতে চলেছেন ভারতের বিমানযাত্রীরা (Seat Selection)। কারণ সরকার এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলিকে সিট পছন্দের দরুন অতিরিক্ত ফি তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে (Airlines)। সরকারের এই পদক্ষেপে টিকিটের মূল ভাড়া অবশ্য কমছে না, তবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে,  আন্তঃদেশীয় উড়ান বা ডোমেস্টিক ফ্লাইটে অন্তত ৬০ শতাংশ আসন বিনামূল্যে বেছে নেওয়া যাবে। এর ফলে বুকিংয়ের পরে বা ওয়েব চেক-ইনের সময় পছন্দের সিটের জন্য অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রথার অবসান ঘটবে।

    অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া যাবে না (Seat Selection)

    এক নির্দেশিকায় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এয়ারলাইন্সগুলিকে জানিয়েছে, যে কোনও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে অন্তত ৬০ শতাংশ আসনের ওপর অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া যাবে না। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)-এর মাধ্যমে জারি করা এই নির্দেশের উদ্দেশ্য হল ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং টিকিট বুকিং বা ওয়েব চেক-ইনের সময় যাত্রীদের যে লুকোনো খরচের সম্মুখীন হতে হয়, তা কমানো। এতদিন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ আসন বিনামূল্যে পাওয়া যেত। তাই অধিকাংশ পছন্দের আসনের জন্য যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হত।

    কী বলছেন অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী

    অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ যাত্রীসুবিধা বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। তিনি বলেন, “৬০ শতাংশ আসন বিনামূল্যে মিলবে। পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে বসার নিশ্চয়তা, এবং ক্রীড়া সরঞ্জাম, বাদ্যযন্ত্র ও পোষ্য প্রাণী বহনের জন্য এটি একটি স্বচ্ছ ও স্পষ্ট নিয়ম।” মন্ত্রক এয়ারলাইন্সগুলিকে এও নির্দেশ দিয়েছে, একই পিএনআরে সফরকারী যাত্রীদের সম্ভব হলে পাশাপাশি আসনে বসাতে হবে। এই পদক্ষেপের জেরে বিশেষভাবে সুবিধা হবে পরিবার ও দলগত যাত্রীদের। এতদিন একসঙ্গে বসার জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হত এঁদের।

    যাত্রীবান্ধব নীতি প্রণয়ন করতে হবে

    সরকারি নির্দেশের পর এয়ারলাইন্সগুলিকে অতিরিক্ত পরিষেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও যাত্রীবান্ধব নীতি প্রণয়ন করতে হবে (Seat Selection)। ডিজিসিএ-কে ক্রীড়া সরঞ্জাম ও বাদ্যযন্ত্র পরিবহণ সহজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  যদিও তা নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত নিয়ম মেনেই করতে হবে। পোষ্য প্রাণী বহনের ক্ষেত্রেও, যা নিয়ে আগে অনেক বিভ্রান্তি ছিল, এখন এয়ারলাইন্সগুলিকে পরিষ্কার ও প্রকাশ্য নির্দেশিকা দিতে হবে। সরকার যাত্রী অধিকারের আরও কঠোর প্রয়োগে জোর দিয়েছে, বিশেষ করে ফ্লাইট দেরি, বাতিল বা বোর্ডিং অস্বীকারের ক্ষেত্রে। এয়ারলাইন্সগুলিকে তাদের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, বুকিং প্ল্যাটফর্ম এবং বিমানবন্দর কাউন্টারে যাত্রীদের এসব অধিকার স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে যাত্রীদের আঞ্চলিক ভাষায় তাঁদের অধিকার সম্পর্কে জানাতে হবে।

    অতিরিক্ত ফি নেওয়ায় পুঞ্জীভূত হচ্ছিল ক্ষোভ

    এই নির্দেশটি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন সিট নির্বাচন-সহ বিভিন্ন পরিষেবার জন্য অতিরিক্ত ফি নেওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলির বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত হচ্ছিল ক্ষোভ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল এয়ারলাইন্স পরিষেবায় স্বচ্ছতা ও একরূপতা আনা এবং যাত্রীদের অতিরিক্ত খরচের বোঝা কমানো। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে এবং বর্তমানে এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বাজার, যেখানে প্রতিদিন পাঁচ লাখেরও বেশি যাত্রী বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যাত্রীসুবিধাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই সাশ্রয়ী খাবারের জন্য উড়ান যাত্রী ক্যাফে এবং বিমানবন্দরে বিনামূল্যে ওয়াইফাইয়ের মতো পরিষেবা দিতে হবে (Seat Selection)। এই নতুন পদক্ষেপ বিমান সফরকে আরও যাত্রীবান্ধব করে তুলবে বলেই আশা সংশ্লিষ্ট মহলের (Airlines)।

     

  • DGCA: ইন্ডিগোর ওপর ২২.২০ কোটি টাকার জরিমানা, কারণ কি জানেন?

    DGCA: ইন্ডিগোর ওপর ২২.২০ কোটি টাকার জরিমানা, কারণ কি জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিদফতর (DGCA) দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর ওপর ২২.২০ কোটি টাকার মোটা অঙ্কের জরিমানা ধার্য করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে ব্যাপক হারে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের ঘটনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে তিন লাখেরও বেশি যাত্রী আটকে পড়েছিলেন (Indigo)। ডিজিসিএ জানিয়েছে, বিস্তারিত তদন্তে অপারেশনাল পরিকল্পনা, ক্রু ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধ মেনে চলার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে।

    ডিজিসিএ (DGCA)

    ডিজিসিএ প্রকাশিত এক প্রেস নোট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিপর্যয় ঘটে। ওই সময়ে মোট ২,৫০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং আরও ১,৮৫২টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে চালানো হয়েছে। ডিজিসিএ গঠিত চার সদস্যের একটি কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত চালায়। তদন্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য গ্রহণ, নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা বিশ্লেষণ, ক্রু রোস্টারিং পদ্ধতি, এবং ব্যবহৃত সফটওয়্যার ব্যবস্থার পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তদন্তে দেখা গিয়েছে, ‘অতিরিক্ত অপ্টিমাইজেশন’ বা সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রবণতাই ছিল মূল কারণ। সংস্থাটি ক্রু, বিমান এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সর্বাধিকতা নিশ্চিত করতে গিয়ে অপারেশনাল স্থিতিশীলতা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতাকে উপেক্ষা করেছে।

    প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

    তদন্ত প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে, ক্রু রোস্টারে পর্যাপ্ত বাফার না থাকা, অতিরিক্ত দীর্ঘ ডিউটি প্যাটার্নের ওপর নির্ভরতা, ঘন ঘন ‘টেইল সুইচ’ (বিমানের পরিবর্তন) এবং ‘ডেড-হেডিং’ বা যাত্রী হিসেবে ক্রু পরিবহণের ব্যবহার। এসবের ফলে অপারেশনাল স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ ছিল অপারেশনের অতিরিক্ত অপ্টিমাইজেশন, নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতির অভাব, সিস্টেম সফটওয়্যার সহায়তার ঘাটতি এবং এম/এস ইন্ডিগোর ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণে গুরুতর দুর্বলতা (DGCA)।”

    রিপোর্টের বক্তব্য

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, “পরিচালনায় অতিরিক্ত অপ্টিমাইজেশনের চেষ্টা, পর্যাপ্ত (Indigo) নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতির অভাব, সিস্টেম সফটওয়্যার সহায়তায় ত্রুটি এবং এম/এস ইন্ডিগোর ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও পরিচালন নিয়ন্ত্রণে ঘাটতিই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।” রিপোর্ট অনুযায়ী, কমিটি লক্ষ্য করেছে যে এয়ারলাইনের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাগত দুর্বলতা যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, পর্যাপ্ত অপারেশনাল বাফার বজায় রাখেনি এবং সংশোধিত ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL) বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এই ব্যর্থতার ফলেই ব্যাপক ফ্লাইট বিলম্ব ও বড় আকারের বাতিলের ঘটনা ঘটে, যা যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

    ডিজিসিএর বিবৃতি

    ডিজিসিএর বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্তে আরও বলা হয়েছে যে ক্রু, বিমান ও নেটওয়ার্ক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে রোস্টার বাফার মার্জিন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিবৃতিতে বলা হয়, “ক্রু রোস্টার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে ডিউটি সময় সর্বোচ্চ হয়। এর জন্য ডেড-হেডিং, টেল-সোয়াপ, দীর্ঘ ডিউটি প্যাটার্ন এবং খুবই সীমিত রিকভারি মার্জিনের ওপর নির্ভর করা হয় (Indigo)। এই পদ্ধতি রোস্টারের স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করেছে এবং অপারেশনাল সক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।” তদন্তের আওতায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারমূলক ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে এবং যাত্রীদের কোনও ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়। ডিজিসিএ জানিয়েছে, এই পর্যবেক্ষণগুলি টেকসই পরিচালনা, যাত্রী সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সুষম অপারেশনাল পরিকল্পনা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা তদারকির প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে (DGCA)।

    সিভিল এভিয়েশন রিকোয়ারমেন্টস

    জরিমানার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সিভিল এভিয়েশন রিকোয়ারমেন্টস (CARs) লঙ্ঘনের জন্য এককালীন ₹১.৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফ্লাইট টাইম লিমিট সংক্রান্ত সম্মতিসম্পন্ন স্কিম তৈরি করতে ব্যর্থতা, অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণের ভুলভাবে দায়িত্ব অর্পণ এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৬৮ দিন ধরে এফডিটিএল নিয়ম না মানার জন্য ইন্ডিগোকে আরও ২০.৪০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা দৈনিক ৩০ লাখ টাকা হারে হিসেব করা হয়েছে (Indigo)। কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ডিজিসিএ ইন্ডিগোকে ৫০ কোটি টাকার একটি ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইন্ডিগো সিস্টেমিক রিফর্ম অ্যাসিওরেন্স স্কিম (ISRAS)-এর আওতায় নেতৃত্ব, জনবল পরিকল্পনা, ডিজিটাল সিস্টেম এবং বোর্ডের তদারকিতে যাচাইযোগ্য উন্নতির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে এই অর্থ ছাড় করা হবে (DGCA)।

    ব্যক্তিগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি, ডিজিসিএ শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে। ইন্ডিগোর সিইওকে পর্যাপ্ত তদারকি ও সংকট ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ২০২৫ সালের শীতকালীন সূচি এবং সংশোধিত এফডিটিএল বিধির প্রভাব মূল্যায়নে ব্যর্থ হওয়ায় অ্যাকাউন্টেবল ম্যানেজারকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।অপারেশনস কন্ট্রোল সেন্টারের (OCC) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে গুরুতর পরিকল্পনাগত ব্যর্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে এবং ভবিষ্যতে কোনও জবাবদিহিমূলক পদে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, তদারকি ও রোস্টার ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির জন্য ডেপুটি হেড অব ফ্লাইট অপারেশনস, ক্রু রিসোর্স প্ল্যানিংয়ের এভিপি এবং ডিরেক্টর অব ফ্লাইট অপারেশনসকে সতর্ক করা হয়েছে। এয়ারলাইনটিকে তার অভ্যন্তরীণ তদন্তে চিহ্নিত অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে এবং ডিজিসিএর কাছে একটি সম্মতিসূচক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Indigo)। এর জবাবে, ইন্ডিগো জানিয়েছে যে তারা ডিজিসিএর নির্দেশ মেনে নিচ্ছে এবং তাদের বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা রিপোর্টে উত্থাপিত বিষয়গুলি সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (DGCA)।

  • IndiGo Crisis: ৬১০ কোটি টাকার রিফান্ড, সপ্তাহান্তে এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল ইন্ডিগোর

    IndiGo Crisis: ৬১০ কোটি টাকার রিফান্ড, সপ্তাহান্তে এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল ইন্ডিগোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেশ কয়েকদিন ধরে বিপর্যস্ত ইন্ডিগোর বিমান (IndiGo Crisis) পরিষেবা। ইতিমধ্যেই ওই বেসরকারি বিমানসংস্থার ১ হাজার ৫০০টি-রও বেশি উড়ান বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীসংখ্যার নিরিখে দেশের বৃহত্তম বিমানসংস্থা ইন্ডিগোর পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় লক্ষ লক্ষ যাত্রী অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন। রবিবারও সংস্থার এদিনও প্রায় ৬৫০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ ও কলকাতা বিমানবন্দর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    দ্রুত জবাব তলব

    পরিষেবার উপর ‘নেতিবাচক প্রভাব’ পড়ার জন্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি, শীতকালীন সময়সূচি পরিবর্তন, প্রতিকূল আবহাওয়া, বিমান ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান যানজট এবং বিমানকর্মীদের কাজের সংশোধিত সময়সূচিকে দায়ী করেছে ইন্ডিগো। তবে কী কারণে এই বিভ্রাট, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। এদিকে, ডিজিসিএ (DGCA) থেকে জারি হওয়া শোকজ নোটিসের জবাব দিতে আরও সময় চেয়েছে ইন্ডিগো। পাশাপাশি বাতিল ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য ৬১০ কোটি টাকার রিফান্ড করার কাজ শুরু করেছে সংস্থা। এছাড়া সারাদেশে যাত্রীদের ৩,০০০টি ব্যাগেজও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    ইন্ডিগো ফ্লাইট পরিস্থিতি

    রবিবার ইন্ডিগো (IndiGo Crisis) তাদের দৈনিক ২,৩০০ ফ্লাইটের মধ্যে প্রায় ৬৫০টি—অর্থাৎ মোট প্রায় ২৮%—বাতিল করেছে। বেশ কয়েকটি রুটে সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে ইন্ডিগো ইতোমধ্যেই প্রায় ২,০০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। এক বিবৃতিতে ইন্ডিগো জানিয়েছে, তাদের নেটওয়ার্ক ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থিতিশীল হবে। ডিজিসিএ-র শোকজ নোটিসের জবাব দিতে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে ইন্ডিগো। শোকজ নোটিসে ডিজিসিএ জানায়, ইন্ডিগোর প্রধান ব্যর্থতা ছিল নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL) বিধির অধীনে প্রয়োজনীয় স্টাফিং, ডিউটি টাইম এবং রোস্টারিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা করতে না পারা। এক স্ট্যাটাস আপডেটে রবিবার সন্ধ্যায় ইন্ডিগো জানিয়েছে, গতকাল ১ হাজার ৫০০টি ফ্লাইটের বদলে এবার তারা ১ হাজার ৬৫০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনার পথে রয়েছে। তারা জানিয়েছে যে ১৩৮টি গন্তব্যের মধ্যে ১৩৭টি চালু রয়েছে এবং ৭৫ শতাংশ পরিষেবা সময়মতো দেওয়া হয়েছে।

  • Hayli Gubbi Volcano: ভারতের আকাশেও ছাইমেঘ, বাতিল বহু বিমান! ১২ হাজার বছর পর জাগল ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি

    Hayli Gubbi Volcano: ভারতের আকাশেও ছাইমেঘ, বাতিল বহু বিমান! ১২ হাজার বছর পর জাগল ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহুদিন ধরে ঘুমিয়েই ছিল। গত ১২০০০ বছর আচমকাই জেগে উঠেছে পূর্ব আফ্রিকার আগ্নেয়গিরি। ইথিয়োপিয়ার হায়েলি গুব্বি (Ethiopian Volcanic Ash)আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাত শুরু হয়েছে রবিবার থেকে। সেই ছাইয়ের কুণ্ডলী মেঘের সঙ্গে মিশে লোহিত সাগর পেরিয়ে উড়ে আসছে এশিয়া মহাদেশে। ভারতের রাজধানী দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের আকাশেও কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। আর তার জেরে বিমান পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটছে। একাধিক সংস্থা বিমান বাতিল করেছে আপাতত। দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার। কিন্তু ইথিওপিয়ার (Haylie Gubbi Volcano) আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের জেরে দিল্লিতে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

    ভারতে প্রবেশ করল ছাই-মেঘ

    গত ১২০০০ বছরে হায়ালি গুব্বিতে কোনও অগ্নুৎপাতের প্রমাণ নেই। রবিবার সকালে (স্থানীয় সময়ে) আচমকাই জেগে ওঠে ইথিয়োপিয়ার এই আগ্নেয়গিরি। জ্বালামুখ থেকে নির্গত ধোঁয়া, ছাই ঢেকে দিয়েছে দেশের আকাশকে। শুধু তাই নয়, লোহিত সাগর পেরিয়ে ইয়েমেন, ওমানের দিকেও এগিয়ে গিয়েছে সেই ধোঁয়া, ছাইয়ের কুণ্ডলী। সালফার ডাইঅক্সাইডমিশ্রিত ঘন ছাইমেঘ (অ্যাশ ক্লাউড) প্রায় ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা‌ বেগে উড়তে উড়তে প্রবেশ করেছে ভারতেও। ওই লাভার ছাই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে সোমবার রাতে ভারতে পৌঁছে যায়। রাত ১১টা নাগাদ উত্তর পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ভারতের আকাশে ঢুকে যায় ওই ছাইমেঘ। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, রাজস্থানের জয়সলমের-যোধপুর অঞ্চল দিয়ে এই মেঘ প্রবেশ করেছে ভারতে। তার পরে রাজস্থান, হরিয়ানা এবং দিল্লির আকাশে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই ‘বিষ-মেঘ’ ছড়িয়ে পড়ে। মেঘ ছড়িয়েছে গুজরাটের কিছু অংশের আকাশেও।

    কোন কোন বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত

    এর প্রভাবে বিমান পরিষেবা ধাক্কা খেয়েছে ইতিমধ্যেই। উড়ান সংস্থাগুলির জন্য ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা জারি করেছেন ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ামক কর্তৃপক্ষ ডিজিসিএ। ছাইমেঘের জেরে কেরলের কন্নুর থেকে আবুধাবিগামী ইন্ডিগোর ৬ই১৪৩৩ বিমানের যাত্রাপথ বদলে দিতে হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমেদাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়েছে সেটি। ইন্ডিগো পরে জানায়, বিমানটি আমেদাবাদে নিরাপদেই অবতরণ করেছে। যাত্রীদের কন্নুরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রভাবিত হয়েছে আরও বেশ কিছু উড়ান‌ পরিষেবা। কোচি থেকে অন্তত দু’টি আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল হয়েছে ছাইমেঘের জেরে। কেএলএম রয়্যাল‌ ডাচ উড়ান‌ সংস্থারও বেশ কিছু বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত হয়েছে। ব্রিটেনের আমস্টারডাম থেকে দিল্লিমুখী কেএল ৮৭১ এবং বিপরীতমুখী কেএল ৮৭২— দু’টিই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাতিল করা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া, স্পাইসজেট, আকাশ এয়ারের মতো উড়ান সংস্থাগুলিও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। আকাশ উড়ান বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রভাবিত এলাকাগুলিতে বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ডিজিসিএ-র সতর্কবার্তা

    উড়ান সংস্থাগুলিকে সতর্ক করে ‌দিয়েছে ডিজিসিএ-ও। আগ্নেয়গিরির ছাইমেঘ প্রভাবিত এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য বলা হয়েছে সব ভারতীয় উড়ান সংস্থাকে। প্রয়োজন অনুসারে যাত্রাপথ বদল এবং বিকল্প পরিকল্পনারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনামাফিক রুট তৈরি করে, পর্যাপ্ত জ্বালানি নিয়ে উড়ানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ভাবে ছাইয়ের সংস্পর্শে এলে সঙ্গে সঙ্গে তা জানাতে বলা হয়েছে, যাতে ইঞ্জিনের অবস্থা জানা যায়। ধোঁয়া বা গন্ধ নিয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিমানবন্দরের কাজকর্মে কোনও রকম বাধাবিঘ্ন সৃষ্টি হলে সঙ্গে সঙ্গে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, অ্যাপ্রন বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ডিজিসিএ। সারাক্ষণ নজরদারি চালাতে হবে, নজরদারি চলবে স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও।

    জনস্বাস্থ্যে প্রভাব

    আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভার ছাইমিশ্রিত মেঘ দেশবাসীর স্বাস্থ্যের উপর কোনও বিরূপ প্রভাব ফেলবে না বলেই আশ্বস্ত করছেন বিশেষজ্ঞেরা। কারণ, এই ছাইমেঘ উড়ছে ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে। প্রায় ২৫০০০-৪৫০০০ ফুট উচ্চতায় উড়ছে এগুলি। ফলে মানুষের স্বাস্থ্যের উপর এই মেঘ প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন তাঁরা। যদিও দিল্লিতে বাতাসের গুণমান আগে থেকেই অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ে রয়েছে। সেই বিষয়েও সতর্ক করে দিচ্ছেন‌ বিশেষজ্ঞেরা। রবিবার সকালে ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে জেগে ওঠে হায়েলি গুব্বি (Hayli Gubbi) আগ্নেয়গিরিটি। সংলগ্ন আফদেরা গ্রাম সঙ্গে সঙ্গেই ধুলোয় ঢেকে যায়। এমনকি অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, আশেপাশের এলাকায় ভূমিকম্পও অনুভূত হয় বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, জ্বালামুখ থেকে নির্গত ধোঁয়া, ছাই প্রায় ১৪ কিলমিটার উচ্চতা পর্যন্ত আকাশে উঠে যায়।

  • Cancel Flight: ফ্লাইট বাতিল কিংবা তারিখ পরিবর্তনে লাগবে না চার্জ, জানাল ডিজিসিএ

    Cancel Flight: ফ্লাইট বাতিল কিংবা তারিখ পরিবর্তনে লাগবে না চার্জ, জানাল ডিজিসিএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার থেকে বিনামূল্যে ফ্লাইট বাতিল (Cancel Flight) কিংবা যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করা যাবে। বিমান পরিষেবায় যাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল ডিজিসিএ। বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদফতর ডিজিসিএ (DGCA) জানিয়েছে, রিফান্ড এবং বাতিলের নিয়মে এখন থেকে অনেক সংস্করণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি খসড়াও প্রকাশ করেছে। আর তাতেই বলা হয়েছে, যাত্রীরা অতরিক্ত টাকা ছাড়াই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বুকিং বা সংশোধন করতে পারবেন। অবশ্য বিমানযাত্রীদের অনেক দিন ধরেই অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। এবার তা কার্যকর হয়েছে।

    অতিরিক্ত চার্জ লাগবে না (Cancel Flight) 

    সিভিল এভিয়েশন রিকোয়ারমেন্ট বা সিএআর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সিস্টেমটিকে আরও যাত্রী-বান্ধব করতে আগ্রহী সংস্থা। বিশেষ করে যখন যাত্রীরা শেষ মুহূর্তে নিজেদের টিকিট বাতিল বা সময় পরিবর্তন করতে চান, সেই সময় সেই সময় বিমান সংস্থার নানা পোর্টাল থেকে সঠিক সময়ে কার্যকর রেসপন্স পাওয়া যায় না। ডিজিসির নতুন নিয়মের খসড়ায় বলা হয়েছে, সমস্ত বিমান সংস্থাকে বুকিংয়ের সময় থেকে ৪৮ ঘণ্টার লুক-ইন পিরিয়ড প্রদান করা হবে। ফলে কোনও যাত্রীই অতিরিক্ত চার্জ লাগবে না। যদি কোনও যাত্রী টিকিট বাতিল করে অন্য কোনও ফ্লাইটে পুনরায় টিকিট (Cancel Flight) কাটতে চান তাহলে তাঁকে কেবলমাত্র পার্থক্যের ভাড়াটা দিতে হবে।

    ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে

    ডিজিসিএ (DGCA) আরও জানিয়েছে, যখন ট্র্যাভেল এজেন্ট বা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে টিকিট বুক (Cancel Flight) করে তখন টাকা ফেরতের দায়িত্ব বিমান সংস্থার ওপর বর্তায়। কারণ এজেন্টরা কেবল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। এই নিয়মের একমাত্র উদ্দেশ্য হল যাত্রী, ট্র্যাভেল এজেন্ট এবং বিমান সংস্থাগুলির মধ্যে রিফান্ড দেরির ফলে তৈরি হওয়া নানাবিধ বিরোধ ও জটিলতা দূর করা। নতুন নিয়মের একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ছোটখাটো নামের ভুল সংশোধনের জন্য কোনও অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না। তবে বুকিং করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। টিকিট সরাসরি বিমান সংস্থার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা হবে।

    একই ভাবে চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা বিষয়ের জন্য যদি ফ্লাইট বাতিল হয় তাহলে টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়ার জন্য ক্রেডিট সেল দিতে হবে। এই মর্মে বিমান সংস্থাগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কত টাকা ফেরত দেবে, তা সংস্থার বিচারাধীন। ডিজিসিএর এক কর্তা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল ভারতীয় বিমান চলাচলের মান আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং যাত্রীদের প্রতি ন্যায্য আচরণ সুনিশ্চিত করা।”

LinkedIn
Share