Tag: Dhaka

Dhaka

  • Sheikh Hasina: গভীর খাদের ধারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ! অন্তরালে থেকেই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ হাসিনার

    Sheikh Hasina: গভীর খাদের ধারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ! অন্তরালে থেকেই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ হাসিনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনুস বাংলাদেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ইউনূসের (Muhammad Yunus)। দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে ‘বাঙলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও’ শীর্ষক এক সভায় অডিও বার্তায় এমনই দাবি করলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ সরকারের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, সদস্য সহ বহু বিশিষ্টজন। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল। যদিও এই নির্বাচনে আওয়ামী লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দিয়েছে।

    দেশ সন্ত্রাসের যুগে নিমজ্জিত

    ২০২৪ সালে দেশ ছেড়ে আসতে বাধ্য হবার পর এই প্রথম অডিও বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারকে (Muhammad Yunus) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন হাসিনা। অডিও বার্তায় তিনি বলেন, “দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনুস আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। দেশ সন্ত্রাসের যুগে নিমজ্জিত। গণতন্ত্র নির্বাসনে। আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। জীবন ও সম্পত্তির কোনও নিরাপত্তা নেই।” প্রায় এক ঘণ্টার বক্তৃতায় আগাগোড়া তিনি নিশানা করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ এক গভীর খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।” বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে কখনও ‘খুনি ফ্যাসিবাদী’, কখনও ‘সুদখোর’, কখনও ‘টাকা পাচারকারী’, আবার কখনও ‘ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আক্রমণ শানান হাসিনা।

    বিদেশিদের হাতের পুতুল ইউনুস

    শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন মন্ত্রী। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। দীর্ঘ বক্তৃতায় ইউনূসের সরকারকে ‘অবৈধ’ এবং ‘হিংসাত্মক’ বলেও আক্রমণ শানান তিনি। ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, অরাজকতা এবং গণতন্ত্রহীন এক যুগ ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। পড়শি দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিকে সার্বভৌমত্ব এবং সংবিধানের জন্য এক অস্তিত্বের লড়াই হিসাবে ব্যাখ্যা করেন তিনি। ইউনূস সরকারকে ‘বিদেশিদের হাতের পুতুল’ বলে আক্রমণ শানান তিনি। এবং ‘বিদেশিদের হাতের পুতুল হয়ে যাওয়া’ এই সরকারকে উৎখাত করার ডাক দেন হাসিনা। অন্তবর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ‘এক বিশাল জেলখানা, এক বধ্যভূমি এবং এক মৃত্যু উপত্যকা’য় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন হাসিনা।

    স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ

    তিনি অবসর নিতে চেয়েছিলেন! যে সময়ে তিনি দেশ থেকে উৎখাত হয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সেটাই তাঁর শেষ ‘টার্ম’ ছিল। ২৪ ঘণ্টা আগে শেখ হাসিনার ছেলে জয় এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে তেমনটাই বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে প্রশ্ন উঠছিল, তাহলে এবার আওয়ামি লিগের ভবিষ্যৎ কী? এবার প্রকাশ্যে এল তাঁর একটা অডিয়ো বার্তা! অন্তরালে থেকেই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ নিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফ্যাসিস্ট ইউনূস প্রশাসনকে উৎখাতের ডাক দিলেন। গোটা এই পরিস্থিতির জন্য কেবল ইউনূস প্রশাসনকেই দায়ী করেননি তিনি। এর পিছনে বাংলাদেশের সম্পত্তি লুঠের জন্য বিদেশি শক্তির মদতকেও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশ এখন একটি অনির্বাচিত ক্ষমতা দ্বারা পরিচালিত, যেখানে সন্ত্রাস চলছে। বাংলাদেশের ভূমি-সম্পদ লুঠের জন্য বিদেশি শক্তি সক্রিয়।” এই ‘অন্ধকার যুগ’ থেকে দেশকে পুনরুদ্ধারের জন্য দেশবাসীকে আরও একবার মুক্তিযুদ্ধের শপথ নেওয়ার ডাক দিলেন হাসিনা।

    কীভাবে তাঁকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র

    কীভাবে তাঁকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইউনূস ও সহযোগীরা, এদিন তা-ও জানান হাসিনা। বললেন, “২০২৪ সালের ৫ অগস্ট একটা সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী-জঙ্গি শক্তি আমাকে ষড়যন্ত্র করে জোর করে উৎখাত করেছে।” এ প্রসঙ্গেই ইউনূসকে সরাসরি বার্তা দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “ইউনূসের বিরুদ্ধে বলব, নিজের দেশের লোককেই উপেক্ষা করা বন্ধ করুন।” পাশাপাশি তিনি বলেন দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা, ইউনূস প্রশাসনকে অপসারণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করুন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী-জঙ্গি শক্তি আমাকে ষড়যন্ত্র করে জোর করে উৎখাত করেছে। আমি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিলাম। সেদিন থেকে দেশ সন্ত্রাসের কবলে।” দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ধূলোয় মিশে গিয়েছে। দেশের মেয়ে-নারীরা নির্যাতিত। বিচারব্যবস্থা এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।”

    হতাশ না হবার বার্তা

    এদিন শেখ হাসিনার মুখে শোনা গেছে হতাশ না হবার বার্তা। তিনি বলেছেন, “আশা ছাড়বেন না। যারা আমাদের দেশকে ধ্বংস করতে চায় তাঁদের হাত থেকে আমাদের দেশকে ফিরিয়ে আনার লড়াইতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনর্গঠন করতে আমাদের সাহায্য করুন।” প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন যে আওয়ামি লিগ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল, অবর্ণনীয়ভাবে দেশের সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের সঙ্গে মিশে আছে। এই দল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বহুত্ববাদের গর্বিত ঐতিহ্যের রক্ষক। এই সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করে উৎখাতের ডাক দেন শেখ হাসিনা। তাঁর কথায়, সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির উচিত একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য দৃঢ় শপথ নেওয়া।

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব ঢাকার, কারণ কী?

    Bangladesh: বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব ঢাকার, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া মোড় নিচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের (Bangladesh) সম্পর্ক! দিন কয়েক আগে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহকে (Reaz Hamidullah) তলব করেছিল নয়াদিল্লি। তার পরপরই ঢাকায় জরুরি তলব করা হয় হামিদুল্লাহকে। ডাক পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা পৌঁছন তিনি। গত বছরের অগাস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপসারণ এবং মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তবে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় সেই উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক (Bangladesh)

    বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, “ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ডাকা হয়েছে।” জানা গিয়েছে, বিদেশমন্ত্রকের এক ‘দায়িত্বশীল সূত্রে’র উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তলবের প্রেক্ষিতে হামিদুল্লাহ সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছন। প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছ, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্যই তাঁকে ঢাকায় ডাকা হয়েছে।” শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশজুড়ে (Bangladesh) ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই নতুন অস্থিরতার মধ্যেই একদল বিক্ষোভকারী চট্টগ্রামে ভারতের উপ রাষ্ট্রদূতের অফিসে হামলার চেষ্টা করে। সেই প্রেক্ষিতেই ভারত ওই মিশনে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করে। এর আগে ভারত বাংলাদেশে নিযুক্ত দূত রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে এবং ঢাকায় ভারতীয় মিশনের চারপাশে নিরাপত্তাজনিত অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা কিছু চরমপন্থীকে নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    মিশনে ভিসা পরিষেবা স্থগিত

    এর পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ নয়াদিল্লিতে অবস্থিত সে দেশের হাইকমিশন এবং ত্রিপুরায় অবস্থিত মিশনে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করে দেয়। পাশাপাশি, ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে (Reaz Hamidullah)। তবে, একাধিক মিশনে ভিসা পরিষেবা স্থগিত এবং উভয় (Bangladesh) পক্ষের কূটনীতিকদের তলবের পরেও ঢাকা যে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে আগ্রহী, তারই ইঙ্গিত মিলল। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছেন এবং এ বিষয়ে তিনি নিজেও বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে কথা বলছেন।”

    সালেহউদ্দিন আহমেদ

    গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা দুই দেশের মধ্যে কোনও তিক্ততা চাই না। বাইরে থেকে যদি কেউ সমস্যা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে, তা কোনও দেশের স্বার্থেই ভালো নয় (Bangladesh)।” এদিকে, বাংলাদেশ ভারত থেকে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির একটি প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। সালেহউদ্দিন আহমেদ একে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার একটি পন্থা বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই চাল আমদানি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে, কারণ ভারত ছাড়া আর একটি বড় বিকল্প ভিয়েতনাম থেকে চাল আনতে হলে প্রতি কেজিতে ১০ বাংলাদেশি টাকা বেশি খরচ পড়বে। সালেহউদ্দিন বলেন, “আমাদের বাণিজ্যনীতি রাজনৈতিক বিবেচনায় (Reaz Hamidullah) পরিচালিত নয়। যদি ভিয়েতনাম বা অন্য কোনও দেশ থেকে চাল আনার তুলনায় ভারত থেকে চাল আমদানি সস্তা হয়, তাহলে অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারত থেকেই এই প্রধান খাদ্যশস্য কেনাই যুক্তিসঙ্গত (Bangladesh)।”

  • Bangladesh Crisis: বাংলাদেশে আবারও গণপিটুনির ঘটনা, রাজবাড়ীতে হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডল নিহত

    Bangladesh Crisis: বাংলাদেশে আবারও গণপিটুনির ঘটনা, রাজবাড়ীতে হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডল নিহত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ফের হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন করা হল। এবার ঘটনাস্থল রাজবাড়ি। মৃত যুবকের নাম অমৃত মণ্ডল। তিনি এলাকায় সম্রাট নামেও পরিচিত ছিলেন। বুধবার রাত এগারোটা নাগাদ পাংশা উপজেলার হোসেনডাঙ্গা পুরাতন বাজার এলাকায় ২৯ বছরের ওই যুবককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। কয়েকদিন আগেই ময়মনসিংহের ভালুকায় ২৭ বছর বয়সী হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকেও খুন করেছিল মৌলবাদীরা। সেই রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই এই ঘটনা সামনে এল।

    বাংলাদেশে হিন্দু নিধন চলছেই

    পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অমৃত মণ্ডলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছিল, যার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, অমৃত মণ্ডল স্থানীয় একটি গ্রুপের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যা ‘সম্রাট বাহিনী’ নামে পরিচিত ছিল। তিনি রাজবাড়ী জেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অক্ষয় মণ্ডলের ছেলে। প্রসঙ্গত, মহম্মদ ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার সবথেকে বেশি বেড়েছে। শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পরই সেখানে কার্যত হিন্দু নিধন শুরু হয়। বহু সংখ্যালঘুর বাড়িতে অত্য়াচার করে মৌলবাদীরা, লুটপাট চালায়। মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছিল। সম্প্রতি পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে খুন করেছিল উগ্রপন্থীরা। সেই ঘটনার ফের পুনরাবৃত্তি।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

    ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় এখনও কোনও গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি বাংলাদেশে দ্বিতীয় গণপিটুনির ঘটনা। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানায় কর্মরত দীপু চন্দ্র দাসকে ইসলাম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে মারধর করা হয়, যার ফলে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর তার মরদেহের সঙ্গে অবমাননাকর আচরণের অভিযোগ ওঠে, যা দেশজুড়ে ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দেয়। পরপর দুটি ঘটনায় দেশে গণপিটুনি ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচার ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে।

  • India Visa Centre: নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ! ঢাকায় ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বন্ধ করল ভারত

    India Visa Centre: নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ! ঢাকায় ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বন্ধ করল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (India Visa Centre) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল ভারত। বুধবার দুপুর ২টো থেকে এই ভিসা কেন্দ্রটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Security Situation)। বাংলাদেশের ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে কবে বা কতক্ষণ পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে, তা ওই বিবৃতিতে বলা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, যে সব ভিসা আবেদনকারী বুধবারের জন্য স্লট বুক করেছিলেন, তাঁদের জন্য নয়া তারিখ এবং সময় নির্ধারণ করা হবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি চলছে (বাংলাদেশে), তার পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের অবগত করা যাচ্ছে যে, আজ দুপুর ২টো থেকে আইভিএসি জেএফপি ঢাকা বন্ধ থাকবে। তবে কী ধরনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই এ নিয়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব (India Visa Centre)

    ঘটনাচক্রে বুধবারই দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাকে তলব করেছিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের একাংশের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লার ভারত বিরোধী বক্তৃতার প্রেক্ষিতেই এই তলব। সম্প্রতি হাসনাত তাঁর বক্তৃতায় সেভেন সিস্টার্সকে (ভারতের উত্তর-পূর্বের ৭ রাজ্য) ভারতের মানচিত্র থেকে আলাদা করে দেওয়ার ডাক দেয়। শুধু তাই নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের উদ্বাস্তুদের (Security Situation) আশ্রয় দেওয়ার কথাও বলেন। তার পরেই ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করে ভারত। তার জেরেই বিদেশমন্ত্রক ডেকে পাঠায় দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাকে (India Visa Centre)।

    ভারতের ভিসাকেন্দ্র

    পদ্মা পারের দেশে ভারতের ভিসাকেন্দ্রটি রয়েছে ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণটি ঠিক কী, তা নিয়ে যেমন নয়াদিল্লির তরফে কিছু জানানো হয়নি, বলা হয়নি ভিসা কেন্দ্রের তরফেও, তেমনিই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস প্রশাসনের তরফেও এই বিষয়ে এখনও কিছু বলা হয়নি। তাই বুধবার দুপুর পর্যন্তও জানা যায়নি, ঠিক কী কারণে আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হল ফিউচার পার্কের ভিসা কেন্দ্রটি। এর ঠিক এক দিন আগেই নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশন সে দেশের স্বাধীনতা স্মরণে বিজয় দিবস পালন করেছিল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাই কমিশনার হামিদুল্লাহ দ্বিপাক্ষিক (Security Situation) সম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আমাদের যৌথ স্বার্থের মধ্যেই নিহিত। আমরা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। এই অঞ্চলে সমৃদ্ধি, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য (India Visa Centre)।”

    ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সদ্য গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ সোমবার বলেছিলেন, যদি নয়াদিল্লি তাঁর দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তবে ঢাকার উচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া এবং ওই অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলিকে সমর্থন করা। আবদুল্লাহ দাবি করেছিলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’, কারণ ভারতীয় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তারা সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের ওপর নির্ভরশীল। এদিকে, মঙ্গলবার অসমের কাছাড় জেলায় ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ চলাচল ঠেকাতে প্রশাসন নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করেছে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন চরমপন্থী তৎপরতা এবং অনুমতিহীন সীমান্ত পারাপার রোধ করতেই জেলা প্রশাসন এই পদক্ষেপ করেছে।

    মানুষের যাতায়াত নিষিদ্ধ

    জেলার সীমান্তবর্তী এক কিলোমিটার এলাকায় সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত মানুষের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে সুরমা নদী এবং নদীর উঁচু পাড় বরাবর রাতের বেলায় যাতায়াতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুরমা নদীতে নৌ-চালনা ও মাছ ধরার ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে (India Visa Centre)। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন। ওই দিনই একই সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও। এই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই বাংলাদেশে ঘটতে শুরু করেছে বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা। সে দেশের বিভিন্ন নেতার মুখে শোনা যাচ্ছে ভারতবিরোধী নানা বক্তব্যও। এহেন আবহে বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে দৃশ্যতই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নয়াদিল্লির। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, অশান্তও ততই (Security Situation) বাড়তে থাকবে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। এমনই আশঙ্কা করে সম্প্রতি একটি বিবৃতিও জারি করে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

  • Zakir Naik: দিল্লির হঁশিয়ারির পরে সতর্ক বাংলাদেশ! পলাতক জাকিরকে এখন ঢাকা সফরে অনুমতি দিচ্ছেন না ইউনূস

    Zakir Naik: দিল্লির হঁশিয়ারির পরে সতর্ক বাংলাদেশ! পলাতক জাকিরকে এখন ঢাকা সফরে অনুমতি দিচ্ছেন না ইউনূস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের চাপেই সাবধানী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। দিল্লির বার্তার পরে ভারত থেকে পলাতক জাকির নায়েককে আপাতত বাংলাদেশ সফরের অনুমতি দিচ্ছে না সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাকিরের (Zakir Naik) বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং বিদ্বেষমূলক বক্তৃতার অভিযোগ রয়েছে। জঙ্গি কার্যকলাপেও তাঁর যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তবে এই সিদ্ধান্ত আপাতত। স্থায়ী সিদ্ধান্ত নয়। পাকিস্তানের পথ অনুসরণ করে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে মহম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশ। তা দৃশ্যতই। কিন্তু বেড়ে খেলতে গিয়ে, ধাক্কা খেল ঢাকা! আপাতত ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও খারাপ করতে নারাজ বাংলাদেশ।

    কেন এই সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের তরফে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সচিব পর্যায়ে একটি বৈঠক করেছে মঙ্গলবার। সেই বৈঠকে জাকির নায়েকের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, আইন শৃঙ্খলা বিঘ্ন হতে পারে। জাকির নায়েকের নাকি বাংলাদেশে এতটাই জনপ্রিয়তা যে, ব্যাপক ভিড় হবে তাঁকে দেখতে ও তাঁর কথা শুনতে। সেই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে প্রচুর পুলিশ অফিসার ও নিরাপত্তরক্ষী প্রয়োজন। এই মুহূর্তে পুরো ফোকাস রয়েছে জাতীয় নির্বাচনের দিকে। তাই জাকির নায়েকের এত নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন। তবে, ভারতে সন্ত্রাসে উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়া জাকিরের সফর স্থগিত হয়ে যাওয়ার আরও একটি কারণ হল আন্তর্জাতিক চাপ। আর সেই চাপের অন্যতম হল ভারত। আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় ভারত এই মুহূর্তে কার্যত চালকের আসনে রয়েছে। বিশ্বের তাবড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে অন্যতম। আর ভারত ছাড়া বাংলাদেশের গতি নেই। যতই পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়াক, ঢাকা জানে, তাদেরই মতো বা তাদের থেকেও কাঙাল অবস্থা পাকিস্তানের।

    ভারতের চাপের কাছে নতিস্বীকার

    গত সপ্তাহে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে বলেছিলেন জাকির নায়েক (Zakir Naik)  ঢাকায় গেলে বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে তাঁকে গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া। বাংলাদেশের একটি অসরকারি প্রতিষ্ঠান জাকির নায়েককে চলতি মাসের ২৮ ও ২৯ নভেম্বর ঢাকায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। দু’দিনই দুটি বড় স্টেডিয়ামে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা। এই খবর জানাজানি হতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়ে ছিল, ঢাকার উচিত হবে জাকির নায়েককে গ্রেফতার করে দিল্লির হাতে তুলে দেওয়া। দীর্ঘদিন যাবত মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। ২০১৬ সালে ঢাকায় হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর ভারত সরকার জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ আনে। সেই সময় দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল জাকিরের মন্তব্যকে ঘিরে। তাঁকে গ্রেফতারের দাবি উঠেছিল। ভারতে একাধিক আদালতে এই ইসলামিক স্কলার ও সুবক্তার বিরুদ্ধে মামলা চালু আছে। জাকিরকে নিয়ে ভারতের চাপের মুখে বাংলাদেশ করা প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র শুধু বলেন ভারতের প্রতিক্রিয়ার দিকে তাদের নজর আছে। দেখা গেল ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কঠোর মনোভাবের পর বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ পদাধিকারীরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত করলেন জাকিরকে ঢাকায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

     

     

     

     

  • Bangladesh: ছিলেন ব্যবসায়ী সেজে, ঢাকায় উদ্ধার মার্কিন সেনা আধিকারিকের দেহ, নজর রাখছে দিল্লি

    Bangladesh: ছিলেন ব্যবসায়ী সেজে, ঢাকায় উদ্ধার মার্কিন সেনা আধিকারিকের দেহ, নজর রাখছে দিল্লি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঢাকার (Bangladesh) একটি হোটেল থেকে উদ্ধার হল এক মার্কিন সেনা আধিকারিকের মৃতদেহ। এই ঘটনায় উপমহাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভারত-মার্কিন শুল্ক সংঘাত, ভারত-চীন-রাশিয়ার কাছাকাছি আসার আবহে মার্কিন সেনা আধিকারিকের দেহ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    ৩১ অগাস্ট উদ্ধার হয় ওই আধিকারিকের দেহ

    জানা গেছে, গত ৩১ অগাস্ট ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ওই মার্কিন সেনা আধিকারিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই বাংলাদেশের (Bangladesh) বর্তমান পরিস্থিতির উপর ভারত আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর।

    মার্কিন সেনা আধিকারিকের নাম টেরেন্স আরভেল জ্যাকসন

    আরও বিস্ময়কর তথ্য হল, ওই মার্কিন সেনা আধিকারিক টেরেন্স আরভেল জ্যাকসন বিগত তিন মাস ধরে বাংলাদেশে (Bangladesh) অবস্থান করছিলেন এবং তিনি ব্যবসায়ী পরিচয়ে সেখানে ছিলেন। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যাকসন আদতে কোনও ব্যবসায়ী বা পর্যটক ছিলেন না; তিনি ছিলেন আমেরিকার স্পেশাল ফোর্সেস কমান্ডের কমান্ড ইন্সপেক্টর জেনারেল। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই স্পেশাল ফোর্সেস কমান্ড হল মার্কিন সেনাবাহিনীর (US Special Forces Officer) বিশেষ অপারেশন ইউনিট, যারা সেনাদের সংঘটিত করা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

    বাংলাদেশের পুলিশ কোনও ময়নাতদন্ত করেনি

    চাঞ্চল্যকর তথ্য আরও সামনে এসেছে যে, জ্যাকসনের মৃতদেহ উদ্ধারের পরে বাংলাদেশের (Bangladesh) পুলিশ কোনও ময়নাতদন্ত করেনি। বরং দেহটি সরাসরি ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আমেরিকা এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবুও বাংলাদেশে ওই সেনা আধিকারিকের (US Special Forces Officer) উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন জোরদার হচ্ছে।

    ছিলেন ব্যবসায়ী সেজে

    বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকার নিশ্চিত করেছে যে জ্যাকসন ব্যবসায়িক সফরের নাম করে কয়েক মাস ধরে দেশে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু একজন কর্মরত মার্কিন সেনা বিদেশে এতদিন ধরে কীভাবে ব্যবসায়িক কাজে থাকতে পারেন—সেই প্রশ্নও উঠছে। অন্যদিকে, জ্যাকসনের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে বাংলাদেশের প্রশাসন জানতে পেরেছে যে, আগামী দু’ বছরের মধ্যে সেনাবাহিনী ছাড়ার কোনও পরিকল্পনাই তাঁর ছিল না। ফলে এই মৃত্যু ও তার পেছনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে।

  • Pakistan: “১৯৭১-এর ঘটনা নিয়ে ক্ষমা চাইব না”, বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে সাফ জানিয়ে দিলেন পাক মন্ত্রী

    Pakistan: “১৯৭১-এর ঘটনা নিয়ে ক্ষমা চাইব না”, বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে সাফ জানিয়ে দিলেন পাক মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৭১-এর (Bangladesh) ঘটনা নিয়ে ক্ষমা চাইবেন না তাঁরা। রবিবার ফের একবার তা স্পষ্ট করে দিলেন পাকিস্তানের (Pakistan) উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এসব অতীতেই ফয়সালা হয়ে গিয়েছে। তাই নতুন করে আলোচনার আর সুযোগ নেই। বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েই দ্ব্যর্থহীনভাবে কথাগুলি বললেন দার।

    মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা (Pakistan)

    প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছিল পাক সেনা। সেই বছর শুধু ২৫ মার্চ রাতেই ‘অপারেশন সার্চ লাইটে’র নামে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খুন করা হয় ২৫ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশিকে। তার পর এতদিন কেটে গেলেও, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য আজও ক্ষমা চায়নি পাকিস্তান। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশের এক মন্ত্রীর সামনে কথাগুলি বললেও, পাক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ দেখা যায়নি বাংলাদেশে। মৃদু প্রতিবাদ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। এই সরকারেরই বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “পাক বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ চায় ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনীর নৃশংসতার জন্য ক্ষমা চাক পাকিস্তান। আর্থিক ক্ষতিপূরণ করুক।”

    পাক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদও হল না!

    বঙ্গভূমে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে দারের সোজাসাপটা জবাব দেওয়ার পরেও, তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির আমির শফিকুর রহমান। শনিবারই দারের সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির প্রথমসারির নেতারা। রবিবার রাতে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার আগে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার কথা দারের। একাত্তরের গণহত্যার (Bangladesh) জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি নস্যাৎ করায় অনেকেই ভেবেছিলেন ঢাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়বেন পাক বিদেশমন্ত্রী। তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদে সৌজন্য সাক্ষাৎ কর্মসূচি বাতিল করবেন বিএনপি সুপ্রিমো। কিন্তু সেসব কিছুই হল না। শনিবার দু’দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন দার। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি ও পাঁচটি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, দার (Pakistan) এদিন সাফ জানিয়ে দেন, ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত বিষয়গুলির সমাধান করা হয়েছিল দু’বার – প্রথমবার ১৯৭৪ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে। তিনি বলেন, “পরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মোশারফ ঢাকা সফরের সময় প্রকাশ্যে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে গণহত্যার বিষয়টি ফের নিষ্পত্তি করেছিলেন (Pakistan)।”

  • Bangladesh Crisis: কুমিল্লায় হিন্দু বধূকে ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল বাংলাদেশ

    Bangladesh Crisis: কুমিল্লায় হিন্দু বধূকে ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল বাংলাদেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লায় হিন্দু বধূকে ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল বাংলাদেশ (Bangladesh Crisis)। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় বিএনপি নেতা ফজর আলির গ্রেফতারির দাবিতে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Dhaka University) পড়ুয়ারা। ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে উত্তাল বাংলাদেশের রাজধানী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছেন প্রতিবাদীরা। ঘটনার প্রতিবাদে রবিরার রাতে মশাল হাতে মিছিল করেন তাঁরা।

    দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি (Bangladesh Crisis)

    মিছিল থেকে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার আওয়াজ ওঠে। মিছিল শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে। শাহবাগ প্রদক্ষিণ করে মিছিল শেষ হয় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে। কেন্দ্রীয় ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সলমান সিদ্দিকি বলেন, “বিগত আওয়ামি লিগের আমলে তনু, খাদিজা-সহ অসংখ্যা নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের বিচার হয়নি। আমরা আশা করেছিলাম, ৫ অগাস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার নারীদের সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরেও দেখলাম নারীরা ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নন।” ইউনূস সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই সরকারের আমলেও আছিয়া, লামিয়া এবং কুমিল্লার মুরাদনগরের ঘটনা-সহ অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে।” সিদ্দিকি বলেন, “এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”

    ধর্ষণে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা

    প্রসঙ্গত, কুমিল্লার রামচন্দ্রপুর পচকিট্টা গ্রামের বাসিন্দা তথা স্থানীয় বিএনপি নেতা ফজর আলির বিরুদ্ধে অভিযোগ সে এক হিন্দু তরুণী বধূকে বাড়িতে ঢুকে গলায় ছুরি ধরে ধর্ষণ করে। দুই সন্তানের মা ওই বধূর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে ফজরকে ধরে ফেলে। যদিও পরে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় সে। পরে সায়েদাবাদ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে (Bangladesh Crisis)। এই ঘটনার পর কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফজর-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এদের মধ্যে তিনজন ঘটনার ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও (Dhaka University) এই ঘটনার প্রতিবাদে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভের আগুন। ঘটনায় মুখ খুলেছে ভারত সরকারও (Bangladesh Crisis)।

  • India: গঙ্গা জলচুক্তির ভয়! ‘ভারতকে এড়িয়ে নয় কোনও জোট’, চিন-পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে সাফাই ঢাকার

    India: গঙ্গা জলচুক্তির ভয়! ‘ভারতকে এড়িয়ে নয় কোনও জোট’, চিন-পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে সাফাই ঢাকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯ জুন চিনের কুনমিং-এ অনুষ্ঠিত হয় এক বৈঠক। যেখানে মিলিত হয় তিন দেশ বাংলাদেশ, চিন ও পাকিস্তান। তিন পক্ষই সেখানে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছে। ওই বৈঠকে জোর দেওয়া হয়েছে চিন, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের বহুমাত্রিকতা এবং উন্মুক্ত আঞ্চলিকতার উপর। পর্দার আড়ালে এই বৈঠক যে ভারতকে চাপে রাখতে করা হয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ১৯ জুনের এই বৈঠকের পরেই বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গাজল চুক্তি পুনর্বিবেচনার কথা বলে ভারত। এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখে বাংলাদেশ। ভারতকে চাপে রাখতে যে তারা এমন বৈঠক করেনি, তারই সাফাই গাইতে শুরু করে ইউনূস সরকার। যা শুনে অনেকে বলছেন, একেই বলে, ঠেলার নাম বাবাজি।

    ভয় পেয়ে জোট অস্বীকার করছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার

    গঙ্গাজলচুক্তি ইস্যুতে ভারত বোমা ফাটাতেই, এ ধরনের উদীয়মান জোটের সম্ভাবনাকে খারিজ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। তারা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যে বৈঠক হয়েছে তিন দেশের মধ্যে, তা কোনওভাবেই রাজনৈতিক নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এম. তৌহিদ হোসেনকে ১৯ জুন চিনের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে মন্তব্য করতে বলা হলে, তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা কোনও জোট গঠন করছি না। এটি সরকারি পর্যায়ের বৈঠক ছিল, কোনও রাজনৈতিক বৈঠক নয়।” ভারতকে (India) বার্তা দিতে কি এই বৈঠক করা হয়েছিল, এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের উপদেষ্টা বলেন, “এটি অবশ্যই কোনও তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।”

    চিন-পাকিস্তান চিরমিত্র, তাতে যোগ দিল বাংলাদেশ

    প্রসঙ্গত, চিন ও পাকিস্তান সবসময়ের জন্যই নিজেদের বন্ধু। কিন্তু এবার সেখানে যোগ দিল বাংলাদেশ এবং এভাবেই ত্রিপাক্ষিক একটি জোট তৈরি করা হল, যা ভারতের (India) জন্য উদ্বেগজনক। আজ থেকে ঠিক এক বছর আগেও ঢাকার সঙ্গে দিল্লির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ করে তুলেছিল। কিন্তু গত বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে বাংলাদেশের (Bangladesh) তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়। জামাত ও বিএনপির সহায়তায় দখল করা হয় গণভবন। এরপর থেকে পরিস্থিতি বদলে যায়। সে দেশে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ বাড়তে থাকে, সীমান্তে বাড়তে থাকে অনুপ্রবেশ। দায়িত্বে আসেন বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ইউনুস। এরপর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে থাকে ঢাকা, সঙ্গে যোগ হয় বেজিং। ভারত বিরোধিতা (India) বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠে চিন এবং পাকিস্তানের।

    শয়তান ত্রিভুজ

    চিন, বাংলাদেশ (Bangladesh) এবং পাকিস্তানের এই জোটকে শয়তান ত্রিভুজ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এই জোট বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে ভারতের যে আধিপত্য বজায় রয়েছে, তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বলেও মনে করছেন বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষক। এ নিয়ে মেজর জেনারেল সুধাকর জি জানিয়েছেন, শয়তানের ত্রিভুজ শিলিগুড়ি করিডরকে অবরুদ্ধ করে দিতে পারে এবং ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র চালাতে পারে। তিনি আরও জানান, এই শয়তানের জোট ভারতকে সবসময় চাপে রাখার চেষ্টা করবে। বেজিং, ঢাকা এবং ইসলামাবাদ তাদের দাবি পূরণের জন্য সবসময়ের জন্য কূটনৈতিক চাপে রাখতে চাইবে নয়াদিল্লিকে।

    ভূ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত

    ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ গৌতম লাহিড়ীর মতে, নিরাপত্তার দিক থেকে ত্রিপাক্ষিক এই জোট ভারতের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের নতুন সরকার পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হতে চেষ্টা করছে। তবে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং চিনের এই ত্রিপাক্ষিক শক্তি এখনও তার প্রভাব দেখাতে পারেনি। গৌতম লাহিড়ী আরও জানান, তারা বলছে যে তারা অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক বিষয়ে মনোনিবেশ করবে; কিন্তু আসলে উদ্দেশ্য অন্য। ভারতের (India) সতর্ক হওয়া উচিত এবং ভারতের নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয় এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠিত হয়, তাহলে ঢাকা চিন ও পাকিস্তানঘেঁষা জোট থেকে সরে আসতে পারে। কারণ, একটি শক্তিশালী সরকার জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই জোট যাতে আরও শক্তিশালী না হয়, তা নিশ্চিত করতে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা এখন থেকেই বাড়ানো জরুরি। নয়তো এই ত্রিপাক্ষিক জোট দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

  • Rabindranath Tagore Ancestral Home: নৈরাজ্যের বাংলাদেশে ছাড় পেলেন না রবীন্দ্রনাথও! সিরাজগঞ্জে কবিগুরুর পৈতৃক বাড়িতে ভাঙচুর

    Rabindranath Tagore Ancestral Home: নৈরাজ্যের বাংলাদেশে ছাড় পেলেন না রবীন্দ্রনাথও! সিরাজগঞ্জে কবিগুরুর পৈতৃক বাড়িতে ভাঙচুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নৈরাজ্যের বাংলাদেশে ন্যূনতম সম্মান পেলেন না কবিগুরুও। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore Ancestral Home) পৈত্রিক ভিটেয় ভাঙচুর চালাল উন্মত্ত জনতা। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত রবীন্দ্র যাদুঘর। অশান্তি, ভাঙচুরের পর বাংলাদেশ প্রশাসন আপাতত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বাড়িতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ করে দিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শাহজাদপুরের কাছারিবাড়িতে বসেই রচনা করেছিলেন ‘চোখের বালি’, ‘চতুরঙ্গ’, ‘ঘরে বাইরে’-র মতো কালজয়ী উপন্যাস। তাঁর অনেক কবিতা ও চিঠিপত্রেও শাহজাদপুরের জীবনের ছাপ স্পষ্ট। অথচ সেই ঐতিহাসিক বাড়িতে আজ নিরাপত্তা নেই, নেই সম্মান।

    কী হয়েছিল সেই দিন?

    গত ৮ জুন রবিবার, এক পর্যটক পরিবার নিয়ে শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি দর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে গেটের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর পার্কিং ফি সংক্রান্ত বচসা হয়। অভিযোগ, তাঁকে অফিসঘরে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এর জেরে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদে নামে। মানববন্ধনের পরে উত্তেজিত জনতা কাছারিবাড়ির অডিটোরিয়ামে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং এক পরিচালকের উপর শারীরিক হেনস্থা করে। এই হামলার পরেই বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাঁচদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। আপাতত দর্শনার্থীদের প্রবেশও বন্ধ রাখা হয়েছে।

    কাছাড়িবাড়ির-গুরুত্ব

    বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের কাছারিবাড়ি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈত্রিক বাড়ি (Rabindranath Tagore Ancestral Home)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর শাহজাদপুরের জমিদারি কিনে নেন। সেই সময়ই কাছারিবাড়ি ঠাকুর পরিবারের হাতে আসে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের বেশ কিছুটা সময় এই বাড়িতে কাটিয়েছেন। জমিদারি দেখভাল করতে এসে এখানেই তিনি রচনা করেছিলেন ‘চোখের বালি’, ‘চতুরঙ্গ’, ‘ঘরে বাইরে’ সহ বহু কালজয়ী সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের বহু কবিতা, চিঠিপত্র, রোজনামচায় শাহজাদপুর ও কাছারিবাড়ির জীবন, প্রকৃতি, মানুষ উঠে এসেছে। তাই এই বাড়ি শুধু এক সাহিত্যিকের বাসস্থান নয়, এটি দুই বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাসের স্মারক। ১৯৬৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর বাড়িটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করে। পরে তা মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়।

    হামলা নয়, এটি ঐতিহ্যের অবমাননা

    এই ঘটনায় বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব দফতর যতই তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলুক, বাস্তব হল—তাঁদের এই উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনা না থাকলে আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। একটি আন্তর্জাতিক মানের হেরিটেজ সাইটে সঠিক নিরাপত্তা ও টুরিস্ট ম্যানেজমেন্ট না থাকাটাই বড় ব্যর্থতা। আরও আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় ঘটনার পরেও দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক নিন্দা এখনও পর্যন্ত শোনা যায়নি। এমনকী, বাংলাদেশে বসবাসকারী বাঙালি সাহিত্যিক-শিল্পী মহলও এই বিষয়ে গলার জোরে কিছু বলছেন না। একটা সামান্য গেটকিপার-পার্কিং বিতর্ক থেকে যেভাবে জনতা হিংসাত্মক হয়ে উঠল, তা একমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচয়। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববন্দিত নোবেলজয়ী কবির বাড়িতে ন্যূনতম সুরক্ষার ব্যবস্থা কেন করা হল না? উন্মত্ত জনতা যখন ঢুকে ভাঙচুর চালাচ্ছিল, তখন পুলিশ-প্রশাসন কী করছিল?

    সংস্কৃতি মহলের উদ্বেগ

    এই হামলার ঘটনায় দুই বাংলার বুদ্ধিজীবী মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সরকার বা সংস্কৃতি জগতের শীর্ষমহল থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। স্থানীয়দের একাংশ প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না। কাছারিবাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মহম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, “ঘটনা দুঃখজনক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কাছারিবাড়ি বন্ধ থাকবে। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।” তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাড়ানো হবে নজরদারি ও ট্যুরিস্ট ম্যানেজমেন্ট। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিকে সুরক্ষিত রাখা, কাছারিবাড়িকে হেরিটেজ সাইট হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি উঠেছে নতুন করে।

    অবাক বাংলাদেশ!

    রবীন্দ্রনাথ কোনও একটি দেশের কবি নন। তিনি বাংলার কবি, বাঙালির কবি। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা, ভারতেরও জাতীয় গৌরব। তাঁর প্রতি এমন অবমাননা আসলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উপরই আঘাত। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সঙ্গীত এবং সমাজভাবনা দুই বাংলার সংস্কৃতিতে মিশে আছে। ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানে এমন ঘটনায় ছিঃ ছিঃ পড়ে গিয়েছে সর্বত্র। তবে লজ্জা নেই বোধহয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশেরই। যারা জাতির পিতার স্মৃতি মুছতে পারে, তারা কবিগুরুর স্মৃতি ধ্বংস করবে, তাতে আর আশ্চর্য কী!

LinkedIn
Share