Tag: Dhaka Protest

  • Bangladesh: ফের অশান্তির আগুন বাংলাদেশে, পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল পদ্মাপারের দেশ

    Bangladesh: ফের অশান্তির আগুন বাংলাদেশে, পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল পদ্মাপারের দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পথে নেমেছেন পোশাক (Bangladesh) কারখানার শ্রমিকরা। রবিবার সকাল থেকে ঢাকা, মিরপুর, গাজিপুর, সাভার, আশুলিয়া-সহ একাধিক শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভে শামিল হন শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। বিক্ষোভকে (Garment Workers Protest) কেন্দ্র করে একাধিক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাঁধে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজিপুরে মোতায়েন করা হয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের।

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প সে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সেই শিল্পের শ্রমিকদের একাংশের এই আন্দোলন ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মিরপুরের ১০ নম্বর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। মিরপুরের ১১ নম্বর এলাকায় একটি মেট্রো স্টেশনের নীচে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ ওই ঘটনা ঘটে।

    উত্তপ্ত বাংলাদেশ, আগুন (Bangladesh) 

    গাজিপুরেও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কোনাবাড়ি এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সফিপুর বাজার, চন্দ্রাপল্লি বিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। আন্দোলনের জেরে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আশুলিয়া ও সাভারেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজিপুরে পাঁচ প্লাটুন সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ক্ষেত্রেও। গাজিপুর ও সাভার এলাকার অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় রবিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশের সরকারও। শ্রমিকদের দাবি ও মজুরি সংক্রান্ত সমস্যা খতিয়ে দেখতে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেই ঘোষণার পরেও বিক্ষোভ থামেনি। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় রবিবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত (Bangladesh) ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন-সহ সরকারের একাধিক প্রতিনিধি।

    রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা!

    এদিকে, এই অশান্তির পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশের সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সন্দেহ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের একাংশ এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই ঘটনার পিছনে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, “এটা স্পষ্টতই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লোকেদের কাজ। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব করা হয়েছে। পোশাক উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, যাতে অস্থিরতা তৈরি না হয়, সেই বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।”

    পোশাক শিল্পে ঘনাতে পারে দুর্দিন!

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রফতানি আয়ের একটি বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু কারখানার উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, দেশের রফতানি বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের মজুরির দাবি এবং শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বাংলাদেশ সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ (Garment Workers Protest)।

    শ্রমিক অসন্তোষের জেরে নিজের সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফর বাতিল করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরিস্থিতি (Bangladesh) সামাল দিতে সরকার কী পদক্ষেপ করে এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Bangladesh Hindus Protest: ভগবান রামের ছবির অবমাননা ইসলামপন্থীদের, প্রতিবাদ মিছিল হিন্দুদের, সরকারকে আল্টিমেটাম

    Bangladesh Hindus Protest: ভগবান রামের ছবির অবমাননা ইসলামপন্থীদের, প্রতিবাদ মিছিল হিন্দুদের, সরকারকে আল্টিমেটাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৌলবাদীদের চাপে পড়ে বাংলাদেশের গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে প্রস্তাবিত ৮১ ফুট উচ্চতার ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণ স্থগিত করে দিয়েছে প্রশাসন। তার জেরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Bangladesh Hindus Protest) বিএনপি শাসিত বাংলাদেশে। অভিযোগ, মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করা ইসলামপন্থীদের একটি বিক্ষোভে ভগবান রামের ছবির অবমাননা (Lord Ram Image Desecration) করা হয়। তারই প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকায় মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, স্লোগান দেন ‘জয় শ্রী রাম’।

    বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি (Bangladesh Hindus Protest)

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, গাইবান্ধার এক সমাবেশে ভগবান রামের ছবির ওপর জুতো রেখে অপমান করা হয়েছে সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায়কে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ করা না বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। হিন্দু মহাজোটের ডাকে রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল। শেষ হয় জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত গিয়ে। প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তাঁরা। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কাছেও আলাদা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এদিনই রংপুরে হিন্দুদের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সামান্য তর্কাতর্কিও হয়।

    নির্মীয়মাণ রামমূর্তির কাজ বন্ধ

    এদিকে, পলাশবাড়িতে নির্মীয়মাণ রামমূর্তির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছে। তার পরে আর কাজ এগোয়নি। ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির কমিটির তরফে। কমিটির সভাপতি হরিদাস চন্দ্র দাসের দাবি, মূর্তি নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে (Bangladesh Hindus Protest) উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পে ৮১ ফুটের রামমূর্তির পাশাপাশি ৫০ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি এবং ৩০ ফুটের শিবমূর্তিও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই আপাতত মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।

    মন্দির কমিটির বক্তব্য

    শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত জানান, “সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে মন্দির কমিটি আপাতত রাম মূর্তি স্থাপনের কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সমালোচনার মধ্যে থাকতে চাই না। কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হোক, আমরা সেটাও চাইব না। এ দেশে সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। তবে কোনও কিছু করতে হলে ধর্মের প্রতিই সম্মান রেখেই করতে হবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই নীতিতে আমরা সবাই বিশ্বাসী (Bangladesh Hindus Protest)।” এদিকে, হিন্দু মহাজোট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যদি পলাশবাড়ির এই প্রকল্প ফের শুরু করার অনুমতি দেওয়া না হয়, তাহলে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়ই এক এক করে রামমন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শনিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রকে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি দেশব্যাপী নয়া কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    কী বললেন তসলিমা নাসরিন?

    নির্বাসিত লেখিকা বাংলাদেশের তসলিমা নাসরিন বলেন, “ধর্মীয় স্বাধীনতা যদি একটি মৌলিক অধিকার হয়, তবে তা সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু—উভয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। দেশে নতুন নতুন মসজিদ নির্মাণ করা গেলে একটি রামমূর্তি বা মন্দির নির্মাণ নিয়ে এত আপত্তি কেন?” তসলিমা জানান, প্রকল্পটিকে ঘিরে যে ধরনের হুমকি, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং বিদ্বেষমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনও মতভেদ বা ধর্মীয় অবস্থান অন্য সম্প্রদায়ের উপাসনালয় বা ধর্মীয় প্রকল্পে বাধা দেওয়ার কারণ হতে পারে না।” পলাশবাড়ি এলাকায় (Lord Ram Image Desecration) আগেও হিন্দু মন্দিরে হামলা এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনার কথাও মনে করিয়ে (Bangladesh Hindus Protest) দেন নির্বাসিত লেখিকা।

    উত্তেজনা বাংলাদেশের নানা প্রান্তে

    ভগবান রামের প্রতিকৃতি অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাংলাদেশের নানা প্রান্তে। ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তাঁরা। ‘সচেতন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দে’র ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রনিবাসের আবাসিকরাও যোগ নেন। পরে ওই মিছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে গিয়ে পৌঁছয় শাহবাগ মোড়ে। রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন (Bangladesh Hindus Protest) প্রতিবাদীরা। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দুরা দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশই তারা। সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলেই খবর (Lord Ram Image Desecration)।

     

LinkedIn
Share