Tag: diamond harbour municipality

diamond harbour municipality

  • Diamond Harbour Municipality: এবার ‘রামধাক্কা’ তৃণমূলের ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেলেও, একযোগে পদত্যাগ ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী ৮ কাউন্সিলরের

    Diamond Harbour Municipality: এবার ‘রামধাক্কা’ তৃণমূলের ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেলেও, একযোগে পদত্যাগ ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী ৮ কাউন্সিলরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘রামধাক্কা’ তৃণমূলের ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেলে! রাজ্যে পালাবদলের আবহে এই পুরসভায়ও (Diamond Harbour Municipality) মুখ থুবড়ে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া দল তৃণমূল কংগ্রেস (Corruption Allegations)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর রবিবার ফল বের হয় ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের। গোটা রাজ্যের মতো এই বিধানসভা কেন্দ্রেও গোহারা হেরে যায় তৃণমূল। তার পর সোমবারই ইঙ্গিত মিলল দীর্ঘদিন ধরে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নামে পরিচিত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার। ডায়মন্ড হারবার পুরসভার মোট ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮ জন কাউন্সিলর  একযোগে এদিন মহাকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে জমা দেন পদত্যাগপত্র। এঁরা তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী হয়ে পুরসভায় এসেছিলেন। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ডায়মন্ড হারবারে।

    একযোগে পদত্যাগ কাউন্সিলরদের (Diamond Harbour Municipality)

    এদিন দুপুরে ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা শাসক অয়ন দত্তগুপ্তের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন ওই কাউন্সিলররা। রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের মতে, একসঙ্গে এতজন কাউন্সিলরের পদত্যাগ কেবল প্রশাসনিক নয়, ডায়মন্ড হারবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এদিন যাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার পুরসভা এতদিন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা নয়, বরং চলত পুলিশ-প্রশাসনের অঙ্গুলি হেলনে। সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তমাল হালদার বলেন, “এতদিন ডায়মন্ড হারবার মডেলের নামে একটা বেলুন ফুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এখন সেই বেলুন ফুস! আমরা জনপ্রতিনিধি হলেও, কোনও স্বাধীনতা ছিল না। সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করত পুলিশ কর্তারা। তাঁদের নির্দেশেই আমাদের উঠতে-বসতে হত।”

    ফাটল তৃণমূল জমানার দুর্নীতির বেলুন

    তাঁর দাবি, “ওপরতলা থেকে পুলিশ- প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করা হত। কাউন্সিলরদের ব্যবহার করা হত পুতুলের মতো। প্রতিবাদ করার পরিবেশ ছিল না। রাজ্যে পালাবদলের পর সাহস পেয়েছি। তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।” দুর্নীতির অভিযোগেও সোচ্চার হয়েছেন পদত্যাগী কাউন্সিলররা। তাঁদের দাবি, ডায়মন্ড হারবার এলাকায় পুকুর ভরাট, অবৈধ নির্মাণ, তোলাবাজি—সব ক্ষেত্রেই পুলিশের একাংশের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। অবৈধ বিল্ডিং তৈরির ক্ষেত্রে মালিকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করা হত। প্রতিবাদ করলে শিকার হতে হত পুলিশি নির্যাতনের।

    পদত্যাগী কাউন্সিলরের বক্তব্য

    পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূলের অমিত সাহাও। তিনি বলেন, “ডায়মন্ড হারবার পুরসভা ১৬টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত (Corruption Allegations)। এতদিন সব ওয়ার্ড তৃণমূলের দখলেই ছিল। কিন্তু আমরা ৮ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের মেয়াদ প্রায় আট মাস বাকি রয়েছে। উন্নয়নের বার্তা নিয়েই আমরা এসেছিলাম। কিন্তু যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তাতে ক্রমশই মানুষের সামনে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে উঠেছিল (Diamond Harbour Municipality)।” তিনি বলেন, “পুলিশ-প্রশাসনের মাধ্যমে পুরসভা থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। বিষয়টি আমরা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।” পদত্যাগী এই কাউন্সিলর বলেন, “আমরাও দুর্নীতির তদন্ত চাই। যদি তদন্তে আমাদের কারওর নাম জড়ায়, তাহলে যা শাস্তি হবে, মাথা পেতে নেব। তবে যারা প্রকৃত দোষী, তাদেরও আইনের মুখোমুখি হতে হবে।”

    বিজেপিকে স্পেস পদত্যাগীদের

    পদত্যাগকারী কাউন্সিলররা জানান, রাজ্যের নয়া সরকার যাতে নতুন করে বোর্ড গঠন করে মানুষের জন্য কাজ করতে পারে, সেই রাস্তা পরিষ্কার করতেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তমাল বলেন, “বিজেপির দুর্দিনে যাঁরা মাটি কামড়ে লড়াই করেছেন, তাঁদের প্রাপ্য আমরা কেড়ে নিতে চাই না। নতুন সরকার তাদের প্রতিনিধি দিয়েই পুরসভা চালাক। স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আমরা তাদের সবরকমভাবে সহযোগিতা করব (Corruption Allegations)।” ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা দীপক কুমার হালদার বলেন, “ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে, তাহলে তার তদন্ত অবশ্যই হবে। যাঁরা যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই দুর্নীতি করে কেউ পার পাবেন না।”

    তৃণমূলের খাসতালুকেই ধস

    ২০১৪ সালের পর থেকে বস্তুত ডায়মন্ড হারবার হয়ে উঠেছিল তৃণমূলের খাসতালুক (Diamond Harbour Municipality)। এই লোকসভা কেন্দ্র থেকেই সাত লাখেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশের ছাড়পত্র পেয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ৮ কাউন্সিলরের একযোগে পদত্যাগ নিঃসন্দেহে বড় বার্তাই দিচ্ছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। পদত্যাগী কাউন্সিলরদের মুখে ‘পুলিশি নিয়ন্ত্রণ’, ‘দুর্নীতি’, ‘তোলাবাজি’র মতো গুরুতর অভিযোগ শোনা গিয়েছে। যার জেরে তৃণমূল বেশ চাপে পড়ে গেল বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।

    একযোগে ইস্তফা উত্তর বারাকপুর পুরসভায়ও

    এদিকে, এদিনই একযোগে ইস্তফা দেন উত্তর বারাকপুর পুরসভায় ১৮ জন কাউন্সিলর। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পুরসভা এলাকায় তৃণমূলের খারাপ ফলের দায় স্বীকার করে ইস্তফা দেন তাঁরা। পরিস্থিতির দায় ঘাড়ে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন চেয়ারম্যান নিজেও। বিজেপি নেতা তথা বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশাসক বসাতে বলেছি। দ্রুত প্রশাসক নিয়োগ করে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে। আগামী ছ’মাসের মধ্যেই ভোট হয়ে যাবে বলে আশা করি।”

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের ঝোড়ো হাওয়ার ধাক্কা লেগেছে বিভিন্ন পুরসভায়ও। খোদ কলকাতা পুরনিগমও বেসামাল ছাব্বিশের পদ্ম-ঝড়ে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজেও পদত্যাগ করতে চলেছেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। এহেন আবহে রাজ্যের অন্য পুরসভাগুলিতেও সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূল কাউন্সিলররা (Diamond Harbour Municipality)। একদিন যে অস্ত্রে শান দিয়ে তাঁরা দখল করেছিলেন বাম-শাসিত একাধিক পুরসভা, সেই হাতিয়ারই ফিরছে ব্যুমেরাং হয়ে।

    ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে বইকি (Corruption Allegations)!

     

LinkedIn
Share