Tag: Diamond Harbour Police

  • Suvendu Adhikari: ‘‘যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগারও বলা যেতে পারে’’, সরিষায় নগদ উদ্ধারে নাম না করে অভিষেককে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘‘যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগারও বলা যেতে পারে’’, সরিষায় নগদ উদ্ধারে নাম না করে অভিষেককে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল নগদ ১ কোটি ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই বিপুল পরিমাণ টাকার হদিশ পেয়েছে (Suvendu Adhikari) ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। বুধবার পুলিশের তরফে এই টাকা উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। যে দলীয় কার্যালয় থেকে নগদ উদ্ধার হয়েছে, সেটি মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের বলে পরিচিত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়েছে (Hidden Cash Recovery)।

    সুমিতকে জেরা করেই টাকার হদিশ (Suvendu Adhikari)

    পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৩১ অক্টোবর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগে সুমিতকে গ্রেফতার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালীতলা আশুতি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় সুমিত-সহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আদালত তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

    পুলিশি হেফাজতে সুমিতকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সরিষার ওই দলীয় কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ মজুত থাকার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ১ কোটি ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কালীতলা থানা এলাকায় বেআইনিভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির যে অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া টাকার যোগ থাকতে পারে। তবে এই অর্থের প্রকৃত মালিক কে, কী উদ্দেশ্যে তা দলীয় কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল এবং কারা এই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগ

    তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ন’বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট জমি থেকে বিভিন্ন সময়ে বেআইনিভাবে মাটি কাটা ও বিক্রি করা হয়েছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকা। এই কারবার থেকে পাওয়া বিপুল অর্থ বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও বেআইনি মাটি কাটার টাকা জমা পড়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।

    এই ঘটনায় শুধু সুমিত নন, ডায়মন্ড হারবারের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনিক আধিকারিকের নামও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এর আগে জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলায় সুমিতের নাম জড়িয়েছিল (Suvendu Adhikari)।

    টাকা উদ্ধারে রাজনৈতিক তরজা, নিশানায় তৃণমূল

    সরিষার দলীয় কার্যালয় থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের ঘটনায় তৃণমূলকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই ধরনের টাকা তোলা দীর্ঘদিনের ঘটনা। তিনি বলেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই ধরনের টাকা তোলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ওরা সেখানে সীমাহীন টাকা তুলেছে। কোথায় রেখেছিল, তারও ঠিক ছিল না। এটা ওদের প্রতিদিনের রোজগারের মতো বিষয় ছিল।”

    নাম না করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগারও বলা যেতে পারে।”

    শুধু নগদ উদ্ধারের ঘটনা নয়, রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরেও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩৩ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের একই সময়সীমায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

    শুভেন্দুর প্রশ্ন, নতুন করে কোনও করের বোঝা না চাপিয়েই রাজস্ব আদায় এতটা বাড়ল কীভাবে? তাঁর দাবি, তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির টাকা কোথায় কোথায় রয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁরা তথ্য পেয়েছেন। ওই অর্থের একটি বড় অংশ আবাসন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং বেনামে জমি কেনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকী, দুর্নীতির টাকা বিদেশেও পাচার করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

    সরিষার দলীয় কার্যালয়ে নগদ উদ্ধারের ঘটনাকে ‘মিসফায়ার’ বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সেখানে টাকা রেখে যাওয়ার পর তা সরিয়ে ফেলার কথা সম্ভবত তৃণমূল নেতারা ভুলে গিয়েছিলেন।

    পুলিশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তৃণমূলের

    অন্যদিকে, সুমিতের হয়ে তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সুমিতকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই পুলিশ তাঁকে ওই দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “যা জানানোর, আদালতে গিয়ে জানান।”

    তদন্তকারীদের নজরে টাকার উৎস ও মালিকানা

    সরিষার তৃণমূল কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এত টাকা কেন রাখা হয়েছিল? কোথা থেকে এসেছিল এই অর্থ? বেআইনি মাটি কাটার কারবারের সঙ্গে এর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

    উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অর্থের সঙ্গে আরও কোনও রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী কিংবা প্রশাসনিক আধিকারিকের যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Hidden Cash Recovery) সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত সরিষার দলীয় কার্যালয় থেকে (Suvendu Adhikari) উদ্ধার হওয়া টাকার নেপথ্যে থাকা রহস্যের জট খোলাই পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

     

  • Suvendu Adhikari: তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব! এক আইপিএস-সহ ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব! এক আইপিএস-সহ ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বর্ধিত বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে, শনিবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। এক আইপিএস -সহ মোট পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড (IPS Officer Suspended) করার কথা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকারের আমলে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের সঙ্গে যুক্ত কাজের অভিযোগ রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য

    এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আগের সরকারের সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিক ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। সেই সময় সনাতন ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতেও আঘাত লেগেছিল।” পাশাপাশি, বিজেপি সরকার যে কোনওভাবেই প্রশাসনের রাজনৈতিক অপব্যবহার বা দুর্নীতি বরদাস্ত করবে না, তাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও একই বার্তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এক আইপিএস-সহ পাঁচ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড

    সাসপেন্ড হওয়া পাঁচ পুলিশ আধিকারিকের মধ্যে রয়েছেন-  কোটেশ্বর রাও (IPS Officer Suspended)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ (Diamond Harbour Police) জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ছিলেন কোটেশ্বর। সাসপেন্ড করা হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থানার প্রাক্তন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন, কলকাতা পুলিশের বড়তলা থানার প্রাক্তন অফিসার-ইন-চার্জ সুবর্ণ দত্ত চৌধুরী, বড়তলা থানার প্রাক্তন সাব-ইনস্পেক্টর সাধন পাণ্ডে এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগর থানার প্রাক্তন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ অমলেন্দু বিশ্বাস।

    ক্ষমতায় এসেই শুরু হয়েছিল কড়া পদক্ষেপ

    এটাই নতুন সরকারের প্রথম প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, চলতি বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরপরই শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেন। ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছিলেন। তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত কুমার গোয়েল, তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্ত ও তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। শুধু সাসপেন্ড করাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে চলতি মাসের শুরুতে রাজ্য সরকার ওই তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

    সরকারের বার্তা

    প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন বজায় রাখাই যে বর্তমান বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায়, তা আবারও স্পষ্ট মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই পদক্ষেপে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ করা বা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বার্তাও আরও একবার স্পষ্ট করে দিল শনিবারের এই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত।

  • Jahangir Khan: জাহাঙ্গির-রেজিনার নামে ৬০টিরও বেশি সম্পত্তির হদিশ, মালিকানার উৎস খতিয়ে দেখছে সিট

    Jahangir Khan: জাহাঙ্গির-রেজিনার নামে ৬০টিরও বেশি সম্পত্তির হদিশ, মালিকানার উৎস খতিয়ে দেখছে সিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফলতার একদা দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan) এবং তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবি ওরফে সারিকা বিবির নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল, সংক্ষেপে সিট। তদন্তকারী দল সূত্রে খবর, এ পর্যন্ত অন্তত ৬০টি সম্পত্তির দলিল (Property Deeds) উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে জমি, ফ্ল্যাট এবং আবাসন-সহ একাধিক স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তিগুলি কীভাবে জাহাঙ্গির ও তাঁর স্ত্রীর নামে হয়েছে এবং কেনাবেচার ক্ষেত্রে অর্থের উৎস কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রতিটি সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, পূর্ববর্তী মালিক এবং লেনদেন সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আর্থিক লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া দলিলগুলি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Jahangir Khan)

    বর্তমানে জাহাঙ্গির এবং তাঁর স্ত্রী রেজিনা দু’জনেই পৃথক মামলায় গ্রেফতার। জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আর, স্বামীকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে থানায় অশান্তি করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন রেজিনা। জাহাঙ্গির বর্তমানে রয়েছেন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে, তাঁর স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে। জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি গড়ে তোলা এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে ফলতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই। একই অভিযোগ পুলিশ সুপার এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই জাহাঙ্গির এবং তাঁর পরিবারের সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার উৎস নিয়ে উঠেছে গুচ্ছের প্রশ্ন (Jahangir Khan)।

    জাহাঙ্গিরের উত্থানের শুরু

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে জাহাঙ্গিরের উত্থানের শুরু ২০১৩ সালে। ওই বছর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি বেলসিংহা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। পরে হন ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। ২০২৩ সালের পর জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণও বেড়েছে রকেটের মতো গতিতে।উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতায় তৃণমূল প্রার্থী করেছিল জাহাঙ্গিরকে। নির্বাচনের দিন অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তবে পুনর্নির্বাচনের আগে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হন। গ্রেফতারি এড়াতে নেপালের দিকে পালিচ্ছিলেন। যদিও সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উদ্ধার হওয়া সমস্ত নথি (Property Deeds) খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য, মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ (Jahangir Khan)।

     

  • Jahangir Khan Wife Arrested: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরেই বড় পদক্ষেপ, ফলতা-কাণ্ডে পাকড়াও জাহাঙ্গিরের স্ত্রী

    Jahangir Khan Wife Arrested: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরেই বড় পদক্ষেপ, ফলতা-কাণ্ডে পাকড়াও জাহাঙ্গিরের স্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় থানায় হামলা ও ধৃত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’-কে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় তদন্তে বড় অগ্রগতি করল পুলিশ। শনিবার সকালে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী সারিনা বিবি ওরফে রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করেছে ফলতা থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, থানায় হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অশান্ত করার ঘটনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায় যে রেজিনা এলাকা ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি পালানোর জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থাও করেছিলেন। সেই খবরের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    জাহাঙ্গিরকে ছাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত?

    তদন্তকারীদের দাবি, গত মঙ্গলবার গ্রেফতার হওয়া জাহাঙ্গির খানকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় নিয়ে গিয়ে তদন্ত চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে তৃণমূল নেতার মুক্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভে সামিল হন। পুলিশের অভিযোগ, ওই বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। বরং জাহাঙ্গিরকে থানার হেফাজত থেকে ছিনিয়ে আনার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগের দিন এলাকায় একটি বৈঠক করেন রেজিনা বিবি। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, জাহাঙ্গিরের সমর্থকরা থানার কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হবেন এবং সুযোগ বুঝে একযোগে থানার উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে মুক্ত করার চেষ্টা করবেন।

    বিক্ষোভ থেকে সংঘর্ষ: নেতৃত্বে রেজিনা বিবি

    পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ফলতার শতল কলসা এলাকায় বেআইনি জমায়েতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষের সময় এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বহু বিক্ষোভকারী পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ রক্ষা পেতে নিকটবর্তী পুকুরে ঝাঁপ দেন বলেও জানা যায়। ঘটনার দিনই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলা এবং হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে অন্তত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই বিক্ষোভে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন রেজিনা বিবি। তিনি এলাকার বাসিন্দা এবং বহিরাগতদের উস্কানি দিয়ে বেআইনিভাবে জমায়েত সংগঠিত করেছিলেন বলে অভিযোগ।

    মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর জোরদার অভিযান

    এই ঘটনার পর বুধবার ফলতায় এক জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া চলবে না। গুন্ডামি, সন্ত্রাস বা জঙ্গিপনার মতো কার্যকলাপ সরকার বরদাস্ত করবে না বলেও তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন, থানায় হামলার ঘটনায় যাঁদের ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত করা গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। তাঁর এই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক আইনের আওতায় নতুন মামলা দায়ের করা হয়।

    দেশদ্রোহ-সহ একাধিক ধারায় মামলা

    ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গির খান-সহ ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে। তার মধ্যে দেশদ্রোহ-সংক্রান্ত ধারাও রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। শুক্রবার পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শনিবার রেজিনা বিবির গ্রেফতারের মাধ্যমে তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল বলে মনে করছে প্রশাসন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, থানায় হামলার ঘটনায় আর কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এর নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না। ফলতা-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা যেমন তীব্র হয়েছে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টিও এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

LinkedIn
Share