Tag: Dilip Ghosh

Dilip Ghosh

  • Gaighata Encounter: আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই পরপর গুলি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-খুনে ধৃতের

    Gaighata Encounter: আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই পরপর গুলি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-খুনে ধৃতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধে কোনও রকম আপস নয়, অপরাধীদের মনে আইনের ভয় থাকা জরুরি—এই বার্তাই কি আরও একবার সামনে এল গাইঘাটার ঘটনায়? একাদশ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত ২৩ বছরের প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন পুলিশকর্মীরা।

    পুলিশের দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত

    গত রবিবার, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সকালে গাইঘাটা থানা এলাকায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে। সে নির্যাতিতারই এক আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে।

    সোমবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, ফেরার পথে প্রস্রাব করার কথা বলে গাড়ি থামাতে বলে প্রহ্লাদ। গাড়ি থেকে নামার পর এক পুলিশকর্মীর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালায় সে। প্রাণ বাঁচাতে এক পুলিশকর্মী পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। ঘটনায় এক পুলিশকর্মী আহত হন বলে খবর।

    এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় বলে দাবি। তাতে প্রহ্লাদের পায়ে ও শরীরের একাধিক জায়গায় গুলি লাগে। পরে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

    আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    নারী সুরক্ষার প্রশ্নে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বার্তা ছিল, ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’। অর্থাৎ, অপরাধের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না, এমনই বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। নারী নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের রেয়াত করা হবে না এবং আইন ভাঙলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গাইঘাটায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃতের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা সেই বার্তাকেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

    ‘পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে’, বলছেন দিলীপ ঘোষ

    গাইঘাটার ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষও অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করা এবং পুলিশের উপর মানুষের আস্থা ফেরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আইন অমান্য করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    দিলীপ ঘোষ বলেন, “এর আগেও ঘটনা ঘটেছে। খুনি পালাচ্ছিল। এনকাউন্টার হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে। এখানেও হয়েছে। বিচারের সামনে সবাইকে আনতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কেউ যদি আইন অমান্য করে, তাহলে তার সঙ্গে এরকমই হবে।”

    পুলিশের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুলিশকে মানুষকে ন্যায় দিতে হবে। মানুষ তাঁদের উপর ভরসা রাখতে ভুলে গিয়েছে। ভরসা ফিরিয়ে আনতে গেলে পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে।”

    তাঁর আরও বক্তব্য, অপরাধের পুনরাবৃত্তি রুখতে সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের শাস্তির দৃষ্টান্ত তৈরি করা জরুরি। দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভয় তো এত সহজে কেউ পায় না। কারণ আইন-কানুন ব্যবস্থা বহু বছর বাংলায় নেই। কিন্তু আইন-কানুনের রাজত্ব যদি প্রতিষ্ঠা হয়, তাহলে সবাই ভয় পাবে। সতর্ক হবে। দু’টো জিনিস করতে হবে। যেমন সমাজে সুবিচার আনা, পরিবেশ ঠিক করা। যাতে লোকে এই ধরনের কাজ না করে। আর করলে তার যে সাজা হবে, তা যেন উদাহরণ হিসেবে থাকে।”

    বারুইপুরের ঘটনারও পুনরাবৃত্তি?

    গাইঘাটার আগে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলাতেও পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের দাবি ছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগও ওঠে। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে মৃত্যু হয় প্রভাসের। গাইঘাটার ঘটনাতেও পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্তের গুলির মুখে আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি চালানো হয়েছে।

  • Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্যকে (Modi Ka Baap Remark) কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতারা (BJP Protest)। খাড়গের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।

    বিজেপির তরফে দলের রাজ্য শাখাগুলিকে নিজ নিজ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, খাড়গের মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে অপমান করেছে।

    রবিবার পটনায় বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কখনও পদ ছাড়বেন না। তার জবাব দিতে গিয়ে খাড়গে বলেন, “মোদির বাবাও চলে যাবেন।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই আপত্তি জানাতে শুরু করেন বিজেপি নেতারা।

    কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপি নেতাদের (Modi Ka Baap Remark)

    খাড়গের মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন বিহারের সমবায়মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজনৈতিক বিতর্কের মান ক্রমশ নামিয়ে আনছে।

    সংবাদ সংস্থাকে রাম কৃপাল যাদব বলেন, “কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি খাড়গে গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি কংগ্রেস পার্টি, রাহুল গান্ধী এবং দলীয় সভাপতির মানসিকতার প্রতিফলন। এটাই কংগ্রেসের সংস্কৃতি, যে কারণে দলটি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করার জন্য শালীন ভাষা ব্যবহার করা উচিত। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তি রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও কংগ্রেস নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণেই কংগ্রেস নেতারা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছেন।

    দিলীপ বলেন, “আজ শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও মোদিজির নেতৃত্ব সম্মানিত। বিজেপি ধারাবাহিকভাবে জয়ী হচ্ছে এবং মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে তারা রাজনৈতিক লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছে। সেই কারণেই মোদিজি এবং আমাদের অন্যান্য নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে, যা আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

    উত্তরপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী যোগেন্দ্র উপাধ্যায়ও কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মূল্যবোধের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন।

    তিনি বলেন, “কটূক্তি করা ওদের সংস্কৃতির অংশ। কাউকে উপহার না দিলে সে কিছুক্ষণ কাঁদে। কাউকে মূল্যবোধের শিক্ষা না দিলে সে সারা জীবন কাঁদে। আর কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির মধ্যে মূল্যবোধের অভাব থাকলে তিনি শুধু নিজেই কাঁদেন না, গোটা সমাজ ও দেশকেও কাঁদান। যাঁদের নেতৃত্বে মূল্যবোধের অভাব রয়েছে, তাঁরাই এই ধরনের মন্তব্য করেন।”

    বিজেপির বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ

    এদিকে, বিতর্কের মধ্যেই খাড়গের পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়গুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্যের একটি অংশকে বেছে নিয়ে প্রচার করছে (Modi Ka Baap Remark)।

    সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ বর্মা বলেন, সংবিধানকে দুর্বল করার চেষ্টার সমালোচনা করতে গিয়েই খাড়গে ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাই তাঁর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত।

    বর্মার কথায়, “তাঁর বক্তব্যকে প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলে ধরা হচ্ছে। বিজেপি স্লোগান বদলে সেগুলিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, যা রাজনীতির পক্ষে ঠিক নয়। রাজনীতি হওয়া উচিত বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে।”

    বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির ওই মন্তব্যকে রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে দলীয় রাজ্য শাখাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে গেরুয়া পার্টি (Modi Ka Baap Remark)।

     

  • SRFTI Incident: “বামপন্থীদের কদর্য চেহারা! স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা অপরাধ”, এসআরএফটিআই নিয়ে নিন্দা সুকান্তর

    SRFTI Incident: “বামপন্থীদের কদর্য চেহারা! স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা অপরাধ”, এসআরএফটিআই নিয়ে নিন্দা সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-এর ঘটনায় (SRFTI Incident) ভিডিও প্রকাশ করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। একইসঙ্গে ঘটনায় ‘বহিরাগত’ হিসেবে পরোক্ষে বামপন্থী যোগের অভিযোগ তুললেন তিনি। সমাজ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করে সুকান্ত লেখেন, “বামপন্থীদের কদর্য চেহারা আর নিকৃষ্ট মানসিকতার আজ আবারও প্রকাশ্যে এল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতাদর্শগত পার্থক্যের জেরে দেশমাতৃকার প্রতি অসম্মান কিংবা বিশ্ববরেণ্য মনীষী স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা, লাথি মারা ও থুতু ফেলার মতো জঘন্য আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”

    বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতি অবমাননা

    বামেদের কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর তোপ, “মুখে প্রগতিশীলতা, বাঙালিত্ব ও সংস্কৃতির দাবি করলেও এমন কদর্য ও জঘন্য আচরণ সেই দাবির সঙ্গে গভীর বৈপরীত্যই প্রকাশ করে। আজকের এই অসম্মান, লাথি শুধু একজন বিশ্ববরেণ্য সন্ন্যাসী ও মনীষীর প্রতি নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমগ্র বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতিও এক চূড়ান্ত গভীর অবমাননা।” উল্লেখ্য রবিবার অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধে যায় সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সস্টিটিউট বা এসআরএফটিআই-এ৷ জানা গিয়েছে, এ দিন এসআরেএফটিআই ক্যাম্পাসের ভিতরে একটি প্রেক্ষাগৃহে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের অনুষ্ঠান চলছিল৷ অভিযোগ, তখনই সেই অনুষ্ঠানে বাধা দেন এসআরএফটিআই-এর একদল পড়ুয়া৷ অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং তার পর রীতিমতো হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়৷ দু পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছে৷

    কী ঘটেছিল? দাবি-পাল্টা দাবি

    এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত৷ অভিযোগ, সেই সময় এসএফআই সদস্যরা ওই অনুষ্ঠানস্থলে যায়। কেন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন করা হয় আয়োজকদের। তাদের দাবি, কোনও কথা না শুনে এসএফআইয়ের তরফে ভারতমাতা, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি এবং ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। প্রথমে আয়োজকদের সঙ্গে পড়ুয়াদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাঁদের আরও দাবি, হামলার ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। সংগঠনের এক সদস্যের দাবি, নিয়ম মেনেই টাকা দিয়ে তাঁরা অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়েছিলেন। অন্যদিকে পড়ুয়াদের দাবি, একে তো তাদের অন্ধকারে রেখে আরএসএসের শাখা সংগঠনকে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয়েছে।  সন্ধ্যার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

    বিনা প্ররোচনায় সভা ভণ্ডুলের চেষ্টা

    ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকালে। সকাল ১০টা নাগাদ সংঘের সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত বা এবিজিপি (পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত)’ এসআরএফটিআই-এর একটি প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া করে কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতিপত্র নিয়েই সভা করছিল। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি সংগঠন সভা করবে কেন, তা নিয়ে আপত্তি তোলেন পড়ুয়াদের একাংশ। প্রেক্ষাগৃহের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। স্লোগানও দেওয়া হয়। এবিজিপি-র দাবি, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তারা সভা করছিল। কিন্তু পড়ুয়াদের একাংশ বিনা প্ররোচনায় তাদের সদস্যদের মারধর করে। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে এবিজিপি-র রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ রায় বলেন, “১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমরা সভা করছিলাম। আমাদের সংগঠন মূলত ক্রেতাসুরক্ষা, ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে। কিন্তু আমাদের সভা বানচাল করার চেষ্টা করা হয়। ভারতমাতা, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়। হাসপাতালে ইতিমধ্যেই চারজন ভর্তি হয়েছেন। এরা ছাত্র? সব পড়ুয়ারা নেশাগ্রস্ত ওইখানে।”

    মহাপুরুষদের ছবিতে কালি বরদাস্ত করা হবে না

    বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং দেশবিরোধী শক্তি এতদিন ধরে বাংলায় সক্রিয় ছিল। প্রাক্তন সরকারের ছত্রছায়ায় বেঁচে ছিল। তারা একে একে এক্সপোজ হয়ে যাচ্ছে। দেশের সংস্কৃতি এবং পরম্পরা বিরোধী এইসব কার্যকলাপ মানুষ আর মানবে না। নকশাল আমলে মহাপুরুষদের ছবিতে কালি লাগিয়ে দেওয়া হত। মূর্তি ভেঙে দেওয়া হত। সেইসব দিন চলে গেছে। তাদের কিছু উত্তরসূরি এখনও বেঁচে আছে। যারা করেছে সেটা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ। এটা বরদাস্ত করা হবে না। এদিকে রবিবারের চরম গণ্ডগোলের পর সোমবার সকালেও সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মূল গেটের সামনে বাইরে থেকে কেউ ঢুকলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মোট ৩টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে পঞ্চসায়র থানায়। ক্যাম্পাসের ভিতরে গাড়িতে ধাক্কাধাক্কি, গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে পুলিশের তরফ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে আয়োজকদের তরফ থেকেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আবার অনুমতি নিয়ে সভা করার পরেও হামলা কেন সেই প্রশ্ন তুলে ছাত্রদের তরফ থেকেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

     

     

     

     

  • Dilip Ghosh: ‘রাস্তা নেই, অথচ ফিট সার্টিফিকেট!’ পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

    Dilip Ghosh: ‘রাস্তা নেই, অথচ ফিট সার্টিফিকেট!’ পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই এগোচ্ছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। তৃণমূল সরকারের আমলে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়াই কাজ, অর্থের অনিয়ম, কাগজে রাস্তা তৈরি দেখিয়ে ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ (Panchayat Corruption) সামনে এসেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুরনো প্রকল্পগুলির পর্যালোচনা, অডিট এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

    হুগলিতে পর্যালোচনা বৈঠক

    সোমবার হুগলির চুঁচুড়ার রবীন্দ্রভবনে জেলার পঞ্চায়েতগুলিকে নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সচিব ড. পি. উল্গানাথন, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধারা এবং দফতরের অন্যান্য আধিকারিকরা।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকারের সময়ের একাধিক প্রকল্পের কাজ এখন পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগের কিছু টেন্ডার ও কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সবকিছুর রিভিউ চলছে। টেন্ডার ছাড়াই অনিয়ম (Panchayat Corruption) করে কাজ হয়েছে। টাকারও গরমিল হয়েছে। কোথাও ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, অথচ রাস্তা তৈরি হয়নি- এমন অভিযোগও এসেছে। একাধিক ইঞ্জিনিয়ারকে বদলিও করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

    খতিয়ে দেখা হচ্ছে আবাসের অভিযোগও

    আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, এই সংক্রান্ত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

    আদিনাথে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা

    আদিনাথে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘‘যে সব প্রাচীন সংস্কৃতি রয়েছে, সেগুলি ফিরে আসবে। কাশী বিশ্বনাথ, মহাকালেশ্বর হলে আদিনাথ কেন হবে না? গত কয়েক বছরে দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। সব ক্ষেত্রেই এফআইআর হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অফিসারদের সাসপেন্ডও করা হয়েছে।’’

    আলুর দাম নিয়ে কী বললেন?

    আলুর মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আগের সরকারের নীতির ফলে রাজ্যে বিপুল পরিমাণ আলু উদ্বৃত্ত হয়েছিল। গত কয়েক বছর আলু বাইরে পাঠানো বন্ধ ছিল। ফলে প্রায় ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উদ্বৃত্ত হয়েছে। এখন সেই আলু অন্য রাজ্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হিমঘর মালিক ও ব্যবসায়ীদের ভর্তুকি দেওয়ার জন্য অর্থ দফতরে তিনবার ফাইল পাঠিয়েছি। কৃষি বিপণন দফতরের পক্ষ থেকেও ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’

    প্রকল্পগুলির সার্ভে চলছে

    তিনি আরও জানান, ‘‘বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও পরে হওয়া প্রকল্পগুলির কাজের সার্ভে চলছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে নতুন করে উপভোক্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জেলার পর জেলা পর্যালোচনা বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

    খাজনা আদায়ে জোর

    নকশালবাড়িতে গত তিন মাসে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা খাজনা আদায়ের প্রসঙ্গ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘হুগলিতেও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগে যে রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা ছিল, তার অনেকটাই আদায় হতো না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দিনে খাজনা আদায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।’’ সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েত স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিল বিজেপি সরকার। তৃণমূল আমলের বিভিন্ন প্রকল্পে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ (Panchayat Corruption) খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নেও নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

  • Maa Aahar: ‘মা ক্যান্টিন’ এবার থেকে ‘মা আহার’, সপ্তাহে ২ দিন মিলবে মাছ-ভাত, ঘোষণা দিলীপের

    Maa Aahar: ‘মা ক্যান্টিন’ এবার থেকে ‘মা আহার’, সপ্তাহে ২ দিন মিলবে মাছ-ভাত, ঘোষণা দিলীপের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর মানুষের পুষ্টি সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সুলভ মূল্যের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য প্রকল্প ‘মা ক্যান্টিন’-এর পরিকাঠামো ও খাদ্যতালিকায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। উল্লেক্য মা আহার (Maa Aahaar) নামে এই পরিষেবা দেওয়া হবে। মিলবে মাছ (Fish Meal), ডিম ও সবজি ভাতের ব্যবস্থাও।

    নামকরণ ও পরিধি সম্প্রসারণ (Maa Aahaar)

    • ● নতুন নামকরণ: প্রকল্পটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সর্বজনীন করতে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে ‘মা আহার’ (Maa Aahaar)।
    • ● কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি: পূর্বে রাজ্যজুড়ে মোট ৩৯০টি কেন্দ্র পরিচালিত হতো। বর্তমান সরকারের নীতি অনুযায়ী এক ধাক্কায় আরও ১১০টি নতুন কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে মোট ‘মা আহার’ কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৫০০-তে।

     মেনুতে পুষ্টির ছোঁয়া ও বৈচিত্র্য

    সাধারণ মানুষের প্রোটিন ও পুষ্টির চাহিদার কথা বিবেচনা করে খাবারের তালিকায় বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে। মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে পেটভরা মধ্যাহ্নভোজনের এই নতুন মেনু সাজানো হয়েছে নিম্নোক্তভাবে:

    • ● সপ্তাহে ২ দিন: ডিম-ভাত।
    • ● সপ্তাহে ২ দিন: মাছ-ভাত (Fish Meal) নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে।
    • ● বাকি দিনগুলো: সম্পূর্ণ নিরামিষ, তবে অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান।

    মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা যৌথভাবে ঘোষণা করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

    রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও ধারাবাহিকতা

    পূর্বতন সরকারের আমলে ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ৫ টাকায় ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম দেওয়া হতো। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার আশ্বস্ত করেছিল যে, জনকল্যাণমুখী কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না; বরং সেগুলির পরিধি আরও বিস্তার করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেই প্রকল্পটিকে আরও আধুনিক ও পুষ্টিকর করে ‘মা আহার’ (Maa Aahaar) রূপে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে। বুধবারের ক্যাবিনেট বৈঠক থেকে একদিকে যেমন রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও সীমান্ত সুরক্ষার মতো কঠোর প্রশাসনিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনই নবান্নের পক্ষ থেকে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা (Fish Meal) সুনিশ্চিত করার এই মানবিক বার্তাও দেওয়া হলো।

  • Dilip Ghosh: “তৃণমূলে মুষলপর্ব শুরু, যত তাড়াতাড়ি দলটা উঠে যায়, ততই মঙ্গল”, বললেন দিলীপ

    Dilip Ghosh: “তৃণমূলে মুষলপর্ব শুরু, যত তাড়াতাড়ি দলটা উঠে যায়, ততই মঙ্গল”, বললেন দিলীপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পুরো পার্টিটাই জালি। আর কী আশা করা যাবে! মুষলপর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। যত তাড়াতাড়ি দলটা উঠে যায়, বাংলার পক্ষে ততই মঙ্গল।” তৃণমূল (TMC) ভাঙনের জল্পনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। সইকাণ্ডে মুখ খোলায় তৃণমূল বহিষ্কার করেছে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে। তারপরেই জল্পনা ছড়ায়, ৫০ বিধায়ককে নিয়ে ‘নতুন তৃণমূল’ গড়ছেন ঋতব্রতরা। শোনা যাচ্ছে, নিজেদের প্রধান বিরোধী দল দাবি করে তাঁরা স্পিকারের কাছে চিঠিও দেবেন। এমতাবস্থায় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূল। সেক্ষেত্রে তাঁর দল বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদাও খোয়াতে পারে। কারণ বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রাখতে প্রয়োজন ৩০ বিধায়কের সমর্থন। নতুন করে এই প্রক্রিয়া শুরু হলেও, তৃণমূল তা আদৌ জোগাড় করতে পারবে কিনা, সেটাই বড় প্রশ্ন। আজ, মঙ্গলবার সকালে তৃণমূলের এই হতশ্রী দশা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন দিলীপ।

    “নেত্রী সবাইকে চুরি করতে শিখিয়েছেন” (Dilip Ghosh)

    রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী বলেন, “যেমন যেখান যেখান থেকে লোকজন একসময় তৃণমূল কংগ্রেসে এসেছিল, এখন তেমন তেমন সেখানে চলে যাচ্ছে। প্রয়াত সুব্রত মুখার্জি একবার আমায় গল্পচ্ছলে বলেছিলেন, তৃণমূল আসলে একটা প্ল্যাটফর্ম। সবাই দাঁড়িয়ে আছে। যার যেমন ট্রেন আসছে, সে তেমন চলে যাচ্ছে। আজ উনি বেঁচে নেই। কিন্তু, ওঁর কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে। শুধু পয়সা কমানোর জন্য লোকগুলো এসেছিল। দুনিয়ার ক্রিমিনাল, অ্যান্টি সোশ্যাল এসেছিল। এখন যার যার মতো পালিয়ে যাচ্ছে। দলটা বিধানসভায় ঢুকলই না, তার আগেই দু’জন সাসপেন্ড হয়ে গেল। আমার ভাবতে অবাক লাগে, এই দলটাকে বাংলার মানুষ ১৫ বছর ধরে সহ্য করেছে! দিলীপ (Dilip Ghosh) বলেন, “নেত্রী সবাইকে চুরি করতে শিখিয়েছেন। এখন তার ফল ভোগ করতে হবে। ছোটবেলায় একটা গল্প পড়েছিলাম। রাখাল স্কুলে সবার খাতা, বই, পেনসিল চুরি করত। যেদিন ধরা পড়ল সেদিন মাসির কানে কথা বলার বাহানায় মাসির কান কামড়ে ছিঁড়ে দিয়েছিল। বলল, মাসি তুমিই আমায় চুরি করতে শিখিয়েছ। এই মাসির কান কাটা এখনও বাকি আছে।”

    ‘দুই সাংসদ পালিশ খেয়েছেন’

    তিনি বলেন, “ওদের দু’জন সাংসদ পাবলিকের কাছে অলরেডি পালিশ খেয়েছেন। অথচ দু’জনের কারোর গায়ে কোনও দাগ নেই! এরমধ্যে একজন কল্যাণ ব্যানার্জি। তাঁর নাটক আমরা পার্লামেন্টে বহুবার দেখেছি। ওঁকে সেদিন কেউ একটা চাঁটি মেরেছিল। রুমাল দিয়ে রগড়েও একফোঁটা রক্ত বের করতে পারলেন না!” মন্ত্রী (Dilip Ghosh) বলেন, “আমি এখন বুঝতে পারছি, আমার হরিণঘাটা ডিমের দাম এত বাড়ল কেন? এদিক-ওদিক ডিম ছোড়া হচ্ছে। অভিষেক কোনও হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি। বেলভিউ হাসপাতালের ডাক্তাররা বুঝিয়ে (TMC) দিয়েছেন, তাঁদের মেরুদণ্ড শক্ত। এটা খুব জঘন্য একটা আচরণ। সরকার কাজ করছে। মানুষ দেখছে। কয়েকদিন আপনারা ঘরের ভেতরে থাকুন। আন্দোলনের নামে ব্লকে বা থানায় ঘেরাও-ফেরাও করবেন না। দেখছেন তো চারিদিকে কী অবস্থা! হুজ্জুতি করতে যাবেন পাবলিক আবার ধরে পালিশ করে দেবে! আবার হাসপাতালে যেতে হবে। শান্তিতে থাকুন। বাড়িতে থাকুন।”

    ‘ডিম খান, শক্তি বাড়ান’

    খড়্গপুরের বিধায়ক বলেন, “আমরা বলেছি ডিমের ক্রাইসিস আছে। ডিম এঁর তাঁর গায়ে ছুড়ে নষ্ট করবেন না। ডিম খান। শক্তি বাড়ান। ফালতু লোককে ডিম মেরে লাভ নেই।” এদিনই ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে প্রসঙ্গে দিলীপ (Dilip Ghosh) বলেন, “গণতান্ত্রিক কার্যকলাপ আমরা বন্ধ করতে চাই না। আন্দোলন করতে কারওর কোর্টে যাওয়ার দরকার হবে না। তবে পুলিশের অনুমতি নিয়ে করতে হবে। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীকে আন্দোলন করার অনুমতির জন্য ১০৪ বার কোর্টে ছুটতে হয়েছিল। রেড রোডের নমাজ শান্তিতে ব্রিগেডে হয়ে গেল। তাই, আমি বলব কয়েকটা মাস (TMC) শান্তিতে ঘরে থাকুন।”

    ‘মায়ের কাছেও কাটমানি খেয়েছে’

    তিনি বলেন, “তৃণমূল পঞ্চায়েত, মণ্ডল সভাপতি, প্রাক্তন বিধায়কদের অফিস সার্চ হচ্ছে। আর আজব আজব জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। ডাব, নারকেল, তেল, হাঁড়ি-কলসি-খুন্তি। আমি জানি না এগুলো কারখানা ছিল, গুদাম ছিল, নাকি অফিস ছিল! পার্টি অফিসে যাঁরা পিঠে বানাতে যেতেন, সেখানকার বাসিন্দারাই তার বদলা নিয়েছেন। তৃণমূল পার্টি ব্যান করে দেওয়া উচিত। এদের প্রতীক চিহ্ন ব্যান করে দেওয়া উচিত। এরা একটা টেরোরিস্ট সংগঠনের মতো কাজ করে গিয়েছে। গোপন সংগঠনের মতো কাজ করে গিয়েছে।” পদ্ম-মন্ত্রিসভার সদস্য দিলীপ (Dilip Ghosh) বলেন, “স্যাঁকরা নিজের মায়ের গয়না থেকেও সোনা চুরি করে। তৃণমূল নেতারা আবাস যোজনায় নিজের মা ঘর পেলে, তার থেকেও কাটমানি নিয়েছে। মেসিও রেহাই পেলেন না! তাঁর মূর্তি থেকেও কাটমানি নেওয়া হল। লোকটা ওখানে ছ’মাস দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না, ফেলে দিল তৃণমূল।”

    পিঠ বাঁচাতে পদত্যাগ!

    পদত্যাগ করেছেন বিধায়ক তারক সিং। সে প্রসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ বলেন, “এতদিন কী করেছেন? নেতাদের বাড়িতে রেড হতেই বোঝা যাচ্ছে, কে কী কাজ করেছেন! পিঠ বাঁচানোর জন্য এখন অনেকে পদত্যাগ করছেন। বিষবৃক্ষ রোপণ করেছেন কে? তার ফল এখন সবাইকে ভুগতে হবে।” রাজ্যে শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি (Dilip Ghosh) বলেন, “আমূলের কলকাতা প্রধান দেখা করার জন্য সময় চেয়েছেন। আজই (TMC) হয়তো দেখা হবে। কথা হবে। অনেকে ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন। অনেক ফোনই আসছে।”

     

  • Dilip Ghosh at Eden: গেরুয়া উত্তরীয় সঙ্গে ফুলের স্তবক! ইডেনে দিলীপ ‘বরণ’ সৌরভের, খেলার মাঠেও বিজেপি নেতাদের হাতে ঝালমুড়ি

    Dilip Ghosh at Eden: গেরুয়া উত্তরীয় সঙ্গে ফুলের স্তবক! ইডেনে দিলীপ ‘বরণ’ সৌরভের, খেলার মাঠেও বিজেপি নেতাদের হাতে ঝালমুড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের ক্রিকেট প্রেম নতুন নয়। এর আগেও তাঁকে বহুবার দেখা গিয়েছে ইডনের বক্সে। বুধবারও ইডেনে কেকেআর-মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের খেলা দেখতে হাজির ছিলেন দিলীপ (Dilip Ghosh at Eden)। সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক তাপস রায়-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতারাও। বর্তমানে সদ্য ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছেন, মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন, কাজের চাপও অনেক বেড়েছে আগের তুলনায়। তবু আইপিএল দেখতে ইডেনে হাজির দিলীপ। তাঁকে বরণ করে নেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ম্যাচ দেখতে এসে সিএবির তরফ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় দিলীপ ঘোষকে। সিএবির অফিসে রাজ্যের নতুন মন্ত্রীকে গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে, ফুলের স্তবক দিয়ে স্বাগত জানান সিএবি সভাপতি।

    দিলীপ-বরণ ইডেনে

    রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বাইশ গজেও। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে এক মঞ্চে দেখা গিয়েছিল আগে, এবার দিলীপ ঘোষের সঙ্গে খোশ মেজাজে গল্প করতে দেখা গেল মহারাজ-কে। দিলীপ ঘোষ ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মধ্যে খানিক কথাও হয়। তবে দুজনের মধ্যে কোন বিষয়ে কথা হয়েছে তা জানা যায়নি। দিলীপ ঘোষকে অভ্যর্থনা জানাতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়া অন্য সিএবি কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বুধবারই শিলিগুড়িতে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তারপরও শহরে ফিরেই নিজের প্রিয় খেলা ও প্রিয় দলের ম্যাচ দেখতে ইডেনে হাজির হন তিনি। এদিন মুম্বইকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দেয় কলকাতা।

    ইডেনে ঝালমুড়ি সংস্কৃতি

    ভোটের প্রচারে এসে ঝাড়গ্রামে গিয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যে ছবি, ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। তারপর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বারবার উঠে এসেছে ঝালমুড়ির প্রসঙ্গ। এবার ইডেন গার্ডেন্সেও ঝালমুড়ি সংস্কৃতি! ঝালমুড়ি খেতে খেতে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (KKR vs MI) ম্যাচ দেখলেন রাজ্যের মন্ত্রী। ঘড়িতে তখন কাঁটায় কাঁটায় ৮.১৫ । ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায় বৃষ্টিতে । প্রথমে ব্য়াট করে তখন মুম্বইয়ের স্কোর ৫৭/৪ । খেলা বন্ধ রইল এক ঘণ্টা। ঠিক সেই সময়ই ইডেনে এলেন দিলীপ। ক্লাব হাউসে বিধায়ক ও বিধানসভার স্পিকার তাপস রায়, বৈশালী ডালমিয়া, তমোঘ্ন ঘোষদের সঙ্গে বসে খেলা দেখলেন। হাতে ঝালমুড়ির ঠোঙা। বললেন, ‘উত্তরবঙ্গে গিয়েছিলাম। খানিক আগেই সেখান থেকে ফিরেছি। ফিরেই খেলা দেখতে চলে এলাম। আমি কেকেআরের সমর্থক। ওরা এখনও প্লে অফে যেতে পারে। শেষ দুই ম্যাচ জিততে হবে। শুরুর দিকে কয়েকটা ম্যাচ ভালো যায়নি। শুরুটা ভালো হলে এতদিনে আমরা প্লে অফে পৌঁছে যেতাম।’

  • Dilip Ghosh: প্রশাসনিক সংস্কারে গতি আনছে নতুন সরকার, বকেয়া ডিএ ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে নবান্নে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলীপ ঘোষের

    Dilip Ghosh: প্রশাসনিক সংস্কারে গতি আনছে নতুন সরকার, বকেয়া ডিএ ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে নবান্নে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলীপ ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শপথগ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত একাধিক সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই রাজ্যে বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে। এই আবহেই আজ নবান্নে বিজেপি সরকারের (BJP Bengal) দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং সপ্তম বেতন কমিশন রূপায়ণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকার অতি দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

    বয়সসীমা বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে

    দীর্ঘদিন বিরোধী আসনে থাকাকালীন পঞ্চায়েত স্তরে যে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ গেরুয়া শিবির (BJP Bengal) তুলেছিল, সরকার পরিবর্তনের পর সেই দফতরকে সম্পূর্ণ ‘দুর্নীতিমুক্ত’ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে স্পষ্ট করেছেন এই নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ (Dilip Ghosh)। প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কর্মসংস্থান ও নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ সম্প্রসারণ না হওয়ায় মন্ত্রীর সংখ্যা কম থাকলেও, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সরকারি কাজের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে।”

    অতি শীঘ্রই জমি হস্তান্তর

    ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়েও সোমবার এক তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি প্রকাশ করেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও পূর্বতন রাজ্য সরকারের অনীহার কারণে পশ্চিমবঙ্গের একটি বড় অংশের সীমান্ত অসুরক্ষিত ছিল। বর্তমান সরকার (BJP Bengal) দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর জন্য জমি চিহ্নিতকরণ ও পরিমাপের কাজ দ্রুততার সাথে শুরু করেছে এবং অতি শীঘ্রই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”

    স্টেশন চত্বর দ্রুত জবরদখল মুক্ত করার উদ্যোগ

    রেলের জমিতে অবৈধ জবরদখল উচ্ছেদের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার (BJP Bengal)। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “উত্তরপ্রদেশ সরকারের অনুসৃত প্রশাসনিক মডেল অনুসরণ করে স্টেশন চত্বর দ্রুত জবরদখল মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও সংলগ্ন এলাকা অবরুদ্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ও বসার ক্ষেত্রে যে চরম ভোগান্তি হতো, তা দূর করতে আরপিএফ (RPF) এবং রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে। যারা বিরোধিতা করছেন তাঁদের কাছে প্রশ্ন সুশাসনের বিকল্প হিসেবে রাজ্যে কি তবে অরাজকতা চলতে দেওয়া হবে?”

    জন নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ়

    পাশাপাশি, রাজ্যের (BJP Bengal) একাধিক ভিআইপি এবং ভিভিআইপি-দের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর (Dilip Ghosh) দাবি, পূর্বতন আমলের বহু জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি নানাবিধ অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে জনরোষের ভয়ে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে চলতেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব হতো না। এই সিদ্ধান্তের ফলে জননিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

  • Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় দফতর বণ্টন, দিলীপ-অগ্নিমিত্রারা কে কোন দফতরে?

    Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় দফতর বণ্টন, দিলীপ-অগ্নিমিত্রারা কে কোন দফতরে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্যের দফতর বণ্টন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিগ্রেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করেছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল-সহ মোট ৫ জন। সোমবার তাঁদের দফতর ভাগ করে দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণীসম্পদ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ। অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক সামলাবেন ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর। খাদ‍্য ও সরবরাহ দফতর গিয়েছে অশোক কীর্তনিয়ার হাতে। আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বে ক্ষুদিরাম টুডু। রাজ্য সরকারের একটি সূত্র জানাচ্ছে, বাকি সব দফতর আপাতত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অধীনে থাকবে।

    কার হাতে কোন দফতর

    ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে ১৫ বছরের তৃণমূল সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে। তৃণমূলের হাত থেকে ক্ষমতা গিয়েছে বিজেপির (West Bengal BJP Govt) কাছে। রাজ্যের দায়িত্বে এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের একদা ঘনিষ্ঠ শুভেন্দু অধিকারী। এদিনই শুরু হয়েছে দপ্তর বণ্টন প্রক্রিয়া। তৃণমূল সরকারের শেষ উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ছিলেন উদয়ন ঘোষ। বিজেপির সরকারে সেই দায়িত্বে উদয়নের চির প্রতিদ্বন্দ্বি নিশীথ প্রামাণিক। রেশন দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিত্ব খোয়াতে হয়েছিল তৃণমূল সরকারের তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। পরবর্তীতে সেই দায়িত্ব পেয়েছিলেন রথীন ঘোষ। এবার খাদ্য দফতরের ভার পেলেন মতুয়া সমাজের প্রতিনিধি অশোক কীর্তনিয়া। বঙ্গ বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ কোন দফতরের দায়িত্ব পান, সেদিকে নজর ছিল সকলেরই। জানা যাচ্ছে, তিনটি দফতরের ভার তাঁর কাঁধে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর, প্রাণী সম্পদ বিকাশ, কৃষি বিপণন। অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব, পুর বিষয়ক দফতরও দেখবেন তিনিই। ক্ষুদিরাম টুডুর দায়িত্বে আদিবাসী উন্নয়ন, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, সংখ্যালঘু উন্নয়ন, মাদ্রাসা বোর্ড এডুকেশন। বাকি সব গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব তথা স্বরাষ্ট্র বা পুলিশ, অর্থ, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য ও সম্প্রচার ইত্যাদি দফতরের দায়িত্ব আপাতত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছেই রইল।

    ব্যস্ত দিন নবান্নে

    প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুর ১২টায় নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিলেন শুভেন্দু। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্য। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং প্রশাসনিক আধিকারিকেরাও ছিলেন ওই বৈঠকে। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, তাঁর মন্ত্রিসভা চলবে সুশাসন এবং সুরক্ষার পথে। একই সঙ্গে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ যে পথে এগোচ্ছে, পশ্চিমবাংলাতেও সেই পথেই এগোবে বলে জানান তিনি। এদিন নবান্নে একাধিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। মঙ্গলবারও নতুন সরকারের ব্যস্ত দিন। এদিন বিধানসভায় প্রথমে প্রোটেম স্পিকার নির্বাচন ও সব বিধায়কের শপথ এ সপ্তাহে হয়ে যাওয়ার কথা। তার পর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করা হবে।

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক, বকেয়া ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

    Suvendu Adhikari: নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক, বকেয়া ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সোমবার নবান্নে নবগঠিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার (Cabinet Meeting) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনকল্যাণমূলক একাধিক পদক্ষেপের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট বললেন, “পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন ও সুরক্ষার যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, তা দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের উন্নয়নের ধারাকে অনুসরণ করেই এগিয়ে যাবে।” একই ভাবে ডিএ  ও সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

    মহার্ঘ ভাতা (DA) ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে বড় ঘোষণা

    রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন–

    • আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
    • ওই বিশেষ বৈঠকেই ডিএ (DA) এবং সপ্তম বেতন কমিশন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
    • পূর্ববর্তী সরকারের বাজেট পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন।

    উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন দেখা গেল।

    দুর্নীতি দমন ও নারী সুরক্ষা

    প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন, সুরক্ষা এবং ডবল ইঞ্জিন সরকারের যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, তা দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের উন্নয়নের পথ অনুসরণ করেই এগোবে।রাজ্য সরকারের কর্মীরা কবে পাবেন বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পরের সোমবার আবার বৈঠকে বসবে মন্ত্রিসভা। ওই দিনই ডিএ, সপ্তম পে কমিশন-সহ একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” শুভেন্দু আরও বলেন, “রাজ্যে কোনোভাবেই নারী নির্যাতন ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। বিশেষ করে আর জি কর-সহ বিভিন্ন নারী নির্যাতনের ঘটনা এবং বিগত আমলের নিয়োগ বা অন্যান্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী সোমবারের বৈঠকে এই বিষয়গুলি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”

    মন্ত্রিসভার প্রথম দিনের সিদ্ধান্ত

    এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পাঁচ পূর্ণমন্ত্রী— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, ক্ষুদিরাম টুডু, অশোক কীর্তনিয়া ও নিশীথ প্রামাণিক। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “সরকার গঠনের পর পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় এখনই সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যেসব নথিপত্র প্রস্তুত ছিল, তার ভিত্তিতে কয়েকটি জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

    কর্মচারী মহলে আশার আলো

    রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে নবগঠিত সরকারের এই আশ্বাস কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী সোমবারের বৈঠকে যদি কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং নতুন বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা আসে, তবে তা হবে রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বড় পদক্ষেপ।

    মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) পরিশেষে আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষা করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।

LinkedIn
Share