Tag: Disease Prevention

  • Asthma Risk: প্রতি বছর ২ লাখ মৃত্যু! কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অ্যাজমা? কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    Asthma Risk: প্রতি বছর ২ লাখ মৃত্যু! কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অ্যাজমা? কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একরত্তি শিশু থেকে প্রৌঢ়, সকলেই প্রায় বিপদের সীমায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন! ফি-বছর উদ্বেগ বাড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশপাশি বাড়ছে মৃত্যু হার। অ্যাজমা ভারতের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। তাই বিশ্ব অ্যাজমা সচেতনতা দিবসে, এই রোগ সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার পাশপাশি, কীভাবে এই রোগের দাপট নিয়ন্ত্রণে রেখে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো যায়, সেই সম্পর্কেও লাগাতার প্রচার কর্মসূচি চালানোর কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    ভারতে কতখানি বিপজ্জনক এই রোগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বক্ষঃরোগের দাপট দেশ জুড়ে বাড়ছে। ফুসফুসের একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। শিশু থেকে বয়স্ক, সকলের অ্যাজমার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এ দেশের সাড়ে তিন কোটি মানুষ অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। বিশ্বে মোট অ্যাজমা আক্রান্তের ১৩ শতাংশ এ দেশের মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশপাশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মৃত্যু হার। প্রতি বছর ২ লাখ মানুষ অ্যাজমার কারণে মারা যান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে অ্যাজমার কারণে মৃত্যু হার অনেকটাই বেশি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এ দেশে অ্যাজমা মৃত্যুর অন্যতম কারণ ঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না হওয়া এবং স্টেরয়েড ইনহেলার ব্যবহার না করা।

    কাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে নতুন করে অ্যাজমা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে শিশুদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে নতুন ভাবে অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৫ শতাংশের বয়স ১৪ বছরের কম। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অত্যাধিক বায়ুদূষণ, ধোঁয়া, অ্যালার্জি থেকেই শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    কীভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যাজমা মানেই মৃত্যু নয়। ঠিকমতো চিকিৎসা হলে এই রোগের জটিলতা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ভারতে সময় মতো এই রোগের চিকিৎসা শুরু হয় না। তাই মৃত্যু হার এত বেশি। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, অ্যাজমার জটিলতা কমতে ইনহেলার ব্যবহার করা জরুরি। নিয়মিত প্রয়োজনীয় ইনহেলার ব্যবহার করলে আক্রান্তের শরীর ঠিক থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হবে না। মৃত্যুর আশঙ্কাও কমবে। তবে, ইনহেলার নিয়ে একাধিক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ, ইনহেলার কখন ব্যবহার করতে হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
    • বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এ দেশে অ্যাজমা আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরেই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে। আবার সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। অ্যাজমা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা জরুরি। আবার মাস্ক ব্যবহার নিয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
    • তবে শিশু হোক বা বয়স্ক, অ্যাজমার মতো রোগ রুখতে ধুমপানে রাশ জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, যেকোনও ভাবেই ধূমপান শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। ফুসফুসের জন্য এই অভ্যাস বড় বিপদ তৈরি করে। পরিবারের কেউ ধূমপান করলে শিশু সেই পরিবেশে থাকলে, তার অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই অ্যাজমার মতো রোগের জটিলতা কমাতে এবং এই রোগের দাপট রুখতে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Adult Vaccination: টিকাকরণের হার মাত্র ২ শতাংশ! প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্যাকসিনে কেন বাড়তি গুরুত্ব প্রয়োজন?

    Adult Vaccination: টিকাকরণের হার মাত্র ২ শতাংশ! প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্যাকসিনে কেন বাড়তি গুরুত্ব প্রয়োজন?

     

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। আর সেই বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যাচ্ছে রোগের চরিত্র! দাপট বাড়াচ্ছে একাধিক সংক্রামক রোগ। তাই দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য টিকাকরণ (Adult Immunization) জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষত ৫০ বছরের পরে নানান সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বায়ুদূষণ, জল দূষণের জেরে ফুসফুস, কিডনি ও রক্তের একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সুস্থ দীর্ঘ জীবনের জন্য ভ্যাকসিন (Adult Vaccination) জরুরি। কিন্তু এ দেশের সাম্প্রতিক রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্যাকসিনের পরিসংখ্যান তলানিতে। আর সেটাই বাড়াচ্ছে উদ্বেগ। এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসক মহল।

    ভারতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকার হার কেমন?

    এক সর্বভারতীয় সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণের (Adult Immunization) হার বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় অনেকটাই কম। তাই বাড়ছে উদ্বেগ। ওই রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, এদেশের মাত্র ২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের টিকাকরণ (Adult Vaccination) হয়েছে। অর্থাৎ, রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানো টিকা শুধুই শিশুস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত নয়। বরং প্রাপ্তবয়স্কদের একাধিক রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে টিকাকরণ জরুরি। এই সচেতনতা তলানিতে। আর সেই জন্য প্রতি ১০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয়দের মধ্যে ৯৮ জন জনের কোনও প্রাপ্তবয়স্ককালে টিকা নেওয়া হয়নি। ওই সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ ভারতীয় জানেন না, প্রাপ্তবয়স্কদের সুস্থ থাকার জন্য প্রাপ্তবয়স্ককালে টিকাকরণ জরুরি। শহরের তুলনায় গ্রামে টিকা করণের হার আরও কম। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন দান হয়েছে মাত্র ১.৫ শতাংশ। নিউমোনিয়ার ০.৬ শতাংশ এবং হেপাটাইটিস বি রোগের টিকা নিয়েছেন ১.৯ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতীয়।

    কেন প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতীয়দের টিকাকরণের হার কম?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণের হার কম। বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশেও টিকাকরণ শুধুমাত্র শিশু স্বাস্থ্যের সঙ্গেই জড়িত থাকার ধারণা রয়েছে। ভারতেও প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণ কম হওয়ার অন্যতম কারণ এই সচেতনতার অভাব। শিশু অবস্থায় টিকা করণ হলেও একাধিক রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ৪০ বছরের পরে আবার টিকা করণ জরুরি হয়। শিশুদের টিকা করণ এবং বয়স্কদের টিকা করণের ক্ষেত্রে কিছু কিছু রোগে পার্থক্য থাকে। বিশেষজ্ঞদের কাছে সে সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতীয় এই প্রসঙ্গে কথা বলেন না। ফলে তাঁদের মধ্যে সচেতনতাও তৈরি হয় না। অনেকক্ষেত্রে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণের ক্ষেত্রে খরচ একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের টিকাকরণে যেভাবে সরকার এবং প্রশাসন তৎপর, যেভাবে প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণে সেই উদ্যোগের ঘাটতির রয়েছে। তাই টিকাকরণের হার তলানিতে ঠেকেছে।

    সুস্থ থাকতে কোন টিকায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    ভারতে নিউমোনিয়ার দাপট বাড়ছে! ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে প্রতি বছর ২.৫ থেকে ৩ লাখ প্রাস্ত বয়স্ক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বায়ুদূষণ বাড়ছে। তাই ফুসফুসের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া, ধূমপান ও তামাক সেবনের অভ্যাস ভারতীয়দের ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। তাই পাল্লা দিয়ে নিউমোনিয়ার দাপট বাড়ছে। নিউমোনিয়া রুখতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণ জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, টিকা নেওয়া থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। মৃত্যুর সংখ্যাও কমবে। তাছাড়া চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকাকালীন, বয়স্কদের একাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। টিকা নেওয়া থাকলে শারীরিক জটিলতাও কমবে। তাই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রাপ্ত বয়স্কদের নিউমোনিয়ার টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতি বছর ভারতে ৩ লাখের বেশি মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত হন। শুধুমাত্র বর্ষাকালেই আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়। বয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভোগান্তি বাড়ায়। তাই সুস্থ থাকতে প্রাপ্ত বয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    বয়স্কদের হুপিং কাফ, হেপাটাইটিস রোধে টিকা কার্যকর

    এছাড়াও হুপিং কাশি রুখতেও ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে বায়ুদূষণ বাড়ছে। দিন দিন বাতাসের গুণমান কমছে। তাই ফুসফুসের সংক্রমণের পাশপাশি শ্বাসনালীর সংক্রামণের ঝুঁকিও বাড়ছে। হুপিং কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই রোগ রুখতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ প্রতি বছর হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে এই রোগের দাপট উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ভারতীয়দের লিভারের রোগ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষত এই হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি করছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই রোগ রুখতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো টিকাকরণ। প্রাপ্ত বয়স্কদের হেপাটাইটিস বি-র দাপট কমাতে টিকাকরণ জরুরি।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share