Tag: divorce

divorce

  • Uniform Civil Code: মিলল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, গুজরাটে পরিষ্কার হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের রাস্তা

    Uniform Civil Code: মিলল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, গুজরাটে পরিষ্কার হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের রাস্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির পর খুলে গেল গুজরাটে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকরের আনুষ্ঠানিক পথ। উত্তরাখণ্ডের পর গুজরাটই ভারতের দ্বিতীয় রাজ্য, যেখানে এই বিধি কার্যকর করার অনুমোদন মিলল। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া বিধিটি ১ অক্টোবর রাজ্যের সরকারি বিশেষ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি দেওয়া হয়েছিল (Gujarat) ১৭ সেপ্টেম্বর। তবে বিধিটি কবে থেকে কার্যকর হবে, সেই তারিখ রাজ্য সরকার নির্ধারণ করবে। চলতি বছরের মার্চে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা শেষে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাশ করে গুজরাট বিধানসভা।  ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছিল। এই বিধিতে ধর্ম নির্বিশেষে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং বিবাহবহির্ভূত সহবাসের মতো বিষয়গুলির জন্য একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গুজরাটের আইনটি মূলত উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আদলে তৈরি। তবে তফশিলি উপজাতি এবং সংবিধানের ২১তম অংশের অধীনে প্রথাগত অধিকার সুরক্ষিত থাকা কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এই আইনের আওতার বাইরে থাকবে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Uniform Civil Code)

    মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল বলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। তাঁর কথায়, “এই বিল গুজরাটের বোন ও মেয়েদের জন্য আনা হয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়েছে। এই বিল নিশ্চিত করছে যে কোনও সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না। এটি কারও অধিকার কেড়ে নেয় না বা কারও স্বাধীনতায় বাধা দেয় না।”

    তবে বিরোধীরা বিলটির বিরোধিতা করে দাবি করেছে, এতে মূলত সাম্প্রদায়িক বিষয়গুলিই গুরুত্ব পেয়েছে এবং এর মাধ্যমে শাসক দলের রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ হবে। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অসন্তোষ মোকাবিলায় বিলটি দ্রুত পাশ করানো হয়েছে।

    বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গুজরাটের কংগ্রেস বিধায়ক ইমরান খেদাওয়ালা বলেন, “এই বিল আমাদের সমাজের বিরুদ্ধে এবং এতে আমাদের কোনও উপকার হবে না। আমরা কোরান ও শরিয়তে বিশ্বাস করি, তাই আমরা এই বিলের বিরোধিতা করছি। সরকার যদি মুসলিম মহিলাদের নিয়ে সত্যিই উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে বিলকিস বানোর প্রতি ন্যায়বিচার করা এবং তাঁর অভিযুক্তদের দেওয়া সংবর্ধনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

    আম আদমি পার্টির অভিযোগ

    আম আদমি পার্টির বিধায়ক ছতার বাসাভানের অভিযোগ, শুধুমাত্র নির্বাচনী স্বার্থেই সরকার এই বিল এনেছে। নতুন অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অবস্থান নিয়েও স্পষ্টতা নেই বলে দাবি করেন (Uniform Civil Code) তিনি। আম আদমি পার্টির এই বিধায়ক বলেন, “কিছু বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি। অন্য সম্প্রদায়ের কাউকে বিয়ে করা আদিবাসী মহিলাদের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য হবে, সরকার তা স্পষ্ট করেনি।”

    গুজরাটের এই আইনটি বিবাহবহির্ভূত সহবাসের সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই ধরনের সম্পর্কে জন্ম নেওয়া সন্তানের অধিকার, উত্তরাধিকার, বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন আনছে। বিধানসভায় বিলটি পাশের সময় বিরোধী কংগ্রেস বিধায়করা স্পিকারকে এটি নির্বাচিত কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন (Gujarat)।

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছিল। ২০২২ সালের উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারেও ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল এই বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকর করা।

     

  • Supreme Court: তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম মহিলারা ফেরত পাবেন বিয়ের দেনমোহর, গয়নাও, রায় সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম মহিলারা ফেরত পাবেন বিয়ের দেনমোহর, গয়নাও, রায় সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বিয়ের সময়ে প্রদত্ত মেহের, গয়না, নগদ অর্থ এবং অন্যান্য সব উপহার, তা সে মহিলা নিজে নিন কিংবা তাঁর স্বামীর হাতে তুলে দেওয়া হোক, সেগুলিতে ওই মহিলার পূর্ণ অধিকার। তাই বিবাহবিচ্ছেদ (Muslim Women) হলে অবশ্যই তা তাঁকে ফেরত দিয়ে দিতে হবে। আদালতের এই রায়ে স্পষ্ট, এই সব জিনিস ওই মহিলার ব্যক্তিগত ও একচ্ছত্র সম্পত্তি। তাই বিবাহবিচ্ছেদ পরবর্তী সময়ে তা ফিরিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক।

    ডিভিশন বেঞ্চের রায় (Supreme Court)

    এ সংক্রান্ত রায়টি দেয় বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং এন কোটিশ্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলাটি ছিল এক মুসলিম মহিলার, যাঁর প্রায় ১৭.৬৭ লাখ টাকার সোনা ও নগদ-সহ অন্যান্য বিবাহ সম্পর্কিত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার দাবি খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বলেছিল, উপহারগুলি সরাসরি কনেকে দেওয়া হয়েছিল নাকি বরকে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দেয়, এই ধরনের সংকীর্ণ ব্যাখ্যা আইন প্রণেতাদের উদ্দেশ্য এবং নারীর মর্যাদা ও সমতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা – দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    রায়ের ভিত্তি

    প্রসঙ্গত, শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছে, তার ভিত্তি হল মুসলিম নারী (বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অধিকার সুরক্ষা) আইন, ১৯৮৬-এর ধারা ৩(১)(ডি)। এখানে বলা হয়েছে, নারীকে বিয়ের আগে, সময়কালে বা পরে যে কোনও উপহার বা সম্পত্তি, তা আত্মীয়, বন্ধু, স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোক যে-ই দিক না কেন, তালাক হওয়ার পরে সেগুলি অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম নারীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। তাই একে এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যাতে লিঙ্গ-ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হয় (Supreme Court)।

    বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ

    বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, দেশের বহু অঞ্চলে, বিশেষত গ্রামীণ ও আধা-শহুর এলাকায় এখনও পুরুষতান্ত্রিক বৈষম্য সমাজের স্বাভাবিক রীতি। এই প্রেক্ষাপটে আদালত উল্লেখ করে, নারীর অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষাকারী আইনগুলিকে যান্ত্রিকভাবে নয়, উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বেঞ্চের মন্তব্য, “নারীর (Muslim Women) সমতা, মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি এই আইনের ব্যাখ্যায় প্রভাব ফেলতে হবে।”

    হাইকোর্টের কড়া সমালোচনা

    কলকাতা হাইকোর্টের কড়া সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, শুধুমাত্র প্রমাণসংক্রান্ত অস্পষ্টতার ভিত্তিতে ওই নারীর দাবি খারিজ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যাখ্যার লক্ষ্যবিন্দু মিস করেছে। কারণ তারা ১৯৮৬ সালের আইনের পেছনে থাকা আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালত ওই মহিলার আবেদন মঞ্জুর করে নির্দেশ দিয়েছে, তাঁর প্রাক্তন স্বামী ছসপ্তাহের মধ্যে হিসাব অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থ তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে, প্রক্রিয়াগত জটিলতা বা বৈবাহিক উপহারের মালিকানা সম্পর্কে পুরুষতান্ত্রিক অনুমানের ভিত্তিতে নারীদের তাঁদের ন্যায্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না (Supreme Court)।

    সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভারতীয় ব্যক্তিগত আইন বিচারব্যবস্থার বিকাশে একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত চিহ্নিত করে। বিবাহ উপহার ও মোহরানা সম্পূর্ণভাবে নারীর অধিকার বলে স্বীকৃতি দিয়ে, সুপ্রিম কোর্ট মুসলিম নারীদের জন্য বর্তমানে (Muslim Women) থাকা সুরক্ষা কাঠামোকে আরও প্রসারিত করেছে। এটি তাঁদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের সাংবিধানিক অধিকারও সুরক্ষিত রাখবে (Supreme Court)।

     

LinkedIn
Share