Tag: Donald Trump

Donald Trump

  • Republic Day 2026: ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি চিন-আমেরিকার! প্রজাতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা ট্রাম্প-জিনপিংয়ের

    Republic Day 2026: ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি চিন-আমেরিকার! প্রজাতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা ট্রাম্প-জিনপিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বসভায় ভারতের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিল ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস ( Republic Day 2026)। ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি বিশ্বে শক্তিধর দুই দেশের। বেশ কিছু ক্ষেত্রে নীতিগত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও ভারতকে পাশে চায় চিন ও আমেরিকা (India China US) উভয়েই। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিরোধ এবং নীতিগত পার্থক্য নিয়ে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রথা মেনে ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত এবং আমেরিকা— দু’দেশ ‘ঐতিহাসিক বন্ধনে’ আবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে চিন এবং ভারত ভালো বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী! সাধারণতন্ত্র দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বললেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

    ভারতের সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’

    বাণিজ্য বিরোধ, শুল্কনীতি ও কৌশলগত মতপার্থক্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ক যখন চাপের মুখে, ঠিক সেই সময়েই ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নয়াদিল্লিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’-এর কথা তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে ভারত সরকার ও জনগণকে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে।”

    কেন ভারতকে পাশে চায় আমেরিকা

    ভারতের পণ্যের উপর বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ‘শাস্তিস্বরূপ’ ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর পর থেকেই দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। অন্য দিকে, কয়েকমাস আগেই সাংহাই সম্মেলনে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সখ্যতা দেখেও তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন ট্রাম্প। তবে, তারপরই নিজের দেশে বিরোধিতার মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার সেনেটেও ওঠে বিতর্কের ঝড়। ট্রাম্পের নির্বুদ্ধিতার জন্যই ভারতের মতো বন্ধুকে হারাতে চলেছে আমেরিকা, বলে দাবি করেন মার্কিন কূটনীতিকদের একাংশ। এরপরই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ফের ভারতকে কাছে টানার চেষ্টা শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাম্পের পাশাপাশি আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও-ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন রুবিও। তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়বে।’’ তিনি জানান, আগামী বছরেও অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ভারতের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে ওয়াশিংটনের। কোয়াডের মাধ্যমে বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব—যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক দুই দেশ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য বাস্তব ফল দিচ্ছে, বলে মনে করেন রুবিও।

    কর্তব্য পথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল কুচকাওয়াজে কর্তব্য পথে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। প্রথমবারের মতো প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেডে অংশ নিয়ে তিনি একে ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চেতনার উদযাপন বলে অভিহিত করেন। গোর বলেন, “হ্যাপি রিপাবলিক ডে, ইন্ডিয়া! ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক আত্মার এই উদযাপনে অংশ নিতে পেরে সম্মানিত।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের আকাশে মার্কিন তৈরি বিমান উড়তে দেখা যুক্তরাষ্ট্র–ভারত কৌশলগত অংশীদারত্বের শক্তিশালী প্রতীক।”

    ভারত ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’

    প্রজাতান্ত্রিক দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারত ও চিনকে ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। চিনের রাষ্ট্রপতি আরও জানান, দুই দেশের সম্পর্ক উভয় দেশের মৌলিক স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। নয়াদিল্লি-বেজিংয়ের সুসম্পর্ক উভয় দেশের সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়নে সহায়তা করবে। অন্য দিকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি ও বেজিং। সীমান্ত সমস্যা দূর করতে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে।

    কাছাকাছি ভারত-চিন

    চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতে, গত এক বছরে ভারত ও চিন দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। চিন সব সময় বিশ্বাস করে ভাল বন্ধু এবং প্রতিবেশী হওয়া দুই দেশের জন্যই সঠিক পথ। সেই বিষয় উল্লেখ করতে গিয়ে জিনপিং আবার ‘ড্রাগন-হাতি’ যৌথ নাচের প্রসঙ্গ টেনেছেন। জিনপিং আশাবাদী, ভারত-চিন উভয় দেশই পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিনিময়, সহযোগিতার পথ আরও সম্প্রসারণ করবে। সুস্থ এবং স্থিতিশীল সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যে উদ্বেগের বিষয়গুলি সমাধান করা হবে। এই বক্তব্যে সুর মিলিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত সু ফেইহং। তিনি বলেন, “চিন ও ভারতের জন্য ভাল প্রতিবেশী বন্ধু ও অংশীদার হওয়াই সঠিক পথ—যেখানে ড্রাগন ও হাতি একসঙ্গে নাচবে।” একই দিনে চিনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।

    ভয় পাচ্ছে আমেরিকা!

    ১৯৬২-র যুদ্ধ এবং ১৯৬৭-র সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করে। সে বছর ডোকলামে টানা ৭৩ দিন দু’দেশের বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পরে কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হয়। এর পর ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে সংঘর্ষ হয় ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনের বাহিনীর। তার পরে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরেছে। ভারত এবং চিনের কূটনৈতিক শৈত্য অনেকটাই কেটে গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা শান্ত। পাশাপাশি কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু, সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন এবং ভিসা সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। সেই আবহে দু’দেশের মধ্যে সরাসরি উড়ান পরিষেবা চালু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের আবহে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। কড়া বার্তা দিয়েছে আমেরিকাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জিনপিঙের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    ভারত-এর গুরুত্ব

    আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এমনটাই মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সোমবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, “সফল ভারতই পারে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, উন্নত এবং নিরাপদ করে তুলতে।” এই আবহে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামার মাঝেই প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের। চিন ও আমেরিকার এই বার্তাই বুঝিয়ে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের স্থান।

  • India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে চলে এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল (India US Trade Deal)। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে মার্কিন সেনেটর টেড ক্রুজের একটি অডিও রেকর্ডিং। ওই রেকর্ডিংয়ে টেক্সাসের রিপাবলিকান এই সেনেটর বাণিজ্যনীতি ও থমকে থাকা ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি নিয়ে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance), হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারো এবং কখনও কখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ মিনিটের ওই অডিওটি এক রিপাবলিকান সূত্র শেয়ার করেছে। এটির সময়কাল ২০২৫ সালের শুরু ও মধ্যভাগ। এতে ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে ক্রুজ নিজেকে ঐতিহ্যবাহী, মুক্তবাণিজ্যপন্থী ও হস্তক্ষেপমূলক নীতিতে বিশ্বাসী রিপাবলিকান হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থানের বিরোধিতা করেন, যা সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রাইমারির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা (India US Trade Deal)

    অডিওতে ক্রুজ ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা করে সতর্ক করেন যে, এই নীতি মার্কিন অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে শুল্ক আরোপের পর তিনি ও কয়েকজন সেনেটর গভীর রাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি ফোনালাপে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তবে সেই আলোচনা ভালোভাবে শেষ হয়নি (India US Trade Deal)। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রুজ দাতাদের জানান মধ্যরাত পেরিয়ে যাওয়া ওই ফোনালাপে ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করেন এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। ক্রুজ বলেন, “ট্রাম্প সেদিন খুব খারাপ মেজাজে ছিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে এমন কথোপকথনেও ছিলাম, যখন তিনি খুব খুশি ছিলেন। কিন্তু এটি সেরকম ছিল না।”

    সতর্ক করেছিলেন প্রেসিডেন্টকে

    ক্রুজ আরও জানান, তিনি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে যদি অবসরভিত্তিক বিনিয়োগ হিসেব ৩০ শতাংশ কমে যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ নেমে আসবে। ক্রুজের ভাষায়, তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, “আপনি প্রতিনিধি পরিষদ হারাবেন, সেনেট হারাবেন, আর পরবর্তী দু’বছর প্রতি সপ্তাহে একবার করে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হবেন (JD Vance)।” এর প্রেক্ষিতে ট্রাম্প খুবই খারাপ কথা বলেছিলেন। ক্রুজ প্রশাসনের শুল্ক আরোপকে ‘লিবারেশন ডে’ বা ‘মুক্তির দিন’ নামে ব্র্যান্ডিং করার বিষয়টিও ব্যঙ্গ করেন। এক দাতা ওই শব্দবন্ধ ব্যবহার করলে ক্রুজ মন্তব্য করেন, তাঁর দলে কেউ এই শব্দটি ব্যবহার করলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করা হত।

    ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ

    ক্রুজের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ। তিনি দাতাদের বলেন, চুক্তিটি এগিয়ে নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং যারা এই ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তাঁদের নামও উল্লেখ করেন (India US Trade Deal)। আমেরিকার অগ্রগতি কে আটকে দিচ্ছে, এই প্রশ্নে ক্রুজ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিটার নাভারো, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং কখনও কখনও স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামও নেন। রেকর্ডিংয়ে ক্রুজ বারবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে রক্ষণশীল পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কার্লসন বিদেশনীতি বিতর্কে হস্তক্ষেপবিরোধী ও ইহুদিবিদ্বেষী অবস্থানকে উসকে দিচ্ছেন এবং ভ্যান্স মূলত কার্লসনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ক্রুজ বলেন, “টাকারই জেডিকে তৈরি করেছে। জেডি টাকারের শিষ্য, আর তারা দু’জন একই (JD Vance)।”

    যদিও ক্রুজ গত কয়েক মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে কার্লসনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন, এবং অডিও রেকর্ডিংটি দেখায় যে ব্যক্তিগতভাবে তিনি কার্লসন ও ভ্যান্সের মধ্যে আরও স্পষ্ট ও কঠোর সীমারেখা টেনেছেন, যা প্রকাশ্যে তিনি এতটা স্পষ্ট করেননি, যদিও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই পডকাস্টারের বন্ধুত্ব সুপরিচিত (India US Trade Deal)।

  • Donald Trump: ডাহা ফেল ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিসে’র প্রচেষ্টা, কেন জানেন?

    Donald Trump: ডাহা ফেল ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিসে’র প্রচেষ্টা, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে (Davos) গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সেই সফর শেষমেশ এক বড়সড় ব্যর্থতায় পরিণত হল। ইউরোপীয় দেশগুলির ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার মুখে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর দাবিতে পিছু হটতে বাধ্য হওয়ার পর, গাজা সঙ্কট নিয়ে তাঁর প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগটিও সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে গেল (Donald Trump)। ট্রাম্প এই বোর্ডে যোগ দিতে প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বের অধিকাংশ প্রভাবশালী দেশই এই উদ্যোগ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশগুলির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই বোর্ডে যোগ দিতে রাজি হয়।

    উচ্চাভিলাষী ট্রাম্প (Donald Trump)

    গাজায় যুদ্ধবিরতি দিয়ে বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যে নতুন সংস্থাটি গঠনের কথা ছিল, সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া মাত্র ১৯টি দেশের অংশগ্রহণে যাত্রা শুরু করেছিল। ট্রাম্প যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, বাস্তবে তা তার ধারেকাছেও পৌঁছায়নি। ভারত, চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তিগুলি এই বোর্ডে যোগ দেয়নি।২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সময় বৃহস্পতিবার সকালে দাভোসে ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বোর্ড অব পিসে’র সূচনা করেন। বিশ্বের সব মহাদেশের বহু দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও, সিংহভাগ দেশই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমেরিকা-সহ মোট ২০টি দেশ উপস্থিত ছিল। যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আগে দাবি করা হয়েছিল, আমন্ত্রিত ৬০টি দেশের মধ্যে অন্তত ৩৫টি দেশ যোগ দেবে, বাস্তবে সেই সংখ্যা ছিল ঢের বেশি কম (Davos)।

    পশ্চিম ইউরোপীয় দেশই এই বোর্ডে যোগ দেয়নি

    উল্লেখ্য যে, কোনও পশ্চিম ইউরোপীয় দেশই এই বোর্ডে যোগ দেয়নি, যা গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপের বাড়তে থাকা দূরত্বকেই স্পষ্ট করে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যে ১৯টি দেশ এই বোর্ডে যোগ দিয়েছে এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল, তারা হল,  আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরিন, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডন, কাজাখস্তান, কসোভো, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) এবং উজবেকিস্তান (Donald Trump)। আলবেনিয়া, বেলারুশ এবং ভিয়েতনাম বোর্ডে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল, কিন্তু দাভোসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওই দেশগুলিরই কোনও শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না (Davos)।

    বোর্ড ভবিষ্যত রাষ্ট্রসংঘের

    পর্যবেক্ষকদের মতে, মূলত মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিই এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। লক্ষণীয় বিষয় হল, এই তালিকার বহু দেশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয় এবং বেশ কয়েকটি দেশ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ, যেখানে ইসলামি আইনের ভিত্তিতে শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। যে দেশগুলি এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে, তাদের মধ্যে কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। অনেক দেশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই বোর্ড ভবিষ্যতে রাষ্ট্রসংঘের (ইউএন) ভূমিকা খর্ব করার চেষ্টা করতে পারে। আবার কয়েকটি দেশ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়েও আপত্তি তুলেছে। যদিও পুতিন নিজেও এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন, এই বিষয়ে রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে এখনও আলোচনা চলছে (Donald Trump)।

    রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প 

    ব্রিটেন নিশ্চিত করেছে যে তারা বোর্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে না। ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা এই বোর্ডে যোগ দেবে না, কারণ এটি রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। নরওয়ে, সুইডেন, স্লোভেনিয়া এবং চিনও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা এই বোর্ডে যোগ দিচ্ছে না। অন্য অনেক দেশ কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও বৃহস্পতিবার বোর্ডে যোগ দেয়নি। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, জার্মানি, ইতালি, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ আরও বহু দেশ (Davos)। তবে ট্রাম্প আশাবাদী যে ভবিষ্যতে আরও দেশ তাঁর এই বোর্ডে যোগ দেবে। তিনি বলেন, “একবার এই বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হয়ে গেলে, আমরা কার্যত যা চাই তাই করতে পারব। এবং তা আমরা রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই করব।”

    ‘বোর্ড অব পিস’

    গাজার জন্য গঠিত এই ‘বোর্ড অব পিস’ পশ্চিম এশিয়া সংক্রান্ত ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য গাজা যুদ্ধের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের তদারকি করা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম এই প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল গাজা সংঘাতের অবসান ঘটানোর একটি উপায় হিসেবে। তবে বর্তমানে এটি আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার একটি বৃহত্তর মঞ্চের রূপ নিতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বোর্ডটির এক্সিকিউটিভ কমিটি গাজার স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির তদারকি করবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগ, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ সংগ্রহ এবং বৃহৎ পরিসরের অর্থায়ন (Donald Trump)।

    উল্লেখ্য যে, এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ঐচ্ছিক সদস্য ফি ধার্য করা হয়েছে। যে দেশগুলি এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে, তারাই স্থায়ী সদস্যপদ পাবে। আর যারা অর্থ দিতে পারবে না, তারা তিন বছরের জন্য (Davos) সদস্য হিসেবে থাকতে পারবে। তবে বোর্ডে যোগ দেওয়ার সময় কোনও দেশ এই ফি দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য জানা যায়নি (Donald Trump)।

     

  • India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ব্যস্ত। ব্যস্ত তার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লক্ষ্যপূরণে ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধকে আরও মজবুত করার ভাবনায় মজে (India)। বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি, শুল্কযুদ্ধের ‘বাজুকা’ ছোড়া এবং লেনদেনভিত্তিক চুক্তিতে ঝোঁক, এ সবই তার বহিঃপ্রকাশ। ফলস্বরূপ, বিশ্বে স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে আমেরিকার ঐতিহ্যগত ভূমিকা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রভাব এখন আটলান্টিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত স্পষ্ট।

    নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন (India)

    দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার শক্তিগুলি নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন করছে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দুটি আলগা কিন্তু ক্রমশ আলোচিত কৌশলগত অক্ষ মাথা তুলতে শুরু করেছে। একটি গড়ে উঠছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে। অন্যটি গড়ে উঠছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও ইজরায়েলকে কেন্দ্র করে, যার কৌশলগত প্রান্তে রয়েছে গ্রিস ও সাইপ্রাস। এগুলির কোনওটিই এখনও আনুষ্ঠানিক জোট নয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে হওয়া ইঙ্গিতপূর্ণ চুক্তি, কূটনৈতিক বার্তা ও কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পুরানো জোটব্যবস্থা ভেঙে নতুন ও কার্যকর সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এসবই হচ্ছে সরকারি ঘোষণার তুলনায় অনেক দ্রুত।

    স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট

    এই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (SMDA)। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে তৈরি এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি রিয়াধের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন, কারণ এতদিন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দ্বিপাক্ষিক ও মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভর (India)। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং ট্রাম্প আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় থেকেই এই চুক্তির জন্ম। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে পরিচিত এই কাঠামোয় তুরস্কের আগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ব্লুমবার্গ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক এই জোটে যোগ দিতে ‘উন্নত পর্যায়ের আলোচনা’ চালাচ্ছে (UAE)।

    বাস্তব চিত্র

    যদিও রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা বলছে এই কাঠামো আদর্শগত নয়, প্রতিরক্ষামূলক, তবুও বাস্তব চিত্র উপেক্ষা করা কঠিন। সম্ভাব্য এই ত্রিপাক্ষিক জোটে এক ছাতার নীচে মিলিত হচ্ছে সৌদি আরবের আর্থিক শক্তি, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি। আঙ্কারাভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক টেপাভের বিশ্লেষক নিহাত আলি ওজচান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন দেশগুলিকে তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করছে (India)।” পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, এই চুক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সীমিত যুদ্ধের পর জোট মজবুত করার প্রয়াস। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের পক্ষে তুরস্কের সামরিক সমর্থন প্রকাশ্যে এসেছিল এবং নয়াদিল্লি তা লক্ষ্যও করেছিল। বহুদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে সৌদি আরবের জন্য এটি ওয়াশিংটনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা, বিশেষত ভৌগোলিক বাস্তবতা ও ‘ভাই’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের শীতলতার প্রেক্ষাপটে। আর তুরস্কের ক্ষেত্রে, এই ‘মুসলিম ন্যাটো’ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোর মধ্যেই রয়েছে (UAE)।

    ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’

    যদি সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক অক্ষ এক দিক হয়, তবে অন্য দিকে রয়েছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব (India)। ১৯ জানুয়ারি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রায় দু’ঘণ্টার ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লি ও আবুধাবি একটি ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’ সই করে। ভাষাগতভাবে এটি সংযত হলেও সময়টি মোটেই কাকতালীয় নয়। সৌদি–পাক অক্ষ নিয়ে আলোচনা ও অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই চুক্তি প্রকাশ্যে আসে। আমেরিকান লেখক ও সাংবাদিক মাইকেল ভাটিকিওটিস এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “তুরস্ক–সৌদি আরব–পাকিস্তান অক্ষের মোকাবিলায় ভারত ইউএই এবং পরোক্ষভাবে ইজরায়েলকে নিয়ে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক অক্ষ গড়ে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “এই নতুন অক্ষগুলির জন্ম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তির সঙ্কোচনের ফল হিসেবে।”

    আব্রাহাম চুক্তি

    এই অংশীদারিত্ব আব্রাহাম চুক্তির পর আরও শক্তিশালী হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউএই ও ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এটি ভারত–ইজরায়েল–ইউএই– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে পূর্বে গঠিত (I2U2) জোট কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারত ইতিমধ্যেই ইজরায়েল থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করে এবং যৌথ উৎপাদনেও যুক্ত। দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চালায়। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ইজরায়েল প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাঁড়ায়। ইউএইর (UAE) কাছে ভারত ইয়েমেন, আফ্রিকা ও কৌশলগত লোহিত সাগর অঞ্চলে সৌদি প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি (India)। এই পাল্টা জোট কেবল পশ্চিম ভারত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে তুরস্কের আগ্রাসী অবস্থানের বিরুদ্ধে কৌশলগত সমন্বয় বাড়াচ্ছে  গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইজরায়েল। ২০২৪ সালে ব্রিটেনভিত্তিক ইউরোপিনিয়নের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত ৩+১ ত্রিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে (ইজরায়েল–গ্রিস–সাইপ্রাস) ভারতকে আমন্ত্রণ জানায় ইজরায়েল।

    জোট গড়ছে আঞ্চলিক শক্তিগুলি

    এয়ার মার্শাল অবসরপ্রাপ্ত অনিল চোপড়া ‘ইউরেশিয়ান টাইমসে’ লেখেন, এই গোষ্ঠীটি ভবিষ্যতে ইউএইকেও (UAE) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অ্যাজেন্ডায় রয়েছে যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, যা চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী (India)। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্ক–পাকিস্তান–সৌদি অক্ষ শুধু ভারতের জন্য নয়, ইজরায়েল, আর্মেনিয়া ও সাইপ্রাসের জন্যও চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোট গড়ে ওঠেনি। আমেরিকা ভেতরের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, ইউরোপ বিভক্ত। ফলে আঞ্চলিক শক্তিগুলি আর দিকনির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে না, তারা নিজেদের মতো করে জোট গড়ছে, হিসাব কষছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে (UAE)। এই অক্ষগুলি এখনও তরল এবং অনানুষ্ঠানিক হলেও, ভবিষ্যতের কৌশলগত রূপরেখা যে নতুন করে লেখা হচ্ছে, তা স্পষ্ট (India)।

     

  • Donald Trump: “ইরান যদি ভুল কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকা আবারও শক্ত হাতে জবাব দেবে”, আয়াতুল্লাকে ফের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    Donald Trump: “ইরান যদি ভুল কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকা আবারও শক্ত হাতে জবাব দেবে”, আয়াতুল্লাকে ফের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানকে ঘিরে ফের কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, ইরান (Iran) যদি আবার পরমাণু পরীক্ষার কর্মসূচিকে সক্রিয় করার চেষ্টা করে অথবা দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও রক্তাক্ত আকার নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে। এদিন ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণেই ইরান সরকার শত শত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি ভুল কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকা আবারও শক্ত হাতে জবাব দেবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েন (Donald Trump)

    ইরানের (Iran) ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র (Donald Trump) ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে বিরাট পরিমাণে সামরিক শক্তি মোতায়েন শুরু করেছে। পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর অঞ্চলে একাধিক এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, গাইডেড মিসাইলবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে। ফলে ইরান সরকারের প্রধান আয়াতুল্লা খামেনিকে ভাবতেই হচ্ছে।

    পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্র দেশগুলিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন প্যাট্রিয়ট ও থাড মোতায়েন করছে, যাতে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা প্রতিহত করা যায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার চেয়ে বেশি শক্তি প্রদর্শন এবং কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছাড়া আর কিছুই না।

    ইরানের ভেতরে বিক্ষোভ ও দমন অভিযান

    ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের রূপ নেয়। ইসলাম ধর্মগুরু খোমেনির ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

    তবে ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অপর দিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বহু ক্ষেত্রে কঠোর সাজা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) এই কঠোর দমন নীতির অভিযানকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ইরান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

    ইরানের পাল্টা বার্তা

    যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে ইরানও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান (Iran) সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, আমাদের দেশ সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত। যে কোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে আমরা ট্রিগারে আঙুল রেখে দিয়েছি। একই ভাবে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উস্কে দিচ্ছে এবং সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। বাইরের শক্তির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে।

    কেন এখন ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের (Donald Trump) চাপ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—

    • ইরানের ভেতরে চলমান বিক্ষোভ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি
    • ইরানের (Iran) সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবনের আশঙ্কা
    • মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশেরদের নিরাপত্তা উদ্বেগ

    ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি পারমাণবিক পথে ফেরে, তাহলে তা গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। তাই আরও কড়া মনোভাব ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।

    হামলা হলে কী হতে পারে?

    যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে তা ধাপে ধাপে হতে পারে। প্রথমে সীমিত আকারে সতর্কতামূলক হামলা, এরপর ইরানের সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র বা ড্রোন পরিকাঠামো লক্ষ্য করা হতে পারে। চরম পরিস্থিতিতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলিও নিশানায় আসতে পারে।

    ইজরায়েলের সম্ভাব্য ভূমিকা

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হলে ইজরায়েলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকতে পারে। ইজরায়েল ইরানকে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করে। ফলে সংঘাত বাড়লে ইজরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান যদি পরমাণু শক্তিধর দেশ হয়ে যায় তাহলে ইহুদীয়ের ধর্মীয় অস্তিত্বে সবথেকে বড় সঙ্কটে নেমে আসবে।

    সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র (Donald Trump) ও ইরানের  (Iran) মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। এখনও পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধ শুরু না হলেও সামরিক প্রস্তুতি, কড়া হুঁশিয়ারি ও পাল্টা বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকে নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।

  • Tesla: ট্রাম্পের শুল্ক-চাপের মধ্যেই ভারত থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ সংগ্রহ দ্বিগুণ করল টেসলা

    Tesla: ট্রাম্পের শুল্ক-চাপের মধ্যেই ভারত থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ সংগ্রহ দ্বিগুণ করল টেসলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ সংগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াল মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা (Tesla)। ২০২৫ সালে টেসলা ভারতীয় অটো কম্পোনেন্ট নির্মাতাদের কাছ থেকে আনুমানিক ৪ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে ইলন মাস্কের সংস্থা, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী

    সূত্রের খবর, চলতি বছরে ভারত থেকে যন্ত্রাংশ কেনায় টেসলার মোট ব্যয় ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারে পৌঁছতে পারে। তুলনায় ২০২৩ সালে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। চিন ও তাইওয়ানের মতো প্রচলিত উৎপাদন কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করার কৌশলের সঙ্গে এই পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। শিল্প মহলের মতে, উত্তর আমেরিকার বাইরে টেসলার দ্রুততম বর্ধনশীল সোর্সিং হাবগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ভারত। একাধিক ভারতীয় টিয়ার-১ কম্পোনেন্ট সরবরাহকারী ইতিমধ্যেই ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন সংস্থাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। গত এক বছরে টেসলা ভারত থেকে যে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে, তার পরিমাণ বহুগুণে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই বৃদ্ধি টেসলার অভ্যন্তরীণ কোডনেমযুক্ত প্রকল্প “রেডউড”-এর সঙ্গে যুক্ত। এটি একটি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ি, যা একটি কমপ্যাক্ট ক্রসওভার হিসেবে বিশ্ববাজারে আনার প্রস্তুতি চলছে। এই এন্ট্রি-লেভেল মডেলের সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার কারণেই বহু বিলিয়ন ইউরোর কম্পোনেন্ট অর্ডার তৈরি হয়েছে, যার বড় অংশ পূরণ করছে ভারতীয় সরবরাহকারীরা।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িক শুল্কজনিত চাপের তুলনায় টেসলার (Tesla) সোর্সিং সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলছে খরচে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা, প্রকৌশল দক্ষতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মোবিলিটির ডিরেক্টর পুনীত গুপ্ত বলেন, “ভারতীয় সরবরাহকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব টেসলার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে খরচ কমে, দ্রুত লোকালাইজেশন সম্ভব হয় এবং চিনের ওপর নির্ভরতা কমে। অন্যদিকে, ভারতীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও এটি লাভজনক। টেসলার সঙ্গে কাজ করা বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে টেসলার সঙ্গে কাজ করা ভারতীয় সংস্থাগুলোর গুরুত্ব বাড়ে।” ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক বাড়ানোর ফলে নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা তৈরি হলেও, ভারতীয় সরবরাহকারীদের সঙ্গে টেসলার সম্পর্ক অটুট রয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

  • PM Modi: ট্রাম্প-ফাঁদে পা দেননি মোদি, ইউরোপীয়রা এখনও ‘শিখছেন’ খামখেয়ালি ডোনাল্ডের কাছে!

    PM Modi: ট্রাম্প-ফাঁদে পা দেননি মোদি, ইউরোপীয়রা এখনও ‘শিখছেন’ খামখেয়ালি ডোনাল্ডের কাছে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যদি আপনার ওপর ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও রেহাই পান না। মঙ্গলবার সেটাই কঠিনভাবে বুঝে নিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এবং ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট (PM Modi)। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ট্রাম্প এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন প্রেমিকের মতো তাঁদের ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ্যে এনে ফেলেন। এমনকি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্বের ঢাক পেটানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চাগোস দ্বীপ চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের কাছে ‘ভয়ঙ্কর বোকামি’র জন্য তীব্র ভর্ৎসিত হন।

    ট্রাম্পের কাছে আনুগত্য (PM Modi)

    এই ঘটনাগুলি এক নির্মম সত্য সামনে এনে দিয়েছে। সেটি হল ট্রাম্পের কাছে আনুগত্য মানেই সম্মান নয়। ঠিক এখানেই ট্রাম্পের অস্থির বাণিজ্য-কূটনীতির মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কৌশলগত নীরবতা ও সুচিন্তিত পদক্ষেপ ভারতকে ‘ট্রাম্প-ফাঁদ’ এড়াতে সাহায্য করেছে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। নতুন বছর শুরু হতেই ট্রাম্পের দৃষ্টি পড়ে গ্রিনল্যান্ডের ওপর। ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তনের পদক্ষেপে উৎসাহিত হয়ে তিনি আরও আগ্রাসী হন। নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতা দখলের ঘটনায় বিশ্ব যখন বিস্ময়ে তাকিয়ে, তখন ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ছিল নরম (PM Modi)। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প যখন ইউরোপেরই এক সদস্য রাষ্ট্রকে নিশানা করে এবং ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর হুমকি দেন, তখন ইউরোপ বুঝে যায় এক কঠিন বাস্তবতা, ট্রাম্প বন্ধুত্বে বিশ্বাস করেন না, তিনি আদতেই একজন ব্যবসায়ী।

    সাতটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের ওপর শুল্ক চাপানো

    ব্রিটেন এবং আরও সাতটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের ওপর শুল্ক চাপানো হয়েছে, যদিও ট্রাম্প গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। অর্থাৎ, বাণিজ্য চুক্তি বা মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার খুলে (Donald Trump) দিলেও ভবিষ্যতের শুল্ক থেকে রেহাই নিশ্চিত নয় (PM Modi)। এহেন প্রেক্ষাপটে ভারত অনেক আগেই সেই বাস্তবতা বুঝে ফেলেছিল, যা ইউরোপ এখন অনুভব করছে। অনিশ্চিত ‘ট্রাম্প ২.০’-এর যুগে শুল্ক শুধু বাণিজ্যিক অস্ত্র নয়, বরং ব্যক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সব সময়ের হাতিয়ার। এই কারণেই মার্কিন চাপ সত্ত্বেও এবং ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপের মুখে পড়েও, ভারত তড়িঘড়ি করে কোনও বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেনি।

    ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ

    ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্কের হুমকি দিয়ে তিনি ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামিয়েছেন। ভারত দ্রুত বুঝতে পারে, এটি ছিল ট্রাম্পের ভূরাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন এবং নিজের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল (PM Modi)। ভারত স্পষ্ট জানায়, সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। পাকিস্তান যেখানে ট্রাম্পের তথাকথিত ‘মধ্যস্থতা’কে স্বাগত জানিয়েছিল, ভারত সেখানে সংযত কিন্তু দৃঢ় অবস্থান নেয়। সরাসরি ট্রাম্পকে আক্রমণ না করেও ভারত তার অবস্থান বজায় রাখে। গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়। তার পরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট জানান, যুদ্ধবিরতিতে আমেরিকার কোনও ভূমিকা ছিল না এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়েও আলোচনায় যাননি, পাকিস্তানের মতো অতিরিক্ত তোষামোদ না করেই।

    ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ

    এরই পরিণতি দ্রুত আসে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপান, যার মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও ছিল। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই শুল্কের হার মাত্র ১৯ শতাংশ। চিনের মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, যা আগের মার্কিন প্রশাসনগুলি সযত্নে গড়ে তুলেছিল, তা-ও টলমল করতে শুরু করে (PM Modi)।তারপরেও ভারত ধৈর্য ধরেছে। শুল্ক আরোপের (Donald Trump) পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা তাঁর মন্ত্রীরা ট্রাম্পের সঙ্গে বাকযুদ্ধে নামেননি। যদিও ট্রাম্পের সহযোগীরা প্রতিদিন নতুন অপমানসূচক মন্তব্য করছিল। ভারতকে ‘ক্রেমলিনের মানি লন্ড্রোম্যাট’ বলা থেকে শুরু করে ‘রক্তের টাকা’র অভিযোগ পর্যন্ত নানা ‘সম্ভাষণে’ ভূষিত করেছিল তাঁকে। এদিকে ট্রাম্প নিজে মোদির প্রশংসা চালিয়ে যান, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ‘প্রিয়’, ‘সত্যিকারের’, ‘মহান’ বন্ধু বলে উল্লেখ করেন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

    ভারত এই ভালো পুলিশ–খারাপ পুলিশ খেলায় পা দেয়নি। শুল্কের চাপ সত্ত্বেও কৃষি ও দুগ্ধ খাত খুলে দেওয়ার মতো একতরফা চুক্তিতে সই করেনি। বন্ধ করেনি রাশিয়া থেকে তেল আমদানিও। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগও ছিন্ন করেনি। পীযূষ গোয়েল এবং এস জয়শঙ্করের মতো মন্ত্রীরা নেপথ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যান। দেশে বিরোধীদের আক্রমণের মধ্যেই মোদি ‘স্বদেশি’র ডাক দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থপরতার মোকাবিলা করেন (PM Modi)। তবে ভারত নিজেকে দুর্বলও হতে দেয়নি। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে মোদির চিন সফর ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একান্তে একই গাড়িতে সফর ছিল একটি স্পষ্ট বার্তা -ভারতের সামনে রয়েছে বিকল্প কৌশলগত পথ। এটাই ভারতের বহু দশকের অ-সংযুক্ত বিদেশনীতির ভিত্তি।

    আংশিক বাণিজ্য

    একই সময়ে ভারত ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড ও ওমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি বড় চুক্তিও শীঘ্রই আসছে। নিঃশব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালশস্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ভারত, যদিও এনিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বয়ান নিয়ন্ত্রণ। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৭ জুনের পর মোদি চারবার ট্রাম্পের ফোন এড়িয়ে যান। কারণ, আংশিক বাণিজ্য চুক্তির ফল যে ট্রাম্প অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করতে পারেন, এ বিষয়ে ভারত সচেতন ছিলই (Donald Trump)। শেষ পর্যন্ত ১৭ সেপ্টেম্বর, মোদির জন্মদিনে ফোনালাপ হলে, ভারতই প্রথম নিজের বক্তব্য প্রকাশ করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠকারী পোস্টের জন্য পরিচিত ট্রাম্পকে তাঁর নিজের খেলায় হারানোর এটিই ছিল কৌশল।

    ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁসের অপমান

    মাক্রোঁ যদি মোদির পথ অনুসরণ করতেন, তবে হয়তো ট্রাম্পের হাতে ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁসের অপমান এড়াতে পারতেন। সব মধুর কথাবার্তা ও চুক্তির পরেও পাকিস্তানও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিত তালিকা থেকে বাদ পড়েনি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সংযম ও দৃঢ়তার ভারসাম্যই ভারতকে ট্রাম্প-ফাঁদ এড়াতে সাহায্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকও স্বীকার করেছেন, মোদি সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে না চাওয়ায় চুক্তি হয়নি (PM Modi)। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফারিদ জাকারিয়াও ভারতের কৌশলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ট্রাম্প অস্থির ও খামখেয়ালি। তাই তাঁকে সামলাতে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ইউরোপ-আমেরিকার বর্তমান টানাপোড়েন প্রমাণ করেছে যে ভারতের সতর্ক কৌশল সময়োপযোগী। প্রকাশ্য আক্রমণ নয়, বরং স্বার্থ রক্ষা ও নেপথ্য কূটনীতি, এটাই ছিল ভারতের পথ। ট্রাম্পের কোনও স্থায়ী ব্যক্তিগত আনুগত্য নেই। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য, পরবর্তী লাভজনক চুক্তি। ভারত সেটা অনেক আগেই বুঝেছিল (Donald Trump)। ইউরোপ এবং অন্যরা এখনও নিত্য তাঁর কৌশল শিখে চলেছে। এই কারণেই এগিয়ে ভারত (PM Modi)।

  • Donald Trump: আট ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা ট্রাম্পের

    Donald Trump: আট ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছের বিরোধিতা করায় এবার আটটি ইউরোপীয় দেশের (European Countries) বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক-সহ সাতটি ইউরোপীয় দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে কেনার বিষয়ে কোনও চুক্তি না হলে, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে সেই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

    গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অধিকার (Donald Trump)

    ডেনমার্ক ছাড়াও যে সাতটি দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হবে, সেগুলি হল নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড। এসব দেশ গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছে।ট্রাম্প বলেন, “২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই সব দেশ ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।”

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা

    ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে এসব দেশ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলিকে তিনি বিপজ্জনক বলে মনে করেন। জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক শান্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর প্রতিক্রিয়ায়ই এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। ট্রাম্প ডেনমার্কের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, দেশটি মাত্র দুটি কুকুর-টানা স্লেজকে নিরাপত্তা হিসেবে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, চিন ও রাশিয়া দ্বীপটির জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠছে (Donald Trump)।

    গ্রিনল্যান্ড সফর

    ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প দাবি করেন (European Countries), এসব দেশের সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড সফর আমাদের গ্রহের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অস্তিত্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি এও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র গত ১৫০ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা করে আসছে। বহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই ডেনমার্ক তা প্রত্যাখ্যান করেছে।” ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কোনও শুল্ক আরোপ না করেই এসব দেশকে ভর্তুকি দিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতার সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করেন এবং বলেন, “সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় গ্রিনল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি (European Countries)।”

    কী বললেন ট্রাম্প

    ট্রাম্প বলেন, “এখন গোল্ডেন ডোম এবং আধুনিক যুগের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রব্যবস্থার কারণে অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ‘দ্য ডোম’-সংক্রান্ত নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শত শত বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, যার মধ্যে কানাডার সম্ভাব্য সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত। এই অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু জটিল ব্যবস্থা কোণ, পরিমাপ ও সীমানার কারণে কেবল তখনই সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও দক্ষতায় কাজ করতে পারে, যখন এই ভূখণ্ড এর অন্তর্ভুক্ত হয় (Donald Trump)।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “ডেনমার্ক এবং অথবা সংশ্লিষ্ট যে কোনও দেশের সঙ্গে এই বিষয়ে অবিলম্বে আলোচনায় বসতে আমেরিকা প্রস্তুত।” তাঁর অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দান-সহ যা কিছু করেছে, তা সত্ত্বেও এসব দেশ অনেক কিছু ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে (European Countries)।

     

  • Donald Trump: আমেরিকার ডালের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ভারতের, মোদির সঙ্গে কথা বলতে ট্রাম্পকে চাপ মার্কিন কৃষকদের

    Donald Trump: আমেরিকার ডালের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ভারতের, মোদির সঙ্গে কথা বলতে ট্রাম্পকে চাপ মার্কিন কৃষকদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হলুদ মটরের ওপর ৩০% শুল্ক আরোপের পর, মার্কিন সেনেটররা তাঁদের রাষ্ট্রপতির কাছে উত্তর ডাকোটা এবং মন্টানার ডাল চাষিদের পক্ষে আলোচনার জন্য চিঠি লিখেছেন। ১৬ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) লেখা একটি চিঠিতে, সেনেটর কেভিন ক্র্যামার এবং স্টিভ ডেইনস তাঁদের রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করে বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে (PM Modi) মার্কিন সরকার স্বাক্ষরিত যে কোনও চুক্তিতে ডাল ফসলের ক্ষেত্রে শুল্কের বিষয়ে যেন গঠনমূলক আলোচনা হয়।”

    বিশ্বের মোট ডালের ২৭% আমদানি করে ভারত (Donald Trump)

    চিঠিতে আরও উল্লেখ করে বলা হয়, “উত্তর ডাকোটা এবং মন্টানা হল ডাল ফসলের সবচেয়ে বেশি উৎপাদক কেন্দ্র। আর এই ডালে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বলা হয়েছে বিশ্বের মোট ডালের ২৭% এরও বেশি ব্যবহার করে ভারত। তবে ভারত গত বছরের ৩০ অক্টোবর ঘোষণা করেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হলুদ মটরের উপর ৩০% শুল্ক আরোপ করবে। এই শুল্ক ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ফলে উত্তর ডাকোটা এবং মন্টানার কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

    ক্র্যামার এবং ডেইনস আরও অনুরোধ করেন, “ট্রাম্পের (Donald Trump) উচিত ডাল ফসলের শুল্কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) সঙ্গে আলোচনা করা, যাতে মার্কিন কৃষকরা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করতে পারে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৩ সালে, ভারত মার্কিন ডালের ওপর কিছু ছাড় দিয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক মার্কিন শুল্ক সেই সুবিধা বাতিল করে দিয়েছে এবং মার্কিন ফসলের ওপর ভারতের শুল্ক মার্কিন কৃষকদের ওপর প্রভাব ফেলছে।

    সেনেটরদের চিঠিটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের ১ নভেম্বরে শুল্ক আরোপ করার কারণ হল ২০২৫ সালের অগাস্টে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছিলেন। ফলে ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া হল ভারতের পাল্টা শুল্ক আরোপ।

    মার্কিন মটরের ওপর ভারতের ৩০% সংশোধনমূলক শুল্ক দেশীয় সংবাদ মাধ্যমের নজর এড়িয়ে গেলেও। সেনেটরদের এই চিঠিটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা কতটা প্রয়োজন তা আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্পের (Donald Trump) আরোপিত অন্যায্য শুল্কের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ মার্কিন কৃষকরা যে চাপের মুখে ফেলেছেন তা আরও একবার প্রমাণিত।

  • Donald Trump: ট্রাম্পের হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার তুলে দিলেন মাচাদো! আদৌ হস্তান্তর করা যায়? কী বলছে নিয়ম?

    Donald Trump: ট্রাম্পের হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার তুলে দিলেন মাচাদো! আদৌ হস্তান্তর করা যায়? কী বলছে নিয়ম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাঁর স্বপ্ন ছিল নোবেল শান্তি পুরস্কার হস্তগত করা। কিন্তু তাঁর সেই কাঙ্খিত নোবেল পুরস্কার অধরাই রয়ে গিয়েছে। শেষমেশ অবশ্য দুধের স্বাদ ঘোলেই মেটালেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। হোয়াইট হাউসে গিয়ে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো (Maria Corina Machado) যখন তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন, তখন সেই মুহূর্তে ট্রাম্পের মুখে ছিল অর্থবহ এক হাসি। এই সম্মান বহুদিন ধরেই তাঁর হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা, এবং তিনি কখনওই তা প্রকাশ্যে চাওয়ার ব্যাপারে পিছপা হননি। পুরস্কার হাতে নিয়ে এক গাল হাসি হেসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “দারুণ এক সৌজন্যমূলক পদক্ষেপ।”

    নোবেল পুরস্কার আদৌ হস্তান্তর করা যায়? (Donald Trump)

    মাচাদো শুধু ট্রাম্পকে পদকটি উপহারই দেননি, তিনি সেটি হোয়াইট হাউসেই রেখে গিয়েছেন। ট্রাম্পও প্রকাশ্যেই তা গ্রহণ করেন এবং একে পারস্পরিক সম্মানের প্রতীকী রূপ বলে অভিহিত করেন। নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজের পদক অন্য কারও হাতে তুলে দিলেন। প্রশ্ন হল, এভাবে কি নোবেল পুরস্কার আদৌ হস্তান্তর করা যায়? মাচাদোর হোয়াইট হাউস সফরের কয়েক দিন আগেই এই বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছিল নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট। রবিবার প্রতিষ্ঠানটি আবারও জানায়, নোবেল শান্তি পুরস্কার কখনও হস্তান্তর, ভাগ বা প্রত্যাহার করা যায় না। ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কারটি ট্রাম্পকে দিতে পারেন। তাঁর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই বিষয়টি পুনরায় স্পষ্ট করা হয় (Donald Trump)।

    নোবেল কমিটির বক্তব্য

    এক বিবৃতিতে নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট জানায়, নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও স্থায়ী। নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধির উল্লেখ করে তারা জানায়, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও আপিলের সুযোগ নেই। পাশাপাশি তারা জানায়, পুরস্কার পাওয়ার পর কোনও বিজয়ীর বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড নিয়ে (Maria Corina Machado) নোবেল কমিটি কোনও মন্তব্য করে না। বিবৃতিতে বলা হয়, “একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়ে গেলে তা আর কখনও প্রত্যাহার, ভাগ বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত এবং চিরস্থায়ী।”

    নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট যৌথভাবে এই মন্তব্য করে। নোবেল শান্তি পুরস্কার, যাকে সব নোবেল পুরস্কারের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করা হয় এবং যা মানবজাতির সর্বাধিক কল্যাণে অবদান রাখা ব্যক্তিদের দেওয়া হয়, চলতি বছর মাচাদোকেই দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে তিনি ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তিনি এই পুরস্কারটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেবেন (Donald Trump)।

    পরবর্তী কালে মাচাদো জানান, এই উপহার তিনি দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি হিসেবে (Maria Corina Machado)। হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর মাচাদো বলেন, “আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি উপহার দিয়েছি। আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর ব্যতিক্রমী অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবেই, তাঁকে এই উপহারটি দিয়েছি।” বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, “মারিয়া আমার করা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কারটি আমায় দিয়েছেন। পারস্পরিক সম্মানের এক অসাধারণ রূপ। ধন্যবাদ, মারিয়া (Donald Trump)!”

LinkedIn
Share