Tag: Down Syndrome

  • Down Syndrome: একটি ক্রোমোজোমের হেরফেরেই বদলে যায় জীবন! কী এই ডাউন সিনড্রোম?

    Down Syndrome: একটি ক্রোমোজোমের হেরফেরেই বদলে যায় জীবন! কী এই ডাউন সিনড্রোম?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একটি ক্রোমোজোমের হেরফের! বদলে যায় জীবন! যাপনের ভঙ্গি! এমনকি বোঝার ও শেখার ক্ষমতাতেও পরিবর্তন আনে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে ডাউন সিনড্রোম। জন্মের সময় থেকেই শিশু এই সমস্যায় আক্রান্ত থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিকমতো যত্ন না নিলে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। অক্টোবর মাস ডাউন সিনড্রোম সচেতনতা মাস হিসাবে পালন করা হয়। এই সমস্যা সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে জানানো এবং সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবার ও সমাজ সচেতন ও সংবেদনশীল হলে তবেই ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবন যাপন সহজ হবে। সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবেন।

    ডাউন সিনড্রোম কী?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডাউন সিনড্রোম এমন একটি জিনগত অবস্থা, যা শিশুর শারীরিক বিকাশ, শেখার ক্ষমতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্মানো মানেই যে শিশু স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন, পড়াশোনা, খেলাধুলো কিংবা সামাজিক জীবনে অংশ নিতে পারবে না, তা নয়। সঠিক সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা, পরিবারের সহযোগিতা এবং উপযুক্ত সরকারি সহায়তা পেলে অনেক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যথেষ্ট স্বনির্ভর জীবন কাটাতে পারেন।

    কেন হয় ডাউন সিনড্রোম?

    মানুষের শরীরের কোষে সাধারণত ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, যা ২৩ জোড়ায় সাজানো। ক্রোমোজোমের মধ্যে থাকা জিন শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডাউন সিনড্রোমে সাধারণত ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের দুটি কপির বদলে তিনটি কপি থাকে। একে ট্রাইসোমি ২১ বলা হয়। এর ফলে শিশুর বিকাশের ধরনে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি কোষ বিভাজনের সময় আকস্মিকভাবে ঘটে। সাধারণত এটি প্রতিরোধ করার কোনও নির্দিষ্ট উপায় নেই। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গর্ভধারণের সময় মায়ের বয়স ৩৫ বা তার বেশি হলে ডাউন সিনড্রোমের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    প্রথম থেকে নেওয়া কোন পদক্ষেপ সহজ করবে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবন যাপন?

    প্রত্যেক শিশুর চাহিদা, বোঝার ক্ষমতা এবং মানিয়ে নেওয়ার শক্তি আলাদা! ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের ক্ষেত্রেও তাই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্তান ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত হলে প্রথম থেকেই অভিভাবকদের কয়েকটি পদক্ষেপ ভাবনা চিন্তা করে নেওয়া জরুরি। তাহলে ছোটো থেকেই তাদের জীবন যাপন অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।

    স্কুল নির্বাচনে বাড়তি নজরদারি!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এলাকার ভালো স্কুল বা নামী স্কুল হলেই চলবে না। ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত সন্তানের জন্য তার উপযুক্ত স্কুল নির্বাচন করতে হবে। স্কুলে ভর্তির সময়ে খেয়াল রাখতে হবে, বিশেষ শিশুকে দেখভাল করা এবং শেখানোর মতো উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন কিনা!
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর শেখার ক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক স্কুল, বিশেষ শিক্ষকের সাহায্য এবং ব্যক্তিগত শিক্ষণ পরিকল্পনা ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবনের বিকাশের কাজে বিশেষ সাহায্য করতে পারে। ছবি, খেলা, ছড়া, পুনরাবৃত্তি এবং ছোট ছোট নির্দেশের সাহায্যে শেখানো অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকর হয়। সন্তানের কোন দিকে শেখার আগ্রহ হচ্ছে, কীভাবে সেটা কার্যকর হয়, সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। তবেই আক্রান্ত শিশুর মানসিক বিকাশ সম্ভব।

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের সমস্যা ছাড়াও নানান শারীরিক জটিলতা থাকতে পারে। তাই ভোগান্তি রুখতে ও জীবন যাপন সহজ করতে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি, থাইরয়েড, দাঁত, বৃদ্ধি এবং ঘুমের সমস্যা আছে কি না, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞর পরামর্শে পরীক্ষা করাতে হবে। সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে উপযুক্ত চিকিৎসাও করতে হবে। পাশাপাশি জীবন যাপন সহজ করতে কিছু থেরাপিও প্রয়োজন। ছোটো থেকেই এই থেরাপিগুলো ধারাবাহিকভাবে করতে পারলে শিশুদের নানান সমস্যা কমে। পেশি ও স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়ে। এমনকি বৌদ্ধিক জটিলতাও কমতে পারে।

    খেলাধুলো ও সামাজিক মেলামেশার সুযোগ প্রয়োজন!

    মনস্তাত্ত্বিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স ও শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুকে নানান সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। পাশপাশি নিয়মিত খেলাধুলোর অভ্যাস তৈরি করাও প্রয়োজন। এতে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা কমবে। মস্তিষ্কের বিকাশের কাজ সহজ হবে। অভিভাবকদের জন্য তাঁদের পরামর্শ, খেলাধুলো, গান, নাচ, আঁকা, সাঁতার বা অন্য পছন্দের কাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে হবে। ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তকে অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ গড়ে দিতে হবে। যাতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ে।

    ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জন্য সরকারি সহযোগিতা কি রয়েছে?

    স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্তারা জানাচ্ছেন, সন্তান ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত হলে, রোগ নির্ণয়ের উপযুক্ত তথ্য সহ নিজের জেলার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ বা জেলা হাসপাতালের প্রতিবন্ধকতা মূল্যায়ন বিভাগে অভিভাবকদের যোগাযোগ করতে হবে। তাহলে প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষার পরে জেলা সমাজকল্যাণ দফতর বা District Disability Rehabilitation Centre (DDRC) থেকে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজনীয় শংসাপত্র দেওয়া হবে। যা থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ হিসাবে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত নানান সামাজিক প্রকল্পের সুযোগ ও সুবিধা পাবেন‌। সরকারের তরফে নানান প্রকল্প রয়েছে। যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার পথ সহজ হয়।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Down Syndrome: অতিরিক্ত ক্রোমোজোম নয়, ডাউন সিনড্রোম মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ সামাজিক অসচেতনতা!

    Down Syndrome: অতিরিক্ত ক্রোমোজোম নয়, ডাউন সিনড্রোম মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ সামাজিক অসচেতনতা!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

     

    অতিরিক্ত ক্রোমোজোম নয়, বরং সামাজিক অসচেতনতাই হয়ে উঠছে চ্যালেঞ্জ! ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত নিয়ে নয়া পাঠ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার! সচেতনতা মাসে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    শরীরের জিনগত গঠনে ত্রুটি বাড়ায় জটিলতা। কিন্তু সমাজের অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসচেতনতাই পরিস্থিতি আরও সঙ্কটজনক করে তোলে। তাই বিশেষজ্ঞ মহল ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে সামাজিক সচেতনতাকেই মূল হাতিয়ার করতে চাইছেন। অক্টোবর মাস ডাউন সিনড্রোম সচেতনতা মাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আলাদা ব্যবস্থা নয়। বরং একসঙ্গে সকলে মিলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এই মানুষদের নিয়ে চলাই এ বছরের সচেতনতা কর্মসূচি।

    ডাউন সিনড্রোম কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গর্ভাবস্থায় শিশুদের জিনগত ত্রুটির কারণে ডাউন সিনড্রোম হয়। মানুষের শরীরে ৪৬ ক্রোমোজোম থাকে। কিন্তু ত্রুটির কারণে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তদের শরীরে ৪৭ ক্রোমোজোম থাকে। এর ফলে কোষের গঠন ঠিকমতো হয় না। তাই ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হয় না। বয়সের সঙ্গে বুদ্ধিমত্তা বাড়ে না। ফলে, নিজের কাজ ঠিকমতো করা কিংবা সাধারণ জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে যায়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত জিনঘটিত কারণেই ডাউন সিনড্রোম হয়। বংশানুক্রমিক এই রোগ। তবে অন্যান্য কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় মায়ের অতিরিক্ত বয়স সন্তানের ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে।

    ভারতে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত কি বাড়ছে?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩২ হাজার শিশু ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্ম নেয়। প্রতি ৮০০ জন শিশুর মধ্যে ১ জন ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত। এই পরিস্থিতিতে এই রোগ নিয়ে সচেতনতা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তান জন্মের আগে বংশানুক্রমিকভাবে কেউ ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলো কিনা, সে সম্পর্কে হবু মা ও বাবার ওয়াকিবহাল থাকা জরুরি। তাছাড়া, আধুনিক শহুরে জীবনে বহু মেয়েই ৩৫ বছরের পরে মাতৃত্বের পরিকল্পনা করছেন। যা সন্তানের ডাউন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    কীভাবে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত চিহ্নিত হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গর্ভাবস্থায় বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশু ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত কিনা তা জানা যায়। এর পাশপাশি শিশুর জন্মের দেড় থেকে দু’বছরের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ স্পষ্ট হয়। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর শারীরিক গঠন দেখে বোঝা যায়, শিশুটি এই জিনঘটিত সমস্যায় আক্রান্ত কিনা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তদের মুখের গঠন চ্যাপ্টা হয়। জিভ বড় হয়। কান তুলনামূলকভাবে ছোটো হয়। পাশপাশি হাত-পা সহ শরীরের একাধিক অঙ্গের গঠনে ত্রুটি দেখা যায়। আঙুলে বাড়তি ফাঁক থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শারীরিক বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না।‌ মস্তিষ্কের বিকাশও ঠিকমতো হয় না। তাই বুদ্ধির বিকাশ ও বয়সের অনুপাতে সমান হয় না।

    ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে কোন পথের হদিশ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো‌ হয়েছে, সচেতনার অভাব ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সচেতনতাকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি দিকে বিশেষ খেয়াল রাখলেই ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তদের জীবন তুলনামূলক ভাবে সহজ হবে।

    পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সচেতনতা!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত হলে তাকে একা রাখা উচিত নয়। বরং পরিবারের অন্য সদস্যদের তার প্রতি বাড়তি যত্নবান হওয়া দরকার। তাঁদের পরামর্শ, শিশু ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত হলে তাকে একা ঘরে রেখে দেওয়া কিংবা অন্যদের সঙ্গে মিশতে না দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। এতে জটিলতা বাড়ে। বরং পারিবারিক অনুষ্ঠানে সবসময় তাদের নিয়ে যাওয়া দরকার। যাতে সকলের সঙ্গে মেলামেশা করা ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের পক্ষে সহজ‌ হয়। অনেক সময়েই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে সকলের সঙ্গে মিশতে দেওয়া হয় না। আবার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এমনকি শিশুরাও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে একাত্ম হতে পারে না। আর এক্ষেত্রেই সচেতনতা জরুরি। আলাদা রকম হলেই তাকে বাদ দেওয়া নয়। বরং একসঙ্গে মিলেমিশে থাকার পারিবারিক মূল্যবোধ ও শিক্ষা প্রয়োজন।

    সময় মতো লাগাতার থেরাপি!

    ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের কথা বলার ক্ষমতা বাড়াতে এবং সাধারণ কাজ করার মতো শারীরিক ক্ষমতা বাড়াতে লাগাতার থেরাপি চালিয়ে যাওয়া জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, জিনঘটিত জটিলতার কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়। তাই তাদের শারীরিক পরিস্থিতি উন্নতি করতে দক্ষ প্রশিক্ষিত কর্মীদের কর্মশালা জরুরি। তাই ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর নিয়মিত স্পিচ থেরাপি এবং অন্যান্য থেরাপি প্রয়োজন।

    স্কুলে লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি!

    শুধুই আলাদা ক্লাসরুম নয়। বরং সকলের সঙ্গে বসে একসঙ্গে পড়াশোনা করা। অন্যান্য সহপাঠীদের থেকে সমান ভালোবাসা পাওয়া সহজ করে দেবে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবন। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুও আর পাঁচজন শিশুর সঙ্গে মিশতে চায়। স্বাভাবিক ভাবেই খেলাধুলা করতে চায়। তাদের একসঙ্গে নিয়ে চললে তবেই তাদের জীবনের জটিলতা কমবে। আলাদা রকম হলেও যে একসঙ্গে চলা যায় এই শিক্ষা বছরভর স্কুলে চালাতে হবে। সেটা শুধু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্য নয়, যেকোনও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা। তাই এ নিয়ে লাগাতার কর্মসূচি পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র আলাদা বিশেষ ক্লাসরুমে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুদের রাখলে, বাকিদের থেকে আইসোলেট থাকলে তাদের বিকাশে আরও জটিলতা তৈরি হয়।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share