Tag: dpdp

  • UIDAI: বন্ধ হচ্ছে ‘এম আধার’ অ্যাপ, ডেটা সুরক্ষায় নতুন ‘আধার’ অ্যাপ আনছে ইউআইডিএআই

    UIDAI: বন্ধ হচ্ছে ‘এম আধার’ অ্যাপ, ডেটা সুরক্ষায় নতুন ‘আধার’ অ্যাপ আনছে ইউআইডিএআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আপনি যদি স্মার্টফোনে নিয়মিত ‘এম আধার’ অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন, তবে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় আধার পরিচয় কর্তৃপক্ষ বা ইউআইডিএআই (UIDAI) জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই বন্ধ হতে চলেছে বর্তমানের জনপ্রিয় ‘এম আধার’ অ্যাপটি। এর পরিবর্তে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও ডেটা সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আরও নিরাপদ এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটি নতুন ‘আধার’ অ্যাপ চালু করা হচ্ছে।

    কেন এই পরিবর্তন (UIDAI)?

    ইউআইডিএআই (UIDAI)-এর মতে, বর্তমান ‘এম আধার’ অ্যাপটি কার্যকর হলেও সুরক্ষার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। বিশেষ করে হোটেল, হাসপাতাল বা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতরে পরিচয়পত্র হিসেবে এটি দেখানোর সময় অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর সম্পূর্ণ আধার তথ্য প্রকাশ পেয়ে যেতো, যা সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। এই ত্রুটি দূর করতেই নতুন অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে, যা দেশের ‘ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন’ (DPDP) আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য শেয়ার করার সুযোগ পাবেন। যেমন, কোথাও শুধু বয়স যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে, সম্পূর্ণ আধার (Aadhaar) নম্বর বা ঠিকানা গোপন রেখে কেবল বয়সটুকুই প্রদর্শন করা সম্ভব হবে।

    নতুন ‘আধার’ অ্যাপের মূল বৈশিষ্ট্য ও উন্নত ফিচারসমূহ:

    ডিজিটাল পরিচয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সুরক্ষিত করতে নতুন অ্যাপটিতে (Aadhaar) বেশ কিছু আধুনিক ফিচার যুক্ত করা হয়েছে:

    ফেস অথেন্টিকেশন (Face Authentication)

    পাসওয়ার্ড বা ওটিপি (OTP)-এর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, কেবল ফোনের ফ্রন্ট ক্যামেরার সাহায্যে মুখমণ্ডল স্ক্যান করেই পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে।

    সুরক্ষিত কিউআর কোড (QR Code Identification)

    কোনও প্রকার সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান না করেই, কেবল কিউআর কোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আধার তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।

    তথ্য শেয়ারিংয়ে নিয়ন্ত্রণ (Selective Information Sharing)

     ব্যবহারকারী ঠিক কোন তথ্যটি শেয়ার করতে চান, তা নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। পুরো আধার কার্ডের পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী শুধু বয়স কিংবা ঠিকানা আলাদাভাবে প্রদর্শন করা যাবে।

    বহুস্তরীয় বায়োমেট্রিক লক (Biometric Locking System)

    ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস লক এবং আইরিস (চোখের মণি) লকের মতো ত্রিমাত্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর প্রোফাইল থাকবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

    অতিরিক্ত সুবিধা

    নতুন এই অ্যাপে একক ডিভাইসের মাধ্যমেই পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্যের আধার প্রোফাইল যুক্ত এবং পরিচালনা করা যাবে।

    অ্যাপ ডাউনলোড ও প্রোফাইল সক্রিয় করার নির্দেশিকা

    প্রতারণা এড়াতে ইউআইডিএআই (UIDAI) ব্যবহারকারীদের শুধুমাত্র অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড (Aadhaar) করার পরামর্শ দিয়েছে।

    • ১>ডাউনলোড: গুগল প্লে স্টোর (Google Play Store) বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে (Apple App Store) গিয়ে “Aadhaar” লিখে সার্চ করতে হবে। ডাউনলোডের আগে অ্যাপটিতে UIDAI-এর অফিশিয়াল ‘Pehchaan’ লোগোটি অবশ্যই যাচাই করে নিন।
    • ২>ভাষা নির্বাচন: অ্যাপটি চালু করার পর লভ্য ১৩টি ভাষার মধ্য থেকে পছন্দের ভাষাটি বেছে নিতে হবে।
    • ৩>ওটিপি যাচাইকরণ: আধারের সঙ্গে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরটি প্রদান করার পর একটি ওটিপি (OTP) আসবে, যা দিয়ে অ্যাকাউন্ট যাচাই করতে হবে। সুরক্ষার স্বার্থে অ্যাপটি ব্যবহারকারীর ফেস স্ক্যানও চাইতে পারে।
    • ৪>পিন ও আধার যুক্তকরণ: নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পিন (PIN) নম্বর সেট করতে হবে এবং এরপর নিজের ১২ সংখ্যার আধার নম্বরটি যুক্ত করলেই প্রোফাইলটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে।

    গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য

    পুরনো ‘mAadhaar’ অ্যাপের কোনও ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন অ্যাপে স্থানান্তরিত হবে না। ফলত, পূর্বে সংরক্ষিত আধারের পিডিএফ (PDF), কিউআর কোড কিংবা পরিবারের সদস্যদের প্রোফাইলগুলো ব্যবহারকারীকে নতুন অ্যাপে পুনরায় নতুন করে যুক্ত করতে হবে। প্রশাসন ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আধার (Aadhaar) অ্যাপটি দেশের নাগরিকদের ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে এবং আধুনিক সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা করতে একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ।

  • Digital Data: ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন আইন রূপায়ণে বড়সড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

    Digital Data: ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন আইন রূপায়ণে বড়সড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিপিডিপি (ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন) অ্যাক্ট (Digital Data) বাস্তবায়নের পথে বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইনের চূড়ান্ত নিয়মাবলী প্রকাশ (Protection Law) করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। এর ফলে ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্রাইভেসি কাঠামোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হল।

    নয়া আইন (Digital Data)

    নয়া আইন চালু হওয়ায় এখন থেকে কোনও সংস্থা, সরকারি দফতর এবং ডিজিটাল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি কীভাবে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং তা প্রসেস করবে, তা নিয়ে বহুদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। শুধু তাই নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলির ১৮ বছরের নীচের কাউকে প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করার আগে সম্মতি নিতে হবে তাঁদের বাবা-মায়ের। সরকার অবশেষে ২০২৩ সালের অগাস্টে সংসদে পাস হওয়া ডিপিডিপি আইনের কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে।

    সম্মতিভিত্তিক কাঠামো

    জানা গিয়েছে, বহু প্রতীক্ষিত এই নিয়মগুলি একটি সম্মতিভিত্তিক কাঠামো নিশ্চিত করবে, যা সোশ্যাল মিডিয়া, ই-কমার্স, গেমিং, ব্যাংকিং, পেমেন্ট এবং সরকারি সেবা ব্যবহারের জন্য অনলাইনে যাওয়া ইউজারদের ডেটা সুরক্ষিত রাখবে। আইন ভাঙলে কোম্পানি ও সংস্থাগুলিকে জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। গুরুতর ডেটা সুরক্ষা ব্যর্থতা ও লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি টাকার শাস্তি পর্যন্ত হতে পারে। নয়া নিয়ম অনুযায়ী, কোনও তথ্য চুরি হলে কোম্পানিগুলিকে তা দ্রুত জানাতে হবে ইউজার এবং নয়া ডেটা প্রোটেকশন বোর্ডকে। তবে এই নিয়মগুলি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। বড় ধরনের ব্যাক-এন্ড পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করেই সরকার কোম্পানিগুলিকে সময় দিয়েছে ১৮ মাস (Digital Data)।

    ইউজারদের জানাতে হবে

    সরকার জানিয়েছে, কোনও তথ্য চুরি হলে তা অবিলম্বে ইউজারদের জানাতে হবে সহজ ভাষায়, যাতে চুরির ধরন ও সম্ভাব্য পরিণতি, সমস্যা সমাধানে নেওয়া পদক্ষেপ, (Protection Law) এবং সহায়তার জন্য যোগাযোগের বিবরণ  স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা থাকে। সরকার আরও জানিয়েছে, এই আইন সাতটি মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এই নীতিগুলি হল সম্মতি ও স্বচ্ছতা, উদ্দেশ্য-সীমাবদ্ধতা, ডেটা-সংযম, যথার্থতা, সংরক্ষণসীমা, নিরাপত্তা সুরক্ষা, এবং জবাবদিহি।

    উদারনীতির জন্য লবিং

    শিশুদের অনলাইন ডেটা সম্পর্কিত বিষয়ে, যেখানে বিগ টেক এবং অন্যান্য বড় কোম্পানিগুলি উদারনীতির জন্য লবিং করে আসছিল, সেখানে নতুন আইন বাধ্যতামূলক করেছে যে ব্যক্তিগত ডেটা প্রক্রিয়াকরণের আগে কোম্পানিগুলিকে অবশ্যই যাচাইযোগ্য সম্মতি জোগাড় করতে হবে। তবে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং রিয়েল-টাইম নিরাপত্তা—এ ধরনের অত্যাবশ্যক উদ্দেশ্যে কিছু সীমিত ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সহায়তা পাওয়ার পরেও আইনানুগ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে সম্মতি অবশ্যই আইনানুগ অভিভাবকের কাছ থেকে নিতে হবে। শিশুর ব্যক্তিগত ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য যাচাইযোগ্য পারিবারিক/অভিভাবকের সম্মতি পেতে, কোম্পানিগুলিকে উপযুক্ত প্রযুক্তিগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে (Digital Data)।

    ডেটা ফিডিউশিয়ারি

    নয়া নিয়মে স্পষ্টভাবে ডেটা ফিডিউশিয়ারি সম্পর্কে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নানা নাগরিক অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। কোন তথ্য কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে, সেই বিষয়ে সম্মতি দেওয়া (Protection Law), তা প্রত্যাহার করা কিংবা সেই তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করার অধিকার দেওয়া হয়েছে নাগরিকদের। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি নেওয়া, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে তথ্য ব্যবহার এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির মতো মূল বাধ্যবাধকতাগুলি আইন প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে (Digital Data)।

LinkedIn
Share