Tag: east midnapore

east midnapore

  • DRDO Junput Project: চাঁদিপুরের পাশে এবার জুনপুট! বাংলায় ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দরজা

    DRDO Junput Project: চাঁদিপুরের পাশে এবার জুনপুট! বাংলায় ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দরজা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী জুনপুটে ডিআরডিও-র (DRDO) নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ এবার বাস্তবায়নের পথে। রাজ্য সরকারের অনুমোদন মেলার পর এই প্রকল্প ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্প, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত।

    চাঁদিপুরের বিকল্প নয়, পরিপূরক পরিকাঠামো

    ওড়িশার চাঁদিপুরে থাকা ডিআরডিও-র ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-এর পরিপূরক হিসেবে জুনপুটে এই নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ডিআরডিও এই প্রকল্পের জন্য উদ্যোগ নেয় বলে জানা গিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রটি তৈরি হলে ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার এবং বিভিন্ন আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে দেশের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

    বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষণ পরিকাঠামো রয়েছে ওড়িশার ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে। চাঁদিপুর-অন-সি এলাকায় লঞ্চ কমপ্লেক্স-III এবং ওড়িশা উপকূলের কাছে লঞ্চ কমপ্লেক্স-IV-এর মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালিত হয়। সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি জুনপুটে নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো এবং বিদ্যমান পরিকাঠামোর উপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    দিঘা থেকে জুনপুটের দূরত্ব প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার। কৌশলগত অবস্থানের দিক থেকেও বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এই এলাকা প্রতিরক্ষা পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    জমি-জট কাটিয়ে মিলল অনুমোদন

    এই প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ ছিল। সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকল্পটিতে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ডিআরডিও-র তরফে প্রকল্প নিয়ে চিঠি এলেও আগের সরকারের সময়ে তার জবাব দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি অনুমোদন দিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প হবে।”

    অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও প্রকল্পটি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিকিরণ ও অসুস্থতার আশঙ্কা তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, জুনপুট প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি তিনি রাজ্যসভাতেও তুলেছিলেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।

    পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগও করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। যদিও এই রাজনৈতিক অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

    শুধু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নয়, বদলাতে পারে শিল্পের ছবিও

    জুনপুটে ডিআরডিও-র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে স্থানীয় ও সহযোগী শিল্পের ক্ষেত্রে।

    ডিআরডিও-র মতো কৌশলগত জাতীয় সংস্থার পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে যন্ত্রাংশ নির্মাণ, ধাতব কাঠামো, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থার জন্য নতুন বাজার তৈরি হতে পারে। প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের সংযোগ তৈরি হলে পূর্ব মেদিনীপুরে শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল ও বন্দর। জুনপুট-হলদিয়া অঞ্চলের ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় উপকরণের উৎপাদন, পরিবহণ এবং সরবরাহের জন্য ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত শিল্পভিত্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাড়তে পারে কর্মসংস্থান, পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ

    প্রস্তাবিত কেন্দ্রকে ঘিরে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ কারিগর, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি নির্মাণ, পরিবহণ, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ধরনের পরিকাঠামো গড়ে উঠলে রাস্তা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। স্থানীয় ব্যবসা, আবাসন, পরিষেবা এবং অন্যান্য সহযোগী ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

    গবেষণায় নতুন দরজা

    জুনপুট প্রকল্পের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য দিক হল উচ্চপ্রযুক্তি গবেষণা। ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণার সহযোগিতা তৈরি হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, জুনপুটের ডিআরডিও পরীক্ষাকেন্দ্রকে শুধুমাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকাঠামো হিসেবে দেখলে এর সম্ভাব্য প্রভাবের পরিধি ছোট করে দেখা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি জুনপুট-হলদিয়া করিডরকে ঘিরে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। আগামী কয়েক বছরে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং তার সঙ্গে যুক্ত শিল্পনীতিই ঠিক করবে, এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।

  • Lagnajita Chakraborty: ‘জয় মা’ গান গেয়ে মুসলিম নেতার হাতে হেনস্তার শিকার লগ্নজিতা! চাপে গ্রফতার অবশেষে

    Lagnajita Chakraborty: ‘জয় মা’ গান গেয়ে মুসলিম নেতার হাতে হেনস্তার শিকার লগ্নজিতা! চাপে গ্রফতার অবশেষে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের (East Midnapore) ভগবানপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কলকাতার বিখ্যাত প্লেব্যাক গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে (Lagnajita Chakraborty) ভক্তিমূলক গান পরিবেশনের জন্য হেনস্থা এবং শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয়। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের সংখ্যালঘু নেতা। ওই মুসলিম নেতা লগ্নজিতাকে ভক্তিমূলক গান গাওয়ায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এই ঘটনাটি থেকে তীব্র ভাবে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভারতে যদি ভক্তিমূলক গান গাইতে না দেওয়া হয়, তাহলে আর কোথায় গাইতে পারবেন শিল্পীরা? এই প্রশ্নই এখন রাজনীতির আঙ্গিনায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

    অকথ্য ভাষায় আক্রমণ (Lagnajita Chakraborty)

    বাংলার সঙ্গীত মহলে এক জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী হলেন লগ্নজিতা চক্রবর্তী (Lagnajita Chakraborty)। একটি বেসরকারি স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানের পরিবেশনায় আমন্ত্রণ পেয়ে সঙ্গীতানুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু লগ্নজিতার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠানমঞ্চে দেবী চৌধুরানী ছবির একটি জনপ্রিয় গান ‘জয় মা’ গাওয়া শুরু করলে সেখান থেকেই ঝামেলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঞ্চে গান শুরু করলে স্কুলের মালিক এবং তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের নেতা মেহেবুব মল্লিক বাধা দেন। এরপর মেহবুব অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন। লগ্নজিতা বলেন, “যখন আমি ‘জয় মা’ গান শুরু করি তখন মালিক মেহবুব মল্লিক আমাকে অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করেন। হুমকি দিয়ে বলেন, এতো কিছু হেয়েছে এবার ধর্ম নিরপেক্ষ গান করুন। তবে শুধু হট্টগোল নয়, আমাকে শারীরিক ভাবে হেনস্তাও করা হয়।”

    বিভাগীয় তদন্ত ওসির বিরুদ্ধে

    ঘটনার পরেই লগ্নজিতা (Lagnajita Chakraborty) এবং তাঁর বাদকেরা মঞ্চ থেকে নেমে পড়েন। এরপর ভগবানপুর থানায় (East Midnapore) সরাসরি অভিযোগ দায়ের করেন। তবে নির্যাতিতা গায়িকার অভিযোগ গ্রহণ না করে অনেক সময় ধরে থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তুলেছেন। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগেও সরব হয়েছেন লগ্নজিতা। ইতিমধ্যে জেলা শাসক মিতুন কুমার দে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় ওসি শাহেনশাহ হকের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযযুক্ত মেহবুবকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে।

LinkedIn
Share