Tag: Eastern Naval Command

  • INS Anjadip: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন সদস্য, উপকূল রক্ষায় নামল ‘ডলফিন হান্টার’, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    INS Anjadip: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন সদস্য, উপকূল রক্ষায় নামল ‘ডলফিন হান্টার’, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ আইএনএস অঞ্জদীপ (INS Anjadip)। এটি উপকূলবর্তী এলাকায় অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধক্ষমতা জোরদার করতে নেওয়া ১৬টি দেশীয় জাহাজ নির্মাণ কর্মসূচির অংশ। জাহাজটি ভারতের পূর্ব নৌ-কমান্ডের অধীনে চেন্নাইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এদিন কমিশনিং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী। এই অন্তর্ভুক্তি শুধু একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ সংযোজন নয়, বরং উপকূলীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট

    নৌবাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, আইএনএস অঞ্জদীপ-এর (INS Anjadip) গুরুত্ব বেড়েছে বিশেষ করে পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক পরিস্থিতির নিরিখে। পাকিস্তানের নৌবহরে সারফেস যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা সীমিত এবং তাদের নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ অ্যান্টি-সাবমেরিন প্ল্যাটফর্মের অভাব রয়েছে। ফলে, ভবিষ্যৎ সংঘাতে তারা সাবমেরিনের উপর বেশি নির্ভর করতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা। এই বাস্তবতায় ভারতের উপকূলবর্তী জলসীমা নিরাপদ রাখতে আইএনএস আর্নালা (INS Arnala)-শ্রেণির জাহাজগুলো একটি প্রতিরক্ষামূলক বলয় তৈরি করবে, যাতে বড় ফ্রিগেট ও ডেস্ট্রয়ারগুলো গভীর সমুদ্রে কৌশলগত অভিযানে বেশি মনোযোগ দিতে পারে। উপকূলীয় অ্যান্টি-সাবমেরিন অভিযানে এই জাহাজের বিশেষ ভূমিকাকে মাথায় রেখে করে ভারতীয় নৌবাহিনী একে “ডলফিন হান্টার” বলে আখ্যা দিয়েছে।

    উপকূলজুড়ে অ্যান্টি-সাবমেরিন প্রতিরক্ষা বলয়

    আইএনএস অঞ্জদীপকে (INS Anjadip) এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে অগভীর উপকূলীয় এলাকায় (৫০–৬০ মিটার গভীরতা) শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করা যায়। এটি অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটারক্রাফট প্রকল্পের অধীনে নির্মিত আটটি জাহাজের মধ্যে তৃতীয়। ‘লিটোরাল ওয়াটার্স’ বা উপকূলীয় ও অগভীর জলে যুদ্ধপরিবেশে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য এই জাহাজের নকশা করা হয়েছে। আইএনএস অঞ্জদীপ-এর (INS Anjadip) আগে গত বছরের জুনে আইএনএস আর্নালা (INS Arnala) এবং অক্টোবরে আইএনএস আনদ্রোথ (INS Androth) কমিশন করা হয়েছিল। নৌবাহিনী পরিকল্পনা করেছে, উপকূলজুড়ে একটি স্তরভিত্তিক অ্যান্টি-সাবমেরিন প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে এই ১৬টি জাহাজকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে মোতায়েন করা হবে।

    আইএনএস অঞ্জদীপের মূল বৈশিষ্ট্য

    সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলগুলি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৭৭ মিটার দীর্ঘ এই যুদ্ধজাহাজটিতে উচ্চগতির ওয়াটার-জেট প্রোপালশন ব্যবস্থা রয়েছে, যার ফলে এটি সর্বোচ্চ ২৫ নট গতিতে চলতে সক্ষম। এর ফলে উপকূলের কাছাকাছি দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো সম্ভব হবে। জাহাজটির মূল কাজ উপকূলীয় এলাকায় শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত করা, ট্র্যাক করা ও ধ্বংস করা।

    এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    • ● দেশীয় হাল-মাউন্টেড সোনার ‘অভয়’
    • ● হালকা টর্পেডো ও সাবমেরিন-বিধ্বংসী রকেট
    • ● সর্বোচ্চ ২৫ নট গতিসম্পন্ন ওয়াটার-জেট প্রপালশন ব্যবস্থা
    • ● উচ্চ ম্যানুভারেবিলিটি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা

    পূর্ণসময়ের জন্য নিবেদিত সাবমেরিন-শিকারি

    এতদিন পর্যন্ত ফ্রিগেট ও ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজগুলো অ্যান্টি-সাবমেরিন ভূমিকা পালন করলেও তাদের মূল কাজ ছিল আক্রমণাত্মক। অর্থাৎ, বিমান ও সারফেস লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আইএনএস অঞ্জদ্বীপ-এর (INS Anjadip) মতো পূর্ণসময়ের জন্য নিবেদিত প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হওয়ায় নৌবাহিনী এখন দায়িত্ব বণ্টনে আরও স্পষ্টতা আনতে পারছে। এর ফলে—

    • ● বড় যুদ্ধজাহাজগুলো কৌশলগত অভিযানে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
    • ● উপকূলীয় এলাকায় সাবমেরিন হুমকি আলাদাভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
    • ● স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে উঠবে।
    • ● দেশীয় নির্মাণ ও শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

    লার্সেন অ্যান্ড টুব্রোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ আইএনএস অঞ্জদীপ (INS Anjadip) এবং আর্নালা-শ্রেণির অন্যান্য জাহাজ তৈরি করেছে কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE)। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, কারণ এর আগে নৌবাহিনী নিজেই যুদ্ধজাহাজের নকশা দিত। এই প্রকল্প ভারত সরকারের ‘আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে রপ্তানিযোগ্য যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    পুরনো প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে নতুন যুগ

    এই যুদ্ধজাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে অঞ্জদীপ দ্বীপের নামে, যা উত্তর কর্নাটকের কারওয়ার উপকূলের কাছে আরবসাগরে অবস্থিত। এর অন্তর্ভুক্তি বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূল বরাবর ভারতের বিস্তৃত সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন আর্নালা-শ্রেণির জাহাজগুলো ধীরে ধীরে অবসরপ্রাপ্ত অভয় (Abhay)-শ্রেণির করভেটগুলোর জায়গা নেবে, যেগুলি সোভিয়েত-ঘরানার ওপর নির্মিত পেটয়া (Petya)-শ্রেণির প্ল্যাটফর্ম ছিল। নতুন জাহাজগুলো আকার, টিকে থাকার ক্ষমতা এবং আধুনিক সেন্সর ও অস্ত্রব্যবস্থার দিক থেকে অনেক বেশি উন্নত। আইএনএস অঞ্জদ্বীপ-এর (INS Anjadip) কমিশনিং ভারতের উপকূলীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে একটি নতুন স্তরে নিয়ে গেল। এটি শুধু একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং ভারতের নৌকৌশলে বিশেষায়িত প্রতিরক্ষার সূচনার প্রতীক। পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক নৌশক্তির পরিবর্তিত কৌশলের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

  • Haldia Naval Base: বাংলাদেশমুখী সামুদ্রিক নজরদারিতে নতুন ধাপ, হলদিয়ায় নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে ভারত

    Haldia Naval Base: বাংলাদেশমুখী সামুদ্রিক নজরদারিতে নতুন ধাপ, হলদিয়ায় নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্তের গা-ঘেঁষে হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি (Haldia Naval Base) গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy)। বাহিনীর শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, এখনও নামকরণ না হওয়া এই ঘাঁটিটি একটি “ডিট্যাচমেন্ট” হিসেবে কাজ করবে এবং এখানে মূলত ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্র্যাফ্ট (FIC) ও নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্র্যাফ্ট (NWJFAC)-এর মতো ছোট যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে জেটি নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে।

    হলদিয়ার অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ

    ইতিমধ্যেই পূর্ব উপকূলে ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দফতর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে কৌশলগত ঘাঁটি রয়েছে। তবে হলদিয়ার জন্য বরাদ্দ জমি দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে আটকে থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। সম্প্রতি সেই বরাদ্দ সংক্রান্ত জট কাটায় নৌবাহিনী দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করেছে। জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত এই ঘাঁটিতে (Haldia Naval Base) প্রায় একশো অফিসার ও নাবিক মোতায়েন থাকতে পারে। কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত হলদিয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে হুগলি নদীপথ ধরে দীর্ঘ যাত্রা এড়ানো সম্ভব হবে।

    এফআইসি এবং এনডব্লুজেএফএসি মোতায়েন

    ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল নৌবাহিনীর জন্য ১২০টি এফআইসি এবং ৩১টি এনডব্লুজেএফএসি কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। প্রায় ১০০ টন ওজনের এই দ্রুতগতির নৌযানগুলি ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ নট (নটিক্যাল মাইল) বা ৮৩ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। মেশিনগানে সজ্জিত এই নৌযানগুলিতে ১০ থেকে ১২ জন কর্মী বহন করা যায় এবং উপকূলীয় নজরদারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিরাপত্তা অভিযানে এগুলি ব্যবহার করা হয়।

    বাড়তি নজর বাংলাদেশে!

    নৌবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, হলদিয়ার নতুন ঘাঁটি (Haldia Naval Base) বাংলাদেশের দিকের সামুদ্রিক গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়াতে সাহায্য করবে। গত বছরের নভেম্বর মাসে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের চিন-নির্মিত গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট পিএনএস সাইফ বাংলাদেশে পাঠায়। প্রায় ৩,০০০ টন ওজনের এবং ১৫ বছরের পুরনো এই যুদ্ধজাহাজের সফরটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    পাক-বাংলাদেশ সামরিক মাখামাখি

    ২০২৪ সালের অগাস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত নভেম্বর মাসে দুই দেশের নৌবাহিনীর (Bangladesh Pakistan naval ties) মধ্যে প্রথমবারের মতো ২-স্টার র‌্যাঙ্কের সামরিক কর্তাদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় মহলের ধারণা, ভবিষ্যতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে। এদিকে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রয়েছে। চিন ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ (China Bangladesh naval cooperation) নৌবাহিনীকে দুটি সাবমেরিন সরবরাহ করেছে এবং চট্টগ্রামের উপকূলে একটি সাবমেরিন ঘাঁটির নির্মাণকাজও শেষের পথে। ওই ঘাঁটির প্রাথমিক নাম ছিল ‘বিএনএস শেখ হাসিনা’, তবে পরবর্তীতে সেই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

LinkedIn
Share