Tag: Easy Healthy Recipes

  • Superfood Poha: নিয়মিত পাতে থাকুক চিড়ে! কীভাবে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    Superfood Poha: নিয়মিত পাতে থাকুক চিড়ে! কীভাবে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের স্বাস্থ্যকর জলখাবারের মেনুতে হোক কিংবা সন্ধ্যার মুখোরোচক খাবারের তালিকায়, সবজায়গাতেই তার অবাধ যাতায়াত। বাঙালির চির পরিচিত চিড়ে! শুকনো খাবার হিসাবে কয়েক হাজার বছর ধরেই তার কদর। বহুদূরে যাতায়াতের সময় এক কালে চিড়ে সঙ্গে রাখাই ছিলো দস্তুর। এখন অবশ্য পদের রকমফের বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাঙালির অতি পরিচিত চিড়ে কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারি। এমনকি একাধিক রোগ মোকাবিলাতেও বাড়তি সাহায্য করে এই চিড়ে!

    চিড়ে খেলে শরীরে কী উপকার হয়?

    এনার্জি‌ জোগাতে সাহায্য করে!

    চিড়ে থেকে শরীর সহজেই এনার্জি জোগান করতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিড়ে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। শরীরের এনার্জি জোগায় কার্বোহাইড্রেট। তাই চিড়ে খেলে ক্লান্তিবোধ কমে। শরীর সহজেই এনার্জি পায়।

    হজম শক্তি ঠিক রাখে!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিড়ে হজম শক্তি বাড়াতে বিশেষ সাহায্য করে। চিড়ে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। তাই নিয়মিত চিড়ে খেলে হজম শক্তি বাড়ে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমে‌।

    দূর্বলতা কমাতে সাহায্য করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিড়ে সহজ পাচ্য খাবার। আবার চিড়ে বাড়তি এনার্জির জোগান দেয়। তাই শিশু হোক বা বয়স্ক, সকলের জন্য চিড়ে উপকারি। বিশেষত অসুস্থ অবস্থায় চিড়ে খুব উপকারি খাবার। কারণ এই খাবার সহজে হজম হয়। আবার এই খাবার খেলে শরীরের দূর্বলতা কমে।

    চিড়ে খেলে কোন রোগের ঝুঁকি কমে?

    • বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত চিড়ে খেলে একাধিক রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্থূলতা এখন অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়, কমবেশি সকলেই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন। বাড়তি ওজন সুস্থ জীবন যাপনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। খাওয়া নিয়ে তাই সচেতনতা জরুরি। তাই চিড়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়েতে কার্বোহাইড্রেট থাকলেও ফ্যাট নেই। তাই শরীরে মেদ জমে না। কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় এনার্জি জোগান দিতে সক্ষম হয়। চিড়ে খেলে সহজেই পেট ভরে থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে চিড়ে খাওয়া উপকারি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।
    • চিড়ে কম ফ্যাটযুক্ত এবং হালকা খাবার। তাই চিড়ে হৃদরোগ রুখতেও বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত মশলা জাতীয় ভাজা খাবারে উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। যা হৃদরোগের ঝুঁকিও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু চিড়ে সেটা নয়। চিড়ে খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
    • চিড়ে রক্তাল্পতার সমস্যা সমাধানেও বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়ে খেলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ে। কারণ চিড়ে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার। অধিকাংশ ভারতীয় মেয়েরা রক্তাল্পতার সমস্যায় ভোগেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১২ বছরের পর থেকেই অধিকাংশ মেয়েদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে। যার ফলে নানান রোগের ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত চিড়ে খেলে এই ধরনের সমস্যা মোকাবিলা সহজ হয়।

    কীভাবে চিড়ে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফল‌ এবং দইয়ের সঙ্গে চিড়ে খেলে শরীরে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। কলা, আপেল, আঙুর কিংবা আমের মতো ফলের সঙ্গে টক দই এবং চিড়ে খেলে শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন এবং কার্বোহাইড্রেটের ঠিকমতো জোগান পাওয়া যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, এটি সুষম খাবার। তাই হজমের পক্ষেও ভালো। তবে শিশুদের জন্য বাদাম বা পেস্তার সঙ্গে দুধ চিড়ে দিলে খুব উপকার পাওয়া যাবে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের শরীরে এই খাবার থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট এবং খনিজ পদার্থের জোগান সহজেই পাওয়া যাবে।

    মুখোরোচক খাবার হিসাবেও চিড়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মটরশুঁটি, গাজর, ক্যাপসিকাম, বিনসের মতো নানান সব্জি সামান্য মাখনে ভেজে সেদ্ধ চিড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এমনকি শিশুদেরও এই খাবার দেওয়া যেতে পারে। এই খাবার সুস্বাদু। আবার পুষ্টিগুণ ভরপুর। নানান সব্জি থাকায় শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সহজেই পাবে। এই খাবারে সামান্য পরিমাণ মাখন দেওয়া থাকে। তাই এই খাবার থেকে প্রয়োজনীয় ফ্যাট সংগ্রহ সহজ। আবার চিড়ে কার্বোহাইড্রেটের জোগান দেবে। তাই এই খাবার শরীরের জন্য উপকারি।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share