Tag: ECI

ECI

  • SIR: এসআইআর-এর তিন নির্দেশই সর্বসম্মত! ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন হয়নি, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের

    SIR: এসআইআর-এর তিন নির্দেশই সর্বসম্মত! ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন হয়নি, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে জারি করা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত তিনটি নির্দেশই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল বলে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় দাবি করেছে কমিশন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম-৬ (Form 6)-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার রাতে সুপ্রিম কোর্টে এই হলফনামা জমা দেয় নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার জবাবে এই বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩.৩৬ কোটি নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তগুলির সম্পর্ক রয়েছে। উপনির্বাচন কমিশনারের স্বাক্ষরিত এই যৌথ হলফনামাটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের তরফে জমা দেওয়া হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত এই মামলা এবং অন্যান্য আবেদনগুলির শুনানি হওয়ার কথা।

    এসআইআর-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে কী জানাল কমিশন?

    নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের ২৪ জুন, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে জারি করা SIR সংক্রান্ত নির্দেশগুলি যথাযথ অনুমোদন নিয়েই কার্যকর করা হয়েছিল। কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে হলফনামায় বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনও ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে, আবার কোনও ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, কোনও নির্বাচন কমিশনারের পর্যবেক্ষণ বা প্রশ্নকে একা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না। ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়ে তৈরি (Appointment, Conditions of Service and Term of Office) আইনের ১৮ নম্বর ধারার উল্লেখ করে এই বক্তব্য পেশ করেছে কমিশন। জরুরি পরিস্থিতিতে কমিশনের সদস্যদের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অনুমোদন নেওয়া হয় এবং পরে তা সংশ্লিষ্ট নথিতে নথিভুক্ত করা হয় বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশন।

    ফর্ম ৬ সংশোধন নিয়ে কী দাবি কমিশনের?

    এসআইআর বিতর্কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাচন কমিশন ফর্ম ৬ (Form 6)-এ পরিবর্তন এনেছে। এই ফর্মের মাধ্যমে নতুন ভোটাররা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন। হলফনামায় কমিশনের দাবি, ফর্ম ৬-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। বরং ভোটারদের দেওয়া তথ্য যাচাই এবং পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি পৃথক ঘোষণাপত্র বা ডিক্লারেশন ফর্ম চালু করা হয়েছিল। এই ঘোষণাপত্রে আবেদনকারীরা নিজেদের অথবা বাবা-মা কিংবা দাদু-দিদা বা ঠাকুরদা-ঠাকুমার পূর্ববর্তী নিবিড় সংশোধনের সময়কার ভোটার তালিকায় থাকা তথ্য দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া না গেলে নির্ধারিত সহায়ক নথি জমা দিতে হতে পারে। বিহারে এসআইআর পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঘোষণাপত্রের কাঠামো সহজ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন। এর উদ্দেশ্য ছিল আবেদনকারীদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত করা। তবে অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণের সময় ঘোষণাপত্রটি যেভাবে দেখানো হচ্ছিল, তাতে মনে হতে পারে যে মূল ফর্মটিতেই সংশোধন আনা হয়েছে—হলফনামায় এই বিষয়টি স্বীকার করেছে কমিশন। এই বিভ্রান্তি দূর করতে ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর জারি করা নির্দেশের মাধ্যমে অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণের পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন ঘোষণাপত্রটি পৃথক অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে, যেমনটি কাগজে পূরণ করা ফর্মের ক্ষেত্রে করা হয়। এর ফলে আবেদনকারীদের একবারই ওটিপি এবং ই-সই ব্যবহার করতে হবে বলে আগে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন।

    ভোটারদের নাম বাদ পড়া আটকাতে কী ব্যবস্থা?

    এসআইআর-এর কারণে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়েও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই এবং যাঁদের তথ্য পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না, তাঁদের ক্ষেত্রে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ERO) নোটিস দিতে হবে। এ ছাড়া, বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-রা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং তা যাচাইয়ের জন্য আপলোড করবেন। এই ধরনের ভোটারদের সশরীরে শুনানিতে হাজির হওয়ার প্রয়োজন হবে না বলেও জানিয়েছে কমিশন। প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন ব্যবস্থার পাশাপাশি গৃহহীন ব্যক্তি এবং নাইট শেল্টারে বসবাসকারীদের মতো অসহায় গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ শিবিরের ব্যবস্থাও করা হবে।

    আধার কার্ডের প্রসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য

    এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যোগ্য ব্যক্তিরা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানাতে পারবেন। তবে সেই আবেদন সংশ্লিষ্ট নিয়মের অধীন থাকবে। আধার কার্ডের প্রসঙ্গে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এটি শুধুমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের নথি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

    ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে কী বক্তব্য?

    ইসিআইনেট (ECINet) ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও হলফনামায় বক্তব্য রেখেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (Electoral Registration Officer)-এর নির্দেশ ছাড়া ইসিআইনেট-এ কোনও ভোটারের নাম যোগ করা, বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা হয় না। এই ব্যবস্থার আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে ১৪ অক্টোবর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে আইআইটি মুম্বই এবং আইআইএসসি বেঙ্গালুরুর দু’জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছে কমিশন।

    গোয়ার ৯৭ ভোটার এবং বাংলার আবেদন নিয়ে বক্তব্য

    গোয়ায় ৯৭ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিও হলফনামায় উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে ৮৮ জন ইতিমধ্যেই ফর্ম-৬ জমা দিয়েছেন এবং তাঁদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। ছ’জন দেশের বাইরে রয়েছেন। বাকি তিনজন পর্তুগিজ পাসপোর্টধারী অথবা বিদেশি নাগরিক বলে জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা আপিল প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের আধিকারিকরা ওই আবেদনগুলি দায়ের করেছিলেন। বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের নজরে আনা হয়নি বলেও হলফনামায় দাবি করা হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ কমিশনের

    ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারণ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে হলফনামায়। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের চলতি বছরের মে মাসের রায়ের উল্লেখ করেছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা এবং আইন মেনে চলার উদ্দেশ্যে যুক্তিসংগত নথিপত্র চাওয়া যেতে পারে।

  • Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আবহে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগেই আটক করা হয়েছে সংগঠনের তিন প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে। তাঁদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে (Ajinkya Shinde)। এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ব্যারিকেড, কাঁটাযুক্ত প্রতিবন্ধক এবং বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে রাজধানীকে (Cockroach Janta Party Protest)।

    অভিযোগ, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির দেড় হাজারেরও বেশি সমর্থককে। দলের নেতাদেরও দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর আটক করা হয়। বিক্ষোভের মধ্যেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগাঁওয়ের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরার মতো আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।

    গ্রেফতারির আশঙ্কা (Ajinkya Shinde)

    গ্রেফতারির আশঙ্কা আগেই করেছিলেন দীপকে। সেই কারণে শুক্রবার রাতেই একটি ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন তিনি। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা যত দিন আটক থাকবেন, তত দিন যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্ক শিন্ডে।

    ভিডিওতে অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা যদি এই ভিডিওটা দেখছেন, তার অর্থ আমি, আশুতোষ ও সৌরভ—আমরা তিনজনই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছি। আমাদের পর এই আন্দোলনে অজিঙ্ক নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা যাঁরাই এই ভিডিওটি দেখছেন, তাঁরা এ বার থেকে অজিঙ্ক শিন্ডেকে অনুসরণ করুন। আমি, আশুতোষ ও সৌরভের পর উনিই এখান থেকে ককরোচ জনতা পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

    প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিপুল সংখ্যক কর্মী। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চল্লিশ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত আটকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কর্তব্যপথ সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথাও জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক বিধিনিষেধের পাশাপাশি ট্রেন চলাচল নিয়েও নিয়ন্ত্রণের খবর সামনে এসেছে। দুপুর পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে কোনও ট্রেন প্রবেশ করবে না বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন (Ajinkya Shinde)।

    এমন পরিস্থিতিতেও আন্দোলনকারীদের পিছিয়ে না আসার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেন, “দিল্লি পুলিশ যদি আপনাদের আটকানোর চেষ্টা করে, তা হলে যেখানে আপনাদের আটকানো হবে, সেই জায়গাটাই আপনাদের যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে।” দীপকে আটক হওয়ার পর তিনিই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    কেন ফের আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি?

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে। সেই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ করেছে তারা। গত ২ অক্টোবর মুম্বইয়েও এই ইস্যুতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল।

    এ বার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হলেও, প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় দিল্লি পুলিশ সেই কর্মসূচির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদ্ধতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী দশ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের অভিযোগের জবাব দিতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। সেই দাবিতেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জারি রেখেছে সংগঠনটি।

    দিল্লিতে একের পর এক নেতা ও সমর্থক আটক হওয়ার পর আন্দোলন কোন পথে এগোয়, এখন সেটাই দেখার। নেতৃত্বে অজিঙ্ক শিন্ডেকে সামনে রেখে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party Protest)। অন্যদিকে, প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে  (Ajinkya Shinde) ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • SIR: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে বিশেষ উদ্যোগ, জানুন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

    SIR: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে বিশেষ উদ্যোগ, জানুন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়া শেষ হওয়া রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে (SIR) যোগ্য ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ (Voter List Name Deleted) পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠকেও বিষয়টি ফের জানানো হয়েছে।

    কেন বিশেষ উদ্যোগের নির্দেশ? (SIR)

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ নাম, অর্থাৎ ৭১ শতাংশেরও বেশি অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত এবং অন্যান্য শ্রেণিতে পড়েছে।

    প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ নাম বাদ পড়েছে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের মৃত্যুর কারণে। এই সংখ্যা মোট বাদ পড়া নামের ২০ শতাংশের সামান্য বেশি। এছাড়া প্রায় ১ কোটি ১ লাখ নাম একাধিকবার থাকার কারণে চিহ্নিত হয়েছে, যা মোট বাদ পড়া নামের প্রায় ৭.৬ শতাংশ।

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এমন ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধনের সময় কোনও যোগ্য ভোটারের নাম অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়ে থাকলে তা চিহ্নিত করে ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

    ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং ভোটার নিবন্ধন আধিকারিকদের বলা হয়েছে, বাদ পড়া ভোটারদের পাশাপাশি নতুন করে যোগ্য হওয়া তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদেরও ধারাবাহিক সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করতে।

    এর জন্য বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে এবং পরে তৈরি হওয়া ভোটার তালিকার তুলনা করতেও বলা হয়েছে। যাঁদের নাম সংশোধনের সময় বাদ পড়েছে, কিন্তু এখনও ভোটার তালিকায় থাকার যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্ক কোথায়?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ফর্ম ৬-এর ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী ১০ মাসের মধ্যে ১৪ বার এমন কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন, যেগুলি তাঁদের অজ্ঞাতসারে কমিশনের নামে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ফর্ম ৬ সংক্রান্ত পরিবর্তনও ছিল।

    জুলাই মাসে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত করে ফর্ম ৬-এর কাগজের সংস্করণে একটি পৃথক ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয়। সেখানে আবেদনকারী অথবা তাঁর বাবা-মায়ের নাম আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, সেই তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

    অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রেও আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মায়ের নাম আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল (SIR)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগাস্টে সান্ধু এই পরিবর্তনকে অননুমোদিত ও বেআইনি বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ফর্ম ৬ ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০-এর সঙ্গে সংযুক্ত এবং ওই বিধিমালায় সংশোধন করার ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে রয়েছে (Voter List Name Deleted)।

    পরে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানায়, ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি। আধিকারিকদের দাবি, বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হওয়ার সময় অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি সম্পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনেই যুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের জন্যও তা অনুমোদিত হয়।

    অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল, তার কারণ হিসেবে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের করা কিছু পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। আবেদনকারীদের যাতে দু’বার বৈদ্যুতিন স্বাক্ষর করতে না হয়, সেই কারণেই ওই পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে আধিকারিকরা জানান।

    অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে?

    না। ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি শুধুমাত্র বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর্যায়ে প্রযোজ্য ছিল।

    যেসব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে, সেখানে প্রথমবার ভোটার হতে চলা যোগ্য নাগরিক এবং সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০ অনুযায়ী প্রচলিত সরকারি ফর্ম ব্যবহার করতে হবে (SIR)।

    তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অর্চনা পটনায়কও স্পষ্ট করেছেন, ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্রটি বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় কার্যকর থাকবে। সংশোধনবহির্ভূত সময়ে প্রচলিত সরকারি ফর্মই ব্যবহার করা হবে।

    নাম বাদ পড়েছে কি না, কীভাবে জানবেন?

    নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবার মাধ্যমে অনলাইনে নিজের নাম ও নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করা যায়।

    প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবায় যেতে হবে। এরপর “ভোটার তালিকায় অনুসন্ধান” বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।

    নাম খোঁজার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে—

    ১. ভোটার পরিচয়পত্র নম্বরের মাধ্যমে—নিজের ভোটার পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে রাজ্য নির্বাচন করতে হবে।

    ২. ব্যক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে—নিজের নাম, আত্মীয়ের নাম, বয়স, লিঙ্গ এবং বিধানসভা কেন্দ্রের তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করা যাবে।

    ৩. মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে—নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এককালীন গোপন সংকেতের মাধ্যমে যাচাই করা যাবে।

    ভোটার তালিকায় নাম দেখা গেলে ধরে নিতে হবে, নিবন্ধন সক্রিয় রয়েছে। নাম না থাকলে যোগ্য ভোটার ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে নতুন করে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

    নাম ফের যোগ করবেন কীভাবে?

    সাধারণত নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬ ব্যবহার করা হয়। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করতেও এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।

    যোগ্য ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে অথবা ভোটার সহায়তা অ্যাপের মাধ্যমে ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে কিন্তু ভোটার হিসেবে থাকার সব যোগ্যতা রয়েছে, তাঁরাও ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

    তবে কোনও ভোটার একই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তন করলে অথবা অন্য বিধানসভা কেন্দ্রে চলে গেলে এবং নিজের ভোটার নিবন্ধন স্থানান্তর করতে চাইলে ফর্ম ৬ নয়, ফর্ম ৮ ব্যবহার করতে হয় (SIR)।

    কীভাবে পূরণ করবেন ফর্ম ৬?

    প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিষেবা পোর্টালে যেতে হবে অথবা ভোটার সহায়তা অ্যাপ খুলতে হবে (Voter List Name Deleted)।

    এরপর নতুন ভোটার নিবন্ধন বা ফর্ম ৬-এর বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।

    নির্ধারিত ব্যক্তিগত ও বাসস্থানের তথ্য পূরণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জন্মতারিখের প্রমাণ-সহ অন্যান্য নথি আপলোড করতে হবে।

    আবেদন জমা দেওয়ার পরে প্রাপ্ত স্বীকৃতি বা আবেদন নম্বরটি সংরক্ষণ করতে হবে। এই নম্বরের মাধ্যমে আবেদনের অগ্রগতি জানা যাবে।

    বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকরা বিদেশি ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬এ ব্যবহার করবেন।

    অফলাইনে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার পদ্ধতি

    ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক, সহকারী ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক অথবা বুথস্তরের আধিকারিকের কাছ থেকে ফর্ম ৬ সংগ্রহ করা যায়। নির্বাচন কমিশনের সরকারি মাধ্যমেও এই ফর্ম পাওয়া যায়।

    প্রয়োজনীয় নথির প্রতিলিপি-সহ পূরণ করা ফর্ম সংশ্লিষ্ট ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক বা সহকারী আধিকারিকের কাছে সরাসরি জমা দেওয়া যায়। ডাকযোগেও পাঠানো যায়। সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্র এলাকার বুথস্তরের আধিকারিকের কাছেও ফর্ম জমা দেওয়া যায়।

    প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের ভোটার সহায়তা নম্বর ১৯৫০-এ যোগাযোগ করা যাবে।

    কারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন?

    ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে হলে সাধারণত চারটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

    ১. আবেদনকারীকে ভারতের নাগরিক হতে হবে।

    ২. ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার তারিখগুলির মধ্যে—১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই অথবা ১ অক্টোবর—যে কোনও একটি তারিখে তাঁর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

    ৩. যে বিধানসভা কেন্দ্র বা ভোটকেন্দ্রের এলাকার ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে চাইছেন, সেখানে তাঁকে সাধারণভাবে বসবাস করতে হবে।

    ৪. অন্য কোনও কারণে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য তিনি অযোগ্য না হয়ে থাকেন।

    আধিকারিকদের কী করতে বলেছে কমিশন?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় বাদ পড়ে যাওয়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে একাধিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    প্রথমত, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে থাকা ভোটার তালিকার সঙ্গে সংশোধনের পরে তৈরি চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে।

    এছাড়াও এমন ঘটনাগুলি খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে, যেখানে কোনও ভোটারের নাম অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হওয়ার প্রমাণ নেই, তিনি একাধিকবার তালিকাভুক্ত নন এবং তাঁর মৃত্যুও হয়নি—তবুও তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে (SIR)।

    এই ধরনের ক্ষেত্রে আধিকারিকদের ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ৬ পূরণে সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এই বিশেষ উদ্যোগে রাজনৈতিক দল এবং তাদের বুথস্তরের প্রতিনিধিদের সাহায্য নেওয়ার জন্যও রাজ্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

    এর মূল লক্ষ্য হল, সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়া সমস্ত যোগ্য ভোটার যাতে নির্ধারিত ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের নাম ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করা।

    নাম না থাকলে ভোটারদের কী করা উচিত?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পরে ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে না পেলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবার মাধ্যমে নিজের নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করতে হবে।

    যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নাম না থাকলে ভোটার পরিষেবা পোর্টাল, ভোটার সহায়তা অ্যাপ অথবা সংশ্লিষ্ট ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক, সহকারী ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক কিংবা বুথস্তরের আধিকারিকের মাধ্যমে ফর্ম ৬ জমা দিতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশ থেকে স্পষ্ট, বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সংশোধিত তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করে তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়াই লক্ষ্য। তবে (Voter List Name Deleted) বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর্যায় শেষ হয়ে যাওয়ার পরে ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিয়মিত সরকারি প্রক্রিয়াই কার্যকর থাকবে (SIR)।

     

  • EC: এসআইআর নিয়ে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, মতবিরোধের জল্পনা ওড়াল নির্বাচন কমিশন

    EC: এসআইআর নিয়ে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, মতবিরোধের জল্পনা ওড়াল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের জল্পনা খারিজ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (EC)। দেশজুড়ে এসআইআর কার্যকর করা-সহ এ সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের তিন সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার এসএস সান্ধু ও বিবেক জোশীর বৈঠকের পর এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয় (SIR)। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এসআইআর চলাকালীন ভোটারদের নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাঁদের শুনানির প্রক্রিয়া সহজ করার কথাও ঘোষণা করেছে কমিশন।

    সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, দাবি কমিশনের (EC)

    কমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহার দিয়ে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর পরিচালনার নির্দেশ সর্বসম্মতিক্রমে জারি করা হয়েছিল। কমিশনের দাবি, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টও ওই নির্দেশ বহাল রেখেছে। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে আরও ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের সময়সূচি ঘোষণার সিদ্ধান্তও সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন।

    একই সঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্রও সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন পেয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার বাইরে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্ম ব্যবহার করা হবে।

    কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের অভিযোগও অস্বীকার করা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো চিঠিটি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের নীতি সংক্রান্ত ছিল না। সেটি নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে কর্মরত এক আধিকারিকের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    কমিশন আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের জারি করা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের নির্দেশ দুই নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশের পর বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উপর ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের তদারকির দায়িত্বও কখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।

    গোয়ায় বাদ পড়া ৯৭ ভোটারের মধ্যে ৮১ জনের আবেদন

    এসআইআর প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দেওয়া তথ্যের উল্লেখ করে কমিশন জানিয়েছে, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের আবেদনপত্র সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO)।

    কমিশনের দাবি, গোয়ায় সংশ্লিষ্ট ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮১ জন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন (EC)।

    আপত্তি জমার সময়সীমা বৃদ্ধি

    দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের আবেদনের ভিত্তিতে এসআইআর সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের অনুরোধ বিবেচনা করেই এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    বাড়িতেই যাবেন বিএলও

    এসআইআর চলাকালীন যেসব ভোটারের তথ্যের সঙ্গে পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না অথবা নথিতে যৌক্তিক অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

    এই ধরনের ভোটারদের নোটিশ পাঠানো হলেও সাধারণত তাঁদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (AERO) দফতরে শুনানির জন্য হাজির হতে হবে না।

    পরিবর্তে বুথ লেভেল অফিসাররা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং সেগুলি ইসিআইনেট পোর্টালে আপলোড করবেন। ওই নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট ইআরও।

    কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ইআরও প্রয়োজন মনে করলে শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। সেক্ষেত্রেও অনলাইন শুনানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ভোটার তাঁর পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে নিজের হয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে পারবেন। অনলাইন শুনানির পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।

    পাশাপাশি, রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী মানুষ, শ্রমিক, দরিদ্র ও গৃহহীনদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেল্প ডেস্ক এবং বিশেষ শিবির আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচনী (EC) আধিকারিকদের।

    ২০টি অঞ্চলে এসআইআর সম্পূর্ণ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার-সহ ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন বা পরবর্তী সময়ে যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা নিয়মিত তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানাতে পারবেন।

    একই সুযোগ পাবেন নতুন এবং প্রথমবারের ভোটাররাও। সংশ্লিষ্ট ইআরও-র কাছে আবেদন জানাতে হবে তাঁদের। বাদ পড়া এবং নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য অবিলম্বে বিশেষ অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (SIR)।

    পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞ কমিটি

    নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইসিআইনেটের কার্যকারিতা ও আইনি বিধি মেনে পরিচালনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। পাশাপাশি আইআইটি বা আইআইআইটি থেকে একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞকেও কমিটিতে রাখা হবে।

    কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচনী আধিকারিকরা যাতে নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের পরামর্শের ভিত্তিতে পোর্টালে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও পরিবর্তন করা হবে।

    ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কোনও নতুন মডিউল বা পোর্টাল চালু করার আগে আধিকারিকদের কমিটিতে আলোচনা হবে। তার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে (EC)।

    কমিশনের বৈঠক ও প্রশাসনিক কাজেও নতুন নির্দেশ

    নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি বৈঠকের আলোচ্যসূচি আগাম সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে। বৈঠকের কার্যবিবরণীও সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে বিলি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    পাশাপাশি, কমিশনের সমস্ত আধিকারিকের বার্ষিক কর্মমূল্যায়ন রিপোর্ট প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারদের দেওয়া সমস্ত নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করতে হবে আধিকারিকদের।

    এর আগে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কমিশন জানিয়েছিল, এটি একটি বহুসদস্যবিশিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (SIR)। লিখিত পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই কমিশনের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে শনিবারের বৈঠকের পর এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়ার কথা পুনরায় জানাল কমিশন (EC)।

     

  • Rajya Sabha Election: পুজোর আগে আরও একটা নির্বাচন! কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে ভোট ১৬ অক্টোবর

    Rajya Sabha Election: পুজোর আগে আরও একটা নির্বাচন! কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে ভোট ১৬ অক্টোবর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোয়েল মল্লিকের (Koel Mallick) ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে উপনির্বাচনের (Rajya Sabha Election) দিন ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৬ অক্টোবর ওই আসনে ভোটগ্রহণ হবে। অর্থাৎ কয়েক মাস আগে খালি হওয়া আসনে নতুন সাংসদ বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই নজর থাকবে কোন দল কাকে প্রার্থী করে, সেদিকে। বাংলার এই আসনের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের ১০টি এবং উত্তরাখণ্ডের একটি রাজ্যসভা আসনে ভোট হবে। সেখানকার বর্তমান সাংসদদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের নভেম্বরে।

    কোন কোন আসনে ভোটগ্রহণ

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ অক্টোবর। ৭ অক্টোবর হবে মনোনয়নপত্র যাচাই। প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ অক্টোবর। ভোটগ্রহণ হবে ১৬ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। ওই দিনই বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। ১৯ অক্টোবরের মধ্যে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার কথা কমিশনের। উত্তরপ্রদেশের ১০ জন রাজ্যসভার সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৫ নভেম্বর। এই ১০টি আসনের মধ্যে বর্তমানে বিজেপির দখলে রয়েছে আটটি। সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির হাতে রয়েছে একটি করে আসন। মেয়াদ শেষ হতে চলা সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির ব্রিজ লাল, সীমা দ্বিবেদী, নীরজ শেখর, গীতা শাক্য, হরদীপ সিং পুরী, অরুণ সিং, বিএল বর্মা এবং দীনেশ শর্মা। সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব এবং বহুজন সমাজ পার্টির রামজি গৌতমের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। উত্তরাখণ্ড থেকে একটি রাজ্যসভা আসনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ওই আসনের বর্তমান সাংসদ বিজেপির নরেশ বনসল। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আসনটিতে নতুন করে নির্বাচন হবে।

    কোয়েলের আসনে কে

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল তৃণমূল। সেই তালিকায় বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এবং রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারের সঙ্গে নাম ছিল অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের। এর আগে প্রকাশ্যে রাজনীতির আশপাশে দেখা যায়নি কোয়েলকে। শপথের পর কোয়েল জানিয়েছিলেন, দেশের ও মানুষের সেবা করার সুযোগ হিসেবে তিনি দায়িত্বটিকে দেখছেন। তবে সাংসদ হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার সুযোগ হয়নি তাঁর। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হয়। তারপরই কোয়েলের ইস্তফা সম্পর্কে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। যা সত্যি হয় জুলাইয়ের শেষ দিকে। ছাব্বিশের ভোটে বিধানসভার বিন্যাস বদলেছে। সেই অঙ্কের হিসেব অনুযায়ী, কোয়েলের ছাড়া আসন এবার বিজেপিরই হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, এবার বিজেপির হয়ে ফের রাজ্যসভায় যেতে পারেন কোয়েল মল্লিকই।

     

  • ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা আপডেট এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) তৃতীয় পর্যায়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা (ECI) থেকে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৩৪টি নাম বাদ দিয়েছে (SIR) ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসেব সামনে এসেছে। এই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে মোট ভোটার ছিলেন ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৭ হাজার ৮০৭ জন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁদের মধ্যে ১১.৫১ শতাংশের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

    যাঁরা বাদ গেলেন (ECI)

    বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে রয়েছেন এমন ভোটার, যাঁদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি, অন্যত্র চলে গিয়েছেন, মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে অথবা একাধিক জায়গায় তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল। ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও আপডেট রাখাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। তবে এখনও চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা নির্ধারিত হয়নি। খসড়া তালিকায় নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যোগ্য নাগরিকেরা নতুন করে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদনও করতে পারবেন। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সংখ্যায় আরও পরিবর্তন হতে পারে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ

    পরম সংখ্যার বিচারে অন্ধ্রপ্রদেশে সব চেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেখানে ৪৪.৮৯ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সংশোধনের আগে থাকা মোট ভোটারের ১০.৭৮ শতাংশ। এর ফলে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ১৬ লাখ থেকে কমে প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বাদ পড়া ৪৪.৮৯ লাখ নামের মধ্যে ২২.৩০ লাখ ভোটার অন্যত্র চলে গিয়েছেন অথবা তাঁদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৫.২২ লাখ ভোটারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ৭.৩৭ লাখ ভোটারের নাম একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় ছিল। নাম বাদ পড়ার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হরিয়ানা। সেখানে ৩৩.৮৩ লাখ নাম বাদ পড়েছে। ওড়িশায় বাদ পড়েছে ২০.১২ লাখ নাম। এদিকে, সিকিমে সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে—৩৭ হাজার ৭২৪টি। মিজোরামে বাদ পড়েছে ৪৬ হাজার ১৬২টি নাম।

    শতাংশের হিসাবে শীর্ষে দাদরা ও নগর হাভেলি

    মোট ভোটারের তুলনায় নাম বাদ পড়ার হারে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ। সেখানে ২৯.৬৪ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। এর পরেই রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ, যেখানে বাদ পড়ার হার ১৯.০৯ শতাংশ। হরিয়ানায় এই হার ১৬.৩৮ শতাংশ এবং চণ্ডীগড়ে ১২.৮ শতাংশ। মিজোরামে নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে কম—৫.২ শতাংশ। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে ওড়িশায় ৬.০২ শতাংশ, মণিপুরে ৭.৫ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ১০.৩৯ শতাংশ, মেঘালয়ে ৭.৬৭ শতাংশ এবং ঝাড়খণ্ডে ১৬.৪৮ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। সিকিমে আগের তালিকার ৮ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে (ECI)।

    ১৬ রাজ্য ও ৩ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে তৃতীয় পর্যায়

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে মোট ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এগুলি হল দিল্লি, ওড়িশা, মিজোরাম, সিকিম, মণিপুর, উত্তরাখণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, তেলঙ্গনা, পাঞ্জাব, কর্নাটক, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং দাদরা ও নগর হাভেলি ও দমন ও দিউ। এর মধ্যে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, তেলঙ্গনা, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই ও গণনার কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ওই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের খসড়া তালিকাও (SIR) এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়।

    একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই শেষ সংশোধন

    এর আগেই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ছত্তিশগড়, গোয়া, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লক্ষদ্বীপে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শেষ হয়েছে। অসমে অবশ্য নাগরিকদের জাতীয় পঞ্জি সংক্রান্ত আইনি বিষয় বিবেচনা করে পৃথকভাবে বিশেষ সংশোধন করা হয়েছে (ECI)। বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও চ্যালেঞ্জ করা হয়। চলতি বছরের মার্চে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন পরিচালনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে।

    তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলাকালীন নির্বাচন কমিশন ভোটারদের তথ্য যাচাই এবং ভোটার তালিকা আপডেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে তালিকায় থাকে এবং একই ব্যক্তির একাধিক নাম বা পুরনো ও অযোগ্য নাম যাতে তালিকায় না (SIR) থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকায় যোগ্য নাগরিকেরা নিজেদের নাম সংশোধন, সংযোজন বা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির (ECI) আবেদন করতে পারবেন।

     

  • Election Commission of India: দল কার, প্রতীক কার? মমতা-ঋতব্রত, তৃণমূলের দুই পক্ষকেই নোটিস ধরাল নির্বাচন কমিশন

    Election Commission of India: দল কার, প্রতীক কার? মমতা-ঋতব্রত, তৃণমূলের দুই পক্ষকেই নোটিস ধরাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? তৃণমূলের অধিকার নিয়ে মমতা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দুই পক্ষকেই নোটিস দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। কেন প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের মান্যতা দেওয়া হবে সেই প্রসঙ্গে নিজেদের সমর্থনে তথ্য দিয়ে নোটিসের জবাব দিতে হবে। ৬ জুলাই, আগামী সোমবার, বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দুই পক্ষকেই নোটিসের জবাব জমা দিতে হবে এমনই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে স্বীকৃতি আদায় করতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই কমিশনের তরফে দুই শিবিরকেই চিঠি দেওয়া হয়।

    দুই পক্ষের দাবি

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরই ঘাসফুল শিবিরে ভাঙন ধরে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে বেরিয়ে এসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী তৈরি হয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫-রও বেশি জনের সমর্থন রয়েছে তাঁদের কাছে। ইতিমধ্যে ঋতব্রত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিতও হয়েছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের যুক্তি, বিধানসভার সংখ্যার চেয়ে সাংগঠনিক শক্তিই দলের কর্তৃত্ব নির্ধারণ করে। দলের সংবিধান বা নিজস্ব আইন রয়েছে। সেই মোতাবেক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এখনও দৃঢ়ভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে। তাঁরা সেই সংক্রান্ত নথিও জমা করেছেন কমিশনে।

    কমিশনের বিজ্ঞপ্তি-তে কী বলা হল

    সাম্প্রতিক, কালে তৃণমূলের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি নিয়েও জট ক্রমেই বেড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে বৈধতা নিয়ে। এই আবহে ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, ২০২৫ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে পুরনো ওয়ার্কিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর আর কোনও অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হয়নি। অপরদিকে মমতা শিবিরের বক্তব্য, ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁরা কমিটির তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। ফলে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়। এখন এর মূলেই যেতে চাইছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কারা ‘আসল’ তৃণমূল এবং কাদের হাতে দলের প্রতীক, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী ও অন্য সাংগঠনিক বিষয় পরিচালনার অধিকার থাকবে- তা নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দুই পক্ষকেই উত্তর দিতে হবে।

  • TMC Update: তৃণমূলে ‘আসল’ কারা? দলের নাম-প্রতীক ও তহবিল কার হাতে থাকবে? নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রত শিবির

    TMC Update: তৃণমূলে ‘আসল’ কারা? দলের নাম-প্রতীক ও তহবিল কার হাতে থাকবে? নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রত শিবির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC Update) অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার পৌঁছল জাতীয় স্তরে। দলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ এবং দলীয় তহবিলের আসল মালিকানার দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার নতুন দিল্লিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) সদর দফতরে দেখা করল তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারাই ‘আসল তৃণমূল’ এবং এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ঋতব্রত ছাড়াও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, অরূপ রায়, শুভাশিস দাস, গোলাম রব্বানি-সহ ১০ জন।

    ‘আমি’ নয়, এখানে সবাই ‘আমরা’

    গত ২২ জুন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ডাকা একটি বিশেষ অধিবেশনের পর থেকেই এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূত্রপাত। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “গত ২২ জুন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পরপরই আমরা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাই এবং কলকাতায় সশরীরে দেখা করি। আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনাররা আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শুনেছেন। আমরা আমাদের যুক্তিগুলো তুলে ধরেছি এবং আশা করছি কমিশন খুব দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।” একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন, “আমি কোনও দাবিতে যেতে চাই না। তবে ২৯১টি বিধানসভা কেন্দ্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল, তা সত্ত্বেও তৃণমূল হেরেছে। বাংলার জনমত স্পষ্টভাবেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে গিয়েছে। দলটা আসলে একটা পারিবারিক পার্টিতে পরিণত হয়েছিল। তবে আমাদের এখানে কেউ ‘আমি’ নয়, এখানে সবাই ‘আমরা’।”

    প্রতীক ও তহবিলের দখল নেওয়ার জন্য কমিশনের দরবারে

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের হাত ছেড়ে বেরিয়ে আসায় দলের অন্দরে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি পরবর্তীতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানায় এবং একটি নতুন ৩০ সদস্যের জাতীয় কর্মসমিতি (NWC) ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে এই নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের বিষয়টিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দলীয় প্রতীক ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ ঘিরেই মূল লড়াই—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা, ঋতব্রতরা মূলত কালীঘাট শিবিরের হাত থেকে দলের প্রতীক এবং তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছেন। বিশেষ করে তাঁদের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামানের হাতে দলীয় তহবিলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার দাবিই কমিশনের কাছে জানানো হয়ে থাকতে পারে।

    তৃণমূল কংগ্রেস দলটি কার

    আসলে তৃণমূল কংগ্রেস দলটি কার, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। আর এমন পরিস্থিতিতেই ঋতব্রতর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ জন বিধায়কের একটি প্রতিনিধি দল আজ নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঋতব্রত জানান, তাঁরা কমিশনকে দাবি করেছেন যে তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। দলের কেন্দ্রীয় কমিটি, সংসদীয় দল, বিধায়ক দল, জেলার স্তরের অধিকাংশ সংগঠন তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে। তারপর তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা খুব শীঘ্রই আমাদের দাবি এবং জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে।’

    তৃণমূলের দ্বৈরথে এখন সংকটে নির্বাচন কমিশন

    হাত গুটিয়ে বসে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও। ঋতব্রতরা যখন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি তৈরির তোড়জোড় করছিলেন, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ আলাদা একটি নতুন কমিটির তালিকা তৈরি করে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে নিজেই সই করেছেন নেত্রী। স্বাভাবিকভাবেই জোড়া কমিটির এই দ্বৈরথে এখন সংকটে নির্বাচন কমিশন। একই দলের সমান্তরাল দুটি দাবি জমা পড়ায় কমিশন শেষ পর্যন্ত কাকে ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, আর কার হাতে উঠবে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দলের রাশ কার হাতে থাকবে সেই লড়াই আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের আগে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, যদি নির্বাচন কমিশন দলীয় প্রতীক ও সংগঠনের প্রশ্নে কোনও পদক্ষেপ নেয়, তবে তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।  সূত্রের খবর, ঋতব্রতপন্থীদের সঙ্গে কথা বলার পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদেরও ডেকে পাঠিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে চাইবে।

  • ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের (Rajya Sabha Polls) বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার জারি হয় এই বিজ্ঞপ্তি। এর মধ্যে ১০টি রাজ্যের ২৪টি আসন সদস্যদের অবসরের কারণে ফাঁকা হয়েছে। পদত্যাগজনিত কারণে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও ওড়িশার ৩টি আসনে হবে উপনির্বাচন।

    নির্বাচনের সাত-সতেরো (ECI)

    কমিশন জানিয়েছে, ২৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে ১৮ জুন। ওই দিনই বিকেল ৫টার পর হবে ভোট গণনা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৮ জুন বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা ৯ জুন মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন। ১১ জুন প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন।অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, রাজস্থান, অরুণাচল প্রদেশ, কর্নাটক এবং মিজোরামে ২৪টি শূন্যপদে ভোট হবে। পদত্যাগের কারণে আরও ৩টি পদ শূন্য। ফলে বিরোধী জোট রাজ্যসভায় অন্তত তিনটি অতিরিক্ত আসন পেতে পারে বলেই ইঙ্গিত। যদিও শাসক বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ তাদের বর্তমান শক্তি বজায় রাখবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। আগামী মাসে রাজ্যসভা থেকে যাঁরা অবসর নেবেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু ও জর্জ কুরিয়েন।

    শক্তি বাড়ছে এনডিএর!

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২৭টি আসনের মধ্যে শাসক এনডিএ তাদের শক্তি এক বাড়িয়ে ১৯-এ নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ২৪৫ সদস্য বিশিষ্ট রাজ্যসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ১৪৮। কংগ্রেসের রয়েছে ৪টি আসন, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-এর ১টি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP)-এর ৩টি আসন। রাজ্য বিধানসভাগুলিতে (Rajya Sabha Polls) দলগুলির বর্তমান শক্তির ভিত্তিতে কংগ্রেস তাদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ করতে পারে (ECI)। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দু’টি আসনে জিততে পারে। শাসক তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (TVK) তামিলনাড়ুর উপনির্বাচনে একটি আসন জিতে প্রথমবারের মতো রাজ্যসভায় জায়গা পেতে পারে।

    এনডিএ ভালো অবস্থায়

    এনসিপি নেতা সুনেত্রা পাওয়ার এবং এআইএডিএমকে নেতা সিভি শানমুগম বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ায় রাজ্যসভায় ইস্তফা দিয়েছেন। সেই কারণেই উপনির্বাচন হবে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে। ওড়িশায় দেবাশিস সমান্ত রায়, বিজেডি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ছেড়েছেন রাজ্যসভার সদস্যপদও। তাই এই কেন্দ্রেও হবে উপনির্বাচন (ECI)। মহারাষ্ট্রে সুনেত্রা পাওয়ারের শূন্য পদে এনডিএ ভালো অবস্থায় রয়েছে (Rajya Sabha Polls)। তামিলনাড়ুর একটিমাত্র আসন বন্ধু দলগুলির সমর্থনে টিভিকের দখলে যেতে পারে। ওড়িশার আসনটি শাসক দলের ঝুলিতে যেতে পারে।

    কোন আসনে জিতছে কারা

    অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ চারটি আসনই জিততে পারে। গুজরাটে বিজেপি চারটি আসনেই জিতবে। তাই এই রাজ্য থেকে কংগ্রেস তাদের একমাত্র আসনটি খোয়াতে পারে। কর্নাটকে কংগ্রেস চারটির মধ্যে তিনটি আসনে জিততে পারে, একটি আসন যেতে পারে পদ্ম-ঝুলিতে। খাড়্গে ফের রাজ্যসভায় মনোনীত হতে পারেন (ECI)। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিজেপি দু’টি করে আসন জিততে পারে। এই দুই রাজ্যে কংগ্রেস একটি করে আসন পেতে পারে। ঝাড়খণ্ডে শাসক জেএমএম-কংগ্রেস জোট দু’টি আসনই জিততে পারে। তাদের জয়ের পথে খাড়া প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতে পারে বিজেপি। অর্থাৎ, জোরদার লড়াই হতে পারে (Rajya Sabha Polls)।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক রাজ্যসভা নির্বাচনে ১০টি রাজ্যের ৩৭টি আসনের মধ্যে (ECI) বিজেপি জিতেছিল ১৩টি আসনে।

     

  • Suvendu Vs Mamata: এ কী অবস্থা! বেশ কিছু বুথে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’, সবিস্তার হিসেব দিল কমিশন

    Suvendu Vs Mamata: এ কী অবস্থা! বেশ কিছু বুথে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’, সবিস্তার হিসেব দিল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ঘরের মেয়ে’কেই চাইল না খোদ ভবানীপুরবাসী। এ কী অবস্থা জননেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)? ভবানীপুরের একাধিক বুথে নাকি ৫০টির-ও কম ভোট পেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এই কেন্দ্রে তাঁর নিকটতম বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Vs Mamata) কাছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা পরাজিত হয়েছেন ১৫,১০৫ ভোটে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়ে এই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ৫৮ হাজারের বেশি ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। আর পাঁচ বছরের মধ্যেই পালা বদল!

    কোথায় ৫০টিও ভোট পাননি মমতা!

    ভবানীপুর বিধানসভায় বুথের সংখ্যা ছিল ২৬৭টি। প্রতি বুথে ভোটদাতার সংখ্যা ছিল মোটামুটি ৪০০ থেকে ৭০০। সেখানে এমন অনেক বুথ রয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একশো ভোটও পাননি। কমিশনের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১১ নম্বর বুথে তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭০টি ভোট। ওই বুথে বিজেপি-র শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পেয়েছেন ১০৬টি ভোট। কিন্তু এমন বেশ কিছু বুথ রয়েছে যেখানে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’! যেমন ১৪ নম্বর বুথ। সেখানে ৪৩টি ভোট পেয়েছেন তিনি। ১৬ নম্বর বুথে ৪২, ২০ নম্বর বুথে ৪১, ২৪ নম্বর বুথে ৪৫, ৭৭ নম্বর বুথে ৪০, ৮৯ নম্বর বুথে ৪১, ১০৫ নম্বর বুথে ৩১টি ভোট পেয়েছেন মমতা। ২২৭ নম্বর বুথে মাত্র ১২টি ভোট পেয়েছেন মমতা।

    মমতা-শুভেন্দু বিরাট ফারাক

    নির্বাচন কমিশন যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে যে সব মিলিয়ে মমতা ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ২৮টি বুথে। উল্টো দিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ৩৯টি বুথে। সার্বিক ভাবে শুভেন্দু অধিকারী ২০৭টি বুথে লিড পেয়েছেন। সেই জায়গায় মমতা মাত্র ৬০টি বুথে লিড পান। সার্বিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন মোট ৭৩,১৯৭টি ভোট। শতাংশের বিচারে ৫৩.০২। উল্টোদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,৮১২টি ভোট। অর্থাৎ, ৪২.১৯%। এই বিরাট ফারাকই পার্থক্য গড়ে দেয়।

LinkedIn
Share