Tag: Economic

  • Economic Survey: রবিবার বাজেট, তার আগে সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ নির্মলার, কী এর গুরুত্ব?

    Economic Survey: রবিবার বাজেট, তার আগে সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ নির্মলার, কী এর গুরুত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়েছে বাজেট অধিবেশন (Budget 2026) । আজ, বৃহস্পতিবার সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ (Economic Survey) করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার কথা ১৩ ফেব্রুয়ারিতে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার আগের ধাপ হল অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ। ফি বছর অর্থনৈতিক সমীক্ষার দিকে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক বিশ্লেষকদের বিশেষ নজর থাকে। কারণ এই নথিতে গত এক বছরে ভারতীয় অর্থনীতির সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বিস্তারিত মূল্যায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা মেলে।

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা কী (Economic Survey)

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা একটি বিস্তৃত বাৎসরিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা, যা অর্থ মন্ত্রকের অধীন অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের (ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স) অর্থনৈতিক বিভাগ প্রস্তুত করে। এই সমীক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। এই নথিতে অর্থনৈতিক সূচক, গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব ও আর্থিক সূচকগুলির গভীর বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতমুখী মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স নথি হিসেবে কাজ করে, যা প্রায়ই আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে কী ধরনের নীতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারিত হতে পারে, তার ইঙ্গিত দেয় (Economic Survey)।

    বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ সংসদের উভয় কক্ষে পেশ করা হবে বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ, সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে। এর পরেই প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার নেতৃত্বে হবে সাংবাদিক বৈঠক। অর্থনৈতিক সমীক্ষা সাধারণত দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবণতার সার্বিক ছবি তুলে ধরে। চলতি বছরে এতে বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিস্থাপকতা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সম্ভাব্য প্রভাব, কর্মসংস্থানে এআইয়ের প্রভাব এবং মার্কিন ডলারের তুলনায় রুপির মূল্য হ্রাস নিয়ে আলোচনার কথা থাকতে পারে। এই সমীক্ষায় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নতুন নীতি-ভাবনাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রথম চালু হয় ১৯৫০–৫১ অর্থবর্ষে বাজেট নথির অংশ হিসেবে। পরবর্তী সময়ে এটি একটি স্বতন্ত্র নথি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যা কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে সংসদে পেশ করা হয়। প্রতি বছর সমীক্ষার মূল থিম নীতিনির্ধারক ও পর্যবেক্ষকদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে (Budget 2026)। এই সমীক্ষায় খাতভিত্তিক বিশদ পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলাদা অধ্যায়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে (Economic Survey)।

  • PM Modi: প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেল দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার, কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi: প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেল দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার, কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) দেশের অর্থনীতি (Economic Growth)। ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পূর্বাভাস ছিল ৭ শতাংশ। সেই প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গিয়েছে দেশের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আর্থিক বৃদ্ধি। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৮.২ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির হার খুবই উৎসাহজনক এবং সরকার সংস্কার আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং প্রতিটি নাগরিকের অনায়াস জীবনযাপনকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ চালিয়ে যাবে।” জানা গিয়েছে, শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি জিএসটির হার হ্রাসের ফলে সাধারণ মানুষ বেশি কেনাকাটা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত এই দু’টি কারণেই আর্থিক বৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

    জিডিপির এই বৃদ্ধি (PM Modi)

    বিগত ছ’টি ত্রৈমাসিকে জিডিপির এই বৃদ্ধি দেখা যায়নি। এর ঠিক আগের ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। অথচ এক বছর আগেও এই সময় বৃদ্ধি হয়েছিল ৫.৬ শতাংশ। এই বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে চতুর্থ ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধি হয়েছিল ৮.৪ শতাংশ (PM Modi)।  এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপির বৃদ্ধি হয়েছে ৮.২ শতাংশ। আমাদের উন্নয়নমূখী নীতি এবং স্কংস্কারকেই প্রতিফলিত করছে এই ফল। এটি দেশবাসীর কঠিন পরিশ্রমেরও প্রমাণ। তাঁদের উদ্যোগকেও প্রতিফলিত করে।” তিনি বলেন, “এটি আমাদের সরকার সংস্কারকে আরও এগিয়ে নিতে এবং প্রতিটি নাগরিকের জীবন-যাপনের মানোন্নয়ন নিশ্চিত (Economic Growth) করতে কাজ চালিয়ে যাবে। আমাদের সরকার সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাবে। শক্তিশালী করবে প্রত্যেক নাগরিকের জীবনযাত্রার মান (PM Modi)।”

    কী বললেন অর্থমন্ত্রী সীতারামন

    জিডিপির বৃদ্ধি ৮.২ শতাংশ হওয়ায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, “আজ প্রকাশিত জিডিপি অনুমানগুলি ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির গতিশীলতা প্রদর্শন করে।” এর পরেই তিনি বলেন, “ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ।” সীতারামন বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ৮.২ শতাংশ, যা ভারতের অবস্থানকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমান অর্থবর্ষে প্রথম ছ’মাসে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার নথিবদ্ধ হয়েছিল ৮ শতাংশ।” তিনি বলেন, “এই প্রবৃদ্ধি এসেছে ধারাবাহিক আর্থিক সংযম, লক্ষ্যমাত্রা ভিত্তিক সরকারি বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে। এটি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করেছে এবং অনায়াস করেছে ব্যবসা করার প্রক্রিয়া (PM Modi)।” এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী লেখেন, “বিভিন্ন উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি সূচকও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা এবং বিস্তৃতভিত্তিক ভোগ বৃদ্ধির দিকে নির্দেশ করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার এই প্রবৃদ্ধির ধারাকে অব্যাহত রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সাহায্য করে এমন সংস্কার এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (Economic Growth)।”

    কী বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল

    বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “জিডিপির এই পরিসংখ্যান নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং স্থায়িত্বের ফল। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে।” এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “এই অসাধারণ ফল নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং স্থায়িত্বের প্রতিফলন, যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করছে।”  সরকারি তথ্য বলছে, চলতি অর্থবর্ষে ২০২৫-’২৬ এর জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ভারতের বাস্তব জিডিপি ৮.২ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে গত অর্থবর্ষের একই প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫.৬ শতাংশ (PM Modi)।

    ভারতের নামমাত্র জিডিপি

    পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের অধীনে থাকা জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর (NSO) জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের মোট জিডিপি ত্রৈমাসিক অনুমান প্রকাশ করেছে। তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ভারতের নামমাত্র জিডিপি ৮.৭ শতাংশ হারে বেড়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ক্ষেত্র ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাস্তব জিডিপি বৃদ্ধির হারকে ৮.০ শতাংশের ওপরে উঠতে সাহায্য করেছে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে উৎপাদন ৯.১ শতাংশ এবং নির্মাণ ৭.২ শতাংশ বৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই প্রান্তিকে স্থির মূল্যে ৭.০ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে। তৃতীয় ক্ষেত্রে আর্থিক, রিয়েল এস্টেট ও পেশাগত পরিষেবা ১০.২ শতাংশ বৃদ্ধির হার ধরে রেখে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ক্ষেত্রে স্থির মূল্যে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে (Economic Growth)। কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাত এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, জল সরবরাহ ও অন্যান্য ইউটিলিটি পরিষেবা খাত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ক্ষেত্রে মাঝারি মাত্রার বাস্তব প্রবৃদ্ধি দেখেছে (PM Modi)।

    বাস্তব জিডিপি

    বাস্তব জিডিপি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) ৮.০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এটি ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধের ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় বেশি। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভারতের বাস্তব জিডিপি ৭.৮ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের অর্থবর্ষের একই সময়ের ৬.৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রান্তিকে ভারতের নামমাত্র জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.৮ শতাংশ। প্রসঙ্গত, ‘বিকশিত ভারতে’র লক্ষ্য অর্থাৎ ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারতের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে, ভারতের প্রায় দশ থেকে বিশ বছর ধরে গড়ে ৮ শতাংশের মতো স্থির মূল্যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে (PM Modi)।

  • Pakistan: দেনার বোঝা ৭৬ লক্ষ কোটি পাক রুপি! অতলে তলিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান, বলছে সমীক্ষা

    Pakistan: দেনার বোঝা ৭৬ লক্ষ কোটি পাক রুপি! অতলে তলিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান, বলছে সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাশাপাশি দুই দেশ। একটির চালকের আসনে বসে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্যটির রাশ রয়েছে শাহবাজ শরিফের (Pakistan) হাতে। মোদির দেশ যখন তরতরিয়ে উন্নতির শিখরে পৌঁছচ্ছে, ঠিক তখনই শাহবাজের নেতৃত্বে ডুবছে পাকিস্তান। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় (Economic Survey) জানা গিয়েছে, দেনার দায়ে মাথা বিকিয়ে যাওয়ার জোগাড় পাকিস্তানের।

    পাক অর্থনীতির হাঁড়ির হাল (Pakistan)

    পাকিস্তানের অর্থনীতির যে হাঁড়ির হাল হয়েছে, তা জানা গিয়েছিল আগেই। এবার ইসলামাবাদের বিড়ম্বনা বাড়াল আরও একটি রিপোর্ট। সোমবার প্রকাশিত পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত পাকিস্তানের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৬ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ ৭৬ লক্ষ কোটি পাকিস্তানি রুপি (ভারতীয় মুদ্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা)। যা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ইতিহাসে নয়া রেকর্ড।

    ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ

    প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত চার বছরে পাকিস্তানের ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ আকার নিয়েছে। ২০২০-২১ সালে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৯ হাজার ৮৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ ১০ বছর আগে পাকিস্তানের ঘাড়ে দেনার বোঝা ছিল ১৭ হাজার ৩৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে দেখতে গেলে পাকিস্তানের ঋণের পরিমাণ গত দশ বছরে বেড়েছে ১০ গুণ। ১০ জুন সংসদে বাজেট পেশ করেছে শেহবাজ শরিফের সরকার। তার আগে সোমবার প্রকাশ করা হয় এই আর্থিক সমীক্ষার রিপোর্ট। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ৭৬ ট্রিলিয়নের এই ঋণের মধ্যে ৫১ হাজার ৫১৮ মার্কিন বিলিয়ন ডলার দেশের অন্দরের ঋণ ও ২৪ হাজার ৪৮৯ মার্কিন বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ।

    জিডিপির অভিমুখ

    চলতি অর্থবর্ষে কোন দিকে দেশের জিডিপির অভিমুখ, তা নিয়েও সোমবার মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “২০২৩ সালে পাকিস্তানের জিডিপি -০.২ হয়ে গিয়েছিল। যা ২০২৪ সালে বেড়ে হয় ২.৫। ২০২৫ সালে দেশের জিডিপি বেড়ে হয়েছে ২.৭। যা স্পষ্ট করছে পাকিস্তান নিজের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। এর পাশাপাশি, মজবুত উন্নয়নেও মনযোগ দিয়েছে (Economic Survey)।”

    টালমাটাল পাকিস্তানের অর্থনীতি

    কীভাবে বাড়ছে ঋণের পরিমাণ? বিগত কয়েক বছর ধরে টালমাটাল হয়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। পরিস্থিতি এতটাই বেসামাল যে ঋণ করে দেশ চালাতে হচ্ছে তাদের। সম্প্রতি ফের একবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার থেকে ৭০০ কোটি টাকার ঋণ মকুব করিয়েছে পাকিস্তান। যার মধ্যে ১০০ কোটি টাকা আপাতত পেয়েছে তারা (Pakistan)।

    কী বলছেন পাক অর্থমন্ত্রী

    রিপোর্ট পেশ করে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মহম্মদ আওরঙ্গজেব বলেন, “২০২৫ সালে দেশের জিডিপি বেড়ে হয়েছে ২.৭। অথচ বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখন পৌঁছেছে ২.৮ শতাংশে।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানের পরবর্তী অর্থবর্ষ হবে একটি মোড় ঘোরানোর গল্প।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, “এবার বাজেটে আইএমএফের শর্ত পূরণ, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধি-কেন্দ্রিক সংস্কারের দিকে নজর দেবে।” ম্যাক্রো অর্থনৈতিক সূচক তুলে ধরে আওরঙ্গজেব বলেন, “জুলাই থেকে এপ্রিল অর্থবর্ষ ২০২৫ পর্যন্ত চলতি হিসাবে ১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উদ্বৃত্ত রেকর্ড করা হয়েছে, যা মূলত শক্তিশালী আইটি রফতানির কারণে হয়েছে, যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।” তিনি বলেন, “রেমিট্যান্স (প্রবাসীদের পাঠানো টাকা থেকে যে আয়) এই বছর শেষে ৩৭ থেকে ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস। দু’বছর আগেও এর (Economic Survey) পরিমাণ ছিল ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।” ম্যাক্রো অর্থনৈতিক সূচক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সরকারি ঋণ এবং জিডিপির অনুপাতে ঋণের হার ৬৮ শতাংশ ছিল, যা এখন কমে হয়েছে ৬৫ শতাংশ (Pakistan)।”

    বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ের পরিমাণ

    তিনি জানান, ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল ৯.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩ সালের তুলনায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘুরে দাঁড়ানো। কারণ সেই সময় পাকিস্তানের হাতে মাত্র দু’সপ্তাহের আমদানি ব্যয় কভার করার মতো সঞ্চয় ছিল। পাক অর্থমন্ত্রী বলেন, “২০২৫ সালে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬.৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা উন্নত অর্থনৈতিক সূচক ও বিনিয়োগকারীদের পুনরায় আস্থার ফলে সম্ভব হয়েছে। মোট সঞ্চয়ের মধ্যে পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের হাতে ছিল ১১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে ছিল ৫.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।”

    তিনি বলেন, “এই বৃদ্ধির নেপথ্য কারণ হল উন্নত ক্রেডিট রেটিং, যেখানে ফিচ (Fitch) পাকিস্তানের সার্বভৌম রেটিং সিসিসি প্লাস থেকে উন্নীত করে বি- করেছে এবং দৃষ্টিভঙ্গী স্থিতিশীল রেখেছে।” মন্ত্রী জানান, আগামী বছরে ২৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে (Economic Survey)। এতে বছরে ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস পাবে ৮০০ বিলিয়ন রুপি (Pakistan)।

  • Economic Corridors: দুটি অর্থনৈতিক করিডরের কাজ শেষ হলে উত্তর-পূর্বে বাড়বে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ

    Economic Corridors: দুটি অর্থনৈতিক করিডরের কাজ শেষ হলে উত্তর-পূর্বে বাড়বে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অশান্ত বাংলাদেশ। তাই ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে আন্তঃসীমান্ত করিডর বাস্তবায়নের কাজ। এজন্য প্রয়োজন শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, রেগুলেটরি অনুমোদন এবং লজিস্টিক সমন্বয় (Economic Corridors)। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অশান্ত বাংলাদেশের পক্ষে যা করা এই মুহূর্তে একপ্রকার অসম্ভব। তাই কঠিন হয়ে উঠছে (Northeast India) আন্তঃসীমান্ত করিডর বাস্তবায়নের কাজ।

    ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা (Economic Corridors)

    ভারতের স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডর, যা “চিকেনস নেক” নামে পরিচিত, এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করার প্রধান পথ। এর ফলে এই অঞ্চলে যানজট নিত্যদিনের ঘটনা। অঞ্চলটি নানা দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিবহুল এবং সংবেদনশীল। তবে, নয়া দুটি প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর— হিলি-মহেন্দ্রগঞ্জ আন্তঃসীমান্ত অর্থনৈতিক করিডর ও ভুটান-বড়োল্যান্ড-বঙ্গোপসাগর (B3) করিডর— এই অঞ্চলের সংযোগ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তায় বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা রাখে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এই দুটি করিডরের কাজ বাস্তবায়িত হলে উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে যাতায়াতের সময়, কমবে খরচ, বাড়বে অর্থনতৈক সুযোগ। আরও একটা লাভ হবে। সেটি হল ঐতিহ্যবাহী শিলিগুড়ি রুটের চাপ কমা।

    হিলি-মহেন্দ্রগঞ্জ করিডর

    হিলি-মহেন্দ্রগঞ্জ করিডর একটি উচ্চকাঙ্খী প্রকল্প। এর মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের মাধ্যমে মেঘালয় এবং বৃহত্তর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সড়ক ও রেল সংযোগকে আরও শক্তিশালী করা। পশ্চিমবঙ্গের হিলি এবং মেঘালয়ের গারো পাহাড় অঞ্চলের মহেন্দ্রগঞ্জ—উভয়ই বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত শেয়ার করে, যা এই করিডরকে একটি কৌশলগত (Economic Corridors) আন্তঃসীমান্ত রুটে পরিণত করেছে। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা বলেন, “এই ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডর ভ্রমণের সময় এবং খরচ ২৫-৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।” বর্তমানে, কলকাতা থেকে মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং অসমের বরাক ভ্যালিতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণের জন্য ব্যবহার করতে হয় চিকেনস নেক। এই রুটে যাতায়াত সময় এবং খরচ সাপেক্ষ। এই করিডর চালু হলে ভ্রমণের দূরত্ব একধাক্কায় কমে যাবে ৬০০-৭০০ কিলোমিটার। এতে লাভবান হবেন ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা উভয়েই। কারণ পরিবহণ খরচ কমলে প্রত্যাশিতভাবেই কমে যাবে পণ্যের দরও (Northeast India)।

    এনএইচআইডিসিএল

    ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) ইতিমধ্যেই সড়ক সংযোগ বিশ্লেষণের কাজ শেষ করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্যও শেয়ার করেছে। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, করিডরের পরিকল্পনা এখনও বাতিল হয়নি। এছাড়াও, ভারতীয় রেলওয়ে হিলি থেকে মহেন্দ্রগঞ্জ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঘোড়াঘাট, পলাশবাড়ি এবং গাইবান্ধার মধ্যে দিয়ে একটি আন্তঃসীমান্ত রেলওয়ে প্রকল্পের জন্য ফাইনাল লোকেশন সার্ভে অনুমোদন করেছে। যদিও এর বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে, তবুও এই পদক্ষেপ করিডর সম্ভাবনা বাস্তবায়নের দিকে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত (Economic Corridors) দেয়।

    ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক

    তবে, এই দুই প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের আগে, এই করিডর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার পর এই দুই করিডর রূপায়ণে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তার মেঘ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারতকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য ঢাকার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। জানা গিয়েছে, এই করিডর একটি প্রধান অর্থনৈতিক ধমনী হিসেবে কাজ করবে, যা মেঘালয়, বরাক ভ্যালি, ত্রিপুরা এবং অন্যান্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের ব্যবসায়ীদের পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে আরও দক্ষ বাণিজ্যে সক্ষম করবে। পণ্য দ্রুত চলাচলের মাধ্যমে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে, বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে। সুযোগ বাড়বে নয়া কর্মসংস্থানের (Northeast India)।

    ভুটান-বড়োল্যান্ড-বঙ্গোপসাগর করিডর

    দ্বিতীয় প্রস্তাবিত করিডর হল—ভুটান-বড়োল্যান্ড-বঙ্গোপসাগর করিডর—এটি একটি কৌশলগত উদ্যোগ যা অসম ও মেঘালয়ের মাধ্যমে ভুটানকে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে। এই করিডরের উদ্দেশ্য হল বাণিজ্য ও পরিবহণকে আরও অনায়াস করা এবং ভারত ও ভুটানের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। বড়োল্যান্ড, অসমের জোগিঘোপা এবং মেঘালয়ের ফুলবাড়ি এই বি-থ্রি করিডরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে কাজ করবে। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত ফুলবাড়ির অবস্থান এই করিডরের সম্ভাবনাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। কারণ এটি জলপথে পণ্য পরিবহণের সুযোগ দেয়। এর ফলে সড়ক, রেল ও জলপথের সমন্বয়ে পরিবহণ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব হবে।

    বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার

    ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা এই করিডরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভুটান আমদানি ও রফতানির জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল। উন্নত পরিকাঠামো এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক বিনিময়কে আরও বৃদ্ধি করবে। উন্নত সংযোগ ভুটানের জলবিদ্যুৎ, কৃষিপণ্য ও হস্তশিল্পের মতো রফতানিগুলিকে উপকৃত করবে। এর পাশাপাশি ভারতকে ভুটানের বাজারে আরও ভালো প্রবেশাধিকার দেবে (Economic Corridors)। এছাড়াও, ঐতিহাসিকভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রভাবিত বড়োল্যান্ড, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্য নেটওয়ার্কে (Northeast India) একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংযোগ হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে। এই করিডর পরিকাঠামো, লজিস্টিক এবং শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে, যা চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং এই অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে।

    বাংলাদেশের বন্দরগুলিতে ভারতের প্রবেশাধিকার

    এই করিডর বাংলাদেশের বন্দরগুলিতে ভারতের প্রবেশাধিকারের সম্পূরক হিসেবেও কাজ করবে। দু’বছর আগে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে। এই চুক্তির ফলে কলকাতা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি, বিশেষ করে ত্রিপুরার মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৮০০ কিমি কমিয়েছে। বি-থ্রি করিডরের মাধ্যমে, ভারত বাংলাদেশের জলপথগুলিকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যকে আরও মসৃণ ও সাশ্রয়ী করে তুলবে।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, হিলি-মহেন্দ্রগঞ্জ আন্তঃজাতীয় অর্থনৈতিক করিডর এবং ভুটান-বড়োল্যান্ড-বঙ্গোপসাগর করিডর ভারতের পূর্বাঞ্চলের জন্য, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য একটি গেম-চেঞ্জার হতে পারে। বর্তমানে, অসম, মেঘালয়, মণিপুর, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচল প্রদেশ থেকে ৯৫ শতাংশ রফতানি শিলিগুড়ি করিডরের মাধ্যমে সড়কপথে পরিবহণ করা হয়। বাকি ৫ শতাংশ নির্ভর করে রেলের ওপর (Economic Corridors)। এই সংকীর্ণ করিডরের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা লজিস্টিক বাধা তৈরি করে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। প্রস্তাবিত করিডরগুলি বিকল্প বাণিজ্য ও পরিবহণ (Northeast India) রুট দেওয়ার মাধ্যমে চিকেনস নেকের বোঝা কমাতে সাহায্য করবে।

    সীমান্ত শেয়ার

    প্রসঙ্গত, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি চিন, মায়ানমার, ভুটান ও বাংলাদেশ সহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সীমান্ত শেয়ার করে। দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, বিশেষ করে তার ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে’র মাধ্যমে, ভারতের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। প্রস্তাবিত করিডরের মূল অংশীদার বাংলাদেশ এবং ভুটান, পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিতে চিনা বিনিয়োগ ক্রমবর্ধমানভাবে প্রত্যক্ষ করেছে। উন্নত যোগাযোগ এবং পরিকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে এই দেশগুলির সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা বেজিংয়ের উপস্থিতির ভারসাম্য বজায় রাখবে এবং এই অঞ্চলে নয়াদিল্লির নেতৃত্ব পুনর্নিশ্চিত করবে।

    কৌশলগত দুর্বলতা হ্রাস

    এই প্রকল্পগুলি কৌশলগত দুর্বলতা হ্রাস করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাও উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। শিলিগুড়ি করিডরে কোনও বিঘ্ন ঘটলে—প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অথবা নিরাপত্তা হুমকির কারণে—এই নতুন করিডরগুলি উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির জন্য নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। সর্বোপরি, এই করিডরগুলির দ্বারা প্রদত্ত বর্ধিত অ্যাক্সেসযোগ্যতা অনিশ্চিত আশপাশের এলাকায় কোনও নিরাপত্তা হুমকির (Northeast India) ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দ্রুত একত্রিত করার অনুমতিও দেবে (Economic Corridors)।

LinkedIn
Share