Tag: Eden Gardens

Eden Gardens

  • KKR: হাড়ে চিড় নিয়েই খেলছেন! অবশেষে জয়ের পর কেকেআরের ড্রেসিংরুমে কান্নাকাটি কেন, জানালেন বরুণ

    KKR: হাড়ে চিড় নিয়েই খেলছেন! অবশেষে জয়ের পর কেকেআরের ড্রেসিংরুমে কান্নাকাটি কেন, জানালেন বরুণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েও চোখে জল আসেনি, কিন্তু চলতি আইপিএলে প্রথম জয় কাঁদিয়ে দিল রিঙ্কু-বরুণদের। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় চলতি আইপিএলে অবশেষে জয় পেয়ে ম্যাচের সেরা বরুণ চক্রবর্তী বললেন, ‘‘২০২৪-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে আমি ড্রেসিংরুমে কাউকে খুব একটা কাঁদতে দেখিনি। কিন্তু আজ জয়ের পরে অনেকের চোখেই জল দেখলাম। চোটের জন্য মরসুমের শুরু থেকে একের পর এক ক্রিকেটার ছিটকে গিয়েছে। সেই দলকে ছন্দে ফেরানো সহজ নয়। এমনই একটি জয় আমাদের প্রয়োজন ছিল। আশা করি, এই জায়গা থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’’

    কাঁদলেন রিঙ্কু

    টানা ব্যর্থ। অবশেষে ২ পয়েন্ট এল ঝুলিতে। কেকেআর যেন কিছুটা অক্সিজেন পেল এই জয়ের পর। তবে এতগুলো ম্যাচের পর একটা জয় যেন আবেগের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দিল। ছ’টা ম্যাচের মধ্যে পাঁচটায় হার। একটামাত্র পয়েন্ট এসেছিল, সেটাও বৃষ্টির দৌলতে! সাত নম্বর ম্যাচের পর জয় এল। তার পরই কেকেআর ড্রেসিংরুমে অনেকেই কাঁদলেন। ২৫ কোটির গ্রিন রান পাচ্ছিলেন না। একটা ম্যাচে বড় রান করলেন। তার পর আবার সেই এক পরিস্থিতি। ক্যাপ্টেন রাহানেকে নিয়ে সব থেকে বেশি সমস্যায় নাইটরা। মিডল অর্ডার দলকে ভরসা দিতে পারছে না। রাজস্থানের বিরুদ্ধেও ১৫৫ রান করতে গিয়েও কেকেআরের কালঘাম ছুটল। রাজস্থানের বিরুদ্ধে ম্যাচের নায়ক রিঙ্কু। সেই রিঙ্কু সিং অঝোরে কাঁদলেন এদিন। অফ ফর্ম চলছে। রান পাচ্ছিলেন না। রবিবার সেই রিঙ্কুই জেতালেন। তার পর আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি।

    রেকর্ড বুকে বরুণ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই খারাপ ফর্ম চলছিল। আইপিএলের শুরু থেকে খুব একটা ভাল খেলতে পারছিলেন না। উইকেট পেলেও প্রচুর রান দিচ্ছিলেন। রাজস্থানের বিরুদ্ধে অবশেষে প্রত্যাবর্তন হল ‘আসল’ বরুণ চক্রবর্তীর। রানও কম দিলেন। তুলে নিয়েছেন তিনটি উইকেটও। ম্যাচের পর বরুণ জানালেন, হাড়ে চিড় নিয়েই তিনি আইপিএলে খেলছেন। তাঁর মতে, এখনও ট্রফি জিততে পারে কেকেআর। এ দিন দ্বিতীয় দ্রুততম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০০টি উইকেট নিলেন বরুণ। ১৫১টি ইনিংসে ২০০তম উইকেট পেয়েছিলেন অর্শদীপ সিং। বরুণ পেলেন ১৫৫তম ইনিংসে। কুলদীপ যাদব (১৬০), জয়দেব উনাদকাট (১৬২) এবং মহম্মদ শামি (১৬৫) রয়েছেন বরুণের পরে। রবিবার ম্যাচের সেরাও হন বরুণ। তিনি বলেন, “পিচ খুব একটা আলাদা ছিল না। আইপিএলে যেমন পিচ হয় তেমনই হয়েছে। আজ একটু মন্থর গতির ছিল, যা আমরা কাজে লাগিয়েছি। প্রথম কয়েকটা ম্যাচে আমি চোট পেয়েছিলাম। দুটো হাড়ে চিড় ধরেছিল। এখনও বাঁ হাতে চিড় দুটো রয়েছে। সেটা সামলেই খেলার চেষ্টা করছি। কাজটা কঠিন, তবু চেষ্টা তো করতেই হবে।” সাফল্যের নেপথ্যে গোটা কোচিং স্টাফকে কৃতিত্ব দিয়েছেন বরুণ।

  • IPL 2026: বরুণে-বিশ্বাস নায়ারের, নারিনের মিস্ট্রির অপেক্ষায় নাইটরা! ঘরের মাঠে জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া কেকেআর

    IPL 2026: বরুণে-বিশ্বাস নায়ারের, নারিনের মিস্ট্রির অপেক্ষায় নাইটরা! ঘরের মাঠে জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া কেকেআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ের কাছে হার দিয়ে আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026) অভিযান শুরু করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এবার ঘরের মাঠে নামতে চলেছে কেকেআর। ২ এপ্রিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (KKR vs SRH) বিরুদ্ধে নামবে ৩ বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে টানা তিনটি হোম ম্যাচ নাইটদের। টুর্নামেন্টে নিজেদের ভালো জায়গায় রাখতে এই তিন ম্যাচই পাখির চোখ কলকাতার। নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য তৈরি হচ্ছে দলের ক্রিকেটাররা।

    ব্যর্থ বোলিং বিভাগ

    প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ব্যাটাররা ভালো পারফর্ম করলেও বোলিং ডিপার্টমেন্ট কেকেআরের পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। যা দ্বিতীয় ম্যাচ শক্তিশালী ব্যাটিং সমৃদ্ধ হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে নামার আগে চিন্তায় রেখেছে নাইট রাইডার্স টিম ম্যানেজমেন্টকে। প্রথম ম্যাচে কেকেআরের বোলিং অ্যাটাকের ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে কেমন কম্বিনেশন হবে তা জল্পনা রয়েছে। মুজারবানি প্রথম ম্যাচে ফ্লপ। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ বিদেশি নিয়েও খেলতে পারে নাইটরা। নারিন বাদে সকল বোলাররাই ভারতীয় হতে পারে।

    নারিন-বরুণ কেমিস্ট্রি উধাও

    প্রথম ম্যাচে হারের পর স্বভাবতই চাপে কেকেআর। নতুন দল। নতুন ভাবে শুরু করতে চাইলেও, অভিষেক নায়ারের সমস্যা বোলিং নিয়েই। আর সেটা কীভাবে কাটাতে পারেন সেটাই হাতড়ে বেড়াচ্ছেন কেকেআর কর্তারা। তবে সমস্যা আরও বাড়িয়েছে বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিনের পারফরম্যান্স। বরুণ টি২০ বিশ্বকাপে সেভাবে ছন্দে ছিলেন না। আইপিএল-এও সেই ছন্দ প্রথম ম্যাচে খুঁজে পাননি। সুনীল নারিনের যে মিস্ট্রি ছিল সেটাও উধাও। এখন পিচ থেকেও যদি সাহায্য সেভাবে না পাওয়া যায় তবে কলকাতার ভাগ্য ফেরানো কঠিন হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বরুণে আস্থা নায়ারের

    গ্রিনের বোলিং প্রসঙ্গে নায়ার জানান, নিলামের সময় কোনও প্লেয়ারকে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের সব দিক সবসময় জানা সম্ভব হয় না। তাঁর কথায়, ‘নিলামে প্লেয়ার নেওয়ার সময় ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটা সবসময় বোঝা যায় না। গ্রিন যেমন ভালো ব্যাটার, তেমনই অলরাউন্ডার। তবে আমাদের সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে।’ বরুণ চক্রবর্তীর পারফরম্যান্স নিয়ে আস্থা রেখেছেন কেকেআর কোচ। তিনি বলেন, ‘বরুণ মানসিকভাবে খুব শক্তিশালী অবস্থায় আছে। আমরা জানি ও কতটা দক্ষ বোলার। ভারতের হয়ে যেমন পারফর্ম করেছে, সেভাবেই আবার ফিরে আসবে। ওয়াংখেড়ের পিচটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবুও আমরা ওর উপর ভরসা রাখছি। শ্রীলঙ্কার পেসার মথিশা পাথিরানার ফিটনেস নিয়েও আপডেট দিয়েছেন নায়ার। তিনি জানান, পাথিরানা এখনও ফিটনেস টেস্টের মধ্যে রয়েছেন এবং ফিজিও টিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই তিনি দলে যোগ দেবেন।

    হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    কলকাতা দল মুম্বইয়ের কাছে পরাজিত হয়েছে, অন্যদিকে হায়দ্রাবাদও বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে হারতে হয়েছে। ফলে এই ম্যাচে জয় পেয়ে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করবে দুই দলই। শুরুতেই পরপর হার কোনও দলই চাইছে না, তাই লড়াইটা জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মরশুমে দুই দলের ব্যাটিং শক্তি বেশ ভালো। তবে বোলিং বিভাগে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। চোট সমস্যাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলকাতা তাদের প্রধান পেসারের জন্য অপেক্ষা করছে, আর হায়দরাবাদ দলের অধিনায়কও পুরোপুরি ফিট নন। এই অবস্থায় দলের ভারসাম্য ঠিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

    ইডেনে হাই স্কোরিং ম্যাচ

    ইডেন গার্ডেন্সে সাম্প্রতিক সময়ে বড় রানের ম্যাচ বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই এই ম্যাচেও চার-ছক্কার বন্যা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যাটাররা সুবিধা পেলে সহজেই বড় রান তুলতে পারে, তবে বোলারদের সঠিক সময়ে ভালো পারফরম্যান্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পিচের দিক থেকেও এই মাঠে রান তাড়া করা তুলনামূলক সহজ। শিশিরের প্রভাব থাকায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা দল সুবিধা পেতে পারে। শুরুতে কিছুটা সুইং থাকলেও পরে ব্যাটিং সহজ হয়ে যায়। তাই টস জেতা দল আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ অপেক্ষা করছে।

    কেকেআরের সম্ভাব্য একাদশ: অজিঙ্কে রাহানে (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, ক্যামেরন গ্রিন, আংক্রিশ রঘুবংশী (উইকেটকিপার), রিঙ্কু সিং, রমনদীপ সিং, অনুকুল রয়, সুনীল নারিন, বরুণ চক্রবর্তী, বৈভব অরোরা, উমরান মালিক

    সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সম্ভাব্য় একাদশ: ট্রেভিস হেড, অভিষেক শর্মা, ইশান কিশান (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), নীতিশ কুমার রেড্ডি, হেনরিক ক্লাসেন, সলিল অরোরা, অনিকেত বর্মা, হর্শ দুবে, হার্শল প্যাটেল, জয়দেব উনাদকাট, ইশান মালিঙ্গা

  • IPL 2026: মাঠে নামতে তৈরি পাথিরানা! আইপিএল শুরুর আগে স্বস্তি নাইটদের শিবিরে, হর্ষিতের বিকল্প খুঁজছে কেকেআর

    IPL 2026: মাঠে নামতে তৈরি পাথিরানা! আইপিএল শুরুর আগে স্বস্তি নাইটদের শিবিরে, হর্ষিতের বিকল্প খুঁজছে কেকেআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু হবে আইপিএল (IPL 2026)। তার আগে স্বস্তি শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) শিবিরে। বোলিং আক্রমণ নিয়ে চিন্তা অনেকটাই কমল অভিষেক নায়ারদের। শ্রীলঙ্কার জোরে বোলার মাথিশা পাথিরানা চোট সারিয়ে মাঠে নামার জন্য তৈরি। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তাঁকে ফিট ঘোষণা করেছে। তবে দেশের তারকা ক্রিকেটার হর্ষিত রানাকে চোটের জন্য পুরো আইপিএল থেকেই বাদ যেতে হচ্ছ। টি-২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন। অস্ত্রোপচার করা হয়েছে হর্ষিত রানার হাঁটুতে। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সিতে অন্তত প্রথম চার ম্যাচ খেলতে পারবেন না তিনি। এমনকী, গোটা আইপিএল থেকেই তাঁর ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সুস্থ পাথিরানা, কবে যোগ দেবেন!

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় চোট পেয়েছিলেন পাথিরানা। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান তিনি। তার পর থেকে মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর আইপিএল খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছিল আশঙ্কা। তবে সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সচিব বান্দুলা দিশানায়েকে সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘পাথিরানার রিহ্যাব সম্পূর্ণ। ও এখন সম্পূর্ণ ফিট। আইপিএল খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ওঁকে। বাকিটা ওঁর ফ্র্যাঞ্চাইজি সিদ্ধান্ত নেবে। ম্যাচ খেলার মতো জায়গায় রয়েছে মনে করলে, ওঁকে খেলাতেই পারে। আমরা শুধু বলতে পারি, এই মুহূর্তে পাথিরানা ফিট এবং আইপিএল খেলতে কোনও সমস্যা নেই।’’ পাথিরানা কবে কেকেআর শিবিরে যোগ দেবেন, তা জানা যায়নি। আইপিএলে কেকেআরের প্রথম ম্যাচ ২৯ মার্চ মুম্বইয়ে। তার আগে ২৫ মার্চ অজিঙ্ক রাহানেরা মুম্বই চলে যাবেন। মনে করা হচ্ছে, পাথিরানা সেখানেই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। আইপিএলের গত নিলামে ২৩ বছরের পাথিরানাকে ১৮ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিলেন কেকেআর কর্তৃপক্ষ।

    হর্ষিতের জায়গায় কে?

    আইপিএল মরশুম শুরুর আগে নাইটদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হল হর্ষিত রানার না থাকা। যা খবর, তাতে গোটা মরশুমেই হর্ষিতকে পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে পরিবর্ত হিসাবে কয়েকজনের নাম ভেসে আসছে। যদিও কেকেআর এখনই কোনও পরিবর্ত চাইবে না। কিছুদিন অপেক্ষা করা হবে। নিতান্তই যদি হর্ষিতের না খেলাটা নিশ্চিত হয়ে যায় তাহলে পরিবর্তের কথা ভাবা হবে। তবে সরকারিভাবে নাম ঘোষণা না করলেও কয়েক জন পেসারকে পরিবর্ত হিসাবে ভেবে রাখছে নাইটরা। সিমারজিৎ সিং, নভদীপ সাইনির মতো জনা কয়েক পরিচিত পেসারকে ইতিমধ্যেই ট্রায়ালে ডাকা হয়েছে। যা শোনা গেল, আরও কিছুদিন পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে আরও কয়েকজনকে দেখে নেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার ইডেন গার্ডেন্সে আচমকা হাজির দুই ফাস্টবোলার। নভদীপ সাইনি ও আকাশ মাধওয়াল। ইডেন গার্ডেন্সের এল ব্লকের সামনে যে দুই নেটে বুধবার থেকে প্র্যাক্টিস সেশন চালাচ্ছে কলকাতা নাইট রাইডার্স, সেখানে দুজনই বল করলেন। সঙ্গে বোলিং করলেন সিমারজিৎ সিংও। গত আইপিএলে যিনি চেন্নাই সুপার কিংসে খেলেছেন। তিন বোলারকেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে জরিপ করে নিচ্ছিলেন অভিষেক নায়ার, শেন ওয়াটসন, ডোয়েন ব্রাভোরা।

  • T20 World Cup 2026: সুপার-সঞ্জুর ছন্দে ইডেনে উঠল মেক্সিকান ওয়েভ, ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো থামিয়ে সেমিফাইনালে ভারত

    T20 World Cup 2026: সুপার-সঞ্জুর ছন্দে ইডেনে উঠল মেক্সিকান ওয়েভ, ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো থামিয়ে সেমিফাইনালে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়েক দিন আগে যে ব্যাটারকে দেখে মনে হচ্ছিল, বেঞ্চে বসেই বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) শেষ হয়ে যাবে, সেই ব্যাটারই ভারতকে সেমিফাইনালে তুললেন। ইডেনে সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারাল ভারত (India vs West Indies)। ৯৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন সঞ্জু। ভাঙলেন কিং কোহলির রেকর্ডও। ক্রিকেটের নন্দন কাননে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সমীকরণ স্পষ্ট ছিল। দুই যুযুধান প্রতিপক্ষের মধ্যে জয়ী দলই সেমিফাইনালের টিকিট পাকা করবে। সপ্তাহান্তের টানটান ম্যাচে সুপার সঞ্জুর দাপটে এই নিয়ে ষষ্ঠবার ভারত টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল।

    সঞ্জুর চওড়া ব্যাটেই শেষ চারে

    ১৯৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। টিম ইন্ডিয়ার হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন সঞ্জু স্য়ামসন এবং অভিষেক শর্মা। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে ভারত হারায় অভিষেক শর্মার উইকেট। অভিষেক ১১ বলে ১০ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ৬ বলে ১০ রান করে ফেরেন ঈশান কিষানও। শুরুতেই জোড়া উইকেট হারিয়ে বেশ খানিকটা চাপে পড়ে যায় ভারত। ইডেনের গ্যালারিতে তখন নিস্তব্ধতা। ছোটদের মুখে হতাশা, বড়রা ব্যস্ত ভুল-ত্রুটি বাছতে। প্রশ্ন উঠছিল টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়া নিয়েও। কিন্তু অধিনায়ক সূর্য যে ফিল্ডিং নিয়ে ভুল করেননি তা প্রমাণ করলেন সূর্য। দেখালেন ক্রিজে টিকে থাকলে এই পিচে ব্যাট করা বেশ সহজ। ঈশান কিষান ফিরতেই দলের হাল ধরেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং সঞ্জু স্যামসন। ২৬ বলে ঝকঝকে হাফসেঞ্চুরি বেরিয়ে এল সঞ্জুর ব্যাট থেকে। এরপরই তৃতীয় ধাক্কা খেল ভারত। ১৬ বলে ১৮ রান করে ফিরে যান সূর্যকুমার যাদব। তবে ভারতের রানের গতি থামেনি। ১১ ওভার শেষে ১০০ রান পূরণ করে ফেলে। মিডল অর্ডারে কিছুটা হলেও ভরসা দিয়েছিলেন তিলক বর্মা। ১৫ বলে ২৭ রান করে তিনিও ফিরে যান। ১৭ রান করে আউট হয়ে যান হার্দিকও। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেন সঞ্জু স্যামসন। তিনি ৯৭ রানে শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। চার বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে জেতালেন টিম ইন্ডিয়াকে।

    অনেককে জবাব দেওয়ার ছিল সঞ্জুর

    কয়েক দিন আগে এই সঞ্জুকে খেলানো নিয়ে প্রশ্নের জবাব অধিনায়ক সূর্য বলেছিলেন, “আপনি চাইছেন আমি অভিষেককে বসিয়ে সঞ্জুকে খেলাই।” সেই কথার মধ্যে কোথাও একটি তাচ্ছিল্য মেশানো ছিল। ফলে অনেককে জবাব দেওয়ার ছিল সঞ্জুর। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে মঞ্চ করে তুললেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, সুযোগ পেলে তা কীভাবে কাজে লাগাতে হয়। এই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কোনও সুযোগ দেননি সঞ্জু। ক্রিকেটের পরিভাষায় ক্লিনিক্যাল ইনিংস যাকে বলে। ঝুঁকি নিয়ে একটিও শট খেলেননি। যখন বড় শট খেলেছেন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছেন। যত সময় গড়াচ্ছিল, তত ভারত জয়ের পথে এগোচ্ছিল। তার মধ্যে হার্দিকের ক্যাচ ফস্কান হোল্ডার। তত ক্ষণ ভাল ফিল্ডিং করছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু কঠিন সময়ে চাপ সামলাতে পারল না তারা। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে দলকে জেতালেন সঞ্জু। ৫০ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকলেন। ১২ চার ও চার ছক্কা মারেন। ৩ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া হলেও এই ইনিংস শতরানের থেকে কম নয়। দলকে জিতিয়েও কোনও বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখাননি সঞ্জু। পিচে হাঁটু মুড়ে বসে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। হাতজোড় করে প্রণাম করলেন। তার পর মাঠ ছাড়লেন।

    ‘‘এই ইনিংসটা আমার কাছে গোটা পৃথিবী’’

    সেরার পুরস্কারটা নিতে এসে বললেন, ‘‘এই ইনিংসটা আসলে আমার কাছে গোটা পৃথিবী। যেদিন থেকে আমি খেলা শুরু করেছি, সেদিন থেকেই দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। এমন একটা ইনিংসের জন্যই আমি এতদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। এই যাত্রাটা এককথায় অসাধারণ। রাস্তায় অনেক চড়াই-উতরাই এসেছে। কখনও নিজের উপর সন্দেহ হয়েছে। আশঙ্কা দানা বেঁধেছিল, আদৌ দায়িত্ব পূরণ করতে পারব কি না? তবে আজ ঈশ্বর যেভাবে আমাকে আশীর্বাদ করেছেন, সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ।’’ একইসঙ্গে, রোহিত-কোহলিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেন, ‘‘এই ফরম্য়াটে আমি অনেকদিন ধরে খেলছি। কোহলি, ধোনি, রোহিত শর্মাদের মতো কিংবদন্তীদের থেকে অনেককিছু শিখেছি। পরিস্থিতি অনুসারে কীভাবে খেলা বদলাতে হয়, তা জেনেছি। আজকের দিনটা আমার জীবনে অবশ্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পরিস্থিতি অনুসারে ব্যাট করেছি। প্রত্যেকটা বলের মেরিট অনুসারে খেলেছি।’’

    ভাঙলেন কোহলির রেকর্ড

    ইডেনে রান তাড়া করতে নেমে একটি রেকর্ডও গড়লেন সঞ্জু। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এত দিন ভারতের হয়ে রান তাড়া করতে নেমে সবচেয়ে বেশি রান ছিল বিরাট কোহলির দখলে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৮২ রান করেছিলেন তিনি। সেই রেকর্ড এই ম্যাচে ভেঙে দিলেন সঞ্জু। টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন সূর্য। ব্রেন্ডন কিং না থাকায় এই ম্যাচে হোপের সঙ্গে ওপেন করতে নামেন রস্টন চেজ। পাওয়ার প্লে-তে সাবধানি ব্যাটিং করেন দু’জনে। রান তোলার গতি খুব বেশি না থাকলেও উইকেট পড়েনি। তবে পড়তে পারত। জসপ্রীত বুমরার বলে ক্যাচ তোলেন চেজ। বলের নীচে পৌঁছেও গিয়েছিলেন অভিশেক শর্মা। কিন্তু সহজ ক্যাচ ফেলেন তিনি। সেই ক্যাচ ধরা নয়, ফস্কানো কঠিন। অভিষেক সেটাই করে দেখান। সুযোগ কাজে লাগান চেজ।

    বুমরার বলে বাজিমাত

    ওপেনিং জুটিতে ৬৮ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জুটি ভাঙেন বরুণ চক্রবর্তী। তাঁর বল পিছনের পায়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন হোপ। ৩৩ বলে ৩২ রান করেন তিনি। তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারলেও ১৭টি ডট বল খেলেন তিনি। হোপ আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নামেন শিমরন হেটমায়ার। চলতি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা ব্যাটার। শুরু থেকেই হাত খুলে শট মারতে শুরু করেন তিনি। এক ধাক্কায় দলের রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন তিনি। বাধ্য হয়ে বুমরার হাতে বল তুলে দেন সূর্য। অধিনায়ককে নিরাশ করেননি বুমরা। আউট করেন হেটমায়ারকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ব্যাটারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৩ বল করেছেন বুমরা। আউট করেছেন ছ’বার। ১২ বলে ২৭ রানে আউট হন হেটমায়ার। দু’বল পরেই বুমরা ফেরান চেজকে। তিনি করেন ২৫ বলে ৪০ রান।

    সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি ভারতের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়। এর আগে ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৭৩ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। ১২ বছর পর সেই নজির ভাঙল। ১০ বছর পর একটি বদলাও নিল ভারত। ২০১৬ সালে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে ১৯২ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিদায় নিয়েছিল ভারত। সেই হারের বদলা ইডেনে নিল ভারত।

    সেমিফাইনালে কারা

    বিশের বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) খেতাব জয়ের থেকে চার দলই কেবল দুই জয় দূরে দাঁড়িয়ে। একদিকে যেখানে ভারত আর ইংল্যান্ড রেকর্ড তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে, সেখানে নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমবার বিশের বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া। চার সেমিফাইনালিস্ট। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সুপার এইটে গ্রুপ ১-র শীর্ষে শেষ করা দল গ্রুপ ২-র রানার্সের বিরুদ্ধে খেলবে এবং আরেক সেমিফাইনালে গ্রুপ ২-র শীর্ষে থাকা দল খেলবে গ্রুপ ১-র রানার্স আপের বিরুদ্ধে। এই সমীকরণ অনুযায়ী বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুম্বইয়ে ভারত মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের, আর ইডেনে নিউজিল্যান্ড খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। সেমিফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইডেনও। তবে, রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ইডেন ছিল আপন ছন্দে। ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো থামিয়ে সঞ্জুর প্রতিটা শটে উঠেছে মেক্সিকান ওয়েভ। সূর্য-হার্দিকদের সঙ্গে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার উল্লাসে মেতেছে ইডেনের গ্যালারি।

  • T-20 World Cup 2026: সুপার এইটে কঠিন গ্রুপে ভারত! কবে, কোথায়, কাদের বিরুদ্ধে খেলবেন সূর্যরা?

    T-20 World Cup 2026: সুপার এইটে কঠিন গ্রুপে ভারত! কবে, কোথায়, কাদের বিরুদ্ধে খেলবেন সূর্যরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের (T-20 World Cup 2026) গ্রুপ পর্বে ভারতের শেষ ম্যাচ নিয়মরক্ষার হয়ে দাঁড়িয়েছে। রবিবার কলম্বোর মাঠে পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। সেখানে তিনটি ম্যাচ খেলতে হবে সূর্যকুমার যাদবদের। কবে কোথায় হবে সেই ম্যাচ হবে তা-ও জানা গিয়েছে। সুপার এইটে কঠিন গ্রুপে ভারত। লড়াই হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে। তার আগে বুধবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও জয়ের ধারা বজায় রাখতে চায় গুরু গম্ভীরের ছেলেরা। সুপার এইট-এর লড়াইয়ের কলকাতায় একটি ম্যাচ খেলবে ভারত। তাই ক্রিকেট জ্বরে কাঁপছে মহানগরী।

    সুপার এইটে দু’টি গ্রুপ

    বিশ্বকাপের সুপার এইটে দু’টি গ্রুপ রয়েছে। গ্রুপ ‘এক্স’ ও গ্রুপ ‘ওয়াই’। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল থেকে যে দুই দল নক আউটে উঠবে, তাদের আলাদা আলাদা গ্রুপে রাখা হবে। তবে সুপার এইটে আটটি দল আগে থেকে ধরে রাখা হয়েছে। তারা গ্রুপ পর্বে যে স্থানেই শেষ করুক না কেন, নক আউটে নির্দিষ্ট জায়গাতেই খেলবে। সুপার এইটে ভারতের তিনটি ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। অন্য গ্রুপে রয়েছে, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও সম্ভাব্য পাকিস্তান।

    লড়াই কঠিন

    সুপার এইটে আগামী রবিবার ভারতের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা। গতবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ভারত সেখানে দারুণ জয় পায়। সূর্যকুমারের দল দারুণ ছন্দে। ২৬ ম্যাচের মধ্যে ২৫টা ম্যাচ জিতেছে। ফলে সুপার এইটের লড়াইয়েও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভারতের সামনে জিম্বাবোয়ে। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক দিয়েছে সিকান্দার রাজার দল। সেটাই কিছুটা হলেও চিন্তার কারণ। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ১ মার্চ মুখোমুখি ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ম্যাচ হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। ক্যারাবিয়ানরা আপাতত দাপুটে ফর্মে। দক্ষিণ আফ্রিকাও সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক। ভারতও অবশ্য ছন্দেই রয়েছে। তবু সুপার এইট অন্য পরীক্ষা। এখানে ভুলের জায়গা কম। সামান্য স্খলনে গুনতে হতে পারে বিরাট মাশুল। তাই সদা সতর্ক ভারত। ঘরের মাঠে ট্রফি ধরে রাখতে মরিয়া সূর্যরা।

    টি-২০ বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ার ‘সুপার-৮’ সূচি

    ২২ ফেব্রুয়ারি – ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম, আমেদাবাদ)

    ২৬ ফেব্রুয়ারি – ভারত বনাম জিম্বাবোয়ে (এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম, চেন্নাই)

    ০১ মার্চ – ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা)

  • T20 World Cup 2026: ইডেনে ৭টি ম্যাচ! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর রোহিত শর্মা

    T20 World Cup 2026: ইডেনে ৭টি ম্যাচ! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর রোহিত শর্মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান। মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় আগামী টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) সূচি ঘোষণা করল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (ICC)। আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে একাধিক বার মুখোমুখি হতে পারে দু’দেশ। গ্রুপ পর্ব ছাড়াও সেমিফাইনাল বা ফাইনালে সূর্যকুমার যাদবদের সঙ্গে দেখা হতে পারে সলমন আলি আঘাদের। প্রতিযোগিতার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন গত বারের চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক রোহিত শর্মা (Rohit Sharma)। তাঁর নাম ঘোষণা করেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ।

    কোথায় কোথায় খেলা হবে

    আগামী বছর কুড়ি-বিশের বিশ্বকাপে যুগ্ম আয়োজক, ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ভারতের ৫টি ভেনুতে হবে ম্যাচ। আর শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ হবে তিনটি জায়গায়। জানা গিয়েছে, ইডেন গার্ডেন্সে হবে এ বারের টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ। ভারতের যে স্টেডিয়ামে হবে টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ সেগুলি হল – দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স, চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম, আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম ও মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। শ্রীলঙ্কার যে স্টেডিয়ামে হবে টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) ম্যাচ সেগুলি হল – ক্যান্ডির পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম ও কলম্বোর সিনহেলসে স্পোর্টস ক্লাব।

    বিশ্বকাপের গ্রুপ বিন্যাস

    প্রতিযোগিতার ২০টি দেশকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে দু’টি করে দল উঠবে সুপার এইট পর্বে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্রমতালিকাকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রুপ বিন্যাস করেছে আইসিসি। সেই অনুযায়ী একই গ্রুপে রয়েছে ভারত এবং পাকিস্তান। ক্রমতালিকায় শীর্ষে রয়েছেন সূর্যকুমারেরা। সাত নম্বরে পাকিস্তান। এই দু’দেশের সঙ্গে গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে ক্রমতালিকায় ১৩ নম্বরে থাকা নেদারল্যান্ডস, ১৫ নম্বরে থাকা নামিবিয়া এবং ১৮ নম্বরে থাকা আমেরিকা। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শ্রীলঙ্কার গ্রুপে রয়েছে চারটি টেস্ট খেলিয়ে দেশ। ক্রমতালিকায় আট নম্বরে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। তাদের সঙ্গে গ্রুপ ‘বি’-তে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া (২), জিম্বাবোয়ে (১১), আয়ারল্যান্ড (১২) এবং ওমান (২০)। ক্রমতালিকায় তিন নম্বরে থাকা ইংল্যান্ডও সহজ গ্রুপে। তাদের সঙ্গে গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় (৬), বাংলাদেশ (৯), নেপাল (১৭) এবং ইটালি। যোগ্যতা অর্জন পর্ব থেকে আসা ইটালি ক্রমতালিকায় ২৮ নম্বরে রয়েছে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রানার্স দক্ষিণ আফ্রিকা এ বার কিছুটা কঠিন গ্রুপে। ক্রমতালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা প্রোটিয়াদের গ্রুপ ‘ডি’-তে খেলতে হবে নিউ জ়িল্যান্ড (৪), আফগানিস্তান (১০), সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (১৬) এবং কানাডার (১৮) সঙ্গে।

    ভারতের খেলা কবে-কোথায়

    গ্রুপ পর্বে ভারতের প্রথম ম্যাচ মুম্বইয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার বিরুদ্ধে। সূর্যকুমারদের দ্বিতীয় ম্যাচ দিল্লিতে ১২ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিরুদ্ধে। তৃতীয় ম্যাচ কলম্বোয় ১৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। চতুর্থ ম্যাচ ১৮ ফেব্রুয়ারি আমেদাবাদে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে। আগামী বছর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে ভারত এবং শ্রীলঙ্কায়। আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম দিন হবে ৩টি ম্যাচ। একদিকে মুখোমুখি পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস, অপর ম্যাচে মুখোমুখি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ। আর সেদিনই আমেরিকার বিরুদ্ধে নামবে ভারত।

    ইডেনে বিশ্বকাপ ম্যাচের সূচি:

    ৭ ফেব্রুয়ারি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশ
    ৯ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ বনাম ইটালি
    ১৪ ফেব্রুয়ারি, ইংল্যান্ড বনাম বাংলাদেশ
    ১৬ ফেব্রুয়ারি, ইংল্যান্ড বনাম ইটালি
    ১৯ ফেব্রুয়ারি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ইটালি
    ১ মার্চ, সুপার এইটের ম্যাচ
    ৪ মার্চ, প্রথম সেমিফাইনাল (শর্তসাপেক্ষে)

    অন্য খেলা ঠিক থাকলেও সেমিফাইনালটি ইডেনে না-ও হতে পারে। পাকিস্তান শেষ চারে উঠলে তারা প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে। সে ক্ষেত্রে ম্যাচটি ইডেনের পরিবর্তে কলম্বোয় হবে। একই ভাবে ৮ মার্চের ফাইনালও আমেদাবাদ থেকে কলম্বোয় সরে যেতে পারে পাকিস্তান খেললে।

  • India Vs South Africa: ‘‘ইডেনের পিচ বিপজ্জনক ছিল না, আমরা পারিনি’’ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর মানলেন গম্ভীর

    India Vs South Africa: ‘‘ইডেনের পিচ বিপজ্জনক ছিল না, আমরা পারিনি’’ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর মানলেন গম্ভীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেস্টে অপরাজিত রইল বাভুমার নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা (India Vs South Africa)। ভারতের মাটিতে ১৫ বছর পর টেস্ট ম্যাচে জয় পেল প্রোটিয়ারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৯৩ রানে অলআউট হয়ে গেল ভারতীয় দল। ইডেন গার্ডেন্সে ৩০ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ শেষে দলের ব্যর্থতা মেনে নিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর। জানালেন, পিচ নিয়ে কোনও ক্ষোভ নেই তাঁর। ভারতীয় দলের হেড কোচের কথায়, ‘আমরা এই পিচই চেয়েছিলাম। আমরা যে পিচ চেয়েছি সেই পিচই পেয়েছি। এখানকার কিউরেটর আমাদের অনেক সাহায্য করেছেন। আমার মনে হয় না এই উইকেটে ব্যাটিং করা কঠিন ছিল। এই উইকেট মানসিক কাঠিন্যের পরীক্ষা নেয়। যারা ভালোভাবে রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করতে পেরেছে, তারা রান করেছে।’

    পিচ নয়, দল পারেনি মানলেন গম্ভীর

    শনিবার খেলার শেষে পুজারা বলেছিলেন, ইডেন গার্ডেন্সের এই পিচে চতুর্থ ইনিংসে ১২০ রান তাড়া করাও কঠিন হতে পারে। তাঁর কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দিলেন ঋষভ পন্থেরা। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংস ১৫৩ রানে শেষ হওয়ায় ভারতের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৪ রান। সেই রান তুলতেই কেঁপে গেল শুভমন গিলহীন ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ। ৯৩ রানে শেষ হয়ে গেল ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস। নিজেদের পছন্দের পিচে ৩০ রানে হেরে গেল গৌতম গম্ভীরের দল। পিচ নিয়ে তিন দিন ধরে নানা কথা হলেও গম্ভীর ম্যাচ হেরে কোনও অভিযোগ করলেন না। বরং নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নিলেন। গম্ভীর মানতে চাননি ইডেনের ২২ গজ স্পিন সহায়ক ছিল। জোরে বোলারদের বেশি উইকেট পাওয়ার তথ্যকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেছেন। রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গম্ভীর বলেছেন, ‘‘ইডেনের পিচ বিপজ্জনক ছিল না। খেলার উপযোগী ছিল। টেম্বা বাভুমা তো রান করল। ওয়াশিংটন সুন্দরও ভাল ব্যাট করল। অক্ষরও তো খেলল। খেলা যাবে না, এমন উইকেট তো ছিল না। জানি না কেন বার বার স্পিন সহায়ক পিচ বলা হচ্ছে! জোরে বোলারেরাই বেশি উইকেট পেয়েছে এই টেস্টে। ব্যাটারদের টেকনিক, মানসিক শক্তি এবং ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে হয় এ রকম পিচে। আমরা পারিনি।’’

    ভারতের কাঁটা বাভুমা

    ভারতের (India Vs South Africa) লক্ষ্য ‘কঠিন’ করে দিলেন টেম্বা বাভুমা। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ককে আউট করতেই পারলেন না জসপ্রীত বুমরা, মহম্মদ সিরাজ, রবীন্দ্র জাদেজারা। ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন চোট সারিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা ব্যাটার। ম্যাচের প্রথম দিনই ইডেনের ২২ ব্যাটারদের বধ্যভূমি হিসাবে চিহ্নিত হয়ে গিয়েছিল। সেই পিচেই অপ্রতিরোধ্য দেখাল বাভুমাকে। ১৩৬ বলের ইনিংসে নিজের দলকে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছে দিলেন বাভুমা। একমাত্র ব্যাটার হিসাবে ইডেন টেস্টে অর্ধশতরান করলেন। ৫০ রান করতেই ইডেনের দর্শকেরা দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানালেন তাঁকে। বাভুমার লড়াই ছাড়া রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ভাল ব্যাট করলেন করবিন বসও (২৫)। তিনি আউট হওয়ার পর অবশ্য ভারতকে বেশি বেগ পেতে হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকাকে অল আউট করতে। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সফলতম জাদেজা ৫০ রানে ৪ উইকেট নেন। ২ রানে ২ উইকেট সিরাজের। ৩০ রানে ২ উইকেট কুলদীপ যাদবের। ১টি করে উইকেট নেন অক্ষর এবং বুমরা।

    কেমন খেলল ভারত

    ওয়াশিংটন সুন্দর (৩১) ছাড়া ভারতের আর কারও মধ্যে বাভুমাসুলভ লড়াই দেখা গেল না। প্রথম ওভারেই মার্কো জানসেনের বলে আউট হয়ে যান যশস্বী জয়সওয়াল (০)। তৃতীয় ওভারে জানসেন তুলে নেন লোকেশ রাহুলের (১) উইকেট। ১ রানে ২ উইকেট হারানো দলের ইনিংস মেরামত করার চেষ্টা করেন ওয়াশিংটন এবং ধ্রুব জুরেল। উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়ার পর সাইমন হারমারকে অযথা ছক্কা মারতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিলেন জুরেল (১৩)। এর পর হারমারের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে দলকে খাদের কিনারায় পৌঁছে দেন পন্থ (২)। লাভ হয়নি জাদেজার (১৮) আগ্রাসী ব্যাটিংয়েও। ২২ গজের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করে গেলেন ওয়াশিংটন। তাঁকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করতে পারলেন না কেউ। অক্ষর শেষবেলায় আগ্রাসী ব্যাটিং করে চেষ্টা করেছিলেন একটা। কিন্তু হারমারের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়ে গেলেন ২৬ রান করে। বাউন্ডারির দিকে মুখ করে দৌড়ে দুরন্ত ক্যাচ নিলেন বাভুমা। তাঁর ওই ক্যাচই ১৫ বছর পর ভারতের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট জয় নিশ্চিত করে দেয়। স্পিন সহায়ক উইকেটে সাইমন হারমারের বল খেলতে সমস্যা পড়লেন ভারতীয়েরা। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪ উইকেট নিলেন। খরচ করলেন ২১ রান। ১৫ রানে ২ উইকেট মার্কো জানসেনের। ৩৭ রানে ২ উইকেট কেশব মহারাজের।

    লজ্জার রেকর্ড

    দেশের মাটিতে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে এটি ভারতের (India Vs South Africa) সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে ২০০৬ সালে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ ইনিংসে ১০০ রানে অল আউট হয়েছিল ভারত। সেই রেকর্ড এ দিন ভেঙে গেল। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান তাড়া করতে গিয়ে হার। ১৯৯৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বার্বাডোজে ১২০ রান তাড়া করতে পারেনি ভারত। দেশের মাটিতে এটিই ভারতের সর্বনিম্ন রান তাড়া করতে গিয়ে হার। গত বছর স্পিন সহায়ক উইকেটে খেলতে গিয়ে নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে ০-৩ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ় হেরেছিল গম্ভীরের ভারত। এ বার হার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। একই ভাবে। দু’টেস্টের সিরিজ় জেতার আর সুযোগ নেই ভারতের সামনে। গুয়াহাটিতে জিতে খুব বেশি হলে ড্র করতে পারেন শুভমনেরা।

  • India vs South Africa: টেস্ট ক্রিকেটের মাহাত্ম্য দেখাল ভর্তি ইডেন, প্রথম দিনের শেষে চালকের আসনে ভারত

    India vs South Africa: টেস্ট ক্রিকেটের মাহাত্ম্য দেখাল ভর্তি ইডেন, প্রথম দিনের শেষে চালকের আসনে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেস্ট ক্রিকেটের উন্মাদনা যে এরকম হতে পারে, তা ইডেন না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। একেবারে হাউসফুল গ্যালারি বলা চলে। মধ্যাহ্নভোজের পর তো গ্যালারির কোথাও সেভাবে ফাঁকা দেখাই গেল না। টেস্ট ক্রিকেটেও ইডেনের গ্যালারি যেন টি-টোয়েন্টির মেজাজ দেখাল। বুমরা, সিরাজ, কুলদীপদের জন্য দর্শকদের চিৎকার আর চেনা মেক্সিকান ওয়েভ। ইডেন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টের প্রথম দিন গ্যালারিতে উপস্থিত ৩৫০২২ দর্শক। প্রথম দিনের শেষে ২০ ওভারে ভারতের স্কোর ৩৭/১। কে এল রাহুল ১৩ রানে ও ওয়াশিংটন সুন্দর ৬ রানে অপরাজিত। দ্বিতীয় দিন শনিবারও গ্যালারি ভরবে বলার অপেক্ষা রাখে না। একে ছুটির দিন, তার উপর ব্যাট করবেন গিল-রাহুলরা।

    বুমরার বাউন্সে কাহিল

    ইডেনে তেম্বা বাভুমার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টস হারেন ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া ক্যাপ্টেন বাভুমা। শুরুটা খারাপ করেননি দুই ওপেনার এডেন মার্করাম এবং রায়ান রিকেলটন। দিনের শুরুতে তাঁদের আগ্রাসী মেজাজে দেখে মনে হচ্ছিল টস জিতে প্রথম ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে একদম ঠিক করেছেন বাভুমা। কিন্তু বুমরা-কুলদীপদের দাপট শুভমন গিলের টস-হতাশা উধাও করে দিল প্রথম দু’ঘণ্টাতেই। বুমরার লাইন-লেংথে বার বার ঠকে গেলেন প্রোটিয়া ব্যাটারেরা। নিখুঁত জায়গায় বল রেখে গেলেন। খেলার অযোগ্য ইয়র্কার দিলেন। ২৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে নিলেন অনায়াসে। তাঁকে সঙ্গ দিলেন কুলদীপ যাদব। কয়েক দিন পরই তাঁর বিয়ে। ভাল ফর্মে রয়েছেন। ২ উইকেট নিলেন ৩৬ রান খরচ করে। প্রথম দিনের ২২ গজ থেকে যে স্পিনারেরা দারুণ সাহায্য পেয়েছেন, তা নয়। তবু কুলদীপের বল পড়তে পারলেন না টেম্বা বাভুমা, উইয়ান মুলডারেরা। দুটি উইকেট নিলেন সিরজাও আর একটি নিলেন অক্ষর প্যাটেল। দক্ষিণ আফ্রিকার কোনও ব্যাটারই দলকে ভরসা দিতে পারলেন না। টেস্ট বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রথম ইনিংস শেষ হল ১৫৯ রানে। ৫৫ ওভার ব্যাট করলেন তাঁরা।

    সাবধানী ভারত

    ভারতের ব্যাটারেরা ২২ গজে বেশ সাবধানী। দক্ষিণ আফ্রিকার হাল দেখে লোকেশ রাহুলেরা ঝুঁকি নিয়ে হাল (পড়ুন ব্যাট) চালাতে চাইছেন না। যশস্বী জয়সওয়াল (১২) রান পেলেন না। মার্কো জানসেনের বলের লাইন বুঝতে পারলেন না। রাহুল দুর্গ আগলাচ্ছেন ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে। দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট দল এক উইকেট হারিয়ে ৩৭ রান করেছে। কেএল রাহুল ১৩ এবং ওয়াশিংটন সুন্দর ৬ রানে ব্যাট করছেন। এখনও পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট দল ১২২ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে পিছিয়ে রয়েছে। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্টের ২২ গজ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে যথেষ্ট টানাপোড়েন চলেছে। গৌতম গম্ভীরের পছন্দ হয়নি ২২ গজ। সিএবির প্রধান কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়কে নিজের আপত্তি জানান ভারতীয় দলের কোচ। সুজন অবশ্য পিচের চরিত্র পরিবর্তনের চেষ্টা করেননি। তবু যতটা পেরেছেন শেষ তিন-চার দিনে ২২ গজকে গম্ভীরের পছন্দ মতো করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাতে সমস্যা কিনা, তা এখনই বলা কঠিন। তবে ইডেনের ২২ গজে আপাতত সাবধানী ভারতও।

    কড়া নিরাপত্তা ইডেনে

    দীর্ঘ ৬ বছর পর কলকাতায় টেস্ট (Test Cricket)। তাও আবার টেস্ট বিশ্বজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে খেলছে শুভমন গিলের ভারত (India)। ইডেন জুড়ে এবারে নিরাপত্তা বেশ জোরদার করা হয়। রাজধানীতে বিস্ফোরণের জেরে আরও টাইট সিকিউরিটি শহরের একাধিক জায়গায়। টেস্টের প্রথম আধঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও দেখা গেল একাধিক গেটের বাইরে লম্বা লাইন। কড়া চেকিংয়ের পরই গ্যালারিতে ঢুকতে পারছেন দর্শকরা। গ্যালারিতেও দেখা গেল পুলিশের কড়া নজরদারি।

     

     

     

  • IPL 2025: ফাইনাল হচ্ছে না ইডেনে! কলকাতা ও বেঙ্গালুরুর ম্যাচ দিয়েই ফের শুরু আইপিএল

    IPL 2025: ফাইনাল হচ্ছে না ইডেনে! কলকাতা ও বেঙ্গালুরুর ম্যাচ দিয়েই ফের শুরু আইপিএল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির পরে আবার শুরু হতে চলেছে আইপিএল (IPL 2025)। ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের জেরে সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ক্রীড়া বিনোদনের মহাযজ্ঞ। তবে আইপিএল শুরু হলেও মন ভার কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীদের। আইপিএল ফাইনাল হচ্ছে না ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেনে। হচ্ছে না কোয়ালিফায়ার ম্যাচও। পূর্ব নির্ধারিত সুচি অনুযায়ী অবশ্য ইডেনেই ওই দুটো ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিবর্তিত নতুন সূচিতে ইডেনে কোনও ম্যাচ দেওয়া হয়নি। অনেকের মতে, ওই সময় কলকাতায় বৃষ্টির ভালোরকম পূর্বাভাস রয়েছে, তাই বোর্ড কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চায়নি।

    কবে থেকে শুরু খেলা

    ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) জানিয়েছে, ১৭ মে, শনিবার থেকে আবার প্রতিযোগিতা শুরু হবে। ফাইনাল ৩ জুন, মঙ্গলবার। প্রথম কোয়ালিফায়ার হবে ২৯ মে, বৃহস্পতিবার। এলিমিনেটর ৩০ মে, শুক্রবার। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ১ জুন, রবিবার। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলির মাঠ জানালেও, প্লে-অফের খেলা কোথায় হবে তা জানায়নি বোর্ড। আইপিএল বন্ধ হওয়ার সময়ই বোর্ড ১০ দলকে জানিয়ে দিয়েছিল, যে সব ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফ দেশে ফিরে গিয়েছেন, তাঁরা যেন ভারতে ফিরে আসার জন্য তৈরি থাকেন। বোর্ডের সবুজ সঙ্কেত পেলেই দলের সঙ্গে যোগ দিতে হবে তাঁদের। সেই নির্দেশও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিসিসিআই আশাবাদী বিদেশি ক্রিকেটাররাও নিশ্চিন্তে দ্রুতই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

    কোথায় কোথায় হবে ম্যাচ

    সোমবার ভারতীয় বোর্ডের তরফ থেকে টুর্নামেন্টের বাকি ক্রীড়াসূচি ঘোষণা করা হয়। সেখানে পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হয়, ফাইনাল-সহ টুর্নামেন্টের বাকি সতেরো ম্যাচ হবে ছ’টা শহরে। সেই তালিকায় নেই ইডেন। যে ছ’টা শহরে ম্যাচ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো যথাক্রমে- বেঙ্গালুরু, জয়পুর, দিল্লি, লখনউ, মুম্বই আর আমেদাবাদ। গ্রুপ পর্বে কেকেআরের আর কোনও ম্যাচ নেই ইডেনে। ফলে কলকাতায় এবারের মতো আইপিএল যজ্ঞ শেষই বলা যায়। নতুন সূচি অনুযায়ী, কেকেআর ১৭ মে খেলবে আরসিবির বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুতে। অজিঙ্ক রাহানের টিমের গ্রুপের শেষ ম্যাচ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচ হায়দরাবাদের ঘরের মাঠে দেওয়া হয়নি। তা হবে দিল্লিতে।

  • Operation Sindoor: ভারতীয় সেনাকে কুর্নিশ জানাল ইডেন, অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যে গর্বিত সচিন থেকে গম্ভীর

    Operation Sindoor: ভারতীয় সেনাকে কুর্নিশ জানাল ইডেন, অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যে গর্বিত সচিন থেকে গম্ভীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) এর সাফল্যে ভারতীয় সেনাকে সম্মান জানাল ইডেন গার্ডেন্স। বৃহস্পতিবার, ইডেন ছিল অন্য মেজাজে। আইপিএলের ম্যাচে সাধারণত জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় না। কখনও টুর্নামেন্টের শুরুর ম্যাচে কিংবা ফাইনালে এমনটা দেখা যায়। আন্তর্জাতিক ম্যাচ থাকলে অবশ্য় জাতীয় সঙ্গীত দিয়েই ম্যাচের শুরু হয়। আইপিএলে (IPL 2025) প্রথম বার ম্যাচ শুরুর আগে বাজল জাতীয় সঙ্গীত। এদিন ভারতীয় সেনাকে সম্মান জানাতে ইডেনে কেকেআর বনাম চেন্নাই সুপার কিংসের ম্যাচ শুরু হয় জাতীয় সঙ্গীতে। স্ক্রিনেও ভেসে ওঠে ভারতীয় সেনাকে গর্ব এবং সম্মানের বার্তা। ভারতীয় সেনার সাফল্যকে কুর্নিশ জানাতে এই পদক্ষেপ করে বিসিসিআই।

    সেনাকে কুর্নিশ বিসিসিআই-এর

    মঙ্গলবার রাতে জঙ্গিদের বহু ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় থাকা জঙ্গিদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা। পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসীরা ২৬ জন ভারতীয়কে গুলি করে হত্যা করেছিল। তার বদলা হিসেবেই মঙ্গলবার ভারতীয় সেনা জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে আক্রমণ করে। বুধবার ইডেনে খেলার শুরুর আগেই দুই দল ভারতীয় সেনাকে স্যালুট জানায়। খেলা চলাকালীন একাধিকবার ডিজিটাল স্ক্রিনে দেখানো হয় ভারতীয় সেনাকে স্যালুট জানানোর কথা। বহু সমর্থক এদিন খেলা দেখতে আসেন তেরঙ্গা হাতে। খেলা চলাকালীন বাউন্ডারি লাইনের ধারের স্ক্রিনগুলিতেও বার্তা হিসেবে দেখানো হয়, “ভারতীয় সেনার জন্য আমরা গর্বিত।” এদিন ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতা এবং চেন্নাইয়ের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখতে পাওয়া যায়। এই ম্য়াচটি শেষ ওভার পর্যন্ত চলে। টান টান ম্যাচে ঘরের মাঠে মহেন্দ্র সিং ধোনিদের কাছে ২ উইকেটে হেরে যায় কেকেআর। এই হারের ফলে চলতি আইপিএল থেকে কার্যত ছিটকে যাওয়ার পথে নাইটরা।

    সেনাকে সেলাম ক্রিকেটারদের

    ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুর-কে (Operation Sindoor) কুর্নিশ জানিয়েছেন বহু প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। বীরেন্দ্র সেওয়াগ লিখেছেন জয় হিন্দ। নিজের ব্যাটিংয়ের মতোই অ্যাটাকিং স্টাইলে লিখেছেন, ‘‘কেউ যদি পাথর ছোড়ে, আপনিও ফুল ছুড়ে দিন, তবে গামলার সঙ্গে। অপারেশন সিঁদুর, একেবারে নিখুঁত নাম।’’ দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বর্তমানে ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর, অপারেশন সিঁদুরের ছবি সহ পোস্ট করেছেন জয় হিন্দ। সঙ্গে দেশের পতাকা। বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর লিখেছেন, ‘‘একতা ভয়ডরহীন। একতাই শক্তি। ভারতের শক্তি দেশের প্রত্য়েকটা মানুষ। এখানে সন্ত্রাসবাদের কোনও জায়গা নেই। জয় হিন্দ।’’ দেশের আর এক কিংবদন্তি ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামী লিখেছেন, ‘‘ভারত এভাবেই জবাব দেয়।’’ ভারতীয় ক্রিকেটের গব্বর শিখর ধাওয়ান কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধুয়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার শাহিদ আফ্রিদিকে। সেনার জবাবের পর ধাওয়ান লিখেছেন, ‘‘ভারত সবসময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, ভারত মাতা কি জয়।’’ অনিল কুম্বলে, চেতন শর্মা, সুরেশ রায়না, বরুণ চক্রবর্তীর মতো প্রাক্তন এবং বর্তমান ক্রিকেটাররাও অপারেশন সিঁদুর নিয়ে নানা পোস্ট করেছেন।

LinkedIn
Share