Tag: Education news

Education news

  • Union Cabinet: প্রশ্নফাঁসে আর রেহাই নয়! আরও কঠোর অ্যান্টি-পেপার লিক আইনে ছাড়পত্র মোদি মন্ত্রিসভার

    Union Cabinet: প্রশ্নফাঁসে আর রেহাই নয়! আরও কঠোর অ্যান্টি-পেপার লিক আইনে ছাড়পত্র মোদি মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে (Union Cabinet) নতুন অ্যান্টি-পেপার লিক বিলের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংশোধনী বিলটি পেশ করা হতে পারে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) আইন (Anti Paper Leak Bill), ২০২৪-কে আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটছে কেন্দ্র। সরকারের লক্ষ্য, প্রশ্নফাঁস, সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতি এবং পরীক্ষায় অসাধু উপায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। একইসঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় করাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য।

    কী কী বদল হতে পারে?

    সরকারি সূত্রের দাবি, সংশোধনী বিলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে প্রশ্নফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন। দোষীদের জন্য বর্তমানের তুলনায় আরও দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান। অন্তত ১০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জরিমানার ব্যবস্থা। সংগঠিত বা বৃহৎ প্রশ্নফাঁস চক্রের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার প্রস্তাব।

    বর্তমান আইনে কী শাস্তি রয়েছে?

    দেশে ইতিমধ্যেই ‘পাবলিক এক্সামিনেশন আইন (Anti Paper Leak Bill), ২০২৪’ কার্যকর রয়েছে। ২০২৪ সালে এই আইন কার্যকর করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির পরিচালিত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, নকল এবং অন্যান্য অসাধু উপায় রোধ করা। এই আইনের আওতায় রয়েছে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC), স্টাফ সিলেকশন কমিশন (SSC), ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA), বিভিন্ন ব্যাঙ্ক নিয়োগকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য পরীক্ষাগ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ। বর্তমান আইনে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পরীক্ষা পরিচালনাকারী কোনও সংস্থা অপরাধে জড়িত বা তথ্য গোপন করলে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সূত্রের খবর, সংশোধনের পর এই বিধান আরও কঠোর হতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী কী বলেছিলেন?

    মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টা আগেই, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছিলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি প্রশ্নফাঁসকে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুতর অপরাধ বলে উল্লেখ করেন। ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ অপরাধ নয়। গত আড়াই মাসে সরকার একাধিক আইনি পদক্ষেপ করেছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে জেলে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের মামলায় দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুত এবং মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) অনুমোদনের পর তা সংসদে আনা হবে।” সেই মতোই শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠক (Union Cabinet) ডাকা হয়, সেখানেই মেলে অনুমোদন।

    কেন আনা হচ্ছে এই সংশোধনী?

    সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে আইনের ফাঁকফোকর দূর করে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের মতে, সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি দ্রুত বিচারও জরুরি।

    বিরোধীদের আন্দোলন অব্যাহত

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিশেষ করে নিট-ইউজি-সহ একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন হয়। বিরোধী দল Cockroach Janta Party (CJP)-র পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও এই আন্দোলনে সামিল হয়েছে। আন্দোলনে সামিল হয়েছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিও। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের সমস্ত ঘটনার নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্ত,  শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার ও সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। পাশাপাশি নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ। এই পরিস্থিতিতেই প্রশ্নফাঁস ও সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে নতুন সংশোধনী বিল আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    সরব রাহুল গান্ধী

    অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত এক দশকে দেশে প্রায় ১৫০টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ কোনও ক্ষেত্রেই দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত হয়নি।

    বিল পেশের অপেক্ষা

    মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) অনুমোদন মিলেছে, আগামী সপ্তাহেই সংশোধনী বিলটি সংসদে পেশ হওয়ার সম্ভাবনা। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় কারচুপি এবং সংগঠিত জালিয়াতির বিরুদ্ধে দেশের আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের আশা, কঠোর শাস্তি ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

  • PM Narendra Modi: ‘ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করবেন না’, নিট বিতর্কে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Narendra Modi: ‘ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করবেন না’, নিট বিতর্কে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের আবহে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। মঙ্গলবার সংসদ ভবনের লাইব্রেরি ভবনের জিএমসি বালাযোগী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে (NDA Parliamentary Party Meet) তিনি বলেন, ‘‘দেশের ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না। নিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলিকে অযথা রাজনীতি না করারও আহ্বান জানান তিনি।

    ছাত্রদের স্বার্থ রক্ষার বার্তা

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, প্রধানমন্ত্রী নিট বিতর্কের কারণে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রিজিজু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কোনও পরিস্থিতিতেই ছাত্রদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি নিট ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না বানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সরকারের লক্ষ্য পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং ছাত্রদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।’’

    কেন ডাকা হয়েছিল ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠক?

    এদিনের ‘মঙ্গল মিলন’ (Mangal Milan) বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানানো। সম্প্রতি তিনি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। পাশাপাশি সদ্য নির্বাচিত রাজ্যসভার সদস্যদেরও স্বাগত জানানো হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, কিরেন রিজিজু ও অর্জুন রাম মেঘওয়াল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, জি. কিষাণ রেড্ডি এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি রাহুল সিনহা। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে এনডিএ-র সহযোগী দলগুলি মোদির এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে স্বীকৃতি জানিয়ে একটি অভিনন্দন প্রস্তাবও গ্রহণ করে।

    প্রথম বৈঠক নিয়ে উচ্ছ্বসিত অশোক মিত্তল

    প্রথমবার এনডিএ–বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে যোগ দিয়ে বিজেপি সাংসদ অশোক মিত্তল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলের নেতৃত্বের বক্তব্য শোনার সুযোগ পাওয়াকে তিনি বড় সম্মান বলে মনে করছেন। তিনি জানান, দেশের উন্নয়নে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজ করা যায় এবং একজন সাংসদ হিসেবে নিজের দায়িত্ব কীভাবে পালন করতে হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

    এনডিএ বৈঠকে অনুপস্থিত এনসিপিআই

    অন্যদিকে, সদ্য গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-র ২০ জন সাংসদ এদিনের বৈঠকে যোগ দেননি। প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদদের নিয়ে গঠিত এই দলটি বর্তমানে এনডিএ-কে সমর্থন করছে। তবে লোকসভার স্পিকার এখনও পর্যন্ত এনসিপিআই-এর একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়ায় তারা যৌথ বৈঠক থেকে দূরে থাকে। এর আগে রবিবার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এনসিপিআই তাদের প্রথম পৃথক সংসদীয় দলের বৈঠক করে। বৈঠক শেষে তিনি জানান, সংসদে দলের বসার ব্যবস্থা, ডিভিশন নম্বর এবং পৃথক আইনসভার ব্লক অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, সংসদে এনডিএ সরকারকে সমর্থন করলেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কেন্দ্রের সমস্যা নিয়ে তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছেই বিষয়গুলি তুলবেন।

    ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে বর্ষাকালীন অধিবেশন

    উল্লেখ্য, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন সোমবার শুরু হয়েছে এবং আগামী ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে। এই অধিবেশনে নিট বিতর্ক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • CBSE: সংশোধিত পাঠ্যক্রম প্রকাশ সিবিএসইর, নয়া পরিবর্তন কী হল জানেন?

    CBSE: সংশোধিত পাঠ্যক্রম প্রকাশ সিবিএসইর, নয়া পরিবর্তন কী হল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সংশোধিত পাঠ্যক্রম প্রকাশ করল সিবিএসই (CBSE) বোর্ড। জাতীয় নীতির লক্ষ্যের সঙ্গে স্কুল শিক্ষাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই চালু করা হচ্ছে এই ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে (Three Language Rule)।

    উল্লেখযোগ্য সংস্কার (CBSE)

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংস্কারের মধ্যে রয়েছে ধাপে ধাপে একটি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা চালু করা। ২০৩১ সালের মধ্যে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার অংশ হয়ে উঠবে এটি। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুযায়ী, বহুভাষিকতা ও সাংস্কৃতিক সংহতি বাড়াতে তিন-ভাষা সূত্র প্রয়োগ করা হবে। নতুন পাঠক্রম কাঠামোর অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে যে দুটি ভাষা শেখানো হয়, তার পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা পড়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি মাধ্যমিক স্তরে পূর্ণাঙ্গ তিন-ভাষা ব্যবস্থার দিকে ধাপে ধাপে রূপান্তরের সূচনা। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সাধারণত ইংরেজি ও একটি ভারতীয় ভাষা পড়ে। তৃতীয় ভাষা (R3) যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই আরও বিস্তৃত ভাষাগত ভিত্তি লাভ করবে।

    তৃতীয় ভাষার পাঠ্যপুস্তক

    সিবিএসই আধিকরিকদের মতে, তৃতীয় ভাষার পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাসামগ্রী জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ (NCERT)-এর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এই উপকরণগুলি শীঘ্রই সিবিএসইর অ্যাকাডেমিক পোর্টালে উপলব্ধ হবে। যদিও মধ্যম স্তরে তৃতীয় ভাষা চালু হয়েছে, তবে এটি অবিলম্বে বোর্ড পরীক্ষায় প্রভাব ফেলবে না। বর্তমান ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ২০৩১ সালে দশম শ্রেণিতে পৌঁছলে নীতিটি পুরোপুরি কার্যকর হবে (CBSE)। প্রসঙ্গত, ত্রি-ভাষা সূত্রের ব্যাখ্যা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ রয়েছে। বাস্তবে, অনেক শিক্ষার্থী ইংরেজি পড়ে। তবে এনইপি ২০২০ অনুযায়ী ইংরেজিকে প্রায়ই বিদেশি ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হয় (Three Language Rule)। তাই প্রশ্ন উঠছে, ইংরেজির পাশাপাশি কি শিক্ষার্থীদের আরও দুটি ভারতীয় ভাষা শিখতে হবে? এতে পড়াশোনার চাপ বাড়তে পারে।

    দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করতেও একাধিক পরিবর্তন

    বিদেশে অবস্থিত সিবিএসই-সংযুক্ত স্কুলগুলির বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বোর্ড কিছুটা শিথিলতা দিয়েছে। ভারতের বাইরে অবস্থিত স্কুলগুলিতে দুটি ভারতীয় ভাষা পড়ানো বাধ্যতামূলক নয়। তারা একটি ভারতীয় ভাষাকে বাধ্যতামূলক রেখে অন্যান্য ভাষা আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক প্রাসঙ্গিকতার প্রেক্ষিতে নির্বাচন করতে পারবে (CBSE)। ভাষা সংস্কারের পাশাপাশি সিবিএসই সামগ্রিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। নবম ও দশম শ্রেণিতে শিল্প শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং শারীরিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আপাতত শিল্প ও শারীরিক শিক্ষা স্কুলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, বোর্ড পরীক্ষার অংশ হবে না। তবে ২০২৭–২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে চালু হবে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

    নয়া পাঠ্যক্রমের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নবম ও দশম শ্রেণিতে কম্পিউটেশনাল থিংকিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বাধ্যতামূলক করা। শুরুতে এগুলি মডিউল আকারে থাকবে এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন হবে। তবে ২০২৯ সালের মধ্যে এগুলি পূর্ণাঙ্গ বোর্ড পরীক্ষার বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে (Three Language Rule)। সিবিএসই নবম শ্রেণিতে গণিত ও বিজ্ঞানের জন্য দুই-স্তরের ব্যবস্থা চালু করেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড বা অ্যাডভান্সড স্তর বেছে নিতে পারবে। অ্যাডভান্সড স্তরের শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত এক ঘণ্টার ২৫ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে, যেখানে সাধারণ সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন থাকবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই ফল অন্তর্ভুক্ত হবে মার্কশিটে।

    সিবিএসইর অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টরের বক্তব্য

    সিবিএসইর অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টর প্রজ্ঞা সিংয়ের মতে, এনসিইআরটির সঙ্গে যৌথভাবে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একরূপ ও উচ্চমানের শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করবে (CBSE)। বিদেশে পরিচালিত সিবিএসই-সংযুক্ত স্কুলগুলির জন্য নমনীয়তা রাখা হয়েছে। যেখানে দেশের ভেতরের স্কুলগুলিকে দুটি ভারতীয় ভাষা পড়াতে হয়, সেখানে আন্তর্জাতিক স্কুলগুলিতে একটি ভারতীয় ভাষাই বাধ্যতামূলক থাকবে। গত বছরের সিবিএসই সার্কুলারের নির্দেশনাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল প্রস্তুতিমূলক স্তর থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অন্তত একটি ভারতীয় ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    ভাষাগত বৈচিত্র্য

    ভাষাগত বৈচিত্র্য বাড়াতে সিবিএসই ভাষার তালিকাও সম্প্রসারণ করেছে (Three Language Rule)। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখন ডোগরি, মৈথিলি, কোকনি ও সাঁওতালি ভাষা পড়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত ২২টি ভাষাই এখন এই বোর্ডের আওতায় এসেছে। এই সংস্কারগুলি সিবিএসইর মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে কিন্তু ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, মডিউলার বিষয় এবং উন্নত স্তরের বিকল্প চালুর মাধ্যমে বোর্ড একমাত্রিক পদ্ধতি থেকে সরে এসে আরও নমনীয় ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে (CBSE)।

     

  • Education Ministry: “অপব্যবহারের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না”, ইউজিসির ‘ইকুইটি’ নির্দেশিকা বিতর্কে আশ্বাস কেন্দ্রের

    Education Ministry: “অপব্যবহারের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না”, ইউজিসির ‘ইকুইটি’ নির্দেশিকা বিতর্কে আশ্বাস কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউজিসির (UGC) ‘ইকুইটি’ সংক্রান্ত বিধি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন (Education Ministry) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর আশ্বাস, এই বিধিতে কাউকে হয়রান করা হবে না এবং ইউজিসির ‘ইকুইটি’ নির্দেশিকা অপব্যবহারের সুযোগও কাউকে দেওয়া হবে না। তবে এই আশ্বাস ‘জেনারেল কাস্টে’র বিরুদ্ধে এই বিধিগুলির অপব্যবহার নিয়ে যে ব্যাপক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা খুব একটা দূর করতে পারেনি। কারণ ১৩ জানুয়ারি প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, শুধুমাত্র তফসিলি জাতি (SC), উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) ছাত্রছাত্রীরাই ‘জাতিভিত্তিক বৈষম্যের’ শিকার হওয়ার দাবি তুলতে পারবেন। শিক্ষামন্ত্রক এবং ইউজিসির কাছে এই নির্দেশিকাগুলি এক বড়সড় বিচারবিভ্রাটের উদাহরণ। এই দফতরকে ঘিরে ২০১৪ সালের পর সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য (Education Ministry)

    ধর্মেন্দ্র বলেন, “বর্তমান ব্যবস্থা সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে চলা একটি প্রক্রিয়ার ফল।” তবে এই নির্দেশিকাগুলি যে অবশ্যম্ভাবী ছিল, তা নয়। বাস্তবে, ইউজিসি নিজেই ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি আলাদা খসড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল। ইউজিসি (UGC) ইকুইটি রেগুলেশনস ২০২৬-এর উৎস খুঁজে পাওয়া যায় দুই পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায়, ২০১৬ সালে রোহিত ভেমুলা এবং ২০১৯ সালে পায়েল তাদভি। উভয় ক্ষেত্রেই তাঁদের পরিবার অভিযোগ করেছিল যে জাতিভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হয়ে তাঁরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে রোহিত ভেমুলার মা রাধিকা এবং পায়েল তাদভির মা আবেদা সেলিম তাদভি সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেন। তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে বৈষম্যরোধী ব্যবস্থা চালুর আবেদন জানান। এই মামলায় আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং, তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী প্রসন্ন এস এবং দিশা ওয়াডেকর।

    নতুন বিধি প্রণয়নের দাবি

    আবেদনকারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পিটিশনে সম্পূর্ণ নতুন বিধি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়নি। বরং ২০১২ সালের ‘ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (প্রোমোশন অব ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস) রেগুলেশনস’ কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি তোলা হয়েছিল। ওই বিধি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ‘ইকুয়াল অপরচুনিটি সেল’ গঠন করতে হতো, বিশেষত এসসি এবং এসটি ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে (Education Ministry)। পিটিশনাররা অভিযোগ করেন যে ভর্তি, মূল্যায়ন, হস্টেল বরাদ্দ এবং ক্যাম্পাস জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিগত পক্ষপাত রয়েছে। পাশাপাশি, ২০১২ সালের কাঠামো কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রায় সম্পূর্ণ ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরা হয়, কার্যত কোনও নজরদারি নেই, খুব কম সংখ্যক ইকুয়াল অপরচুনিটি সেল রয়েছে এবং ন্যাকের (NAAC) মতো স্বীকৃতি প্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে কোনও সমন্বয়ই নেই।

    সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ

    ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট নোটিশ জারি করলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। শেষমেশ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং উজ্জ্বল ভূঁইয়া ইউজিসির গাফিলতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং সেল, অভিযোগ ও গৃহীত পদক্ষেপ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে পাঠান। এর জবাবে ইউজিসি জানায়, তারা নতুন নির্দেশিকা খসড়া করছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (প্রোমোশন অব ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস) রেগুলেশনস, ২০২৫’ শীর্ষক খসড়া জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয় (UGC)। এই নথিটি আবেদনকারীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি, জাতিগত পরিচয় ও বিভাজন যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে না পারে, তার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তববাদী প্রয়াস হিসেবে উঠে আসে। অনেকে যে র‌্যাডিকাল পরিবর্তনের আশঙ্কা করেছিলেন, এই খসড়া তা নয়। বরং সুরক্ষা জোরদার করা এবং একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, ন্যায়সঙ্গত আচরণ ও যথাযথ প্রক্রিয়া বজায় রাখার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করা হয় (Education Ministry)।

    জাতিভিত্তিক বৈষম্যের মূল বিষয়

    ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির খসড়াটি এসসি/এসটি ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে জাতিভিত্তিক বৈষম্যের মূল বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে রাখা হয়েছিল, যা সরাসরি পিটিশনের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এতে অপ্রাসঙ্গিক বা ব্যাপক শ্রেণি যুক্ত করে বিষয়টিকে বিস্তৃত করা হয়নি। খসড়াটিতে বৈষম্যের আধুনিক সংজ্ঞায় বলা হয়, জাতি বা উপজাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অন্যায্য, ভিন্নতামূলক বা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ। সমালোচকেরা একে ২০১২ সালের নিয়মে বর্ণিত নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ কার্যকলাপের তালিকার তুলনায় অস্পষ্ট বললেও, এই সরল সংজ্ঞা প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রেক্ষিত অনুযায়ী নিয়ম প্রয়োগের নমনীয়তা দেয় এবং অতিরিক্ত আইনি জটিলতায় অচলাবস্থা এড়াতে সাহায্য করে (UGC)। খসড়ার একটি বিশেষভাবে যুক্তিসঙ্গত দিক ছিল মিথ্যা বা কুৎসিত অভিযোগের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান। এতে বলা হয়েছিল, প্রমাণিতভাবে মিথ্যা বৈষম্যের অভিযোগ দায়ের করলে ইকুইটি কমিটি জরিমানা ধার্য করতে পারবে।

    প্রয়োজনীয় সুরক্ষা

    এই বিধান প্রকৃত ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে নয়, বরং অপব্যবহার রোধে একটি প্রয়োজনীয় সুরক্ষা হিসেবেই বিবেচিত হয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা, শিক্ষাগত প্রতিযোগিতা বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পরিবেশে এমন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অভিযোগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সহায়ক। ইকুইটি কমিটির গঠন নিয়েও খসড়াটি বাস্তববাদী ছিল। কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে রাখা হয় এবং প্রায় দশজন সদস্যের মধ্যে অন্তত একজন এসসি বা এসটি সম্প্রদায়ভুক্ত রাখার কথা বলা হয়। এতে শিক্ষক, ছাত্র ও প্রশাসনিক কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সমষ্টিগত দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয় (Education Ministry)। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, খসড়াটি যথাযথ তদন্ত ছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একতরফা শাস্তি আরোপের প্রলোভন এড়িয়ে চলে (UGC)। এতে অভিযোগ খতিয়ে দেখার সময় উভয় পক্ষকে বক্তব্য ও প্রমাণ পেশের সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়, যা ভারতীয় আইনে স্বীকৃত প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

    কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা

    প্রতিটি অভিযোগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না করে, সমাধান, মধ্যস্থতা ও সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। খসড়াটি সচেতনতা কর্মসূচি, সংবেদনশীলতা বিষয়ক কর্মশালা এবং বার্ষিক প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়, তবে ক্যাম্পাস পরিচালনায় অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করেনি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আকার, অবস্থান ও সংস্কৃতির পার্থক্য স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানগুলিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও বজায় রাখা হয়। মোটের ওপর, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির খসড়াটি ছিল একটি পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ উদ্যোগ। এটি আবেদনকারীদের দাবি মেনে নিয়েও আইনের সামনে সমতার নীতিকে বিসর্জন দেয়নি। দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থাও রেখেছিল, ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল (Education Ministry)। অনেক পর্যবেক্ষক, এমনকি সমালোচকরাও স্বীকার করেছিলেন যে জনমত থেকে প্রাপ্ত ৩৯১টি প্রস্তাবের ভিত্তিতে কিছু সংশোধন করা হলে এটি শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যরোধী নীতির একটি আদর্শ মডেল হতে পারত।

    সেই সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে ভেস্তে যায়

    কিন্তু সেই সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে ভেস্তে যায়। আবেদনকারীরা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির খসড়ার বিরোধিতা করেন এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে ইন্দিরা জয়সিং দশটি মূল সংস্কারের দাবি জানান (UGC)। এর মধ্যে ছিল প্রান্তিক গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব-সহ অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন এবং নির্দেশিকা না মানলে অনুদান প্রত্যাহারের প্রস্তাব। বেঞ্চ আট সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করার সময়সীমা বেঁধে দেয় এবং বড় কোনও ঘাটতি থাকলে তা খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারিও দেয়।এরপর ১৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ যখন চূড়ান্ত ইউজিসি (প্রোমোশন অব ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস) রেগুলেশনস, ২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়, তখন পরিবর্তনটি ছিল চোখে পড়ার মতো (Education Ministry)। এতে জয়সিংয়ের একাধিক দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ছিল বৈষম্য নিষিদ্ধকরণ ও ডিবারমেন্টের ক্ষমতা (ধারা ১১), বিচ্ছিন্নকরণের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বিধান (ধারা ৭(ডি)), ওবিসি/প্রতিবন্ধী/মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত করে বৈচিত্র্যময় ইকুইটি কমিটি (ধারা ৫(৭)), গোপনীয়তা ও প্রতিশোধরোধী সুরক্ষা, প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব (ধারা ৪(৩)), বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিং (ধারা ৭(এফ)) এবং প্রো-অ্যাকটিভ ইকুইটি স্কোয়াড ও অ্যাম্বাসাডর। কিন্তু এর বিনিময়ে ২০২৫ সালের খসড়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।

    চূড়ান্ত সংস্করণে ‘জাতিভিত্তিক বৈষম্য’

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, চূড়ান্ত সংস্করণে ‘জাতিভিত্তিক বৈষম্য’ কেবল এসসি, এসটি এবং ওবিসিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা হয়। ফলে সাধারণ শ্রেণির ব্যক্তিদের সম্ভাব্য অপব্যবহার থেকে সুরক্ষার কোনও সমতুল ব্যবস্থা রইল না। মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে যে সুরক্ষা খসড়ায় ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়। এই একতরফা প্রবণতা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে, যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়াকে দুর্বল করে এবং শিক্ষাজগতের বড় অংশকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। এর জেরে দেশজুড়ে প্রবল প্রতিবাদ শুরু হয়। সমালোচকরা এই বিধিকে বিভাজনমূলক এবং সংবিধানের সমানাধিকারের নীতির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন (Education Ministry)। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির খসড়া দেখিয়েছিল যে শিক্ষামন্ত্রক ও ইউজিসি যুক্তিসঙ্গত ও অ-বৈষম্যমূলক নীতি তৈরি করতে সক্ষম। কিন্তু সেপ্টেম্বরের পরবর্তী মোড়, চাপ, আত্মসমর্পণ বা অভ্যন্তরীণ ভুলের কারণেই হোক, এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে, যা ন্যায়বিচারের বদলে বাছাই করা প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেয় (UGC)। যে সংস্কার একান্ত প্রয়োজনীয় ছিল, তা এখন এক হারানো সুযোগের সতর্কবার্তায় পরিণত হয়েছে, যেখানে ‘সমতা’ বিভাজনের রূপ নিয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকৃত ন্যায়বিচার মানে এমন সুরক্ষা, যা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, এমন অস্ত্র নয়, যা যে নীতিকে রক্ষা করার দাবি করে, তাকেই ক্ষয় করে (Education Ministry)।

     

  • JNU: জেএনইউ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর স্লোগান, অভিযোগ দায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের

    JNU: জেএনইউ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর স্লোগান, অভিযোগ দায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেএনইউয়ের চিফ সিকিউরিটি অফিসার বসন্ত কুঞ্জ (নর্থ) থানার স্টেশন হাউস অফিসারকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ, জেএনইউ ক্যাম্পাসের সবরমতী হস্টেলের বাইরে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিটি সংগঠিত করে জেএনইউ স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (JNUSU) সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পড়ুয়া।

    আইনানুগ ব্যবস্থা (JNU)

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি জেএনইউ ক্যাম্পাসে সংঘটিত হিংসার ষষ্ঠ বার্ষিকী পালন করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল “এ নাইট অফ রেজিস্ট্যান্স উইথ গেরিলা ধাবা”। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কর্মসূচির আড়ালে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর এবং উসকানিমূলক কিছু স্লোগানও দেওয়া হয়, যা ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ (JNU)।

    উসকানিমূলক স্লোগান

    ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তরফে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর (PM Modi)। চিঠিতে এও বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ওই অনুষ্ঠানটি একটি নির্দিষ্ট বার্ষিকী পালনের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। এতে ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। যাঁদের নাম চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, অদিতি মিশ্র, গোপিকা বাবু, সুনীল যাদব, দানিশ আলি, সাদ আজমি, মেহবুব ইলাহি, কনিষ্ক, পাকিজা খান, শুভম-সহ আরও কয়েকজন। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিন সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরেই অনুষ্ঠানের প্রকৃতি ও সুর বদলে যায়। সেই সময় কিছু ছাত্রছাত্রী অত্যন্ত আপত্তিকর, উসকানিমূলক এবং জ্বালা ধরানো ধরনের স্লোগান দিতে শুরু করেন (JNU)।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মত

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এই ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সরাসরি অবমাননা। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই (PM Modi) ধরনের স্লোগান, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, জেএনইউয়ের কোড অফ কন্ডাক্ট লঙ্ঘন করে এবং ক্যাম্পাসের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। ওই চিঠিতেই দাবি করা হয়েছে, স্লোগানগুলি ছিল শুনতে পাওয়া যায় এমন, ইচ্ছাকৃত এবং বারবার উচ্চারিত। অর্থাৎ, এটি কোনও তাৎক্ষণিক বা আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সচেতন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ। এই ধরনের ব্যবহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌহার্দ্যপূর্ণ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা। চিঠিতে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় এই ঘটনার বিষয়ে এফআইআর দায়ের করার অনুরোধ জানানো হয়েছে (JNU)।

    উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ

    চিঠি থেকেই জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করার পর, ক্যাম্পাসে বামপন্থী ছাত্রদের একাংশের তরফে একাধিক উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। স্লোগানগুলি দিল্লির হিন্দু-বিরোধী দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলার প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, জেএনইউয়ে এই স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনা গণতান্ত্রিক ভিন্নমতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি জেএনইউয়ের (PM Modi) আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। প্রশাসনের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার ওপর কড়া নজর রেখেছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে (JNU)।

    জেএনইউ প্রশাসন আরও জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ব্রাঞ্চ পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তদন্তে সহযোগিতা করবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, জেএনইউ সবসময় গণতান্ত্রিক আলোচনার পক্ষে থাকলেও, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা আচরণবিধি লঙ্ঘন (PM Modi) কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না (JNU)।

LinkedIn
Share