Tag: Election Commission India

  • West Bengal Elections 2026: মমতার ‘অপছন্দের’ আইপিএস জয়রামনকে উত্তরবঙ্গে বিশেষ দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন!

    West Bengal Elections 2026: মমতার ‘অপছন্দের’ আইপিএস জয়রামনকে উত্তরবঙ্গে বিশেষ দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসজেডিএ দুর্নীতি কাণ্ডে কিরণ কুমার গোদালাকে গ্রেফতার করেছিলেন তিনি। সেটা ২০১৩ সাল। ফলস্বরূপ, ‘মমতার রোষে’ ১২ বছর মেলেনি গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং! এবার, সেই জয়রামনকেই ভোটের আগে ফিরিয়ে এনে উত্তরবঙ্গে বিশেষ দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রতিহিংসাপরায়ণ মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার রাজ্যের এই উচ্চপদস্থ আইপিএস। তাঁদের দাবি, মমতা একনায়কতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে যোগ্য ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন কোণায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কাজ এবং সম্মান— দুই থেকে জয়রামনকে বঞ্চিত করেছেন। এবার এই আইপিএসকে বিশেষ দায়িত্ব এবং কাজে যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। আসন্ন নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) সামনে রেখে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করছে নির্বাচন কমিশন। উত্তরবঙ্গের এডিজি (ADG) পদে নিয়োগ করা হয়েছে আইপিএস কে জয়রামনকে (K Jayaraman)। বিজেপির অভিযোগ, মমতা সরকারের দুর্নীতিকাণ্ডে শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন জয়রামন। আর তাই রোষানলে পড়ে বঞ্চনার শিকার হন। তবে কমিশনের এই নিয়োগের পরই তাঁর পুরনো একটি বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোলে ফেলে দিয়েছে।

    গোদালা কিরণ কুমারকে গ্রেফতার করেছিলেন (West Bengal Elections 2026)

    সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন তৎকালীন জেলাশাসক (DM)-কে গ্রেফতার করে দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন জয়রামন। সেই ঘটনার জেরে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত জেলাশাসক বিরাট দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেন। আর তাই ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে জয়রামন এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আইএএস অফিসার গোদালা কিরণ কুমারকে গ্রেফতার করেন।  উল্লেখ্য, দুর্নীতি যখন সংঘটিত হয়েছিল, তখন গোদালা কিরণ কুমার এসজেডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। তবে, গ্রেফতারের সময় তিনি মালদার জেলাশাসক (DM) পদে কর্মরত ছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসক মমতা নিজের অনুগতদের স্বজন পোষণ করেন আর মতের অমিল হলেই খাড়ার কোপ দেন। কে জয়রামন (K Jayaraman) শেষবার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন এই উত্তরবঙ্গেই৷ ২০১৩ সালে তিনি ছিলেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার৷ ওই পদে থাকাকালীনই তাঁকে সরিয়ে দিয়ে কম্পালসারি ওয়েটিং পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার পর দীর্ঘ সাড়ে বছর তাঁকে আইনশৃঙ্খলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সময়ের সঙ্গে পদন্নোতি হয়ে বর্তমানে এডিজি পদমর্যাদার অফিসার হলেও, অন্তরালেই থেকে যান জয়রামন। তাঁকে সেখান থেকে বের করে এনে কমিশন এবার নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে।

    নবান্নের সঙ্গে প্রকার টানাপোড়েন ছিল

    একজন কর্মরত জেলাশাসককে গ্রেফতার করার এই ঘটনাটি প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। তবে তৎকালীন সময়ে উচ্চপদস্থ আধিকারিককে গ্রেফতারের পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া নিয়ে নবান্নের সঙ্গে পুলিশের এক প্রকার টানাপোড়েন তৈরি হয়। এই পদক্ষেপের পর কে জয়রামনকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘকাল চর্চা চলেছিল। বিগত কয়েক বছর ধরে পুনরায় মূল ধারার পুলিশ বিভাগে ফিরে এসেছেন জয়রামন। নির্বাচন কমিশন তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনা করেই ভোটের মুখে উত্তরবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ জোনের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে তুলে দিয়েছে। নির্বাচনের সময় স্পর্শকাতর উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই এখন এই পদস্থ কর্মকর্তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে হিংসা মুক্ত নির্বাচন করতে কমিশন এই সক্রিয় অফিসারকে ময়দানে (West Bengal Elections 2026) নামিয়েছে।

    কেন এই নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ?

    বিগত ১২ বছর ধরে তিনি মূলত অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে ভোটের মতো সংবেদনশীল সময়ে উত্তরবঙ্গের এডিজি (ADG) হিসেবে তাঁর এই নিয়োগ প্রশাসনিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নির্বাচনে হিংসা এবং অশান্তি প্রতিরোধ এখন বড় চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে। লোকসভা নির্বাচনের পর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল। ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করা এবং ভোটারদের ভোট নিশ্চিত করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কমিশনের আস্থা দীর্ঘ বিরতি সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন যে তাঁর ওপর এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা জয়রামনের (K Jayaraman) অভিজ্ঞতা ও দৃঢ়তার ওপর আস্থারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। একজন আইপিএস অফিসার হিসেবে কে জয়রামন তাঁর সোজাসাপ্টা ও কড়া মেজাজের জন্য পরিচিত। এক সময় রাজ্য সরকারের রোষানলে পড়লেও, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে আসন্ন ভোটের লড়াইয়ে অভিজ্ঞ ও কঠোর কর্মকর্তাদের উপরেই আস্থা রাখতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (West Bengal Elections 2026)।

  • West Bengal Elections 2026: বঙ্গজয়ের লক্ষ্যে বিজেপি, প্রচারে ঝড় তুলতে রামনবমীর পরেই রাজ্যে আসছেন মোদি-শাহ

    West Bengal Elections 2026: বঙ্গজয়ের লক্ষ্যে বিজেপি, প্রচারে ঝড় তুলতে রামনবমীর পরেই রাজ্যে আসছেন মোদি-শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে (West Bengal Elections 2026) ব্যাপক প্রচারে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জানা গিয়েছে, রাম নবমীর পর রাজ্যজুড়ে রোড শো এবং জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে রাজ্যের ভোট প্রচারে শুধু মোদি নন সেই সঙ্গে সভা করবেন অমিত শাহ, নিতিন নবীন, জেপি নাড্ডা এবং যোগী আদিত্যনাথের মতো জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতারা।

    প্রধানমন্ত্রীর মেগা ক্যাম্পেইন (West Bengal Elections 2026)

    ভোটগ্রহণের আগে রাজ্যে মোট ১৪টি জনসভা ও রোড-শো করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (West Bengal Elections 2026)। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছানোই তাঁর এই ঝটিকা সফরের লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় নির্বাচন হবে। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

    অমিত শাহের রণকৌশল

    পিছিয়ে নেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসভায় শান দিতে তিনিও রাজ্যে একাধিক কর্মসূচি পালন করবেন। বুথ স্তরের কর্মীদের চাঙ্গা করতে তাঁর উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রবীণ বিজেপি নেতা মোট ৮টি জনসভা করবেন। সেই সঙ্গে ৭টি জনসভা করবেন সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। ভোটের প্রচারে অংশ গ্রহণ করবেন জেপি নাড্ডা। তিনি মোট ৬টি জনসভা করবেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রোড শো করবেন ৪টি। সেই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে প্রচার চালাবেন বিশিষ্ট অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মোট ১০টি জনসভা এবং রোড শো করবেন।  মোদি-শাহ ছাড়াও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।

    সুর বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

    গত কয়েকদিনের ব্যবধানে মোদি (PM Modi)-শাহের এই ঘনঘন সফর স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাংলার নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। বিশেষ করে গত ১৪ মার্চ ব্রিগেডের সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী যে সুর বেঁধে দিয়েছেন, তাকেই পাথেয় করে আসন্ন নির্বাচনগুলোতে ঝড় তুলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। রাজ্যের হাই-ভোল্টেজ এই প্রচারে গত ১৫ বছরের তৃণমূলের দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, তোষণের রাজনীতিকেই হাতিয়ার করে ময়দানে জোর কদমে প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূলের কাটমানি বনাম বিজেপির আমজনতার অধিকার রক্ষার লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

  • WB Elections 2026: কমিশনের মাস্টারস্ট্রোক! বাংলার অপসারিত আইএএস-আইপিএসদের উপরেই ভিনরাজ্যে ভোটের দায়িত্ব

    WB Elections 2026: কমিশনের মাস্টারস্ট্রোক! বাংলার অপসারিত আইএএস-আইপিএসদের উপরেই ভিনরাজ্যে ভোটের দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে যে একাধিক আইএএস ও আইপিএস অফিসারকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবার তাঁদেরই বেশকয়েকজনকে নির্বাচনী (WB Elections 2026) দায়িত্ব সামলাতে ভিনরাজ্যে পাঠানো হল৷ কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে নতুন দায়িত্বস্থলে যোগ দিতে হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। এঁদের প্রত্যেককেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা এবং নির্বাচনী বিধি কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করাতে বদ্ধপরিকর।

    তামিলনাড়ুতে ভোটের কাজে পাঠানো হল

    আসন্ন বিধানসভা ভোটে (West Bengal Election 2026) নির্বাচন কমিশন (ECI Gyanesh Kumar) পুরনো সব ছক ভেঙে দেওয়ার পথে হাঁটছে। প্রশাসনিক রদবদল যে দিকে এগোচ্ছে তাতে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে একাধিক রদবদল হয়েছে। শুরুটা হয়েছিল মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে দিয়ে। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয় দুষ্মন্ত নারিয়াল। এর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয় সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে। পুলিশের শীর্ষ স্তরেও একাধিক রদবদল হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি, রাজ্যের এডিজি আইনশৃঙ্খলা-সহ পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তাকেও সরানো হয়েছে ভোটের আগে।

    নবান্নর পোস্টিং খারিজ করে আইএএস-দের ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক 

    বুধবার অর্ধেকের বেশি জেলার ডিএম বদল করেছিল কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদের নতুন পোস্টিং দিয়েছিল নবান্ন। কিন্তু সেই পোস্টিংয়ের পর কমিশন ৬ জন আইএএস অফিসারকে বাইরের রাজ্যে অবজার্ভার হিসেবে পাঠিয়ে দিল। এর আগে আইপিএস-দের ক্ষেত্রে যা হয়েছিল, আইএএস বা ডিইও-দের ক্ষেত্রেও তাই হল। মোট তিন দফায় তামিলনাড়ু যেতে হবে এই আধিকারিকদের। প্রথম দফায় শুক্রবারের মধ্যে, থাকতে হবে অন্তত এক সপ্তাহ, দ্বিতীয় দফায় যেতে হবে ৩০ মার্চ, থাকতে হবে ভোট শেষ হ‌ওয়া পর্যন্ত, তৃতীয় দফায় যেতে হবে কাউন্টিংয়ের দু-দিন আগে।

    রয়েছেন রাজ্য সরকারের দুই সচিবও

    ওই ছ’জন আইএএস অফিসারের মধ্যে রাজ্য সরকারের দু’জন সচিবও রয়েছেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ ব্যাচের আইএএস প্রীতি গোয়েল, ২০১৪ ব্যাচের সিয়াদ এন, ২০১০ ব্যাচের অরবিন্দকুমার মিনা, ২০০৯ ব্যাচের রানি এ আয়েশা, ২০০৬ ব্যাচের পি উলাগানাথন, ২০১৩ সালে আইএএস শামা পরভিনকে তামিলানাড়ুতে পাঠিয়েছে কমিশন। এই ছ’জনকেই তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় ভোট পর্যবেক্ষকের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইএএস উলাগানাথন এবং শামা রাজ্য সরকারের সচিব। উলাগানাথন পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ দফতরের সচিব। পাশাপাশি, তিনি তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ ইলেক্ট্রনিক্স টেস্টিং এবং স্ট্যান্ডার্ড বিভাগের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। শামা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের সচিব। পাশাপাশি, জিটিএর প্রিন্সিপ্যাল সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে তাঁর কাঁধে।

    রাজ্যের অপসারিত আইএএস-আইপিএসদের হাতে ভিনরাজ্যের দায়িত্ব!

    বুধবার রাতে নির্দেশিকা প্রকাশ করে রাজ্যের ১৫ জন আইপিএস অফিসারকে তামিলনাড়ু এবং কেরলে ভোটের কাজে পাঠানোর কথা জানিয়েছিল কমিশন। পরে এঁদের মধ্যে পাঁচজনের বদলিতে স্থগিতাদেশ দেয় কমিশন। তবে রাজ্যের বাকি অপসারিত ১০ জন আইপিএস আধিকারিকের জন্য পুরনো নির্দেশই বহাল থাকে। অর্থাৎ, তাঁদের কেরল এবং তামিলনাড়ুতে যেতে হচ্ছে। বুধবার রাজ্যের দুই সচিব প্রিয়ঙ্কা শিঙ্গলা এবং পি মোহনগান্ধীকে ভিন্‌রাজ্যে ভোটের কাজে পাঠানো হয়। প্রিয়ঙ্কা বিপর্যয় মোকাবিলা এবং অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের সিনিয়র বিশেষ সচিব। মোহনগান্ধী শিল্প, বাণিজ্য এবং উদ্যোগ বিভাগের সচিব তথা পশ্চিমবঙ্গ খনিজ উন্নয়ন এবং বাণিজ্য কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর।

    ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক আরও ৬ আইপিএস

    মঙ্গলবার পূর্ত দফতরের সচিব অন্তরা আচার্য এবং খাদ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের প্রধান সচিব পারভেজ আহমেদ সিদ্দিকিকে অন্য রাজ্যের পর্যবেক্ষক করে পাঠানোর কথা জানায় কমিশন। তার আগে রাজ্যের অপসারিত স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে অন্য রাজ্যে ভোট-পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, আগে স্থগিতাদেশ দেওয়া ৫ সহ ৬ আইপিএসকে বৃহস্পতিবার ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক করে কমিশন। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াক্কার রাজাকে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের জন্য পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধৃতিমান সরকারকে কেরলে, সন্দীপ কাররাকে নাগাল্যান্ডের উপনির্বাচনে এবং আমনদীপকে তামিলনাড়ুতে পাঠানো হয়েছে।

    কেন ভিনরাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

    কমিশনের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি। রবিবার বাংলার বিধানসভা ভোট ঘোষণার পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনিক পদে বিস্তর বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, সিপি, ডিজি, ডিআইজি, ডিএম থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ একাধিক আধিকারিককে বদলে দিয়েছে তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (ECI Gyanesh Kumar) একাধিক চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতে কোনও লাভই হয়নি। উল্টে দেখা গেল, চিঠি বা সোশ্যাল পোস্টের পর রাতারাতি আরও বদল করেছে কমিশন।

    সহিংসতা কমার আশা

    পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ঘিরে বার বার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অসংখ্য প্রাণহানি হয়েছে। শান্তিপূর্ণ, ভয়হীন ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ গণতন্ত্রের এই উৎসবে নির্ভয়ে অংশ নিতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশন যেভাবে এবার সক্রিয় হয়েছে এবং যে সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গবাসী একটি হিংসামুক্ত নির্বাচন (WB Elections 2026) দেখতে পাবেন বলে আশা করা যায়। তবে এই প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ সাফল্য কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে না, বরং নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্তরের সরকারি আধিকারিক, পুলিশ প্রশাসন এবং সর্বোপরি সাধারণ নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা ও সৎ ইচ্ছা থাকলে তবেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের বিগত নির্বাচনগুলিতে ব্যাপক রিগিং, দুর্নীতি এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি একটি সাধারণ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। এটা সাধারণ ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেয়। প্রশাসনকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতেই হয়তো নির্বাচন কমিশন এবার এত বিপুল সংখ্যায় উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের রদবদলের পদক্ষেপ করছে।

  • West Bengal Assembly Election: দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিজেপির: একাধিক হেভিওয়েট মুখে চমক পদ্ম-শিবিরে

    West Bengal Assembly Election: দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিজেপির: একাধিক হেভিওয়েট মুখে চমক পদ্ম-শিবিরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election) সামনে রেখে রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত সব পক্ষই। এই আবহে আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নিজেদের দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল ভারতীয় জনতা পার্টি (Bengal BJP)। প্রথম তালিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনের নাম ঘোষণার পর, দ্বিতীয় তালিকায় মূলত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও হেভিওয়েট কেন্দ্রের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন, অর্জুন সিং, নিশীথ প্রামাণিক, রূপা গাঙ্গুলি, পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের মতো একাধিক বড় নাম।

    ১১২টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা বিজেপি (West Bengal Assembly Election)

    দ্বিতীয় দফায় আরও ১১২টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি (West Bengal Assembly Election)। প্রথম তালিকায় একটি কেন্দ্রের প্রার্থীও বদল করা হয়েছে। হাওড়ার শ্যামপুরে টিকিট পেয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূলের লাভলি মৈত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। নোয়াপাড়ায় বিজেপির প্রার্থী ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংহ। ব্যরাকপুর বিধানসভার প্রার্থী হয়েছেন আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী। পানিহাটি কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা করেনি বিজেপি (Bengal BJP)। তবে জল্পনা শুরু হয়েছে ওই কেন্দ্র থেকে আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মাকে টিকিট দেবে বিজেপি নেতৃত্ব। এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

    উত্তরবঙ্গ ও মতুয়াগড়ে কে কে প্রার্থী?

    উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বিজেপি বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাকে নির্বাচনী ময়দানে নামিয়েছে। আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের মতো জেলাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে মাথাভাঙায় প্রার্থী করা হয়েছে। টালিগঞ্জে পাপিয়া অধিকারী লড়বেন। যাদবপুরে টিকিট পেয়েছেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়। কৃষ্ণগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে সুকান্ত বিশ্বাসকে। মতুয়া গড় হিসাবে পরিচিত বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ এবং গাইঘাটায় বিদায়ী বিধায়কদেরই (West Bengal Assembly Election) প্রার্থী করা হয়েছে। এখানে লড়ছেন যথাক্রমে অশোক কীর্তনিয়া, স্বপন মজুমদার এবং সুব্রত ঠাকুর। স্বরূপনগরে প্রার্থী হলেন তারক সাহা। হাবড়ার প্রার্থী করা হয়েছে বনগাঁ জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা বনগাঁ পুরসভার কাউন্সিলর দেবদাস মণ্ডলকে। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমারকে। বিধাননগরে প্রার্থী করা হয়েছে চিকিৎসক শারদ্বৎ মুখোপাধ্যায়কে। রাজারহাট গোপালপুরে প্রার্থী তরুণ আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।

    দ্বিতীয় দফার তালিকায় দলের অভিজ্ঞ নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ও তারকা প্রার্থীকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, জনভিত্তি মজবুত করতেই এই কৌশল গ্রহণ করেছে বিজেপি।

    কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিলমোহর

    বেশ কিছু আসনে বর্তমান বিধায়কদের (West Bengal Assembly Election) ওপর পুনরায় আস্থা রাখা হলেও, কিছু ক্ষেত্রে নতুন ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা ও যুব প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা লক্ষণীয়।

    সন্দেশখালিতে বিজেপি (Bengal BJP) প্রার্থী সনৎ সর্দার। হিঙ্গলগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে সন্দেশখালি আন্দোলনের নেত্রী রেখা পাত্রকে। কলকাতায় বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী ডাক্তার ইন্দ্রনীল খাঁ। কাশীপুর বেলগাছিয়ায় প্রার্থী হয়েছেন রিতেশ তিওয়ারি। রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি তাপস রায়কে টিকিট দেওয়া হয়েছে মানিকতলায়। বালিগঞ্জের প্রার্থী বিজেপির জাতীয় পরিষদ সদস্য শতরূপা। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় প্রার্থী করা হয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীকে। পুরুলিয়া সদরে সুদীপ মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া সদরে টিকিট পেয়েছেন নীলাদ্রিশেখর দানা।

    দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (CEC) বৈঠকের পরেই এই নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রচারের প্রস্তুতি ও দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    দ্বিতীয় দফায় ১১২টি আসনের পর এখন বাকি রইল ৩৮টি আসন। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই তাদের সিংহভাগ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। পাল্টা হিসেবে বিজেপির (Bengal BJP) এই দ্বিতীয় তালিকা রাজনৈতিকভাবে (West Bengal Assembly Election) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই প্রার্থী নির্বাচন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।

  • ECI: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে রাজ্যে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গড়ছে কমিশন

    ECI: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে রাজ্যে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গড়ছে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন (Bengal Polls 2026) করতে বদ্ধপরিকর জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই জন্যই কোনওরকম অভাব-অভিযোগ এড়িয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল কমিশন। জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এজন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ (Complaint Redressal Cell)। এই সেল যে খোলা হবে, তা আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।

    ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ (ECI)

    কমিশন সূত্রে খবর, সেল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেলে প্রয়োজন ৯জন আধিকারিকের। যদিও আপাতত কমিশনের তিন আধিকারিক এবং ছ’জন মাইক্রো অবজারভার এই কাজ করবেন। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, এই ধরনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রায় কয়েক লাখ অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হয়। সেই জন্যই নবান্নের কাছে প্রয়োজনে অতিরিক্ত আধিকারিক চেয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে কমিশন। আপাতত অভিযোগ জানানো যাবে ১৯৫০-এই টোল ফ্রি নম্বরে। অভিযোগ জানানোর আট ঘণ্টার মধ্যেই তার নিষ্পত্তি করা হবে। এই নম্বরের পাশাপাশি কমিশনের ই-মেইল আইডি-ও জানিয়ে দেওয়া হবে আমজনতাকে। কোনও বুথ এলাকার কোথাও যদি কোনও ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয় কিংবা ভয় দেখানো হয়, তাহলে সেই বুথে পুনর্নির্বাচন হবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল কমিশন।

    সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

    এদিকে, যে ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিচারাধীন ছিল, তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজারের। নয়া যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হবে, সেখানে থাকবে অ্যাডিশন এবং ডিলিশন। অ্যাডিশনে থাকবে যাঁদের নাম উঠবে, আর ডিলিশনে থাকবে তাঁদের নাম, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে (ECI)। এদিকে, বুধবারের মধ্যে রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছেন সব অবজারভার। এঁদের মধ্যে সাধারণ অবজারভার ২৯৪ জন, পুলিশ অবজারভার ৮৪ জন, এক্সপেন্ডিচার অবজারভার ১০০ জন। নির্ধারিত এলাকায় কাজও শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, বঙ্গে দু’দফায় হবে বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ। প্রথম দফার নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল, সেদিন ভোট হবে রাজ্যের ১৬টি জেলায়। শীঘ্রই ওই জেলাগুলি সফর করবেন (Free and Fare Polls) মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। জেলাওয়াড়ি ভোটের প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে, সেটাই খতিয়ে দেখবেন তিনি (ECI)।

     

  • West Bengal Elections 2026: ‘টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি’! কোথাও গণইস্তফা, কোথাও জ্বলল আগুন, প্রার্থী ঘোষণা হতেই তৃণমূলে শুরু বিদ্রোহ

    West Bengal Elections 2026: ‘টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি’! কোথাও গণইস্তফা, কোথাও জ্বলল আগুন, প্রার্থী ঘোষণা হতেই তৃণমূলে শুরু বিদ্রোহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৭ মার্চ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে তৃণমূল। আর এই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন দিকে শাসকদলের অন্দরে শুধু হয়েছে চাপানউতোর। কারও অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি হয়েছে। কেউ বলছেন, দল তাঁকে ব‍্যবহার করে তেজপাতা করে দিয়েছে। কেউ টিকিট না পেয়ে ‘তৃণমূল হারবে’ বলে দলকে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখলেন। কেউ আবার বিদ্রোহ ঘোষণা করে ছাড়লেন দল! সব মিলিয়ে প্রার্থীতালিকা নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় তৃণমূল।

    তমলুকে ইস্তফা সাংগঠনিক জেলা মহিলা সভানেত্রীর

    দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেত্রী শিবানী দে কুণ্ডু। নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও তিনি। তমলুক সাংগঠনিক জেলা মহিলা সভানেত্রীও তিনি। মঙ্গলবার রাতেই সোশ্যাল মিডিয়াতে পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। শিবানী দে কুণ্ডুর দাবি, জেলায় মহিলা প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই কারণেই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, মহিলাদের ৫০% আসন সংরক্ষণের কথা দল বললেও কার্যক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি। এই কারণেই পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিবানী। বুধবারেই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেবেন বলেও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি।

    আরাবুল-শওকত নিয়ে ভাঙড়-ক্যানিংয়ে অস্বস্তি তৃণমূলে

    আবার ভোটের মুখে গরম ভাঙড়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়ে দল ছাড়লেন আরাবুল ইসলাম। তাঁর নিশানায় মমতা, ফিরহাদ, শওকত। দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ আরাবুলের। দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কাইজার-ও। সব মিলিয়ে ভাঙড়ে তৃণমূলের অস্তিত্বের সঙ্কট! ক্যানিং পূর্বের বদলে ভাঙড় থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সওকত মোল্লাকে। যা নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা চৌমাথা বাজারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁর অনুগামীরা। ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ তৃণমূলের। তাঁদের দাবি, ক্যানিং পূর্বে শওকত মোল্লাকে প্রার্থী করতে হবে। টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী আমডাঙার ৩ বারের তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমান। আমডাঙা-কাঁকিনাড়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ তাঁর অনুগামীদের।

    খণ্ডঘোষে গণ-ইস্তফা, মন্তেশ্বরে বোমাবাজি, মিনাখাঁয় আগুন

    প্রার্থী ঘোষণা হতেই মঙ্গলবার প্রকাশ্যে খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বরের তৃণমূল নেতৃত্বের ঝামেলা৷ একদিনে মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণার পরেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে চলল বোমাবাজি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যেতে হয় । ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন বলে খবর। অন্যদিকে, খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নবীন বাগের নাম ঘোষণার পরেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে দলের অন্দরে। নেতা কর্মীদের একাংশ সাফ হুঁশিয়ারি দেন, প্রার্থী বদল না হলে খণ্ডঘোষের ব্লক সভাপতি, একাধিক অঞ্চল সভাপতি, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা দলের পদ ছেড়ে নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় থাকবেন৷ যার জেরে এদিন রাত পর্যন্ত সরগরম খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বর বিধানসভা এলাকা। মিনাখাঁয় ঊষারানি মণ্ডলকে প্রার্থী করেছে দল। প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই সেখানে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রার্থী বদলের দাবি জানিয়ে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের একাংশের। হাড়োয়ায় রোড অবরোধ। বাঁশ-লাঠি দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ। ঘটনায় জখম তৃণমূলের ২ কর্মী। জখম তৃণমূল কর্মীরা হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি।

    “আমি কি চাকর নাকি”, টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী বিধায়ক

    প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতে না হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় সামনে এল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল। বিপ্রদাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিপ্রদাসপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান এবং তাঁর অনুগামীরাই। ভোটের মুখে শাসকদলের এই প্রকাশ্য কোন্দল ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উপপ্রধানের অভিযোগ, বর্তমান বিধায়ক তথা প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা এই হামলা চালিয়েছেন। টিকিট না পেয়ে বিক্ষুব্ধ চুঁচুড়ার তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদার। প্রতিক্রিয়ায় বললেন, ‘আমরা তো চুনোপুটি লোক, তাহলে আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলবে?’ ‘আমি মনে করেছি খামতি নেই, ওরা মনে করেছে আমার খামতি আছে। না হলে তিনবার আমাকে দিল এবার দিল না কেন? দলের লোকের আমাকে ভালোবাসে, ওদের মন ভেঙে গেছে। ধন্যবাদ জানালাম দলকে।’ অসিত বলেন, “রাজনীতি আর করব না। রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নিলাম।” এরপরেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “দল কাজ করতে বললে কী করবেন?” উত্তরে তিনি বলেন, “দল কাজ করতে বললেই করতে হবে নাকি, আমি কি চাকর নাকি?”

    “এবার তৃণমূল হারবে”, টিকিট না পেয়ে হুঁশিয়ারি বিধায়কের

    জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ আসনে পরপর চারবার জয়ী হওয়ার পরেও বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে ছাব্বিশের ভোটে প্রার্থী করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হল এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মনকে৷ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন খগেশ্বর। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেন তিনি। বিদায়ী বিধায়ক বলেন, “আমার প্রতি যে অবিচার হল, তার জন্য দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। রাজগঞ্জ আসন এবার তৃণমূল হারবে। এখানে দলের ভিত আমি তৈরি করেছি। অন্য দলে যাব কি না তা এখনও চিন্তা করিনি। তবে দলকে চিঠি পাঠালাম। দেখি দল কী সিদ্ধান্ত জানায়।” তাঁর আক্ষেপ, “টাকার কাছে হেরে গেলাম!” প্রার্থী ঘোষণা হতেই রাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কিছু জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি ‘বহিরাগত’ বা ‘অরাজনৈতিক’ প্রার্থী হঠানোর স্লোগানও ওঠে।

  • West Bengal Assembly Polls: “বেড়াতে নয়, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন”, ভোট ঘোষণা হতেই বাহিনীকে স্মরণ করাল কমিশন

    West Bengal Assembly Polls: “বেড়াতে নয়, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন”, ভোট ঘোষণা হতেই বাহিনীকে স্মরণ করাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে উদ্দেশ করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “এখানে বেড়াতে আসেননি, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন। কাজ ঠিকমতো না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সঙ্গে রাজ্যের জন্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, “বাংলায় ভোটের যে কালচার ছিল, এবার তার পরিবর্তন হবে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলায় ভোট মানেই হিংসার অভিযোগ—এবার সেই সংস্কৃতি বদলাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কমিশন।

    দু’দফায় ভোটের সিদ্ধান্ত

    সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকের পর সিইও জানান, দীর্ঘদিন পর পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় নির্বাচন হবে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    • ● প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল — ১৫২টি আসন
    • ● দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল — ১৪২টি আসন
    • ● ভোটগণনা: ৪ মে
    • ● সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ: ৬ মে

    আসনসংখ্যা ও সংরক্ষণ

    পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে। এর মধ্যে—

    • ● ৬৮টি এসসি (তফশিলি জাতি)
    • ● ১৬টি এসটি (তফশিলি উপজাতি) আসন সংরক্ষিত

    কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা

    কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ৫৫টি ক্রিটিক্যাল বুথ চিহ্নিত হয়েছে। স্পর্শকাতর ও অতিস্পর্শকাতর বুথের তালিকা এখনও প্রস্তুত হচ্ছে, ফলে সংখ্যা বাড়তে পারে। সিইও জানান, যদি কোনও বুথের মধ্যে অশান্তি হয়, তবে তার দায় সিআরপিএফের। প্রতি দফায় ভোট করাতে কত করে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন, তারও আভাস দিলেন মনোজ। অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। তার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা-ও তুলে ধরেন তিনি। সেই বিষয়ে জানাতে গিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাড়তি গুরুত্বের কথা বলেন মনোজ। তিনি বলেন, ‘‘সিআরপিএফ ঠিক ভাবে কাজ করবে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি।’’ কমিশন জানিয়েছে, বুথের ভিতরে কোনও রকম অনিয়ম হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেক্টর অফিসে জানাবে। তারা প্রিসাইডিং অফিসারকে ফোন করবে। বুথের মধ্যে যে কোনও ধরনের গন্ডগোলের জন্য দায়ী করা হবে সিআরপিএফ-কেই। সিইও বলেন, ‘‘সুষ্ঠু এবং অবাধ ভোট করাতে হবে সকলকে। দায়িত্বে গাফিলতি হলে পদক্ষেপ করা হবে।’’ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে একাধিক কড়া পদক্ষেপের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক—

    • ● প্রতিটি দফায় ২২০০–২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা
    • ● প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং
    • ● প্রয়োজনে ড্রোন নজরদারি
    • ● ২৯৪টি আসনে ২৯৪ জন পর্যবেক্ষক
    • ● পুলিশ প্রশাসনের ওপর কড়া নজর

    মনোজ জানান, প্রতিটি বুথে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং থাকবে, যা তিনটি আলাদা কেন্দ্র থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। কোনও বুথের ভোটগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে, সেই ক্ষেত্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য ২৯৪ জন জেনারেল অবজারভার নিয়োগ করা হবে। এছাড়া, রাজ্যের ২৮টি পুলিশ জেলা ও ৬টি পুলিশ কমিশনারেটে দুজন করে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন। কলকাতায় ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ

    থানার ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এলাকায় অবৈধ অস্ত্র বা বোমা মজুত থাকলে ১৯ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ভোট চলাকালীন বা ভোট-পরবর্তী হিংসার জন্য পুলিশকেই জবাবদিহি করতে হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। সিইও সতর্ক করে বলেন, ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ধরা পড়লে সংবিধানের ৩১১ ধারা প্রয়োগ করা হবে।

    ভোট প্রক্রিয়ায় নতুন উদ্যোগ

    স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার একাধিক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—

    • ● প্রতিটি ইভিএমে থাকবে প্রার্থীদের রঙিন ছবি
    • ● ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশন দেবে
    • ● বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্লিপ পৌঁছে দেবেন
    • ● এই স্লিপে থাকবে ভোটারের নাম, বুথের বিবরণ ও পার্ট নম্বর।

    ভোটার তালিকা ও বিশেষ উদ্যোগ

    ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিচারাধীন ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে। এই কাজে রাজ্যজুড়ে ৭০৫ জন বিচারপতি নিযুক্ত রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১.৫-২ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

    বয়স্ক ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

    • ● ৮৫ বছরের ঊর্ধ্ব ভোটারদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা (ওলা/উবারের সঙ্গে আলোচনা)
    • ● বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট
    • ● রাজ্যে ১০০ বছরের বেশি ভোটার: ৬,৬৫৩ জন

    মনোজ বলেন, ‘‘ভোটার ইনফর্মেশন স্লিপে কিউআর কোড থাকবে। এর আগে রাজনৈতিকদল ওই স্লিপ দিত। এ বার বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসবেন।’’ ৮৫ বা তার বেশি বয়সি ভোটারেরা বাড়ি থেকে ভোটদান করতে পারবেন। সিইও বলেন, ‘‘ওই ভোটারেরা বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট দিতে পারবেন। বাড়িতে গিয়ে তাঁর ভোট নিয়ে আসা হবে।’’

  • SIR: এসআইআর পরিচালনা সাংবিধানিক অধিকার, নির্দেশ দিতে পারেনা আদালত, সুপ্রিম কোর্টে বলল কমিশন

    SIR: এসআইআর পরিচালনা সাংবিধানিক অধিকার, নির্দেশ দিতে পারেনা আদালত, সুপ্রিম কোর্টে বলল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা দাখিল করেছে। সেখানে তারা জানিয়েছে যে ভোটার তালিকায় চলমান বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR) পরিচালনার সম্পূর্ণ অধিকার তাদেরই রয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের হলফনামায় উল্লেখ করেছে, দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে যে এসআইআর পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, তা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক অধিকার। তাই আদালত এই বিষয়ে কোনও নির্দেশ দিতে পারে না। যদি আদালত এই ধরনের নির্দেশ দেয়, তাহলে তা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।

    আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়ের জনস্বার্থ মামলা

    সম্প্রতি আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় শীর্ষ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলায় তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন, যাতে ভারতে যে কোনো নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার যুক্তি ছিল, দেশের রাজনীতি এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে এটি জরুরি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা চায় না শীর্ষ আদালত এই ধরনের নির্দেশ দিক। কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা হলফনামায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ধারা ৩২৪ অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধনের একমাত্র কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশন, এবং অন্য কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি এতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কমিশন আরও জানিয়েছে, ভোটার তালিকার যথাযথতা নিশ্চিত করতে এসআইআর অপরিহার্য, এবং তারা সর্বদা এই দায়িত্বের বিষয়ে সতর্ক ও দায়িত্বশীল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা ভোটার তালিকাকে সঠিক রাখার বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন এবং এই কাজ নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করা হয় (SIR)।

    বিহারে বাদ ৬৫ লাখ নাম (SIR)

    প্রসঙ্গত, কয়েক মাস পর বিহারে ভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। জানা গেছে, সেই রাজ্যে ইতিমধ্যেই এসআইআর-এর (SIR) মাধ্যমে প্রায় ৬৫ লাখ অবৈধ ভোটারের নাম বাদ গেছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মৃত ভোটারের নাম, কিছু স্থায়ীভাবে অন্য রাজ্যে বসবাসকারী ভোটার, এবং এমন কিছু ভোটারও রয়েছে যাদের নাম একাধিক জায়গায় তালিকাভুক্ত ছিল।

LinkedIn
Share