Tag: Election Commission

Election Commission

  • EC: এসআইআর-এর শুনানি পর্বে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বাড়তি নজর কমিশনের! কেন জানেন?

    EC: এসআইআর-এর শুনানি পর্বে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বাড়তি নজর কমিশনের! কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর যে প্রাথমিক পর্বের খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে বাদ পড়েছে ৫৮ লাখের কাছাকাছি ভোটারের নাম (Suspicious Voters)। এবার শুরু হবে শুনানি প্রক্রিয়া (EC)। এই প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রাথমিকভাবে ডাক পেতে পারেন এনিউমারেশন ফর্মে কোনও ম্যাপিং না দেখানো কমবেশি ৩০ লাখ ভোটার। এর বাইরেও শুনানিতে ডাকা হবে বিভিন্ন জেলার সন্দেহজনক তালিকায় থাকা ভোটারদের। বাবা-মা, দাদু-দিদা, ঠাকুর্দা-ঠার্কুমার সঙ্গে যাঁদের বয়সের ফারাক অনেক বেশি কিংবা একই ব্যক্তিকে অনেকে বাবা-মা-দাদু-দিদা হিসেবে দেখিয়েছেন, এমন সন্দেহজনক ভোটারের তালিকা আপাতত ঝাড়াই-বাছাই করছে কমিশন। প্রথমে এই সংখ্যাটা ১ কোটি ৬৭ লাখের মতো থাকলেও, আপাতত তা খানিক কমে হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ। তার মধ্যে থেকেই ডাক পাবেন সন্দেহজনক ম্যাপিং করা ভোটাররা।

    ঝাড়াই-বাছাই পর্ব (EC)

    এই তালিকা ঝাড়াই-বাছাই পর্বে কমিশন বাড়তি নজর দিচ্ছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে। সূত্রের খবর, দাদু-দিদা অথবা ঠাকুর্দা-ঠাকুর্মার নাম ব্যবহার করে প্রোজেনি ম্যাপিংয়ের ক্ষেত্রে সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন শুধু মুর্শিদাবাদেই ৪ লাখ ৭ হাজার ৬৫ ভোটার। রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এই জেলা। এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই দক্ষিণ পরগনারই ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রায় ৭ লাখ ভোটে জিতে সাংসদ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই জেলায় সন্দেহজনক প্রোজেনি ম্যাপিংয়ের তালিকায় রয়েছেন ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯১০ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। এখানে সন্দেহজনক প্রোজেনি ম্যাপিংয়ের তালিকায় রয়েছেন ২ লাখেরও বেশি ভোটার।

    খসড়া ভোটার

    কমিশনের তালিকা অনুযায়ী (EC), খসড়া ভোটার তালিকায় সব চেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে (Suspicious Voters) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। এখানে বাদ পড়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৪৩২ জন ভোটার। উত্তর ২৪ পরগনায় বাদ পড়েছে ৭ লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ জন ভোটার। কমিশন সূত্রে খবর, শুধু দুই ২৪ পরগনায়ই এখনও পর্যন্ত হদিশ মিলেছে ছ’লাখেরও বেশি মৃত ভোটারের। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ। উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া, বারাকপুর, দমদম উত্তর, খড়দা, রাজারহাট, গোপালপুর, বিধাননগর এবং দক্ষিণ পরগনার যাদবপুর ও কসবা কেন্দ্রের অনেকের নামও বাদ পড়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, এর মধ্যে শুনানির জন্য ডাক পেতে পারেন ১ কোটির মতো ভোটার।

    সন্দেহজনক ভোটারের তালিকায় কারা?

    সন্দেহজনক ভোটারের তালিকায় রয়েছেন কারা? কমিশন জানিয়েছে, এনুমারেশন ফর্ম খতিয়ে দেখা গিয়েছে বহু ভোটারের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক ১৫ বছর বা তারও কম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই সংখ্যাটা ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০২ জন। এর পরেই রয়েছে আর এক ২৪ পরগনা। কমিশনের মতে, কিছু ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রযুক্তিগত ভুল (Suspicious Voters) হয়ে থাকতে পারে। তবে একটা বড় অংশের ক্ষেত্রে অবশ্যই জালিয়াতি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। খসড়া তালিকা ঝাড়াই-বাছাই হলে এসবই ধরা পড়বে ছাঁকনিতে (EC)।

  • West Bengal SIR: এসআইআর হিয়ারিংয়ে আপনাকে ডাকা হয়েছে কীভাবে জানবেন? সঙ্গে কী কী নথি রাখবেন?

    West Bengal SIR: এসআইআর হিয়ারিংয়ে আপনাকে ডাকা হয়েছে কীভাবে জানবেন? সঙ্গে কী কী নথি রাখবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছে খসড়া ভোটার তালিকা। আপাতত সেই তালিকায় রয়েছে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১ জনের নাম। একইসঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে রাজ্যজুড়ে বাদের তালিকা। যাতে রয়েছে ৫৮,২০,৮৮৯ নাম। এবার শুরু হতে চলেছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর দ্বিতীয় ধাপ— হিয়ারিং। এখন প্রশ্ন হল, খসড়া তালিকায় আপনার নাম থাকা মানেই কি চূড়ান্ত তালিকাতেও আপনার নাম থাকবে? একেবারেই তা নয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন প্রায় ২ মাস ধরে চলবে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২২ বা ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে নোটিস পাঠানোর কাজ। তারপরই শুরু হবে হিয়ারিং। অন্যদিকে, যদি আপনার নাম খসড়া ভোটার তালিকায় না থাকে, তাহলে আপনাকে নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন আবেদন করতে হবে। আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি একজন ভারতীয় নাগরিক এবং যোগ্য ভোটার।

    সমন আসলে দিতে হবে হাজিরা

    কমিশন সূত্রে খবর, খসড়া ভোটার তালিকা ম্যাপিং হয়েছে ৩ ভাগে— প্রোজেনি ম্যাপিং, সেল্ফ ম্যাপিং ও নো-ম্যাপিং। কমিশন সূত্রে খবর, প্রোজেনি ম্যাপিং ও সেল্ফ ম্যাপিংয়ে নাম থাকা ভোটারদের হিয়ারিংয়ে ডাকার সম্ভাবনা কম। কিন্তু, যাঁদের নো-ম্যাপিং হয়েছে, তাঁদের ডাক পড়ার সম্ভাবনা বেশি। খসড়া তালিকায় নাম ওঠা ভোটারদের মধ্যে যাঁদের ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে সঠিক ম্যাপিং হয়নি, অথবা যাঁদের তথ্যে গরমিল বা সংশয় রয়েছে, তাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে। অর্থাৎ, আপনার কোনও তথ্য নিয়ে কমিশনের যদি সন্দেহ হয়, আপনার কাছে চলে আসবে সমন। আপনার দিতে হবে হাজিরা। কমিশন সূত্রে খবর, অসঙ্গতি রয়েছে প্রায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষের নামে। হিয়ারিংয়ে ডাকা হতে পারে ফর্মে অসঙ্গতি থাকা ভোটারদের।

    কীভাবে জানা যাবে?

    উল্লেখ্য, আপনাকে নোটিস আকারে সমন পাঠাবে নির্বাচন কমিশন। আর সেই নোটিস নিয়ে আপনার কাছে আসবেন বিএলওরা। অর্থাৎ, আপনার বিএলওই আপনাকে জানাবে আপনাকে কোথায় যেতে হবে হিয়ারিংয়ের জন্য। এ ছাড়াও আপনার মোবাইল নম্বরে মেসেজ করে আপনাকে জানাতে পারে ইলেকশন কমিশন। তবে এই হিয়ারিং কোথায় হবে, তা এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। ডিইও-দের থেকে রিপোর্ট চেয়েছে রাজ্যের সিইও দফতর। প্রতিটি বিধানসভার জন্য একজন করে ইআরও, ১০ জন এইআরও রয়েছেন। এই ১১ জন আধিকারিক হিয়ারিং টেবিলে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে। প্রতিদিন ১০০ জনকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হতে পারে।

    হিয়ারিংয়ের দিন হাজির না হলে…

    এসআইআরে হিয়ারিং পর্ব চলবে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যেই সব ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে। হিয়ারিংয়ে থাকবেন ইআরও বা এইআরও। শুনানির ক্ষেত্রে ভোটারদের স্বার্থ দেখা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, উল্লেখিত দিনে কোনও ভোটার যদি শুনানিতে হাজির হতে না পারেন, তা হলে সঙ্গত কারণ দেখালে তাঁকে পরবর্তীতে ফের সময় দেওয়া হবে। শুনানির দিন পাল্টানোর জন্য ইআরও-র কাছে আবেদন করতে হবে। শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে শুনানিতে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকলে প্রয়োজনে ভার্চুয়াল শুনানির ব্য়বস্থাও করতে পারে।

    হিয়ারিংয়ে লাগতে পারে কী কী নথি?

    ১) রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী অথবা পেনশনভোগী হিসেবে পরিচয়পত্র

    ২) ১৯৮৭ সালের আগে পোস্ট অফিস, ব্যাংক, এলআইসি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নথি

    ৩) জন্ম শংসাপত্র

    ৪) পাসপোর্ট

    ৫) মাধ্যমিক বা অন্য যে কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র

    ৬) রাজ্য সরকারের অধীন কোনও সংস্থার দেওয়া আবাসিক শংসাপত্র

    ৭) ফরেস্ট রাইটসের শংসাপত্র

    ৮) জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট

    ৯) ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (NRC) — শুধুমাত্র আসামের ক্ষেত্রে

    ১০) স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা পারিবারিক রেজিস্টার

    ১১) সরকারের দেওয়া জমি লিজ বা বাড়ি লিজ সংক্রান্ত শংসাপত্র

    — উপরে উল্লিখিত নথিগুলির সঙ্গে আধার পরিচয়পত্রও রাখবেন।

     

    খসড়া ভোটার তালিকাতে নেই নাম, ডাকা হয়নি শুনানির জন্যও, কী করবেন?

    এ ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করতে হবে। এর সঙ্গে জমা দিতে হবে অ্যানেক্সচার-৪ এবং অন্যান্য নথিও।

    কেউ যদি ভুয়ো নথি জমা দেন, তাহলে…

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৩৩৭ অনুযায়ী, কেউ নথি জাল করলে তার সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রতিটি ফর্ম কমিশনের নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ভোটারের দেওয়া সমস্ত তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে তবেই ঠিক করা হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুনানির জন্য ডাকা হবে কি না। আগে প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে দিনে সর্বোচ্চ ৫০টি শুনানি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এখন কমিশন সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুনানি শেষ করতে প্রয়োজনে দিনে একশোর বেশিও শুনানি হতে পারে।

  • SIR: খসড়া তালিকায় নাম থাকা দেড় কোটি ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি! প্রত্যেককেই কি নোটিশ পাঠাবে কমিশন?

    SIR: খসড়া তালিকায় নাম থাকা দেড় কোটি ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি! প্রত্যেককেই কি নোটিশ পাঠাবে কমিশন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে এসআইআর-এর (SIR) খসড়া তালিকা। কমিশনের (Election Commission) তরফে বলা হয়েছে তালিকায় প্রকাশিত মোট ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫১ হাজার ১৭৩ জনের ক্ষেত্রে তথ্যে গোলমাল রয়েছে। ফলে তালিকায় অসঙ্গতি থাকলেই যে আবার হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে এমনটাও নয়। কমিশনের আবার জানিয়েছে, অসঙ্গতি থাকলেই নোটিশ যে পাঠানো হবে এমনটাও নয়। তবে অসঙ্গতির প্রেক্ষিত এবং পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ার কারণে হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে।

    কী কী ক্ষেত্রে অসঙ্গতি (SIR)?

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫১ হাজার ১৭৩ জনের প্রকাশ (SIR) করা হলেও সংখ্যাটা শেষ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩৬ হাজারের আশেপাশে থাকতে পারে। তবে চেক হওয়ার পর কিছুটা কমতে পারে। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে যাদের নাম নেই, এমন ২৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩০ জনের নামে অসঙ্গতি রয়েছে। যাদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি এমন ১৯ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৫০ জনের ক্ষেত্রেও অসঙ্গতি রয়েছে। বাবার নামে অসঙ্গতি রয়েছে এমন ৮৫ লক্ষ ১ হাজার ৪৮৬ জনের ক্ষেত্রে গোলমাল রয়েছে। বাবার বয়স নিয়ে ধন্দ রয়েছে এমন ভোটারের সংখ্যা ১৯ লক্ষের বেশি। তার মধ্যে ১০ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯৮১ জন ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর। একই ভাবে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ৫০ বছর এমন ভোটারের সংখ্যা ৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৭৫। এগুলিকে তথ্য দিয়ে যাচাই করবে কমিশন।

    সবচেয়ে বেশি কোথায় বাদ পড়েছে?

    কমিশন (Election Commission) জানিয়েছে হেয়ারিংয়ে (SIR) ডাকা মানে নাম বাদ পড়বে এমন বিষয় নয়। যাদের ডাকা হবে তাদের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য ডাকা হচ্ছে। যাদের নথি সংক্রান্ত সমস্যা থাকবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে পারবে না তাদের নাম বাদ যাবে। একইভাবে যদি কেউ ভুয়ো তথ্য দিয়ে থাকে তাহলে শাস্তির মুখে পড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম খসড়ায় ভোটার তালিকায় বাতিল হয়েছে। শতাংশের হারে সব থেকে কম বাদ গেছে পূর্ব মেদিনীপুরের। যার শতাংশ ৩.৩১ শতাংশ। আর সব থেকে বেশি নাম বাদ গেছে উত্তর কলকাতায়। যার শতাংশের হার ২৫.৯২ শতাংশ।

  • ECI ASD List: ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮! খসড়া তালিকার সঙ্গে বাদ পড়া নামের তালিকা প্রকাশ কমিশনের

    ECI ASD List: ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮! খসড়া তালিকার সঙ্গে বাদ পড়া নামের তালিকা প্রকাশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার নির্ধারিত দিনেই খসড়া তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের কত ভোটারের নাম প্রথম তালিকায় জায়গা পেল না, তা জানাতে খসড়া তালিকার আগে কমিশন নাম বাদের তালিকা প্রকাশ করেছে। কমিশন প্রদত্ত ওয়েবসাইট- ceowestbengal.wb.gov.in/asd_SIR –এ গেলেই দেখা যাচ্ছে নাম বাদের তালিকা। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এবং বুথভিত্তিক কত নাম বাদ পড়ল সেই সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এই ‘বাদের খাতায়’। ওয়েবসাইটে ক্লিক করলেই ডাউনলোড করা যাচ্ছে সেই তালিকা।

    কীভাবে দেখবেন?

    প্রথমেই ক্লিক করে চলে যান এই ওয়েবসাইটে। তারপর আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে তিনটি অপশন –

    এপিক নম্বর সার্চ

    বিধানসভা ভিত্তিক এএসডি তালিকা

    বিএলও-বিএলএ-র তালিকা

    এপিক নম্বর অপশনে ক্লিক করলে আপনাকে দিতে হবে আপনার ভোটার কার্ডে উল্লেখিত এপিক নম্বর। যদি আপনার নাম বাদ না যায়, তা হলে এই সার্চের পর কোনও কিছু পাবেন না। কিন্তু কোনও নাম বাদ গেলে, তা উঠে আসতে পারে।

    সার্চ বাই এপিক নম্বরের পাশে রয়েছে নাম বাদের তালিকা অর্থাৎ বিধানসভা-ভিত্তিক এএসডি তালিকা। এই অপশনে ক্লিক করার পর ভোটারকে দু’টি তথ্য দিতে হবে। প্রথম জেলা, দ্বিতীয় তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র। তারপর সেই অনুযায়ী চলে আসবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের অধীনস্থ ভোটকেন্দ্রগুলি। তার পাশেই থাকবে ডাউনলোড অপশন। তাতে ক্লিক করলেই ভেসে উঠবে নাম বাদের তালিকা। সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্র থেকে কাদের নাম বাদ গেল, কেন বাদ গেল, সবটাই লেখা রয়েছে এই তালিকায়।

    কতজন বাদ গেলেন?

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জনের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মৃত ভোটারের নাম, ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৫২। নিখোঁজ ভোটার ১২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৮ জন। স্থানান্তরিত ভোটার ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৬ জন। ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩২৮। অন্যান্য কারণে ৫৭ হাজার ৬০৪ নাম বাদ গিয়েছে। এছাড়া কমিশন জানাচ্ছে, ৩০ লক্ষ আনম্যাপড- তাদের শুনানিতে ডাকা হবে। এদের ২০০২-এ কারও সঙ্গে কোনও লিঙ্ক হয়নি।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, ১ কোটি ৬৭ লক্ষের মতো এরকম ভোটার ছিল, যাদের তথ্যগত কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল। নাম, বয়স, মা-বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক, একাধিক জনের সঙ্গে ম্যাপিং, এরকম নানা অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল। এদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হতে পারে। সেক্ষেত্রে কাকে শুনানিতে ডাকা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও। মঙ্গলবার থেকেই বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি যাবেন। ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি চলবে। সে সব পর্যালোচনা করা হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এছাড়া, আর যে ৩০ লক্ষের মতো ব্যক্তি আনম্যাপড, তাঁদেরও ইআরও, এইআরও হিয়ারিং পর্বে ডাকবেন।

    শুনানির প্রস্তুতি শুরু কমিশনের

    খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এবার শুনানির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কমিশন। শুনানির জন্য বুথে বাধ্যতামূলকভাবে বসতে হবে বিএলও-দের। মঙ্গলবার থেকে ১৫ জানুয়ারি এক মাস বিএলও-দের বসতে হবে সংশ্লিষ্ট বুথে। জেলায় জেলায় স্কুলের রুম চেয়ে চিঠি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের চিঠি দিচ্ছে কমিশন। সেইসব স্কুলের রুমেই অভিযোগ বা আপত্তি বিএলও-কে জানাতে পারবেন ভোটাররা।

    কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, নাম না থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এবার ডাকা হবে শুনানিতে। ফর্ম ৬ পূরণ করতে হবে। অনলাইনেই ওই ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। অফলাইনেও জেলাশাসকের দফতর থেকেও সংগ্রহ করা যাবে ফর্ম ৬। খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে নোটিস যাবে নাম না থাকা ভোটারের কাছে। একদিনে অন্তত ১০০ জনের শুনানি হবে। প্রয়োজনে বাড়ানো হতে পারে সংখ্যাটা।

  • SIR: খসড়া তালিকায় নাম না থাকলে কোনও চিন্তা নেই, কী কী করবেন জেনে নিন

    SIR: খসড়া তালিকায় নাম না থাকলে কোনও চিন্তা নেই, কী কী করবেন জেনে নিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর-এর (SIR) খসড়া তালিকায় নাম না থকালে কোনও চিন্তা নেই। কী কী করবেন আগেই জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। মঙ্গলবার বের হচ্ছে খসড়া তালিকা। প্রত্যকের মনে মনে একটা চিন্তা ঘুরছে নাম থাকবে তো। আর নাম না থাকলে কী হবে? খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমকে। তিনি সাফ জানান, “খসড়া তালিকায় যদি নিজেদের নাম না দেখেন তাহলে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। অনলাইনেই ফর্ম ৬-এ আবেদন করতে পারেন। আবেদনের পর আপনাকে হেয়ারিং-এ ডাকা হবে। এরপর উপযুক্ত কাগজ দেখিয়ে সঙ্গে সঙ্গে রোলে তুলে দিতে হবে। যদি কেউ এখানকার নাগরিক হন তাহলে ভয়ের কিছু নেই। উপযুক্ত কাগজ দেখালেই নাম উঠে যাবে ভোটার লিস্টে।”

    ৮১ হাজার বুথের ৫৮ লক্ষ নাম বাদ (SIR)

    সুব্রত গুপ্ত বলেন, “এসআইআর (SIR) হল নির্বাচনী ভোটার তালিকার (Election Commission) নিবিড় সংশোধনের কাজ। যে কোনও কাজ অল্প সময়ের মধ্যে করতে হলে সেখানে চাপ একটু বেশিই থাকে। এই রকম চাপে আমরাও আছি। সাধারণ একজন সরকারি কর্মচারি যে রকম চাপে থাকে এই চাপ অনেকটাই বেশি। তবে আবার এটাও নয় যে কাজ চাপের কারণে থমকে গিয়েছে। আর যদি তাই হতো তাহলে ৮১ হাজার বুথের ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিতে হতো না। এই কাজ করতে তো হয়েছে।”

    সুব্রত গুপ্ত আরও বলেন, “কমিশন যখন আমাকে নিয়োগ করেছে তখন সাফ নির্দেশ ছিল, কোনও অবৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকায় না থাকে। আর অপর দিকে কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকার বাইরে না থাকে। আমাদের কাজ এটাই, এই কাজটাই দায়িত্ব নিয়ে করছি। এই জন্যই বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন। দুই মাস খসড়া তালিকা থাকবে পোর্টালে। একই সময়ে শুনানিও চলবে। লোকে আবেদন করতে পারবেন। এর মধ্যে যদি কোনও ভুল ভ্রান্তি ধরা পড়ে তাহলে মানুষ আবেদন করতে পারবেন। তারপর তাঁর নাম আসবে বলে আমার বিশ্বাস। তবে হেয়ারিং-এ কতজনকে ডাকা হবে তা নিয়ে এখনও কোনও নাম ঠিক হয়নি। ৩০ লক্ষ মানুষের নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই, নিঃসন্দেহে তাঁদের শুনানিতে ডাকা হবে। বাকি আর কাদের ডাকা হবে সেই নির্দেশের অপেক্ষা করছি। কমিশনের নির্দেশ ছাড়া তা বলা সম্ভবপর নয়।”

    কীভাবে চেনা যাবে বাংলাদেশি

    সুব্রত গুপ্ত অবৈধ বাংলাদেশি ভোটার বা জাল ভোটারদের ক্ষেত্রে বলেছেন, “কেউ অবৈধ ভোটারের লেবেল মাথায় লাগিয়ে ঘুরছে এমনটা নয়। আমি বলতে পারি ১ কোটির বেশি ভুলভ্রান্তি মিলে মিশে রয়েছে। আরও অন্য রকম কিছু ভুলভ্রান্তিও রয়েছে। তবে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে শুনানি না হলে আপাতত কিছু বলা সম্ভবপর নয়। কেউ বাংলাদেশি তা হেয়ারিং-এ বলা সম্ভব। কমিশন (Election Commission) উপযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করবে।”

    শুনানি পর্ব শুরু হবে আগামী সপ্তাহে

    আবার কমিশন (Election Commission) সূত্রে বলা হয়েছে, খসড়া তালিকায় (SIR) নাম থাকলেই যে চূড়ান্ত হবে এমনটা নয়, যদি কোনও অসঙ্গগতি থাকে তাহলে সকলকেই ডাকা হবে। আনম্যাপড থাকা সকলকেই শুনানিতে ডাকা হবে। খসড়া তালিকায় নাম থাকলেই সব গেল এমনটাও নয়। সব নথি থাকা সত্ত্বেও তালিকায় যদি নাম না ওঠে তাহলেও ভয় নেই। ৬ নম্বর ফর্ম জমা দিতে হবে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর শুনানি পর্ব শুরু হতে আগামী সপ্তাহ লাগবে। ইতিমধ্যেই সব বুথে এএসডি তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। সিইও ওয়েবসাইডে এই তথ্য পাওয়া যাবে।

    ৫৮,২০,৮৯৮ জনের নাম বাদ

    গত ২৭ অক্টোবর এই রাজ্যে এসআইআরের ঘোষণা করেছিল কমিশন। ওই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। কমিশন জানিয়েছে মোট ভোটারের নামেই এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো হয়েছিল। প্রত্যেকের কাছেই ফর্ম নিয়ে গিয়েছিলেন বুথ স্তরের অফিসাররা। রবিবার পর্যন্ত মোট ভোটার থেকে নাম বাদ পড়েছে ৫৮,২০,৮৯৮ জনের। বাকিদের নাম খসড়া তালিকায় ওঠার কথা। আজ খসড়া লিস্ট বের হলেই সব স্পষ্ট হবে।

  • SIR In Bengal: রাজ্যে ৮৫ লক্ষের বাবার নামে গলদ! দেড় কোটিরও বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে নামছে কমিশন

    SIR In Bengal: রাজ্যে ৮৫ লক্ষের বাবার নামে গলদ! দেড় কোটিরও বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে নামছে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে শেষ হয়েছে এনুমারেশন প্রক্রিয়া। এনুমারেশন ফর্মের তথ্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে কমিশনের। কোথাও ভোটারের চেয়ে তাঁর বাবা বা মা মাত্র ১৫ বছরের বড়। কোথাও আবার ঠাকুরদা বা ঠাকুরমার চেয়ে ভোটার ৪০ বছরেরও ছোট নয়। মাঝে এক প্রজন্ম ব্যবধানের পরেও বয়সের ফারাক ৪০ বছরের কম। কোথাও ভোটারের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক ৫০ বছরেরও বেশি। আবার অনেক জায়গায় বদলে গিয়েছে বাবার নামই। দেখা গিয়েছে রাজ্যে ৮৫ লক্ষ ভোটারের বাবার নামে গলদ। সাড়ে ১৩ লক্ষ ভোটারের বাবা-মায়ের নাম এক।

    বাবার নামে গলদ

    কমিশন সূত্রে খবর, মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯১১ ভোটারের তথ্যে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। ওই তথ্যগুলি যাচাই করে দেখা হবে। যেমন, বহু ক্ষেত্রে ৬ জনেরও বেশি ভোটার এনুমারেশন ফর্মে বাবার নাম একই উল্লেখ করেছেন। এমন ২৪ লক্ষ ২১ হাজারেরও বেশি ভোটারকে চিহ্নিত করেছে কমিশন। বর্তমান সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষিতে এনুমারেশন ফর্মের তথ্যগুলি সন্দেহজনক ঠেকছে কমিশনের। ১৫ বছরের কম বয়সে বাবা হয়েছেন, এরকম সংখ্যা ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার। ৪০ বছরেরও কম বয়সে ঠাকুরদা হয়েছেন ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার। বিস্তারিত যদি তথ্যগুলো যাচাই করা হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে সাড়ে ১৩ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তির নাম বাবা – মা হিসেবে এসেছে। অর্থাৎ পরিবারে একজনের ক্ষেত্রে বাবার নাম যা ওই পরিবারে, আরেকজনের ক্ষেত্রে বাবার নাম মায়ের জায়গায় এসেছে। এরা প্রত্যেকেই বৈধ ভোটার কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর।

    ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই কেন

    কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে এমন বহু ভোটার রয়েছেন যাঁদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি, অথচ ২০০২ সালের তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না। এমনও ২০ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোটারকে চিহ্নিত করেছে কমিশন। এই ভোটারদের বয়স এখন যদি ৪৫ বছরও হয়, তা-ও ২০০২ সালে তাঁদের বয়স হওয়ার কথা অন্তত ২২ বছর। সে ক্ষেত্রে তাঁদের নাম কেন ওই সময়ের ভোটার তালিকায় ছিল না, তা খতিয়ে দেখতে চায় কমিশন। যদিও কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, নামের বানান ভুল থাকলে সেগুলিকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে যে সব ফর্মে উল্লেখ্যযোগ্য বদল দেখা যাচ্ছে, সেগুলিকেই মূলত যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের এক বুথে কোনও এক ভোটারের বাবার নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল নিরঞ্জন। এখন তা বদলে হয়ে গিয়েছে নিরাপদ। এই ধরনের বদলগুলিকেই বেশি করে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    লিঙ্গের তথ্যেও অমিল

    ১৩ লক্ষেরও বেশি ভোটারের লিঙ্গের তথ্যেও অমিল ধরা পড়েছে এনুমারেশন ফর্মে। সব মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯১১ ভোটারের তথ্য যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশন নিযুক্ত বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও)-এরা এই তথ্য যাচাই করার জন্য পুনরায় সন্দেহের তালিকায় থাকা এই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাবেন। সূত্রের খবর, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের পরেও কোনও সন্দেহের অবকাশ থাকলে ওই ভোটারদের কমিশনের শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে রোল অবজারভারদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সরব বিরোধীরা

    এই তথ্য সামনে আসার পরই স্বাভাবিকভাবে সরব বিরোধীরা। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “পুরোটাই আসলে ভেজাল। ভোটে জেতার জন্য বিভিন্ন সময়ে বামেরা, তারপর তৃণমূল সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছেন। আসল ভোটারদের ভোট দিতে দেননি। ১৫ বছরে যারা বাবা হয়েছে, তারাই আসলে ভূতুড়ে ভোটার হয়ে এইসব লোকদের জিতিয়ে এসেছে।” কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে ৯৯.৯৬ শতাংশ ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশন সম্পন্ন হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, রাজ্যে অনুপস্থিত, মৃত, স্থানান্তরিত বা একাধিক স্থানে তালিকাভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ৫৮ লক্ষের বেশি। আপাতত এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার তথ্য যাচাই শেষ হওয়ার পর ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে, ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্ভুল রাখার জন্য যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন ও এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সকল তথ্য খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

  • West Bengal Assembly Election: রাজ্যে বহুতলগুলিতে পৃথক ভোটকেন্দ্র! আপত্তি কেন তৃণমূলের? কীসের ভয়?

    West Bengal Assembly Election: রাজ্যে বহুতলগুলিতে পৃথক ভোটকেন্দ্র! আপত্তি কেন তৃণমূলের? কীসের ভয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষত শহরাঞ্চলে আবাসনগুলিতে পৃথক ভোটকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করেছে কমিশন। বলা হয়েছিল, ২৫০টি পরিবার অথবা ৫০০ জন ভোটার রয়েছেন, এমন বহুতল ভবন, গ্রুপ হাউজিং সোসাইটি, কলোনি, বস্তি এলাকায় ভোটকেন্দ্র তৈরির বিষয়ে সমীক্ষা করতে হবে ডিইও-দের। প্রস্তাবিত ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের তালিকা কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। গত সোমবার সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাত্র দু’টি রিপোর্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়ে। এতে কমিশন অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং নতুন করে ডিইও-দের সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত না পসন্দ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের। কিন্তু বহুতলের ভিতর ভোট কেন্দ্র হলে তাতে তৃণমূলের কীসের অসুবিধা? কেনই বা বাধা দিচ্ছে তারা? নানা প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে। তারই উত্তর খুঁজতে মাধ্যম গিয়েছিল রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পাশাপাশি সমসাময়িক ভারতীয় রাজনীতি, সমাজবিজ্ঞান এবং দলিত-আদিবাসী রাজনীতির এক তীক্ষ্ণ বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত ঝন্টু বারাইকের কাছে।

    প্রশ্ন: পশ্চিমবঙ্গের বহুতলগুলিতে পৃথক ভোটকেন্দ্র তৈরি করতে আগ্রহী নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের আপত্তি কেন?

    উত্তর: বহুতলে ভোটকেন্দ্র হলে লুট করতে পারবে না তৃণমূল। হাই–রাইজ বিল্ডিংগুলিতে বুথকেন্দ্র খোলার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাজে তৃণমূল তাতে বাধা দিচ্ছে। কারণ অতীতে দেখা গিয়েছে ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডারা বহুতলগুলির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। যাতে কেউ ভোট দিতে যেতে না পারে। বহুতলের বাসিন্দারা ভোট দিতে বেরোলেই তাঁদের উপর হামলা করা হয়। ২০২১–এও এমন হয়েছিল। গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের বাইক বাহিনী বহুতলগুলির ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢুকে হুমকি দিয়েছিল। এই আবাসনগুলির বাসিন্দারা ভোট দিতে না গেলে সেই ভোট বুথে গিয়ে ব-কলমে তৃণমূলের খাতায় দেওয়া হয়। কিন্তু বহুতলের ভিতরে ভোট কেন্দ্র হলে এ ধরনের জালিয়াতি বা কারচুপি করা প্রায় অসম্ভব।

    প্রশ্ন: কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, আর কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে না। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা কি ঠিক?

    উত্তর: একদমই ঠিক পদক্ষেপ। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এ বিষয়ে বিভিন্ন দলের অবস্থান বিভিন্ন রকম। তাই আর আলোচনার পথে না-যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    প্রশ্ন: বহুতলে ভোটকেন্দ্র নিয়ে ডিইও-দের বিরুদ্ধে উদাসীন মনোভাবের অভিযোগ তুলেছিল কমিশন। কেন এই আচরণ?

    উত্তর: কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার বেশ কিছু বিধানসভা কেন্দ্রে অভিজাত বহুতল আবাসনের সংখ্যা গত দু’দশকে চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতার ক্ষেত্রে এই বহুতলবাসীরা মোট ভোটের ৮-১০ শতাংশ। কিন্তু এখানকার ভোটারেরা অনেকেই নিরাপত্তাজনিত কারণে ভোটকেন্দ্রে যান না। তাঁদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে আবাসনের ভিতরেই ভোটকেন্দ্র তৈরির কথা ভেবেছে কমিশন। ওই সমস্ত ভোটকেন্দ্রে বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। পৃথক নিরাপত্তার বন্দোবস্তও থাকবে। বাম জমানা থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভোট–সংস্কৃতি হলো বিভিন্ন বহুতলের দরজায় তালা লাগিয়ে দেওয়া। যিনি ঝুপড়িতে থাকেন তাঁরও যেমন ভোটাধিকার আছে, তেমনই যাঁরা বহুতলে থাকেন তাঁদেরও ভোটাধিকার আছে। এই অধিকারকে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যেই বহুতলগুলিতে পৃথক ভোট–গ্রহণ কেন্দ্র খোলার কথা ভাবছে কমিশন। তাতে তৃণমূলের অসুবিধা হচ্ছে। রাজ্যে যেখানে যত বহুতল আছে তার ভিতরে বুথ হলে আমার বিশ্বাস বহুতলের বাসিন্দারা এ বার নির্বিঘ্নে নিজের ক্যাম্পাসের মধ্যে ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু রাজ্য সরকার যেহেতু এ বিষে উদাসীন তাই রাজ্যের কর্মীরাও উদাসীন।

    প্রশ্ন: প্রাইভেসি নষ্ট! বহুতলবাসীরা চাইছেন না ‘দুয়ারে ভোটকেন্দ্র’, এ নিয়ে কী বলবেন?

    উত্তর: কমিশনের যুক্তি, আবাসনের বাসিন্দাদের ‘দুয়ারে পোলিং স্টেশন’ চালু করলে বহুতলের ভোটের হার আরও বাড়বে। এতদিন এই আবাসনগুলির লাগোয়া স্কুল বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ছিল। কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন আবাসনগুলির ভিতরেই কমিউনিটি হল বা স্পোর্টস সেন্টারে পোলিং স্টেশন খুলতে চাইছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটারদের সুবিধাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তাই প্রয়োজনে অতিরিক্ত বুথ তৈরি করতেই হবে। বহু আবাসনের বাসিন্দারা এতে আগ্রহী, আর যাঁরা বুঝতে পারছেন না, তাঁদেরকে বোঝাতে হবে। তবে আবাসনের মানুষ যে কী চাইছে তা যেন রাজ্যের শাসকদল ঠিক না করে দেয়।

  • SIR in Bengal: খসড়া তালিকা থেকে বাদ ৫৮ লাখের বেশি নাম! শুনানির জন্য ডাকা হবে কাদের?

    SIR in Bengal: খসড়া তালিকা থেকে বাদ ৫৮ লাখের বেশি নাম! শুনানির জন্য ডাকা হবে কাদের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে শেষ হল এনুমারেশন প্রক্রিয়া। রোজই একটু একটু করে লম্বা হচ্ছিল তালিকাটা। বাড়তে বাড়তে এবার ৫৮ লক্ষ ছাপিয়ে গেল রাজ্য়ে আনকালেক্টেড ফর্মের সংখ্যা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই রাজ্যে ১০০ শতাংশ এনুমারেশন ফর্ম বিলি হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে ৯৯.৯৬ শতাংশ ডিজিটাইজেশনও হয়ে গিয়েছে রাজ্যে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে পশ্চিমবঙ্গে। সেই তালিকায় কোনও অভিযোগ থাকলে, ত্রুটি থাকলে কমিশনকে জানাতে হবে। তার ভিত্তিতে হবে শুনানি।

    বাদ পড়া ভোটারের কে কোন বিভাগে 

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার এনুমারেশন পর্ব শেষে মোট ৫৮ লক্ষ ৮ হাজার ২০২ জনের নাম বাদ পড়তে চলেছে। খসড়া তালিকাতে এই পরিসংখ্যানে সামান্য হেরফের হতে পারে। তবে খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কমিশন সূত্রে দাবি, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৯৯ জন। এ ছাড়া, ১২ লক্ষ ১ হাজার ৪৬২ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। কোনও ভোটারের খোঁজে সংশ্লিষ্ট বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) যদি তাঁর বাড়ি থেকে তিন বার বা তার বেশি ঘুরে আসেন, কিন্তু ওই ভোটারের খোঁজ যদি তার পরেও না-পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে তাঁদের নিখোঁজ তালিকায় রাখা হয়। পশ্চিমবঙ্গের খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৫০ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছিল আগেই। মৃত, স্থানান্তরিত এবং নিখোঁজ ভোটারের সংখ্যা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেল। এ ছাড়া, এ রাজ্যে মোট ১৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮৭ জন ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল। ফলে একটি জায়গায় রেখে বাকি জায়গা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে মোট ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৭৫ জন ভোটারকে কমিশন ‘ভুয়ো’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। তাঁদের নামও খসড়া তালিকায় থাকবে না। এ ছাড়া, আরও ৫৭ হাজার ৫০৯ জনকে রাখা হয়েছে ‘অন্যান্য’ তালিকায়। তাঁরাও বাদ পড়তে চলেছেন।

    কীভাবে ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে

    সূত্রের খবর, ভোটারদের মোট তিনটি তালিকায় ভাগ করেছে কমিশন— নিজস্ব ম্যাপিং, প্রজেনি ম্যাপিং এবং নন-ম্যাপিং। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (রাজ্যে শেষ বার এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে) যাঁদের নাম ছিল, তাঁরা নিজস্ব ম্যাপিংয়ের তালিকায় পড়ছেন। এমন ২ কোটি ৯৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ১৮৮ জন ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় না-থাকলেও বাবা-মা বা আত্মীয়ের নাম আছে, তাঁরা প্রজেনি ম্যাপিং তালিকায় রয়েছেন। রাজ্যে তেমন ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৩৯ জন। এ ছাড়া, ৩০ লক্ষ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের নিজেদের নাম বা আত্মীয়ের নামও ২০০২ সালের তালিকায় নেই। তাঁরা নন-ম্যাপিং তালিকাভুক্ত। এই তৃতীয় তালিকার সকলকেই কমিশনের তরফে শুনানিতে ডাকা হবে। তাঁদের তথ্যপ্রমাণ, নথি যাচাই করে দেখা হবে। এ ছাড়া, প্রথম দুই তালিকার ভোটারদের মধ্যে কারও তথ্যে সন্দেহ থাকলে তাঁদের শুনানিতে ডাকা হতে পারে। সব দেখে শুনে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।

  • SIR in Bengal: রাজনৈতিক এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক, বাংলায় মৃত-ভুয়ো ভোটার কত? তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন

    SIR in Bengal: রাজনৈতিক এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক, বাংলায় মৃত-ভুয়ো ভোটার কত? তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার কাজ শেষ। এসআইআর-এর মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত মৃত, স্থানান্তরিত এবং অনুপস্থিত বা নিখোঁজ ভোটারের যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, তা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টের হাতে তুলে দিতে বলল নির্বাচন কমিশন। ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। উল্লেখ্য, এনিউমারেশন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পোলিং স্টেশন পুনর্বিন্যাসের কাজও শেষ হচ্ছে এ দিন।

    রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক

    বুধবার রাজ্যের সিইও দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ১১ ডিসেম্বর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মৃত, ভুয়ো, অনুপস্থিত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরে কোন বুথে কত মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত ও ভুয়ো ভোটার রয়েছেন তার তালিকা তৈরি করছেন বিএলও-রা। কাজ শেষ হয়ে গেলেই তাতে বিএলও ও বিএলএ স্বাক্ষর করবেন। তার পরে বিএলও অ্যাপের নতুন অপশন ‘BLO-BLA MOM’-এ সেই তালিকা আপলোড করে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছে কমিশন।

    বিহারের নিয়মেই বাংলায় এসআইআর

    বিহারের এসআইআরে যে নিয়ম মানা হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও তা মানতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। বুধবার কমিশনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের বলা হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই মৃত, স্থানান্তরিত এবং নিখোঁজদের তালিকা বিএলএ-দের দেখাতে হবে। প্রতি রাজনৈতিক দল যে কর্মীদের এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ করেছে, তাঁদের হাতে তালিকা তুলে দেওয়া হবে। যাঁরা একাধিক বার ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন, একটি জায়গার তালিকায় তাঁদের নাম রেখে বাকি জায়গা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, যাঁদের বাড়িতে তিন বার বা তার বেশি গিয়েও বিএলও ফিরে এসেছেন, যাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়নি, তাঁদেরও নাম খসড়া তালিকায় থাকবে না।

    বৈধ ভোটার যাতে তালিকা থেকে বাদ না-পড়েন তাই বৈঠক

    পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখন এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। মোট পাঁচ লক্ষ বিএলও এই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। এ ছা়ড়া, বিভিন্ন দলের বিএলএর সংখ্যা ১২ লক্ষেরও বেশি। কমিশন জানিয়েছে, বুথ স্তরে এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএলওরা। তাতে প্রাথমিক ভাবে খসড়ায় কোনও ভুল থাকলে তা ধরা পড়বে এবং সংশোধন করে নেওয়া যাবে। কোনও বৈধ ভোটার যাতে তালিকা থেকে বাদ না-পড়েন, তা নিশ্চিত করতেই বিএলও-বিএলএ বৈঠক প্রয়োজন, জানিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে আনকালেক্টেবল এনিউমারেশন ফর্মের সংখ্যা প্রায় ৫৭ লক্ষ। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    তথ্য যাচাই বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ

    প্রসঙ্গত, মূলত চারটি ক্ষেত্রে একটি ফর্ম ‘আনকালেক্টবল’ থাকে। যদি কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়ে থাকে, দ্বিতীয়ত যদি কোনও ভোটারের দুই জায়গায় ভোটার কার্ড থাকে, তৃতীয়ত যদি কোনও ভোটার নিখোঁজ থাকেন এবং চতুর্থ হল যদি কোনও ভোটার পাকাপাকিভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়ে যান। ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ভোটার তালিকা ত্রুটিভুক্ত করতে রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর। কাজে যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে তা নিশ্চিত করতে বারবার বৈঠক করছে কমিশন। বাংলা-সহ যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর হচ্ছে সেখানে অবর্জাভার পাঠানো হচ্ছে। তাঁরা খতিয়ে দেখছে পরিস্থিতি। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৩,৭৪,৪৬০ জন অনুপস্থিত ভোটারের একটি তালিকা বিএলও-দের কাছে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই তথ্য যাচাই বাছাইয়ের কাজও প্রায় শেষ। এর পরে বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই মৃত, ভুয়ো, অনুপস্থিত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

    তালিকা কোথায় দেখবেন?

    নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র এবং বুথ ভিত্তিক মৃত-ভুয়ো-স্থানান্তরিত-অনুপস্থিত ভোটারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এই তালিকা দেখা যাবে ডিইও-এর ওয়েবসাইটে। পাশাপাশি রাজ্যের সিইও-এর ওয়েবসাইটেও তালিকা দেখতে পারবেন ভোটাররা। কোনও ভোটার চাইলে নিজের এপিক নম্বর দিয়েও সার্চ করতে পারবেন। মৃত, ভুয়ো, অনুপস্থিত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের তালিকার পরে আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এই সংক্রান্ত দাবিদাওয়া এবং অভিযোগ জানানো যাবে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা, বিতর্কের নিষ্পত্তি করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর পরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি।

     

     

     

     

  • SIR Hearing Process: শুভেন্দুর দাবি মানল কমিশন, ওয়েবকাস্টিং-এর নজরদারিতেই হবে যাচাই ও শুনানি পর্ব

    SIR Hearing Process: শুভেন্দুর দাবি মানল কমিশন, ওয়েবকাস্টিং-এর নজরদারিতেই হবে যাচাই ও শুনানি পর্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ১৬ ডিসেম্বর। ওই তালিকা স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে ব্লক অফিস এবং ডিইও অফিসে টাঙানো থাকবে। সূত্রের খবর ওই দিন থেকেই শুরু হয়ে যাবে যাচাই ও শুনানি (SIR Verification and Hearing) পর্ব‌। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র জেলাশাসকের দফতরেই হবে যাচাই ও শুনানি পর্ব। এরই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই শুনানি পর্বের ওয়েবকাস্টিং এবং ভিডিয়ো রেকর্ডিং করতে হবে। এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা পর্যন্ত সেই সব ভিডিয়ো সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ইসিআইকে চিঠি লিখে এই দাবি জানিয়েছিলেন।

    শুনানি পর্ব- নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন

    বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, এনুমারেশন পর্ব (Enumeration Phase) শেষ হচ্ছে। ঠিক চার দিন পরে, ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তারপরই শুরু হবে শুনানি পর্ব- এই প্রস্তুতি নিতে আজ থেকেই কমিশন তৎপরতা শুরু করেছে। কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যে মোট ফর্মের ৯৯.৭৫ শতাংশ ডিজিটাইজ করা হয়েছে, অর্থাৎ ৭ কোটি ৬৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ২৮১টি ফর্ম অনলাইনে রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এখনও ৯ হাজার ৬৩টি এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ করা যায়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলায় ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের আবহে এখনও পর্যন্ত বাদ যেতে পারে ৫৭ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই তথ্যই জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। যত দিন যাচ্ছে, ততই এই সংখ্যাটা বাড়ছে। রিপোর্টে দাবি করা হল, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা ৫৭ লক্ষ ১ হাজার ৫৪৮।

    আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে

    কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত আনকালেক্টবল ফর্মের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষ আট হাজার ৫৭৪। এছাড়া স্থানান্তরিত ভোটার ১৯ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৯৩, নিখোঁজ ভোটার ১১ লক্ষ ২৭ হাজার ৬৪৩, ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৩২, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা ৫০ হাজার ৭০৬। এদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও বেশ কিছু জায়গায় আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা আপলোড করা হয়নি। এই আবহে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    জাল নথি পেশ করলে শাস্তি ভোগ করতে হবে

    অন্যদিকে, ২০০২ সালের পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে মিল না থাকায় এখন রাজ্যে প্রায় ২৯ লক্ষ মানুষ ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। অর্থাৎ তাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই, তাদের সবাইকে শুনানির মুখোমুখি হতে হবে। খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট ইআরও (ইলেকশন রিটেনিং অফিসার) নোটিস পাঠাতে শুরু করবেন। নোটিস পেলে নির্দিষ্ট দিন ওই অফিসে গিয়ে কমিশনের নির্ধারিত ১১টি নথি-র মধ্যে কমপক্ষে একটি দেখাতে হবে। যারা প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারবেন না, তাদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাবে। এছাড়াও, এমন অনেক ভোটার আছেন, যাদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় থাকলেও কমিশন ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদেরকেও শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে। এই ক্ষেত্রে তাদের ফর্মে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে এবং কমিশনের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। কমিশন একথাও মনে করিয়ে দিয়েছে, এসআইআরে যদি কেউ জাল নথি পেশ করে, তাহলে আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে। তথ্যের জালিয়াতির অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে।

    সিসিটিভি-র নজরদারিতে শুনানি পর্ব

    প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ইসিআইকে চিঠি লিখে এই দাবি জানিয়েছিলেন যে শুনানি পর্ব যেন সিসিটিভি-র নজরদারিতে হয়। সেই সঙ্গে তাঁর আরও দাবি ছিল যে, সম্পূর্ণ শুনানি পর্ব মাইক্রো অবজার্ভারদের উপস্থিতিতে করতে হবে। প্রথম বিষয়টি অর্থাৎ সিসিটিভির নজরদারি কমিশন মেনে নিলেও দ্বিতীয় বিষয়টি অর্থাৎ মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে এখনও কমিশন (ECI) কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। কমিশনের দফতর থেকে জেলাগুলিতে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘যাচাই ও শুনানি’ পর্ব শুধু এবং শুধুমাত্র জেলাশাসকের দফতরেই করতে হবে। অন্য কোনও সরকারি বা বেসরকারি অফিসে এই শুনানি করা যাবে না। সেই সঙ্গে সঙ্গে এটাও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে এই পুরো যাচাই এবং শুনানি পর্ব, বিশেষ করে শুনানি পর্বের ওয়েবকাস্টিং ও ভিডিও রেকর্ডিং করতে হবে। যতদিন না পর্যন্ত এই এসআইআর পর্ব শেষ হয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Voter List) প্রকাশ করা হচ্ছে অথবা কমিশন নির্দেশ দিচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এই ভিডিও সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। কমিশন মনে করছে, এভাবে কাজ করলে আশা করা যায় খসড়া থেকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা হওয়া পর্যন্ত পুরো কাজ নির্ভুল হবে।

LinkedIn
Share