Tag: Energy Security India

  • ONGC West Bengal: বাংলার মাটির নিচে কি লুকিয়ে তেল-গ্যাসের ভাণ্ডার? চার জেলায় অনুসন্ধানে ওএনজিসিকে সবুজ সঙ্কেত

    ONGC West Bengal: বাংলার মাটির নিচে কি লুকিয়ে তেল-গ্যাসের ভাণ্ডার? চার জেলায় অনুসন্ধানে ওএনজিসিকে সবুজ সঙ্কেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে গেল। রাজ্যের চারটি জেলায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানের (West Bengal Oil Exploration) জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশনকে অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার (ONGC West Bengal)। শিল্পমহলের মতে, এই পদক্ষেপ সফল হলে শুধু জ্বালানি ক্ষেত্রেই নয়, রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্পের প্রসারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    কোন কোন জেলায় অনুসন্ধান?

    রাজ্য সরকারের অনুমোদন (ONGC West Bengal) পাওয়া চারটি জেলা হল নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনা। শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের বাজেট পেশের সময় শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানান, ২০২৫ সালের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী ওএনজিসিকে (ONGC) এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়া- এই তিন জেলায় প্রায় ২,৮৭২.৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুসন্ধানের কাজ হবে। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর প্রকল্পেও কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র মিলেছে।

    রাজ্যের আয় বাড়ার আশা

    সরকারের আশা, এই প্রকল্প থেকে রাজ্যের কোষাগারেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসবে। বিশেষ করে অশোকনগর প্রকল্প থেকেই প্রায় ১০৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। অন্য তিন জেলার ক্ষেত্রেও চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন থেকে রাজ্যের নির্ধারিত অংশ রাজস্ব হিসেবে মিলবে।

    শিল্প ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত

    তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান সফল হলে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছে শিল্প দফতর। অনুসন্ধান ও উৎপাদনকে ঘিরে একাধিক সহায়ক শিল্প গড়ে উঠতে পারে। সেই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। পেট্রোলিয়ামভিত্তিক শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জ্বালানি সংক্রান্ত আরও প্রকল্পে বিনিয়োগের পথও খুলতে পারে।

    আগেই মিলেছিল প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান

    রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বহু বছর ধরেই তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ওএনজিসি (ONGC)। এর আগে কেন্দ্র জানিয়েছিল, উত্তর ২৪ পরগনার কনকপুর এলাকায় প্রায় ২,৭৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। একইভাবে নদিয়ার রানাঘাটেও প্রায় ২,৭১৯ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের পর প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণে এই অঞ্চলে অনুসন্ধান আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

    ভারত এখনও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে দেশের মাটিতে নতুন জ্বালানির উৎস খুঁজে পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে চারটি জেলায় অনুসন্ধানের অনুমতি সেই লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর থাকবে অনুসন্ধানের ফলাফলের দিকে। যদি পর্যাপ্ত মজুতের সন্ধান মেলে, তাহলে আগামী দিনে বাংলার মাটিতেই তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

  • Fast Breeder Reactor: ব্যর্থ হয় আমেরিকা, ডাহা ফেল ফ্রান্স-জাপানও! পরমাণু প্রযুক্তিতে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন ভারতের

    Fast Breeder Reactor: ব্যর্থ হয় আমেরিকা, ডাহা ফেল ফ্রান্স-জাপানও! পরমাণু প্রযুক্তিতে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বে পরমাণু শক্তি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বড়সড় সাফল্য অর্জন করল ভারত। তামিলনাড়ুর কালপাক্কমে (KNPP) ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) প্রথম বারের মতো ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। যার অর্থ রিঅ্যাক্টরে স্বনির্ভর পারমাণবিক চেন বিক্রিয়া সফলভাবে শুরু হয়েছে।

    এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ…

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বনির্ভরতার পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই অর্জনের ফলে ভারত এমন একটি সক্ষমতা অর্জন করল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং জাপানের মতো উন্নত দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে পারেনি। বর্তমানে বাণিজ্যিক স্তরে শুধুমাত্র রাশিয়াই এই প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করছে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) জানিয়েছে, “সম্পূর্ণরূপে চালু হলে ভারত রাশিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হবে, যারা বাণিজ্যিকভাবে ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর পরিচালনা করবে।”

    কী এই ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর?

    সাধারণ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর যেখানে ইউরেনিয়াম জ্বালানি ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে, সেখানে ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (Fast Breeder Reactor) ব্যবহার করা জ্বালানির থেকেও বেশি পরিমাণে নতুন জ্বালানি উৎপাদন করতে সক্ষম। এই ‘ফিসাইল’ জ্বালানি ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগে। এই রিঅ্যাক্টরে মিশ্র অক্সাইড (MOX) জ্বালানি ব্যবহার করা হয় এবং তরল সোডিয়াম কুল্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এখন এটি নিম্ন-ক্ষমতার বিভিন্ন পরীক্ষা পর্যায় অতিক্রম করবে, এরপর পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

    ভারতের জন্য কেন তা তাৎপর্যপূর্ণ?

    ভারতের জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশে ইউরেনিয়ামের মজুত সীমিত হলেও থোরিয়ামের ভাণ্ডার বিপুল। ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর উপকূলে এই থোরিয়াম মজুত রয়েছে। কালপাক্কমের এই রিঅ্যাক্টরটি সীমিত ইউরেনিয়াম ও বিপুল থোরিয়ামের বাস্তবতাকে একত্রে কাজে লাগায়। প্রথম পর্যায়ে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে শুরু হলেও, পরবর্তী পর্যায়ে থোরিয়াম-ভিত্তিক জ্বালানিতে এটি চালানো সম্ভব হবে। এর ফলে ইউরেনিয়াম আমদানির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে। এই রিঅ্যাক্টর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই করবে না, বরং যতটা জ্বালানি ব্যবহার করবে তার থেকেও বেশি জ্বালানি তৈরি করতে পারবে। ফলে ভবিষ্যতে থোরিয়াম ব্যবহার করে শতাব্দীর পর শতাব্দী বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ খুলে যাবে। এটি যেমন বৈজ্ঞানিক সাফল্য, তেমনই একটি কৌশলগত জয়।

    তিন-পর্যায়ের পরমাণু কর্মসূচিতে বড় অগ্রগতি

    এই সাফল্যের মাধ্যমে ভারত তার তিন-পর্যায়ের পরমাণু কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল। এই কর্মসূচির ধারণা প্রথম দেন ভারতের পরমাণু কর্মসূচির জনক ডক্টর হোমি জেহাঙ্গির ভাবা।

    • ● প্রথম পর্যায়: প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও প্লুটোনিয়াম তৈরি
    • ● দ্বিতীয় পর্যায়: ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরে সেই প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করে আরও জ্বালানি উৎপাদন
    • ● তৃতীয় পর্যায়: থোরিয়াম ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম-২৩৩ তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন

    কেন ব্যর্থ হয় আমেরিকা ও ফ্রান্স?

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬০-এর দশকে ‘ফার্মি-১’ রিঅ্যাক্টর তৈরি করলেও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও দুর্ঘটনার কারণে প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়। পরে ‘ক্লিঞ্চ রিভার’ প্রকল্পও ব্যয়বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা সমস্যার জন্য বাতিল করা হয়। ফ্রান্সের ‘সুপারফেনিক্স’ রিঅ্যাক্টরও সোডিয়াম লিক, আগুন ও রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে দীর্ঘদিন টেকেনি এবং ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। জাপানের ‘মনজু’ রিঅ্যাক্টরও একাধিক দুর্ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা

    বর্তমানে ভারত প্রায় ৮ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। সরকারের লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে তা বাড়িয়ে ১০০ গিগাওয়াটে পৌঁছানো। ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর এই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, কারণ এটি আমদানিকৃত ইউরেনিয়াম ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে। এটি স্থিতিশীল ও পরিষ্কার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা থেকেও ভারতকে সুরক্ষা দেবে। কালপাক্কমের এই রিঅ্যাক্টর প্রায় ৩০ লক্ষ পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কালপাক্কমের ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি স্বনির্ভরতা এবং কৌশলগত স্বাধীনতার ভিত্তি মজবুত করবে। দশকের পর দশক গবেষণা, বিনিয়োগ এবং ধৈর্যের ফল এই সাফল্য এসেছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্য নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য গর্বের মুহূর্ত।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সাফল্যকে ভারতের অসামরিক পরমাণু কর্মসূচির “একটি নির্ধারক পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি ভারতের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার প্রতিফলন এবং থোরিয়াম ব্যবহারের পথে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) ভারত, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ভারতীয় বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের এই সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা বলেছে, “এই রিঅ্যাক্টর কম জ্বালানি ব্যবহার করে এবং একটি ক্লোজড ফুয়েল সাইকেলের পথে দিশা দেখাবে।”

LinkedIn
Share