Tag: Enforcement Directorate

Enforcement Directorate

  • ED Raid: বীরভূমে ইডির মেগা রেড, উদ্ধার ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা! তদন্তের কেন্দ্রে টুলু-ঘনিষ্ঠ মিনার

    ED Raid: বীরভূমে ইডির মেগা রেড, উদ্ধার ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা! তদন্তের কেন্দ্রে টুলু-ঘনিষ্ঠ মিনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমে (Birbhum) ফের কোটি কোটি টাকার গন্ধ। মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকায় বুধবার ভোররাত থেকে বড়সড় অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে পরিচিত মিনার মণ্ডলের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি (ED Raid)। আর সেই অভিযানে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, সোনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।

    ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা

    ইডি সূত্রের খবর, মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গোনার জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয় একাধিক টাকা গোনার মেশিন। উদ্ধার হওয়া নগদ, সোনা এবং নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করতে ব্যবহার করা হয় বড় লোহার ট্রাঙ্ক। দীর্ঘক্ষণ ধরে বাড়ির প্রতিটি অংশে তল্লাশি (ED Raid) চালান তদন্তকারীরা।

    সরকারি বাসচালক থেকে কোটি টাকার মালিক?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, মিনার মণ্ডল পেশায় সরকারি বাসের চালক ছিলেন। তাই তাঁর বাড়ি থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। তবে স্থানীয়দের দাবি তিনি দীর্ঘদিন ধরে টুলু মণ্ডলের পাথর খাদান, ক্রাশার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (ED)।

    ফের আলোচনায় টুলু মণ্ডল

    এই অভিযানের পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বীরভূমের (Birbhum) প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের নাম। এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত টুলু। জেলার পাথর খাদান, ক্রাশার ও বালি ব্যবসায় দীর্ঘদিন তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ। অতীতে বেআইনি পাথর খাদান, গরু পাচার-সহ একাধিক মামলায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও তাঁর বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশিও চালিয়েছিল। পরে একটি খুনের মামলায় টুলু মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    ইডির (ED) নজরে আর্থিক লেনদেন

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ, সোনা, সম্পত্তির নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই সম্পদের উৎস কী? তা বৈধ আয় থেকে এসেছে নাকি অন্য কোনও অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত? সেই বিষয়েই জোর দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট

    ঘটনায় সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন তিনি। পুলিশের অভিযানের প্রশংসার পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনেই এই অভিযান চলবে, বলেও সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    এখন নজর তদন্তের দিকে

    যদিও এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার সঙ্গে টুলু মণ্ডলের সরাসরি আইনি যোগ রয়েছে বলে ইডি (ED) আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে এই বিপুল সম্পদের উৎস, সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জোরকদমে চলছে। বীরভূমের এই মেগা রেডে আগামী দিনে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-তে (NTA) বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং (Young Professionals) নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংস্থার ৪৭ জন আধিকারিক ও কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ফরেনসিক তদন্ত, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা এবং মূল্যায়ন গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নেতৃত্ব গড়ে তুলে সংস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর কাজও শুরু হয়েছে। শুক্রবার সরকারি সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে।

    বরখাস্ত বহু আধিকারিক (NTA)

    এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। ওই ঘটনার জেরে ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করতে হয়, এবং প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে ২১ জুন ফের পরীক্ষায় বসতে হয়। ঘটনার পর থেকেই এনটিএর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সরকারি সূত্রের খবর, যাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁদের শুধু অন্যত্র বদলি করা হয়নি বা দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি, সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম, পদমর্যাদা বা নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তও চলবে। জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থতার জন্য কার কী দায় ছিল, তা চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। আগামী দিনে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    তৈরি হচ্ছে নয়া কাঠামো

    এনটিএর পুনর্গঠনের প্রথম পর্যায়ে চারজন জেনারেল ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে ১৬ জন তরুণ পেশাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে কে রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি। শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। নতুন জেনারেল ম্যানেজারদের তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে এবং তাঁরা সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনা করবেন (Young Professionals)। নতুন কাঠামোয় মূল্যায়ন ও মনস্তাত্ত্বিক পরিমাপ সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান প্রশ্নভাণ্ডার তৈরি, নম্বরের সামঞ্জস্য নির্ধারণ, প্রশ্নপত্রের মান নির্ধারণ, কম্পিউটারভিত্তিক অভিযোজিত পরীক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা বিভাগের প্রধান দেশের পাঁচশোরও বেশি শহর এবং বিদেশের নির্বাচিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দেখবেন। পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন, অনুমোদন, পরিকাঠামো, পরীক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, পরীক্ষার দিন পরিচালনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে (NTA)।

    সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক

    তথ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক হিসেবে কাজ করবেন। সংস্থার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, পরীক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিধি মেনে চলার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে কম্পিউটার জরুরি প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত জাতীয় সংস্থার নির্দেশিকাও কার্যকর করার দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে। এছাড়া সতর্কতা, তদন্ত এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রধান পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন। সংস্থার নিজস্ব ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, গোয়েন্দা ব্যুরো, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এবং সাইবার অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত পরিচালনা করবেন। সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় রোধে প্রণীত ২০২৪ সালের আইনের আওতায় এই তদন্তগুলি পরিচালিত হবে (Young Professionals)। ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে যে তরুণদের নিয়োগ করা হবে, তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান পাননি। এই পোর্টালের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ঘটানো হয় (NTA)।

    পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তন

    মোট ১৬টি পদের মধ্যে ১২টি থাকবে অ্যাকাডেমিক গবেষণায়, দু’টি আইনি গবেষণায় এবং দু’টি অর্থ ও হিসাব বিভাগে। প্রথমে ২৪ মাসের জন্য নিয়োগ করা হবে। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ৩৬ মাস পর্যন্ত করা যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, অস্থায়ী কর্মীর ওপর এনটিএর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে সংস্থায় স্থায়ী পদের সংখ্যা ৩৯। এর মধ্যে মাত্র ২৪টি পদ পূরণ হয়েছে। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ৭৩ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা ১২৪। এই ভারসাম্য বদলাতে চায় কেন্দ্র। রাধাকৃষ্ণণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মোট ১০টি কার্যকরী বিভাগে আগামী দিনে আরও নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং অনুবাদকদেরও নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে (NTA)। পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে নিট-ইউজি আর ওএমআর শিটে হবে না। পরিবর্তে সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর ফলে যৌথ প্রবেশিকা (মেইন) এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার ধাঁচের সঙ্গে নিট-ইউজির সামঞ্জস্য তৈরি হবে (Young Professionals)।

    সংরক্ষিত থাকবে ডিজিটাল রেকর্ড

    সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রশ্নপত্রের হার্ড কপি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। একাধিক প্রশ্নসেট ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং প্রতিটি ধাপের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। তবে এজন্য নিরাপদ পরীক্ষা কেন্দ্র, আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের নথিভুক্তিকরণ, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা, প্রযুক্তিগত পরিষেবা এবং গোপনীয় নথি সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং ব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনা করছে কেন্দ্র। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। নিরীক্ষা ও পটভূমি যাচাই আরও কঠোর করা হবে। সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ব্যর্থতা ধরা পড়লে আরও কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা হবে (NTA)।

     

  • ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই  রাজ্যে বড়সড় অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। মঙ্গলবার সকালে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-সহ মোট ৮টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ (Government Scheme Scam) করা হয়েছে। সেই মামলার তদন্তেই এই অভিযান। ইডি সূত্রের খবর, দীর্ঘদিনের তদন্তে পাওয়া একাধিক তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই এদিনের তল্লাশি অভিযান।

    কেন ইডি অভিযান (ED Raid)?

    একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি প্রকল্পে দ্রুত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলত (Government Scheme Scam)। ইডির প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ- বেশি টাকা দিলে দ্রুত ও বেশি সুবিধা মিলবে বলেও প্রলোভন দেখানো হত। এইভাবে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে ইডি। সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে? কোথায় গিয়েছে? তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ১৬৪ কোটি টাকার প্রতারণা!

    তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে টাকা তোলা হয়েছে। প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ। প্রায় ১৯ হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি। মোটা অঙ্কের সুদের লোভ দেখিয়েও বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। একটি এফইআরের ভিত্তিতেই এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। পরে কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সামনে আসায় অর্থ পাচারের দিকটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে ইডি (ED Raid)।

    কারা তদন্তের নজরে?

    তদন্তে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বনগাঁর দুই বাসিন্দা অভিজিৎ ও রাহুল। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে- অভিজিৎ গত মাসেই কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরু গিয়েছেন। রাহুলের খোঁজ এখনও মেলেনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত? তাও জানার চেষ্টা চলছে।

    রাজনৈতিক আবহে বাড়ল জল্পনা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, মঙ্গলবারই ২১ জুলাই। এই দিন রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ইডির এই অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি সম্পূর্ণ তদন্তের সূত্র ধরেই চালানো নিয়মিত অভিযান (ED Raid) এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

  • High Court: হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! আপাতত ফ্রিজই থাকবে তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

    High Court: হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! আপাতত ফ্রিজই থাকবে তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে (High Court) বড় ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল শিবির। ইডির ফ্রিজ করা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু সোমবার সেই আবেদন খারিজ করে দিল বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ইডির সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। ফলে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account) আপাতত ফ্রিজ অবস্থাতেই থাকবে।

    ৪৪০ কোটি টাকার তিন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

    ইডি (ED) তৃণমূলের যে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account) ফ্রিজ করেছে, ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। এই অর্থ দলীয় সাংগঠনিক কাজ এবং দৈনন্দিন খরচে ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে আদালতের (High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট শিবির। পাশাপাশি, ইডির সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আবেদনও জানানো হয়। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।

    আগের নির্দেশই বহাল

    ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলির অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশ মেনেই চলতে হবে। ইডির সিদ্ধান্তে এই মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

    স্পেশ্যাল অফিসারের তত্ত্বাবধানে চলবে অ্যাকাউন্ট

    এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। আদালত একজন স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করে জানায়, তাঁর তত্ত্বাবধানেই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালিত হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যে কোনও দু’জনের স্বাক্ষর করা চেকে স্পেশ্যাল অফিসারের পাল্টা স্বাক্ষর থাকলেই ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ তোলা যাবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেশ্যাল অফিসার অ্যাকাউন্টগুলির দায়িত্বে থাকবেন।

    ভেঙে খান-খান তৃণমূল

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে। দলের একাধিক বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনাস্থা জানিয়ে পৃথক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। আলাদা হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূল। পাশাপাশি, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদও এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ায় দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং নির্বাচনী প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে বিরোধ আরও প্রকট হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং সংগঠন নিয়ে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই এই মামলার শুনানি ঘিরে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। সোমবারের নির্দেশে স্পষ্ট, আপাতত ইডির ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে নতুন কোনও নির্দেশ আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

  • Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি দখল, আর্থিক তছরূপ এবং বেআইনি নির্মাণ ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রায় ১০০ পাতার এই অভিযোগপত্র শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের ইডির বিশেষ আদালতে জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত ১৮ মে গ্রেফতারের প্রায় দুই মাসের মধ্যেই এই চার্জশিট দাখিল করা হল।

    ইডির অভিযোগ, সোনা পাপ্পু দীর্ঘদিন ধরে কসবা ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে প্রবীণ ও অসহায় জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি কিনে নিত। পরে সেই জমিতে বেআইনি নির্মাণ করে বিপুল আর্থিক লাভ করা হতো। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, এই পুরো চক্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং মাসল পাওয়ার ব্যবহার ছিল নিয়মিত কৌশল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সোনা পাপ্পু। এই মামলায় প্রায় ২০০ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

    চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই চক্র পরিচালনায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের মদত ছিল। তদন্তে সোনা পাপ্পু, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং অপর অভিযুক্ত জয় কামদারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে বলে ইডি জানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, জয় কামদারের সহযোগিতায় সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে অস্ত্রের লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয় এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হয়েছিল। পরে ইডির তল্লাশিতে সেই পিস্তল উদ্ধার হয়। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, অস্ত্র কেনার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই রবীন্দ্র সরোবরের কাকুলিয়া রোড এলাকায় সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই সোনা পাপ্পু আত্মগোপনে চলে যায়।

    ইডির অভিযোগ, পলাতক থাকার সময় একাধিকবার তলব করা হলেও সোনা পাপ্পু তদন্তে সহযোগিতা করেননি। পরে তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় তদন্তকারী সংস্থা। চলতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রায় ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জেরার সময় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার চেষ্টারও অভিযোগ ওঠে। এরপরই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

    ইডির দাবি, জমি দখল, প্রতারণা, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চলছিল। তদন্ত এখনও চলছে। ইতিমধ্যেই সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত প্রতারণা-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলার তদন্তও চলছে।

  • Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির (Nirav Modi) ভারতে প্রত্যর্পণের (Extradition) পথ কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে করা তাঁর শেষ আইনি আবেদনও খারিজ হয়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাঁকে ভারতে পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা নেই বলেই কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

    শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল নীরবের (Nirav Modi)

    প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নীরব মোদি তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ঠেকাতে যে সব আইনি সুযোগ ছিল, তার সবকটিই ব্যবহার করেছেন। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বহুল আলোচিত মামলায় ভারতের জন্য বড় সাফল্য এল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের দ্বারস্থ হন নীরব। ব্রিটেনের আদালতগুলিতে সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই তিনি এই আবেদন করেছিলেন। এর আগে ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট আদালত ভারতের কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তার জেরে প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সূত্রের দাবি, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে নীরবের আবেদনটি গোপনীয়তার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, বিচারাধীন অবস্থায় এই ধরনের মামলার কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আদালত তাঁকে কোনও ধরনের (Extradition) অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত স্বস্তি দেয়নি। তাই প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে তাঁর শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল।

    পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা

    এর আগে ব্রিটেনের উচ্চ আদালত নীরবকে (Nirav Modi) প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করার অনুমতি দেয়নি। আদালত জানায়, ভারত সরকার যে কারাগারের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মানবিক ব্যবহারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে, তা যথেষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য। সেই কারণে প্রত্যর্পণ স্থগিত রাখার কোনও ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি। বর্তমানে নীরব লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি সেখানে রয়েছেন বিচারাধীন বন্দি হিসেবে। সিবিআই এবং প্রয়োগ অধিদফতর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। বহু হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছে ভারতীয় একাধিক তদন্তকারী সংস্থা। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আইনি জটিলতা কাটায় এখন ব্রিটেনের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই নীরবকে ভারতে পাঠানো হতে পারে। প্রত্যর্পণের দিনক্ষণ যে কোনও সময় চূড়ান্ত হতে পারে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

    ব্রিটেনের হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    চলতি বছরের মার্চ মাসেও নীরব নতুন করে প্রত্যর্পণ মামলার শুনানি শুরু করার আবেদন জানিয়েছিলেন। লন্ডনের হাইকোর্টের কিংস বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে (Nirav Modi) দেয়। তাঁর আইনজীবীরা সঞ্জয় ভান্ডারি মামলার একটি রায়কে ভিত্তি করে নতুন করে শুনানির দাবি (Extradition) তুলেছিলেন। সঞ্জয় ভান্ডারি মামলায় ব্রিটেনের আদালত মানবিক কারণে প্রত্যর্পণ নাকচ করেছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ভারতে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর ওপর নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে। নীরবও একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, নীরবের পরিস্থিতি ওই মামলার সঙ্গে তুলনীয় নয়, এবং তাঁর আশঙ্কার পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণও নেই। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, নীরবের আবেদন কোনও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় না। তাই প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত পুরনো মামলাটি ফের খোলার কোনও যৌক্তিকতা নেই। সেই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতেও স্বস্তি না পাওয়ায় নীরবের সামনে আর কোনও কার্যকর আইনি পথ খোলা রইল না। তাই বহু (Extradition) প্রতীক্ষিত এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে (Nirav Modi) পৌঁছে গিয়েছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

     

  • ED: আরজি করকাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য সরকারি অনুমোদন পেল ইডি

    ED: আরজি করকাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য সরকারি অনুমোদন পেল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (RG Kar Case) আর্থিক দুর্নীতির মামলায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে বড় অগ্রগতি হল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষমেশ তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পেল ইডি (ED)। বুধবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে তারা জানায়, রাজ্য সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৭ জুলাই।

    মিলল সরকারের অনুমোদন 

    এর আগে ইডি এই মামলায় সন্দীপকে গ্রেফতার করেছিল। প্রথম চার্জশিটে তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে তিনি সরকারি দায়িত্বে থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক ছিল। সেই কারণে এত দিন বিচারপ্রক্রিয়া এগোতে পারেনি। স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদন হাতে আসায় এবার মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথ হল চওড়া।তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়া চার্জশিটে সন্দীপ ছাড়াও দুই ব্যবসায়ী বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরার নাম রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এই দুই ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় এটিই ইডির (ED) প্রথম চার্জশিট। এর আগে এই একই মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছিল সিবিআই-ও।

    প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ!

    ইডির অভিযোগ, হাসপাতালের অ্যাকাউন্ট থেকে ঠিকাদারদের কাছে পাঠানো বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিকল্পিতভাবে অন্যত্র সরিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে চেক ইস্যু করা হয়েছিল। সেই অর্থ নগদে তোলা বা বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর করে পরে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। ইডির বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত উৎস এবং সেই অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা আড়াল করার চেষ্টাও করা হয়েছিল। এই আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় সন্দীপের বড় ভূমিকা রয়েছে (RG Kar Case) বলে দাবি ইডির। সরকারি অনুমোদন মেলায় এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া আরও (ED) দ্রুত গতিতে এগোবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Shantanu Sinha Biswas: প্রেসিডেন্সি জেলে বিশেষ সুবিধা নয়, অন্য বন্দিদের সঙ্গে সাধারণ ওয়ার্ডেই প্রাক্তন ডিসি শান্তনু!

    Shantanu Sinha Biswas: প্রেসিডেন্সি জেলে বিশেষ সুবিধা নয়, অন্য বন্দিদের সঙ্গে সাধারণ ওয়ার্ডেই প্রাক্তন ডিসি শান্তনু!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদালতের নির্দেশে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি তথা কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে। সংশোধনাগার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে কোনও বিশেষ সুবিধা বা পৃথক বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে অন্যান্য সাধারণ বন্দিদের মতোই জেলের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে।

    আদালতে ‘লাইফ থ্রেট’-এর দাবি শান্তনুর

    বৃহস্পতিবার ইডি হেফাজত শেষে শান্তনুকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। শুনানির সময় শান্তনুর আইনজীবীরা দাবি করেন, তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন পুলিশ প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বহু অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিলেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলেই রয়েছেন। আদালতে শান্তনুর আইনজীবী বলেন, “আমার মক্কেলের লাইফ থ্রেট রয়েছে। তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত করেছেন। বর্তমানে জেলে থাকা কিছু অভিযুক্ত তাঁর তদন্তের জেরেই গ্রেফতার হয়েছিল। ফলে সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে রাখলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।” এই কারণে তাঁকে ‘গ্রেড ওয়ান’ বা প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দিয়ে পৃথক সেলে রাখার আবেদন জানানো হয়। আইনজীবীরা দাবি করেন, জেলবিধি মেনেই এই আবেদন করা হয়েছে।

    প্রবল বিরোধিতা ইডির

    তবে ইডির আইনজীবীরা সেই আবেদনের বিরোধিতা করেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, কোন ভিত্তিতে শান্তনুকে প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইডির আইনজীবী আদালতে বলেন, “জেল কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট থেকেই বোঝা উচিত আদৌ এমন কোনও পরিস্থিতি রয়েছে কি না।” শুনানির পর আদালত শান্তনুকে আগামী ১ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। যদিও প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দেওয়ার আবেদন খারিজ করা হয়নি, তবে সেই বিষয়ে আদালত কোনও নির্দেশও দেয়নি। ফলে আপাতত সাধারণ বন্দিদের সঙ্গেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

    প্রেসিডেন্সি জেলে কীভাবে রাখা হয়েছে শান্তনুকে

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে পৌঁছনোর পর প্রথমে শান্তনুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপর নিয়ম মেনে তাঁর নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর তাঁকে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে পাঠানো হয়, যেখানে অন্য বন্দিরাও রয়েছেন। সংশোধনাগার সূত্রে দাবি, তাঁর জন্য কোনও আলাদা কক্ষ, বিশেষ খাবার বা অতিরিক্ত সুবিধা রাখা হয়নি। জেলের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অন্য বন্দিদের মতোই তাঁকেও খাবার গ্রহণ, বিশ্রাম এবং অন্যান্য নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে।

    কোনও বিশেষ সুবিধা নয়…

    জেল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুরুতে কিছুটা মানসিক চাপে ছিলেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। দীর্ঘদিন পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার কারণে সংশোধনাগারের পরিবেশ তাঁর কাছে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। যদিও ধীরে ধীরে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে খবর। একইসঙ্গে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টিও নজরে রাখছে জেল কর্তৃপক্ষ। তবে সংশোধনাগার প্রশাসনের বক্তব্য, কোনও বন্দিকেই অযথা বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয় না এবং এই ক্ষেত্রেও সেই নীতিই অনুসরণ করা হয়েছে।

    কী এই ‘সোনা পাপ্পু’ মামলা?

    উল্লেখ্য, গত ১৪ মে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এরপর কলকাতা পুলিশও তাঁর বর্ধিত দায়িত্বের মেয়াদ বাতিল করে। ‘সোনা পাপ্পু’ মামলায় আর্থিক তছরুপ এবং তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তের সূত্রে ১৯ এপ্রিল শান্তনুর বালিগঞ্জের ফার্ন রোডের বাড়িতে অভিযান চালান ইডি আধিকারিকরা। জানা যায়, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর আওতায় সেই তল্লাশি চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ইডির একাধিক তলব এড়িয়ে যাওয়ায় শান্তনুর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়। অবশেষে ১৪ মে তিনি ইডি দফতরে হাজির হন। প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সেই রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    তোলাবাজি ও বিদেশে সম্পত্তির অভিযোগ

    তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ‘সোনা পাপ্পু’র ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শান্তনু। জয় কামদার মূলত প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। এছাড়াও তদন্তকারীদের সন্দেহ, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের দুবাইয়ে সম্পত্তি থাকতে পারে। সেই সম্পত্তির উৎস, বিদেশে অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

    প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা

    একসময় কলকাতা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিকের সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেলে থাকার ঘটনা প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং ইডির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

  • Sona Pappu: সোনা পাপ্পু কাণ্ডে তোলপাড় বাংলা! কলকাতা থেকে কান্দি— একযোগে ইডির হানা

    Sona Pappu: সোনা পাপ্পু কাণ্ডে তোলপাড় বাংলা! কলকাতা থেকে কান্দি— একযোগে ইডির হানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোনা পাপ্পু মামলার তদন্তে আরও সক্রিয় হল ইডি। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক এলাকায় শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কসবা, চক্রবেড়িয়া এবং রয়েড স্ট্রিট-সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় যে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য হাতে এসেছে, তার ভিত্তিতেই এই তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদের কান্দিতেও কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের প্রাসাদোপম বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। নিউটাউনের CRPF ক্যাম্প থেকেও অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর।

    কলকাতার একাধিক জায়গায় ইডির তল্লাশি

    শুক্রবার সকাল থেকে পার্ক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ প্লেস এবং ভবানীপুর-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যায় ইডির একাধিক দল। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় আশু বিশ্বাস রোডে প্রোমোটার অতুল কাঠারিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়েছে এলাকা। ইডি সূত্রে দাবি, অতুল কাঠারিয়ার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর আর্থিক যোগাযোগ ছিল এবং মামলার কালো টাকা তাঁর মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, কসবার বালিগঞ্জ প্লেসের একটি বিলাসবহুল বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডির আরেকটি দল। সেখানে কলকাতা পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বাড়িতে অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে এই চক্রের কোনও যোগসূত্র ছিল কি না। পাশাপাশি, মধ্য কলকাতার ৪ রয়েড স্ট্রিটে ‘The Corporate’ নামে একটি ক্যাফেটেরিয়া-কাম-হোটেলেও হানা দেয় ইডি। ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে তল্লাশি শুরু হয় এবং হোটেলের মালিককে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    কেন এই অভিযান?

    সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি ও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত করছে ইডি। সংস্থার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে একাধিক সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার তথ্য। পাশাপাশি, সেই টাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছেও পৌঁছেছিল বলে সন্দেহ। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই অর্থ বিভিন্ন সংস্থায় বিনিয়োগও করা হয়েছিল। এই সমস্ত তথ্যের সূত্র ধরেই শুরু হয়েছে নতুন করে তল্লাশি অভিযান। উল্লেখ্য, গত ১৮ মে বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং গুণ্ডাগিরির মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তাঁকে খুঁজছিল তদন্তকারীরা। একাধিকবার তলব করা হলেও দীর্ঘদিন অধরা ছিলেন তিনি। পরে নিজেই ইডি দফতরে হাজির হলে প্রায় ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    কান্দিতে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতেও হানা

    কলকাতার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের কান্দিতেও অভিযান চালাচ্ছে ইডি। সোনা পাপ্পু মামলায় গ্রেফতার হওয়া কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পৈত্রিক বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়েছে। কান্দি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ওই বাড়িতে বর্তমানে থাকেন তাঁর বোন তথা কান্দি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান গৌরী সিনহা বিশ্বাস। তবে বাড়িতে পৌঁছে প্রথমে সমস্যার মুখে পড়েন তদন্তকারীরা। সদর দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় সঙ্গে সঙ্গে ঢোকা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তালা ভেঙে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন ইডি আধিকারিকরা। প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষার পর শুরু হয় তল্লাশি। বাড়ির বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সোনা পাপ্পু মামলার জাল কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, কলকাতা ও কান্দিতে একযোগে চলা এই তল্লাশির পর তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

LinkedIn
Share