Tag: Enforcement Directorate

Enforcement Directorate

  • Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৬ হাজার কোটি টাকার মহাদেব অনলাইন বেটিং চক্রের অন্যতম প্রধান মাথা সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে সফল হল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। রবিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে নিয়ে আসে (Mahadev Betting Scam)। এই ঘটনায় তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এবার তদন্তকারীদের নজর মহাদেব বেটিং চক্রের আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পলের দিকে। তদন্তকারীদের দাবি, উপ্পল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে দ্রুত ভারতে প্রত্যর্পণের জন্য সে দেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

    আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার জারি করা রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে গত জুন মাসের শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাসকাটে রয়্যাল ওমান পুলিশ সৌরভকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি ওমান কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণের আবেদন জানায়। সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনে। সোমবার তাঁকে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে বিশেষ আদালতে পেশ করার কথা। চন্দ্রকর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দু’টি মামলার পাশাপাশি ইডির একটি পৃথক মামলায়ও অভিযুক্ত (Money Laundering Case)। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ছত্তিশগড়ের জুয়া নিষিদ্ধকরণ আইনের আওতায় অভিযোগপত্র জমা পড়েছে।

    রবি উপ্পলকে ফেরানোর তৎপরতা (Mahadev Betting Scam)

    সৌরভকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পর তদন্তের পরবর্তী লক্ষ্য উপ্পল। ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ের বাসিন্দা উপ্পল ২০১৯ সালে চন্দ্রকরের সঙ্গে দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যান। মহাদেব অনলাইন বেটিং ব্যবসার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম মালিক হিসেবে তাঁর নাম উঠে এসেছে তদন্তে।

    ২০২৩ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। যদিও ৪৫ দিনের মধ্যেই তিনি মুক্তি পান। পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, তাঁর কাছে ভানুয়াতুর পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, উপ্পল ফের দুবাইয়ে ফিরে এসেছেন।

    ইডির এক আধিকারিক জানান, “আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে উপ্পল বর্তমানে আবার দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে ভারতে ফেরানোর জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

    তদন্তকারীদের দাবি, এই বেটিং চক্রে চন্দ্রকর ও উপ্পলের ভূমিকা ছিল আলাদা। চন্দ্রকর মূলত ব্যবসার প্রচার এবং দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতেন। অন্যদিকে, উপ্পলের বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেন পরিচালনা এবং ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার আর এক অভিযুক্ত বিকাশ ছাপারিয়াকেও দুবাই থেকে ভারতে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইডি।

    কীভাবে চলত মহাদেব বেটিং চক্র?

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, মহাদেব অনলাইন বুক ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ অবৈধ অনলাইন বেটিং চক্র। ভারতের বাইরে থেকে এই ব্যবসা পরিচালিত হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত ছিল এর নেটওয়ার্ক। ফ্র্যাঞ্চাইজি বা শাখাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩২০০টি প্যানেল ও শাখা ব্যবহার করে গ্রাহক সংগ্রহ এবং বাজির টাকা আদায় করা হত। ক্রিকেট, ফুটবল, তাসের খেলা-সহ বিভিন্ন খেলার উপর বাজি ধরার সুযোগ দেওয়া হত এই ব্যবস্থায়।

    ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের আমলে এই বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের নামও এই মামলায় অভিযুক্ত ও সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারির ঘটনা ঘটেছে। তবে বাঘেল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, জুয়া ও বাজি সংক্রান্ত বিষয় মূলত রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত।

    ৯৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি অপরাধলব্ধ অর্থের হিসাব

    এই বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ তদন্তকারীদের কাছেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইডির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মহাদেব অনলাইন বুক এবং স্কাই এক্সচেঞ্জ ও লোটাস ৩৬৫-এর মতো সহযোগী প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে গত প্রায় ১০ বছরে প্রায় ৯৪,৪০০ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে সংস্থাটি আদালতে জানিয়েছে, এই হিসাব প্রাথমিক এবং নতুন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তা পরিবর্তিত হতে পারে।

    তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন ভুয়ো বা অন্যের পরিচয়ে খোলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রথমে বাজির টাকা জমা করা হত। পরে একাধিক লেনদেনের স্তর তৈরি করে সেই অর্থের উৎস আড়াল করা হত। শেষ পর্যন্ত হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ ছত্তিশগড়ের সরকারি আধিকারিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, যাতে অবাধে এই অবৈধ ব্যবসা (Mahadev Betting Scam) চালানো যায়।

    সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, গ্রেফতার ১৪

    মহাদেব বেটিং মামলায় আর্থিক তছরুপের তদন্তে এখনও পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে ইডি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি এই মামলায় ছ’টি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। সেখানে মোট ১১৬ জন ব্যক্তি ও সংস্থার নাম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ জনকে। বাজেয়াপ্ত ও আটক করা সম্পত্তির মূল্য ২,১০০ কোটি টাকারও বেশি বলে সাম্প্রতিক তদন্তের তথ্যে উঠে এসেছে।

    এই তদন্তের সূত্রেই চন্দ্রকরের বিপুল বিলাসবহুল জীবনযাপনও নজরে আসে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাস আল খাইমায় তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই অনুষ্ঠানে অতিথিদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহারের পাশাপাশি বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্যও তদন্তকারীদের নজরে আসে।

    সৌরভকে দেশে ফিরিয়ে আনার ফলে মহাদেব বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক যোগসূত্র এবং সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে (Money Laundering Case) উপ্পলকে ভারতে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই প্রধান অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে এই বিপুল অবৈধ বেটিং সাম্রাজ্যের নেপথ্যে থাকা গোটা চক্রের (Mahadev Betting Scam) আরও অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

     

  • Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।” বুধবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ইন্দ্রনীলের (Indranil Sen Arrested) বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কলকাতা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছিল।  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলেও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু ইন্দ্রনীল নন, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি বলেন, “আমি বহু রাজনৈতিক সভায় বলেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে এই ঘটনা ঘটেছে। একা তো আর কেউ টাকা নেননি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরও ভাগ থাকতে পারে।” ইন্দ্রনীলের সঙ্গে (ED) মমতার ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও তোলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দু’জনে একসঙ্গে ঘুরতেন এবং গানও গাইতেন। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেন একে অন্যের পরিপূরক ছিলেন। যা পরিণতি হওয়ার, তা-ই হচ্ছে। সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি। দুর্নীতিতে জড়িতদের সকলকেই জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।”

    প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen Arrested)। এদিন সল্টলেকের ইডি দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরোনোর পরেই তাঁকে আটক করে গাড়িতে তোলে কলকাতা পুলিশ। পরে তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে (ED)।

    ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Indranil Sen Arrested)

    দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শন এবং বিশেষ পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। অথচ এই ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের জন্য ইউনেস্কোর কোনও অনুমোদন বা চুক্তি ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

    এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের কাছে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

    তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে একাধিক বার ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কসবার বাড়ি এবং সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিও চালানো হয়। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর পরে ফের তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার তিনি তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছন (Indranil Sen Arrested)।

    ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতির সন্দেহ

    প্রাথমিক তদন্তে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শনের আয়োজন এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ও স্বীকৃতিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের মনে ওই আয়োজনের সঙ্গে সংস্থাটির সরাসরি যোগসূত্র থাকার ধারণা তৈরি হয়।

    ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধেও এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমেই পাস বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়েছিল। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংস্থাটি গড়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে।

    আগাম জামিনের আবেদন খারিজ

    তদন্ত চলাকালীন গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে শুনানি পিছিয়ে যায় এবং নতুন করে বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, আগামী সোমবার নতুন বেঞ্চে ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

    উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরনিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় গত ১১ মে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (ED)। এ বার দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল সরকারের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী (Indranil Sen Arrested)।

     

  • Kerala HC: পিনারাই বিজয়ন, মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের

    Kerala HC: পিনারাই বিজয়ন, মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে টি বীণা, জামাই পিএ মহম্মদ রিয়াস-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিল কেরল হাই কোর্ট (Kerala HC)। শুক্রবার বিচারপতি এ বদরুদ্দিনের বেঞ্চ রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরের (ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-কোরাপশন ব্যুরো) অধিকর্তাকে এই নির্দেশ দিয়েছে। আইনজীবী কেএম শাহজাহানের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতেই আদালতের এই (Corruption Case) নির্দেশ।

    এর আগে কেরল সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর আদালতে দাবি করেছিল, অপরাধ তদন্ত শাখার প্রাথমিক তদন্তই এই মামলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট। এফআইআর দায়ের করা আইনত বাধ্যতামূলক নয় বলেও যুক্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। এফআইআর দায়ের না করেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে প্রাথমিক তদন্ত চালানোর যে সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছিল, তাও বাতিল করেছে আদালত।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ (Kerala HC)

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মামলায় যে অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, তা ১৯৮৮ সালের দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় পড়ে। ফলে তদন্তের ক্ষেত্রে রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারার অধীনে থাকা তথ্যপ্রমাণ, যা বর্তমানে রাজ্য পুলিশের ডিজি অথবা বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধানের হেফাজতে রয়েছে, তা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরের অধিকর্তার হাতে তুলে দিতে হবে। সেই নথির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট অধিকর্তাকে অবশ্যই এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি দুর্নীতি দমন দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। মামলায় এফআইআর দায়েরের আগে আর কোনও অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে হাই কোর্ট।

    আদালতের বক্তব্য, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির জমা দেওয়া তথ্যপ্রমাণই এফআইআর দায়েরের জন্য যথেষ্ট। দীর্ঘ প্রাথমিক তদন্তের অজুহাতে এফআইআর দায়ের এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “এই মামলার পরিস্থিতি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নতুন করে আর কোনও তদন্তের প্রয়োজন নেই। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারায় প্রাপ্ত তথ্যে যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে, তাতে রাজ্য পুলিশের এফআইআর দায়ের করা বাধ্যতামূলক। অন্য কোনও তদন্তের সুযোগ এখানে নেই।”

    কী এই মামলা?

    এই মামলার সূত্রপাত কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের প্রথম মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়কার কয়েকটি আর্থিক লেনদেনকে ঘিরে। বেসরকারি খনি সংস্থা কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এবং টি বীণার মালিকানাধীন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনের মধ্যে ওই লেনদেন হয়েছিল।

    মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, কোনও পরিষেবা না দিয়েও এক্সালজিক সলিউশনস প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার অর্থ পেয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ওই লেনদেনের মাধ্যমে বেআইনিভাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে ৮৫ লাখ টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছিল এবং দেশের অভ্যন্তরে ২০ কোটিরও বেশি টাকা বণ্টন করা হয়েছিল বলে দাবি (Kerala HC) ইডির।

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার খরচ হিসেবে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এক্সালজিক সলিউশনসকে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দিয়েছিল। অথচ ওই সংস্থা কোনও পরিষেবাই দেয়নি। এই অর্থপ্রদানকে পরামর্শদানের খরচ বলে দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    গত মে মাসে বিজয়নের বাসভবন-সহ কোঝিকোড় জেলায় সিপিআইএমের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্ত আটটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। তল্লাশির সময় হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করে (Corruption Case) সংস্থাটি।

    কেরল পুলিশকে ইডি জানিয়েছিল, বিজয়নের মেয়ে বীণার মাধ্যমে তাঁকে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছিল কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড। সংস্থাটির প্রাক্তন প্রধান আর্থিক আধিকারিক তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন বলেও ইডির দাবি, বীণা ও অন্যদের মাধ্যমে রিয়াস ওই টাকা দুবাইয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

    এফআইআর দায়েরের সুপারিশ

    ইডি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য রাজ্য প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়ে বিজয়ন-সহ অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু কেরল পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। তার পরিবর্তে অপরাধ তদন্ত শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালক এইচ ভেঙ্কটেশের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

    এর পরেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আইনজীবী কেএম শাহজাহান। তাঁর বক্তব্য ছিল, পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে (Kerala HC) এফআইআর দায়ের করা পুলিশের কর্তব্য।

    আবেদনকারীর সেই যুক্তি মেনে নিয়ে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। তবে আদালতের এই নির্দেশের অর্থ অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হবে (Corruption Case)।

    কী প্রভাব পড়তে পারে?

    কেরল হাই কোর্টের এই নির্দেশের ফলে মামলাটির তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে। এত দিন প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর্যায়ে আটকে থাকা অভিযোগের ভিত্তিতে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরকে। ফলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের (Kerala HC) তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।

     

  • ED Investigation: ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ ৩০ লক্ষ টাকা! বড় দাবি ইডির, ইউনেস্কো-কাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়

    ED Investigation: ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ ৩০ লক্ষ টাকা! বড় দাবি ইডির, ইউনেস্কো-কাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে একের পর এক তথ্য সামনে আনছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক-নেতা ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সংস্থা ও ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন। ১ অক্টোবর প্রকাশিত ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, মাসআর্ট সোসাইটির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি, সরকারি টেন্ডার এবং ইন্দ্রনীলের সঙ্গে যুক্ত ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক লেনদেন—এই তিনটি সূত্রে আর্থিক অনিয়মের একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেই প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর তথ্য। ইডির দাবি, অক্টেভ রেকর্ডসের অ্যাকাউন্ট থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে ইন্দ্রনীল ওই অর্থকে গানের রয়্যালটি বাবদ দেওয়া টাকা বলে দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে ওই অর্থের প্রকৃতি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি।

    কলকাতার ১৫টি জায়গায় তল্লাশি

    ইডি জানিয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর কলকাতার ১৫টি জায়গায় তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তের অভিযান চালানো হয়। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের (PMLA) ১৭ নম্বর ধারায় এই অভিযান চালানো হয়েছিল। তল্লাশির আওতায় ছিল মাসআর্ট সোসাইটির অফিস ও আবাসিক ঠিকানা, সংস্থার পদাধিকারীদের জায়গা এবং ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক স্থান।

    বৌবাজার থানায় কলকাতা পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআরের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি। ওই এফআইআরে ইন্দ্রনীল সেন ছাড়াও মাসআর্টের সভাপতি মধুছন্দা সেন, সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ-সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। আরও কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগের কথা জানানো হয়েছে।

    ইউনেস্কোর নাম-লোগো ব্যবহার করে টিকিট বিক্রির অভিযোগ

    ইডির তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু মাসআর্ট সোসাইটির দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পুজোমণ্ডপে এই অনুষ্ঠানের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল।

    টিকিটের দাম ছিল ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত। ইডির দাবি, ২০২৩ ও ২০২৪ সালেই এক লক্ষের বেশি টিকিট ইস্যু করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, মাসআর্ট নিজেদের ইউনেস্কোর পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরে এবং ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিল। এই ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।

    এখানে কলকাতার দুর্গাপুজোর ইউনেস্কো স্বীকৃতি এবং কোনও নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক অনুষ্ঠানের জন্য ইউনেস্কোর অনুমোদন—এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখছে তদন্ত। ইডির অভিযোগ মূলত ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের বিষয়কে ঘিরে।

    টিকিটের টাকা কোথায় গেল?

    ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, মাসআর্টের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে নগদে তোলা হয়েছিল। অন্য অংশ বিভিন্ন খরচের নামে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। এর মধ্যে ‘বিবিধ খরচ’-এর উল্লেখও রয়েছে।

    তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সংগৃহীত অর্থের একাংশ ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত মোট কত টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল, তার মধ্যে কত টাকা নগদে তোলা হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট ভাবে কার কাছে কত টাকা পৌঁছেছিল—তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করেনি ইডি। ফলে এই আর্থিক লেনদেনের চূড়ান্ত চরিত্র তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।

    ইন্দ্রনীলের মন্ত্রিত্বকালে ৮৫ কোটির বেশি টেন্ডার

    মাসআর্টের আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করতে গিয়ে ইন্দ্রনীল সেনের মন্ত্রিত্বকালের সরকারি টেন্ডারের বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ইডি।

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের একাধিক টেন্ডার ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং দীপেশ রায়ের মালিকানাধীন সংস্থাগুলি পেয়েছিল। ইডির হিসাব অনুযায়ী, ওই টেন্ডারগুলির সম্মিলিত মূল্য ৮৫ কোটি টাকারও বেশি। তদন্তকারীরা দু’জনকেই ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ইডির আরও দাবি, টেন্ডার পাওয়া সংস্থাগুলি থেকে পরবর্তী সময়ে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের নগদ টাকা তোলার তথ্যও তদন্তে পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

    তবে সরকারি টেন্ডারের মোট মূল্য ৮৫ কোটির বেশি হওয়া এবং সেই পুরো অর্থ বেআইনি ভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে—এই দুই বিষয় এক নয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে তার কোনও বেআইনি যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    অক্টেভ রেকর্ডসের অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকার বেশি নগদ জমা

    ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যুক্ত ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দ্রনীলের মন্ত্রিত্বকালে ওই সংস্থার অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ অর্থ জমা পড়েছিল।

    এই অর্থের উৎস কী ছিল, কারা ওই টাকা জমা করেছিলেন এবং কোন ধরনের ব্যবসায়িক কার্যকলাপ থেকে তা এসেছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইডির তদন্তের সূত্রে জানা যাচ্ছে। তবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওই নগদ জমার প্রতিটি লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

    মমতার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা

    তদন্তের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্যগুলির একটি হল অক্টেভ রেকর্ডস থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর দাবি।

    ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অক্টেভ রেকর্ডসের অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মাধ্যমে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে ইন্দ্রনীল সেন ওই অর্থকে গানের রয়্যালটি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন বলে জানিয়েছে ইডি।

    তবে কোন গান বা কোন কাজের জন্য এই রয়্যালটি দেওয়া হয়েছিল, কোন সময়কালের হিসাবের ভিত্তিতে অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছিল কিংবা সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও হিসাবপত্রে কী রয়েছে—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

    একই সঙ্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর তথ্য উল্লেখ করলেও ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইডি এই লেনদেনকে বেআইনি বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। লেনদেনটির প্রকৃতি এবং এর সঙ্গে তদন্তাধীন অন্য আর্থিক সূত্রগুলির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তেই নির্ধারিত হবে।

    প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ ইন্দ্রনীলকে

    ২৯ সেপ্টেম্বরের তল্লাশির পরের দিন ইডির সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন ইন্দ্রনীল সেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    মাসআর্টের টিকিট বিক্রি, সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির ভূমিকা এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্ক লেনদেন নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় বলে তদন্ত সূত্রের খবর। এর আগে ইন্দ্রনীল সেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

    তল্লাশি অভিযানে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইডি। তদন্তকারীদের মতে, ওই নথি ও ডিজিটাল তথ্য আর্থিক লেনদেনের গতিপথ খতিয়ে দেখতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    এখন তদন্তের নজরে তিন আর্থিক সূত্র

    ইডির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই তদন্তে আপাতত তিনটি বড় আর্থিক সূত্র সামনে এসেছে—মাসআর্টের ‘প্রিভিউ শো’-এর টিকিট বিক্রি, ইন্দ্রনীলের মন্ত্রিত্বকালে ৮৫ কোটির বেশি মূল্যের সরকারি টেন্ডার এবং অক্টেভ রেকর্ডসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ জমা ও সেখান থেকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর।

    এই তিনটি সূত্রের মধ্যে কোনও বেআইনি যোগসূত্র রয়েছে কি না, অর্থের প্রকৃত ব্যবহার কী ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কতটা—তা তদন্তের পরবর্তী ধাপে স্পষ্ট হওয়ার কথা। ইডি জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। ফলে আরও নথি, ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Indranil Sen: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, ইডির দফতরে হাজির ইন্দ্রনীল সেন

    Indranil Sen: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, ইডির দফতরে হাজির ইন্দ্রনীল সেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সল্টলেকে ইডির দফতরে হাজির হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। বুধবার সকাল ১১টার আগেই সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন তিনি। দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং পুজো পরিক্রমার নামে ইউনেস্কোর নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে চড়া দামে পাস বিক্রি এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে তাঁকে তলব করেছে (Durga Puja Pass Scam) কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    মঙ্গলবারই ইন্দ্রনীল, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় ইডি। কলকাতার পাশাপাশি সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে দাবি, তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে জমি সংক্রান্ত নথিও রয়েছে।

    অভিযোগের কেন্দ্রে ‘মাস আর্ট’ (Indranil Sen)

    অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থা। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে কলকাতার নির্বাচিত পুজোমণ্ডপগুলিতে প্রবেশের জন্য সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছে কয়েক হাজার টাকা দামে পাস বিক্রি করা হয়েছিল। অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, সংস্থাটি নিজেদের ইউনেস্কোর সরকারি সহযোগী হিসেবে তুলে ধরে ওই আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ও প্রতীক ব্যবহার করেছিল। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং ইন্দ্রনীল আগেই অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন।

    জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ এই ধরনের পাসের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, গোটা ঘটনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।

    অভিযোগের সূত্রপাত কীভাবে?

    চলতি বছরের জুনে কলকাতার বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল, মধুছন্দা এবং ‘মাস আর্টে’র কয়েকজন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সাল থেকে দুর্গাপুজোর নির্বাচিত মণ্ডপগুলিকে ঘিরে ‘প্রিভিউ শো’ আয়োজন করে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযোগকারীর দাবি, ইউনেস্কোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বা অনুমোদনের ধারণা তৈরি করে ওই পাসগুলি বাজারজাত করা হয়েছিল।

    পুলিশে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়। পরে আর্থিক তছরুপের অভিযোগের তদন্তে ইডিও নামে এবং আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে মামলা সংক্রান্ত নথি তৈরি করে তদন্ত শুরু করে (Indranil Sen)।

    ২৪টি পুজোমণ্ডপ ঘিরে পাস বিক্রির অভিযোগ

    অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পুজোমণ্ডপের ‘প্রিভিউ শো’-এর জন্য পাস বিক্রি করা হত। পাসের দাম ছিল কয়েক হাজার টাকা। তদন্তকারীরা দেখছেন, এই পাস বিক্রির মাধ্যমে কত টাকা সংগ্রহ হয়েছিল, সেই অর্থ কোথায় গিয়েছিল এবং গোটা ব্যবস্থার সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন।

    অভিযোগ, এই পাস থাকলে শহরের বিভিন্ন বড় পুজোমণ্ডপে সাধারণ দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে প্রবেশের সুযোগ মিলত। সেই পাস বিক্রির সঙ্গে বিভিন্ন পুজো কমিটির ভূমিকা কী ছিল, তা-ও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে সূত্রের খবর।

    ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের মন্ত্রী হন ইন্দ্রনীল। তিনি পর্যটন, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্বেও ছিলেন। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা ‘মাস আর্টে’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে (Durga Puja Pass Scam)।

    দুর্গাপুজোকে ঘিরে কলকাতায় প্রতি বছর দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক আসেন। বিভিন্ন সংস্থা পুজো পরিক্রমার আয়োজন করে এবং নির্দিষ্ট পরিষেবার জন্য টিকিট বা পাস বিক্রি করা হয়। এই ব্যবস্থার আড়ালে ইউনেস্কোর নাম বা প্রতীক বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, পাস বিক্রির অর্থের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য কী এবং এর সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল কি না—এই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখছেন (Indranil Sen) তদন্তকারীরা।

     

  • Nadimul Haque ED Raid: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের ৭ ঠিকানায় ইডি, তদন্তের কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন

    Nadimul Haque ED Raid: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের ৭ ঠিকানায় ইডি, তদন্তের কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার সকালেই কলকাতা থেকে দিল্লি, এমনকী রাঁচিতেও একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। অভিযানের কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক। ইডি সূত্রে খবর, বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত টাকা লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগানের অভিযোগের তদন্তেই এই অভিযান।

    কলকাতা, দিল্লি ও রাঁচিতে একযোগে অভিযান

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত মোট সাতটি ঠিকানায় এদিন তল্লাশি চালানো হয়। কলকাতার পার্ক সার্কাস, দিল্লির একাধিক ঠিকানা এবং রাঁচির একটি ঠিকানাও রয়েছে এই তালিকায়। তাঁর সঙ্গে যুক্ত উর্দু সংবাদপত্রের দফতর এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কাজকর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি জায়গাতেও ইডির আধিকারিকরা পৌঁছন।

    কলকাতায় পার্ক সার্কাসের ১২, দরগা রোডে অবস্থিত ‘আখবার-এ-মাশরিক প্রাইভেট লিমিটেড’-এর দফতরে সকালে ইডির একটি দল যায়। দফতরটি তালাবন্ধ থাকলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা সেখানে প্রবেশ করেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অফিসের বিভিন্ন নথি, আর্থিক কাগজপত্র এবং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়।

    সংবাদপত্রের আর্থিক লেনদেন নিয়ে নজর

    ইডি সূত্রের দাবি, ওই উর্দু সংবাদপত্রের দফতর থেকে একাধিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তার মধ্যে কিছু লেনদেনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর।

    কোন উৎস থেকে টাকা এসেছে, কার সঙ্গে কী উদ্দেশ্যে আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনের পক্ষে যথাযথ নথি রয়েছে কি না—মূলত এই বিষয়গুলিই তদন্তকারীদের নজরে বলে জানা গিয়েছে। বেনামি বা সন্দেহজনক উৎস থেকে কোনও বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    দিল্লিতেও নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি

    কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও তল্লাশি চালায় ইডি। রাজধানীর ৬১, সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নাদিমুল হকের একটি অফিস রয়েছে। ওই দফতর তৃণমূল কংগ্রেসের দিল্লিকেন্দ্রিক সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়। সোমবার সকাল থেকেই সেখানে ইডির আধিকারিকরা নথিপত্র পরীক্ষা করেন।

    এর পাশাপাশি দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদের সরকারি বাংলোতেও তদন্তকারীরা পৌঁছন বলে সূত্রের খবর। তাঁর বিভিন্ন দফতর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানা গিয়েছে।

    তল্লাশির সময় বেশ কিছু নথি এবং আর্থিক রেকর্ড পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, অভিযানের শেষে ঠিক কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও ইডির তরফে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বিধাননগর থানার মামলার সূত্রেই তদন্ত?

    ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতেই এই তদন্তের সূত্রপাত। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট একটি এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট বা ECIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর।

    অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগান। সেই সূত্র ধরে নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা ও সম্পত্তির আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

    ফের সক্রিয় ইডি, নজরে একাধিক আর্থিক মামলা

    সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক আর্থিক অনিয়ম এবং অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তে ফের সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারই মধ্যে নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় এই তল্লাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

    এর আগে রবিবার সকালে উত্তর কলকাতায় স্টক ট্রেডিং এবং মানি মার্কেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যবসায়ী পরিবারের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ওই অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে কলকাতা পুলিশের কর্মীরা ইডির আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ইডির পূর্বাঞ্চলীয় দফতরের একটি দল প্রথমে ফুলবাগান থানায় যায়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে তদন্তকারীরা ফুলবাগান থানার পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কাঁকুড়গাছির ‘শিবম’ ভবনে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন।

    ২৯০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলাতেও তল্লাশি

    অন্যদিকে, প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তেও গত ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল ইডি। অভিযোগ রয়েছে, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল।

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঋণের একটি অংশ নির্দিষ্ট প্রকল্পে ব্যবহার না করে অন্য গ্রুপ সংস্থা এবং ব্যক্তিগত কাজে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল

    নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত ঠিকানা, সংবাদপত্রের দফতর এবং তৃণমূলের রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যবহৃত অফিস—একাধিক জায়গা এই তদন্তের আওতায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংবাদপত্রের দফতর থেকে হওয়া আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

    তবে এখনও পর্যন্ত ইডির তল্লাশি থেকে কী কী তথ্য বা নথি পাওয়া গিয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে, তদন্তের ভিত্তিতে নাদিমুল হক বা অন্য কোনও ব্যক্তি কিংবা সংস্থার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ করা হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

    এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নাদিমুল হকও প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য দেননি। ফলে ইডির অভিযোগ, তল্লাশিতে পাওয়া তথ্য এবং তদন্তের পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • ED: বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে হাওলা-তদন্তে নয়া মোড়, বিরোধী দলনেতার পদ ছাড়ুন পিনারাই, দাবি বিজেপির

    ED: বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে হাওলা-তদন্তে নয়া মোড়, বিরোধী দলনেতার পদ ছাড়ুন পিনারাই, দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের মেয়ে বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত আরও জোরদার করেছে ইডি(ED)। তদন্তে হাতে লেখা খাতা ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিন নথি থেকে বিপুল পরিমাণ হিসাব-বহির্ভূত অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য হাওলা কারবারের সূত্র মিলেছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থার। একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (FEMA Violations)।

    বড় দাবি ইডির (ED)

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সম্প্রতি বাজেয়াপ্ত করা হাতে লেখা খাতা এবং বৈদ্যুতিন নথিতে দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি বৈধ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে একটি অভ্যন্তরীণ আর্থিক নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। নথিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে ৩ লাখ ৪৯ হাজার দিরহাম, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৫ লাখ টাকা, পাঠানোর উল্লেখ রয়েছে। এই অর্থের প্রকৃত উৎস কী এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় তা গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, বাজেয়াপ্ত নথিতে মোট ২০ কোটি ৫ লাখ টাকার দেশীয় আর্থিক লেনদেনের তথ্য রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, বীণার জানা ও বৈধ আয়ের উৎসের তুলনায় এই লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি। বীণার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতিতে একটি ইন্টারনেট সংযোগের যন্ত্র এবং ভুয়ো পরিচয়ে নথিভুক্ত একটি সিম কার্ডের ছবি পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হাওলা লেনদেনের সমন্বয় করতে অনুসরণ করা কঠিন এমন ইন্টারনেটভিত্তিক ফোনালাপের জন্য এগুলি ব্যবহার করা হতে পারে।

    সিম কার্ডের মালিকের পরিচয়

    তদন্তে ওই সিম কার্ডের মালিকের পরিচয়ও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ইডি। কার্ডটি কোঝিকোড়ের ডিওয়াইএফআই নেতা নন্দুলালের নামে নথিভুক্ত ছিল। নন্দুলালের দাবি, বীণা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মহম্মদ রিয়াসের অনুরোধেই তিনি সিমটি সংগ্রহ করেছিলেন। দু’জনের সঙ্গেই তাঁর পরিচয় রয়েছে বলে স্বীকার করলেও, সিম কার্ডটি ঠিক কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২৪ সাল থেকে বীণা ওই সিম কার্ড ব্যবহার করছিলেন। হাওলা লেনদেন সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্যই এটি ব্যবহার করা হতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তাঁদের মতে, সিমটি একটি বেতার ইন্টারনেট সংযোগের যন্ত্রে ঢুকিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফোন করা হত।

    বিদেশি মুদ্রা ও অর্থপাচার তদন্তের সূত্রপাত

    আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। মহম্মদ রিয়াস কেরলের পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালীন নন্দুলাল কোঝিকোড় জেলা পর্যটন উন্নয়ন পরিষদের গন্তব্য ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি নন্দুলালের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ডটি সংগ্রহের সময় ব্যবহার করা পরিচয়পত্রের প্রতিলিপি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। বীণার মালিকানাধীন এবং বর্তমানে বন্ধ তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শদাতা সংস্থা এক্সালজিক সলিউশন্সকে ঘিরে ওঠা একটি কর্পোরেট জালিয়াতির মামলাকে কেন্দ্র করেই মূলত এই বিদেশি মুদ্রা ও অর্থপাচার তদন্তের সূত্রপাত। গুরুতর জালিয়াতি তদন্ত দফতরের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ ওঠে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেডের কাছ থেকে এক্সালজিক সলিউশন্স প্রতি মাসে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা করে বেআইনি অর্থ পেয়েছিল। অভিযোগ, বিনিময়ে সংস্থাটি কোনও প্রকৃত পরিষেবা দেয়নি।

    বীণার পরিবারের দাবি

    বীণার হাতে লেখা নথিতে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের কয়েকজনকে লক্ষ্য করে কোঝিকোড়ে সাম্প্রতিক তল্লাশি চালানোর পর তদন্ত আরও বিস্তৃত করেছে ইডি। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন এবং বিদেশি মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও খবর। তদন্তের স্বার্থে বীণাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর (ED)। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই অভিযোগ ও তদন্তের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন সিপিআই(এম)-এর নেতারা এবং বীণার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে (FEMA Violations)। এদিকে বীণাকে ঘিরে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেডের অর্থপাচার তদন্তে ইডির নয়া তথ্য সামনে আসার পর পিনারাই বিজয়ন কেরল বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ থেকে ইস্তফা দিন – এমন দাবি তুলেছে বিজেপি।

    বিজেপির বক্তব্য

    পদ্ম শিবিরের রাজ্য সহ-সভাপতি শোন জর্জ বলেন, পিনারাই বিজয়নের উচিত তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো—এটাই দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। তাঁর দাবি, ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উম্মেন চান্ডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পিনারাই বিজয়ন যে ভাষায় তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন, তিনি সেই একই যুক্তি এবার বিজয়নের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করছেন। শোন জর্জ বলেন, “যদি তাঁর মধ্যে সামান্যও লজ্জাবোধ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে পিনারাই বিজয়নের উচিত অবিলম্বে বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনও লজ্জা অবশিষ্ট থাকে… যদি কোনও লজ্জা অবশিষ্ট থাকে (FEMA Violations), তাহলে পিনারাই বিজয়নের উচিত বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকা (ED)।”

     

  • ED Raid: বীরভূমে ইডির মেগা রেড, উদ্ধার ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা! তদন্তের কেন্দ্রে টুলু-ঘনিষ্ঠ মিনার

    ED Raid: বীরভূমে ইডির মেগা রেড, উদ্ধার ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা! তদন্তের কেন্দ্রে টুলু-ঘনিষ্ঠ মিনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমে (Birbhum) ফের কোটি কোটি টাকার গন্ধ। মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকায় বুধবার ভোররাত থেকে বড়সড় অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে পরিচিত মিনার মণ্ডলের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি (ED Raid)। আর সেই অভিযানে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, সোনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।

    ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা

    ইডি সূত্রের খবর, মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গোনার জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয় একাধিক টাকা গোনার মেশিন। উদ্ধার হওয়া নগদ, সোনা এবং নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করতে ব্যবহার করা হয় বড় লোহার ট্রাঙ্ক। দীর্ঘক্ষণ ধরে বাড়ির প্রতিটি অংশে তল্লাশি (ED Raid) চালান তদন্তকারীরা।

    সরকারি বাসচালক থেকে কোটি টাকার মালিক?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, মিনার মণ্ডল পেশায় সরকারি বাসের চালক ছিলেন। তাই তাঁর বাড়ি থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। তবে স্থানীয়দের দাবি তিনি দীর্ঘদিন ধরে টুলু মণ্ডলের পাথর খাদান, ক্রাশার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (ED)।

    ফের আলোচনায় টুলু মণ্ডল

    এই অভিযানের পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বীরভূমের (Birbhum) প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের নাম। এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত টুলু। জেলার পাথর খাদান, ক্রাশার ও বালি ব্যবসায় দীর্ঘদিন তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ। অতীতে বেআইনি পাথর খাদান, গরু পাচার-সহ একাধিক মামলায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও তাঁর বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশিও চালিয়েছিল। পরে একটি খুনের মামলায় টুলু মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    ইডির (ED) নজরে আর্থিক লেনদেন

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ, সোনা, সম্পত্তির নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই সম্পদের উৎস কী? তা বৈধ আয় থেকে এসেছে নাকি অন্য কোনও অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত? সেই বিষয়েই জোর দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট

    ঘটনায় সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন তিনি। পুলিশের অভিযানের প্রশংসার পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনেই এই অভিযান চলবে, বলেও সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    এখন নজর তদন্তের দিকে

    যদিও এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার সঙ্গে টুলু মণ্ডলের সরাসরি আইনি যোগ রয়েছে বলে ইডি (ED) আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে এই বিপুল সম্পদের উৎস, সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জোরকদমে চলছে। বীরভূমের এই মেগা রেডে আগামী দিনে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-তে (NTA) বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং (Young Professionals) নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংস্থার ৪৭ জন আধিকারিক ও কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ফরেনসিক তদন্ত, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা এবং মূল্যায়ন গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নেতৃত্ব গড়ে তুলে সংস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর কাজও শুরু হয়েছে। শুক্রবার সরকারি সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে।

    বরখাস্ত বহু আধিকারিক (NTA)

    এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। ওই ঘটনার জেরে ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করতে হয়, এবং প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে ২১ জুন ফের পরীক্ষায় বসতে হয়। ঘটনার পর থেকেই এনটিএর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সরকারি সূত্রের খবর, যাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁদের শুধু অন্যত্র বদলি করা হয়নি বা দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি, সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম, পদমর্যাদা বা নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তও চলবে। জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থতার জন্য কার কী দায় ছিল, তা চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। আগামী দিনে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    তৈরি হচ্ছে নয়া কাঠামো

    এনটিএর পুনর্গঠনের প্রথম পর্যায়ে চারজন জেনারেল ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে ১৬ জন তরুণ পেশাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে কে রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি। শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। নতুন জেনারেল ম্যানেজারদের তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে এবং তাঁরা সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনা করবেন (Young Professionals)। নতুন কাঠামোয় মূল্যায়ন ও মনস্তাত্ত্বিক পরিমাপ সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান প্রশ্নভাণ্ডার তৈরি, নম্বরের সামঞ্জস্য নির্ধারণ, প্রশ্নপত্রের মান নির্ধারণ, কম্পিউটারভিত্তিক অভিযোজিত পরীক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা বিভাগের প্রধান দেশের পাঁচশোরও বেশি শহর এবং বিদেশের নির্বাচিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দেখবেন। পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন, অনুমোদন, পরিকাঠামো, পরীক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, পরীক্ষার দিন পরিচালনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে (NTA)।

    সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক

    তথ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক হিসেবে কাজ করবেন। সংস্থার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, পরীক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিধি মেনে চলার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে কম্পিউটার জরুরি প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত জাতীয় সংস্থার নির্দেশিকাও কার্যকর করার দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে। এছাড়া সতর্কতা, তদন্ত এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রধান পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন। সংস্থার নিজস্ব ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, গোয়েন্দা ব্যুরো, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এবং সাইবার অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত পরিচালনা করবেন। সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় রোধে প্রণীত ২০২৪ সালের আইনের আওতায় এই তদন্তগুলি পরিচালিত হবে (Young Professionals)। ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে যে তরুণদের নিয়োগ করা হবে, তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান পাননি। এই পোর্টালের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ঘটানো হয় (NTA)।

    পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তন

    মোট ১৬টি পদের মধ্যে ১২টি থাকবে অ্যাকাডেমিক গবেষণায়, দু’টি আইনি গবেষণায় এবং দু’টি অর্থ ও হিসাব বিভাগে। প্রথমে ২৪ মাসের জন্য নিয়োগ করা হবে। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ৩৬ মাস পর্যন্ত করা যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, অস্থায়ী কর্মীর ওপর এনটিএর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে সংস্থায় স্থায়ী পদের সংখ্যা ৩৯। এর মধ্যে মাত্র ২৪টি পদ পূরণ হয়েছে। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ৭৩ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা ১২৪। এই ভারসাম্য বদলাতে চায় কেন্দ্র। রাধাকৃষ্ণণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মোট ১০টি কার্যকরী বিভাগে আগামী দিনে আরও নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং অনুবাদকদেরও নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে (NTA)। পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে নিট-ইউজি আর ওএমআর শিটে হবে না। পরিবর্তে সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর ফলে যৌথ প্রবেশিকা (মেইন) এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার ধাঁচের সঙ্গে নিট-ইউজির সামঞ্জস্য তৈরি হবে (Young Professionals)।

    সংরক্ষিত থাকবে ডিজিটাল রেকর্ড

    সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রশ্নপত্রের হার্ড কপি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। একাধিক প্রশ্নসেট ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং প্রতিটি ধাপের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। তবে এজন্য নিরাপদ পরীক্ষা কেন্দ্র, আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের নথিভুক্তিকরণ, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা, প্রযুক্তিগত পরিষেবা এবং গোপনীয় নথি সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং ব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনা করছে কেন্দ্র। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। নিরীক্ষা ও পটভূমি যাচাই আরও কঠোর করা হবে। সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ব্যর্থতা ধরা পড়লে আরও কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা হবে (NTA)।

     

  • ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই  রাজ্যে বড়সড় অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। মঙ্গলবার সকালে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-সহ মোট ৮টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ (Government Scheme Scam) করা হয়েছে। সেই মামলার তদন্তেই এই অভিযান। ইডি সূত্রের খবর, দীর্ঘদিনের তদন্তে পাওয়া একাধিক তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই এদিনের তল্লাশি অভিযান।

    কেন ইডি অভিযান (ED Raid)?

    একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি প্রকল্পে দ্রুত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলত (Government Scheme Scam)। ইডির প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ- বেশি টাকা দিলে দ্রুত ও বেশি সুবিধা মিলবে বলেও প্রলোভন দেখানো হত। এইভাবে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে ইডি। সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে? কোথায় গিয়েছে? তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ১৬৪ কোটি টাকার প্রতারণা!

    তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে টাকা তোলা হয়েছে। প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ। প্রায় ১৯ হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি। মোটা অঙ্কের সুদের লোভ দেখিয়েও বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। একটি এফইআরের ভিত্তিতেই এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। পরে কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সামনে আসায় অর্থ পাচারের দিকটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে ইডি (ED Raid)।

    কারা তদন্তের নজরে?

    তদন্তে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বনগাঁর দুই বাসিন্দা অভিজিৎ ও রাহুল। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে- অভিজিৎ গত মাসেই কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরু গিয়েছেন। রাহুলের খোঁজ এখনও মেলেনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত? তাও জানার চেষ্টা চলছে।

    রাজনৈতিক আবহে বাড়ল জল্পনা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, মঙ্গলবারই ২১ জুলাই। এই দিন রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ইডির এই অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি সম্পূর্ণ তদন্তের সূত্র ধরেই চালানো নিয়মিত অভিযান (ED Raid) এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

LinkedIn
Share