Tag: Enforcement Directorate

Enforcement Directorate

  • Nadimul Haque ED Raid: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের ৭ ঠিকানায় ইডি, তদন্তের কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন

    Nadimul Haque ED Raid: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের ৭ ঠিকানায় ইডি, তদন্তের কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার সকালেই কলকাতা থেকে দিল্লি, এমনকী রাঁচিতেও একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। অভিযানের কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক। ইডি সূত্রে খবর, বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত টাকা লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগানের অভিযোগের তদন্তেই এই অভিযান।

    কলকাতা, দিল্লি ও রাঁচিতে একযোগে অভিযান

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত মোট সাতটি ঠিকানায় এদিন তল্লাশি চালানো হয়। কলকাতার পার্ক সার্কাস, দিল্লির একাধিক ঠিকানা এবং রাঁচির একটি ঠিকানাও রয়েছে এই তালিকায়। তাঁর সঙ্গে যুক্ত উর্দু সংবাদপত্রের দফতর এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কাজকর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি জায়গাতেও ইডির আধিকারিকরা পৌঁছন।

    কলকাতায় পার্ক সার্কাসের ১২, দরগা রোডে অবস্থিত ‘আখবার-এ-মাশরিক প্রাইভেট লিমিটেড’-এর দফতরে সকালে ইডির একটি দল যায়। দফতরটি তালাবন্ধ থাকলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা সেখানে প্রবেশ করেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অফিসের বিভিন্ন নথি, আর্থিক কাগজপত্র এবং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়।

    সংবাদপত্রের আর্থিক লেনদেন নিয়ে নজর

    ইডি সূত্রের দাবি, ওই উর্দু সংবাদপত্রের দফতর থেকে একাধিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তার মধ্যে কিছু লেনদেনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর।

    কোন উৎস থেকে টাকা এসেছে, কার সঙ্গে কী উদ্দেশ্যে আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনের পক্ষে যথাযথ নথি রয়েছে কি না—মূলত এই বিষয়গুলিই তদন্তকারীদের নজরে বলে জানা গিয়েছে। বেনামি বা সন্দেহজনক উৎস থেকে কোনও বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    দিল্লিতেও নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি

    কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও তল্লাশি চালায় ইডি। রাজধানীর ৬১, সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নাদিমুল হকের একটি অফিস রয়েছে। ওই দফতর তৃণমূল কংগ্রেসের দিল্লিকেন্দ্রিক সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়। সোমবার সকাল থেকেই সেখানে ইডির আধিকারিকরা নথিপত্র পরীক্ষা করেন।

    এর পাশাপাশি দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদের সরকারি বাংলোতেও তদন্তকারীরা পৌঁছন বলে সূত্রের খবর। তাঁর বিভিন্ন দফতর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানা গিয়েছে।

    তল্লাশির সময় বেশ কিছু নথি এবং আর্থিক রেকর্ড পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, অভিযানের শেষে ঠিক কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও ইডির তরফে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বিধাননগর থানার মামলার সূত্রেই তদন্ত?

    ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতেই এই তদন্তের সূত্রপাত। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট একটি এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট বা ECIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর।

    অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগান। সেই সূত্র ধরে নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা ও সম্পত্তির আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

    ফের সক্রিয় ইডি, নজরে একাধিক আর্থিক মামলা

    সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক আর্থিক অনিয়ম এবং অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তে ফের সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারই মধ্যে নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় এই তল্লাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

    এর আগে রবিবার সকালে উত্তর কলকাতায় স্টক ট্রেডিং এবং মানি মার্কেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যবসায়ী পরিবারের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ওই অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে কলকাতা পুলিশের কর্মীরা ইডির আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ইডির পূর্বাঞ্চলীয় দফতরের একটি দল প্রথমে ফুলবাগান থানায় যায়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে তদন্তকারীরা ফুলবাগান থানার পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কাঁকুড়গাছির ‘শিবম’ ভবনে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন।

    ২৯০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলাতেও তল্লাশি

    অন্যদিকে, প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তেও গত ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল ইডি। অভিযোগ রয়েছে, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল।

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঋণের একটি অংশ নির্দিষ্ট প্রকল্পে ব্যবহার না করে অন্য গ্রুপ সংস্থা এবং ব্যক্তিগত কাজে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল

    নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত ঠিকানা, সংবাদপত্রের দফতর এবং তৃণমূলের রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যবহৃত অফিস—একাধিক জায়গা এই তদন্তের আওতায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংবাদপত্রের দফতর থেকে হওয়া আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

    তবে এখনও পর্যন্ত ইডির তল্লাশি থেকে কী কী তথ্য বা নথি পাওয়া গিয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে, তদন্তের ভিত্তিতে নাদিমুল হক বা অন্য কোনও ব্যক্তি কিংবা সংস্থার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ করা হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

    এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নাদিমুল হকও প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য দেননি। ফলে ইডির অভিযোগ, তল্লাশিতে পাওয়া তথ্য এবং তদন্তের পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • ED: বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে হাওলা-তদন্তে নয়া মোড়, বিরোধী দলনেতার পদ ছাড়ুন পিনারাই, দাবি বিজেপির

    ED: বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে হাওলা-তদন্তে নয়া মোড়, বিরোধী দলনেতার পদ ছাড়ুন পিনারাই, দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের মেয়ে বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত আরও জোরদার করেছে ইডি(ED)। তদন্তে হাতে লেখা খাতা ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিন নথি থেকে বিপুল পরিমাণ হিসাব-বহির্ভূত অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য হাওলা কারবারের সূত্র মিলেছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থার। একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (FEMA Violations)।

    বড় দাবি ইডির (ED)

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সম্প্রতি বাজেয়াপ্ত করা হাতে লেখা খাতা এবং বৈদ্যুতিন নথিতে দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি বৈধ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে একটি অভ্যন্তরীণ আর্থিক নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। নথিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে ৩ লাখ ৪৯ হাজার দিরহাম, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৫ লাখ টাকা, পাঠানোর উল্লেখ রয়েছে। এই অর্থের প্রকৃত উৎস কী এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় তা গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, বাজেয়াপ্ত নথিতে মোট ২০ কোটি ৫ লাখ টাকার দেশীয় আর্থিক লেনদেনের তথ্য রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, বীণার জানা ও বৈধ আয়ের উৎসের তুলনায় এই লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি। বীণার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতিতে একটি ইন্টারনেট সংযোগের যন্ত্র এবং ভুয়ো পরিচয়ে নথিভুক্ত একটি সিম কার্ডের ছবি পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হাওলা লেনদেনের সমন্বয় করতে অনুসরণ করা কঠিন এমন ইন্টারনেটভিত্তিক ফোনালাপের জন্য এগুলি ব্যবহার করা হতে পারে।

    সিম কার্ডের মালিকের পরিচয়

    তদন্তে ওই সিম কার্ডের মালিকের পরিচয়ও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ইডি। কার্ডটি কোঝিকোড়ের ডিওয়াইএফআই নেতা নন্দুলালের নামে নথিভুক্ত ছিল। নন্দুলালের দাবি, বীণা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মহম্মদ রিয়াসের অনুরোধেই তিনি সিমটি সংগ্রহ করেছিলেন। দু’জনের সঙ্গেই তাঁর পরিচয় রয়েছে বলে স্বীকার করলেও, সিম কার্ডটি ঠিক কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২৪ সাল থেকে বীণা ওই সিম কার্ড ব্যবহার করছিলেন। হাওলা লেনদেন সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্যই এটি ব্যবহার করা হতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তাঁদের মতে, সিমটি একটি বেতার ইন্টারনেট সংযোগের যন্ত্রে ঢুকিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফোন করা হত।

    বিদেশি মুদ্রা ও অর্থপাচার তদন্তের সূত্রপাত

    আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। মহম্মদ রিয়াস কেরলের পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালীন নন্দুলাল কোঝিকোড় জেলা পর্যটন উন্নয়ন পরিষদের গন্তব্য ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি নন্দুলালের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ডটি সংগ্রহের সময় ব্যবহার করা পরিচয়পত্রের প্রতিলিপি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। বীণার মালিকানাধীন এবং বর্তমানে বন্ধ তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শদাতা সংস্থা এক্সালজিক সলিউশন্সকে ঘিরে ওঠা একটি কর্পোরেট জালিয়াতির মামলাকে কেন্দ্র করেই মূলত এই বিদেশি মুদ্রা ও অর্থপাচার তদন্তের সূত্রপাত। গুরুতর জালিয়াতি তদন্ত দফতরের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ ওঠে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেডের কাছ থেকে এক্সালজিক সলিউশন্স প্রতি মাসে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা করে বেআইনি অর্থ পেয়েছিল। অভিযোগ, বিনিময়ে সংস্থাটি কোনও প্রকৃত পরিষেবা দেয়নি।

    বীণার পরিবারের দাবি

    বীণার হাতে লেখা নথিতে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের কয়েকজনকে লক্ষ্য করে কোঝিকোড়ে সাম্প্রতিক তল্লাশি চালানোর পর তদন্ত আরও বিস্তৃত করেছে ইডি। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন এবং বিদেশি মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও খবর। তদন্তের স্বার্থে বীণাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর (ED)। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই অভিযোগ ও তদন্তের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন সিপিআই(এম)-এর নেতারা এবং বীণার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে (FEMA Violations)। এদিকে বীণাকে ঘিরে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেডের অর্থপাচার তদন্তে ইডির নয়া তথ্য সামনে আসার পর পিনারাই বিজয়ন কেরল বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ থেকে ইস্তফা দিন – এমন দাবি তুলেছে বিজেপি।

    বিজেপির বক্তব্য

    পদ্ম শিবিরের রাজ্য সহ-সভাপতি শোন জর্জ বলেন, পিনারাই বিজয়নের উচিত তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো—এটাই দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। তাঁর দাবি, ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উম্মেন চান্ডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পিনারাই বিজয়ন যে ভাষায় তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন, তিনি সেই একই যুক্তি এবার বিজয়নের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করছেন। শোন জর্জ বলেন, “যদি তাঁর মধ্যে সামান্যও লজ্জাবোধ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে পিনারাই বিজয়নের উচিত অবিলম্বে বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনও লজ্জা অবশিষ্ট থাকে… যদি কোনও লজ্জা অবশিষ্ট থাকে (FEMA Violations), তাহলে পিনারাই বিজয়নের উচিত বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকা (ED)।”

     

  • ED Raid: বীরভূমে ইডির মেগা রেড, উদ্ধার ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা! তদন্তের কেন্দ্রে টুলু-ঘনিষ্ঠ মিনার

    ED Raid: বীরভূমে ইডির মেগা রেড, উদ্ধার ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা! তদন্তের কেন্দ্রে টুলু-ঘনিষ্ঠ মিনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমে (Birbhum) ফের কোটি কোটি টাকার গন্ধ। মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকায় বুধবার ভোররাত থেকে বড়সড় অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে পরিচিত মিনার মণ্ডলের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি (ED Raid)। আর সেই অভিযানে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, সোনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।

    ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা

    ইডি সূত্রের খবর, মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গোনার জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয় একাধিক টাকা গোনার মেশিন। উদ্ধার হওয়া নগদ, সোনা এবং নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করতে ব্যবহার করা হয় বড় লোহার ট্রাঙ্ক। দীর্ঘক্ষণ ধরে বাড়ির প্রতিটি অংশে তল্লাশি (ED Raid) চালান তদন্তকারীরা।

    সরকারি বাসচালক থেকে কোটি টাকার মালিক?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, মিনার মণ্ডল পেশায় সরকারি বাসের চালক ছিলেন। তাই তাঁর বাড়ি থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। তবে স্থানীয়দের দাবি তিনি দীর্ঘদিন ধরে টুলু মণ্ডলের পাথর খাদান, ক্রাশার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (ED)।

    ফের আলোচনায় টুলু মণ্ডল

    এই অভিযানের পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বীরভূমের (Birbhum) প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের নাম। এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত টুলু। জেলার পাথর খাদান, ক্রাশার ও বালি ব্যবসায় দীর্ঘদিন তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ। অতীতে বেআইনি পাথর খাদান, গরু পাচার-সহ একাধিক মামলায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও তাঁর বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশিও চালিয়েছিল। পরে একটি খুনের মামলায় টুলু মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    ইডির (ED) নজরে আর্থিক লেনদেন

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ, সোনা, সম্পত্তির নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই সম্পদের উৎস কী? তা বৈধ আয় থেকে এসেছে নাকি অন্য কোনও অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত? সেই বিষয়েই জোর দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট

    ঘটনায় সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন তিনি। পুলিশের অভিযানের প্রশংসার পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনেই এই অভিযান চলবে, বলেও সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    এখন নজর তদন্তের দিকে

    যদিও এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার সঙ্গে টুলু মণ্ডলের সরাসরি আইনি যোগ রয়েছে বলে ইডি (ED) আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে এই বিপুল সম্পদের উৎস, সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জোরকদমে চলছে। বীরভূমের এই মেগা রেডে আগামী দিনে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-তে (NTA) বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং (Young Professionals) নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংস্থার ৪৭ জন আধিকারিক ও কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ফরেনসিক তদন্ত, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা এবং মূল্যায়ন গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নেতৃত্ব গড়ে তুলে সংস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর কাজও শুরু হয়েছে। শুক্রবার সরকারি সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে।

    বরখাস্ত বহু আধিকারিক (NTA)

    এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। ওই ঘটনার জেরে ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করতে হয়, এবং প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে ২১ জুন ফের পরীক্ষায় বসতে হয়। ঘটনার পর থেকেই এনটিএর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সরকারি সূত্রের খবর, যাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁদের শুধু অন্যত্র বদলি করা হয়নি বা দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি, সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম, পদমর্যাদা বা নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তও চলবে। জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থতার জন্য কার কী দায় ছিল, তা চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। আগামী দিনে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    তৈরি হচ্ছে নয়া কাঠামো

    এনটিএর পুনর্গঠনের প্রথম পর্যায়ে চারজন জেনারেল ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে ১৬ জন তরুণ পেশাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে কে রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি। শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। নতুন জেনারেল ম্যানেজারদের তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে এবং তাঁরা সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনা করবেন (Young Professionals)। নতুন কাঠামোয় মূল্যায়ন ও মনস্তাত্ত্বিক পরিমাপ সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান প্রশ্নভাণ্ডার তৈরি, নম্বরের সামঞ্জস্য নির্ধারণ, প্রশ্নপত্রের মান নির্ধারণ, কম্পিউটারভিত্তিক অভিযোজিত পরীক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা বিভাগের প্রধান দেশের পাঁচশোরও বেশি শহর এবং বিদেশের নির্বাচিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দেখবেন। পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন, অনুমোদন, পরিকাঠামো, পরীক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, পরীক্ষার দিন পরিচালনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে (NTA)।

    সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক

    তথ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক হিসেবে কাজ করবেন। সংস্থার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, পরীক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিধি মেনে চলার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে কম্পিউটার জরুরি প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত জাতীয় সংস্থার নির্দেশিকাও কার্যকর করার দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে। এছাড়া সতর্কতা, তদন্ত এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রধান পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন। সংস্থার নিজস্ব ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, গোয়েন্দা ব্যুরো, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এবং সাইবার অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত পরিচালনা করবেন। সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় রোধে প্রণীত ২০২৪ সালের আইনের আওতায় এই তদন্তগুলি পরিচালিত হবে (Young Professionals)। ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে যে তরুণদের নিয়োগ করা হবে, তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান পাননি। এই পোর্টালের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ঘটানো হয় (NTA)।

    পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তন

    মোট ১৬টি পদের মধ্যে ১২টি থাকবে অ্যাকাডেমিক গবেষণায়, দু’টি আইনি গবেষণায় এবং দু’টি অর্থ ও হিসাব বিভাগে। প্রথমে ২৪ মাসের জন্য নিয়োগ করা হবে। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ৩৬ মাস পর্যন্ত করা যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, অস্থায়ী কর্মীর ওপর এনটিএর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে সংস্থায় স্থায়ী পদের সংখ্যা ৩৯। এর মধ্যে মাত্র ২৪টি পদ পূরণ হয়েছে। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ৭৩ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা ১২৪। এই ভারসাম্য বদলাতে চায় কেন্দ্র। রাধাকৃষ্ণণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মোট ১০টি কার্যকরী বিভাগে আগামী দিনে আরও নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং অনুবাদকদেরও নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে (NTA)। পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে নিট-ইউজি আর ওএমআর শিটে হবে না। পরিবর্তে সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর ফলে যৌথ প্রবেশিকা (মেইন) এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার ধাঁচের সঙ্গে নিট-ইউজির সামঞ্জস্য তৈরি হবে (Young Professionals)।

    সংরক্ষিত থাকবে ডিজিটাল রেকর্ড

    সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রশ্নপত্রের হার্ড কপি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। একাধিক প্রশ্নসেট ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং প্রতিটি ধাপের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। তবে এজন্য নিরাপদ পরীক্ষা কেন্দ্র, আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের নথিভুক্তিকরণ, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা, প্রযুক্তিগত পরিষেবা এবং গোপনীয় নথি সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং ব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনা করছে কেন্দ্র। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। নিরীক্ষা ও পটভূমি যাচাই আরও কঠোর করা হবে। সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ব্যর্থতা ধরা পড়লে আরও কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা হবে (NTA)।

     

  • ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই  রাজ্যে বড়সড় অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। মঙ্গলবার সকালে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-সহ মোট ৮টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ (Government Scheme Scam) করা হয়েছে। সেই মামলার তদন্তেই এই অভিযান। ইডি সূত্রের খবর, দীর্ঘদিনের তদন্তে পাওয়া একাধিক তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই এদিনের তল্লাশি অভিযান।

    কেন ইডি অভিযান (ED Raid)?

    একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি প্রকল্পে দ্রুত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলত (Government Scheme Scam)। ইডির প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ- বেশি টাকা দিলে দ্রুত ও বেশি সুবিধা মিলবে বলেও প্রলোভন দেখানো হত। এইভাবে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে ইডি। সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে? কোথায় গিয়েছে? তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ১৬৪ কোটি টাকার প্রতারণা!

    তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে টাকা তোলা হয়েছে। প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ। প্রায় ১৯ হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি। মোটা অঙ্কের সুদের লোভ দেখিয়েও বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। একটি এফইআরের ভিত্তিতেই এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। পরে কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সামনে আসায় অর্থ পাচারের দিকটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে ইডি (ED Raid)।

    কারা তদন্তের নজরে?

    তদন্তে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বনগাঁর দুই বাসিন্দা অভিজিৎ ও রাহুল। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে- অভিজিৎ গত মাসেই কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরু গিয়েছেন। রাহুলের খোঁজ এখনও মেলেনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত? তাও জানার চেষ্টা চলছে।

    রাজনৈতিক আবহে বাড়ল জল্পনা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, মঙ্গলবারই ২১ জুলাই। এই দিন রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ইডির এই অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি সম্পূর্ণ তদন্তের সূত্র ধরেই চালানো নিয়মিত অভিযান (ED Raid) এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

  • High Court: হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! আপাতত ফ্রিজই থাকবে তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

    High Court: হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! আপাতত ফ্রিজই থাকবে তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে (High Court) বড় ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল শিবির। ইডির ফ্রিজ করা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু সোমবার সেই আবেদন খারিজ করে দিল বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ইডির সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। ফলে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account) আপাতত ফ্রিজ অবস্থাতেই থাকবে।

    ৪৪০ কোটি টাকার তিন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

    ইডি (ED) তৃণমূলের যে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account) ফ্রিজ করেছে, ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। এই অর্থ দলীয় সাংগঠনিক কাজ এবং দৈনন্দিন খরচে ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে আদালতের (High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট শিবির। পাশাপাশি, ইডির সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আবেদনও জানানো হয়। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।

    আগের নির্দেশই বহাল

    ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলির অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশ মেনেই চলতে হবে। ইডির সিদ্ধান্তে এই মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

    স্পেশ্যাল অফিসারের তত্ত্বাবধানে চলবে অ্যাকাউন্ট

    এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। আদালত একজন স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করে জানায়, তাঁর তত্ত্বাবধানেই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালিত হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যে কোনও দু’জনের স্বাক্ষর করা চেকে স্পেশ্যাল অফিসারের পাল্টা স্বাক্ষর থাকলেই ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ তোলা যাবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেশ্যাল অফিসার অ্যাকাউন্টগুলির দায়িত্বে থাকবেন।

    ভেঙে খান-খান তৃণমূল

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে। দলের একাধিক বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনাস্থা জানিয়ে পৃথক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। আলাদা হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূল। পাশাপাশি, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদও এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ায় দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং নির্বাচনী প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে বিরোধ আরও প্রকট হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং সংগঠন নিয়ে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই এই মামলার শুনানি ঘিরে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। সোমবারের নির্দেশে স্পষ্ট, আপাতত ইডির ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে নতুন কোনও নির্দেশ আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

  • Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি দখল, আর্থিক তছরূপ এবং বেআইনি নির্মাণ ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রায় ১০০ পাতার এই অভিযোগপত্র শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের ইডির বিশেষ আদালতে জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত ১৮ মে গ্রেফতারের প্রায় দুই মাসের মধ্যেই এই চার্জশিট দাখিল করা হল।

    ইডির অভিযোগ, সোনা পাপ্পু দীর্ঘদিন ধরে কসবা ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে প্রবীণ ও অসহায় জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি কিনে নিত। পরে সেই জমিতে বেআইনি নির্মাণ করে বিপুল আর্থিক লাভ করা হতো। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, এই পুরো চক্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং মাসল পাওয়ার ব্যবহার ছিল নিয়মিত কৌশল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সোনা পাপ্পু। এই মামলায় প্রায় ২০০ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

    চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই চক্র পরিচালনায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের মদত ছিল। তদন্তে সোনা পাপ্পু, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং অপর অভিযুক্ত জয় কামদারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে বলে ইডি জানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, জয় কামদারের সহযোগিতায় সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে অস্ত্রের লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয় এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হয়েছিল। পরে ইডির তল্লাশিতে সেই পিস্তল উদ্ধার হয়। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, অস্ত্র কেনার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই রবীন্দ্র সরোবরের কাকুলিয়া রোড এলাকায় সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই সোনা পাপ্পু আত্মগোপনে চলে যায়।

    ইডির অভিযোগ, পলাতক থাকার সময় একাধিকবার তলব করা হলেও সোনা পাপ্পু তদন্তে সহযোগিতা করেননি। পরে তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় তদন্তকারী সংস্থা। চলতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রায় ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জেরার সময় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার চেষ্টারও অভিযোগ ওঠে। এরপরই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

    ইডির দাবি, জমি দখল, প্রতারণা, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চলছিল। তদন্ত এখনও চলছে। ইতিমধ্যেই সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত প্রতারণা-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলার তদন্তও চলছে।

  • Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির (Nirav Modi) ভারতে প্রত্যর্পণের (Extradition) পথ কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে করা তাঁর শেষ আইনি আবেদনও খারিজ হয়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাঁকে ভারতে পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা নেই বলেই কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

    শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল নীরবের (Nirav Modi)

    প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নীরব মোদি তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ঠেকাতে যে সব আইনি সুযোগ ছিল, তার সবকটিই ব্যবহার করেছেন। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বহুল আলোচিত মামলায় ভারতের জন্য বড় সাফল্য এল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের দ্বারস্থ হন নীরব। ব্রিটেনের আদালতগুলিতে সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই তিনি এই আবেদন করেছিলেন। এর আগে ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট আদালত ভারতের কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তার জেরে প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সূত্রের দাবি, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে নীরবের আবেদনটি গোপনীয়তার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, বিচারাধীন অবস্থায় এই ধরনের মামলার কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আদালত তাঁকে কোনও ধরনের (Extradition) অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত স্বস্তি দেয়নি। তাই প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে তাঁর শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল।

    পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা

    এর আগে ব্রিটেনের উচ্চ আদালত নীরবকে (Nirav Modi) প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করার অনুমতি দেয়নি। আদালত জানায়, ভারত সরকার যে কারাগারের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মানবিক ব্যবহারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে, তা যথেষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য। সেই কারণে প্রত্যর্পণ স্থগিত রাখার কোনও ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি। বর্তমানে নীরব লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি সেখানে রয়েছেন বিচারাধীন বন্দি হিসেবে। সিবিআই এবং প্রয়োগ অধিদফতর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। বহু হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছে ভারতীয় একাধিক তদন্তকারী সংস্থা। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আইনি জটিলতা কাটায় এখন ব্রিটেনের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই নীরবকে ভারতে পাঠানো হতে পারে। প্রত্যর্পণের দিনক্ষণ যে কোনও সময় চূড়ান্ত হতে পারে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

    ব্রিটেনের হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    চলতি বছরের মার্চ মাসেও নীরব নতুন করে প্রত্যর্পণ মামলার শুনানি শুরু করার আবেদন জানিয়েছিলেন। লন্ডনের হাইকোর্টের কিংস বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে (Nirav Modi) দেয়। তাঁর আইনজীবীরা সঞ্জয় ভান্ডারি মামলার একটি রায়কে ভিত্তি করে নতুন করে শুনানির দাবি (Extradition) তুলেছিলেন। সঞ্জয় ভান্ডারি মামলায় ব্রিটেনের আদালত মানবিক কারণে প্রত্যর্পণ নাকচ করেছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ভারতে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর ওপর নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে। নীরবও একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, নীরবের পরিস্থিতি ওই মামলার সঙ্গে তুলনীয় নয়, এবং তাঁর আশঙ্কার পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণও নেই। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, নীরবের আবেদন কোনও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় না। তাই প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত পুরনো মামলাটি ফের খোলার কোনও যৌক্তিকতা নেই। সেই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতেও স্বস্তি না পাওয়ায় নীরবের সামনে আর কোনও কার্যকর আইনি পথ খোলা রইল না। তাই বহু (Extradition) প্রতীক্ষিত এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে (Nirav Modi) পৌঁছে গিয়েছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

     

  • ED: আরজি করকাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য সরকারি অনুমোদন পেল ইডি

    ED: আরজি করকাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য সরকারি অনুমোদন পেল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (RG Kar Case) আর্থিক দুর্নীতির মামলায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে বড় অগ্রগতি হল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষমেশ তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পেল ইডি (ED)। বুধবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে তারা জানায়, রাজ্য সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৭ জুলাই।

    মিলল সরকারের অনুমোদন 

    এর আগে ইডি এই মামলায় সন্দীপকে গ্রেফতার করেছিল। প্রথম চার্জশিটে তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে তিনি সরকারি দায়িত্বে থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক ছিল। সেই কারণে এত দিন বিচারপ্রক্রিয়া এগোতে পারেনি। স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদন হাতে আসায় এবার মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথ হল চওড়া।তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়া চার্জশিটে সন্দীপ ছাড়াও দুই ব্যবসায়ী বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরার নাম রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এই দুই ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় এটিই ইডির (ED) প্রথম চার্জশিট। এর আগে এই একই মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছিল সিবিআই-ও।

    প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ!

    ইডির অভিযোগ, হাসপাতালের অ্যাকাউন্ট থেকে ঠিকাদারদের কাছে পাঠানো বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিকল্পিতভাবে অন্যত্র সরিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে চেক ইস্যু করা হয়েছিল। সেই অর্থ নগদে তোলা বা বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর করে পরে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। ইডির বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত উৎস এবং সেই অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা আড়াল করার চেষ্টাও করা হয়েছিল। এই আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় সন্দীপের বড় ভূমিকা রয়েছে (RG Kar Case) বলে দাবি ইডির। সরকারি অনুমোদন মেলায় এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া আরও (ED) দ্রুত গতিতে এগোবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

LinkedIn
Share