Tag: Everest base camp

Everest base camp

  • Mount Everest: এভারেস্টে বরফ গলছে প্রস্রাবের তাপেও, বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর

    Mount Everest: এভারেস্টে বরফ গলছে প্রস্রাবের তাপেও, বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ এভারেস্টে প্রতি বছর পর্বতারোহীদের আনাগোনার সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশের উপর চাপ। নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, পর্বতারোহীদের প্রস্রাব থেকেও উৎপন্ন তাপ খুম্বু হিমবাহের বরফ গলনে ভূমিকা রাখছে (Mount Everest)। তবে মানুষের তৈরি তাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর।

    এভারেস্টের (Human Urine) মূল শিবির খুম্বু হিমবাহের উপরেই গড়ে ওঠে। প্রতি বছর সেখানে প্রায় ১,৬০০টি তাঁবু ফেলা হয়। রান্নাঘর, স্নানের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, তারবিহীন ইন্টারনেট এবং কিছু ক্ষেত্রে মেঝে গরম রাখার ব্যবস্থাও থাকে। এসব থেকে উৎপন্ন তাপ হিমবাহের উপরিভাগ ও মাটির তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

    নেপাল ও আমেরিকার একদল বিজ্ঞানীর গবেষণা আঞ্চলিক পরিবেশ পরিবর্তন বিষয়ক গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি এভারেস্টে মানুষের সরাসরি কর্মকাণ্ডও হিমবাহ গলনের গতি বাড়াচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

    নেপালে গত ২৬ অগাস্ট হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ১,২০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ওই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে হিমবাহ-উৎসারিত হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে দায়ী করা হয়।

    প্রস্রাবের তাপেও গলছে বরফ (Mount Everest)

    উচ্চতার কারণে এভারেস্টে ওঠা পর্বতারোহীদের বেশি পরিমাণে জল পান করতে হয়। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণও বাড়ে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পর্বতারোহণের মরশুমে প্রতিদিন প্রায় ৬,৭৬৬ লিটার প্রস্রাব জমা হয়েছিল।

    গবেষক খিম লাল গৌতম ও তাঁর সহকর্মীদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ প্রস্রাব শরীর থেকে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বের হয়। ফলে এতে থাকা তাপের একটি অংশ আশপাশের বরফ গলতে সাহায্য করে।

    গবেষণায় হিসাব করে দেখা গিয়েছে, ওই তাপ সম্পূর্ণভাবে বরফে পৌঁছলে সংশ্লিষ্ট পর্বতারোহণ মরশুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলতে পারত। তবে বাস্তবে তাপের পুরোটা বরফে পৌঁছয় না। এর একটি বড় অংশ বাতাস ও আশপাশের পাথরে ছড়িয়ে যায়।

    সবচেয়ে বড় কারণ জ্বালানি পোড়ানো

    তবে গবেষকদের মতে, এভারেস্টের বরফ গলার ক্ষেত্রে প্রস্রাব সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। মূল সমস্যা হল মূল শিবিরকে ঘিরে বিপুল জ্বালানির ব্যবহার।

    ২০২৩ সালের মরশুমে রান্না, উত্তাপ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সেখানে প্রায় ৮২৪টি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডার, ১৮,৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫,১৩০ লিটার পেট্রোল ব্যবহার করা হয়। মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে সৃষ্ট বরফ গলার প্রায় ৯৪ শতাংশের জন্য এই জ্বালানি ব্যবহারকে দায়ী করা হয়েছে। প্রস্রাবের কারণে গলার অংশ মাত্র প্রায় ৬ শতাংশ (Mount Everest)।

    দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়

    বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় হিমালয় দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর হিমবাহের বরফ ক্ষয়ের হার তার আগের সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    গবেষকদের আরও দাবি, খুম্বু হিমবাহের অন্যান্য অংশের তুলনায় মূল শিবির এলাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সেখানে প্রতি বছর তাপমাত্রা প্রায় ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    সরিয়ে নেওয়া হতে পারে এভারেস্টের মূল শিবির

    গবেষক দলটি বর্তমান মূল শিবির অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে। এ জন্য বর্তমান শিবিরের দক্ষিণ-পশ্চিমে দুটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

    তবে শিবির সরিয়ে নিলেও নতুন জায়গায় নানা ধরনের ব্যবস্থাপনা ও পরিবহনগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নতুন এলাকাতেও মানুষের কর্মকাণ্ড পরিবেশের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    গবেষকদের পরামর্শ, হিমবাহ রক্ষায় আরও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে এবং সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে (Human Urine)। প্রয়োজনে মূল শিবিরের কিছু অংশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে তৈরি অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সমস্যার আরও অবনতি হতে পারে (Mount Everest)।

     

  • Everest Base Camp: বিশ্ব উষ্ণায়নে গলছে হিমবাহ, জায়গা বদল হচ্ছে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের?

    Everest Base Camp: বিশ্ব উষ্ণায়নে গলছে হিমবাহ, জায়গা বদল হচ্ছে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এভারেস্টের বেস ক্যাম্প (Everest base camp) সরিয়ে নিচ্ছে নেপাল (Nepal)। ২০২৪ সাল নাগাদ বেস ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে নেপাল প্রশাসন। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং মানুষের যাতায়াত বেড়ে যাওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে।  

    এই মুহূর্তে বেস ক্যাম্পটি রয়েছে খুম্বু হিমবাহের (Khumbu Glacier) ওপরে। বসন্তকালে এই অঞ্চলে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্বতারোহীরা। তখন তাঁরা এই বেস ক্যাম্পটিই ব্যবহার করে থাকেন। এবছর প্রায় দেড় হাজার মানুষ এই বেস ক্যাম্পটি ব্যবহার করেছেন। নেপালের পর্যটন দফতরের মুখ্য আধিকারিক তারানাথ অধিকারী সংবাদমাধ্যমকে জানান, তুলনামূলক কম উচ্চতায় একটি নতুন স্থান বেছে নেওয়া হবে। যেখানে সারা বছর বরফ থাকে না। বর্তমান বেস ক্যাম্পটি পাঁচ হাজার ৩৬৪ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। উষ্ণায়নের ফলে ক্রমাগত বরফ গলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হিমবাহটি। 

    আরও পড়ুন: খোঁজ মিলল নেপালের দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের, ১৪টি ঝলসে যাওয়া দেহ উদ্ধার

    পর্বতারোহীদের অভিযোগ, ক্যাম্পে ঘুমানোর সময়ও তুষারধসের আতঙ্ক তাঁদের তাড়া করে বেড়ায়। তারানাথ এবিষয়ে বলেন, বেস ক্যাম্পের জন্য বাছাই করা নতুন জায়গাটি বর্তমান ক্যাম্প থেকে ২০০ থেকে ৪০০ মিটার নীচে। সারা বছর সেখানে তুষারপাতও হয় না। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে বেস ক্যাম্প স্থানান্তরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং পরামর্শ করা হচ্ছে।

    এর আগে ২০১৮ সালে লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছিলেন, খুম্বু হিমবাহে প্রতিবছর ৯৫ লক্ষ কিউবিক মিটার জল কমছে। আধিকারিক বলেন, “দেশের পর্বতারোহণের ব্যবসা এবং পর্বতারোহীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত।”  

    আরও পড়ুন: কাঠমান্ডুর নাইটক্লাবে রাহুল গান্ধীর ভিডিও ভাইরাল, নিন্দায় সরব বিজেপি

    ১৯৫৩ সালে তেনজিং নোরগে, এডমন্ড হিলারিদের সময় বেস ক্যাম্প যেখানে ছিল তার থেকে বর্তমানের বেস ক্যাম্পটি ৫০ মিটার নীচে। লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর বেস ক্যাম্প অঞ্চলের বরফ প্রতিবছর ১ মিটার করে পাতলা হচ্ছে। আর তাতেই চিন্তিত নেপাল প্রশাসন। পর্বতারোহীদের জন্যে বর্তমানের বেস ক্যাম্পটিকে আর নিরাপদ মনে করছে না তারা।    

    তারানাথ অধিকারী বলেন, “বরফ গললে তার ওপরে থাকা বড় বড় বোল্ডার এবং পাথর নিচে গড়িয়ে পড়ে। আর সেটাই সব থেকে ভয়ের। জলের পরিমাণও প্রচুর বৃদ্ধি পায়।”

     

LinkedIn
Share