Tag: Extradition

Extradition

  • Sheikh Hasina: মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন হাসিনা, জানালেন আদালতে আত্মসমর্পণের কথাও

    Sheikh Hasina: মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন হাসিনা, জানালেন আদালতে আত্মসমর্পণের কথাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরছেন পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। তাঁর সঙ্গেই স্বদেশে (Bangladesh) ফিরবেন নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। বর্তমানে ভারতে রয়েছেন হাসিনা। তিনি জানান, ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও, বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা।সংবাদসংস্থাকে দেওয়া ঘণ্টাখানেকের টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে আশি ছুঁইছুঁই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন, “আমি দেশে ফিরব। আমায় গ্রেফতার করা হতে পারে। হত্যা করা হলেও, আমি ফিরব।”

    ‘যদি মৃত্যুই আসে…'(Sheikh Hasina)

    তিনি বলেন, “আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চলছে। যদি মৃত্যুই আসে, তবে আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন এবং যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।” এটাই প্রথমবার, যখন হাসিনা প্রকাশ্যে দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমা জানালেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, আওয়ামি লিগের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাও তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। হাসিনার পাশাপাশি এঁকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের জেরে টানা কয়েক সপ্তাহের হিংসাত্মক বিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশ (Bangladesh) ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। সেনাপ্রধানের পরামর্শেই নিরাপত্তার স্বার্থে দেশ ছাড়েন বলে সেই সময় জানা গিয়েছিল। এরপর থেকে হাসিনা রয়েছেন ভারতেই।

    মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হাসিনা

    গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁর ভূমিকার অভিযোগে দেশে না থাকা অবস্থায়ও হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। যদিও প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন পড়শি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (Sheikh Hasina)। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার বারবার হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, “ঢাকার কর্তৃপক্ষ আমাকে ফেরাতে ভারতের কাছে বারবার চিঠি পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজেই দেশে ফিরব।” তিনি জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে কোনও বিদেশি সরকারের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেননি। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক অধিকার কোনও গোপন আলোচনার বিষয় নয়। তাই এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।’’ ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এর আগে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আবেদন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি ঢাকার সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

    রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা

    তাঁর বিরুদ্ধে (Sheikh Hasina) দায়ের হওয়া মামলাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে হাসিনা বলেন, “আমি বিচারব্যবস্থার ওপর (Bangladesh) বিশ্বাস রাখি। আদালতে মামলা শুরু হলে মানুষ বুঝতে পারবেন এই বিচার কতটা প্রহসনের।” তিনি বলেন,  ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা এবং কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশই আত্মগোপন করে রয়েছেন। তাই আমি বলেছি, এ বার আমি ঘরে ফিরছি। এক দিন আপনাদের সকলকেই ফিরতে হবে। আমরা সকলে একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব। বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে আদালতের প্রহসনমূলক চরিত্র প্রকাশিত হয়ে যাবে। আমি সেটাই চাই।’’ মহম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিষেধাজ্ঞার জেরে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামি লিগ। হাসিনা চান, তাঁর দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করুক বাংলাদেশের জনগণ। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা এবং কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশই আত্মগোপন করে রয়েছেন।

    কারাবাসের ভয় নেই

    তিনি জানান (Sheikh Hasina), কারাবাসের ভয় তাঁর নেই। অতীতেও একাধিকবার তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালে, সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। অবশ্য তাঁর কারাবাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো হাসিনা। হাসিনা এও জানান, নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও আওয়ামি লিগকে পুনর্গঠন করতে তিনি অনলাইনে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছেন। তিনি মনে করেন, আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত নয়।

    আত্মসমালোচনা হাসিনার

    দীর্ঘ ২০ বছরের রাজপাট নিয়ে আত্মসমালোচনাও করেন হাসিনা। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতেই পারে। কোনও সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দের বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি (Sheikh Hasina)।” আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে। হাসিনা ভারত ছেড়ে নিজের দেশে না ফেরায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপড়েন চলছিল। চলতি বছরেই তিনি যে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফিরবেন, তা আগেই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী। তবে এ বার নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, ডিসেম্বরেই তিনি ফিরছেন বাংলাদেশে (Sheikh Hasina)।

     

  • Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির (Nirav Modi) ভারতে প্রত্যর্পণের (Extradition) পথ কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে করা তাঁর শেষ আইনি আবেদনও খারিজ হয়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাঁকে ভারতে পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা নেই বলেই কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

    শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল নীরবের (Nirav Modi)

    প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নীরব মোদি তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ঠেকাতে যে সব আইনি সুযোগ ছিল, তার সবকটিই ব্যবহার করেছেন। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বহুল আলোচিত মামলায় ভারতের জন্য বড় সাফল্য এল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের দ্বারস্থ হন নীরব। ব্রিটেনের আদালতগুলিতে সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই তিনি এই আবেদন করেছিলেন। এর আগে ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট আদালত ভারতের কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তার জেরে প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সূত্রের দাবি, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে নীরবের আবেদনটি গোপনীয়তার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, বিচারাধীন অবস্থায় এই ধরনের মামলার কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আদালত তাঁকে কোনও ধরনের (Extradition) অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত স্বস্তি দেয়নি। তাই প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে তাঁর শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল।

    পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা

    এর আগে ব্রিটেনের উচ্চ আদালত নীরবকে (Nirav Modi) প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করার অনুমতি দেয়নি। আদালত জানায়, ভারত সরকার যে কারাগারের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মানবিক ব্যবহারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে, তা যথেষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য। সেই কারণে প্রত্যর্পণ স্থগিত রাখার কোনও ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি। বর্তমানে নীরব লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি সেখানে রয়েছেন বিচারাধীন বন্দি হিসেবে। সিবিআই এবং প্রয়োগ অধিদফতর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। বহু হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছে ভারতীয় একাধিক তদন্তকারী সংস্থা। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আইনি জটিলতা কাটায় এখন ব্রিটেনের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই নীরবকে ভারতে পাঠানো হতে পারে। প্রত্যর্পণের দিনক্ষণ যে কোনও সময় চূড়ান্ত হতে পারে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

    ব্রিটেনের হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    চলতি বছরের মার্চ মাসেও নীরব নতুন করে প্রত্যর্পণ মামলার শুনানি শুরু করার আবেদন জানিয়েছিলেন। লন্ডনের হাইকোর্টের কিংস বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে (Nirav Modi) দেয়। তাঁর আইনজীবীরা সঞ্জয় ভান্ডারি মামলার একটি রায়কে ভিত্তি করে নতুন করে শুনানির দাবি (Extradition) তুলেছিলেন। সঞ্জয় ভান্ডারি মামলায় ব্রিটেনের আদালত মানবিক কারণে প্রত্যর্পণ নাকচ করেছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ভারতে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর ওপর নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে। নীরবও একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, নীরবের পরিস্থিতি ওই মামলার সঙ্গে তুলনীয় নয়, এবং তাঁর আশঙ্কার পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণও নেই। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, নীরবের আবেদন কোনও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় না। তাই প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত পুরনো মামলাটি ফের খোলার কোনও যৌক্তিকতা নেই। সেই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতেও স্বস্তি না পাওয়ায় নীরবের সামনে আর কোনও কার্যকর আইনি পথ খোলা রইল না। তাই বহু (Extradition) প্রতীক্ষিত এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে (Nirav Modi) পৌঁছে গিয়েছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

     

  • Canada: কার্নির ভারত সফরের আগে ২৬/১১ হামলার মূলচক্রী তাহাউর রানার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তুতি কানাডার

    Canada: কার্নির ভারত সফরের আগে ২৬/১১ হামলার মূলচক্রী তাহাউর রানার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তুতি কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৬/১১ মুম্বই জঙ্গি হামলার মূলচক্রী তাহাউর রানার (Tahawwur Rana) নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা (Canada)। কয়েক দিনের মধ্যেই ভারত সফরে আসার কথা কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির। তাঁর সেই সফরের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে কানাডা তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের তোড়জোড় করছে। বর্তমানে ভারতে বন্দি রয়েছেন রানা। কানাডা সরকারের এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোও হয়েছে তাঁকে। বছর চৌষট্টির রানা জন্মেছিলেন পাকিস্তানে। পরে কানাডীয় নাগরিকত্ব নেন। ২০০৮ সালের মুম্বই জঙ্গি হামলার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রী ডেভিড কোলম্যান হেডলি ওরফে দাউদ গিলানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী। হেডলি মার্কিন নাগরিক।

    রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ (Canada)

    গ্লোবাল নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ রানার বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগ এনেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০০১ সালে কানাডীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় রানা তাঁর বসবাস ও ভ্রমণ সংক্রান্ত ভুয়ো তথ্য দিয়েছিলেন। রানা দাবি করেছিলেন যে, তিনি আগের চার বছর অটোয়া ও টরন্টোয় বসবাস করেছেন—যা অভিবাসন কর্তাদের মতে অসত্য। তিনি আরও জানান যে, তিনি কানাডার বাইরে মাত্র ছ’দিন ছিলেন, অথচ জানা গিয়েছে, তিনি শিকাগোয় বসবাস করছিলেন। সেখানে সম্পত্তিও রয়েছে তাঁর (Canada)। অভিবাসন বিভাগ কথিত জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের বিষয়ে একটি বিশদ প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। এখন আদালতের হাতেই রানার কানাডীয় নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে। বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন (Tahawwur Rana) হলে রানা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাগরিকত্ব হারাবেন বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    রানা বর্তমানে তিহার জেলে

    চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পর পাক-বংশোদ্ভূত কানাডীয় ব্যবসায়ী রানা বর্তমানে তিহার জেলে আটক রয়েছেন, যেখানে তদন্তকারীরা তাঁকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ১০ এপ্রিল তাঁকে আমেরিকা থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়। এর আগে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করলে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে রানা সব ধরনের আইনি সুযোগ ব্যবহার করেছিলেন, যার ফলে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়। সব আইনি পথ শেষ হলে তাঁকে ভারতে পাঠানো হয় এবং বিচার বিভাগীয় হেফাজতে নেওয়া হয় (Canada)।

    তদন্তকারীরা মামলার তদন্তে সংগৃহীত বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখছেন, যার মধ্যে রানা ও সহ-অভিযুক্ত ডেভিড কোলম্যান হেডলি ওরফে দাউদ গিলানির মধ্যে হওয়া বহু টেলিফোন কথোপকথনের প্রমাণও রয়েছে। হেডলি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাজা ভোগ করছেন (Tahawwur Rana)। রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হেডলি, লস্কর-ই-তৈবা, হরকত-উল-জিহাদি ইসলামি-সহ পাকিস্তানভিত্তিক অন্য সন্দেহভাজনদের সঙ্গে মিলে মুম্বইয়ে প্রাণঘাতী হামলার (Canada) পরিকল্পনা করেছিলেন।

     

  • BNP: হাসিনা-ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা হবে না, সরকার গঠনের আগে জানাল বিএনপি

    BNP: হাসিনা-ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা হবে না, সরকার গঠনের আগে জানাল বিএনপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের দেশান্তরিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে তারা ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ক থেকে আলাদা রাখবে। যদিও তারা নয়াদিল্লির কাছে অপসারিত প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তরের জন্য চাপও অব্যাহত রাখবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের জায়গায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন বিএনপির নেতা তারেক রহমান। ঢাকার গুলশন এলাকায় দলের কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুর মধ্যেই কেন্দ্রীভূত করা উচিত নয়।”

    বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্য (BNP)

    তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার জন্য জনমত রয়েছে এবং আমরা মনে করি ভারত তাঁকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা উচিত। কিন্তু হাসিনাকে বাংলাদেশে না পাঠালেও বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক-সহ বৃহত্তর সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে তা অন্তরায় হবে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।” আজ, মঙ্গলবারই পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২০২৪ সালের অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ও আওয়ামি লিগের অন্য প্রবীণ নেতাদের হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বারবার ভারতের কাছে আহ্বান জানিয়েছে। গত সতেরো মাসে ভারত এসব অনুরোধের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আলমগির বলেন, “অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও আমলাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।” তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।”

    কিছু অমীমাংসিত উত্তেজনা রয়েছে

    তিনি স্বীকার করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছু অমীমাংসিত উত্তেজনা রয়েছে। ফারাক্কা সংক্রান্ত গঙ্গা জল চুক্তির নবায়ন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের উদ্বেগ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আলমগির বলেন, “আগামী বছরের আগেই গঙ্গা চুক্তির নবায়নের সময় ফরাক্কার জলের বিষয়টি উঠবে, তারপর রয়েছে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রশ্ন—এসব বিষয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে।” মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে। যাঁরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলেন, তাঁরা উন্মাদের মতো কথা বলেন।” তুলনা টেনে তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একে অপরকে সহযোগিতা করে।” এর পরেই তিনি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।”

    অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমালোচনা

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলমগিরও দেশে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন। সরকার গঠনের আগে  তিনি জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, “২০২৪ সালে অভ্যুত্থানের পর তারা জাতীয় সমঝোতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। অভ্যুত্থানের নেতারাই অধ্যাপক ইউনূসকে বেছে নিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের নেতারা তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী প্রধান (ইউনূস) তার বাইরে যেতে পারেননি।” আলমগির বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, ব্যবসা, ডিজিটাল পরিকাঠামো ও কারিগরি শিক্ষায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “কারিগরি শিক্ষায় ভারতের সম্পদ রয়েছে এবং আমাদের বিপুল সংখ্যক বেকার তরুণ আছে। সক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের সাহায্য করতে হবে, যাতে তারা উপসাগরীয় দেশে চাকরি পেতে পারে।” তিনি এও বলেন, “আওয়ামি লিগ সরকারের নেওয়া বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি বিএনপি সরকার পুনর্মূল্যায়ন করবে, কারণ এতে ঋণের বোঝা বেড়েছে।এই প্রকল্পগুলির মধ্যে যেগুলি বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করে, আমরা কেবল সেগুলিই রাখব।”

  • Belgium Court: পলাতক মেহুল চোকসিকে ভারতে প্রত্যর্পণের নির্দেশ বেলজিয়ামের আদালতের

    Belgium Court: পলাতক মেহুল চোকসিকে ভারতে প্রত্যর্পণের নির্দেশ বেলজিয়ামের আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক প্রতারণা মামলায় মূল অভিযুক্ত পলাতক মেহুল চোকসিকে ভারতে প্রত্যর্পণের নির্দেশ দিল বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প আদালত (Belgium Court)। বেলজিয়াম পুলিশের হাতে চোকসি এবং ভারত সরকারের কৌঁসুলির যুক্তি শোনার পরে বিচারক তাঁর নির্দেশে (Mehul Choksi) বলেন, “চোকসিকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের আবেদন বৈধ।”

    চোকসির বিরুদ্ধে তছরুপের অভিযোগ (Belgium Court)

    চোকসির বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশ ছাড়া তিনি। সম্প্রতি খবর মিলেছে, ভারত ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে চোকসি রয়েছেন বেলজিয়ামে। এর পরেই চোকসিকে দেশে ফেরানোর জন্য ভারত সরকারের তরফে বেলজিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ১২ এপ্রিল বেলজিয়ামের পুলিশ একটি হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে বছর পঁয়ষট্টির চোকসিকে। আদালতে পেশ করার পর শুরু হয় প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া।

    বেলজিয়ামের জেলেই চোকসি

    গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে বেলজিয়ামের জেলেই রয়েছেন চোকসি। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা প্রতারণার মামলায় চোকসির বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের আদালতে দু’টি জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। ২০১৮ সালে সস্ত্রীক ভারত ছেড়েছিলেন চোকসি। গত সাত বছর ধরে পলাতক রয়েছেন এই ব্যবসায়ী। তাঁর মুম্বইয়ের একটি আবাসনের ফ্ল্যাটের দেখভালের জন্য বকেয়া রয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। মুম্বইয়ের মালাবার হিল এলাকায় ওই আবাসনে নবম, দশম এবং একাদশ তল মিলিয়ে তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে তাঁর নামে (Mehul Choksi)।

    জামিনের আবেদন খারিজ

    গত অগাস্টেই চোকসির জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় বেলজিয়ামের আদালত। কারণ ভারতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আদালতকে জানিয়েছিল, চোকসি একজন পাকা অপরাধী। জামিন পেলে অন্য কোনও দেশে পালিয়ে যেতে পারেন তিনি। প্রসঙ্গত, বেলজিয়ামের আগে মেহুল ধরা পড়েছিলেন ডমিনিকান রিপাবলিকে। সেখানে ভারতীয় সংস্থার বিরুদ্ধে অপহরণ করে তাঁকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। গুজরাটের এই হিরে ব্যবসায়ী এখনও অ্যান্টিগার নাগরিকত্ব নিয়ে রেখেছেন (Belgium Court)। জানা গিয়েছে, সিবিআই চোকসির বিরুদ্ধে প্রমাণ তুলে ধরতে তিনবার বেলজিয়ামে গিয়েছিল। আইনি সাহায্যের জন্য একটি ইউরোপীয় বেসরকারি আইন সংস্থাকে নিয়োগও করেছে। সংস্থাটি বেলজিয়ামের আদালতে চোকসির ভারতের অর্থনৈতিক অপরাধে জড়িত থাকার বিস্তারিত তথ্য ও তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া দু’টি খোলা গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি জমা দেয়। এছাড়াও, সংস্থাটি আদালতকে জানায় যে অতীতে চোকসি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অ্যান্টিগুয়া থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন (Belgium Court)।

    প্রত্যর্পণ চাইছে ভারত

    চোকসিকে যাতে দেশের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচার করা যায়, তাই তাঁর প্রত্যর্পণ চাইছে ভারত। এজন্য ভারত রাষ্ট্রসংঘের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন সনদ (UNTOC) এবং রাষ্ট্রসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদ (UNCAC)–সহ একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তির উল্লেখ করেছে। ভারত বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের পর চোকসিকে মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলের ব্যারাক নম্বর ১২-তে রাখা হবে (Mehul Choksi)। সেখানে ইউরোপীয় মান অনুযায়ী পরিষ্কার জল, খাবার, সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব রাকেশ কুমার পাণ্ডে ৪ সেপ্টেম্বর বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের (Belgium Court) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে লিখেছেন, “মহারাষ্ট্র সরকারের একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চিত করছে যে চোকসিকে আর্থার রোড জেল কমপ্লেক্সের ব্যারাক নম্বর ১২-তে রাখা হবে। এছাড়াও নিশ্চিত করা হচ্ছে যে তাঁকে এমন একটি সেলে রাখা হবে, যেখানে তিনি অন্তত তিন বর্গমিটার ব্যক্তিগত স্থান (আসবাবপত্র বাদে) পাবেন, তাঁর সম্ভাব্য আটক (বিচার-পূর্ব ও দণ্ড-পরবর্তী) সময়কাল জুড়ে, যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।” পাণ্ডের আশ্বাস, চোকসিকে একাকী সেলে রাখা হবে না। তাঁকে উচ্চমানের নিরাপত্তাও দেওয়া হবে। তাঁকে পরিষ্কার মোটা তুলোর গদি, বালিশ, চাদর এবং কম্বল দেওয়া হবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে চোকসির সেল প্রতিদিন পরিষ্কার করা হবে এবং সেখানে নিয়মিত বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করা হবে। খোলা আকাশের নীচে তিনি ব্যায়াম, বিশ্রাম, দাবা ও কেরমের মতো বোর্ড গেম এবং ব্যাডমিন্টন খেলার সুবিধা পাবেন।

    চোকসির আইনজীবীর বক্তব্য

    যদিও চোকসির আইনজীবী জানিয়েছেন, অ্যান্টওয়ার্প আদালতের ওই নির্দেশকে উচ্চতর আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। তাই আপাতত ওই ব্যবসায়ীকে (Mehul Choksi) ভারতে আনা সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ উচ্চ আদালতে চোকসির আইনজীবীরা প্রত্যর্পণ ঠেকানোর চেষ্টা করবেন বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা (Belgium Court)। সূত্রের খবর, চোকসির বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের আদালতে যে দুটি জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, মেহুলকে প্রত্যর্পণের জন্য মূলত আদালতের এই পরোয়ানাকেই হাতিয়ার করা হবে।

  • Tahawwur Rana: ভারতে আসতেই হচ্ছে! ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর রানার আর্জি খারিজ আমেরিকায়

    Tahawwur Rana: ভারতে আসতেই হচ্ছে! ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর রানার আর্জি খারিজ আমেরিকায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে আসতেই হচ্ছে ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর রানাকে (Tahawwur Rana)। রানার ভারতে প্রত্যর্পণে স্থগিতাদেশের আর্জি খারিজ করে দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তাহাউর জানিয়েছিলেন, সে পাকিস্তানের বংশোদ্ভূত মুসলিম হওয়ায় ভারতে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। কিন্তু তাহাউর রানার সেই আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেননি বিচারপতি। তাঁর প্রত্যর্পণের উপর কোনও স্থগিতাদেশ চাপায়নি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে তাহাউর রানার ভারতে প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেল।

    মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে রানার আর্জি

    পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তাহাউর রানা (Tahawwur Rana) মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ‘প্রত্যর্পণ স্থগিতের জরুরি আবেদন’ দাখিল করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, তাঁর প্রত্যর্পণের অর্থ হল আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসংঘের নির্যাতন-বিরোধী কনভেনশন লঙ্ঘন করা। কারণ ভারতে তাঁকে নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তাঁর আবেদনে আরও বলা হয়, ‘পাকিস্তানি মুসলিম হিসেবে মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় ভারতে নির্যাতনের ঝুঁকি আরও বেশি।’ এছাড়া, তিনি তাঁর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখিয়ে উল্লেখ করা হয়, তাহাউর একাধিক প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত। তাঁর আইনজীবীরা আদালতে জানান, তিনি একাধিক হার্ট অ্যাটাক, পার্কিনসনস ডিজিজ, ব্লাডার ক্যান্সারের আশঙ্কা, স্টেজ ৩ ক্রনিক কিডনি ডিজিজ, অ্যাজমা এবং কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় জেলে বন্দি হওয়া তার জন্য ‘প্রকৃত অর্থে মৃত্যুদণ্ড’ হবে বলে তিনি দাবি করেন।

    আবেদন খারিজ

    মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রানার এই আবেদন গ্রহণ করেনি এবং ভারতীয় প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রানা পাল্টা যুক্তি দিয়েছিলেন, ‘যদি এই প্রত্যর্পণ স্থগিত করা না হয়, তাহলে মার্কিন আদালতের এক্তিয়ার থাকবে না এবং আমি শিগগিরই মারা যাব।’ এর আগে একাধিক নিম্ন আদালতে আইনি লড়াই হেরে যায় সে। স্যান ফ্রান্সিসকোতে নর্থ সার্কিট আমেরিকান কোর্ট অফ আপিলেও হেরে গিয়ে শেষ পর্যন্ত মার্কিন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাহাউর। ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দিনই তাহাউর রানার রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এ বার আমল দিল না তার জরুরি ভিত্তিতে করা আবেদনেও। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন তিনি। শীঘ্রই তাঁকে ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    রানার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া

    উল্লেখ্য, ভারত ও আমেরিকা দুই দেশের মধ্যে ১৯৯৭ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই আবহে ভারতের অনুরোধে আমেরিকার প্রশাসন রানাকে গ্রেফতার করেছিল। ২০১১ সালে শিকাগোর আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল রানা। তার বিরুদ্ধে লস্কর-ই-তইবা জঙ্গিদের সাহায্য করার অভিযোগ ছিল। প্রসঙ্গত, তাহাউর রানার বন্ধু পাকিস্তানি-আমেরিকান নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলি। এই আবহে ২০২৩ সালের মে মাসে একটি মার্কিন আদালত পাক বংশোদ্ভূত রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের পক্ষে রায় দিয়েছিল। তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে রানা আবেদন করেছিল। তারপর রানার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছিল। তবে ২১ জানুয়ারি তাহাউর রানার প্রত্যর্পণে ছাড়পত্র দেয় আমেরিকার শীর্ষ আদালত।

    ভারতের দাবিতে সিলমোহর

    প্রসঙ্গত, তাহাউর রানাকে (Tahawwur Rana) ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরেই সওয়াল করে আসছিল নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডার এই নাগরিকই হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার ঘটনায় অন্যতম চক্রী। তাই ভারতের বিচারব্যবস্থার অধীনেই তাঁর বিচার হওয়া উচিত। গত ১৬ ডিসেম্বর মার্কিন সলিসিটর জেনারেল এলিজাবেথ বি প্রিলগার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেন, যাতে শীর্ষ আদালত রানার আবেদন খারিজ করে দেয়। এদিকে রানার আইনজীবী ২৩ ডিসেম্বর সরকারের প্রস্তাব চ্যালেঞ্জ করেন এবং সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানান, যাতে এই মামলায় রানার রিট পিটিশন গ্রহণ করা হয়। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত মার্কিন শীর্ষ আদালত রানার আবেদনের বিরুদ্ধেই রায় ঘোষণা করে দেয়।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগ

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্কিন সফরকালে রানার প্রত্যর্পণে অনুমোদন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘খুব শিগগিরই রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হবে এবং তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’ এর পরেই শুরু হয় প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া। কিন্তু ফের মার্কিন শীর্ষ আদালতে শেষ চেষ্টা করেন রানা। তবে তাঁর সেই চেষ্টায়ও জল ঢালল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। উল্লেখ্য ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ের আটটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হামলা চালায় পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিরা। এই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। যাঁদের মধ্যে ছ’জন মার্কিন নাগরিকও ছিলেন। হামলা চালিয়েছিল ১০ জন পাকিস্তানি জঙ্গি।

  • Extradition: বিজয় মাল্যর প্রত্যর্পণের বিষয়ে বৈঠকে ভারত-যুক্তরাজ্য

    Extradition: বিজয় মাল্যর প্রত্যর্পণের বিষয়ে বৈঠকে ভারত-যুক্তরাজ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধমূলক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের চার দিনব্যাপী ৯০তম সাধারণ অধিবেশন শুরু হয়েছে ১৮ অক্টোবর। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই  সম্মেলন। ইন্টারপোলের সর্বশেষ অধিবেশন ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অধিবেশন শুরুর দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লির প্রগতি ময়দানে দেন।   
     
    এই অধিবেশনেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যুক্তরাজ্যের আধিকারকদের, ভারতীয় আধিকারিকরা পলাতক ব্যবসায়ী বিজয় মাল্যর প্রত্যর্পণ চ্যুক্তি “দ্রুত” করার আবেদন জানিয়েছেন। এছাড়াও আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন ইকবাল মিরচির স্ত্রী হাজরা মেমন এবং ছেলে আসিফ এবং জুনায়েদের খুঁজে বের করার বিষয়েও কথা বলেছেন। 

    ২০২০ সালের এপ্রিলে প্রত্যর্পণের নির্দেশের বিরুদ্ধে মাল্যের আবেদন খারিজ করেছিল লন্ডন হাইকোর্ট। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার যে অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি, পরবর্তীতে তাও বাতিল হয়ে যায়। হিসেব মতো ২৮ দিনের মধ্যেই প্রত্যর্পণ চ্যুক্তির মাধ্যমে মাল্যকে ভারতে ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। কিন্তু অজানা কারণে আড়াই বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে এই প্রত্যর্পণ চ্যুক্তি। মনে করা হচ্ছে মাল্য যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের জন্যে আবেদন করেছেন। 

    আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়-পরাজয়ের দৌড়ে কে কোথায় ?

    এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের ইন্টারপোল প্রতিনিধিদলকে বলা হয়েছিল যে যেহেতু আদালত ইতিমধ্যেই  মাল্যর প্রত্যর্পণের অনুমতি দিয়েছে, তাই ভারতের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার জন্য তাঁকে শীঘ্রই প্রত্যর্পণ করা প্রয়োজন।     

    ভারত নীরব মোদী, সঞ্জয় ভান্ডারী সহ অন্যান্য পলাতকদের প্রত্যর্পণের বিষয়টিও উত্থাপন করেছে। উভয়টি মামলাই এখন আদালতে রয়েছে। এছাড়াও মেমন এবং আরও কিছু সাইবার অপরাধীকে খুঁজে বের করার বিষয়েও কথা বলেছে।

    এছাড়া কানাডার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও কথা হয়েছে ভারতের। গত সপ্তাহেই বেদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কানাডা প্রশাসনকে তথাকথিত ‘খালিস্থান আন্দোলন’ নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলেছিলেন। 

    এই অধিবেশনে ২২টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠুক হয়েছে ভারতের। আমেরিকা, ইউকে, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ইউএই, বাংলাদেশ, নেপাল, ওমান, নিউজিল্যান্ট, ভুটান, নাম্বিয়া, বাহারিন, সারবিয়া, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং ইউরোপোল। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     

LinkedIn
Share