Tag: FATF

FATF

  • India: মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ ভারতের, কী বলল নয়াদিল্লি?

    India: মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ ভারতের, কী বলল নয়াদিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের (Masood Azhar) বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণাকে ‘লোকদেখানো পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল ভারত (India)। নয়াদিল্লির বক্তব্য, নিজেদের মাটিতে নিষিদ্ধ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এই ধরনের ‘ভাঁওতা ঘোষণা’ করে কোনও লাভ নেই।

    মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মাসুদ আজহার প্রসঙ্গে বলেন, “পাকিস্তানের এই ধরনের লোকদেখানো কৌশল এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। অতীতেও আমরা একই ধরনের কৌশল দেখেছি।”

    তিনি এও বলেন, “সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা একটি রাষ্ট্র যখন এই ধরনের ভাঁওতা দেয়, তখন তার ফাঁপা চরিত্র আমরা সকলেই জানি। পাকিস্তানের উচিত পদক্ষেপ করা, এমন ঘোষণা নয়, যার কোনও বাস্তব ফল নেই।”

    পাকিস্তান সম্প্রতি মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার বা দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তা করলে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পুরস্কারের কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানের ফেডারেল তদন্ত সংস্থার ২০২৬ সালের ‘রেড বুক’-এও আজহারের নাম রয়েছে।

    মাসুদ আজহার (India)

    ভারতের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ান্টেড মাসুদ আজহার। ২০০১ সালের সংসদে হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণ-সহ একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কাঠমান্ডু থেকে কান্দাহারগামী আইসি-৮১৪ বিমান ছিনতাইয়ের পর যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত আজহার-সহ তিন জঙ্গিকে মুক্তি দিয়েছিল।

    পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করে আসছে, আজহারের বর্তমান অবস্থান তাদের জানা নেই এবং সে আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তানই জইশ-ই-মহম্মদ প্রধানকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারও আজহার আফগানিস্তানে রয়েছে বলে পাকিস্তানের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগাঁও হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারত বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান ঘাঁটিতে হামলা চালায়। সেই হামলায় আজহারের কয়েকজন আত্মীয় নিহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে (India)।

    এফএটিএফের চাপ

    এদিকে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও আর্থিক অপরাধ দমনের নজরদারি সংস্থা এফএটিএফের চাপের মধ্যেই পাকিস্তানের এই ঘোষণা সামনে এসেছে। আগামী মাসে বৈঠকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান এফএটিএফের বর্ধিত নজরদারির ‘ধূসর তালিকা’য় ছিল। বিশেষ করে জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো সংগঠনের অর্থায়ন নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আন্তর্জাতিক চাপের পর পাকিস্তান ওই দুই সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিল (India)।

    ২০১৯ সালের মে মাসে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মাসুদ আজহারকে (Masood Azhar) আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। চিন আপত্তি তুলে নেওয়ার পরেই পরিষ্কার হয়েছিল তার তালিকাভুক্তির পথ।

     

  • FATF: সন্ত্রাসে অর্থ জোগান রুখতে ভারতের হাতে বড় শক্তি, বিশ্ব নজরদারি সংস্থার শীর্ষপদে বিবেক আগরওয়াল

    FATF: সন্ত্রাসে অর্থ জোগান রুখতে ভারতের হাতে বড় শক্তি, বিশ্ব নজরদারি সংস্থার শীর্ষপদে বিবেক আগরওয়াল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের শীর্ষ আর্থিক নজরদারি সংস্থা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (Financial Action Task Force/ FATF)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব বিবেক আগরওয়াল (Vivek Aggarwal)। এই প্রথম ভারত থেকে কেউ এই পদে অধিষ্ঠিত হল। এই সংস্থা বিশ্বজুড়ে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগান ও মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় সাফল্য পেল ভারত। এই নিয়োগকে ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কে এই বিবেক আগরওয়াল

    বিবেক আগরওয়াল মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার। তিনি অতীতে এফএটিএফ-এ ভারতীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (FIU)-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বিবেক। সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন চিহ্নিত করা এবং মানি লন্ডারিং রোধে এফআইইউ দেশের প্রধান সংস্থা।২০২৪ সালে যখন ভারতের সর্বশেষ পারস্পরিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, তখন তিনি কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    ভারতের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি

    সরকারি সূত্রের মতে, আগরওয়ালের নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, মানি লন্ডারিং এবং অন্যান্য আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় ভারতের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পক্ষে সওয়াল করে আসছে এবং এফএটিএফ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে এসেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আগরওয়ালের নির্বাচনকে ভারতের জন্য একটি “বড় জয়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, এই নেতৃত্বের ভূমিকা বৈশ্বিক সন্ত্রাসী অর্থায়ন নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের নিরলস প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করে। তিনি বলেন, “ভারত যেহেতু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য-সহনশীলতা নীতি অব্যাহত রেখেছে, এই নেতৃত্বের ভূমিকা বৈশ্বিক সন্ত্রাসী অর্থায়ন নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই এবং অবৈধ আর্থিক ব্যবস্থাগুলো ভেঙে ফেলার ওপর আমাদের নিরলস মনোযোগকে আরও জোরদার করে”। জয়সওয়াল বলেছেন, ভারতীয় এফএটিএফ প্রতিনিধিদলের প্রাক্তন প্রধান হিসেবে আগরওয়ালের ‘গভীর দক্ষতা’ আর্থিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংস্থাটির ম্যান্ডেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

    ঐতিহাসিক নিয়োগ

    কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক এই নিয়োগটিকে একটি “ঐতিহাসিক” নিয়োগ বলে অভিহিত করেছে। এটি ২০০টিরও বেশি অধিক্ষেত্রে ভারতের অর্জিত বিপুল আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতারই প্রতিফলন, যা ডিজিটাল পেমেন্ট ও ভার্চুয়াল অ্যাসেটের মতো উদীয়মান ঝুঁকি বিষয়ে বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে দেশটির সক্রিয় ভূমিকাকে তুলে ধরে। এই অর্জন ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক অখণ্ডতার প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে। অর্থ মন্ত্রক এই ঘটনাটিকে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে ভারতের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের একটি “ঐতিহাসিক স্বীকৃতি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

    এফএটিএফ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এফএটিএফ (FATF) হলো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণ করে। সদস্য দেশগুলির আইন ও ব্যবস্থার মূল্যায়ন করে সংস্থাটি। পাশাপাশি, যারা আন্তর্জাতিক মান পূরণে ব্যর্থ হয়, তাদের ‘গ্রে লিস্ট’ বা ‘ব্ল্যাক লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেক আগরওয়াল এফএটিএফ (FATF)-এর নীতি নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর অভিজ্ঞতা ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে, বিশেষ করে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে।

    বিবেকের প্রতিক্রিয়া

    নিয়োগের পর এক বিবৃতিতে বিবেক আগরওয়াল বলেছেন যে, “এই নিয়োগটি ভারতের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং আমাদের অর্থ পাচার বিরোধী ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বিরোধী শক্তিশালী কাঠামোর স্বীকৃতি। এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে সম্মানিত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাকে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাখতে এফএটিএফ গ্লোবাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি।”

    ভারতের প্রশংসা

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে এফএটিএফ (FATF) তাদের “Asset Recovery Guidance and Best Practices” প্রতিবেদনে ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার প্রশংসা করেছিল। সংস্থাটি এনফোর্সমেনট ডিরেক্টরেট (ED)-কে অপরাধ ও মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছিল। সম্পত্তি পুনরুদ্ধার নির্দেশিকা সংক্রান্ত এফএটিএফ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেই রিপোর্টে অপরাধ এবং আর্থিক নয়ছয়ের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তি কার্যকর ভাবে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে ভারতের যে আইনি বিধান রয়েছে, তারও প্রশংসা করেছে এফএটিএফ। এ ছাড়াও, তারা জানিয়েছে, ইডির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নীল নকশা অনেক বেশি গোছানো, প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধ। এফএটিএফ ভারতের আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের প্রশংসা করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, এই সংক্রান্ত বিধান কোনও অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই অপরাধে যুক্ত অর্থ এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ‘সবুজ সঙ্কেত’ দেয়। ভারতের বিভিন্ন কার্যকর তদন্তকারী সংস্থা নিজেদের মধ্যে যে সমন্বয় করে কাজ করে, তা যথেষ্ট প্রশংনীয়। এই সমন্বয়ের কথা বলতে গিয়ে এফএটিএফ সিবিআই, ইডি এবং ভারতের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (এফআইউ-আইএনডি) উল্লেখ করেছে। আর্থিক অপরাধ শুধু খুঁজে বার করা নয়, তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং বিচারব্যবস্থাকে একত্রীভূত করাকে ‘মডেল’ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    কড়া নজরে পাকিস্তান

    বিশ্বের কোনও দেশের আর্থিক মদতে সন্ত্রাস বা জঙ্গি কার্যকলাপ হচ্ছে কি না, তার উপর কড়া নজর রাখে এফএটিএফ। তাদের রিপোর্ট সব সময়ই গুরুত্ব পায়। কোনও দেশকে আর্থিক সাহায্য বা ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে এফএটিএফ-এর মতামত খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে আর্থিক মদত দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানকে দীর্ঘ দিন ধরে ধূসর তালিকাভুক্ত করে রেখেছিল এফএটিএফ। ২০২২ সালে ওই তালিকা থেকে মুক্ত করা হয় পাকিস্তানকে। তার পরেও এই সংক্রান্ত নজরদারি থেকে তারা মুক্ত নয় বলে পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে এফএটিএফ।

  • Terror Outfits: কাশ্মীরে কৌশল বদলাচ্ছে আইএসআই, জঙ্গিদের ভিড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভারতের রাজনীতিতে! সতর্ক করলেন গোয়েন্দারা

    Terror Outfits: কাশ্মীরে কৌশল বদলাচ্ছে আইএসআই, জঙ্গিদের ভিড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভারতের রাজনীতিতে! সতর্ক করলেন গোয়েন্দারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশল বদলানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপের তদন্ত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিরন্তর অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে জম্মু-কাশ্মীরে তাদের ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার (OGW) নেটওয়ার্ককে মূলধারার জাতীয় রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে মিশে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান আধিকারিকরা।

    আইএসআইয়ের কৌশল পরিবর্তনের চেষ্টা (Terror Outfits)

    আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর নজরদারিতে রয়েছে পাকিস্তান। সেই কারণেও আইএসআইয়ের কৌশল পরিবর্তনের চেষ্টা। এরই অংশ হিসেবে তারা নয়ের দশকের শুরুতে স্থানীয়ভাবে গঠিত এবং বর্তমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সক্রিয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গি কার্যকলাপগুলির ‘ভারতীয়করণে’র রূপ দিতে এবং পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদত দেওয়ার বিষয়টিকে আড়াল করতেই এই পন্থা অবলম্বন করছে পাক-চর সংস্থা।

    জেরায় কী জানিয়েছে জঙ্গিরা?

    কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিকদের মতে, সম্প্রতি শ্রীনগর পুলিশ পাকড়াও করেছে কয়েকজন ওজিডব্লিউকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই জানা গিয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ জাতীয় রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিল। জঙ্গি সংগঠনগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সহায়তা, নিয়োগ এবং অর্থায়নকারী সমর্থকদের বৈধ রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে ভিড়িয়ে দিয়ে আইএসআই তাদের এজেন্টদের নিরাপত্তা অভিযানের হাত থেকে রক্ষা করতে চাইছে।

    জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কোমর ভেঙে গিয়েছে

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আধিকারিক জানান, এই কৌশলটি মূলত হতাশা থেকে নেওয়া। কারণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবল চাপে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কোমর ভেঙে গিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে নয়া প্রক্সি সংগঠনগুলির প্রতি স্থানীয়দের সমর্থনও। পুরানো সংগঠনগুলির নাম পুনরুজ্জীবিত করে এবং তাদের কর্মীদের মূলধারার রাজনীতির স্রোতে মিশিয়ে দিয়ে নতুন প্রজন্মের যুবকদের আকৃষ্ট করতে এবং একই সঙ্গে তাদের কর্মীদের রাজনৈতিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে চাইছে আইএসআই। আধিকারিকদের মতে, যখন কোনও ওজিডব্লিউ ঘেরাও এবং তল্লাশি অভিযানে ধরা পড়ে, তখন তারা অনেক সময় জাতীয় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সদস্যপদের ‘প্রমাণপত্র’ দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে।

    জঙ্গিদের ছল

    নিরাপত্তা আধিকারিকরা লক্ষ্য করেছেন, জঙ্গিদের এই কৌশল বদলেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। নয়ের দশকের শেষ দিকে সন্দেহভাজনরা পুলিশের হাত এড়াতে ভোটারকার্ড ব্যবহার করত। পরে তদন্ত এড়াতে তারা আধার কার্ডও ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। যদিও তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কখনও এই ধরনের লোকজনকে রক্ষা করতে হস্তক্ষেপ করেনি। এদিকে, ওজিডব্লিউ কার্যকলাপের মাধ্যমে ১৯৯৩ সালের পর প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া কিছু সংগঠনকে ফের সক্রিয় করার চেষ্টা করতেও দেখা যাচ্ছে।

    আইএসআইয়ের কৌশল

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বর্তমানে ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে জম্মু- কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত পুরোনো সংগঠনগুলির নাম ফের সামনে আসার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই সব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে আল-উমর মুজাহিদিন, আল বদর, এবং তেহরিক-উল-মুজাহিদিনও। আধিকারিকদের মতে, এই পুরোনো স্থানীয় পরিচয়ের সংগঠনগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে আইএসআই এমন একটি ভুল ধারণা তৈরি করতে চায় যে জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গি কার্যকলাপ একটি অভ্যন্তরীণ এবং স্থানীয় আন্দোলন, সীমান্তপারের পরিকল্পিত ছায়াযুদ্ধ নয়।

    বহাল তবিয়তে রয়েছে জঙ্গিদের মাথারা

    তাঁরা এও জানান, পুনরুজ্জীবিত এই সব সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে নিরাপদে রয়েছে। যদিও তারা ফিল্ড লেভেলের নেটওয়ার্ক প্রচার, অর্থ জোগাড় এবং উগ্রপন্থায় প্ররোচনা দেওয়ার কাজে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জঙ্গিদের এসব তৎপরতার ওপর কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে এবং ফের সক্রিয় হওয়া ওজিডব্লিউ নেটওয়ার্কের লজিস্টিক সহায়তা ব্যবস্থাকে নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছে। একই সঙ্গে, জঙ্গিদের সমর্থকদের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে উগ্র মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও প্রতিরোধ করা হচ্ছে। অর্জিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানান গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কর্তারা।

     

  • PM Modi: ‘নমস্তে’! প্রথম পাতা জুড়ে মোদি, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ প্রচ্ছদ ইজরায়েলি পত্রিকার

    PM Modi: ‘নমস্তে’! প্রথম পাতা জুড়ে মোদি, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ প্রচ্ছদ ইজরায়েলি পত্রিকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তামাম বিশ্বে ক্রমেই গুরুত্ব বাড়ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। দ্বিতীয়বারের জন্য ইজরায়েলে যাচ্ছেন তিনি। তার আগে ইজরায়েলের সংবাদপত্র ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’  ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে একটি বিশেষ প্রথম পৃষ্ঠা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পত্রিকার সম্পাদক-ইন-চিফ জিভিকা ক্লাইন ২৪ ফেব্রুয়ারি এক্স হ্যান্ডেলে এই বিষয়টি জানান।

    পত্রিকার সম্পাদকের আবেদন (PM Modi)

    তিনি লিখেছেন, “আগামীকালের পত্রিকা আমরা জেরুজালেমে মুদ্রণের জন্য পাঠিয়েছি, প্রধানমন্ত্রী @নরেন্দ্রমোদির ঐতিহাসিক ইজরায়েল সফর উপলক্ষে—২০১৭ সালের পর এটি তাঁর প্রথম সফর। এই উপলক্ষে এটি আমাদের বিশেষ @জেরুজালেম পোস্ট কভার। আপনাদের কী মনে হয়?” প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পাঠকদের আহ্বানও জানান তিনি। বুধবার ভারতীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মোদি পৌঁছবেন ইজরায়েলে। ২০১৭ সালের পর এটি তাঁর প্রথম ইজরায়েল সফর। সফরকালে তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি ইজরায়েলের সংসদ ‘কনেসেট’-এ ভাষণও দেবেন, যা হবে সেখানে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, “দুই নেতা ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বে অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও অর্থনীতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করবেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতামত বিনিময় হবে।” ইজরায়েল-ইরান সংঘাত শুরু পর গাজার পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। সফরের আগে উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সন্ত্রাস মোকাবিলায় গোয়েন্দা ও তথ্য আদান-প্রদান জোরদার-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দুই দেশ।

    মঙ্গলবার উভয় দেশ জোর দিয়ে বলেছে, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় “টেকসই ও সর্বাঙ্গীণ পদ্ধতিতে” সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন। ভারত-ইজরায়েল যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘ, ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF) এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা মজবুত করার অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণ করেছে দুই পক্ষ।” তেল আভিভাবের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে প্রকাশিত বিদায়ী বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ককে একটি দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন।

     

  • PM Modi in G-20 Summit: সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা থেকে গ্লোবাল সাউথ, মোদি-ময় জি২০! আফ্রিকা থেকে ফিরলেন মোদি

    PM Modi in G-20 Summit: সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা থেকে গ্লোবাল সাউথ, মোদি-ময় জি২০! আফ্রিকা থেকে ফিরলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে খুলে গেল এক নতুন দিগন্ত! জোহানেসবার্গে জি২০ (PM Modi in G-20 Summit) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই বৈঠকে প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন পার্টনারশিপের কথা ঘোষণা করলেন মোদি। বললেন, “তিন মহাদেশ, তিন মহাসাগর জুড়ে কার্যকর হবে এই পার্টনারশিপ।” আগামী প্রজন্মের জন্য এক উন্নততর ভবিষ্যৎ তৈরি করাই লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী মোদির। তিন দিনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে সোমবার সকালে নয়া দিল্লিতে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসবিরোধী কড়া অবস্থান, জি২০ মঞ্চে উচ্চস্তরের বৈঠক এবং বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ-সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ২৪টি বৈঠক—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের উপস্থিতি আরও জোরালো করলেন তিনি।

    সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি

    দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলনের নেতাদের যৌথ ঘোষণায় সন্ত্রাসকে তার সব রূপে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে সন্ত্রাসে অর্থসংস্থান প্রতিরোধে এফএটিএফ কাঠামোকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বৈত মানসিকতা ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানান। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠকে সন্ত্রাস দমনে ভারত–ইটালি যৌথভাবে কাজ করবে বলে স্থির হয়। মোদি বলেন, ভারতের সভ্যতার মূল মূল্যবোধ, বিশেষত ‘অখণ্ড মানবতাবাদ’-এর নীতি, ভবিষ্যতের পথ দেখাতে সক্ষম।

    নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা

    জি২০ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি মোট ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নেন। ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত ইবসা শীর্ষ সম্মেলনেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ক নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা করা হয়। এর লক্ষ্য হলো উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, সবুজ শক্তিতে উদ্ভাবন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা এবং জনকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো। এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তিন দেশের কর্মকর্তারা আবার বৈঠকে বসবেন।

    জি২০-এর মঞ্চে প্রস্তাব

    মোদির প্রথম প্রস্তাব—বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ঐতিহ্যগত জ্ঞানের নথিভুক্তিকরণ ও সংরক্ষণের জন্য গ্লোবাল ট্রেডিশনাল নলেজ রিপোজিটরি গঠন। তাঁর মতে, প্রাচিনকাল থেকে চলে আসা বেশ কিছু প্রচলিত জ্ঞান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশ্বব্যপী এই ধরণের জ্ঞানের সংরক্ষণ জরুরি বলে মনে করেন মোদি। বিশ্বের অগ্রগতির জন্য আফ্রিকার উন্নয়ন জরুরি বলে দাবি করেন মোদি। তিনি বলেন, এই কারণে ভারত বরাবর আফ্রিকার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই তাঁর দ্বিতীয় প্রস্তাব—আফ্রিকা স্কিলস মাল্টিপ্লায়ার ইনিশিয়েটিভ, যার মাধ্যমে আগামী দশ বছরে আফ্রিকার এক মিলিয়ন প্রশিক্ষক তৈরি করা উচিত এবং এভাবে আফ্রিকাবাসীর স্কিল উন্নয়ন সম্ভব। তৃতীয় প্রস্তাব হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসঙ্কট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। এজন্য জি-২০ সদস্যদের প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল গ্লোবাল হেলথকেয়ার রেসপন্স টিম গঠনের আহ্বান জানান তিনি। চতুর্থ প্রস্তাবে মোদি বলেন, মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র ভেঙে ফেলা এখন বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। এই লক্ষ্যে জি-২০ দেশের একটি সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান করেন তিনি।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারের প্রয়োজনীতা

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারের প্রয়োজনীতার প্রশ্নটিও ফের তুলে দিয়েছেন মোদি। মোদি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। মোদি বলেন, “বহুপাক্ষিকতায় যেন সমসাময়িক বিশ্বের বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারকে কেন্দ্রে রেখে বহুপাক্ষিকতার সংস্কার ঘটলে, তবেই মানবতার আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে।”

    ১৮ দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    সফরে মোদি ১৮টি দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় উপস্থিত সকল জি৭ দেশও ছিল। তালিকায় ছিল—দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, অ্যাংগোলা, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, জার্মানি, ইথিওপিয়া, সিয়েরা লিওন, জ্যামাইকা, নেদারল্যান্ডস, ইতালি এবং জাপান। তিনি তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

    গ্লোবাল সাউথকে কেন্দ্র করে জোরাল বার্তা

    জোহানেসবার্গ জি২০ সম্মেলনে দিল্লি জি২০-এর ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে। প্রথমবার আফ্রিকার মাটিতে জি২০ আয়োজন হওয়ায় তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনটি মূল সেশনে মোদি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়ে একাধিক প্রস্তাব ও বার্তা তুলে ধরেন। মোদি বলেন,

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ

    জাপানের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এটি ছিল মোদির প্রথম সামনাসামনি বৈঠক। তাকাইচি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের আয়োজিত এআই সামিট–কে দৃঢ় সমর্থন জানান। দুই নেতা মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (FOIP) প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সমগ্র সফর জুড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা ছিল সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্য, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও গ্লোবাল সাউথের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

    প্রতি মুহুর্তের ছবি-ভিডিয়ো ভাইরাল

    ২১ তারিখ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সময়কালে একাধিক বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকি, অস্ট্রেলিয়া-কানাডার সঙ্গে ‘ত্রিশক্তি’ গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মেলনের শেষ দিনে রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘জোহানেসবার্গে আয়োজিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন এই বিশ্বের বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে যথার্থ অবদান রাখবে। একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠক সারলাম। আমি আশাবাদী, আমাদের এই আলোচনা ভারতের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ও সেখানকার রাষ্ট্রপতিকেও অনেক ধন্যবাদ।’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের পর থেকে বৈঠক, আলাপ, হাত মেলানো, ভাষণ-সহ প্রতি মুহুর্তের ছবি-ভিডিয়ো নিজের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেই পোস্ট ঘিরেই দেখা গিয়েছে নেটিজেনদের উচ্ছ্বাস। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষদের উচ্ছ্বাস। মোদীর বক্তব্য হোক বা বৈঠক, সবেতেই একটা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

  • FATF: ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার ব্যাপক প্রশংসা এফএটিএফের, জেনে নিন কী বলল

    FATF: ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার ব্যাপক প্রশংসা এফএটিএফের, জেনে নিন কী বলল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার ব্যাপক প্রশংসা করল ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স, সংক্ষেপে এফএটিএফ (FATF)। বৈশ্বিক জঙ্গি অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী এই সংস্থা একটি মডেল সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে ইডিকে (ED Model)। নয়া প্রকাশিত রিপোর্ট “অ্যাসেট রিকভারি গাইডেন্স অ্যান্ড বেস্ট প্র্যাকটিসেসে” এফএটিএফ উল্লেখ করেছে যে, অপরাধ ও মানি লন্ডারিং–সংক্রান্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও ব্যবস্থাপনার জন্য শক্তিশালী আইনি ও কার্যনির্বাহী ব্যবস্থা বাস্তবায়নকারী দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারত দণ্ডাদেশ-ভিত্তিক এবং অদণ্ডাদেশ-ভিত্তিক উভয় ধরনের সম্পত্তিই বাজেয়াপ্ত করার আইন সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করছে। পরস্পর আইনি সহায়তা চুক্তির আওতায় পরিচালিত মামলাগুলিতে বিদেশি সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের কৃতিত্বও দেওয়া হয়েছে ইডিকে।

    এফএটিএফের বক্তব্য (FATF)

    সন্ত্রাসবিরোধী পর্যবেক্ষণ এই সংস্থা জানিয়েছে, ইডির সম্পদ পুনরুদ্ধার কৌশল একটি পরিণত, সুসম্পদসমৃদ্ধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির প্রতিফলন। এটি আর্থিক তদন্তে সংশোধিত এফএটিএফ মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ,যেখানে সম্পদ পুনরুদ্ধারকে জাতীয় নীতি-অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের (PMLA) আওতায় ভারতের আইনগত কাঠামোরও প্রশংসা করেছে ওই সংস্থা। এটি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে অপরাধ থেকে অর্জিত সম্পদের দ্রুত বাজেয়াপ্ত, আটক এবং বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ দেয়। রিপোর্টে ভারতের বিভিন্ন সংস্থার কার্যকর আন্তঃ-সংস্থা সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, সিবিআই এবং ইডি এবং এটিকে এমন একটি মডেল হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা আর্থিক কেলেঙ্কারির মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য, আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে একত্রিত করতে আগ্রহী অন্যান্য দেশের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে (FATF)।

    অ্যাসেট রিকভারি ব্যবস্থার প্রমাণ

    এফএটিএফ ভারতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার রেকর্ড, বিশেষত বিদেশি বিচারব্যবস্থা থেকে সফলভাবে সম্পদ প্রত্যর্পণের ঘটনাগুলিকে ভারতের ক্রমবিকশিত অ্যাসেট রিকভারি ব্যবস্থার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে (ED Model)। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “ভারতের কর্মদক্ষতা, বিশেষত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED)-এর মাধ্যমে, দেখায় যে কীভাবে ধারাবাহিক নীতি, আইনি ক্ষমতায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় অপরাধীদের অবৈধ সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে প্রকৃত ফল এনে দিতে পারে।”

    উপসংহার

    এ সব উদাহরণের সাহায্যে এফএটিএফ বলেছে যে ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার কাঠামো একটি উচ্চমানের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রতিফলিত করে, যা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। এতে স্বীকার করা হয়েছে যে ইডি আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যকে তদন্ত, আইন প্রয়োগ এবং বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে একীভূত করেছে। তার ফলেই অপরাধীদের সম্পদ দ্রুত বাজেয়াপ্ত করা যাচ্ছে। নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে বিভিন্ন বিবাদের (FATF)। এফএটিএফের ওই প্রতিবেদনের উপসংহার হল (ED Model), ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তাদের নতুন ২০২৩–২৪ সম্পদ পুনরুদ্ধার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে আর্থিক তদন্ত, সংস্থাগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা এবং পুনরুদ্ধার করা সম্পদ জনস্বার্থে ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এটি অন্য সদস্য দেশগুলিকে ভারতের ভিক্টিম ফোকাসড রিকভারি মডেল অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।

    বিনিয়োগ জালিয়াতির ঘটনা

    রিপোর্টে আরও বেশ কয়েকটি ভারতীয় কেস স্টাডি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে দেখানো হয়েছে কীভাবে ইডি বিরাট পরিসরে সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছে, যা হাজার হাজার ভুক্তভোগীর উপকারে এসেছে। উদাহরণে এফএটিএফ এমন এক বিনিয়োগ জালিয়াতির ঘটনা বর্ণনা করেছে, যেখানে একটি ভারতীয় কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জমির প্লট বা উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রলুব্ধ করেছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সংগৃহীত অর্থ বিদ্যুৎ ও খনি-সহ অন্যান্য খাতে সরিয়ে নেয়। তদন্ত চলাকালীন ইডি ৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত করে। ওই একই সময়ে সিআইডিও সমান্তরালভাবে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছিল (FATF)।

    শেল কোম্পানিতে পাচার

    অন্য একটি ঘটনায় এফএটিএফ একটি প্রতারণাকারী কোম্পানির কথা জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে সিকিওরড ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ তুলেছিল এবং সেই টাকা একাধিক শেল কোম্পানিতে পাচার করেছিল। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত ওই সম্পদ প্রাথমিকভাবে অ্যাটাচ করে ইডি। এরপর হাইকোর্ট ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের জন্য একটি অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি (ADC) গঠন করে। ইডির অনুরোধে আদালত ৫৩৮ কোটি টাকার অ্যাটাচড অ্যাসেটস মুক্তির অনুমতি দেয়, যাতে ৭৫ হাজারেরও বেশি বিনিয়োগকারী ক্ষতিপূরণ পান। তাঁরা কোনও আইনি খরচ ছাড়াই অনলাইনে দাবি জানিয়েছিলেন (ED Model)।

    হিসেব–নিকেশে কারচুপি

    আর একটি উদাহরণে এফএটিএফ একটি সমবায় ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনার কথা তুলে ধরে। এখানে আধিকারিক ও অডিটররা আঁতাত করে হিসেব–নিকেশে কারচুপি করেছিলেন। বেনামে অ্যাকাউন্ট খুলে আত্মসাৎ করেন বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়। জানা গিয়েছে, ইডি ২৯০ কোটি টাকার বেনামি সম্পদ অ্যাটাচ করে এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের জন্য সেগুলি মহারাষ্ট্র ডিপোজিটরদের স্বার্থরক্ষা সংস্থাকে হস্তান্তর করে (FATF)। এফএটিএফ জানিয়েছে, এই মামলায় বাজেয়াপ্ত করা জমিটি পরবর্তীকালে একটি নয়া বিমানবন্দর গড়তে ব্যবহার করা হয়। এটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কীভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্পদ সরাসরি সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করা যেতে পারে।

LinkedIn
Share