Tag: financial crisis

financial crisis

  • Paraguay: ভয়াবহ আর্থিক সংকটে প্যারাগুয়ে, বিপাকে ৩০ লাখ গ্রাহক! গৃহবন্দি দেশের প্রেসিডেন্ট

    Paraguay: ভয়াবহ আর্থিক সংকটে প্যারাগুয়ে, বিপাকে ৩০ লাখ গ্রাহক! গৃহবন্দি দেশের প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ আর্থিক সংকটে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল ব্যাঙ্ক উয়েনো ব্যাঙ্কের পতনের জেরে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ ব্যবহার করতে পারছেন না। একই সঙ্গে কয়েকশো মিলিয়ন ডলারের সরকারি আমানত ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই আর্থিক বিপর্যয় ক্রমশ রাজনৈতিক (Paraguay) সংকটের রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতির জেরে ইমপিচমেন্টের মুখে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।

    গত ৬ নভেম্বর ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় পেনাকে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করে (President Faces Impeachment) পুলিশ। বর্তমানে তাঁকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সংসদে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে দায়িত্বে অনিয়ম এবং ব্যাঙ্কের আর্থিক বিপর্যয়ের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়।

    ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট (Paraguay)

    সংসদের উচ্চকক্ষে উপস্থিত ৪৪ জন সদস্যই পেনার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দেন। দায়িত্ব পালনে গুরুতর ব্যর্থতার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দেশের উপ-রাষ্ট্রপতি পেদ্রো আলিয়ানা নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, উয়েনো ব্যাঙ্কের মালিকানাধীন ব্যবসায়িক গোষ্ঠী গ্রুপো ভাসকেসের সঙ্গে পেনার পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসায় তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক ফৌজদারি তদন্তও শুরু হয়েছে।

    গত ৩ নভেম্বর প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক উয়েনো ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিদর্শনে দেখা যায়, ব্যাঙ্কটির আর্থিক সক্ষমতার অনুপাত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম মাত্রার অর্ধেকেরও নীচে নেমে গিয়েছে। এরপরই ব্যাঙ্কটির বিরুদ্ধে বিশেষ নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। আমানতকারীদের অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাঙ্কের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারির পদক্ষেপ করা হয়। এর প্রতিবাদে এবং নিজেদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তার দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভে সামিল হন সাধারণ মানুষ।

    প্যারাগুয়ের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই উয়েনো ব্যাঙ্কের গ্রাহক। ফলে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই ব্যাঙ্কের বিপর্যয় সাধারণ মানুষের কাছে কার্যত বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহকের সঞ্চয় আটকে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি তহবিলের কয়েকশো মিলিয়ন ডলারের অর্থও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    একসময় ছোট একটি আর্থিক সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পাঁচ বছরেরও কম সময়ে গোটা দেশে নিজেদের ব্যবসা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা। ২০২১ সালে গ্রুপো ভাসকেস ফিনানসিয়েরা এল কোমেরসিও অধিগ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেটির নাম পরিবর্তন করে ফিনানসিয়েরা উয়েনো রাখা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হয় তাদের ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। ২০২৩ সালে পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ্ক হিসেবে কাজ করার অনুমতি পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচয় হয় উয়েনো ব্যাঙ্ক। এরপর ২০২৪ সালে ভিশন ব্যাঙ্ক অধিগ্রহণ ও সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে গ্রাহকসংখ্যা এবং ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ায় তারা।

    উয়েনো ব্যাঙ্কের পতনের কারণ

    আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুতর দুর্বলতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্তই উয়েনো ব্যাঙ্কের পতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, ব্যাঙ্কটি তার মালিকপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সংস্থাকে বিপুল পরিমাণ ঋণ দিয়েছিল। অর্থাৎ, মালিকপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি (Paraguay)।

    প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ সংক্রান্ত হিসাবনিকাশে একাধিক অসংগতি, পর্যাপ্ত নথিপত্র ছাড়া আর্থিক লেনদেন এবং গ্রুপো ভাসকেসের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে দেওয়া ঋণের বিষয়টি উঠে এসেছে। ব্যাঙ্কের হিসাবপত্র খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তার মূলধনের পরিমাণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মাত্রার অর্ধেকেরও নীচে নেমে গিয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে প্যারাগুয়ের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের উপর। উয়েনো ব্যাঙ্কে জমা থাকা প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলারের আমানত ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু সাধারণ গ্রাহকই নন, ব্যাঙ্কটির মাধ্যমে পেনশন পাওয়া প্রায় ৩২ হাজার অবসরপ্রাপ্ত মানুষও এই সংকটের শিকার হয়েছেন।

    একটি দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল ব্যাঙ্কের আর্থিক বিপর্যয় কীভাবে গোটা দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে (President Faces Impeachment) পারে, প্যারাগুয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা তারই বড় উদাহরণ। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আমানতকারীরা কবে তাঁদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পাবেন এবং এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির দায় শেষ পর্যন্ত কার উপর (Paraguay) বর্তাবে।

     

  • China Debt Crisis: আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে না, দেনায় ডুবে যাচ্ছে চিন!

    China Debt Crisis: আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে না, দেনায় ডুবে যাচ্ছে চিন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে চিন (China Economic)। এই ভবিষ্যদ্বাণী আদৌ বাস্তবসম্মত নয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে, কোভিড অতিমারির প্রথম ঢেউয়ের পর, ব্রিটিশ থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর ইকনোমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (Centre for Economics and Business Research) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে ২০২৮ সালের মধ্যে চিন আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে (Debt Nightmare)। সংস্থাটি জানিয়েছিল, অতিমারির মোকাবিলায় চিনের ‘দক্ষ’ ব্যবস্থাপনা আগামী বছরগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তুলনায় তাদের প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে দেবে।

    কী বলছে সেই সংস্থা? (China Economic)

    পাঁচ বছর পরে এখন সেই একই সংস্থা বলছে, আগামী আরও অন্তত ১৫ বছরের আগে চিনের পক্ষে মার্কিন অর্থনীতিকে ছাপিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চিন হয়তো কখনওই ওই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। কারণ তাদের অর্থনীতির সামনে রয়েছে গুচ্ছের পরিকাঠামোগত সমস্যা ও বাধা। গত সপ্তাহে বেজিংয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্যও দেখাচ্ছে, গতি হারিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।

    কমে গিয়েছে ভোক্তা-চাহিদা

    এপ্রিল মাসে শিল্প উৎপাদন বছরে মাত্র ৪.১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝির পর এটি সবচেয়ে দুর্বল বৃদ্ধি। খুচরো বিক্রি বেড়েছে মাত্র ০.২ শতাংশ, ২০২২ সালের পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থার উদাহরণ এটি। বছরের প্রথম চার মাসে স্থায়ী সম্পদ বিনিয়োগ কমেছে ১.৬ শতাংশ। এর প্রধান কারণ সম্পত্তি উন্নয়ন খাতে ১৩.৭ শতাংশ পতন। ২০২১ সালে যে রিয়েল এস্টেট বুম ছিল, অতিমারির পর তা মুখ থুবড়ে পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোটি কোটি চিনা নাগরিকের সঞ্চয়। তাই কমে গিয়েছে ভোক্তা-চাহিদা। কারণ অনেকেই এমন ফ্ল্যাটের ঋণে ডুবে রয়েছেন যে, তা বিক্রি করা যাচ্ছে না। আগে বাড়ির পরে গাড়ি কেনাটা ছিল চিনের মধ্যবিত্ত দের একটি বড় বিনিয়োগ ক্ষেত্র (China Economic)। কিন্তু এখন অনেকেরই গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই। মে মাসের শুরুতে চিনের গাড়ি নির্মাতারা জানিয়েছিলেন, যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রি বছরে কমেছে ২৫.৫ শতাংশ — টানা ষষ্ঠ মাসের পতন। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির প্রচুর গাড়ি বিক্রি হয়নি। তাদের প্রথম ত্রৈমাসিকের মুনাফা ৫৫ শতাংশ কমে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

    ড্রাগনের দেশে হ্রাস পেয়েছে চাহিদা

    দেং শিয়াওপিংয়ের ১৯৮০ সালের সংস্কার এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধানদের নীতির ফলে চিন কার্যত পরিণত হয়েছিল বিশ্বের কারখানায়। তাই কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসেন, সৃষ্টি হয় বিপুল কর্মসংস্থানের (Debt Nightmare)। ড্রাগনের দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিয়েছেন। চিন এখন জাহাজ নির্মাণ, সৌর প্যানেল, উইন্ড টারবাইন, রোবোটিক্স ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো বহু ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রেও তারা এগিয়ে। তবে চিনের প্রবৃদ্ধি মূলত রফতানি-নির্ভর — আর এই মডেলই এখন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। দেশের ভেতরে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, যদিও পণ্যের দর সস্তা। মনে রাখতে হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৮০ শতাংশেরও বেশি চালিত করে। সেই তুলনায় ভারতে এই হার ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। গত বছর চিনে এর পরিমাণ ছিল মাত্রই ৫২ শতাংশ (China Economic)।

    আইএমএফের বক্তব্য

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার (IMF) জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সম্পত্তি সঙ্কট ও দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানুষের খরচ করার আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। আইএমএফ ২০২৬ সালের জন্য চিনের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪.৫ শতাংশ করেছে। চিনা সরকারও ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে — ৪.৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ (Debt Nightmare)। খবরে প্রকাশ, রফতানির জন্য চিন এখনও নতুন নতুন কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। গত বছর তাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১.১৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে এবং বিভিন্ন দেশ চিনের কাছে আমদানি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ যদি বৈশ্বিক মন্দা সৃষ্টি করে, তাহলে চিনা পণ্যের চাহিদা কমবে। ফলে শিল্পখাত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ইতিমধ্যেই জিনপিংয়ের দেশে মূল্যহ্রাস শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে আরও কম দামে জিনিস পাওয়ার আশায় কেনাকাটা করছেন না চিনারা (China Economic)।

    চিনা অর্থনীতির সামনে আরও বড় সমস্যা

    চিনা অর্থনীতির সামনে আরও দু’টি বড় সমস্যা রয়েছে – একটি হল বাজেট ঘাটতি, অন্যটি জনসংখ্যা সঙ্কট। সরকারি হিসেবে চিনের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ শতাংশ। যদিও বিশ্লেষকদের দাবি, অন্যান্য গোপন বাজেট যোগ করলে তা পৌঁছে যায় ৯.১ শতাংশে। চিনের মোট ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৩০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে বলে অনুমান। ঋণের সুদ শোধের খরচ ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেড়েছে ৩৪১ শতাংশ।এদিকে, চিনা জনসংখ্যা দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। ১৯৪৯ সালের পর জন্মহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। আয়তনে এত বড় একটি দেশে গত বছর মাত্র ৭.৯২ মিলিয়ন শিশু জন্মেছে। আগামী দশকে চিনের জনসংখ্যা কমে যেতে পারে প্রায় ৬ কোটি। এতে ভোগব্যয় আরও কমবে, বাড়বে অর্থনৈতিক সঙ্কট (Debt Nightmare)।

    কমিউনিস্ট-শাসিত চিনেও শ্রমিক বিক্ষোভ!

    চিনের বিশাল তেল মজুত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ তাদের কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে এপ্রিল মাসে চিনের রফতানির পরিমাণ বেড়েছে ১৪.১ শতাংশ। এদিকে, তেল ও গ্যাসের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরে প্লাস্টিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক খেলনা কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, অনেকে আবার একেবারে ঝাঁপ ফেলে দিয়েছে। চাকরি খুইয়েছেন হাজার হাজার চিনা শ্রমিক (China Economic)। দক্ষিণ চিনে খেলনা কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভও দেখা গিয়েছে, যা চিনের মতো একটি নিয়ন্ত্রিত সমাজে বিরল নজির। চিন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তৈরি করছে ভবিষ্যতের পণ্য। নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা বাড়লে লাভবানও হতে পারে চিন (Debt Nightmare)। তবে যেহেতু চিনা অর্থনীতি রফতানি-নির্ভর, তাই বিদেশের বাজারে তাদের প্রবেশ করতেই হবে। সমস্যা হল, অনেক দেশই চিনকে ভালো চোখে দেখে না। আফ্রিকায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করলেও, সেখানে চিনকে নয়া ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এশিয়ান (ASEAN) দেশগুলিতেও চিনের সস্তা পণ্যের চাপে স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিনা কোম্পানিগুলি স্থানীয় কাঁচামাল কম ব্যবহার করে নিজেদের দেশ থেকে আমদানি করে। ফলে এসব দেশে চিনের (China Economic) বিরুদ্ধে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।

     

  • Rajpal Yadav: “আমার টাকা নেই, আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনও উপায়ও নেই”, বললেন অভিনেতা রাজপাল

    Rajpal Yadav: “আমার টাকা নেই, আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনও উপায়ও নেই”, বললেন অভিনেতা রাজপাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চেক বাউন্স মামলায় দিল্লির তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করলেন অভিনেতা রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav)। তার ঠিক আগে আগে নিজের আর্থিক সঙ্কটের কথা প্রকাশ্যে (Court) জানান অভিনেতা। ‘ভুলভুলাইয়া’ (২০০৭), ‘হাঙ্গামা’ (২০০৩) ও ‘ঢোল’ (২০০৭)-এর মতো ছবিতে কৌতুক অভিনেতার চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে পরিচিত বছর চুয়ান্নর এই অভিনেতা বলেন, “আমার কাছে কোনও টাকা নেই, কোনও বন্ধুও নেই, আর আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আমার আর কোনও উপায়ও নেই।”

    তিহার জেলে আত্মসমর্পণ (Rajpal Yadav)

    দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর সময় বাড়ানোর আবেদন খারিজ করার পর রাজপাল তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। তিনি তা না করায় আদালত আর কোনও ছাড় দিতে অস্বীকার করে। বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পেশা নির্বিশেষে আইনের চোখে সবাই সমান। এক সাক্ষাৎকারে রাজপাল তাঁর আর্থিক সমস্যার কথা ব্যাখ্যা করে বলেন,
    “স্যার, কী করব? আমার কাছে টাকা নেই। আর কোনও উপায়ও দেখতে পাচ্ছি না।” তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি সহকর্মী বা ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুদের, যেমন পরিচালক প্রিয়দর্শন, যাঁর সঙ্গে তিনি বহুবার কাজ করেছেন, কাছ থেকে সাহায্য চাওয়ার কথা ভেবেছেন কি না, তখন রাজপাল বলেন, “স্যার, এখানে আমরা সবাই একা। এখানে কোনও বন্ধু নেই। এই সঙ্কটের মোকাবিলা আমাকে একাই করতে হবে।”

    রাজপালদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    এর আগে একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ২০১৮ সালে দিল্লির এক ব্যবসায়ীর করা মামলার ভিত্তিতে রাজপাল যাদব ও তাঁর স্ত্রী রাধার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ, ২০১০ সালে নেওয়া ৫ কোটি টাকার ঋণ তাঁরা পরিশোধ করেননি। জানা গিয়েছে, রাজপাল তাঁর পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা ’(২০১০)-এর জন্য এই টাকা নিয়েছিলেন (Rajpal Yadav)। ছবিটি ২০১২ সালে মুক্তি পেলেও ঋণ শোধ করা হয়নি। এই মামলায় আদালত একাধিকবার তাঁকে তলব করেছিল এবং বিচার চলাকালীন একবার তাঁকে ১০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতেও পাঠানো হয়েছিল। চেক বাউন্স মামলায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণের টাকা জোগাড় করতে না পারায় আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তিহার জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৪টের সময় রাজপাল যাদব জেল সুপারের সামনে হাজির হন (Rajpal Yadav)।

    আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার

    আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, “এই পরিস্থিতিতে, আবেদনকারীর (Court) (রাজপাল যাদব) আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁকে আজই অবিলম্বে তিহার জেলের সুপারের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।” হাইকোর্ট বিলম্বের কড়া সমালোচনা করে জানায়, কোনও ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় বিশেষ সুবিধার কারণ হতে পারে না। বেঞ্চ জানায়, “কোনও ব্যক্তি বিশেষ কোনও পেশা বা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত বলেই আদালত বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে না।” আদালত আরও জানায়, আগের নির্দেশে আত্মসমর্পণের তারিখ নিয়ে কোনও বিভ্রান্তির সুযোগ ছিল না। যদিও রাজপালের আইনজীবী দাবি করেন, ঋণের টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করতেই দেরি হয়েছে, তবুও আদালত জানায়, বারবার ছাড় দিলে বিচারব্যবস্থার নির্দেশের গুরুত্ব ক্ষুণ্ণ হবে (Rajpal Yadav)। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার রয়েছে, এই নীতির পুনরুল্লেখ করে আদালত জানায়, অভিনেতা হওয়ার কারণে বা চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় কোনও বিশেষ সুবিধা তাঁকে দেওয়া হবে না (Court)।

    পাশে দাঁড়ালেন অভিনেতা সোনু সুদ 

    এই ঘটনার পর অভিনেতা সোনু সুদ এক্স হ্যান্ডেলে রাজপাল যাদবের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেন। তিনি চলচ্চিত্র জগতকে কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ বার্তায় সোনু সুদ লেখেন, “রাজপাল যাদব একজন প্রতিভাবান অভিনেতা, যিনি আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে বহু বছর অসাধারণ কাজ উপহার দিয়েছেন। কখনও কখনও জীবন অন্যায় হয়ে ওঠে, প্রতিভার অভাবে নয়, বরং সময়টাই নিষ্ঠুর হয়ে যায়।” তিনি আরও লেখেন, “তিনি আমার ছবির অংশ হবেন। এই মুহূর্তে প্রযোজক, পরিচালক ও সহকর্মীদের একসঙ্গে দাঁড়ানোর সময়। ভবিষ্যৎ কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যযোগ্য একটি ছোট সাইনিং অ্যামাউন্ট দান নয়, সম্মান। আমাদেরই একজন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেলে ইন্ডাস্ট্রির উচিত তাকে মনে করিয়ে দেওয়া, সে একা নয় (Rajpal Yadav)।”

    একের পর এক সেরা ছবি

    রাজপাল যাদব দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতে সক্রিয়। নয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি হিন্দি ছবিতে আত্মপ্রকাশ করেন এবং ‘জঙ্গল’ (২০০০) ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে বিশেষ পরিচিতি পান। এরপর তিনি প্রায় ১৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। হিন্দির পাশাপাশি অভিনয় করেছেন মারাঠি, ইংরেজি, তেলুগু, কন্নড়, আওয়াধি ও বাংলা সিনেমায়ও (Court)। তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছে ‘বেবি জন’ (২০২৪) ও ‘ইন্টারোগেশন ’(২০২৫) ছবিতে। আগামী ১০ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার কথা প্রিয়দর্শনের পরিচালনায় হরর-কমেডি ছবি ‘ভূত বাংলা’, যেখানে তিনি অক্ষয় কুমারের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও, ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল ’ ছবির শুটিং শেষ করেছেন, যেখানে সঞ্জয় দত্ত, সুনীল শেঠি, অক্ষয় কুমার, রবীনা ট্যান্ডন-সহ একাধিক তারকা রয়েছেন (Rajpal Yadav)।

     

LinkedIn
Share