Tag: Firecracker Safety

  • Diwali 2026: দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর আনন্দেই লুকিয়ে বিপদ! অগ্নিদগ্ধ থেকে শ্বাসকষ্ট, সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

    Diwali 2026: দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর আনন্দেই লুকিয়ে বিপদ! অগ্নিদগ্ধ থেকে শ্বাসকষ্ট, সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর মাত্র কয়েক দিন! শহর থেকে জেলা, বহুতল থেকে পাড়া সেজে উঠবে আলোর উৎসবে! প্রদীপের আলো আর বাজির উৎসবে মাতবেন আট থেকে আশি, সকলেই। কিন্তু দীপাবলির এই আনন্দে বাধা হতে পারে অসাবধানতা! সামান্য অসতর্কতাও আনন্দের তাল কাটতে পারে। তাই কয়েকটি দিকে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কোন বিপদের ইঙ্গিত করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    অগ্নিদগ্ধের ঝুঁকি!

    সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপদ তৈরি করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীপাবলির পরেই প্রত্যেক বছর উল্লেখযোগ্য ভাবে অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ে। শিশু থেকে প্রৌঢ়, সব‌ বয়সেই এই বিপদ দেখা দিতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি।

    শ্বাসকষ্টের রোগীর জটিলতা!

    দীপাবলির পরে অনেকেই হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর ফলে এক ধরনের ধোঁয়া হয়। সেই ধোঁয়া থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ শিশু ও বয়স্কদের এই সমস্যা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা!

    শব্দবাজির দাপটে শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত তীব্র শব্দ কানের ভিতরে গভীর ক্ষত তৈরি করে। এর ফলে শ্রবণশক্তি হারিয়ে যেতে পারে। তাই এই নিয়ে সচেতনতা জরুরি।

    ত্বক ও চোখের সংক্রমণ!

    বাজির মধ্যে থাকে নানান রাসায়নিক পদার্থ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকের সেই রাসায়নিক পদার্থ সংস্পর্শে এসে নানান ধরনের অ্যালার্জি হয়। আবার, চোখের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ও বছরের এই সময়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন বাজির ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করে। সেখান থেকেই সংক্রমণ ঘটতে থাকে।

    কীভাবে সুস্থ থেকে উৎসব উদযাপন সম্ভব?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখলেই দীপাবলির উৎসব নিশ্চিন্তে উদযাপন সম্ভব। এড়ানো যেতে পারে হয়রানি।

    খোলা জায়গায় বাজি পোড়ানো!

    বাজির উৎসবে সবচেয়ে বেশি চিন্তা বাড়ায় আগুন। অসাবধানতা বড় বিপদ‌ তৈরি করে। তাই খোলা জায়গায় বাজি পোড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর সময় হালকা সুতির কাপড় পরা জরুরি। পা ঢাকা জুতো পরতে হয়। এতে আগুন লাগার ঝুঁকি কমে।
    আবার বাজি পোড়ানোর সময় আশপাশে জলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। যাতে বিপদ হলেও সামাল দেওয়া সহজ হয়‌।
    শিশুদের একেবারেই একা ছাড়া চলবে না। বাজি পোড়ানোর সময় অবশ্যই অভিভাবকদের সঙ্গে থাকতে হবে। ফুলবাজি, রং মশালের মতো বাজি তুলনামূলক নিরাপদ মনে হলেও এই বাজি আগুন ধরাতে পারে। বিপদের ঝুঁকি রয়েছে।

    সিওপিডি আক্রান্তদের বাড়তি সতর্কতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি আক্রান্ত। এই সময়ে তাঁদের বাড়তি শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বাজির ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে। আবার নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, এই সময়ে বাড়ির বাইরে গেলেই মাস্ক পরা জরুরি। অস্বাস্থ্যকর ধোঁয়া আটকাবে। আবার সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে। তাছাড়া প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ মতো ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে।

    বাজি পোড়ানোর পরে হাত ও চোখ জল দিয়ে পরিষ্কার করা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর পরে ভালোভাবে হাত ও চোখ পরিষ্কার করা জরুরি। জল দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করলে বাজির রাসায়নিক থেকে ত্বক ও চোখের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    শব্দবাজির ব্যবহারে হ্রাস!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শব্দবাজি নিয়ে সচেতনতা জরুরি। আইন মেনে বাজির উৎসব উদযাপন করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়ানো সহজ হয়। পরিবেশবান্ধব বাজি পোড়ালে নানান ক্ষতির ঝুঁকি কমে। শব্দ বাজি এড়িয়ে চললে শুধু কানের ক্ষতি নয়। পাশপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়। মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতিও এড়ানো যেতে পারে। তাই উৎসবের উদযাপনে সচেতন ও সতর্ক থাকলে যেকোনো বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা!

LinkedIn
Share