Tag: Flydubai FZ1073

  • Modi Praises Smit Machchhar: ‘আপনি হিরো’, ১৭৪ বিমানযাত্রীর প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা মোদির

    Modi Praises Smit Machchhar: ‘আপনি হিরো’, ১৭৪ বিমানযাত্রীর প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে ককপিটের ভিতর ছুরি নিয়ে হামলা। গুরুতর আহত ভারতীয় পাইলট। একইসঙ্গে আচমকা প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা হারাল বিমান। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল ভয়াবহ বিপদের পরিস্থিতি। কিন্তু সেই অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। এরপর যাত্রী ও কেবিন ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান।

    ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মাচ্ছরের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

    মাঝআকাশে কী ঘটেছিল?

    ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বিমানে ছিলেন ১৭৪ জন। উড়ানের মাঝপথে ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর এবং তাঁর সহ-পাইলটের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষ শুরু হয়।

    অভিযোগ, সহ-পাইলট ছুরি দিয়ে মাচ্ছরকে আক্রমণ করেন। একইসঙ্গে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেই সময়ই বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে।

    রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নেমে যায়। আচমকা উচ্চতা পরিবর্তনে কেবিনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের একাংশ পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই বিমানটি বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে আসে।

    গুরুতর আহত অবস্থাতেও বড় সিদ্ধান্ত

    হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। কিন্তু সেই অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। দরজা খোলার পর যাত্রী এবং কেবিন ক্রু সদস্যরা দ্রুত ককপিটে ঢুকে পড়েন।

    তাঁরা হামলাকারী সহ-পাইলটকে কাবু করার চেষ্টা করেন। এ সময় বিমানে থাকা আরও দু’জন ফ্লাইদুবাই পাইলটও পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আসে বিমানটি।

    এরপর বিমানটির গন্তব্য পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামার পর যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরে।

    ‘ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর একজন হিরো’, বললেন মোদি

    ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর একজন হিরো।” প্রধানমন্ত্রী জানান, গুরুতর আহত হয়েও মাচ্ছর অন্যদের জীবন রক্ষায় অসীম সাহস এবং দৃঢ় সংকল্প দেখিয়েছেন। তাঁর সাহসিকতা শতাধিক মানুষের জীবন রক্ষা করতে এবং বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে বলেও উল্লেখ করেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার জন্য ভারত গর্বিত।

    নেতানিয়াহুর মন্তব্য, ‘৯/১১-এর মতো বিপর্যয় ঠেকিয়েছেন’

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ভারতীয় পাইলটের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, ছুরিকাহত হওয়ার পরও মাচ্ছর প্রতিরোধ করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এর ফলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করার সুযোগ পান। নেতানিয়াহু মাচ্ছরকে ‘সত্যিকারের হিরো’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বিমানে থাকা ১৭৪ জনের জীবন রক্ষা পেয়েছে।

    পরে সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতীয় পাইলটের পদক্ষেপ একটি ‘৯/১১-এর মতো বিপর্যয়’ ঠেকাতে সাহায্য করেছে। তবে এই মন্তব্যকে ঘটনার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে নেতানিয়াহুর মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য বা সহ-পাইলটের আচরণের কারণ নিশ্চিত নয়।

    ট্রাম্পও বললেন ‘হিরো’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, গুরুতর আহত অবস্থাতেও মাচ্ছর ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের সুযোগ তৈরি করেন। তাঁর এই পদক্ষেপের জন্য তাঁকে ‘হিরো’ বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে সহ-পাইলটের আচরণের পিছনে কী কারণ ছিল, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

    তদন্তেই মিলবে আসল উত্তর

    এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কেন সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করলেন? কেনই বা তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন?এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফ্লাইদুবাইও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও অনুমান বা সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোর জন্য সতর্ক করেছে। অর্থাৎ, পাইলটের সাহসিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা শুরু হলেও ঘটনার নেপথ্যের কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

    বিমান নিরাপত্তায় উঠছে নতুন প্রশ্ন

    ঘটনাটি শুধু একজন পাইলটের সাহসিকতার কাহিনি নয়। বিমান নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। ককপিটের ভিতর দুই পাইলটের মধ্যে যদি আচমকা এমন হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে বিমানের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব—এই প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এই ঘটনায় ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের প্রতিরোধ, ককপিটের দরজা খোলার সুযোগ তৈরি হওয়া, যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং বিমানে থাকা অতিরিক্ত পাইলটদের উপস্থিতি—সবকিছু মিলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। তবে কোন পদক্ষেপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

    মাঝআকাশে ছুরিকাহত হয়েও ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে সাহায্যের সুযোগ তৈরি করেছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ১৭৪ যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখন তদন্তের অপেক্ষা—ঠিক কী কারণে ককপিটের ভিতর এমন ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল।

LinkedIn
Share